গরু মোটাজাতাকরণের বিপদ

 গরু মোটাজাতাকরণের বিপদ

নকল-ভেজালের এই দেশে কোনো কিছুতেই আসল পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। মাছ ও ফলমূলে অবাধে প্রয়োগ হচ্ছে ফরমালিন। কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে কয়েক বছর ধরে সৃষ্টি হয়েছে একই বিড়ম্বনা। স্টেরয়েড জাতীয় এক ধরনের হরমোন প্রয়োগ করে গরু-ছাগল মোটা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই গরু দ্রুত মোটাতাজা করছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। এর মাধ্যমে গরু-ছাগল বিক্রি হবে দ্বিগুন কিংবা তিনগুণ দামে। তবে মোটাতাজাকরণের জন্য গরু ছাগলকে উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েড খাওয়ানোর ফলে এর মাংস ভক্ষণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কোরবানি সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, গত কয়েক বছর যাবত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পশু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতির নামে নিষিদ্ধ হরমোন ও স্টেরয়েড ড্রাগের অবাধ ব্যবহার করে আসছেন।

এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটাতাজাকৃত গরুর মাংস একটি নীরব ঘাতক। ধীরে ধীরে এটি মানুষের জীবন্ত প্রদীপ নিভিয়ে দেয়। এটি পাকস্থলীতে হজমের গোলযোগ, পেটে তীব্র গ্যাস, পেপটিক আলসার, অস্থিমজ্জায় গোলযোগের কারণে রক্তকণিকার অস্বাভাবিকতা, লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার, কিডনির অকার্যকারিতাসহ নানাবিধ দুরারোগ্য অসুখ ও জীবনহানি ঘটতে পারে। সবচেয়ে ক্ষুন্ন হচ্ছে কোমলমতি শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের। শিশুদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পূর্ণাঙ্গ নয়। এতে শিশুদের কিডনি, লিভার ক্রমেই কার্যকারিতা হারাচ্ছে। ক্ষতিকর ওষুধ দিয়ে গরু মোটাতাজা করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গরু মোটাতাজাকরণে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার আইন প্রয়োগে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে- এমনটাই প্রত্যাশা।