অর্গানিক চাষাবাদে নিরাপদ খাদ্য

 অর্গানিক চাষাবাদে নিরাপদ খাদ্য

সাধারণভাবে জৈবখাদ্য অথবা অর্গানিক ফুড বলতে কোন ধরনের রাসায়নিক, হরমোন বা কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদিত খাবারকে বোঝায়। এ কারণে অর্গানিক খাবার শতভাগ নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। ফলে সারা বিশ্বে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্রমেই বাড়ছে অর্গানিক চাষাবাদ। কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। সারা বিশ্বে যেসব দেশে ১ শতাংশের কম জমিতে অর্গানিক চাষাবাদ হচ্ছে, সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তাও আবার অনেক দেশের পেছনে। এই সময় দেশের মাত্র ৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে অর্গানিক চাষাবাদ হচ্ছে, যা মোট চাষযোগ্য জমির মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের জমির বিশাল অংশের জৈব উপাদানের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সময়ের ফসল সময়ে উৎপাদন হচ্ছে না।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কৃষির অপরিকল্পিত নিবিড়করণ, পরিকল্পনাহীন শস্য আবর্তন, নানা উচ্চফলনশীল শস্যের চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটিতে জৈব উপাদানের ঘাটতি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুত্রমতে, লবণাক্ততার কারণে এরই মধ্যে ১৮ জেলার ৯৩ উপজেলার ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমির মাটি কম-বেশি দূষিত হয়ে পড়েছে। জৈব উপাদানের ঘাটতি ধরা পড়েছে ৫২ লাখ হেক্টর জমিতে। অর্গানিক খাদ্য পেতে হলে অর্গানিক চাষাবাদ করা দরকার। সুষম মাটিতে সাধারণত ৪৫ শতাংশ খনিজ বা মাটির কণা, ৫ শতাংশ জৈব এবং ২৫ শতাংশ করে পানি ও বাতাস থাকার কথা। এর মধ্যে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান জোগান দেয় মাটিতে থাকা ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ। ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ফসলি জমির মাটির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হবে। সুষম জৈব সারের ব্যবহার অর্থাৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মাটিতে ঠিক যতটুকু পুষ্টি বা খাবারের অভাব আছে ততটুকু সার ব্যবহার করতে হবে। এতে একদিকে যেমন ফসল উৎপাদনে ব্যয় কমবে, তেমনি ভাল থাকবে মাটির স্বাস্থ্য, উৎপাদিত ফসলের খাদ্যমান এবং পরিবেশ।