ঘরমুখো যাত্রীদের বিড়ম্বনা

 ঘরমুখো যাত্রীদের বিড়ম্বনা

ঈদ সামনে রেখে লঞ্চের নিয়মিত ও বিশেষ সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কথা শুক্রবার (৮ জুন) থেকে। গত মঙ্গলবার ঢাকায় যাত্রীবাহী লঞ্চ মালিক সমিতির এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এক সপ্তাহ আগেই ঢাকা-বরিশাল রুটে বিশেষ ও নিয়মিত সার্ভিসের টিকিট বিক্রি শেষ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের এখন মাথায় হাত। ঈদের দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই লঞ্চগুলোর টিকিট শেষ হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়ছে। অন্য খবর হলো লঞ্চের টিকিট অধিক মূল্যে কালোবাজারিদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে চলতি বছর তুলনামূলক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলেও চাহিদার তুলনায় সিট সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেকেই হতাশ হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে চাহিদার বিপরীতে রেলওয়ের সক্ষমতা খুবই কম। ফলে সবাইকে টিকিট দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আসল কথা হলো কোটা সুবিধাভোগীদের পকেটেই চলে যায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিকিট।

আবার ঈদের অগ্রিম বাস টিকিট ছাড়ার প্রথম দিনেই রাজধানীর বাস কাউন্টার থেকে টিকিট উধাও হয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। বলা হচ্ছে, প্রথম দিনের অর্থাৎ ১৪ জুনের সব টিকিট উধাও হয়ে গেছে। বাস কাউন্টারে টিকিট না পাওয়া গেলেও কালো বাজারে অভাব নেই। বাড়তি মূল্য দিলেই টিকিট চলে আসছে ক্রেতার হাতে। বাস কাউন্টারে টিকিট না থাকায় যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছোটাছুটি করছেন। টিকিটের জন্য অনেককে হা-হুতাশও করতে দেখা গেছে। গণমাধ্যমের খবর, কোনো কোনো রুটে বর্ধিত ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ পর্যন্ত হয়েছে। সারা দেশের জন্য সরকার কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে, কিন্তু সেই নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে, এ রকম কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বাসভাড়া বাড়ে পরিবহণ মালিকদের ইচ্ছে মতো এবং প্রতি বছর ঈদের সময়ে এটা একটা অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়। কিন্তু এই অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা মনে করি, যাত্রী স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরো আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পরিবহণ খাতের সব ধরনের অনিয়ম অরাজকতা স্থায়ীভাবে দূর করতে হবে।