ঋণ খেলাপি বন্ধ হোক

 ঋণ খেলাপি বন্ধ হোক

জামানতবিহীন ঋণ এখন দেশের ব্যাংকিং খাতের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। নামমাত্র জামানতের দেওয়া বৃহদাকার ঋণগুলোর বেশির ভাগই আদায় করতে পারছে না ব্যাংক। ব্যাংক খাতে দুর্বল জামানত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ এই ঋণ এখন খেলাপি হতে চলেছে। তাই ব্যাংকগুলো জামানতবিহীন ঋণের ফাঁদ থেকে বেরুতে পারছে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের জন্য বড় ধরনের হুমকি। আর জামানতবিহীন বা নাম মাত্র জামানত নিয়ে যেসব বড় অংকের ঋণ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই খেলাপি হওয়ার পথে। এটা ব্যাংকিং খাতকে স্মরণকালের ভয়াবহতম সংকটের দিকে নিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে জাতীয় গণমাধ্যমে। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এক শ্রেণির অসাধু গ্রাহক ও ব্যাংকার করপোরেট গ্যারান্টির অপব্যবহার করছেন।

এ ছাড়া জামানতবিহীন এসব ঋণ ছাড়ে কিছু অসাধু ব্যাংকার গ্রাহকের সঙ্গে যোগসাজস করে কমিশন নিয়ে তা দ্রুত ছাড় করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে বললে কম বলা হবে। আমাদের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের শিরোনামগুলো দেখলেই আঁচ করা যায়। যেমন-শীর্ষ ২৫ ঋণ খেলাপির কাছেই পাওনা ১০ হাজার কোটি টাকা, মাত্র দশ বছরেই দুই হাজার খেলাপির পকেটে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক পরিচালকরাই চার হাজার কোটি টাকার  ঋণ খেলাপি ইত্যাদি। ব্যাংকিং খাতে টাকার ছিনিমিনি খেলা যেন কিছুতেই থামছে না। প্রায়ই কোনো না কোনো ব্যাংকের বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ হচ্ছে গণমাধ্যমে। একদল লোক ঋণ নিয়ে সুদ আসল সময়মতো পরিশোধ করছে এবং আরেক দল তা করছে না- এটা আসলেই মন্দ প্রথা। নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই এ বিষয়ে সরকার যতœবান হবে এমনটিই কাম্য।