ইলিশ চাষে বিপ্লব

 ইলিশ চাষে বিপ্লব

বর্তমানে ইলিশের উৎপাদন বার্ষিক পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। পৃথিবীর মোট ১১টি দেশে ইলিশ পাওয়া যায়। তার মধ্যে ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশই শ্রেষ্ঠ। পৃথিবীর প্রায় ৬৫ শতাংশ ইলিশ এই দেশেই আহরিত হয়। দেশজ মাছ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। দেশের মোট মাছের ১২ শতাংশই ইলিশ। এর অর্থ মূল্য আনুমানিক ৭ হাজার কোটি টাকা। আর ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে আসে ১৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রথম তিনমাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ইউএস ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। এই সাফল্যের পিছনে সরকারের মা ইলিশ ও জাটকা নিধনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের অবদান সর্বজনবিদিত।

ইলিশ আমরা প্রচুর আহরণ করলেও এত স্বাদের ইলিশ কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কারণ ইলিশ এখন যেমন দু®প্রাপ্য তেমনি দুর্মূল্য। দুষ্প্রাপ্য এবং দুর্মূল্য হওয়ার কারণও সবার কাছে স্পষ্ট। ইলিশ মাত্রাতিরিক্ত রফতানি হচ্ছে। ইলিশ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। বৈদেশিক মুদ্রা আসছে সত্য। কিন্তু দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে আয়ের অংক স্ফীত হওয়াতেও সাধারণ মানুষের ইলিশ না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে।  ইলিশ নিয়ে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ আমরা উপলব্ধি করি। আমরা প্রস্তাব রাখতে চাই, আগে দেশের মানুষকে সন্তুষ্ট করা উচিত, তারপর রপ্তানি। দেশের মানুষের কাছে কীভাবে ইলিশ সুলভ করা যায়, তা নিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের ভাবতে হবে।