ক্ষেতলালে প্রেমের ফাঁদে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

 ক্ষেতলালে প্রেমের ফাঁদে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : মোবাইলে প্রেমের ফাঁদ পেতে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা গ্রাম পার্শ্ববর্তী একটি গভীর নলকূপ ঘরে রাতভর এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষেতলাল থানায় বড়তারা গ্রামের কথিত প্রেমিক মুকুল হোসেন এবং তার সহযোগী একই গ্রামের ইদ্রিস আলী, লালন মালী ও তারাকুল গ্রামের জহির হোসেনসহ অজ্ঞাত আরো ৩ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ মামলা করেছেন। বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে গৃহবধূর চিকিৎসা চলছে। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ওই গৃহবধূর সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা গ্রামের মুকুল হোসেনের। প্রায় নয় মাস ধরে চলা সম্পর্কের ইতি টানতে মুকুল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেয়। এতে প্রলুব্ধ হয়ে মুকুলের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ওই গৃহবধূ গত বুধবার বিকেলে আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে জয়পুরহাটে আসে। সেখান থেকে মুকুলের নির্দেশনা অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই গৃহবধূ পৌঁছে ক্ষেতলালের নিশ্চিন্তা বাজারে। সেখানে অপেক্ষমাণ মুকুল গৃহবধূকে তার মোটরসাইকেলে নিয়ে বড়তারা গ্রামের পাশের মাঠে জনৈক জাহিদুল ইসলামের গভীর নলকূপের ঘরে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে রাত ন’টার পর মুকুল উল্লেখিত সহযোগীদের নিয়ে রাতভর তাকে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর বৃহস্পতিবার সকালে ওই গৃহবধূ মুকুলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিলে গ্রামবাসীর মাঝে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে এ নিয়ে আসামিরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপস করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওই গৃহবধূ ক্ষেতলাল থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ এনে মুকুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ গতকাল শুক্রবার বলেন, মুকুলের সাথে মোবাইল ফোনে তার প্রথম পরিচয় হয়। এরপর নয় মাস থেকে চলছে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। মুকুল তাকে বিয়ে করবে এ জন্য শর্ত দেয় গ্রামে আসার জন্য। সেই শর্ত মেনে নিয়ে মুকুলের বাড়ির উদ্দেশ্যে গত বুধবার নিজ ঘর ছাড়েন তিনি। মুকুল বিবাহিত সেটাও গোপন রাখে তার কাছে। কিন্তু গ্রামে এসে তিনি গণধর্ষণের শিকার হন। মোবাইল ফোনসহ কিছু টাকাও তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।    

স্থানীয় বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বড়তারা গ্রামের সাইফুল ইসলাম ওরফে আব্দুল আলিম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ওই গৃহবধূ গ্রামে এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। যেহেতু বিষয়টি সালিসযোগ্য নয়, সেহেতু তাকে থানায় মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মহিবুল কবির স্বপন বলেন, মুকুল বিবাহিত। তার দুটি সন্তান থাকার পরও ওই গৃহবধূর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে দলবল নিয়ে তাকে ধর্ষণ করার ঘটনাটি এলাকাবাসী হিসেবে আমাদেরও লজ্জায় ফেলেছে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলা নেওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গৃহবধূকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পুলিশি প্রহরায় তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে পুলিশ তদন্ত করছে’।