কৃষকের স্বার্থ

 কৃষকের স্বার্থ

সরকারিভাবে আমন সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। মূলত এই সময়টাতে বাজারে ধানের দাম বাড়ে। কিন্তু এখনো উত্তরাঞ্চলের বাজারগুলোতে ধানের দাম বাড়তে শুরু করেনি। উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিপণন ব্যবস্থার সমন্বয় করা গেলে পুরো বিষয়টিই সমস্যার মুখে পড়ে। এবার আমনের বাম্পার ফলন হলেও ধান বিক্রি করে লোকসান গুনছে কৃষক। লাভ তো দুরের কথা, তারা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। এ অঞ্চলে এক মণ ধান উৎপাদনে বীজ, সার, ওষুধ সহ নানা খরচ থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত নিতে ৬০০-১০০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব স্থানে ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৬৭০ টাকা মণ দরে। লাভের ভাগ খাচ্ছে যথারীতি মধ্যস্বত্ত্বভোগী, ফড়িয়া-দালাল শ্রেণি। কৃষকের ঘরে প্রচুর ধান থাকার কারণে মিলাররা তাদের কাছ থেকে ধান কিনছে। সেই ধান থেকে চাল তৈরি করে সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করছে তারা।

ফলে সরকারের অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ অভিযানের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। এ ধরনের কর্মকান্ড কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আমরা লক্ষ্য করছি, সরকার দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে। কম দামে বীজ, সার এবং সেচের জন্য বিদ্যুৎ ও ডিজেলে ভর্তুকি দেয়া হয়। আবার রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে উৎপাদিত ধানের একাংশ ন্যায্য মূল্যে কেনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত এবং অন্যদিকে ধান-চালের দাম সাধারণের ক্রয় সীমার মধ্যে রাখা। কিন্তু দেখা যায়, প্রায় প্রতি বছরই মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে সরকারের এ উদ্দেশ্য অনেকাংশে ব্যাহত হওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়। সুতরাং সরকারকেই সঠিক সময়ে ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারের আন্তরিকতাই আমাদের অর্থনীতির ভিতকে সমৃদ্ধ করবে।