কালো টাকার উৎস বন্ধ হোক

 কালো টাকার উৎস বন্ধ হোক

ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে আবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। ১০ শতাংশ কর দিয়ে শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ করে অপ্রদর্শিত অর্থ তথা কালো টাকা সাদা করা যাবে। তবে এ সুযোগ তারাই পাবেন, যারা শুধু উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে বিনিয়োগ করবেন। আগামী এক বছরের জন্য এ সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে শুধু ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ে প্রতি বর্গ মিটারে নির্ধারিত অংকের টাকা দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যায়। এর বাইরে অন্য কোনো খাতে এ সুযোগ নেই। এখন নতুন করে উৎপাদনমুখী (ম্যানুফ্যাকচারিং) শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের শর্তে টাকা বৈধ করার সুযোগ দিতে চায়। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ২০০৩-০৪ অর্থ বছরের বাজেটে প্রচলিত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা মতো দুই বছরের জন্য যে কোনো শিল্পে কালো টাকা বিনিয়োগ করে সাদা করার সুযোগ দেন।

অবশ্য নানা সমালোচনা ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এ সুযোগ বাতিল করা হয়। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর বিদ্যমান আইনের সেই ধারা পুনরুজ্জীবিত করে আবারও সুযোগটি দিতে চলেছে বর্তমান সরকার। তবে অর্থনীতিবিদরা বরাবরই কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, বারবার এ সুযোগ দেওয়া হলেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। কেউ কালো টাকা অর্জন করবে এবং পরে তা সাদা করার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত উদ্যোগ, এত কথা বলা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রয়োজন রয়েছে কি? অর্থনৈতিক সংজ্ঞায় খারাপ অর্থ যেমন ভালো অর্থকে দুরে সরিয়ে ফেলে তেমনি কালো অর্থও বাজেটের লক্ষ্য অর্জনকে ব্যাহত করে। দেশবাসী চায় কালো টাকা সাদা করা নয় বরং কালো টাকার উৎস বন্ধ করাই হোক সরকারের মূল কাজ।