কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাজেট হোক

 কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাজেট হোক

সেলিম সরকার : যুবশক্তি দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তারুণ্যের অদম্য শক্তি, সাহস ও মনোবলকে কাজে লাগিয়ে দেশকে একটি স্বনির্ভর উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নেয়া কঠিন কিছু নয়। প্রয়োজন শুধু জনসমষ্টিকে জনসম্পদে রূপ দেয়া। ‘৭১-এ শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিতেও পিছপা হয়নি এদেশের যুব সমাজ। দেশের সেই প্রাণশক্তির একটা বিরাট অংশ আজকে বেকার। বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে পরিবারের বোঝা হিসেবে নিগৃহীত হতে হচ্ছে এদেরকে। যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে, কর্মের অভাবে এসব তরুণদের একটা বড় অংশ ক্রমেই বিপথগামী হয়ে পড়ছে। সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি, টেন্ডারবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক বিশৃঙ্খলার।

নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশসহ মহাকাশে নাম লেখানোর মতো নানাবিধ উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে বর্তমান সরকারের। কিন্তু বিশাল যুবশক্তিকে জনসম্পদে রূপ দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সে গতি কিছুটা মন্থর। বাজেট ‘উচ্চাভিলাষী’ বা ‘উন্নয়নমুখী’ যা-ই হোক না কেন; টেকসই উন্নয়নের জন্য বেকারত্ব দূরীকরণের বাজেটই সাধারণ মানুষের কাম্য।রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিবিএস-এর তথ্য মতে, দেশে মোট কর্মোপযোগি মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এরমধ্যে কর্মে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৮ লাখ। বাকি ৪ কোটি ৮২লাখ মানুষ কর্মক্ষম হলেও, কাজের বাইরে থাকছেন। বেকার এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩৩ হাজার। আর পুরুষের সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৩৭ হাজার। গাণিতিক হিসাবে বেকারত্বের এই হার মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৪৪ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই আবার উচ্চ শিক্ষিত। যেখানে অশিক্ষিতের বেকারত্বের হার ১.৫ শতাংশ, সেখানে উচ্চ শিক্ষিতের বেকারত্বের হার ১৪.৯ শতাংশ। প্রাপ্ত এই তথ্যের আলোকে বলা যায়, জাতিকে শিক্ষিত করে গড়ে তুললেই তার কর্মস্ংস্থান নিশ্চিত হয়না; বরং এজন্য প্রয়োজন নতুন কর্মক্ষেত্রের।

বিবিএস’এর তথ্য মতে, গত অর্থ বছরে মাত্র ১৩ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান সম্ভব হয়েছে। বাকিরা বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে নতুন বছরে পা দিয়েছে। বিপুল এই বেকার জনগোষ্ঠীর বোঝা মাথায় নিয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে  মাথাপিছু ঋণের বোঝা। সর্বশেষ খানা জরিপ অনুসারে, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, রাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ ৭ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে বর্তমানে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৩৩৫ টাকা। দশ বছর আগে রাষ্ট্রের এই ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। তখনকার জনসংখ্যার হিসেবে মাথাপিছু এই ঋণ ছিল ১৫ হাজার ৭২৪ টাকা। প্রতি বছরই রাষ্ট্রের মাথাপিছু ঋণ বাড়ছে। আগামি অর্থ বছরের বাজেটে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫১ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।

কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের উৎপাদন আর গার্মেন্টস শিল্পের উপর ভর দিয়ে দেশের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৭ ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক বিবেচনায় সন্তোষজনক নয়। কেননা, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘদিন যাবত থেমে আছে। কোটি কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। ফলে, জনবহুল এই রাষ্ট্রের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি না হয়ে দেশের বোঝা হয়ে আছে দেশের ৪ কোটিরও বেশি কর্মক্ষম মানুষ। যদিও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আইএলও’র সংজ্ঞা অনুযায়ী এদেরকে বেকার বলা হচ্ছেনা। একটু ঘুরিয়ে বলা হচ্ছে, এরা কর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়। এরা শ্রম শক্তির বাইরে। বেকার বলা হচ্ছে মাত্র ২৬ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে। সরকার হয়ত বাস্তবতার নিরিখে বেকারত্বকে বিবেচনা না করে, আইএলও’র এই এই সংজ্ঞার আলোকে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লেখানোর যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ এর স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মাথাপিছু আয়ের উপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের এই মূল্যায়ন। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক। জাতিসংঘের মানদন্ড অনুযায়ী মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৪২ ডলারের বেশি থাকতে হবে। চলতি বছরে যা ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। এ বছর মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৭২ ডলার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক এই হিসাবের সাথে বাস্তবতার বেশ ফারাক দেখছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদগণ। দেশের মুষ্টিমেয় কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানিসহ জাতীয় প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এসব গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে। হাতে গোনা এসব প্রতিষ্ঠানই বছরে হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে। তাদের আয়ের উপর ভিত্তি করেই গাণিতিক হারে ভাগ করে দেখানো হচ্ছে মাথাপিছু আয়ের চিত্র। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সম্প্রতি প্রাক বাজেট আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সিপিডি’র বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয় এই চারটির মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কিনা, সে বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন। তিনি বলেন,“প্রবৃদ্ধি ৬,৭ বা ৮ যাই হোক না কেন, তার ফলাফলটা আমরা কোথায় পাব? ফল তো প্রবৃদ্ধি দিয়ে হবেনা। ফলাফল নির্ধারিত হবে জনমানুষের কর্মসংস্থান হলো কি-না, আয় হলো কি-না তার উপর।
 
বিবিএস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ যুবক এই মুহূর্তে পড়াশুনাও করছেনা, আবার কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা কাজকর্মও করছেনা। এরা সবাই পিতামাতা বা পরিবারের অন্য সদস্যের উপর নির্ভরশীল। সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রার সংজ্ঞানুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীকে বলা হয় প্রধান শ্রমশক্তি। সে হিসেবে দেশের প্রধান শ্রমশক্তির বড় অংশই বেকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আইএলও’র মতে, “চার সপ্তাহ কাজ খুঁজেছে অথচ পাননি, আগামি দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ পেতে পারেন বা বিদ্যমান মজুরিতে কাজ শুরু করবেন”-এমন কর্মক্ষমদেরই কেবল বেকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আইএলও’র এই সংজ্ঞাকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

দেশের বাজেট প্রতি বছরই বাড়ছে। আগামি অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২শ’ কোটি টাকার। নির্বাচনের বছর হওয়ায় এবছর বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করা হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ দৃশ্যমান উন্নয়নে। তথাপি বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করতে হচ্ছে, সরকারি কর্মচারিদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি ও প্রণোদনাসহ অন্যান্য সেবা খাতে। ৩৯ টি মন্ত্রণালয়সহ মোট ৭৬টি সরকারি সংস্থা প্রাক বাজেটে অংশ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগসহ হাতে গোনা দু’ একটি মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্যদের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্যণীয় নয়।

বিগত কয়েক বছর ধরেই বাজেটকে উচ্চাভিলাষী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী নিজেও আগামি অর্থবছরের বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী তবে বাস্তবায়নযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। বছর বছর মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে সরকার তা বাস্তবায়ন করছে। এটি আপাতঃ দৃষ্টিতে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এসব মেগা প্রকল্পের স্বার্থে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে, আয়কর ও ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে অসহনীয় পর্যায়ে নেয়া হচ্ছে। আগে যেখানে সীমিত পরিশ্রম করেই সাবলীলভাবে চলা যেত, এখন সেখানে দিনে ১২ ঘণ্টা শ্রম দিয়েও সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামি অর্থ বছরে মানুষের পরিশ্রমের মাত্রা আরো কতটা বাড়বে, বাজেট যেন তাই ঠিক করে দিচ্ছে। অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, বাজেটে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়বে। এ দুটো খাতের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সকল উৎপাদিত পণ্যের দামও যে বাড়বে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। একদিকে যেমন প্রতিটি পরিবারকে বেকার সন্তানদের বোঝা হিসেবে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি লাগামহীন মূল্যস্ফীতির চাপ বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সরকারিভাবে বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হচ্ছে। এসব পরিকল্পনায় দেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরের নানা ছক রয়েছে। কিন্তু বেকারত্ব দূরীকরণে পরিষ্কার কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরা হচ্ছেনা। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, বেকারত্বের যে কষ্ট, তা বোধ করি সরকারের উচ্চ মহলকে সেভাবে নাড়া দিচ্ছেনা। সরকার প্রবৃদ্ধির সূচকগুলোর উপরই কেবল সন্তুষ্ট থাকতে চাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ- যারা জিডিপি বোঝেনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বোঝেনা, এমনকি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ব্যবধান বোঝেনা, তাদের সন্তুষ্টির বিষয়টিও কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সংখ্যায় এরাই সবচে’ বেশি। এদের সাদাসিধে, সরল দৃষ্টিতে যা দেখেন, তা দিয়েই সরকারের কাজের মূল্যায়ন করেন। সরকারের পরিকল্পনায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ থাকলেও অতীতে বাজেটে তা অগ্রাধিকার পায়নি। আগামি অর্থ বছরের সম্ভাব্য যে বাজেটের ঘোষণা অর্থমন্ত্রী দিয়েছেন, তাতেও সেরকম কোনো ইঙ্গিত মিলছেনা। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি, কোটা সংস্কার আন্দোলন, সামান্য একটা চাকরির জন্য লাখ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার প্রবণতা, এসবই বেকারত্বের ভয়াবহতার জানান দেয়। এগুলো বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বের হওয়ার একেকটি চেষ্টা মাত্র। সরকার এসব আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করছে ঠিকই; কিন্তু সত্যিকারার্থে বেকারত্বের কোনো সমাধান তাতে মিলছে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন নতুন কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় কারিগরি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এটি আরো জোরদার করা দরকার। সরকারিভাবে কারিগরি পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা নিয়েও অনেক শিক্ষার্থী বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবে বেকার পড়ে থাকছে। এদের ইন্টার্ন-এর সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।
শিল্পোন্নত দেশের শিল্পনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিল্পনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বার্থে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে এর অর্থের উৎসের খোঁজ নেয়া বন্ধ করা যায় কি-না সে বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ভেবে দেখা প্রয়োজন। শুনেছি, শিল্পোন্নত অনেক রাষ্ট্রেই এই ব্যবস্থা রয়েছে। শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধির অর্জনে সন্তুষ্ট না থেকে দেশের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় রাষ্ট্রকে একটি কল্যাণমুখী, বৈষম্যহীন ও সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানবান্ধব সমাজ ব্যবস্থার প্রর্বতন করা প্রয়োজন। বাজেট সে লক্ষ্যেই প্রণীত হোক। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে কর্মের বাইরে রেখে প্রবৃদ্ধি যতই অর্জিত হোকনা কেন; যুবসমাজ বিপথগামী হলে, নেশায় ডুবে গেলে, সন্ত্রাসের পথে পা বাড়ালে, দেশের কোনো অর্জনই টেকসই হবেনা।  
লেখক : প্রাবন্ধিক
facebook.com/salim.sarker.180
০১৭১১-১৯১২২০