কোচিং বাণিজ্য বন্ধ

 কোচিং বাণিজ্য বন্ধ

কোচিং বাণিজ্যে জড়ানোর সুযোগ নেই শিক্ষকদের। সরকারি ও বেসরকারি সকল স্কুল এবং কলেজের শিক্ষকদের কোচিং বন্ধে সরকারের জারি করা নীতিমালাকে বৈধ ঘোষণা করে এ রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, সরকার রাষ্ট্রের কল্যাণে যে কোন সময় যে কোন ইস্যুতে আইন, বিধি ও নীতিমালা জারি করতে পারে। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের পর সরকারি আইনজীবিরা বলেন, ঢালাওভাবে যে কোচিং বাণিজ্য চলছিল হাইকোর্টের রায়ের ফলে তা নিষিদ্ধ হলো। ২০১২ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি নীতিমালা জারি করে সরকার। ওই নীতিমালার ভূমিকায় বলা হয়, দেশের সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণির শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোচিং পরিচালনা করে আসছেন। এটি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যেখানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

 যা পরিবারের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং এ ব্যয় নির্বাহে অভিভাবকগণ হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে কোচিং এ বেশি সময় ব্যয় করছেন। এ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকার এই নীতিমালা প্রণয়ন করে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিপদ এড়ানোই শুধু নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষকদের ফাঁকিবাজি বন্ধ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং নির্ভরতার অবসান ঘটাতে পুরোপুরিভাবে এ কালো উপখ্যানের ইতি ঘটবে বলে আমাদের বিশ্বাস। কোচিং নির্ভর শিক্ষা জাতিকে মানসিকভাবে পঙ্গু করার যে বিপদ সৃষ্টি করছে- উচ্চ আদালতের রায়ে তা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে বলে আমরা মনে করি।