কাঁচাপাটের অভাব : সরকারি পাটকলগুলো বন্ধের আশংকা

 কাঁচাপাটের অভাব : সরকারি পাটকলগুলো বন্ধের আশংকা

আব্দুল হাই রঞ্জু  : এক সময় আমাদের দেশে কৃষি চাষাবাদের অন্যতম পণ্যই ছিল পাট। সোনালী আঁশখ্যাত পাটই ছিল রফতানি আয়ের বড় খাত। একমাত্র পাট রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই ছিল রাষ্ট্রের একমাত্র অবলম্বন। পাটকে ঘিরে দেশের নদী তীরে গড়ে ওঠেছিল নৌবন্দর। সে বন্দর দিয়ে বড় বড় জাহাজে পাট রফতানি হওয়ায় নৌবন্দরগুলোকে ঘিরে গড়ে ওঠেছিল ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ব্রিটিশ আমল এবং তৎপরবর্তী তদানিন্তন পাকিস্তান আমলে মাড়োয়াবী খ্যাত বড় বড় পাট ব্যবসায়ীরা পাটকে ঘিরে গড়ে তুলেছিল বিরাট বিরাট পাটের গুদাম। আজ কিন্তু সে সব শুধুই স্মৃতি। কালের বিবর্তনে ও ক্ষমতাসীনদের ভ্রান্তনীতির কারণে পাট হারিয়েছে তার অতিত ঐতিহ্য। এমনকি কৃষিপণ্য বলতে এক সময় যে পাটই ছিল অন্যতম, সে পাট হারিয়েছে তার কৃষিপণ্যের সত্ত্বা। ফলে মহাজোট সরকার ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে নতুন করে পাটকে কৃষিপণ্যের স্বীকৃতি দিয়ে পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে।

জন্মসূত্রে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় আমার বেড়ে ওঠা। বন্দর হিসেবে চিলমারী উপজেলার ছিল অতিত ঐতিহ্য। এখন আর বন্দর হিসেবে চিলমারী উপজেলার তেমন কোন কার্যক্রম নেই। প্রমত্তা নদী ব্রহ্মপুত্রের সেই ঐতিহ্যও আর নেই। পানি কমতে কমতে ব্রহ্মপুত্র এখন নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। একমাত্র পাট ব্যবসাকে ঘিরে ব্রহ্মপুত্রের বুকে চলাচল করতো বড় বড় জাহাজ আর পানশি নৌকা। ছিল পাট ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা। এই বন্দর দিয়ে দেশে বিদেশে পাট আনা নেয়া হত। সর্বগ্রাসী ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরটি নিঃশেষ হয়ে গেছে। সাথে সাথে পাট ব্যবসার জন্য গড়ে ওঠা সুবিশাল পাটের গুদামও ধ্বংস হয়েছে। শুধু চিলমারী থানাটিই (এখন উপজেলা) নয়, জেলার কমবেশি প্রতিটি থানাই ছিল পাট উৎপাদন ও পাট ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু। চিলমারীতে বেড়ে ওঠার সুবাদে পাটের উৎপাদন ও পাট ব্যবসার চালচিত্র নিজের চোখে দেখার সুযোগ হয়েছিল। বলতে গেলে, প্রতিটি কৃষক পরিবারের অর্থকরী ফসল ছিল পাটের চাষাবাদ।

 ছিল পাটের পাশাপাশি কৃষকের ঘরে গোলাভরা ধান, পুকুর, বিলে ছিল প্রচুর মাছ। সে কারণে বলা হত মাছে ভাতে বাঙালি। এখন কিন্তু কৃষকের ঘরে চিরচেনা সেই সুখের সুবাতাস আর বয় না। অতিকষ্টে কৃষক চাষাবাদ করলেও এখন উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্যের অভাবে কৃষকের হাড় মজ্জা শুঁকিয়ে গেছে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে কৃষি উপকরণের মূল্য। চাষাবাদের খরচও বাড়ছে সমান তালে। কিন্তু খরচের তালে উৎপাদিত ফসলের দাম না বাড়ায় লোকসানের মুখে কৃষক এখন মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। উপযুক্ত মূল্যের অভাবে মহাজনী ঋণ, এনজিও ঋণ, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কৃষক এখন চোখে সরষে ফুল দেখছে। এখানেই কষ্টের যে শেষ, তাও না। অতি সম্প্রতি ধার দেনা পরিশোধে ব্যর্থ কৃষকের বিরুদ্ধে ব্যাংকগুলো মামলা করায় কৃষকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কৃষি অর্থনীতিই আমাদের বড় অবলম্বন।

 আর কৃষির কারিগর কৃষকই দেশের প্রাণ। সেই কৃষকের বিরুদ্ধে মাত্র ৫০৫ কোটি টাকার কৃষি ঋণ আদায়ে প্রায় দুই লক্ষ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অথচ এ দেশে গুটিকতক শিল্পপতি ব্যাংক থেকে নামে বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হলেও সচরাচর যাদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হয় না। উল্টো রুগ্ন শিল্পের দোহাই দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ কিম্বা শিল্প বাঁচার অজুহাতে নতুন করে ঋণ দেয়া হয়। অথচ সামান্য ঋণের জালে বন্দি হয়ে এ দেশের কৃষকের কোমরে রশি বাঁধানো হয়। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ৪৭ বছর আগে। কিন্তু কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। উল্টো কাঠের লাঙ্গলের স্থান দখলে নিয়েছে যান্ত্রিক লাঙ্গল। শোষণে শোষণে কৃষক চাষের জমি হারিয়ে হয়েছে ভূমিহীন কিম্বা বর্গাচাষী। সে জমি দখলে চলে গেছে শিল্পপতি ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের দখলে। যে মুহূর্তে এ দেশের কৃষক পেটের দায়ে চাষের জমি বিক্রি করেছে, সে মুহূর্তে জমির তেমন মূল্য ছিল না। প্রয়োজনের তাগিদে কৃষক পানির মূল্যে জমি বিক্রি করেছে। আর জমি হারানোর পর সে জমির মূল্য বেড়েছে হাজার গুণ বেশি। জমি হারিয়ে কৃষক পরিবারগুলো রুটি রুজির জন্য পাড়ি জমিয়েছে নগর-মহানগরে। যারা এখন অতিকষ্টে নগর-মহানগরে রিক্সা চালিয়ে, শ্রম বিক্রি করে বস্তিবাসী হয়েই মানবেতর পরিবেশে অতিকষ্টে বেঁচে আছে।

কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সে হিসেবে কৃষিভিক্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হওয়ার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান সেভাবে স্থাপিত হয়নি। যদিও গোটা দেশে কমবেশি কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে চালকল শিল্প (হাসকিং মিল) স্থািপত হয়েছিল, তাও এখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলিনের পথে। আর আলু সংরক্ষণ উপযোগী হিমাগার গড়ে ওঠলেও চাহিদার তুলনায় তাও অপ্রতুল। এমনকি আলু থেকে পণ্য উৎপাদনের শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সম্ভাবনা থাকলেও সেভাবে বিকশিত হচ্ছে না। এর বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ব কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বলতে চিনিকল অন্যতম। কারণ আমাদের দেশে চিনি উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ আখের ভাল চাষাবাদ হয়। সেখানেও বিপত্তি! বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির সুযোগ দেয়ায় দেশীয় চিনিকলগুলো এখন মৃত্যুর পথে।

 এখন বিস্তৃত চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষের সুযোগ থাকলেও ভুট্টার উপযুক্ত মুল্যের অভাবে সে চাষাবাদও প্রতিনিয়তই কমে আসছে। অথচ নদী বিধৌত বাংলাদেশের নদীগুলো নাব্যতার অভাবে শুঁকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক চরাঞ্চলের। আর চরাঞ্চলের পতিত এসব জমিতে এখন ভুট্টা, আলু, সবজির ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। এত সুযোগ থাকার পরও শুধু উপযুক্ত মূল্যের অভাবে ভুট্টা চাষ কমে যাচ্ছে। অথচ পল্ট্রি শিল্পের সুষম খাদ্য হিসেবে ভুট্টার যথেষ্ট কদর রয়েছে। নদীবেষ্টিত সুবিশাল চরাঞ্চলে ভরা কুড়িগ্রাম সহ উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় ভুট্টা চাষে সরকারি সহায়তা দিয়ে ভুট্টার চাষাবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব অঞ্চলে মুরগির খাদ্য উৎপাদনে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপন করতে পারলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ভুট্টা চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল।

চিনিশিল্পের পরের স্থানটি হচ্ছে পাটকল শিল্প। যে শিল্পের ঐতিহ্যের কথা লেখার শুরুতে বলেছি। মহাজোট সরকার ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে এসে পাট শিল্পের বিকাশ এবং পণ্যে পাটজাত মোড়কের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছিল। আমাদের বিশ্বাস ছিল, পাট শিল্পের বিকাশ হবে এবং দেশের পাট চাষের ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে। সরকার প্রধানও পাট শিল্পের বিকাশে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন, যা আমরা প্রত্যক্ষ করে আসছি। গত ২০১৬ সালের ৬ মার্চের কথা। ওই দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ এর সফল বাস্তবায়ন উপলক্ষে সম্মাননা প্রদান এবং বহুমুখী পাটপণ্য মেলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। সে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাট কৃষিজাত পণ্য হলেও অতিতে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোর ভ্রান্ত পাটনীতির কারণে পাটশিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে সকলকে পণ্যে পাটজাত মোড়কের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 উক্ত অনুষ্ঠানে পাটকে তিনি কৃষি পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, পাটের প্রনোদনা এবং ভুর্তকীর মতো সুযোগ সুবিধা এখন পাট চাষিরা পাবেন। এ উদ্যোগকে সফল করতে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজমের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টাও আমরা লক্ষ্য করেছি। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন পেশাজীবিদের নিয়ে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানেও আমি উপস্থিত থেকে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। সে দিন আমি বলেছিলাম, পণ্যে পাটজাত মোড়কের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে পলিথিন উৎপাদনের কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ একদিকে দেশে পলিব্যাগ প্রস্তুত করা অব্যাহত থাকবে, আর অন্যদিকে আপনারা পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলবেন, স্ববিরোধী এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এ উদ্যোগকে কশ্মিনকালেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সে দিন মন্ত্রী বলেছিলেন, পর্যায়ক্রমে আমরা পলিথিন, কিম্বা পলিব্যাগ উৎপাদনও বন্ধ করে দেব। এরই মধ্যে দুইটি বছর অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু পলিব্যাগ উৎপাদন আজও বন্ধ হয়নি। ফলে সরকারের পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহারকে শতভাগ নিশ্চিত করাও সম্ভব হচ্ছে না।

অতিসম্প্রতি জাতীয় এক দৈনিকে ‘কাঁচাপাটের অভাবে সরকারি পাটকলগুলো বন্ধের আশংকা’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত খবরে জানা যায়, কাঁচাপাটের অভাবে সরকারি পাটকলগুলো বন্ধের আশংকা দেখা দিয়েছে। পাটকলগুলো বন্ধ হলে শ্রমিক অসন্তোষের আশংকাও রয়েছে। এমন আশংকার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান, ড. মোঃ মাহামুদুল হাসান পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিজেএমসি চলতি মৌসুমে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোর জন্য কাঁচাপাট কিনতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। এরপর টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, পাটের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। অথচ অর্থের জন্য চলছে চিঠি চালাচালি। সূত্র মতে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ব মিলগুলোতে কাঁচাপাটের মজুদ ছিল ৯৪ হাজার ৪৪১ কুইন্টাল। এ পরিমাণ পাট দিয়ে মিলগুলো সর্বোচ্চ ১৫ দিন চালু রাখা সম্ভব। মান ও গ্রেডভেদে পাট মজুদ না থাকায় ইতিমধ্যেই কয়েকটি মিলের উৎপাদন কমে গেছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মিলগুলোর দৈনিক গড় উৎপাদন ছিল ৮৭১ দশমিক ২৪ টন

। সেখানে গত সেপ্টেম্বরে মিলগুলোর দৈনিক গড় উৎপাদন কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৪৭ দশমিক ৭২ টনে। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান না পেলে পাট কেনা সম্ভব হবেনা। আর পাট কিনতে না পারলে মিলগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, মিলগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী পাট মজুদ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে অলস মজুরি পরিশোধ করতেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়। তাই মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পাট কিনতে ও মিলের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জরুরী ভিত্তিতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়। অবশ্য কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখেছিলাম, অর্থমন্ত্রী সোজাসাপটা বলেছেন, বিজেএমসি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করে দেয়া উচিৎ।

 চিন্তা ও মতের ঐক্য না থাকলে পাটকলগুলো রক্ষা পাবে কিভাবে? যেমন মাথা ব্যথা হলে মাথা না কেটে ওষুধ সেবন করতে হয়, তেমনি বিজেএমসিতে অনিয়ম, দুর্নীতি থাকলে তা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। তানা করে পাটকলগুলোকে ধ্বংস করা হলে আর এক কৃষিভিত্তিক শিল্পের অপমৃত্যু হবে! পরিশেষে শুধু এটুকুই বলতে চাই, পাট ও পাটশিল্পের সমূহ সম্ভাবনার দুয়ারকে প্রসারিত করতে হবে। এ জন্য বিজেএমসির অনিয়ম দুর করতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী বিজেএমসিকে রক্ষা করেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পাট কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। যেন পাটের অভাবে কৃষিভিত্তিক বৃহৎ শিল্প রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে না যায়।
লেখক: প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৯২২-৬৯৮৮২৮