চাঁদাবাজদের থামান

 চাঁদাবাজদের থামান

ঈদ মৌসুম ঘনিয়ে এলে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম বেড়ে যায় সারা দেশে। হাটে-ঘাটে পথে-চাঁদা গুণতে হয়। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার পর্যন্ত কেউই চাঁদাবাজদের টার্গেট মুক্ত হয়। পরিবহণ থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনাতো অতি পুরনো। পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ঘটবে না বলে আশাবাদী হতে চাই। উদ্বেগের বিষয় হলো, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক নয়-সারাদেশের সড়ক -মহাসড়কগুলোতে চলে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার নানান কর্তাব্যক্তিরা চাঁদাবাজির অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে থাকেন। কিন্তু রাজধানীতে বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম আরো বেশি। এমনিতেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায়। খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি হামেশাই ঘটছে।

এটা অবশ্যই অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই এসব চাঁদাবাজির নেপথ্যে থাকে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব চাঁদাবাজির টাকা জায়গামতো ভাগবাটোয়ারা হয়ে থাকে। বিপদ সাধারণ মানুষের। তারা অত্যাচারিত হবে। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তারা মুখ খুলতে পারে না। প্রতিকার চাওয়ার জায়গা থাকবে না। এ অবস্থার আশু অবসান প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। কোথাও অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন এজেন্সি এসব অনিয়ম রোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পণ্যবাহী পরিবহণগুলো যেন সারা দেশে চাঁদামুক্ত অবস্থায় চলাফেরা করতে পারে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবেন। কেননা ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিলে তার প্রভাব বাজারের ওপর এসে পড়ে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। প্রশাসন মালিক শ্রমিক সবাই এ ব্যাপারে কড়া নজরদারি রাখবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।