কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক

 কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক

সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আগামী বাজেটের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) প্রাক-বাজেট জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ৬৪ জেলায় মোট ৩ হাজার ৮৪৬ জন উত্তরদাতার অংশগ্রহণে এ জরিপ পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান সহ পাঁচটি খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করে। ব্র্যাকের তথ্যানুযায়ী, কর্মসংস্থান ছাড়া জরিপে আরও যে চারটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলো হচ্ছে- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, রাস্তাঘাট তৈরি ও মেরামত এবং কৃষি কাজে ভর্তুকি। কৃষিখাতে স্বল্পমূল্যে উপকরণ প্রদানে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাস্থ্য খাতে কম খরচে চিকিৎসা সুবিধা থাকাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

জরিপে ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা শিক্ষাখাতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, ভাতা, ইত্যাদি প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরাসরি অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অর্থায়নের স্বচ্ছতা আনয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ১৯৯১ সালে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ ছিল চরম দারিদ্র্যে। যা এখন ১৪ শতাংশের নিচে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমছে পাঁচকোটি। বিদেশে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ কর্মরত। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যেমন সমৃদ্ধি করছে তেমন কোটি কোটি মানুষের জীবনে দিয়েছে নিশ্চয়তার ছোঁয়া। আমাদের এখন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো সহ গ্যাস, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বেকারত্বের হার বেড়ে গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়াদের জীবন ও জীবিকা টেকসই থাকে না।