গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

 গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

গ্যাস বেলুন ওড়ানোর শখ ছিল ওদের। ঘিরেও ধরেছিল বেলুনওয়ালাকে। কিন্তু হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সব শেষ। বেলুন নয়, প্রাণটাই উড়ে গেছে পাঁচ শিশুর। গত বুধবার রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর, সড়কে বেলুনে গ্যাস ভরে বিক্রি করছিলেন এক ব্যক্তি। রং-বেরঙের বেলুনের আকর্ষণে তাকে ঘিরে ভিড় করছিল শিশুর দল। হঠাৎই প্রচন্ড শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় ঘটনাস্থল। ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে থাকে কয়েক শিশুর নিথর দেহ। বিস্ফোরণে কারও হাত, কারও বা পা উড়ে যায়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পাঁচ শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গত বুধবার বিকেলে এ ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ১৮ জন।

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এক সঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যু ও ২২ জনের আহত হওয়ার ঘটনা অবশ্যই আশঙ্কাজনক বিষয়। ছয় শিশুর হঠাৎ মৃত্যু খুবই হৃদয়বিদারক। বেলনু ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাস ভরা বেআইনী। শিশু মৃত্যুর এ ধরনের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, সমাজকে বিহবল করে। শিশুদের জীবন নিরাপদ রাখার বিধিগুলো ঠিকমতো কার্যকর করা হয় না- এ প্রসঙ্গও উত্থাপিত হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি টিনশেড বাসায় গ্যাস বেলুন কারখানায় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায়। এমন ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে অহরহই ঘটছে। বিশেষজ্ঞ মহল বলেন, হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে বেলুন ফোলানো উচিত। কিন্তু ব্যবহৃত হচ্ছে হাইড্রোজেন গ্যাস, হিলিয়ামের মূল্য বেশি হওয়ায়, বেলুন বিক্রেতারা নিজেরাই এসব হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। ফলে বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।