খাবারে ভেজাল বাড়ছে

 খাবারে ভেজাল বাড়ছে

জীবন ধারনের প্রয়োজনে আমাদের প্রতিদিন খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু সেই খাদ্য গ্রহণের তালিকায় আমরা কী খাই, কী আমাদের খাওয়ানো হয় তা কি আমরা জানি? জেনে-বুঝে প্রতিদিন আমাদের খাবারে যে বিষ মিশিয়ে দেয়া হয়, তার প্রতিকার কি আমরা পাই ? ভেজালের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হলেও এর প্রতিকার আমরা পাইনি। তাই প্রতিদিন জেনে বুঝেই আমাদের গ্রহণ করতে হচ্ছে বিষ। ফলে ক্যান্সারসহ নানা রকম ঘাতক ব্যাধির কবলে পড়ে, মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ফল-মূল, শাক-সব্জি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন বেকারি জাত পণ্যের পর এবার দুধেও বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ায় দেশের মানুষ এখন দিশেহারা। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু সদস্যের আধিক্য রয়েছে তারা রীতিমতো চোখে অন্ধকার দেখছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি কোম্পানির গুঁড়া হলুদ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) পরীক্ষা করে তাতে ক্ষতিকর মাত্রার সিসা পেয়েছে। অথচ ওই কোম্পানি বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নিয়েই গুঁড়া হলুদ উৎপাদন ও রপ্তানি করে। অনেক দেশই আমাদের বিএসটিআইয়ের সনদ গ্রহণ করে না। বাজার পর্যবেক্ষকরা জানান, খাবারে ভেজাল ও বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রণকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ খুবই সীমিত। খাদ্য ভেজালকারীদের চিহ্নিত না করে এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর তালিকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ দায় সারছে। এ অবস্থায় উৎপাদন পর্যায় থেকে শুরু করে বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ভেজাল এবং বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ ঘটছে। যার ফলে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় খাদ্য পণ্যের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মান নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার সুযোগ নেয় বিদেশি ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য পণ্য দেশে দেদার আমদানি হচ্ছে বলেও জানান বাজার সংশ্লিষ্টরা। খাদ্য, পানীয় কিংবা জনগণের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। আর এটা সম্ভব হলেই ভেজাল খাবারের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।