কাল বৈশাখীর ঝড়

 কাল বৈশাখীর ঝড়

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে তা যেন চোখে আঙ্গুল তুলে দেখিয়েছে রাজধানীসহ সারা দেশে আগাম কাল বৈশাখীর ঝড়। গত রোববার সন্ধ্যায় আকস্মিক বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তান্ডবে লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা। ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে ফসল, ঘরবাড়ি ও গাছপালার। ঝড়ের সময় নৌকাডুবি ও বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৫ জন এবং পাবনার সাঁথিয়ায় বজ্রপাতে দুই শিশু, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে এক কৃষক ও যশোরের ঝিকরগাছায় ছাদ ধসে এক শিশু মারা গেছে। আহত হয়েছেন অনেকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল হিসেবে ভাবা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির ঘটনাকে। কালবৈশাখীর ঝড় ও মুষলধারার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নগরজীবন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তির সম্মুখীন হয় লাখ লাখ মানুষ।

কালবৈশাখীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি প্রকৃতির বেসামাল আচরণের যে চিত্র তুলে ধরেছে তা উদ্বেগের। আবহাওয়ার অশুভ পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর মাতম প্রমাণ করেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষের অসহায়ত্ব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধের সাধ্য মানুষের নেই। তবে যেসব কারণে আবহাওয়া বিরূপ হয়ে ওঠে তা পরিহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ বিপদে হতাশ বা পরাজিত হলে চলবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার সক্ষমতা জাতিকে অর্জন করতেই হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে জোরদার করতে হবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আমাদের আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে পুরো জাতিকে।