খাদ্যে রাসায়নিক দূষণের ঝুঁকি

 খাদ্যে রাসায়নিক দূষণের ঝুঁকি

দেশে খাদ্য চক্রে রাসায়নিক দূষণের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে সরকারি নানামুখী পদক্ষেপের পরও শিল্প-কারখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো নিরাপদ পর্যায়ে না আসায়, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ফসলি জমি হয়ে ফসলজাত খাদ্যে। ঢাকার সাভারে ইপিজেড এলাকার আশ পাশে কৃষিজমিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে সর্বনিম্ন সাড়ে ৮ গুণ ও সর্বোচ্চ ৩৮ গুণ বেশি মাত্রার কোবাল্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ক্রোমিয়ামের সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া যায় সহনীয় মাত্রার তুলনায় ১১২ গুণ বেশি।  একইভাবে পাওয়া যায় উচ্চ মাত্রার টিটেনিয়াম, ভেনাডিয়ামসহ ১১টি ভারী ধাতু। এসবের মধ্যে আছে কোবাল্টসহ একাধিক তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান। ফসলি জমির মাটি দুষণের ভয়াবহ চিত্র উঠেছে বাংলাদেশ পরমাণুশক্তি কমিশন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায়।

ফসল যেহেতু মাটিতে হয়, তাই সেই মাটি হেভিমেটালে দুষিত হলে তা স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য শস্যে ঢুকবে। ফসলজাত খাদ্য উপাদানে তা থাকলে সেটা আগুনের তাপেও পুরোপুরি নষ্ট হয় না, বরং তা মানুষের শরীরে ঢুকে স্বাস্থ্যের নানা রকম বিপর্যয় বয়ে আনে। বিশেষ করে কিডনি, লিভার, মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বিভিন্ন ধরনের ভারী ধাতু। ক্যান্সারের ঝুঁকি তো আছেই। শিল্প-কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো না হলে তা থেকে মাটি দূষণ ঘটবেই। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ মাটি সুস্থ না থাকলে কৃষিজাত খাদ্য চক্র নিরাপদ থাকবে না, যার ক্ষতিকর প্রভাব জনস্বাস্থ্যেও পড়তেই পারে। বাস্তবতা হলো, কৃষির প্রধান অবলম্বন মাটির উর্বরাশক্তি রক্ষা করতে হলে সবার আগে কৃষককে সচেতন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের কৃষি কর্মকান্ড যেন মাটি, পানি আর ফসলের বাস্তুতন্ত্রকে নষ্ট করে না দেয় তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় এখনই সচেতন হতে হবে।