কার্বন নির্গমন রেকর্ড ছড়াবে

 কার্বন নির্গমন রেকর্ড ছড়াবে

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নানাভাবেই আমরা প্রত্যক্ষ করছি শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিমাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনে বিশ্ব বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও সোচ্চার। জ্বালানি খাতে কার্বন নির্গমনের হার চলতি বছর রেকর্ড ছাড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফারিহ বিরল। একই সঙ্গে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় শংকার কথাও জানান তিনি। গত বৃহস্পতিবার প্যারিসে পোলিশ দূতাবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আশংকা প্রকাশ করেন। জ্বালানি খাতকে বিশ্ব জুড়ে মোট কার্বন নির্গমনের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। যার কারণে উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলাফল আমরাও প্রত্যক্ষ করছি। জলবায়ু পরিবর্তন যেসব দেশের উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। উপকূলীয় এলাকার নিচু জমিগুলো লোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

ভূ-গর্ভে লোনাপানির অনুপ্রবেশ ক্রমে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়ার আলামত শুরু হয়ে গেছে। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। সারা দেশের কৃষি ও জীবন যাত্রায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই অভিঘাতগুলো আমরা আটকাতে পারবনা কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারব।  দেশ আমাদের, মানুষ আমাদের, ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে আমাদেরই। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের নিজেদের করণীয়ও আমাদের ঠিক করা উচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় শুধু তহবিল নয়, প্রয়োজন সদিচ্ছা, দূরদর্শিতা, সঠিক পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন।