রাত ১১:৪৩, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

একাত্তরে চুড়ান্ত বিজয়ের আগমুহূর্তে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মমভাবে নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে জাতি। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার তুরস্ক সফর থেকে ভোরে দেশে ফিরে সকাল ৭টায় সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাড়িয়ে থাকেন। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়; বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে ফ্রান্স সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নাল আবেদিন। এ সময় রাষ্ট্রপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপুমণি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ও একেএম এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়-য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়াও একে একে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানায় কেন্দ্রীয় ১৪ দল, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা, জাতীয় পার্টি, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি, দলের সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, দলের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, তাঁতিলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। জাতীয় পাতাকা আর শ্রদ্ধার ফুল হাতে নানা বয়সের হাজারো মানুষ জড়ো হন শহীদ বেদীতে। এসময় তারা বুদ্ধিজীবী হত্যাকারিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করার দাবি জানান। দিবসটি উপলক্ষে ভোর থেকেই মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং বায়েরবাজার বদ্ধভূমি এলাকায় জনতার ঢল নামে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের স্মরণ করতে আসা সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখছেন একটি আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। ভোরের সূর্য ওঠার আগেই হাজারো মানুষ ভিড় করেন মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের সামনে। সবার হাতে ছিল ফুলের তোড়া ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে লেখা কালো ব্যানার। এর আগে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, চিফ হুইপ এ.এস.এম. ফিরোজ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীও সকাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রায়েরবাজারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। স্মৃতিসৌধ মুখরিত হয়ে ওঠে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। সকাল ৭টা থেকেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে জনতার ঢল নামে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে। সব বয়সের, সব শ্রেণি পেশার মানুষ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ঢাকা সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, লালমাটিয়া বালিকা বিদ্যালয়সহ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরাও এসেছিলেন রায়েরবাজারে। সুমাইয়া জাহান নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, বুদ্ধিজীবীদের সেদিন হত্যা করা না হলে আমরা আজ আরও শক্তিশালী জাতি হতে পারতাম। আমরা তাদের ভুলব না। দিবসটি উপলক্ষে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ, শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন, শোক র‌্যালি, শ্রদ্ধা নিবেদন, চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এদিকে সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর ভবনের সামনে রক্ষিত জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়; তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে- তা নিশ্চিত করা। শরীরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্নসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায়। পরে তা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

 

ওআইসির বিশেষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে টানাপড়েনের মধ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির বিশেষ সম্মেলন অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বুধবার সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুল থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে রাষ্ট্রপতি ঢাকা পৌঁছান।

আরব দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়ায় ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান ওআইসির এই বিশেষ সম্মেলন ডাকেন। বুধবার ওই সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি হামিদ জেরুজালেম প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত বদলে বাধ্য করতে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসিকে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলন শেষে ইস্তাম্বুল ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পাল্টায় পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওআইসি নেতৃবৃন্দ। ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বুধবার বিকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশীরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি। এই সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তার সঙ্গে ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন

করতোয়া ডেস্ক: ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার প্যারিস থেকে রওনা দিয়ে দুবাই হয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার পর এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। তিনদিনের এই সফরে গত সোমবার প্যারিসে পৌঁছে মঙ্গলবার ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অভিন্ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের কর্মপন্থা নির্ধারণ ছিল এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কট থেকে উত্তরণে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে ফ্রান্সের সহযোগিতা চান। শেখ হাসিনার কাছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিস্তারিত জেনে এর স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সফরের শেষ দিন বুধবার সকালে ফ্রান্সের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এমইডিইএফ ইন্টারন্যাশনালের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ফরাসি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া ফরাসি তেল-গ্যাস কোম্পানি টোটালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপ সেকে এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন ফন শাইকও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

গ্রেফতার সামাদ জঙ্গি তামিমের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল : পুলিশ

রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে গ্রেফতার সন্দেহভাজন তিন জঙ্গির একজন আবদুস সামাদ নব্য জেএমবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তামিম চৌধুরীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গ্রেফতার ও নিহত হলে এই সামাদের নেতৃত্বেই জঙ্গি সংগঠনটি সংগঠিত হয়। বুধবার সন্ধ্যায় মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ মামু ওরফে আশিক, তার শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম এবং মো. আজিজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে শিশিরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দিনাজপুরের সামাদ ২০০২ সালে দাওয়া হাদিস এবং ২০১১ সালে ফাজিল পর্যন্ত পড়াশুনা করেন।  তার মধ্যেই ২০১০ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের বরাতে মুনিরুল বলেন, ২০১৪ সালে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে ‘জুনদ আল তাওহীদ আল খিলাফাই’ নামে একটি সংগঠন গড়েন সামাদ। তামিম ছিলেন সংগঠনটির প্রধান, আর সামাদ ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। বোমা তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ‘পারদর্শী’ সামাদ সংগঠনের জন্য সদস্য ও অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতেন বলে মনিরুলের দাবি। তিনি বলেন, ‘অস্ত্র চালনা ও গ্রেনেড ব্যবহারের বিষয়ে সংগঠনের নবীন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতেন আব্দুস সামাদ। নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার ও নিহত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়।’ এর আগে গত জুনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে মনিরুল বলেছিলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু’ ছদ্মনাম নিয়ে এক ব্যক্তি জঙ্গি দল নব্য জেএমবিকে সংগঠিত করার চেষ্টায় আছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে।

সাভার ও লক্ষ্মীপুর থেকে নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে গ্রেফতারের পর সে সময় এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু তার সাংগঠনিক নাম। তার একটি ছবি আমরা পেয়েছি। তার প্রকৃত নাম পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে পুলিশ খুঁজছে।’ পরের মাসে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি সন্দেহজনক জঙ্গি আস্তানা থেকে তিন নারীকে গ্রেফতারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই তিন নারীর মধ্যে আরশিদা ওরফে আশরাতি জাহান তিথি নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব বাচ্চু ওরফে সাজিদ হাসান সজীবের স্ত্রী। বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে মনিরুল বলেন, তামিম চৌধুরী ও সামাদ কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় প্রায় ডজন খানেক জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প খুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। হলি আর্টিজান হামলার ‘অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ গ্রেফতার হওয়ার পর সামাদই সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

গ্রেফতার বাকি দুজনের মধ্যে সামাদের শ্বশুর জিয়াদুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নব্য জেএমবির জন্য অস্ত্র-বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর সংগ্রহের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করতেন বলে পুলিশের ভাষ্য। আর আজিজুল ইসলাম মেহেদী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই বছর ধরে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত জানিয়ে মনিরুল বলেন, ‘জিহাদি প্রশিক্ষণও সে নিয়েছে।’ এই অভিযানে গ্রেফতার তিনজনের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ২০০ ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।

 

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

আজ ১৪ ডিসেম্বর বেদনাবিধূর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বিনয় এবং শ্রদ্ধায় জাতি আজ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করবে। একই সাথে এবারও জাতির প্রত্যাশা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা হত্যা করেছে তাদের মধ্যে যারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে আছে অথবা পলাতক আছে তাদের বিচারের রায় কার্যকর করে দেশকে কলংকমুক্ত করা হবে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। রাজনীতি বিশে¬ষকদের মতে, একাত্তরে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাদের হত্যা করা হয় এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে। স্বাধীনতা বিরোধীরা যখন দেখে তাদের পরাজয় আসন্ন তখনই তারা সেই নৃশংশ পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক বানী দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।  

একাত্তরের ডিসেম্বরে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা যায়নি। তবে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের উপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে সংখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে, সে অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ জন শিল্পী-সাহিত্যিক-প্রকৌশলী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. জিসি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মনীরুজ্জামান, অধ্যাপক আনওয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, রাশেদুল হাসান, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল¬াহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমদ, লাডু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, ডা. যোগেশ চন্দ্র সাহা, নতুন চন্দ্র সিংহ, আরপি সাহা, আবুল খায়ের, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফয়জুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, সায়ীদুল হাসান, হবিবুর রহমান, কবি মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীনসহ আরও অনেকে। জাতি এ বছর এমন একটি প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করছে যখন একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশ্লি¬ষ্ট এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দিনব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ইত্যাদি। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আতœার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সরকারি ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। এর পরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান-প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত এবং সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণস্থ কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণস্থ স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধে পু®পস্তবক অর্পণ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পু®পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাত্রা, বেলা ১১টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদ ও উপাসনালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হবে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রতিবারের মত এবারও দেশবাসীর সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্য সহকারে এই শোকাবহ দিনটিকে স্মরণ ও পালন করবে। এ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং ৭টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। এছাড়াও সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

বিএনপির কর্মসূচি : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ভোরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম- মুক্তিযুদ্ধ’৭১, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, খেলাঘর, বিভিন্ন ছাত্র, শ্রমিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের  এক বিবৃতিতে  শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রের ন্যায় সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দেশের সকল শাখা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

 

পরাধীনতা থেকে জাতিকে মুক্ত করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা : মেয়র খোকন

‘১০ হাজার বছর ধরে এ ভূমি পরাধীন ছিল। আমরা যাদের সংবর্ধনা দিচ্ছি তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করেছেন। একটি স্বাধীন দেশ এনে দিয়েছেন।’  বুধবার রাজধানীর পল্টনে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ডিএসসিসি-এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারবর্গের সম্মানে এ সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের ফলে আজকের বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা পূর্ব আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজ আমরা দ্বিতীয় বৃহত্তর বস্ত্র রফতানিকারক দেশ। সকল ধনী দেশে মেড ইন বাংলাদেশ জুতা কিংবা কাপড় পাওয়া যায়। ‘আমাদের সময়ে এ অঞ্চলে যারা স্বাধীন হয়েছে তাদের সঙ্গে উন্নতিতে আমরা পিছিয়ে আছি। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লড়তে হলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে প্রেরণা নিতে হবে।’ খোকন বলেন, রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধাদের ১৫০০ স্কয়ার ফিট (দেড় হাজার বর্গ ফুট) ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। আবেদন পেলে রাজধানীতে সড়কগুলোও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কবরস্থানের জায়গা সংরক্ষণ ও ঢাকায় সিটি করপোরেশনের টয়লেট ফি ছাড়া ব্যবহারের ঘোষণা দেন তিনি। সদ্য প্রয়াত ডিএনসিসি-এর মেয়র আনিসুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন ডিএসসিসি-এর মেয়র সাঈদ খোকন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি-এর প্যানেল মেয়র ওসমান গনি। এ সময় সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) একেএম সফিউল্লাহসহ মুক্তিযোদ্ধারা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন।

কোন্দলের কারনে জয় যেন হাতছাড়া না হয়

করতোয়া ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘নিশ্চিত বিজয়’ যেন কোন্দলের কারণ হাতছাড়া হয়ে না যায়, সেজন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্যারিসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি বলেন, জনগণ আমাদের পক্ষে। ভোট দেবার জন্য প্রস্তুত, ভোট দেবে। কেউ যেন এখানে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। নিজেদের মধ্যে বিভক্তি থাকলে সেখান থেকে ষড়যন্ত্র ঢুকতে পারে। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রেই কিছু করতে পারবে না।

ওয়ান প্ল্যানেট সামিট উপলক্ষে তিন দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস- লো গ্রান্ড হোটেলে। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে ওই নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, সামনে ইলেকশন। ইলেকশনে আমাদের জয়ী হতে হবে। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটে আমরা জয়ী হবো। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইলেকশন খুব কাছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেকশন।

নির্বাচনের তিন মাস আগে থেকে প্রচার শুরু হয়ে যায়। হাতে আর আট-নয় মাস সময় আছে। আমাদের উন্নয়নের কাজগুলো খুব দ্রুত করতে চাচ্ছি। উন্নয়নের ছোঁয়াটা সাধারণ মানুষের কাছে যেন পৌছায়। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দিকে ইংগিত করে তিনি বলেন, অতীতে যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তারা আবারও ক্ষমতাসীন হলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারীরা যেন আর ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে। এ ব্যাপারে প্রত্যেককে সজাগ থাকতে হবে। তাদের এই মানুষ খুন করা থেকে শুরু করে লুটপাট, দুর্নীতির বিষয়ে মানুষকে সজাগ করতে হবে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তারা আসা মানেই দেশের মানুষের জন্য বিড়ম্বনা ঘটা, মানুষ খুন করা, আবার পুড়িয়ে মানুষ মারা। নির্বাচনের আগে এই সময়ে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন দলীয় সভানেত্রী।

তিনি বলেন, যারা দলের জন্য এতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারে না, তারা আবার নেতৃত্ব দেবে কী? সবাই বসে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও তাদের আচরণের ক্ষেত্রে সংযত থাকার আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, সেটা হল দেশের সম্মান। এই সম্মান যেন কারও আচরণে ক্ষুন্ন না হয়। এ বিষয়টার দিকে সকলেই অত্যন্ত সজাগ থাকবেন, নজর রাখবেন। এটুকুই আমার অনুরোধ থাকবে। প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে বলেন। যেহেতু আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তাদের সঙ্গে আমাদের সর্ম্পক নষ্ট হবে না। কিন্তু এই সমস্যাটা তাদের সৃষ্টি করা।

এই সমস্যা তাদের বন্ধ করতে হবে এবং তাদের দেশের নাগরিকদের তাদের ফেরত নিতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকের সমর্থন আমরা পেয়েছি। সকল রাষ্ট্র যেভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছেৃ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সমর্থন পেয়েছি সারা বিশ্বের মানুষের। সব দেশের সরকারের না, কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষের সমর্থন পেয়েছি আমরা। আর এই ঘটনায় (রোহিঙ্গা সঙ্কট) পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে। সোমবার প্যারিসে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুপুরে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং বিকালে ‘ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে’ যোগ দেন। বুধবার ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর। আজ বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

জেরুজালেম প্রশ্নে ওআইসি চুপ থাকতে পারে না: রাষ্ট্রপতি হামিদ

জেরুজালেম প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত বদলে বাধ্য করতে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসিকে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রের ওই বৈরী সিদ্ধান্তের পর ওআইসি চুপ করে বসে থাকতে পারে না।”  

আরব দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়ায় ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান জোটের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের এই সম্মেলন ডেকেছেন।

ওআইসির বিশেষ এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য- ‘আল-কুদসের (জেরুজালেমের আরবি নাম) প্রতি সংহতিতে সম্মিলিত উদ্যোগ’। ইস্তাম্বুল কংগ্রেস অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বুধবার এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতি হামিদ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের আগের অবস্থানেই অটল থাকার কথা বলেন।

জেরুজালেম মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি- সব ধর্মের অনুসারীদের কাছেই পবিত্র নগরী। ইসরায়েল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চান ফিলিস্তিনের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর এক ঘোষণায় জানান, জেরুজালেমকে তিনি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই সিদ্ধান্ত পুরো মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে একটি আঘাত হয়েছে এসেছে এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি হামিদ।     

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই সিদ্ধান্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। মুসলিম বিশ্বে নতুন করে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হলে তা সহিংসস উগ্রবাদকে আরও উসকে দিতে পারে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।   

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই জেরুজালেম, গাজা, পশ্চিম তীর, রামাল্লা, হেব্রন, বেথেলহেম, নাবলুসসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আরব ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি জাতিসংঘও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেয়।

ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের দল হামাসও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন ইন্তিফাদা (গণআন্দোলন) শুরুর ডাক দেয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ ডিসেম্বর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বতঃপ্রণোদিত ওই ঘোষণা মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি মনে করেন না।

পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতেও বলা হয়, জেরুজালেমের স্বীকৃতির বিষয়টি অবশ্যই জাতিসংঘের রেজুলেশনের কাঠামোর মধ্যে রাখতে হবে।

 ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যে সীমানা ছিল, সে অনুযায়ী জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টিও ওই বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানিয়ে ওআইসি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই ঘোষণায় মুসলমানদের পবিত্র শহর আল কুদস বা জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তাতে ওই শহরের ঐতিহাসিক ও আইনি পরিচয়, অধিবাসীদের জাতিয়তার ধরন এবং এর আরব-ইসলামিক চরিত্র যাবে। মুসলিম বিশ্ব তা কখনোই মেনে নেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কোনো ইতিবাচক প্রভাব তো রাখবেই না, বরং তা ওই ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।  

“ওই সিদ্ধান্তের ফলে আরব-ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।”

আবদুল হামিদ বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ৪৬৭ নম্বর প্রস্তাবে জেরুজালেমের রাষ্ট্রীয় পরিচয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। আর ৪৭৮ নম্বর প্রস্তাবে ইসরায়েলকে ওই ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন বন্ধ করে জেরুজালেমের আইনি পরিচয় এবং জনমিতিক বৈশিষ্ট বদলে দেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই সিদ্ধান্ত জেরুজালেমের মুসলমান ও খ্রিস্টানসহ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফিলিস্তিনের ‘ভাই-বোনদের’ অধিকার ও ন্যায় বিচারের প্রশ্নে পূর্ণ সমর্থন নিয়ে পাশে আছে বাংলাদেশের মানুষ। যুক্তরাষ্ট্র যাতে তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে এবং এই সঙ্কটে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে, সেই দাবিতে মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

আবদুল হামিদ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া পুররুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র নীতির আলোকে গঠনমূলক এবং বাস্তবমুখী প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।”

ওআইসিকে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ইসরাইলকে তাদের নীতি ও কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য করার চেষ্টায় আমাদের বিশ্ব সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জেরুজালেম নিয়ে ওআইসির এ পর্যন্ত যেসব বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো আমাদের এগিয়ে নিতে হবে।”

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে ওআইসি মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমদ আল-ওসাইমিন এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও বক্তব্য দেন।

বিভক্তির সুযোগে ভোটে যেন ষড়যন্ত্র না ঢোকে: শেখ হাসিনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘নিশ্চিত বিজয়’ যেন কোন্দলের কারণ হাতছাড়া হয়ে না যায়, সেজন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্যারিসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের পক্ষে। ভোট দেবার জন্য প্রস্তুত, ভোট দেবে। কেউ যেন এখানে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। নিজেদের মধ্যে বিভক্তি থাকলে সেখান থেকে ষড়যন্ত্র ঢুকতে পারে।”

দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রেই কিছু করতে পারবে না।” ওয়ান প্ল্যানেট সামিট উপলক্ষে তিন দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস- লো গ্রান্ড হোটেলে। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে ওই নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।    

তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “সামনে ইলেকশন। ইলেকশনে আমাদের জয়ী হতে হবে। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটে আমরা জয়ী হবো। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও আগামী বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নিশ্চিত বিজয়ের’ কথা বলেছেন।

গত সোমবার এক দলীয় সভায় তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন নিয়ে আমি জরিপ করেছি। দলকে জানাতে যে, আমার জরিপের রেজাল্ট এত ভালো আসছে যে, আজকে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বোঝা যাবে আগের চেয়েও বেশি ভোট পাবে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের চেয়েও বিপুল, ল্যান্ড স্লাইড পাবে আওয়ামী লীগ।”

প্যারিসের গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইলেকশন খুব কাছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেকশন। নির্বাচনের তিন মাস আগে থেকে প্রচার শুরু হয়ে যায়। হাতে আর আট-নয় মাস সময় আছে। আমাদের উন্নয়নের কাজগুলো খুব দ্রুত করতে চাচ্ছি। উন্নয়নের ছোঁয়াটা সাধারণ মানুষের কাছে যেন পৌছায়।”

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দিকে ইংগিত করে তিনি বলেন, অতীতে যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তারা আবারও ক্ষমতাসীন হলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।

“দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারীরা যেন আর ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে। এ ব্যাপারে প্রত্যেককে সজাগ থাকতে হবে। তাদের এই মানুষ খুন করা থেকে শুরু করে লুটপাট, দুর্নীতির বিষয়ে মানুষকে সজাগ করতে হবে।”

২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা আসা মানেই দেশের মানুষের জন্য বিড়ম্বনা ঘটা, মানুষ খুন করা, আবার পুড়িয়ে মানুষ মারা।”

নির্বাচনের আগে এই সময়ে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন দলীয় সভানেত্রী। তিনি বলেন, “যারা দলের জন্য এতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারে না, তারা আবার নেতৃত্ব দেবে কী?… সবাই বসে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও তাদের আচরণের ক্ষেত্রে সংযত থাকার আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

“একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, সেটা হল দেশের সম্মান। এই সম্মান যেন কারও আচরণে ক্ষুণ্ন না হয়। এ বিষয়টার দিকে সকলেই অত্যন্ত সজাগ থাকবেন, নজর রাখবেন। এটুকুই আমার অনুরোধ থাকবে।”

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে বলেন।

“যেহেতু আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তাদের সঙ্গে আমাদের সর্ম্পক নষ্ট হবে না। কিন্তু এই সমস্যাটা তাদের সৃষ্টি করা। এই সমস্যা তাদের বন্ধ করতে হবে এবং তাদের দেশের নাগরিকদের তাদের ফেরত নিতে হবে।”

এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রত্যেকের সমর্থন আমরা পেয়েছি।…সকল রাষ্ট্র যেভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে…। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সমর্থন পেয়েছি সারা বিশ্বের মানুষের। সব দেশের সরকারের না, কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষের সমর্থন পেয়েছি আমরা। আর এই ঘটনায় (রোহিঙ্গা সঙ্কট) পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে।”

সোমবার প্যারিসে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুপুরে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং বিকালে ‘ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে’ যোগ দেন।

বুধবার ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এদিনই রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

পুরোদমে চালু হল জরুরি সেবা ৯৯৯

এক বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তার হেল্পলাইন ৯৯৯। যে কোনো ফোন (মোবাইল বা ফিক্সড লাইন ফোন ) থেকে এই নম্বরে ফোন করলে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মঙ্গলবার জাতীয় এই জরুরি সেবাটি উদ্বোধন করেন। ঢাকার আব্দুল গণি রোডের মহানগর পুলিশের ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ কেন্দ্রের ফলক উন্মোচনের পর এর কল সেন্টারও ঘুরে দেখেন তিনি।

পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক  এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীনও উপস্থিত ছিলেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস’ নামে এই টেলিসেবাটি চালু করে। এখন থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তা পরিচালিত হবে। ৯৯৯ নম্বরটি সম্পূর্ণ ‘টোল ফ্রি’। কোনো খরচ ছাড়াই নাগরিকরা এই জরুরি সেবা নিতে পারবেন।

কখন কল করবেন?
কেউ যখন কোনো অপরাধ ঘটতে দেখবেন, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, কেউ কোনো দুর্ঘটনায় পড়লে, কোথাও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে এবং কারও জরুরিভাবে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হলে। পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত সদস্যরা ২৪ ঘন্টা এই সেবা দিতে প্রস্তুত থাকবেন। কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে গতবছর পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় হেল্পডেক্স৯৯৯ চালু করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে সেবা দেওয়া হয়। তার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে ৬৪.৮০ শতাংশ পুলিশি সেবা, ৩১.১০ শতাংশ ফায়ার সার্ভিস এবং ৪.১০ শতাংশ অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য ফোন করেছিলেন। গত ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গত প্রায় এক বছরে ৯৯৯ এ প্রায় ৩৩ লাখ কল এসেছে।

 

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স সেবায় ডায়াল ৯৯৯

জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স কিংবা পুলিশি সাহায্য পেতে এখন থেকে ৯৯৯ ডায়াল করেই মিলবে সেবা। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যে কোনো সময় যে কেউ বিনা খরচে ৯৯৯ ডায়াল করে জরুরি সেবা নিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে ডিএমপির ক্রাইম অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক।

‘৯৯৯’ অপারেট করবে পুলিশ।

কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ও অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হলে ৯৯৯ ডায়াল করলেই সেবা পাওয়া যাবে।

বিশাল পদ্মার বুকে প্রথম জাগলো স্বপ্নের স্থাপনা

পদ্মা সেতু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু করে সরকার। কিন্তু এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কথিত অভিযোগসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের দীর্ঘতম এ সেতু নির্মাণে বিদেশী অর্থায়ন নিয়ে চলে নানা জটিলতা। উঠে আসে ষড়যন্ত্রের নানা তথ্য। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। তবে সব বাধা বিপত্তি উৎরিয়ে সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই শুরু করে এই সেতুর নির্মাণযজ্ঞ। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে বসানো হয় প্রথম স্প্যান। যার ওপর দিয়ে যানবাহন চলবে। স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে পিলারের পর এখন এ সেতুর পাটাতনও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। পিলারের পর পিলারে স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়েই সেতু পূর্ণ চেহারা পাবে। আশা করা হচ্ছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা ও মানসিক দৃঢ়তার কারণেই কেবল পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই এই নির্মাণকাজ এতো দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

পদ্মা সেতুর অগ্রগতি বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ রকম খরস্রোতা নদীতে (পদ্মায়) সুপারস্ট্রাকচার করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। অনেকেই সন্দিহান ছিল। আল্লাহর রহমতে আমরা করেছি। ওবায়দুল কাদের স্প্যান বসানোর উদ্বোধনে দেরী করতে চেয়েছিল। আমি বলেছি- না। এটা নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। অনেক মানুষকে অপমানিত হতে হয়েছিল। এক সেকেন্ডও দেরী করব না। আমেরিকান সময় ৩টার দিকে ম্যাসেজ পেলাম- সুপারস্ট্রাকচার বসেছে। আমি ছবি চাইলাম। ওই ছবি দেখে আমরা দুইবোন কেঁদেছি। অনেক অপমানের জবাব দিতে পারলাম। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মর্যাদা নিয়ে থাকুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের বিশ্বাস, আস্থা অর্জনের চেয়ে রাজনীতিকের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হয় না।’

চারদিক থেকে যখন নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল তখন দেশীয় অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন-সহযোগীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমাদের কাজে অহেতুক বাধা দেবেন না। উন্নয়নের পথ বাধাগ্রস্ত করবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির আশঙ্কার কথা বলে ঋণচুক্তি বাতিল করল। তারা নিজেরাই চুক্তির মেয়াদ বাড়াল, আবার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বাতিল করে দেয়। যেখানে একটি পয়সাও খরচ হয়নি, সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ আসে কি করে? শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন ক্ষমতায় আসি তখন মনপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করি কীভাবে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা যায়, নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি। এটাই আমার চিন্তা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বক্তব্য দিয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেন এবং প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশী ও প্রবাসীদের পদ্মা সেতু নির্মাণে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকে এগিয়েও আসেন। শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পদ্মা সেতুর অর্থ সংগ্রহে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকে দুটি করে ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সব মন্ত্রী এক মাসের সম্মানী পদ্মা সেতু ফান্ডে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সচিবরাও একটি উৎসব ভাতার সমপরিমাণ অর্থ পদ্মা সেতু ফান্ডে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অর্ধ শতাধিক সচিব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই অর্থ নির্ধারিত ব্যাংকে জমাও দেন। তবে এসবের মধ্যেও অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই অনুযায়ী ১৯৯৮ থেকে ২০০০ এই সময়ে পূর্ব সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। এরপর ২০০১ সালে জাপানিদের সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাই এর কাজ হয়। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেছিলেন শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালে জুলাই মাসে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা-এর সুপারিশ মেনে মাওয়া-জাজিরার মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার শপথ নিয়েই নতুন করে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। ২০০৯ সালের ১৯ জুন সেতুর নকশা প্রণয়নের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে। এরপর ২৯ জুন পরামর্শকের সঙ্গে চুক্তি হয়। পদ্মা সেতুর কাজ ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ করার সময় নির্ধারণও করা হয় সে সময়। ২০১০ সালে প্রিকোয়ালিফিকেশন দরপত্র আহ্বান করা হয়। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখায় বিশ্বব্যাংক। সেই সঙ্গে সহযোগী হতে চায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিপি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ও জাইকা। ২৯০ কোটি ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু প্রকল্পে জন্য ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার। এরপর ওই বছরের ১৮ মে জাইকা (৪০ কোটি ডলার), ২৪ মে  আইডিবি (১৪ কোটি ডলার) এবং ৬ জুন এডিবির (৬২ কোটি ডলার) সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়।

 

ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দিতে ফ্রান্সের পথে প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দিতে প্যারিসের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে মঙ্গলবারের এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে সোমবার সকাল সোয়া ১০টার পর ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

দুবাইয়ে দেড় ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর প্যারিসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অভিন্ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের কর্মপন্থা নির্ধারণই ওয়ান প্ল্যানেট সামিটের মূল লক্ষ্য।

বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির দুই বছরের মাথায় মঙ্গলবার এলিসি প্রাসাদে এ সম্মেলন মিলিত হচ্ছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ।

ওই চুক্তিতে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়।

তিন দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্টিনেন্টাল প্যারিস লো গ্রান্ডে থাকবেন।

মঙ্গলবার সকালে তিনি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। দুপুরে ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে যোগ দেওয়া নেতৃবৃন্দের সম্মানে ফরাসি প্রেসিডেন্টের মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন।

বিকালে ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতে প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র সচিব মো.শহীদুল হক, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছেন।

সফর শেষে বুধবার রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।

 

দায়িত্বে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা : সিইসি

নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, একটি বিষয়ে সতর্ক করে বলতে চাই, দায়িত্ব পালনে কেউ ব্যত্যয় ঘটান, যদি দায়িত্ব পালন না করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে গাফিলতি করেন, তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক সভায় সিইসি এসব কথা বলেন। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সিইসি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যখন আমরা কোনো দায়িত্ব পালন করি তখন আর আমাদের কোনো পক্ষ থাকে না। আমাদের হাতে যে আইন আছে, সেই আইনে প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত। যদি কেউ সেই নির্ধারিত দায়িত্বের ব্যত্যয় করে তাহলে আমরা আইনের মাধ্যমেই তার ব্যবস্থা নেব। কমিশন এ ব্যাপারে এতটুকু আপোষ করবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর। নির্বাচন কর্মকর্তারা আপনাদের সাহায্য, সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কোনো কিছু নেই। একজন ভোটার ভোট দিতে যেতে পারবেন। কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না।

যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দিয়ে সে আবার নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সে কোথাও বাধার সম্মুখীন হবেন না। অবাধে যেতে পারবেন কেউ বাধা দেবে না। সিইসি আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে। তাতে আমরা খুব খুশি। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। নির্বাচনে আপনাদের যে ভূমিকা তার সফল বাস্তবায়ন হবে -এটা আমরা প্রত্যাশা করি। নির্বাচন অবাধ গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ্ব হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্বচ্ছ্বতা বলতে আমাদের কর্মকাণ্ডগুলো পরিষ্কার করা, দৃশ্যমান করা। আমাদের কোনো কাজ গোপন নয়। গোপন শুধু গোপন ভোটকক্ষে গিয়ে ভোটারদের ভোট দেয়া। কোনো বাধা ছাড়াই ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। এরপর নিরাপদে বাসায় যাবে -এটা নিশ্চিত করতে হবে। সব প্রার্থীরা যাতে সমান সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পর্কে নূরুল হুদা বলেন, কেন্দ্রে কোনো রকম ঝামেলা হবে না। কোনো রকমের হাঙ্গামা হবে না। ভোট দিতে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না।

‘ডিএনসিসি নির্বাচনে জটিলতা নেই’
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) উপ-নির্বাচনে কোনো জটিলতা নেই। এ বিষয়ে দুই একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রোববার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। সচিব বলেন, মেয়র পদটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের কপি আমরা পেয়েছি। নির্বাচনের বিষয়টি দুই একদিনের মধ্যে কমিশন সভার মাধ্যমে সবার কাছে পরিষ্কার করা হবে। নতুন ১৮ ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এর আগেই এসব ওয়ার্ডে নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়েছিল। তাই কোনো জটিলা আছে বলে মনে করি না।

খিলগাঁওয়ে গাড়ির ধাক্কায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন ভুঁইয়া (৩৮) নামে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।  রোববার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, রোববার সকালে সাইকেল চালিয়ে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর। এসময় খিলগাঁও এলাকায় আমিন গ্রুপের অফিসের সামনের রাস্তায় গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়ে আহত হন তিনি। পরে মানিক নামে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে তিনি মারা যান। এসআই জানান, নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়ার ডগাইর নরুনপাড়া সাদেক ভুঁইয়া রোড এলাকার বি ব্লকের সোলায়মান ভুঁইয়ার ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

 

 

যাত্রা শুরু হলো ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের

উদ্বোধন করা হলো দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক- ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোর’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার ঢাকায় নিজ বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পার্কটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী নবীন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এই পার্কে বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশকে প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযুক্ত সফটওয়্যার তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যশোর শহরের নাজিরশঙ্করপুর এলাকায় নিজস্ব জায়গায় এই পার্কটি তৈরি করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ৩০৫ কোটি টাকা।

আজ বেলা একটার ঠিক আগে গণভবন থেকে সুইচ টিপে পার্ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্য প্রান্তে যশোরে সফটওয়্যার পার্কে উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিতকুমার রায়, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম, প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) জাহাঙ্গীর আলম, যশোর জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পার্ক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইজন শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক, দুইজন আইটি প্রফেশনাল এবং হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে যুদ্ধাপরাধের রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তারা কোনো উন্নয়ন করেনি। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। সে কারণে তাদের প্রযুক্তির কোনো দরকার ছিল না। তাই বিনামূল্যে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তথ্য পাচারের কথিত আশঙ্কায় ছেড়ে দেয়।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) ছিল ক্ষমতা ভোগ করার মানসে। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কোনো আকাংখা তাদের ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধনের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন হলো। দেশে আরো এমন পার্ক তৈরি করা হবে। এসব পার্কে আইসিটি পণ্য উৎপাদিত হবে; যা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে দেশ। বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এর পর তিনি পার্কটি উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোর প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সফটওয়্যার তৈরি, কল সেন্টার সেবা, ফ্রিল্যান্সিং, গবেষণা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ হবে এই পার্কে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর তরুণদের টার্গেট করে এই পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এই অঞ্চলের তরুণরা সফটওয়্যারভিত্তিক কাজ করে নিজেরা স্বাবলম্বী হবে, দেশকে এগিয়ে নেবে। এখানে প্রায় পাঁচ হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে সরকার আশা করছে।

প্রকল্পের সার্ভে প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই জেলায় বিশ্বমানের একটি তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
[এমকে] তার চার বছরের মাথায় ২০১৪ সালের এপ্রিলে নাজির শঙ্করপুর এলাকায় দুই লাখ ৩২ হাজার বর্গফুট জমির ওপর ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১৫ তলার মূল ভবনের পাশাপাশি তিন তারকা মানের একটি ১২ তলা ডরমেটরি ভবন রয়েছে।
জাপানি উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডরমেটরি ভবনের ১১তলায় আন্তর্জাতিক মানের একটি জিম তৈরি করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে রয়েছে আধুনিক কনভেনশন সেন্টার ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে করা হয়েছে ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাব- স্টেশন।
ইতিমধ্যে জাপানের দুটি কোম্পানিসহ ৫৫টি কোম্পানিকে পার্কে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ কোম্পানি হিসেবে তরুণদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে পুরো একটি ফ্লোর।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রফতানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণে এই পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।

 

বৃষ্টিতে শীতের কাঁপুনি

করতোয়া রিপোর্ট : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। নিম্নচাপের কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে তাপমাত্রা কমে যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। ঢাকাতেও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শনিবার আবহাওয়া অফিসের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (নং ১৩) বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্ন চাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কি. মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১৫ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৪০ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুছ জানান, নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৪৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি. মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বর্ষণ হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আগাগী তিন দিন পরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সে. হ্রাস পেতে পারে। ঢাকায় ঘণ্টায় ১০-১৫ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে, যা ঘণ্টায় ৩০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এদিকে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের চার বিভাগে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে এসেছে। এতে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সেন্টমার্টিনে ৭ শতাধিক পর্যটক আটকা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে ঘুরতে যাওয়া সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এছাড়াও নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরে ৩নং সতর্কতা সংকেত বজায় থাকায় শনিবার সকালে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি। ফলে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে সকালে ঘাটে এসে প্রায় তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে না পেরে ফিরে গেছেন। তবে আটকে পড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আটকে পড়া পর্যটকরা শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরি আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক দ্বীপে রয়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, সতর্কতা সংকেত থাকায় শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নৌরুটে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ কারণে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি। ফলে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে।

 

নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার ভোলার লালমোহন থানার নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় তিনি একথা বলেন।

জনসভায় মন্ত্রী বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী  যথানিয়মে, যথাসময়ে  অনুষ্ঠিত হবে। কোন সরকার এল গেল, তার বিবেচনা না করে নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব গতিতে নির্বাচন পরিচালনা করবে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।”

“দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার বিকল্প কেবল শেখ  হাসিনাই,” মন্তব্য করে তিনি উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহব্বান জানান।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ঠিক তেমনি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে জীবনের মায়া ত্যাগ সফলতার সাথে কাজ করছে, বলেন কামাল।

লালমোহন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত লালমোহন বাজারের এই জনসভায় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম অরুণ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, পৌর মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক আলী রেজা মিয়া,  ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুল আলম হাওলাদার, পৌর আওয়ামী লীগ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাদল প্রমুখ।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তজুমদ্দিন থানা ভবনেরও উদ্বোধন করেন।

 

বিমান যাত্রীর অন্তর্বাসে ৪০০ গ্রাম সোনা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় আধা কেজি সোনা উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

গ্রেপ্তার মো. সাইদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, শনিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২৮ ফ্লাইট করে আবুধাবি থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সাইদুল। আগে থেকে খবর পেয়ে গোয়েন্দারা তাকে নজরদারিতে রাখে।

পরবর্তীতে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় জানিয়ে  তিনি বলেন, সাইদুল তার কাছে স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

কিন্তু আগে থেকে তথ্য থাকায় এবং কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখা যাওয়ায় শুল্ক গোয়েন্দারা তার দেহ তল্লাশি করে অন্তর্বাস থেকে তিনটি সোনার বার ও একটি অলঙ্কার উদ্ধার করে।  

মইনুল খান বলেন, তিনটি সোনার বারের মোট ওজন ৩৪৯ গ্রাম; আর অলঙ্কারের ওজন ৫৭ গ্রাম। সবমিলিয়ে ৪০৬ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয় তার কাছ থেকে, যার মূল ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় শুল্ক আইনে গ্রেপ্তার করা সাইদুরকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করার হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বেগম রোকেয়ার জন্যই আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি আমাদের (নারীদের) জন্য নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে দিয়েছিলেন। তাকে অনুসরণ করেই আজ আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি।

শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়ার অনুপ্রেরণা নিয়েই তিনি সরকার পরিচালনা করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বাঙালি নারীর জাগরণ তরান্বিত হচ্ছে। বেগম রোকেয়া বাঙালির নারী জাগরণের অগ্রদূত।
 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নারী উন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। আমরা ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসে ৩ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি ঘোষণা করেছিলাম। পরে আবার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে সেটা ৬ মাসে উন্নীত করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নারী-পুরুষ মিলে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। নারীদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, বাবার প্রতিটি কাজে পেছন থেকে আমার মা সহযোগিতা করতেন।  

২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে হবে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ। এ লক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।  

বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন দেশের স্বনাম ধন্য পাঁচ নারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তাদের হাতে এ পদক তুলে দেন।

এ বছর পদক পেলেন— মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা শওকত আলী, শিক্ষক শোভারাণী ত্রিপুরা, গ্রামীণ বিকাশ সহায়তা সংস্থার মাহমুদা খাতুন রত্না, সুরাইয়া বেগম এবং সাংবাদিক (মরণোত্তর) মাহফুজা খাতুন (বেবী মওদুদ)।

বক্তব্যের শুরুতেই রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত ৫ নারীকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

দুর্নীতিতে সহায়তাকারীদের সতর্ক করলেন গওহর রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: সরকারের মধ্যে থেকে যারা দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ক সংলাপ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম অগ্রাধিকার দারিদ্র্য দূর করা। যে দেশে দুর্নীতি থাকে সেই দেশে কখনো দারিদ্র্য দূর হবে না। তাই সরকারে থেকেও যারা দুর্নীতিবাজদের সহায়ক হন, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের ‘প্রধান বাধা’ হিসেবে বর্ণনা করেন গওহর রিজভী। তিনি বলেন, যারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা দেয়, তারা নিজেদের স্বার্থ থেকেই তা করে। সরকারের কোনো নির্দেশনা থাকে না।
অনুষ্ঠানের সভাপতি টিআইবির ট্রাস্টি এটিএম শামসুল হুদা তার বক্তব্যে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর দুর্নীতির তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, ছোট কর্মচারীদের বরখাস্ত করা হয়, কিন্তু হোতাদের কেউ ধরা পড়ে না। আসল লোকজন বাইরে থাকে। উনাকে (আব্দুল হাই বাচ্চু) এতদিন পরে (দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে) ডাকা হল কেন? ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত বেসিক ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুদক তদন্ত শুরু করলেও মামলা করার সময় বাচ্চু ও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নাম বাদ দেয়। ফলে দুদকের ওই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর সম্প্রতি বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে যে কোনো দুর্নীতির হোতাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয় মন্তব্য করে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা লেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সবকিছু সরকারের হাতে থাকে। গণমাধ্যমের মালিকরাও বড়লোক। তারাও সরকারকে খেপিয়ে নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে চায় না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কৃতিত্বের জন্য এ অনুষ্ঠানে আটজন সাংবাদিককে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রিন্ট মিডিয়ায় স্থানীয় ক্যাটাগরিতে দৈনিক পূর্বাচলের খুলনার স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম আলাউদ্দিন, জাতীয় ক্যাটাগরিতে সাভারে প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার অরূপ রায়; ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে মাছরাঙা টেলিভিশনের বদরুদ্দোজা বাবু ও ক্যামেরা পারসন হিসেবে একই টেলিভিশনের সিনিয়র ক্যামেরা পারসন মেহেদী হাসান সোহাগ; ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মো. সবুজ মাহমুদ, ক্যামেরা পারসন রাকিবুল হাসান, গোলাম কিবরিয়া, গোলাম কিবরিয়া এবং একই ক্যাটাগরিতে যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার (বর্তমানে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে) জাহিদ মামর ইসলাম সাদ ও ক্যামেরা পারসন তানভীর মিজান পুরস্কার পেয়েছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

ট্র্যাম্পের জেরুজালেম স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়: শেখ হাসিনা

ফ্রান্স, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ অনেক মিত্র দেশের আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে  বৃহস্পতিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।   

শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি সুয়োমোটো যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয় এটা ইসলামিক ওয়ার্ল্ডে কারও কাছে গ্রহণযোগ্য না। কারণ এখানে জাতিসংঘের রেজুলেশন রয়েছে। রেজুলেশন অনুযায়ী কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। জাতিসংঘের রেজুলেশনকে এভাবে অগ্রাহ্য করা কিন্তু কেউ বোধ হয় মেনে নেবে না। এটা ফিলিস্তিনের বিষয়ে আমার বক্তব্য। জেরুজালেম মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি- সব ধর্মের অনুসারীদের কাছেই পবিত্র নগরী। ইসরায়েল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চান ফিলিস্তিনের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউজে এক ভাষণে বলেন, জেরুজালেমকে তিনি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিচ্ছেন। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিল। যুক্তরাষ্ট্রের  এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধান’ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল বলেছে ফিলিস্তিন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে  আরব ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘ। বাংলাদেশের একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধের (আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ) পরে তাদের যে ভুখণ্ডটা এবং যে সীমানাটা তাদের ছিল, যেটা তাদের রাজধানী হওয়ার কথা, সেটাই থাকা উচিৎ। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মধপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে; ওই অঞ্চলে তৈরি করতে পারে নতুন করে অস্থিরতা। শেখ হাসিনা বলেন, এখানে এভাবে একতরফাভাবে করা মানে, অশান্তি সৃষ্টি করা এবং যে শান্তি প্রক্রিয়া, যেটা আমেরিকাই শুরু করেছিল, সেটার জন্য নোবেল প্রাইজও দেওয়া হল। একবার তারা নিজেরাই শুরু করল, এই ঘোষণায় এখন অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়া সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। ফিলিস্তিনের জনগণ যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার পায়, সে ব্যাপারে সকল মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

 

কর্মকর্তাদের কাজে হতাশ দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ, অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের কাজে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে এক সভায় তিনি বলেন, ২০১৭ সালে কিছু ইতিবাচক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, যেমন সশস্ত্র পুলিশ ইউনিট, হাজতখানা, হটলাইন ১০৬, গোয়েন্দা ইউনিট গঠন। কিন্ত অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ, অভিযোগের অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশনের কর্মকর্তাদের নৈপুন্য-দক্ষতা এবং একাগ্রতার তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে এবং সার্বিকভাবে আমাদের হতাশ করেছে। জার্মানির উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড ও দুদকের যৌথ উদ্যোগে কমিশনের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌলশগত কর্মপরিকল্পনার প্রথম বছরের কার্যক্রম ও ২০১৮ সালের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে মতবিনিময় সভায় ইকবাল মাহমুদ এসব কথা বলেন। সভায় কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কমিশনের কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় থাকলে কীভাবে দুদকের মামলার আসামিরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে, মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায় ? কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না ? তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য গাড়ি, সশস্ত্র পুলিশ সবই রয়েছে, কেবল উদ্যোগের অভাবেই আসামিরা ঘুরে বেড়ায়। এর দায়িত্ব কারা নেবে? অবশ্যই কর্মকর্তাদের নিতে হবে। আগামী বছর আরও উদ্দীপনা নিয়ে কর্মকর্তাদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সবাই মনে রাখবেন আগামী বছর হয়তো কমিশন এ জাতীয় শৈথিল্য প্রশ্রয় দেবে না। তিনি দুদকের গোয়েন্দা শাখার বিষয়ে বলেন, কমিশনের ভেতরে এবং বাইরের সরকারি এবং বেসরকারি সকল সংস্থায় নিবিড় গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানোর জন্য একটি বিশেষ ‘সার্ভিলেন্স টিম’ গঠন করা হবে। এই টিমের সদস্য কারা  থাকবেন তা কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কেবল চেয়ারম্যান জানবেন এবং এই টিম কমিশনের প্রধান নির্বাহীর কাছে প্রতিবেদন দেবে বলে জানান তিনি। এসব প্রতিবেদনে যেসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার নাম থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইকবাল মাহমুদ।

দুদকসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কুখ্যাতি রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। ২০১৮ সালে কোচিং বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, কতিপয় শিক্ষক-কর্মকর্তার অনৈতিক কার্যক্রমের কাছে দেশের শিক্ষা জিম্মি থাকতে পারে না। তাদের কারণেই দেশ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। আমরা সম্মিলিতভাবে শিক্ষকদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে চাই। দুদকের মানিলন্ডারিং মামলার দীর্ঘসূত্রতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক আইনি সহায়তা অনুরোধ (এমএলএআর) বিষয়টির জটিলতার কারণে অনেক আন্তঃদেশীয় মানিলন্ডারিং তদন্ত নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। এটা এখন বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দুদকের নিয়মিত যোগযোগের জন্য মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের  নির্দেশ দেন তিনি। সভায় দুদকের কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব  মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মো. জাফর ইকবাল, মো. মঈদুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মো. আতিকুর রহমান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জিআইজেডের কনসালটেন্ট রিচার্ডস মাইলস, জেরি ওজবোর্ন, কৃষ্ণা চন্দ, মো. আলী রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগাম নির্বাচনের সম্ভবনা নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। এবার আর তারা ভুল করবে না। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো দৈন্যদশা সরকারের হয়নি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।  বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসন ভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক একটি দেশে যে দলগুলো গণতন্ত্র চর্চা করে সেই সব দলের নির্বাচনে আসা কর্তব্য। তবে কে নির্বাচনে আসবে আর কে নির্বাচনে আসবে না সে ব্যাপারে সরকারের কিছু করণীয় নেই। বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে সরকারের করণীয় বিষয়ে বারবার প্রশ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে যদি আপনাদের এতই আগ্রহ থাকে তাহলে তেলের টিন, ঘিয়ের টিন নিয়ে সেখানে যান।

আমি অপাত্রে ঘি ঢালি না। আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরণ ডালা পাঠাতে হবে? একবার তাঁর (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘ঝাড়ি’ খেয়েছি, অপমানিত হয়েছি, আর ঝাড়ি খাওয়ার-অপমানিত হওয়ার ইচ্ছে নেই। যাদের মধ্যে ভদ্রতা জ্ঞান নেই, তাদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছে নেই। তিনি বলেন, এই ধরনের ছোটলোকি পনা যারা করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন কোন মুখে। আমার ওপর আপনারা এত জুলুম করেন কেন? কোন দল নির্বাচন করবে কোন দল নির্বাচন করবে না তা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কি করার আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানকে মেজর জেনারেল বানিয়েছেন আমার বাবা। বউ নিয়ে তিনি আসতেন। আমাদের বাসার নিচে মোড়া পেতে বসে থাকত। তাঁকে আপনারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক বলেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন, এটাই বহুদলীয় রাজনীতি?’ তিনি খালেদা জিয়ার সরকার প্রসঙ্গে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসানউল¬াহ মাস্টারসহ অনেককে হত্যা করেছে। তারপরও দেশের স্বার্থে তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে না এসে আগুন সন্ত্রাস করলে জনগণই জবাব দেবে। জনগণই ব্যবস্থা নেবে। আদালতে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উচিৎ, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া বলেন, সরকার জিয়া পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করলেও তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’, প্রতিহিংসামূলক কিছুই তিনি করবেন না। বিএনপিনেত্রীর ওই বক্তব্য নিয়ে এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, উনি কিসের ক্ষমা করলেন সেটা হল প্রশ্ন। ২১ আগস্ট আমি যে বেঁচে গিয়েছি সেই কথা বলছেন? ক্ষমা করেছেন না চাইছেন, সেটা স্পষ্ট না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কোনো অপরাধ করেছি নাকি যে আমাকে ক্ষমা করতে হবে? বরং তার উচিৎ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তিনি বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি। বরং খালেদা জিয়ার সরকারই তার বিরুদ্ধে এক ডজনের মতো মামলা দিয়েছিল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েই হয়েছিল- সে প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কারা। সবাই উনার লোক। নয়জনকে টপকে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল মঈন ইউ আহমেদকে, বিশ্ব ব্যাংক থেকে ফখরুদ্দীনকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়। আর ইয়াজউদ্দিনতো ওনার ইয়েস উদ্দিন। সবগুলো ওই আমলের মামলা। আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়েনি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে আরও সময় দরকার। আমরা গেলে উন্নয়ন কাজের কী অবস্থা হয়…। যে উন্নয়ন আমি করেছি, আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি, এত অল্প সময়ে আমরা যে উন্নয়ন করে দিয়েছি, সেটা কেউ করে দিতে পারে নাই। অপর এক প্রশ্নে সৌদি আরবে বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার সম্পত্তি পাচারের দায়ে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার হবে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের টাকা যারা এভাবে বাইরে নিয়ে গিয়ে বিলাসব্যাসনে ব্যায় করছে, আমার দেশের মানুষকে বঞ্চিত করছে, দেশের মানুষ তাদের বিচার করবে । তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী নিশ্চয় তার বিচার হবে। কারণ এটা হওয়া উচিতও। দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়ে বাইরে সম্পত্তি বানানোর কী অধিকার আছে, সেটা আমারও প্রশ্ন। এই ব্যাপারে আমি মনে করি, আপনাদেরও আরও সোচ্চার হওয়া উচিত, জনমত সৃষ্টি করা উচিত। অবশ্যই এর বিচার হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলমান রয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন তাকে আসতেই হবে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাড় হতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে খালেদা জিয়ার সম্পত্তির খবর বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে তেমন জায়গা না পাওয়ায় দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সৌদিতে বিশাল শপিং মল, সম্পদ পাওয়া গেছেÑ এটা তো আমরা কিছু করি নি। এটা বিদেশ থেকেই সংবাদটাই এসেছে। বরং বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিউজটা করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখলাম না, রহস্যটা কী? আপনারা কী বিনা পয়সায় শপিং করার কোনো কার্ড পেয়েছেন। এই ধরণের নিউজ আমার ব্যাপারে হলে আপনারা তো হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। আমাদের অপরাধ কী? আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। আর খালেদা জিয়া সবকিছুতে মাফ পায় কেনো? যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে, জাতির জনকের খুনিদের মদদ দিয়েছে, সেজন্য কী তাদের সাত খুন মাফ? আমি কোনো পত্রিকাতে এটা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করতে দেখলাম না। দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটাই উত্তর শতফুল ফুটতে দেন। অনেক প্রার্থী হোক, সেটা তো ভালো। এটা তো সবার রাজনৈতিক অধিকার। আমরা দেখবো, শতফুলের মধ্যে কোন ফুলটা সবথেকে সুন্দর সেটা বেছে নিবো। এখন কিভাবে বেছে নিবো, সেটা তো সময় বলে দিবে। এমপিদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, অন্তত রেড জোনে কেউ নাই। অবশ্যই জরিপ আমাকে করতে হবে। আমার এমপিরা কে কিভাবে কাজ করছে, জনগণের কাছে কার কেমন গ্রহনযোগ্যতা সেটা নিশ্চয় আমাকে জানতে হবে। কিন্তু সেই পদ্ধতিগুলো নিশ্চয় বলার না। এগুলো আমি সবার সামনে বলবো না। আমি যদি কারে কোথায় দুর্বলতা দেখি, নিশ্চয় তাকে সে বিষয়ে সতর্ক করি। তিনি বলেন, আমরা সমগ্র বাংলাদেশে সুষম উন্নয়ন করছি, সকলে সেটা ভোগ করছে। দেশের মানুষ যদি উন্নয়নটা চায়, তাহলে তারা নিশ্চয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বেছে নিবে। আরও নতুন নতুন সিট আমরা পাবো বলে আশা করি। যেখানে পরিবর্তন করা দরকার, সেখানে পরিবর্তন করবো। এখনো একবছর সময় বাকি আছে। একবছর পর নির্বাচন। ‘ডেঞ্জার জোন’ এখন আওয়ামী লীগের জন্য সৃষ্টি হয় নি। কারণ, মানুষ উন্নয়ন চাইলে তাদের আওয়ামী লীগ দরকার। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালে এই কবছরে আমরা যে উন্নয়ন করেছি সেটা আর কেউ করতে পারে নাই বলেও চ্যালেঞ্জ করেন টানা দুইবারের সরকারপ্রধান। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশে যারা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, জনকল্যাণে কাজ করে তারাই ক্ষমতায় আসুক, তারাই সংসদে থাকুক। এখানে কোনো যুদ্ধাপরাধী, কোনো খুনীর স্থান যাতে না হয়, তাহলে দেশটা আবার ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব, আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করব। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মোটামুটি সকল দেশই মায়ানমারকে চাপ দিচ্ছে। অনেকে প্রকাশ্যে না বললেও এটা কেউই ভালো চোখে দেখেন নি, সকলেই চান, মায়ানমারের নাগরিক মায়ারমারে দ্রুত ফিরে যাক। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে মায়ানমারের সাথে। তারা স্বীকার করেছেন তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে। আমি সবসময় চায়, প্রতিবেশী দেশগুলো সাথে সদ্ভাব থাক। আমরা মানবিক কারণে এদের আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু অবশ্যই মায়ানমারের নাগরিকদেরকে দেশটিতে ফিরত নিতে হবে। এটাই আমাদের আশা। ফ্রান্স, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ অনেক মিত্র দেশের আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি সুয়োমোটো যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয় এটা ইসলামিক ওয়ার্ল্ডে কারও কাছে গ্রহণযোগ্য না। কারণ এখানে জাতিসংঘের রেজুলেশন রয়েছে। রেজুলেশন অনুযায়ী কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। জাতিসংঘের রেজুলেশনকে এভাবে অগ্রাহ্য করা কিন্তু কেউ বোধ হয় মেনে নেবে না। এটা ফিলিস্তিনের বিষয়ে আমার বক্তব্য। জেরুজালেম মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি- সব ধর্মের অনুসারীদের কাছেই পবিত্র নগরী। ইসরায়েল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চান ফিলিস্তিনের নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউজে এক ভাষণে বলেন, জেরুজালেমকে তিনি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিচ্ছেন। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিল।যুক্তরাষ্ট্রের  এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধান’ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলেছে ফিলিস্তিন।ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে  আরব ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘ। বাংলাদেশের একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের (আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ) পরে তাদের যে ভুখ-টা এবং যে সীমানাটা তাদের ছিল, যেটা তাদের রাজধানী হওয়ার কথা, সেটাই থাকা উচিৎ।ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে; ওই অঞ্চলে তৈরি করতে পারে নতুন করে অস্থিরতা। শেখ হাসিনাও বলেন, এখানে এভাবে একতরফাভাবে করা মানে, অশান্তি সৃষ্টি করা এবং যে শান্তি প্রক্রিয়া, যেটা আমেরিকাই শুরু করেছিল, সেটার জন্য নোবেল প্রাইজও দেওয়া হল। একবার তারা নিজেরাই শুরু করল, এই ঘোষণায় এখন অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়া সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়।ফিলিস্তিনের জনগণ যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার পায়, সে ব্যাপারে সকল মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলন মঞ্চে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এ ছাড়া সেখানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সরকারের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিসিআইএম করিডোর নির্মানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন কাদের

আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণে ঢাকা সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর নির্মাণের জন্য মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে রাজী করানোর জন্য চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ সহযোগিতা চান। বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারী সফরে রয়েছে প্রতিনিধি দলটি। চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার(বিসিআইএম) ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের দু’কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ রাস্তা নির্মানের জন্য বাংলাদেশ সরকার আগ্রহী। কিন্তু এ রাস্তা নির্মানের জন্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতা দরকার। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এ সহযোগিতা করছে না।  বাংলাদেশ এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চায়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সময় গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কয়েক দিন বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা ইনফ্লাক্সকে মোকাবেলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে দেশে থাকতে হয়। তিনি বলেন, তাই ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও আমি চীনে সফর করা আওয়ামী লীগের দু’টি সফরে অংশ গ্রহন করতে পারি নি। সমুদ্র ও পাহাড় সকলকেই আলোড়িত করে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আমি যেতে পারিনি। কাদের বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, আমরা এক চীন নীতির সম্পূর্ণ পক্ষে।

তিব্বত ও তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। ওবায়দুল কাদের একটি ভালো সময় দেখে চীন সফরে যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের চীন সফরে সে দেশের আথিতিয়েতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাম্বেসেডর মোহাম্মদ জমির, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্ণেল(অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়–য়া ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের দেশের যোগাযোগ ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার ব্যাপক প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চীন সবচেয়ে বড় অংশীদার। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দেশের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প।

এটা জাতির স্বপ্নের সেতু। বিশ্ব ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পর অনেকে ভেবেছিল এ সেতু নির্মিত হবে না। কাদের বলেন, এ সেতু নির্মাণ করার সঙ্গে সাহস এবং সামর্থের বিষয় জড়িত ছিল। কারণ প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম সেতুগুলোর মধ্যে অন্যতম সেতুটি নির্মিত হবে কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল জল্পনা কল্পনার অবসান করে সাহসিকতার সঙ্গে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প গ্রহন করেন। চীনের চায়না মেজর ব্রীজ এবং চায়না সিনো হাইড্রো কোম্পানী এ সেতু নির্মানের কাজ পায়। কাদের বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি যে স্পেয়ারের ওপর স্প্যান স্থাপন করেছি। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা।

তিনি বলেন, ৮ম চায়না ব্রীজ নির্মানের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৯ম চায়না ব্রীজ নির্মানে চীনের সহযোগিতা পেতে যাচ্ছি। এ ব্রীজ দেশের উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দেশের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের মতো আর কোন দেশ এগিয়ে আসে নি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফূলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের জন্য চায়নিজ এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে ইতোমধ্যে চীনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেভাবে দৃঢ় হচ্ছে তাতে অচীরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত হয়ে বাংলীদেশী জনগনের সঙ্গে চীনা জনগনের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

 

প্রাথমিকেই আইসিটি শিক্ষা শুরুর পরিকল্পনা জয়ের

 ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্তর থেকে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য- প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে আইটি শিক্ষা প্রাইমারি লেভেল থেকে শুরু করার।

বৃহস্পতিবার ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে ‘মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে’ তিনি এসব কথা বলেন। জয় বলেন, ভবিষ্যতে ৮০ শতাংশ সরকারি সেবা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও প্রকৌশলীদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন ভবিষ্যৎ। নতুন প্রজন্মকে এজন্য প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিকে আইটি শিক্ষা শুরু করা ষষ্ঠ শ্রেণির চেয়ে কঠিন হবে না বলেই তার বিশ্বাস। এই লেভেলে লেখা শেখানো বা হোমওয়ার্কগুলো ট্যাবের (ট্যাবলেট পিসি) মাধ্যমে করা যেতে পারে। শিশুরা এগুলো খুব দ্রুত শেখে। তবে এখানে আমাদের রিসোর্স একটি চ্যালেঞ্জ। স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেশে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে এ শিক্ষা শুরু করা যাবে। ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর পর গত নয় বছরে দেশের ৪০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটাল হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগামীতে বেশিরভাগ সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছে। ফলে অর্থনীতির বিকাশ ও শিল্পায়ন দ্রুততর হচ্ছে। এখন সময় এসেছে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ নিয়ে কথা বলার। বাংলাদেশও ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামীতে ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি চালকহীন হবে। সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব দেখা যাবে। আগামীর বাংলাদেশ পৃথিবীর এসব উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। সজীব ওয়াজেদ বলেন, বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়েই সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে। জনগণ সুফল পাচ্ছে বলে বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট, জেনেটিক এডিটিং আমরা দেখতে পাব। অন্যদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা ডাইডোন কালোম্বো এনকিলে, কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কান চানমেটা এ আলোচনায় বক্তব্য দেন। এছাড়া ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দীন নাথ দুঙ্গায়েল, মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী তারিক আলী লুথুফি, ফিলিপিন্সের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা, সৌদি আরবের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ ফাহাদ আলীআরাল্লাহ সম্মেলনে অংশ নেন।

রাজধানীতে শিশুসহ দুই মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও শাহ আলীতে পৃথক ঘটনায় শিশুসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলো- শাহ আলী থানাধীন সারেনবাড়ির দিয়াবাড়ী এলাকার ৪ বছরের শিশু মরিয়ম এবং মোহাম্মদপুর থানাধীন সাত মসজিদ এলাকার মেহেদী হাসান (২৫)।

বুধবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

শাহ আলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক বাংলানিউজকে বলেন, বুধবার বিকেলে বেরিবাঁধ দিয়ে বাড়ি মোড় থেকে কিছু দূরে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় শিশু মরিয়ম গুরুতর আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়। মরিয়মের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে ছুটে যান।

সারেনবাড়ির দিয়াবাড়ী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো শিশু মরিয়ম। তার বাবার নাম মাহামুদুল্লাহ বাবু। এদিকে মোহাম্মদপুর থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, বধুবার রাতে সাত মসজিদ এলাকার একটি বাসা থেকে মেহেদী হাসান নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মেহেদী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মৃত যুবকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত হও

করতোয়া ডেস্ক: তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশের ফলে সামনে নতুন শিল্প বিপ্লবের সুযোগ তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে তরুণ প্রজন্মকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়াল্ডের উদ্বোধন করে তিনি বলেছেন, ‘আগামী প্রজন্মের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে- রেডি ফর টুমরো।’

বুধবার সকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে এবার চমক হিসেবে এসেছে মানবীর আদলে তৈরি রোবট সোফিয়া।

বাংলাদেশের তরুণরা নিজেদের মেধা-যোগ্যতায় বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় শামিল হওয়ার যোগ্য হয়ে উঠেছে মন্তব্য করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগামীর জন্য বাংলাদেশকে তৈরি করে যেতে চাই। একবার যেহেতু উন্নয়নের চাকা গতিশীল হয়েছে, সেটা আর কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না।’ শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে বাংলাদেশের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। মানুষকে যে কথা দিয়েছি নির্বাচনী ইশতেহারে, তা আমরা রেখেছি।’ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন বাস্তব বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা ২০০৯ এবং ২০১৭ সালের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। ২০০৯ সালে দেশের মাত্র আট লাখ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পেত, এখন তা বেড়ে আট কোটি হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি সংগঠনের সহযোগিতায় সরকারের আইসিটি বিভাগ ও বেসিস ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর আয়োজন করেছে, যার প্রতিপাদ্য ‘রেডি ফর টুমরো’। এ খাতে গত নয় বছরে বাংলাদেশের অর্জনগুলো তুলে ধরা হবে এ আয়োজনে। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচনও আয়োজকদের লক্ষ্য। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের যোগাযোগ আরো সহজ হয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতি আমাদের অনেক কাছে নিয়ে এসেছে।’

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ‘প্রযুক্তি বিভেদ’ থেকে দূরে রাখতে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইডথের দাম কমানো, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নাগরিকদের হাতের মুঠোয় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের ফলে আমাদের সামনে এক নতুন শিল্প বিল্পবের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ এই খাতে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছর বা তার নিচে। আমাদের এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’ এজন্য বাংলাদেশের যুব সমাজকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এজন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রায় ৫০ হাজার ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে তোলা হচ্ছে রোবোটিক্স, বিগডেটা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা এনালিটিক্স ল্যাব।’ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রতিবছর ১০ হাজার স্নাতক বের হওয়ার কথা তুলে ধরে জাপানের ১০ হাজার অ্যাপার্টমেন্টকে স্মার্ট করার কাজ বাংলাদেশের তরুণদের দেওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষিত না হলেও আমাদের দেশের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে খুবই পারদর্শী।’ আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার ও আইটি সেবা সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কোম্পানিগুলো এখন আফ্রিকাতেও পদচারণা করতে সক্ষম হয়েছে।’ চলতি অর্থবছরে সফটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় এক বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালের আগেই পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করেন তিনি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর বাংলাদেশের কর্মবাজারে আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘তাদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নিজেরাও যেন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা হতে পারে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ দেশে ২৮টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ঢাকার কারওয়ান বাজার ও  যশোরে সফটওয়্যার পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ১২টি বেসরকারি সফটওয়্যার পার্কও গড়ে উঠেছে। এসব পার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ১০ বছরের আয়কর মওকুফ ও শতভাগ রিপেট্রিয়েশনসহ বিবিধ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইসিটিকে সুযোগ দিলে ব্যাপক হারে রপ্তানি আয় আসবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রিল্যান্সিং সাইট আপওয়ার্ক, ইল্যান্স এবং ফ্রিল্যান্সারের প্রথম দশটির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা। বিশ্বে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক থেকে আমরা রয়েছি দ্বিতীয় স্থানে।’ এ খাতে বাংলাদেশ এক নম্বর হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশে উদ্ভাবন সক্ষমতা ও গবেষণা একান্ত অপরিহার্য উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আইসিটি বিভাগের আওতায় গবেষণা ফেলোশিপ, বৃত্তি এবং উদ্ভাবন কাজের জন্য অনুদান দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নতুন প্ল্যাটফর্ম স্টার্টআপ বাংলাদেশের কথাও বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৪৬ বছরের মধ্য ৩০টি বছর হেলায় হারিয়ে গেছে। সময় অনেক চলে গেছে। আর কালক্ষেপণ করতে চাই না। শুধু বর্তমান না, ভবিষ্যতকে দেখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ এবং বেসিসের সভাপতি মোস্তফা জব্বার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আইসিটি খাতের অগ্রগতির ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। উদ্বোধন ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

আপনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে নাতনির নাম সোফিয়া

হ্যালো সোফিয়া, কেমন আছ? ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি ভালো আছি। আমি গর্বিত। আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া দারুণ ব্যাপার। এই কথোপকথন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচিত রোবট সোফিয়ার। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক মেগা ইভেন্ট ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর এবারের আয়োজনের বড় আকর্ষণ এই যন্ত্রমানবী।

বুধবার আনুষ্ঠানিক আলাপের আগে সোফিয়া ও গ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাউসুল আলম শাওন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর। ছবি: আবদুস সালামপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন করেন। বক্তৃতা পর্ব শেষে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রোবোটিক্সের সমন্বয়ে গড়া রোবট সোফিয়ার সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে ট্যাব চেপে তিনি মেলার উদ্বোধন করেন। পরের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব থেকে আসা সোফিয়ার কাছে জানতে চান, ‘তুমি আমাকে কীভাবে চিনলে?’ জবাবে বিশ্বের প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া এই রোবট বলে, ‘আমি জানি, আপনি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে।

আপনি মাদার অব হিউম্যানিটি। আপনার নাতনির নামও সোফিয়া।’ প্রধানমন্ত্রী তখন উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জানেন, জয়ের (প্রধানমন্ত্রীর ছেলে এবং তাঁর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়) মেয়ের নাম সোফিয়া।’ হলুদ-সাদা রঙের জামদানির পোশাক পরা সোফিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইংরেজিতে কথোপকথন চলে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মঞ্চে সোফিয়া। ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর। ছবি: আবদুস সালামযার আদলে সোফিয়াকে বানানো হয়েছে সেই বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নও বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হয়ে বাংলাদেশে এসে প্রায় এক সপ্তাহ ছিলেন। সোফিয়ার সঙ্গে তার নির্মাতা ড. ডেভিড হ্যানসন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর।

আবদুস সালামবাসসের খবরে বলা হয়েছে, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এবং বাংলাদেশ সফটওয়্যার ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি ও বিজয় সফটওয়্যারের প্রবক্তা মোস্তাফা জব্বার। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারের পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কম্পিউটার খাতের সঙ্গে সংশি¬ষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সাবলীল ভঙ্গিতে সব প্রশ্নের জবাব দেয় যন্ত্রমানবী সোফিয়া। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর।

আবদুস সালামকয়েকটি আইটি সংগঠনের সহযোগিতায় আইসিটি বিভাগ ও বেসিস ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর আয়োজন করেছে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘রেডি ফর টুমরো’। ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড দেখতে কোনো টিকিট লাগবে না, তবে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। মেলা প্রাঙ্গণেও নিবন্ধন করার সুযোগ থাকছে।



Go Top