নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য

চলনবিলে জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

 চলনবিলে জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : চলনবিলের ৭ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরির জন্য ফসলী জমির উপরি ভাগের টপ সোয়েল বা উর্বর মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ইট। ফলে ওই জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। জানা গেছে, চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনার, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাঠের মধ্যে কয়েক হাজার বিঘা জমির ওপর ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি নিয়মানুসারে আবাসিক এলাকায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয়নি; এমনটি জানিয়েছেন ভাটারপাড়া গ্রামের নৃপেন্দ্র নাথ (৬৫)।এদিকে চলনবিলের ৭টি উপজেলার ইটভাটার মালিকগণ ইট তৈরি করতে জমির টপ সোয়েল বা উপরি ভাগের উর্বর মাটি ব্যবহার করছেন গণহারে। আর এ জন্য বিভিন্ন গ্রামের মাঠের ফসলী জমির উর্বর মাটি কেটে ভাটায় নেয়া হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের নাম মাত্র মূল্য দিয়ে।

অভিযোগ রয়েছে, মুলতঃ গ্রামের সহজ সরল কৃষকদের লোভ দেখিয়ে ট্রাক প্রতি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা হারে এই সব মাটি কিনে জমির উপরি ভাগের অতি উর্বর মাটি দেড় থেকে দুই ফুট গভীর করে কেটে ভাটায় ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এদিকে চলনবিলে ইটভাটায় দিন দিন ফসলী জমির মাটি কাটার এই প্রবণতা বেড়েই চলেছে। ফলে পরিবেশের বিপর্যয়ের পাশাপাশি ফসলী জমির উর্বরা শক্তিও আশঙ্কাজনক ভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

এছাড়াও ফসলী জমির উপরি ভাগের টপ সোয়েল বা উর্বর মাটি কেটে নেয়ার ফলে ফসলের প্রধান প্রধান খাদ্য উপাদান নাইট্রোজেন, পটাশ, জিংক, ফসফরাস, সালফার, ক্যালসিয়ামসহ অর্গানিক জৈব্য উৎপাদনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের ৭ উপজেলার ফসলী জমিগুলো ভবিষ্যতে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ জমিতে পরিণত হবে আশঙ্কা করেছেন একাধিক পরিবেশবিদরা। এছাড়া জমিগুলোতে মাটি কাটার ফলে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া জীববৈচিত্র্য যেমন কুচিয়া, কাঁকড়া, কচ্ছপ, কেচোঁর মত জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। যা পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলছে এমটিই জানিয়েছেন, রাজশাহী প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, একবার জমির উপরি ভাগের উর্বর মাটি কাটার পর আবার জমিতে ঐ পরিমাণ জৈব মাটি সৃষ্টি হতে ৩০/৪০ বছর সময় লেগে যায়। জমির উপরি ভাগের অতি উর্বর মাটি ইটভাটার জন্য কাটার ফলে জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে ফসলী জমিগুলো বন্ধ্যাত্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।