আর্সেনিকের ঝুঁকি মোকাবেলা

 আর্সেনিকের ঝুঁকি মোকাবেলা

ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক থাকার কারণে বাংলাদেশে ধানের ফলন কমছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষি প্রধান এ দেশটি। ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক এবং ধান আবাদে এর প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক থাকলে, মাটিও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আর্সেনিক যুক্ত হয়ে পড়ে এবং এতে ধান উৎপাদন ৭ থেকে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। আমেরিকায় ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক চার্লস হার্ভে এবং তার গবেষণা টিম বাংলাদেশের ফরিদপুরে দু’বছর ধরে গবেষণা করে এমন তথ্য পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুণ পর্যন্ত বেশি।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন, ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার, জলাবদ্ধতা ও বদ্ধ জলাশয়ের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিতলে আর্সেনিক জমাটবদ্ধ হচ্ছে। ফলে অগভীর নলকূপ ও জলাশয়ের পানি ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আর্সেনিকে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে প্রথম বারের মতো ক্ষতিকর মাত্রায় আর্সেনিক ধরা পড়ে ১৯৯৩ সালে। এরপর থেকে আর্সেনিক আক্রান্তদের ব্যাপারে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার চেয়ে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থার দিকেই এগোতে থাকে সরকার। অগভীর নলকূপের পানি ব্যবহারে সতর্কতা যেখানে অত্যন্ত জরুরি, সেখানে সচেতনতার অভাবে আর্সেনিকের আক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করছে। আর্সেনিক ঝুঁকি মোকাবেলায় সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে আর্সেনিক ঝুঁকি কমিয়ে আনতে দপ্তরের সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে এগোতে হবে।