দলের ভাবমূর্তি নষ্টে দুদকের অনুসন্ধান : বিএনপি

  দলের ভাবমূর্তি নষ্টে দুদকের অনুসন্ধান : বিএনপি

বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য নেতাদের ব্যাংক হিসাব নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বিএনপির অভিযোগ, এটা দলের ভাবমূর্তি নষ্টের নীল নকশার অংশ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ তুলে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে-পরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আট নেতার সন্দেহজনক ১২৫ কোটি টাকা লেনদেনের খবর পেয়ে গত সোমবার তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন, যে খবর গণমাধ্যমে আসে। দুদকের অনুসন্ধানের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে  মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এই অভিযোগ করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ডাচ-বাংলা ব্যাংকে আমার এবং আমার পরিবারের কোনো সদস্যের কখনো কোনো সময় একাউন্ট ছিল না, বর্তমানেও নাই। দুদকের কাছে আমার আহ্বান- যদি এই একাউন্ট থেকে থাকে, তাহলে কোন ব্রাঞ্চে আছে, কত নম্বর একাউন্ট, কোন তারিখে আমি খুলেছি- তা প্রকাশ করুন। তিনি আরো বলেন, এটা সরকারের একটা নীল নকশা; মিথ্যা প্রচার, অবান্তর ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসবের উদ্দেশ্য একটাই- বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি খেলা সরকার খেলতে চায়। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিএনপির দাবি দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায় জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাতে সরকার এই ষড়যন্ত্রের খেলায় নেমেছে বলে অভিযোগ খন্দকার মোশাররফের। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে সাত কোটি টাকা লেনদেনের কথা বলা হয়েছে-সেটা আমি সারাজীবনে লেনদেন করেছি বলে আমার মনে হয় না।

এটি এক ধরণের নোংরা রসিকতা। তিনি বলেন, দুদক দাবি করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। অথচ তারা সরকারের হাতের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকার হুকুম করেছেন, এই লোকগুলো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে- এদের বিরত কর, এদেরকে ভয় দেখাও, এদেরকে থামাও। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মিথ্যা সংবাদ প্রচারের জন্য আওয়ামী লীগ ২৫টি নিউজ পোর্টাল করেছে। প্রতিনিয়ত তাদের এই মিথ্যা অপপ্রচার আপনারা দেখতে পারছেন। আগামীতে এ রকম মিথ্যাচার হয়তো আরো দেখবেন।

তিনি আরো বলেন, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রই কেবল নয়, একদলীয় শাসন প্রবর্তনের অংশ হিসেবেই সরকার এসব করছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন- আমি ব্যবসা করি, লেনদেন হতেই পারে। সংবাদটিতে দেখলাম আমার নামে বিভিন্ন একাউন্ট নাম্বার দিয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকের নাম দেওয়া হয়েছে, যেখানে আমার কোনো একাউন্টই নাই। এই সংবাদ বা অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া। কেন ও কোথা থেকে এই সংবাদের উৎপত্তি করা হলো-সেটা জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। দুদকের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের পয়সা ও  জনগণের কল্যাণে আপনাদের প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। দয়া করে জনগণকে হেনস্তা করবেন না। আমি যদি অন্যায় করি আমাকে ধরবেন, আইন অনুযায়ী ধরতে হবে, আইনের বাইরে গিয়ে নয়। সরকারের কারখানা থেকে তাদের ক্যাডারদের দিয়ে মিথ্যা নিউজ তৈরি করে তারপরে বলবে গোয়েন্দা সূত্র। তারপরে সেটা নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লাগবেন, এটা শুভ জিনিস নয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।