এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে

 এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে

চলতি এসএসসি পরীক্ষার একটি বিষয়ের সম্পূর্ণ এবং কয়েকটির আংশিক প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে বলে সেই সব পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে এই সংক্রান্ত কমিটি। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান মো. আলমগীর, রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান।

এসএসসিতে প্রায় প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে আসার পর সমালোচনার মুখে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আলমগীর প্রধান করে এই কমিটি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো প্রমাণ পেয়েছেন কি- এই প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘আছে, কিছু কিছু আংশিক আছে। কিছু কিছু পুরোপুরি আছে।’ যেসব বিষয়ের আংশিক ফাঁস হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে পুরো পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করবে না কমিটি।

সচিব বলেন, ‘যদি দেখা যায় যে কোনো প্রশ্ন হবুহু মিলে গেছেৃ যদি অবজেকটিক টাইপের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকে বাকিটার পরীক্ষা নতুন করে নেব না, শুধু অবজেকটিভের জন্য পরীক্ষা হবে। যদি পরীক্ষা চলার এক-দুই ঘণ্টার আগে বা তিন ঘণ্টা আগে বা আগের দিন যদি ফাঁস হয়ে থাকে।’ তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রশ্ন ফাঁস হলে সেগুলো বাতিলের পক্ষপাতি নন তিনি। আর যদি দেখা যায় পরীক্ষা চলাকালীন বা আধা ঘণ্টা আগেৃ যদি দেখা যায় ৫০০ ছেলেমেয়ে এরসঙ্গে জড়িত, এজন্য তো ২০ লাখ ছেলেমেয়ের পরীক্ষা বাতিল করা ঠিক হবে না। আলমগীর বলেন, ‘বাতিল করবে মন্ত্রণালয়, আমরা সুপারিশ করার মালিক।’ চলতি এসএসসি ও সমমানের বেশিরভাগ পরীক্ষার প্রশ্নই পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ফেইসবুকে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হচ্ছিল। সম্প্রতি ভয়াবহ আকারে প্রশ্ন ফাঁসের পর সরকার বলছে, পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে উদ্দেশ্যমূলকভবে শিক্ষকরা প্রশ্ন ফাঁস করে দিচ্ছেন। কোনো বিষয়ের প্রশ্ন পুরোটা ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেছে তা না জানালেও সচিব বলেন, ‘একটা পেয়েছি, এখন বলব না, ২৬ ফেব্রুয়ারি জানতে পারবেন ’ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান জানান, আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আরেকটি সভা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করবেন তারা, আর প্রতিবেদন জমা দেবেন ২৬ ফেব্রুয়ারি। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি।

এসএসসির যেসব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণের কথা জানিয়ে আলমগীর বলেন,‘প্রশ্ন কখন আউট হয়েছে বলে গণমাধ্যমে এসেছে এর সঙ্গে মেলাতে হবে, সেগুলো পরীক্ষা করেছি। ২৫ ফেব্রুয়ারি বসে পরীক্ষা করব প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে কতজন জড়িত ছিল। কতক্ষণ আগে ফাঁস হয়েছে, কত নম্বরের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, কতটুকু মিলেছে।’ সচিব বলেন, ‘এমসিকিউ ফাঁস হয়েছে বলে রিপোর্ট এসেছে, সেটা মিলিয়ে দেখব। হয়ত হবহু মিলেছে বা আংশিক মিলেছে বা মিলেনি। কিছু কিছু মিল পেয়েছি।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে তথ্য দিচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘ফেইসবুক গ্রুপে কখন প্রশ্ন দিচ্ছে, কে কে প্রশ্ন কোনাবেচা করছে তাদের গ্রেফতার করে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রশ্ন ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দেলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পাঁচ লাখ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ওই পুরস্কার দেওয়ার মতো এখনও কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও জানান সচিব আলমগীর। গত ১১ ফেব্রুয়ারি এই কমিটির প্রথম সভা শেষে আলমগীর জানিয়েছিলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতের অভিযোগে ৩০০ মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে সেগুলো ব্লক করে দিয়েছে সরকার, ওইসব মোবাইল নম্বরের মালিকদের পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। রোববারের সভা শেষে সচিব বলেন, ৩০০ মোবাইল নম্বরের বাইরে প্রতিদিনই নতুন মোবাইল নম্বর পুলিশ পাচ্ছে। সারা দেশে ৬০ থেকে ৭০ জনের মতো গ্রেফতার হয়েছে। যেসব মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে তার মধ্যে কিছু ভিআইপি থাকার কথা জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানি আলমগীর।

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় মনিটরিং এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির জরুরি সভায় ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও বিটিআরসি প্রতিনিধি, আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিদের ওই কমিটিতে রাখা রয়েছে।