শেখ হাসিনা যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ততদিন: হানিফ

  শেখ হাসিনা যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ততদিন: হানিফ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত এবং কর্মক্ষম আছেন, ততদিন পর্যন্ত তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ততদিন বাংলার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করতে পারে- বাংলাদেশের কোনও অপশক্তির ক্ষমতা নেই। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কাজী বশির মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে হানিফ এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, অশুভ শক্তি বিদেশি মদত নিয়ে আবারও অশুভ তৎপরতা করার চক্রান্ত করতে পারে। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এদের ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হবে।

তারেক রহমান ইস্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, তার মতো ব্যক্তিও নির্লজ্জ মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি বললেন, তারেক জিয়া (রহমান) জš§সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তারেক জিয়ার জš§ হয়েছিল পাকিস্তানের করাচিতে। জš§সূত্রে যদি নাগরিকত্ব হয় তাহলে তারেক জিয়া পাকিস্তানের নাগরিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। মির্জা ফখরুল সাহেব নিজে মিথ্যাচার করে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলার অভিযোগ আনছেন এজন্য তার প্রতি জাতির ধিক্কার ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, বিএনপি এখন মিডিয়ার কল্যাণে বেঁচে আছে। জনগণের কাছে যাওয়ার আর কোনও মুখ ও সাংগঠনিক শক্তি নেই। প্রতিদিন তারা সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অস্তিত্বকে জানান দিচ্ছে। সরকার ওপর কোন চাপ নেই দাবি করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আছে, আগামী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আবারও ক্ষমতায় আসবে। এই বাংলাদেশের জনগণ বেগম জিয়া ও তার দুর্নীতিবাজ পুত্রের নেতৃত্বে হত্যা-সন্ত্রাসের রাজনীতি দেখতে চায় না। তাই ২০১৮ সাল নয়। ২০২৪ সালে নয়।

২০২৯ সালের পরে তাদেরকে ক্ষমতায় আসার জন্য ভাবনা করতে হবে। ছাত্রলীগের নেতাদের উদ্দেশে হানিফ বলেন, যে আদর্শ নিয়ে, যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি; যে আদর্শ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিজের জীবন দিয়েছেন আজকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতি পদে পদে আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ, আমাদের প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তিরা বসে আছে। এর আগে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি বায়জিদ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ১২ মে’র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটির সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের কমিটি ঘোষণা করা হবে। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।