কারাগারে আরেক জাহালম

 কারাগারে আরেক জাহালম

অপরাধী না হয়েও পাটকল শ্রমিক জাহালমকে জালিয়াতির ৩৩ মামলার আসামি হয়ে ৩ বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল। অনেক ঘাটের জল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি কারামুক্ত হন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা এখন মানুষের মুখে মুখে। এর রেশ না কাটতেই আরেক জাহালম কান্ড ঘটছে। পল্লবীর বেনারসি কারিগর মোঃ আরমান নির্দোষ হয়েও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত ৩ বছর ধরে কারাভোগ করছেন। রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাদক কারবারি শাহাবুদ্দিন বিহারি এ মামলার প্রকৃত আসামি। কিন্তু তার পরিচয়ে, তার পরিবর্তে সাজাভোগ করছেন আরমান। শুধু পিতার নামে মিল থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে শাহাবুদ্দিন নামে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। অন্যদিকে প্রকৃত আসামি শাহাবুদ্দিন কারাগারের বাইরে দিব্যি মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রশ্ন জেগেছে- এটি কি পুলিশের ভুল, নাকি সচেতন অপরাধ? উৎকোচের বিনিময়েই কি প্রকৃত মাদক কারবারিকে রক্ষার অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে? যদি তা-ই হয়, তবে এ ঘটনায় কে কে দায়ী? তাদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে। পুলিশ বা অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার কারণে অতীতেও এ রকম দুঃখজনক ঘটনা অনেক ঘটেছে। বহু নির্দোষ মানুষ বিনা কারণে বছরের পর বছর কারাভোগ করেছে। আমরা চাই সরকার এসব বিষয় খতিয়ে দেখুক। অসুস্থ আরমানকে মুক্ত করতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আরমানের মা বানু খাতুন ও স্ত্রী বানু বেগম। দরিদ্র এ দুই নারী সংসারের ঘানি টানতে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মির কাজ করছেন। এমতাবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসছে হুমকি-ধামকি। একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কেন বিনা দোষে কারাবাস করতে হলো, এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন ও এর প্রতিকার নিয়ে ভাবা জরুরি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এর প্রতিকার চাই।