আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ

  আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ

বৃষ্টির ভর মৌসুমেও কমছে না তাপমাত্রা। ঝুমবৃষ্টির পরও অসহ্য গরম থাকছেই। ১৯৭৯ সালের পর গত ৪০ বছরে আবহাওয়ার এমন বৈরি আচরণের সঙ্গে পরিচিত নন দেশের মানুষ। একই অবস্থা আবহাওয়া বিভাগের। তাদের মতে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ এ সময় বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে থাকার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এর অবস্থান দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর থেকে অনেক দূরে। এখন চলছে আষাঢ় মাস। ঋতুচক্র অনুসারে বাংলাদেশের এ মাসকে বর্ষার ভরা মৌসুম বলে গণ্য করা হয়। এ সময় তাপমাত্রাও থাকে সহনীয়। প্রকৃতির মাঝে চলছে চরম বৈরি অবস্থা। এর ফলে দেশজুড়ে চলছে তাপপ্রবাহ। মেঘ, বৃষ্টি থাকলেও ভ্যাপসা গরমে মানুষ অস্থির। গত কয়েক দশকে, বিশেষ করে ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনে একটি অস্বাভাবিকতা অব্যাহত রয়েছে বলে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানান। বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণেও দেশে তাপমাত্রা বাড়ছে। সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন, ২০২০ সালে তাপদাহ দ্বিগুণ হবে। এতে প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের আবহাওয়াবিদরা জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

এ লঘুচাপের প্রভাবে গরম বেড়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি ছিল। এই জলীয় বাষ্প দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখছে। এ কারণে রাতের বেলাও গরম পড়ছে। ঘাম হচ্ছে বেশি। তবে লঘুচাপের কারণে প্রচুর মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। একটানা বৃষ্টি হলে তীব্র গরম কিছুটা কমবে বলে ধারণা তাদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারো হাত নেই। কিন্তু আমরা একে সতর্কতামূলক আগাম কিছু ব্যবস্থা নিতে পারি। যার মধ্যে বনায়ন সৃষ্টি করা অন্যতম। প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। সবুজ অরন্যের সমারোহ সৃষ্টি করতে হবে। এটা বৈরি আবহাওয়া থেকে মানুষকূলকে রক্ষা করবে।