হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

গ্রামের কলেজ গ্রামে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 গ্রামের কলেজ গ্রামে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রতিষ্ঠার দশ বছর পর অনুমোদন ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে গ্রাম থেকে শহরে কলেজ স্থানান্তর করার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।জানা যায়, বঙ্গবন্ধুকে স্মরনীয় করে রাখতে তাঁর নামে ২০০৮ সালে বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে “বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি এন্ড বিএম ইনস্টিটিউট” কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এক একর এক শতক জমির ওপর নির্মিত তিনটি ভবনে দশ বছর ধরে চলে আসছিল শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষদিকে উপজেলা সদরের ভাড়া করা জায়গায় কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমতি ছাড়াই উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তর করা হয়। কলেজটি স্থানান্তর না করার জন্য ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নাটোরের সহকারি জজ আদালতে আবেদন করেন কলেজের জমিদাতা আব্দুর রাজ্জাক শাহ। এমনকি ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর তারিখে ৫০ কার্যদিবসের মধ্যে কলেজটি নিজস্ব জায়গায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আদেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু তাও অমান্য করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সলেমান আলী, আব্দুর রাজ্জাক শাহ, জালাল শাহ, শিক্ষক হুমায়ুন কবির, জহুরুল ইসলাম প্রমূখ। এসময় বেড়গঙ্গারামপুর, বিন্যাবাড়ি, ঝাউপাড়া, সরদারপাড়া, জুমাইনগর, মামুদপুর ও মোল্লাবাজার এলাকার সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা গ্রামের প্রতিষ্ঠান গ্রামেই চালু রাখার দাবি জানান। তারা বলেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক শাহর ছেলে জালাল উদ্দিনকে গোপনে বাদ রেখে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে রহিম উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিনকে সভাপতি করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। বিশ^স্ত সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম উপজেলার সোনাবাজু গ্রামে অবস্থিত সরদার কাজিমুদ্দিন টেকনিক্যাল এন্ড বিএম ইনস্টিটিটের একজন সহকারি শিক্ষক। যার ইনডেস্ক নং ৩০০৬২৬৮। তিনি ২০০৩ সালের ৭ জুন সেখানে অদ্যাবধি চাকরি করে বেতনভাতা উত্তোলন করে আসছেন। আরেক জমিদাতা রবিউল শাহ বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম কলেজের সাধারণ ও ভোকেশনাল শাখা খুলে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন। নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ সুবিধা আদায় করতে কলেজটি তিনি স্থানান্তর করেন।

অরেক জমিদাতা বারেক শাহ বলেন, ছেলে মেয়েদের তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। এজন্য এক একর একশতক জমিও দেওয়া হয়। স্থানান্তরের কারণে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম বলেন, গ্রামে জালাল শাহ ও তার অনুসারীদের অত্যাচারে শিক্ষকদের নিরাপত্তা না থাকায় এবং প্রতিষ্ঠানটি বাঁচানোর স্বার্থে গভর্নিংবডির অনুমতি সাপেক্ষে শহরে আনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।