রাত ১১:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপির  ষড়যন্ত্রের ফাঁদে বাংলার মানুষ পা দিবে না । ‘তারা কোনো মতে আপনার ঘরে ঢুকতে পারলেই আপনার সব লুঠপাট করে নিয়ে যাবে’ উল্লেখ করে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এ অবস্থায় আপনাদের ঘর আপনাদেরকে রক্ষা করতে হবে। মন্ত্রী এ ষড়যন্ত্রে পা না দেওয়ার জন্য দেশের মানুষের প্রতি আহবান জানান।আনিসুল হক গতকাল শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার ‘মুক্ত মঞ্চে’ দুঃস্থ জনগণের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে এ আহবান জানান। আইনমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

কসবা পৌর আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কসবা-আখাউড়ায় প্রায় ২৩ হাজার দুঃস্থ জনগণের মাঝে শীত বস্ত্র  বিতরণ  করা হচ্ছে বলে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন।পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সফিকুল  ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে কসবা উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান এডভোকেট আনিসুল হক ভুইয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে সকল বীর শহীদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

রংপুরে ক্ষমতাসীনদের বিধিভঙ্গে হিড়িক দেখেও ইসি নির্বিকার : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে আগামী সোমবার ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের বাসায় তার ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক কেক কাটার অনুষ্ঠান থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা ও অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে ইসির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, রসিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের প্রার্থী দু’জনই নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের হিড়িক সৃষ্টি করেছে।

 একের পর এক তারা আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। সেদিকে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ নেই, তাদের কোনো নজর নেই, তারা নির্বিকার। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীকে কিভাবে আউট করে দেয়া যায়, সরিয়ে দেয়া যায়- নির্বাচনে সর্বশেষ সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। সামান্য একটু ত্রুটি পেলেই ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে, একের পর এক জরিমানা করা হচ্ছে, বিএনপির প্রার্থীকে একটা মামলা দিয়ে আউট করে দেয়া যায় কিনা।

 কিন্তু সেটা পারেননি হাই কোর্টের কারণে। এসব ক্ষেত্রে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, বিএনপির পক্ষে যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও তারা (স্থানীয় প্রশাসন) একের পর এক আইন জারি করছেন, জারিমানা করছেন, শাস্তি দিচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে কাউকে আঘাত দিয়ে কথা না বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি পরামর্শ রাখেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে রোল মডেল আমাদের প্রধানমন্ত্রী গর্ব করে বলেন। আমার ৮৫তম জন্মদিনের এই মুহূর্তে আমি তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে ছোট একটা অনুরোধ রাখব-রোল মডেল হোন, ওই বিষয়ে কথা বলার সময়ে যেন কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলবেন না।

প্রত্যেক নাগরিক তার মর্যাদা নিয়ে, তার মহিমান্বিত ব্যক্তি সত্ত্বা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, তার দিকে তাকিয়ে আপনার যতটুকু সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন-সেটি করবেন, এটি করা দরকার। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহের সভাপতিত্বে এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংবাদিক এমএ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী-ছাত্র-ছাত্রী-সমর্থকদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।

 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ : ফখরুল

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও মুক্তচিন্তার রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন আমাদের বাস্তবায়িত হয়নি। আজকে যে দলটি জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে সেই আওয়ামী লীগ যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফখরুল। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের শাসনের যাঁতাকলে পড়েছে। জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। যারা ভিন্নমত পোষণ করছে তাদেরকে নির্মুল করে দেয়ার জন্য সব রকম কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে প্রশাসনে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আবারো সেই প্রশাসনের অর্থাৎ সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে কোথাও কোনো স্বাধীনতা নেই, কোথাও কেউ তার নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না। প্রকাশ করলেই মামলা, খুন, গুম। আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে- এই দাবি পুনরুল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সংবিধানের বুলি না আওড়িয়ে বাস্তবতাকে স্বীকার করে জনগণের মনের ভাষা বুঝতে শিখুন। আসুন আলোচনায় বসুন, সংলাপ করুন। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের করুন। এ সময় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ফখরুল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, বেগম খালেদা জিয়াসহ আমাদের সকল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে, শাস্তি দিয়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না, হতে দেয়াও হবে না। যদি একাদশ জাতীয় নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হয়, তাহলে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনাকে হত্যা করা হবে। বিএনপি এটা কখনোই হতে দেবে না। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তরের বজলুল বাসিত আনজু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

 

 

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি নেত্রী। এর আগে সকাল ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মুস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঢাকা মহানগর উত্তরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, ছাত্রদলের রাজীব আহসান, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, আসাদুজ্জামান আসাদ, মেহবুব মাসুম শান্ত, মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়াসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকেই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের সামনের সড়কে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।

বেগম জিয়ার আগমনের আগ পর্যন্ত পৃথক পৃথক ব্যানারে মিছিল করেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসন স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকে এলে অপেক্ষমাণ দলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তর সালে যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি, স্বপ্ন দেখেছি- সেই গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। এক অবরুদ্ধ অবস্থায় আমরা বাস করছি। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য তার দল সংগ্রাম করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা লড়াই করছি, এই লড়াইয়ে আমরা বিজয়ী হবই। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দিনে পাকিস্তানিরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছে।

তাদের এই আত্মত্যাগ কখনো পূরণ হওয়ার নয়। এদিকে সকাল ৯টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা। এছাড়া সকালে স্মৃতিসৌধে প্রধান সমন্বয়কারী আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ডেমোμেটিক অ্যালায়েন্স। চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু ও সদস্য সচিব মহিউদ্দিন বাবলুর নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এনডিএফ। এ সময় এনপিপির মহাসচিব আবদুল হাই মন্ডল, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারসহ ফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। অন্যদিকে, যুগ্ম-মহাসচিব নুরুল আমান চৌধুরীর নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাপ।

 

বিদেশে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে: কাদের

বিদেশে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত ও জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। এ দেশে জঙ্গিবাদের স্থান নেই; তারা সফল হবে না। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পেলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, জামায়াতের পরিকল্পনায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল। জামায়াত নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা জামায়াত নিষিদ্ধে সব ধরনের প্রচেষ্টা নিচ্ছি। নতুন প্রজন্মকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চোখ কান খোলা রাখতে হবে। জামায়াতে ইসলামী বিএনপির কাঁধে ভর করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। কেউ যেন নির্বাচন বানচাল করতে না পারে। দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালে যে চেতনা ধারণ করে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। জনগণের আত্মমুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

হিন্দুদের বাড়ি-ঘর-মন্দিরে হামলার পিছনে রাজনীতিও আছে: কাদের

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে আরও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মাঝে মাঝে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর-মন্দিরে হামলা হয়, এর পিছনে রাজনীতিও আছে মন্তব্য করেন তিনি।  বুধবার রামকৃষ্ণ মিশনে ভারতের অর্থায়নে প্রস্তাবিত বিবেকানন্দ ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বছর যেসব হামলা হবে, মনে রাখবেন এর পিছনে রাজনীতি আছে। কারণ নির্বাচন সামনে, সেজন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিনষ্টের মতলব থাকতে পারে। আর যারা হিন্দুদের ওপর হামলা করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায় তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।

সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দু দেশের অবিশ্বাসও সন্দেহের দেয়াল ভেঙে গেছে। দু’দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মাঝে মাঝে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। এরসঙ্গে ক্ষমতাসীন পার্টির কোনো সংযোগ নেই। এসব ঘটনার বিচার হচ্ছে। আমরা কাউকে ছেড়ে দিচ্ছি না। আওয়ামী লীগের কেউ হলেও সে পার পাবে না। সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, যারা জঙ্গিবাদের পৃষ্টপোষক তারা বন্ধু হতে পারে না। নির্বাচন এলে তারা মুখোশ ধারণ করে আপন হতে চায়। তাদেরকে চিনে রাখুন। নির্বাচনে গোলমাল হলে তারাই ঘটাবে। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন দিলে জনগণ তা মেনে নেবে না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০১৪ সালে বেগম জিয়া গণভবনে আসলে গণতন্ত্রের চিত্র পাল্টে যেত। তিনি তো সেদিন গণভবনে আসেননি। রামকৃষ্ণ মিশন ঢাকার কার্যনির্বাহীর কমিটির সভাপতি বিচারপতি গৌর গোপাল সাহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা রাখেন, রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী অমেয়ানন্দজী মহারাজ, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান প্রমুখ।

 

বিধিমালায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই: রিজভী

সম্প্রতি গেজেট প্রকাশিত নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলে কিছু নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। যে বিধিমালায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণ নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিলেন এটা তার পরিপন্থি। এমনকি সংবিধানেরও পরিপন্থি।’

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব অভিযোগ করেন। পরে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বিএনপির মুখপাত্র রিজভী বলেন, ‘নতুন শৃঙ্খলাবিধি সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। এ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, বিচার বিভাগ হবে একটি স্বাধীন অঙ্গ এবং বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ সম্পূর্ণভাবে পৃথকীকরণ করা হবে। সেজন্য আইনও পাস করা হয়েছে।’ ‘আজকে এই শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণের মৃত্যু ঘটেছে। জারি করা বিধিমালায় বলা হয়েছে- অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের ‘নিয়োগকারী’ কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি ও আইন মন্ত্রণালয়কে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবেও নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিধির ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হবে।’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই বিধির ফলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিচারিক আদালত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদের সরকারি গণপ্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য নির্বাহী বিভাগকে নিরঙ্কুশভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।’ ‘এতে সুবিচার ও ন্যায়বিচার কালেরগর্ভে হারিয়ে যাবে,’ বলেও মনে করেন রিজভী।

দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতেই বিএনপির বিক্ষোভ: হাছান

সৌদি আরবে জিয়ার পরিবারের যে ‘দুর্নীতির খবর’ বের হয়েছে সেদিক থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতেই বিএনপি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।  বুধবার মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম লীগের আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি বিগত সময়ে যেসব আন্দোলন করেছে সবগুলোই ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন। বিএনপি এমন একটা মাঠ চায় যে মাঠে খেললে তারা নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারবে। গত ৯ বছরে বিএনপি জনগণের কোনো দাবি নিয়ে আন্দোলন করেনি। হঠাৎ আজ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে। এটা জনগণের অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলন নয়। জিয়া পরিবারের অর্থ চুরির ঘটনা আড়াল করার জন্যই বিএনপি এ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য পৃথিবীর সব দেশেই বৃদ্ধি পায়। এটা নতুন কিছু না। দেখতে হবে জনগণের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা। আগে বিদ্যুতের একটা মিনিমাম বিল দিতে হতো। এটা আর এখন দিতে হবে না। এসব আড়াল করতে চায় বিএনপি। মানুষকে বিভ্রন্তি করতে চায়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দূর্জয়।

 

 

বিচারকদের এই শৃঙ্খলাবিধি অসাংবিধানিক : মওদুদ

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকুরির প্রণীত শৃঙ্খলা বিধিমালাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে এর মাধ্যমে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণের মৃত্যু ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সরকার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকুরির যে শৃঙ্খলা বিধি তৈরি করেছে তা সম্পূর্ণ আত্মঘাতি, অর্থহীন এবং অসাংবিধানিক। এর মাধ্যমে নিম্ন আদালতের বিচারকগণ সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলো। এখন আর বলা যাবে না যে, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক একটি প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’র উদ্যোগে ‘মহান বিজয় দিবস ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মওদুদ। সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, এই শৃঙ্খলাবিধি সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। ২২ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে লেখা আছে- বিচার বিভাগ হবে একটি স্বাধীন অঙ্গ এবং বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ সম্পূর্ণভাবে পৃথকীকরণ করা হবে। সেজন্য আইনও পাস করা হয়েছে। আজকে এই শৃঙ্খলা বিধির মাধ্যমে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণের মৃত্যু ঘটেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে বিচার বিভাগের আর কোনো স্বাধীনতা দূরে থাক, এটা সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এই বিধিমালায়। সংগঠনের সহ-সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

বিচার বিভাগে সরকারের নিয়ন্ত্রণই থাকছে : বিএনপি

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি প্রণয়নের ফলে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকছে বলে মনে করছে বিএনপি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নবমের চেয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আরও বড় জয় পাবে-প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় কোন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই দাবি করেছেন তা জানতে চেয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কমরেড মো. তোয়াহার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী ও তানোরের নিহতদের স্মরণে ২০ দলীয় জোট শরিক সাম্যবাদী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধি প্রণয়নের ফলে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা বেড়েছে বলে আইনমন্ত্রী দাবি করলেও তাতে ভিন্নমত পোষণ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এর ফলে সরকারের হাতেই থাকছে নিয়ন্ত্রণ। বিচার বিভাগে যে শৃঙ্খলাবিধি করা হয়েছে, তাতে সরকারের হাতেই নিয়ন্ত্রণ থাকছে। এটা একটি ভয়াবহ রকমের বিচ্যুতি, ভয়াবহ রকমের একটি চক্রান্ত। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করেই তারা (সরকার) ভিন্নমতকে, ভিন্নপথকে নিয়ন্ত্রণ করবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গিয়েই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে সরকারের বিরাগভাজন হয়ে দায়িত্ব ও দেশ ছাড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এসে বলেছিলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবেই তথ্য আছে। আজকে আবার সেই তথ্য এসে গেছে। এবার বলছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে, বেশি ভোটে জিতবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন-কোন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি (জয়) এই কথা বলেন? সরকারকে বলব-  দেন না একটি নির্বাচন, যে নির্বাচনে আপনারা সরকারে থাকবেন না এবং নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, তাহলে তো প্রমাণ হয়ে যায়-জনগণ কোন দলকে চায়? বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের বাইরে থেকে ঘুরে এসে বলতে হয় না যে আমরা জিতব। আমরা আমাদের দেশের মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে, পালস বুঝে বলতে পারি যে- তোমরা (আওয়ামী লীগ) পরাজিত হবে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপার রেহানা প্রধান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপির আতাউর রহমান ঢালী, জহিরউদ্দিন স্বপন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমরা বহু কথা বলেছি, বহু আন্দোলন করেছি, আইন পাস হয়েছে পার্লামেন্টে। সেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তারা (সরকার) আবারও সেই প্রশাসনের কাছে নিয়ে গেল।

 

 

 

 

 

অসাংবিধানিক পথ অবলম্বন করলে প্রতিরোধ করা হবে: ১৪ দল

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন আাগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে একটি মহল। প্রকারান্তরে এর হোতা খালেদা জিয়া। যে কোনো মূল্যে যারা অসাংবিধানিক পথ অবলম্বন করবে, তাদের প্রতিরোধ করা হবে।

সোমবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা অনুসন্ধানের দাবি জানান ১৪ দলের সমন্বয়ক নাসিম। তিনি বলেন, তদন্ত করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে কোথায় কোথায় অর্থ পাচার করা হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। এসময় মন্ত্রিসভার আকার ছোট থাকবে। বিএনপি অবশ্যই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবে- এটা লিখে রাখেন। তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে যারা বিতর্ক সৃষ্টি করছে তারা আসলে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার দুরভিসন্ধি করছে।

আওয়ামী লীগ নেতা নাসিম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে বারবার গণতন্ত্রকে ভুলুণ্ঠিত করেছে। উদার গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে খালেদা জিয়ার দল ও তার দোসররা মাঠে নেমেছে নির্বাচনকে সামনে রেখে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন মন্ত্রী-এমপি বানানো নয়, জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার নির্বাচন। বাঙালি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে লক্ষ্য অর্জন করেছে। সে লক্ষ্যকে ধরে রাখার নির্বাচন। এই নির্বাচনকে জনগণ ভুল করতে পারে না। ১৪ দলকে চোখের মনির মতো ঐক্যবদ্ধ রেখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবো। আগামী নির্বাচনে বিজয়ে জন্য কাজ করে যাবো। সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সম্পদের খবরের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি সরকার হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে দুর্নীতির মহাকাব্য সৃষ্টি করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অর্থ পাচারের খবর বেরিয়েছে। সৌদি আরবে অর্থ পাচার নিয়ে তদন্ত করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কীভাবে জিয়া পরিবার সৌদি আরবে এই অর্থপাচারে জড়িত তা সবার সামনে প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, আদালতে গিয়ে জবানবন্দির নামে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারকে আক্রমণ করেছেন। প্রকারান্তরে তিনি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে উৎসাহিত করেছেন। তিনি আজ ন্যায় বিচারের কথা বলেন, ক্ষমা চাইতে বলেন। তিনি যেদিন একাত্তরের ঘাতক, পঁচাত্তরের ঘাতকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলেন সেদিন কোথায় ছিল ন্যায় বিচার? খালেদা জিয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভুলণ্ঠিত করা।


মওদুদকে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ইনুর: সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার খবরের সত্যাসত্য প্রমাণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ জানিয়েছেন জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ১৪ দলের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অতীতে আরাফাত রহমান কোকো ও তারেক রহমানের পাচার করা টাকা বাংলাদেশে ফেরত এসেছিল। আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি, মওদুদ ভাইসহ যারা কথা বলেন- আপনারা কালো টাকা সাদা করলেন কেন এবং কোকোর ২০ কোটি টাকা কোথা থেকে এল? ইনু বলেন, খালেদা জিয়া সারা দেশে দুর্নীতির সিন্ডিকেট করেছেন। খুনিদের আস্তানা হচ্ছে বিএনপি এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। অবিলম্বে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এটা প্রকাশ করতে হবে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

২০০৮ সালের চেয়েও বড় বিজয় আসবে: জয়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আরও বড় বিজয় পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ২০০৮ সালের চেয়েও বড় বিজয় আসবে। আমি একটি জরিপ করেছি। তাতে এই ফল পাওয়া গেছে।

সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেতাদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান। এসময় রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মতামত শোনেন জয়। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবেই। দেশের মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থন আমাদের প্রতি চলে এসেছে। আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই। দলের শৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে গ্রুপিং-লবিং থাকে; তবে আন্দোলন বা নির্বাচনের সময় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে যায়।

তিনি আরও বলেন, বিজয় নিয়ে আমি চিন্তা করি না, কিন্তু ষড়যন্ত্র আছে। খেয়াল রাখতে হবে ৫ জানুয়ারির (গত সংসদ নির্বাচন) মতো কোনও ঘটনা-দুর্ঘটনা যেন না ঘটে। ওই সময়ের মতো আগুন সন্ত্রাস যেন না ঘটে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা- জানতে চাইলে জয় বলেন, আমি প্রার্থী হচ্ছি না। এটি আপনাদের আগাম জানিয়ে রাখছি। আমার উদ্দেশ্য দলকে ক্ষমতায় আনা। এমপি-মন্ত্রী হওয়ার লোভ আমার নেই। আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সেটি বড় কথা নয়। নির্বাচনটি অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কিনা, সেটিই বড় কথা। আমরা কাউকে নির্বাচনে আসতে বাধ্য করতে পারি না। ওই জরিপটি কিভাবে হয়েছে জানতে চাইলে জয় বলেন, একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জরিপ করানো হয়েছে। এতে আমিও জড়িত ছিলাম। আমি মনে করি, এটি ওয়ান অব দ্য মোস্ট অ্যাকুরেট জরিপ। প্রতিবছরই জরিপ করা হয় বলেও জানান তিনি। সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের ‘১২শ কোটি ডলার বিনিয়োগের’ অভিযোগকে বিএনপির মহাসচিব সম্প্রতি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে জয় বলেন, প্রমাণ হয়েছে তারা কিভাবে মিথ্যা বলে। এফবিআই বাংলাদেশে এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। সেখানে ফখরুল সাহেব কিভাবে বলেন যে, দুর্নীতি নেই। তাদের দুর্নীতির টাকা বিদেশ থেকে ফেরত এসেছে। নিশ্চয় তাদের আরও (দুর্নীতির) টাকা আছে, ধরা পড়বে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ কাল

চাল-ডাল-পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং গৃহকর বাড়ানোর প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার ঢাকাসহ দেশের সব জেলা সদর ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। প্রতিবাদ সভা কিংবা প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালিত হবে। রাজধানী ঢাকার থানায় থানায় এই প্রতিবাদ সভা অথবা মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।  সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তবে নির্বাচন সামনে রেখে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা প্রতিবাদ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

রসিক নির্বাচনে বিএনপির কমিটি গঠন : রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক এবং রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এই কমিটি গঠনের কথা জানান। কমিটির সদস্যরা হলেন- রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল খালেক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রংপুর বিভাগের সকল নেতৃবৃন্দ। এছাড়া রংপুর জেলা ও মহানগর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, সৈয়দপুর ও নীলফামারীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য থাকবেন। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, রংপুরে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক চলছে। গত রোববার আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নামমাত্র পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনে ইসি তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবের রহমান শামীম, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বিদেশে জিয়া পরিবারের সেসব সম্পত্তির অস্তিত্বই নেই : ফখরুল

বিদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের নামে যে সম্পদের কথা বলা হচ্ছে, সেই ধরণের সম্পদের কোনো অস্তিত্বই নেই বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  সোমবার সকালে হাইকোর্ট মাজার প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন ফখরুল। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে এই কম্বল বিতরণ করা হয়।

বিদেশে জিয়া পরিবারের সম্পদের বিষয়ে সরকারের অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সারা পৃথিবীতে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। এ ধরণের কোনো কিছুর কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি যে প্রোপার্টির কথা বলা হয়েছে, সেই প্রোপার্টিগুলোরও কোনো অস্তিত্ব নেই। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার এ ধরণের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে। তিনি সরকারকে তার বক্তব্যের বিপরীতে তথ্য উপস্থাপন ও অভিযোগ প্রমাণের আহ্বান জানান। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি শামসুল হুদা, মোহাম্মদ মোহন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

ভাই হোক ভাতিজা হোক আমার কাছে দল বড় : এরশাদ

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নিজের ভাতিজা এইচ এম আসিফ শাহরিয়ারকে দল থেকে বহিষ্কার করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। রোববার গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘সে আমারই আপন ভাতিজা। তাকে বহিষ্কার করার একটাই কারণ। সে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে। ভাই হোক-ভাতিজা হোক, যেই হোক না কেন, আমার কাছে দল বড়।’ আসিফ এরশাদের আপন ছোটভাই মোজাম্মেল হোসেন লালুর ছেলে। উল্লেখ্য, রসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় পার্টির রংপুর শাখার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে দলের মনোনয়ন দেন এরশাদ। তার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আসিফ শাহরিয়ার। একারণে জাতীয় পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদবি থেকেও আসিফ শাহরিয়ারকে বহিষ্কার করা হয়। রসিক নির্বাচনে জয়ের আশা প্রকাশ করে এরশাদ বলেন, ‘আমাদের যে অবস্থা তাতে রংপুরে আমরা জিতবো। বিপুল ভোটে জিতবো। রংপুর নির্বাচনের পরই আমরা জাতীয় নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করবো।’

জাতীয় পার্টির বিক্ষোভ কাল
সম্প্রতি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন এরশাদ। প্রতিবাদে আগামী ১২ ডিসেম্বর বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তিনি। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বিশ্বাস করি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ অধিবেশন বসেছে। আমরাও গোটা বিশ্বের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অবিলম্বে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের দখলমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সুনীল শুভ রায়, আব্দুস সবুর আসুদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নূরুজ্জামান নূরু, জাতীয় ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 

দেশ আজ গুম-খুনে জর্জরিত : ফখরুল

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম ও হত্যা করার অভিযোগ এনে মানবাধিকার লঙ্ঘনে দলীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। মামলা, হত্যা, গুম-খুনে জর্জরিত। কারণ একটাই জোর করে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে রাখা।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন ফখরুল। এতে বিএনপি মহানগর, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের ‘নিখোঁজ’ থাকা স্বজনের ছবি নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। মানববন্ধনে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সমস্ত গণতান্ত্রিক নর্মগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়ে, মানবাধিকার জলাঞ্জলি দিয়ে আজকে শুধুমাত্র শক্তির জোরে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তাদের (সরকার) সঙ্গে যারাই ভিন্নমত পোষণ করছে, তাদেরকে হয় হত্যা করছে না হয় গুম করছে।

বর্তমান সরকারের আমলে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতা-কর্মীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, পার্টির হিসাব মতে- শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩২৩টি, মামলায় আসামির সংখ্যা ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ২৩৮ জন, সরাসরি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মোট খুন ৫২০ জন, অপহরণের সংখ্যা ৬৪৭ জন এবং এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছেন ১৫৭ জন, নির্যাতনের শিকার ৩৭ লক্ষ। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে আজকে তারা কবজা করে ফেলেছে। আজকে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। আজকে মানুষের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনের মাধ্যমেই এই সরকারকে পরাজিত করে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এবং মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ। মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, কাজী আবুল বাশার, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শফিউল বারী বাবু, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, রাজীব আহসান, তারেক-উজ্জামান তারেক, বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেন, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

ট্রাম্পের জেরুজালেম স্বীকৃতিতে খালেদা জিয়ার উদ্বেগ

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির নতুন বাতাবরণ তৈরি করেছেন।  রোববার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অশান্তির যে বাতাবরণ তৈরি করেছে, তাতে বিশ্বের শান্তিকামী প্রতিটি মানুষের মতো আমিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতি এবং একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য দীর্ঘদিনের প্রয়াসকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং নিজেদের রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে বসবাসের আকাক্সক্ষার ওপর এই সিদ্ধান্ত একটি চপেটাঘাত। শুধু ফিলিস্তিনি নয়, বিশ্বের শান্তিকামী প্রতিটি মানুষকেই এই সিদ্ধান্ত গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের বিপক্ষে এই একতরফা স্বীকৃতির আমি তীব্র প্রতিবাদ করছি। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, বিশ্বের ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি বিশ্ববিবেক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

 

কোকোর দুর্নীতির টাকা এসেছে খালেদা জিয়ারটাও আসবে: হাছান

ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ‘দুর্নীতি টাকা’ যেভাবে দেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে একইভাবে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার ‘দুর্নীতির টাকাও’ ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, কোকোর দুর্নীতির টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অতীতের মত এবারও দুর্নীতি প্রমাণ হবে। খালেদা জিয়ার টাকাও ফেরত আনা হবে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে অভিযোগ করে তিনি একথা বলেন। হাছান মাহমুদ মানববন্ধনে বলেন, মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন দুর্নীতির এসব এসব নাকি মিথ্যা। এর আগে তারেক ও কোকোর দুর্নীতি যখন বেরিয়ে এসেছিল তখনও তিনি এগুলোকে মিথ্যা প্রচার বলেছিলেন। তারেকের সব প্রমাণ হয়েছে। মির্জা ফখরুলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সরকরের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি ফখরুলসহ যারা মিথ্যাচার করছে, নির্লজ্জ আস্ফালন করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। হাছান বলেন, জিয়া পরিবারের দূর্নীতি নতুন কিছু নয়। খালেদা জিয়া ও তার পরিবার আগেও দুর্নীতি করেছে। অতিতে সেগুলো প্রমাণও হয়েছে। তখনও তারা নির্লজ্জের মত মিথ্যা প্রচার করেছিল, এখনও করছে। তিনি বলেন, বিএনপি মানবাধিকারের কথা বলে মাঝে মাঝে। কিন্তু বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিল। বাবার সামনে সন্তানকে পুড়িয়ে মেরেছিল, ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল। তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল? বিএনপির মুখে মানবাধিকার শব্দটি মানায় না।

 

জিয়া পরিবারের দুর্নীতির খবরে বিএনপিতে গাত্র দাহ: কাদের

সৌদি আরবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের ‘সম্পদের খবর’ প্রকাশ হওয়ায় বিএনপি বেকায়দায় আছে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জিয়া পরিবারের এই দুর্নীতির খবরে বিএনপি নেতাদের গাত্র দাহ শুরু হয়ে গেছে। কী করে এই দায় এড়াবে, এই চেষ্টায় ব্যস্ত। ফান্দে পড়ে বগা কান্দে, অবস্থা তাদের।  রোববার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিজয় দিবসের এক  আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দলের দুর্নীতির ইতিহাস সবাই জানে। এই সত্য চাপা দিয়ে কি লাভ? যতই ময়লা নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন ততই দুর্গন্ধ বাড়বে। তেমনি বিএনপির দুর্নীতির দুর্গন্ধ আরও ছড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ১২ বিলিয়ন ডলার সৌদি, কাতারসহ ১২টি দেশে জিয়া পরিবার পাঠিয়েছে।

এটা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এটা খুঁজে বের করতে হবে। এসময় খালোদা জিয়া ও তারেক রহমানের দুর্নীতির তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, আজকে দুদককে আমি আহ্বান জানিয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত করতে। শূন্যের উপর উপর দাড়িয়ে তদন্ত হয় না। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে দুদককে অবশ্যই খুজে বের করতে হবে। এটা দুদকের দায়িত্ব। তিনি বলেন, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী না জেনে, না বুঝে অন্ধকারে ঢিল ছুড়েন নি। নিশ্চয় এখানে সত্যতা আছে। এসময় বিএনপির মুখে গণতন্ত্র শোভা পায় না জানিয়ে কাদের বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলে মায়া কান্না করছেন, গেল রে গেল গণতন্ত্র গেল। আপনাদের মুখে গণতন্ত্র শোভা পায় না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সবাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাউছারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ, প্রবীণ সাংবাদিক হারুন হাবিব, অভিনেত্রী শমী কায়সার প্রমুখ।

 

বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল, সম্পাদক সানু

মোঃ রাসেলকে সভাপতি ও আলামিন সিকদার সানুকে সাধারণ সম্পাদক করে ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলার ৫ নং বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৪ ডিসেম্বর ঝালকাঠী জেলা ছাত্রলীগ এই কমিটির অনুমোদন দেয়। কমিটিতে সহ-সভাপতি কাওসার হোসেন ও বেল্লাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও রিফাত মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম হাওলাদার ও শাওন ফরাজী, প্রচার সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ও সৈকত খানকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্থানীয় সংসদ সদস্য বি এইচ হারুন এবং জেলা ও থানা ছাত্রলীগের সকল নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।  

 

বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারো নির্বাচনের চেষ্টা : ফখরুল

আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপিকে বাইরে রাখতে সরকার ‘কু-রাজনীতি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশে খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের কথিত সম্পদ নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে আপনারা কী অর্জন করতে চান? এই কু-রাজনীতি করে কী আনতে চান? আপনারা আবারো ২০১৪ সালের মতোই আরেকটি নির্বাচন করতে চান। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে যা যা করা দরকার, সরকার তাই শুরু করেছে। মনে রাখবেন, বাংলাদেশের মানুষ আর কখনোই ২০১৪’র মতো একতরফা নির্বাচন হতে দেবে না।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ফখরুল। বিদেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের নামে ‘কথিত’ সম্পদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই খবর (খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিদেশে সম্পদ) পাওয়ার পরে আমরা সব জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি, আমরা রাষ্ট্রদূতদের জিজ্ঞাসা করেছি- এর কোনো ভিত্তি-সত্যতা আছে কিনা। কোনো ভিত্তি নেই, কোনো সত্যতা নেই। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

বাংলাদেশের মানুষকে আন্ডার স্টিমেট করবেন না। কারণ, তারা সবকিছু যে সহ্য করে নেবে, মেনে নেবে- এটা মনে করবেন না। কল্যাণ পার্টির ‘নিখোঁজ’ মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমানের সন্ধান দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। সভাপতির বক্তব্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয়, নিস্তেজ ও স্তব্ধ করার জন্যে সরকার তার সব ক্ষমতা দিয়ে সকল প্রকার ষড়যন্ত্রমূলক ও অষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা যদি সাবধান না থাকি, তাহলে তাদের যেকোনো রকম দুরভিসন্ধিমূলক পদক্ষেপের মধ্যে পড়ে আমরা বিপথগামী হতে পারি। কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নুরুল কবির ভুঁইয়া পিন্টুর পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাগপার সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, কল্যাণ পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হাসান মাহমুদ, কাহির মাহমুদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী প্রেসিডিয়াম সদস্য ফোরকান ইবরাহিম, বিএনপির অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানসহ কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

সৌদিতে খালেদা জিয়ার ‘সম্পদ’ তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী: আওয়ামী লীগ

সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবার ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন- প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিযোগের বিষয়ে অটল রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলেছেন। আর এ বিষয়ে তার কাছেও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে দুদকের প্রতিও আহ্বান জানন তিনি।

কম্বোডিয়া সফর নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রীর সৌদি আরবে সম্পদ থাকার খবর বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে দেখার কথা জানিয়েছিলেন। এর পরদিন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশে করে বলেছিলেন, ‘এই মানহানিকর তথ্য প্রচারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য হব।’

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়া পরিবারের সৌদি আরবে অর্থ পাচার ও বাংলাদেশের জনগণের সাথে প্রতারণা করে যে অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, এইগুলোর তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি। মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্য বলার সৎ সাহস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আছে। তথ্য প্রমাণ ছাড়া শেখ হাসিনা কোনো কথা বলেননি। তিনি যা বলেছেন, জেনে শুনেই বলেছেন এবং এর তথ্যপ্রমাণ আছে বলেই বলেছেন। আমি বিএনপি মহাসচিবকে বলব, আপনি শেখ হাসিনার বক্তব্যকে খণ্ডন করতে গিয়ে যে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছেন, এটাই আপনাদের আসল চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, তারা বুঝে ফেলেছে, ইতোমধ্যে দুর্নীতির মামলা ঝুলছে, আরো দুর্নীতির মামলা আসছে। নির্বাচন সামনে তারা এখন হাবুডুবু খাচ্ছে হতাশার সাগরে। তাই এখন আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছে। আপনাদের কি মনে আছে,  আমি যখন ২০০৫ সালে পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করে বিমানবন্দরে ৩০০টি স্যুটকেসের কথা বলেছিলাম, এই কাহিনি কোনো কল্পকাহিনি নয়। প্রমাণিত সত্য আমেরিকা, সিঙ্গাপুরের আদালত। তারপরও আপনারা কোনো দিন জাতির কাছে ক্ষমা চাননি। এগুলো কী করে অস্বীকার করবেন?

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা বাংলাদেশে সর্বজনস্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত; বাংলাদেশের বাইরেও তার সততা স্বীকৃত। সর্বশেষ ১৭৩টি দেশের মধ্যে সেরা সৎ ব্যক্তির মধ্যে শেথ হাসিনার নাম আসার পর থেকে বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃত্বে একটা মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেলে দুর্নীতি হয়েছে- বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেলে দুর্নীতি হয়েছে, তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর প্রমাণ করতে পারলে আদালত আমরা ফেস করব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরো সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গির কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

সংলাপ না হলে রাজপথে জবাব : মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার: সরকার না চাইলেও দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তারা সংলাপ করতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতি একটা গতিশীল বিজ্ঞান। এই গতিশীলতা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন আপনারা সংলাপের আয়োজন করার জন্য বাধ্য হবেন। আর যদি না করেন, এর উত্তর আপনারা রাজপথ থেকেই পাবেন। সেই দাবি (নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার) বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় ‘বিএনপির সাথে সংলাপ নয়’-মর্মে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন মওদুদ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে এই সভা হয়। দেশে বর্তমানে ভাল কোনো নির্বাচনের সুযোগ নেই মন্তব্য করে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বিশ্লেষণ আমি করবো না, শুধু এতটুকু বলি- প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায়, ভঙ্গিতে ও যে শব্দে কথা বলেছেন তাতে বুঝা যায়- তিনি মাইন্ড সেটআপ করেছেন যে, আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মার্কা একটি নির্বাচন করবেন।

 কিন্তু  দেশের মানুষ এই ধরণের নির্বাচন আর হতে দেবে না। সংগঠনের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার: বিদেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কল্পিত পাচারকৃত সম্পদের বর্ণনা এবং কল্পিত সংবাদ মাধ্যমে তা প্রকাশের কল্পিত কাহিনী প্রকাশ করেছেন- যা সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাতে গতকাল শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কাঁচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল ছুড়বেন না। উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্টের নামে আপনারা যে মেগা লুট করছেন, জনগণ তা জানেন। সুতরাং বেআইনি-অলীক মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। এই মানহানিকর মিথ্যা তথ্য প্রচারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

 অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য হব। আইনানুগ কী ব্যবস্থার কথা বিএনপি ভাবছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনানুগ ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় তাই বুঝিয়েছি। আমরা বলেছি যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। তা যদি না করেন তাহলে আইনের যে বিধান আছে, সে বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সেই ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিনা- এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বক্তব্য তো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে, নামও বলেছি, আমার বক্তব্যের শুরুতেই তা বলেছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী কানাডাভিত্তিক একটি কথিত টেলিভিশন চ্যানেলের বরাত দিয়ে অপরিচিত কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে এই মিথ্যা তথ্য রটনা করা হয়েছে যে, খালেদা জিয়া ও তার সন্তানেরা সৌদি আরবের ‘আল আরাফা’ শপিংমল এবং কাতারে বাণিজ্যিক ভবন ‘তিনারাট’ এ বিনিয়োগ করেছেন। আরাফাত রহমান কোকো কাতারে ‘ইকরা’ নামের একটি বহুতল ভবনের মালিক। আরবসহ ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের ১২ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় এক লাখ কোটি টাকা) সম্পদ রয়েছে। ফখরুল বলেন, আমরা সৌদি আরবে খোঁজ নিয়েছি, গুগলে অনুসন্ধান করে দেখেছি- এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই ধরণের মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য শুধু অশালীন নয়, এটা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচার অথবা বিনিয়োগের কোনো অভিযোগ আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে তারা ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি এবং অবিলম্বে এই ধরণের মানহানিকর মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়া এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ভবিষ্যতে এ ধরণের অশালীন, রুচিবিবর্জিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত মিথ্যা বক্তব্য প্রদানে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ারও দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

এতিমখানা দুর্নীতি মামলা খালেদা জিয়ার বিচার শেষ পর্যায়ে

জিয়া এতিমখানা ও দাতব্য দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থনে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  মঙ্গলবার এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় তার আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ হওয়ার পর দুইপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দিন রেখেছেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। এর মধ্যে দিয়ে দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নয় বছর আগে দুদকের দায়ের করা এ মামলা বিচারের শেষ পর্যায়ে উপনীত হল। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসবে।   

মঙ্গলবার এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শেষ দিন প্রায় তিন ঘণ্টা বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময় ক্ষমতার কোনো অপব্যবহার তিনি করেননি, অন্যায় প্রভাবও কখনও খাটাননি। খালেদা জিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’।

তিনি সম্পূর্ণ ‘নির্দোষ’ এবং বেকসুর খালাস পাওয়ার যোগ্য। এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ অগাস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরু করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। খালেদা জিয়া, সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ এ মামলায় জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এছাড়া কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

আত্মসমর্পণ করে জামিন
এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৩০ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে সপ্তম দিনের মত বক্তব্য দেওয়া কথা ছিল খালেদা জিয়ার। সেইসঙ্গে দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় হাজিরর তারিখ ছিল। কিন্তু তিনি নিজে না গিয়ে হরতালে নিরপত্তার কারণ দেখিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে সময়ের আবেদন পাঠান। ওই আবেদন নাকচ করে দুই মামলাতেই সেদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক আখতারুজ্জামান। আর আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি সেখানেই শেষ করে বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর দিন ঠিক করে দেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সেদিন বলেছিলেন, হরতাল শেষে দুপুরের পর খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু আদালত পরোয়ানা জারি করায় তা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার আত্মসমর্পণ করে জামিন এবং যুক্তিতর্ক স্থগিত করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চেয়ে দুই মামলায় চারটি আবেদন জমা দেন।  

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের মাঠে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে পৌঁছালে সেসব আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন।

জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, হরতালের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে খালেদা জিয়া আগের দিন সময়মত আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনে বাকি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল মঙ্গলবারই যুক্তিতর্ক শুরুর আবেদন জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। সুতরাং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ তার আর নেই। শুনানি শেষে বিচারক খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন এবং যুক্তিতর্ক শুরুর আদেশ প্রত্যাহার করে আত্মপক্ষ সমর্থনের বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি দেন। তবে ওই বক্তব্য মঙ্গলবারই শেষ করতে বলেন।

এর পরপরই জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে সপ্তম দিনের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার আইনজীবীরা জানান, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলেছে আদালত। এ মামলাতেও ১৯ ডিসেম্বর তারিখ রাখা হয়েছে। সেদিন খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনে মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাওয়া হবে। আর জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় অন্য মামলাটি হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছরের ১৯ মার্চ শুরু হয় বিচার।

আত্মপক্ষ সমর্থনে যা বললেন খালেদা জিয়া
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে মোট সাত দিন বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার প্রায় তিনঘণ্টা ধরে পড়া লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের বোর্ডে তিনি ছিলেন না। ওই ট্রাস্ট গঠন, তহবিল সংগ্রহ, পরিচালনা বা লেনদেনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বা তখনকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ওই ট্রাস্টের নামে বগুডা বা আশুলিয়ায় জমি কেনার সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তার নামে কোনো হিসাবও খোলা হয়নি বলে খালেদা জিয়ার ভাষ্য। এ মামলার বাদী ও এক নম্বর প্রসিকিউশন উইটনেস হারুন অর রশিদ কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি অথবা আদালতে জমা দিতে পারেননি।

তিনি নিজে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে দেওয়া সাক্ষ্যে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন। খালেদা জিয়া বলেন, বাদী আমার বিরুদ্ধে জবানবন্দিতে বলেছেন- আমার দুই ছেলে এবং আত্মীয় মুমিনুর রহমানকে দিয়ে আমি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করিয়েছি। এ কথা আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য বলে থাকেন। এগুলো সব ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মনগড়া। এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রথম দিন ১৯ অক্টোবর খালেদা জিয়া দাবি করেন, এতিমদের জন্য আসা একটি টাকাও তছরুপ বা অপচয় করা হয়নি, তা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। ২৬ অক্টোবর তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এ মামলা ‘ভুয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। ২ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থন করে তৃতীয় দিনে খালেদা বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাকে ‘সরাতে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার নীলনকশা’ বাস্তবায়ন করছে ক্ষমতাসীনরা।

আর ১১ নভেম্বর বলেন, বাংলাদেশে বিচারকরা স্বাধীনভাবে আইন মেনে বিচার করতে পারেন কি না, তার এ মামলার রায়েই তার প্রমাণ আসবে। দেশে বিচার ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার পাবেন কি না- তা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন ১৬ নভেম্বর। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর তিনি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের দুদকে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওইদিনই জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু হয়। প্রথম দিনের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি নিজেকে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ দাবি করেন।

প্রস্তুতি না থাকায় অশোভন বলছে বিএনপি: কাদের

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সদ্য প্রয়াত আনিসুল হকের শূন্যস্থান পূরণের নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের প্রস্তুতি না থাকায় বিএনপি নেতারা নানা ধরনের কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রয়াত আনিসুল হকের লাশ দাফন হতে না হতেই ঢাকা উত্তর সিটিতে নির্বাচনের কথা বলাকে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ‘অশোভন’ আখ্যায়িত করার পরদিন  মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে তার বক্তব্যের এ প্রতিক্রিয়া দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্বাচন শুরু করে দেওয়ার জন্য উত্তর সিটি নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তোড়জোড় এখানে নেই। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কেউ অযোগ্য ঘোষণা হলে বা কেউ মারা গেলে সে অবস্থায় তার আসন শূন্য ঘোষণা করতে হয়। এটার একটা নিয়ম নীতি আছে। নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা করেছে; এখানে আওয়ামী লীগ বা সরকারতো কোনো প্রকার ইন্টারফেয়ারিং করছে না। এখানে সরকারের কিছু নেই। আর সরকারের এত তাড়াহুড়ো করারও দরকার নেই। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী চলবে। আমার মনে হয়, বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই, সে কারণে তারা একথা বলছে। যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ নভেম্বর মারা যাওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ দেশে আসার পর গত ২ ডিসেম্বর তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মেয়র পদে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটের উদ্যোগ দেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হওয়ার মধ্যে সোমবার তার পদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেটও প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেটের প্রক্রিয়া চলা মধ্যে সোমবার সকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এত তাড়াতাড়ি নির্বাচনের কথা বলাকে ‘অশোভন’ আখ্যা দেন। রিজভী বলেন, ‘উনাকে (প্রয়াত আনিসুল হক) কেবল সমাহিত করা হয়েছে। এটা আমি মনে করি যে, এই মুহূর্তে তার লাশ দাফনের সাথে সাথে নির্বাচন…, কে কি করবেন- এটা আমি খুব একটা শোভন মনে করছি না।’ এরপর মঙ্গলবার সকালে জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতালে ইডেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের অসুস্থ ছাত্রী আঁখি মনিকে দেখতে গিয়ে রিজভীর বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু একটা আদায় করা যায় কিনা- এটা দেখার জন্যই বিএনপি নানা কথা বলছে বলে ভাষ্য ক্ষমতাসীন দলের এই নেতার। তবে উত্তর সিটিতে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ‘উইনেবল ক্যান্ডিডেট দেবে’ বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক। সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতি বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আসলে কখন যে কি বলে, এটা কেবল তারাই জানে। কেউ বলে যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচনে যাবে। আবার বেগম জিয়ার যদি সাজা হয় তবে নির্বাচনে যাবে না- এমন কথাও তাদের কোনো কোনো নেতা বলে থাকে। আমার প্রশ্ন, জনগণের প্রশ্ন- কোন কথাটা সঠিক? যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাবে, না বেগম জিয়ার সাজা হলে যাবে না।

সাজা হলে তো আদালত দিবে, আর এই মামলা তো ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময়। এই মামলা করার সাথে তো আমাদের কোন সম্পর্ক নেই, এই সরকারের কোন সম্পর্ক নেই। দুর্নীতির বিচারাধীন দুই মামলায় বারবার সময় নেওয়ার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ এনে সেতুমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে এটা আদালত যদি তাকে সুযোগ দেয়, আমাদের কিছু বলার নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে যেরকম নির্বাচন হয়েছে তা আওয়ামী লীগও চায়নি মন্তব্য করে কাদের বলেন, আজকে এটা শুনতে হয় যে, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এত জন, এটাতো আমরা চাইনি।

যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, সেজন্য সেখানে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কমিশন তাদেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে; এটা নিয়ম, আইন অনুযায়ী সঠিক। এটাতো আমরা ইচ্ছে করে করিনি। নির্বাচনের ট্রেন এবারও বিএনপির জন্য থেমে থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে আমাদের নেত্রী গণভবনে পর্যন্ত ডিনারে আমন্ত্রণ করেছিলেন, তিনি আসেন নি। তিনি হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলে দিয়েছেন, এটা তার দোষ। আর তিনি নির্বাচনে না এলে নির্বাচনের ট্রেন তো বন্ধ থাকবে না। গণতন্ত্রও থেমে থাকবে না। এতে গণতন্ত্রের কি দোষ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় স্থানীয় জনগণের থেকে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। এ কারণে স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে, প্রাকৃতিক ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার মন্তব্য করে তিনি বলেন,  প্রত্যাবাসনের বিষয়টা যতই বিলম্বিত হচ্ছে, স্থানীয় জনগণ ততই ধৈর্য্য হারা হচ্ছে। জনগণ আর ধৈর্য্য ধরতে পারছে না। তাদের ট্রলারেবল লেভেল অতিক্রম করে যাচ্ছে। সে কারণে আমরা বিকল্প কিছু কিছু ব্যবস্থা করে রাখছি। ইডেন কলেজের ছাত্রী আঁখি মনিকে দেখতে গিয়ে তার চিকিৎসার সকল দায় দায়িত্বও নেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জামিন পেলেন খালেদা, আত্মপক্ষ সমর্থনও চলবে

জিয়া এতিমখানা ও দাতব্য দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ দুই মামলায় যুক্ততর্ক শুনানির আগে আত্মপক্ষ সমর্থনে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনেরও সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে খালেদা জিয়ার চার আবেদনের শুনানি করে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এই আদেশ দেন।

এর পরপরই জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে সপ্তম দিনের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

বিস্তারিত আসছে

 

দেশে ফিরেছেন মির্জা ফখরুল

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বিশ্বের রাজনৈতিক দলগুলোর এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  সোমবার বিকেল ৩টায় চায়না ইস্টার্ন এয়ার লাইন্সের উড়োজাহাজে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছান তিনি। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গত ২৯ নভেম্বর বেইজিং যান বিএনপি মহাসচিব। তার সফরসঙ্গী হয়েছিলেন সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তারাও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজনে এই সম্মেলনে বিশ্বের ৬০০ রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত ১ ডিসেম্বর সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

 

ডিএনসিসি নির্বাচন কয়েকদিন পর সিদ্ধান্ত জানাবে বিএনপি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র সদ্যপ্রয়াত আনিসুল হককে সমাহিত করতে না করতেই তার শূন্যস্থান পূরণে এক্ষুণি নির্বাচনের ভাবনাকে অশোভন বলছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, উনাকে (প্রয়াত আনিসুল হক) কেবল সমাহিত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে অনেকে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। এটা খুব একটা শোভন বলে মনে করছি না। আমাদের সমাজ এ বিষয়গুলোকে ভালোভাবে নেয় না। আগে নির্বাচনের বিষয়টা আসুক। ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কয়েকদিন পর জানানো হবে বলেও জানান এই বিএনপি নেতা।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এসব কথা বলেন রিজভী। প্রধানমন্ত্রীর কম্বোডিয়া সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের লুটপাট-দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতায় দেশে এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ বিষাদ ঘনঘোর নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এমন দুঃসময়েও প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে পিতার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) নামে সড়কের নামকরণ ও তা উদ্বোধন করতে চলে গেলেন সুদূর কম্বোডিয়ায়। রিজভী বলেন, বাংলাদেশে যেন হবুচন্দ্র রাজার উদ্ভট রাজত্ব চলছে।

রাজকোষ শূন্য করে শুধু পরিবারের নামকে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শাসক দলের সবাই। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে গত রোববার সারাদেশে দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং চট্টগ্রামের সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন চৌধুরী হত্যাকান্ডের নিন্দা জানান এই বিএনপি নেতা। একইসঙ্গে গত ১ ডিসেম্বর দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের ধানমন্ডির বাসভবনে প্রয়াত স্ত্রী নিলুফার মান্নানের কুলখানির অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর এবং গত রোববার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নাটোরের বাসায় হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদও জানান রিজভী। অবিলম্বে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কাজী আবুল বাশার, মুনির হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 



Go Top