অভিশপ্ত যৌতুক প্রথা

 অভিশপ্ত যৌতুক প্রথা

যৌতুক নারী নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ধর্মীয় এবং আইনগত দিক থেকে অবৈধ এই কুপ্রথার শিকার হয়ে প্রতিদিনই কোনো না কোনো নারী নিগৃহীত হচ্ছেন। তাই যৌতুক নিরোধে কড়া আইনের তাগিদ বরাবরই থাকলেও তা প্রণয়ন এবং প্রয়োগে ঘাটতি দেখা যায় বরাবরই। অসঙ্গতি রেখেই জাতীয় সংসদ পাস করেছে যৌতুক নিরোধ বিল ২০১৮। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত এ বিলটি পাস করার আগে এর নানা অস্পষ্টতা ও ত্রুটি তুলে ধরে সাত দফা সুপারিশ করেছিল আইন কমিশন। কিন্তু গত রোববার সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হওয়া ওই বিলে আইন কমিশনের মতামতগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, আইন কমিশনের চিহ্নিত করা অসঙ্গতিগুলো দূর না করেই বিলটি পাস করায় বাস্তবে যৌতুক নিরোধ আইন একটি ত্রুটিপূর্ণ আইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। এখন রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে বিলটি আইনে পরিণত হবে।

নতুন আইনে ১৯৮০ সালের যৌতুক বিরোধ অধ্যাদেশ হাল নাগাদ করে যৌতুক সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় কারাদ  ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। জানা গেছে, আইন কমিশনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যৌতুক নিরোধ আইন একটি বিশেষ আইন হলেও বিলে এই আইনের প্রাধান্য দিয়ে কোনো বিধান রাখা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ছাড়া সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে কে প্রতিকার করতে পারবে বা মামলা করতে পারবে তা সুস্পষ্ট করা উচিত বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু পাস হওয়ায় বিলে সুপারিশের বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। কমিশনের সুপারিশ যৌতুক দাবির অপরাধের বিচারের জন্য আদালত নির্ধারণের কথা বলা হলেও পাস হওয়া বিলে বিচারিক আদালত নির্ধারণ করা নেই। এ ছাড়া বিলে তামাদি বিধান যুক্ত করার সুপারিশও করা হয়েছিল কমিশনের পক্ষ থেকে। তবে পাস হওয়া বিলে এসবের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা আশা করি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে এ আইনের কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করে নেওয়া উচিত।