ভোর ৫:১৭, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ লাইফস্টাইল

কিশোররা ড্রাগ গ্রহণ করছে কি করছে না, তা নিয়ে প্রচুর ড্রামা রয়েছে। কিন্তু ড্রাগের ব্যবহারকে চিহ্নিত করার মূল চাবিকাঠি হল- আপনার কিশোর সন্তানের আচরণে আকস্মিক বা সুস্পষ্ট পরিবর্তন সন্ধান করা। আপনার সন্দেহপূর্ণ ধারণাকে গুরুত্ব দিন।

যদি কোনোকিছু আপনাকে দুশ্চিন্তিত করে, এটি সম্পর্কে আপনার স্বামী বা স্ত্রী বা সঙ্গী, বিশ্বস্ত শিক্ষক বা কোচ এবং সন্তানকে ভালোবাসে বা যত্ন করে এমন কারো সঙ্গে কথা বলুন। দুই মাথা সবসময় একমাথার চেয়ে অধিকতর ভালো এবং আপনার দুশ্চিন্তা শেয়ার করার ফলে আপনি বেশি কনফিডেন্ট হবেন ও আপনার কিশোর সন্তানকে সাহায্য করার জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

‘অ্যা প্যারেন্ট’স গাইড টু টিন অ্যাডিকশন’র লেখক, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সাইকিয়াট্রি বিভাগের ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং অ্যাডিকশন সাইকিয়াট্রিস্ট লরেন্স এম. ওয়েস্টরেইক কিশোরদের ড্রাগ সেবন চিহ্নত করার উপায় বিষয়ক একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
১. সচরাচরের চেয়ে বেশি নিদ্রালু বা উত্তেজিত দেখাবে

আবেগের উত্থান-পতন জীবনের অংশ। টিনেজার বা কিশোরদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে। যদি আপনার কিশোর সন্তানের মধ্যে টেবিলে ঘুমিয়ে পড়া কিংবা স্কুলশেষে দীর্ঘ ন্যাপ বা ঘুম যাওয়ার মতো অভ্যাস দেখা যায়, তাহলে তা দেরিতে ঘুম যাওয়ার রেজাল্ট নয়। বিপরীতভাবে, যদি আপনার কিশোর সন্তান রিল্যাক্স হতে না পারে অথবা কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া নার্ভাস বা ভীত থাকে, তাহলে সন্দেহ করতে পারেন যে সে মাদক সেবন করছে। আপনার কিশোর সন্তানের মধ্যে অত্যধিক ক্লান্তি বা উত্তেজনা কিংবা উভয় দেখা দিলে তাকে একজন ক্লিনিশিয়ান বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারেন।

২. খিটখিটে হতে পারে এবং আপনার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারে

অভিমান করা বা বিরক্ত হওয়া এবং কথাবার্তা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিশোরদের কমন বৈশিষ্ট্য। যদি আপনার কিশোর সন্তান আপনার সঙ্গে সবরকম কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, তাহলে আপনার তার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত। মাদক ব্যবহার করার কারণে সে এমনটা করতে পারে। আপনি নীরবে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। সে মাদকের সঙ্গে জড়িত হোক বা না হোক, আপনি শব্দগতভাবে কিংবা শারীরিকভাবে তাকে আঘাত দেবেন না, কিন্তু একেবারে কেনোকিছু বলবেন না তাও নয়। আপনি কৌশলে কিন্তু কোমল ভাষায় কথা বলতে পারেন, যেমন- ‘আমি জানি, তুমি এখন আমার সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাচ্ছো না, কিন্তু মনে রাখবে আমি সবসময় তোমার পাশে আছি এবং তোমার যেকোনো প্রয়োজনে আমি সাহায্য করতে পারি।’

৩. বন্ধু পরিবর্তন করে

কিশোরদের বিহেভিয়ারে সঙ্গীদের প্রচুর প্রভাব পড়ে, তাই সে কি রকম বন্ধু নির্বাচন করছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি এবং আপনার পরিবারও কিশোর সন্তানের বিহেভিয়ারে প্রভাব ফেলেন, যা সে অ্যাডমিট করতে পারে বা নাও করতে পারে। যদি আপনার কিশোর সন্তান এমন বন্ধু নির্বাচন করে যারা মাদক বা অ্যালকোহল সেবনকারী, তাহলে তাকে তাদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করুন, এটা বলতে হেজিটেশনে ভুগবেন না যে তাদের কেউ কেউ খারাপ কাজে প্রভাবিত। আপনার সন্তান আপনাকে এড়িয়ে যাতে তাদের সঙ্গে মিশতে না পারে সে ব্যাপারে প্রস্তুত থাকুন। যদি আপনার সন্তান তাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে, তবে তারও মাদক সেবনের ঝুঁকি থাকে।

৪. সচরাচরের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে

আপনার সন্তানের অর্থব্যয়ের কারণ আপনি বুঝতে না পারলে বা আপনাকে না জানালে, তবে এটাকে জরুরি সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরে নিতে পারেন। তাদের যেকোনো অজ্ঞাত ব্যয় কিছু প্রশ্নের সৃষ্টি করে, যেমন- প্রতি সপ্তাহে তুমি কত টাকা খরচ কর, তুমি কাদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাও বা ঘুরতে যাও? যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে আপনার সন্তানের হাত থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে, তাহলে সন্দেহ করতে পারেন যে সে মাদক সেবন করে বা অস্বাভাবিক কোনোকিছু করে। তাদের অজ্ঞাত ব্যয়ের উৎস অনুসন্ধানে কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এবং খারাপ উৎস পাওয়া গেলে তা থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখার উপায় অবলম্বন করুন।

৫. স্কুলওয়ার্ক কমে যায়

যদি আপনার কিশোর সন্তানের স্কুলওয়ার্কের মান বা স্কুলওয়ার্ক কমে যায় অথবা হঠাৎ করে বিহেভিয়ার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে মাদককে সম্ভাব্য কালপ্রিট হিসেবে সন্দেহ করতে পারেন। যে কাউন্সেলর আপনাকে ডেকেছেন তার সঙ্গে কথা বলুন এবং স্কুলের সবার সঙ্গে কথা বলে আপনার সন্তানের সমস্যা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করুন। শিক্ষক, প্রশাসক, প্রশিক্ষক এবং সেবাদাতার পুরো নেটওয়ার্কের সঙ্গে কথা বলুন, যারা আপনার সন্তানের সমস্যার কারণ উদঘাটন করতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনে কনসালটেশনের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

৬. খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন হয়

যদি আপনার কিশোর সন্তান হঠাৎ করে খাওয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং দ্রুত ওজন হ্রাস পায় বা বৃদ্ধি পায়, তাহলে ড্রাগকে এর একটি কারণ ভাবতে পারেন। কোকেন বা অ্যাম্ফিট্যামাইনের মতো উত্তেজক কোনোকিছু সেবনে ওজন হ্রাস পেতে পারে। এমনকি কিছু কিশোর ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক সেবন করে। আপনার কিশোর সন্তান খাওয়ার প্রতি উদাসীনতা দেখালে, ওজন হ্রাস পেলে, খুব অলস হয়ে পড়লে, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা দেখালে এবং ওজন বৃদ্ধি পেলে পিডিয়াট্রিশিয়ান বা ক্লিনিশিয়ানের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। পিডিয়াট্রিশিয়ানকে আপনার সন্তান সম্পর্কে আপনার উদ্বেগের ব্যাপারে জানান। প্রায়ক্ষেত্র পিডিয়াট্রিশিয়ানদের অ্যাডিকশন সমস্যার জন্য ভালো রেফারেল নেটওয়ার্ক থাকে এবং তারা আপনার সন্তানকে চিকিৎসার জন্য এমনভাবে মোটিভেট করতে পারেন যা আপনি পারেন না। আপনার সন্তানের সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহল সম্পর্কে আলাপ করতে যেন ভুলে না যান।

৭. প্রিয় কার্যকলাপের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে

নতুন কাজ এবং লক্ষ্য নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে আপনার কিশোর সন্তানকে অনুমতি দেওয়া উচিত। কিন্তু আপনার সন্তান হঠাৎ করে কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললে বা আগ্রহ একেবারেই অনুপস্থিত থাকলে, তাহলে তা মাদক সমস্যার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। ক্লান্তি, উদাসীনতা এবং কোনোকিছু করার জন্য মোটিভেশনের অভাবে ফেলতে মারিজুয়ানা ড্রাগ কুখ্যাত। আপনার সন্তান কোনোকিছুর প্রতি আগ্রহ হারালে অথবা হোমওয়ার্ক, স্পোর্টস, ক্লাব ও দলের কার্যক্রমে লেগে থাকতে ব্যর্থ হলে আপনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। মারিজুয়ানা এবং অন্যান্য মাদক কোনো কিশোরের উদ্যম থামিয়ে দেয় বা হ্রাস করে, তার অ্যাকাডেমিক উজ্জ্বল সম্ভাবনা এবং সামাজিক দক্ষতা অর্জনে বাধা দেয়।

৮. শারীরিক স্বাস্থ্য অধিকতর খারাপ হয়

আপনার কিশোর সন্তানের অজুহাতে বোকা বনে যাবেন না: যদি তার রক্তরাঙা চোখ, বিস্তৃত পিউপিল বা শরীরে খোঁস-পাঁচড়া থাকে, তাহলে মনে করতে পারেন যে সে মাদক সেবন করে। ঘনঘন ব্লাডি নোজ বা রানি নোজ অথবা মুখ, ঠোঁট বা হাতে যেকোনো ধরনের ক্ষত হতে পারে কোকেন বা মিথঅ্যাম্ফিট্যামাইন ব্যবহারের লক্ষণ। শরীরের কোনো অংশ ঢেকে রাখার মানে হল আপনার সন্তান কোনো শারীরিক সমস্যাকে আপনার কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করছে। আপনার সন্তানকে পর্যবেক্ষণ করে কোনো পিডিয়াট্রিশিয়ান বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান এবং প্রয়োজনে রেফারেল বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

৯. ড্রাগ অথবা ড্রাগ প্যারাফারনেলিয়া আছে

অ্যাডিকশন গোপনে বিস্তৃত হয়, তাই আপনার কিশোর সন্তানের ব্যাগে অজ্ঞাত পিল, পাইপ, সিরিঞ্জ বা অন্যান্য উপাদান পাওয়া গেলে অন্যান্য স্থানেও খুঁজে দেখুন। আপনার সন্তানের রুম বা জিনসপত্র চেক করতে দ্বিধা করবেন না। তার বন্ধুবান্ধব বা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের মধ্যে অধিকাংশই ছেলেমেয়েদের প্রাইভেসি রেসপেক্ট করেন, কিন্তু ড্রাগ সমস্যার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে, তা না হলে তাদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আপনার সন্তানকে ড্রাগ অ্যাডিকশন থেকে মুক্ত করতে কোনো অ্যাডিকশন সাইকিয়াট্রিস্ট বা রেফারেল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

সন্দেশ বানাবেন যেভাবে

উপকরণ

 


পনির- ৫০ গ্রাম
এলাচ- ৪টি (গুঁড়া)
চিনি- ৬ টেবিল চামচ
ছানা- আধা কাপ
জাফরান- সামান্য
আমন্ড- ৬টি
প্রস্তুত প্রনালি
দুধ জ্বাল দিয়ে লেবুর রস মিশিয়ে ছানা তৈরি করে নিতে পারেন। ছানা থেকে ভালো করে পানি ঝরিয়ে নেবেন। এবার পনির, ছানা ও চিনি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। চুলায় প্যান দিয়ে পনির ও ছানার মিশ্রণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। এলাচ গুঁড়া ও জাফরান মিশিয়ে দিন। চিনি গলে আঠালো হয়ে গেলে মিশ্রণটি নামিয়ে ছড়ানো পাত্রে ঢালুন। কেটে কেটে সন্দেশ বানান। চাইলে ছাঁচে তৈরি করতে পারেন সন্দেশ। আবার হাত দিয়ে মিষ্টির মতো গোলাকারও করে নিতে পারেন। ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করুন সন্দেশ। পরিবেশনের আগে আমন্ড কুচি ছড়িয়ে দিন। 

শীতে ওজন বাড়ার কারণ

শীতে ওজন বাড়ে অনেকেরই, তবে এর সপক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই বললেই চলে। কারণ বিষয়টা মানুষভেদে ভিন্ন হয়। এক গবেষণায় বলা হয়, শীতকালে অধিকাংশ মানুষের ওজন তিন থেকে পাঁচ কেজি বৃদ্ধি পায়, ফলে সারাবছরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিশ্রম পণ্ডশ্রমে পরিণত হয়।

 

শীতমৌসুমে ওজন বৃদ্ধি এড়ানোর জন্য এর পেছনের কারণ জানা থাকা চাই। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কারণগুলো এখানে দেওয়া হল।

ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব: ‘সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজওর্ডার (এসএডি)’ হল এক ধরনের ঋতুনির্ভর হতাশাগ্রস্ততা, যা আমাদের মন-মেজাজের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেয়। আর শীতকালে রোদ কম হয় বলে স্বাস্থ্যের উপরও তা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মানুষের পরিশ্রম কিংবা ব্যায়াম করার আগ্রহও কমে যায় এই ঋতুতে। ফলাফল, ওজন বৃদ্ধি।

আবহাওয়া: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার আগ্রহ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হল ঠাণ্ডা আবহাওয়া। শরীরচর্চার পরিবর্তে এই ঋতুতে সিংহভাগ মানুষই লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে আয়েসে দিন কাটাতেই পছন্দ করেন। আর কনকনে ঠাণ্ডায় শারীরিক পরিশ্রম করাটা বেশ কঠিনও বটে। এজন্য চাই দৃঢ় প্রতীজ্ঞাবদ্ধতা।

বড় রাত: রাত বড় মানেই ঘুম বেশি, আর ঘুম বেশি মানে পরদিন শরীর ম্যাজম্যাজ করা। যত বেশি ঘুমাবেন, শরীরের স্বাভাবিক চক্রের উপর তা ততই প্রভাব ফেলবে, ফলে আলসেমি বাড়বে। এই অলসতা আপনার ব্যায়ামের রুটিনও নষ্ট করবে।

উষ্ণ খাবার: শীতকালে পরিশ্রম কমার পাশাপাশি ভারী এবং উষ্ণ খাবার খাওয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। এই খাবারগুলো শরীরের তাপমাত্রা এবং খাওয়ার ইচ্ছা দুটোই বাড়িয়ে দেয়। মৌসুমি খাবার যে স্বাস্থ্যকর তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে সব খাবারই পরিমাণ মতো খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

বেশি খাওয়া: শীতকালে শরীরে খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। অসংখ্য গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, শীতকালে খাবারের চাহিদা বাড়ে প্রাকৃতিকভাবেই। তাই খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে তার ফল সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।

বর্ধিত বিপাকক্রিয়া: শুনতে ভালো মনে হলেও বিপাকক্রিয়ার আকস্মিক দ্রুততা চর্বি কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়। গবেষণা বলে, বিপাকক্রিয়া বাড়লে তা আগের চাইতে বেশি শক্তি খরচ করতে চায় যা শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। এতে ক্ষুধা বাড়তে পারে, ফলে খাওয়ার পরিমাণও বাড়ে।

ছবি: রয়টার্স।

যে ৯ লক্ষণে বুঝবেন আপনার সন্তান মাদকাসক্ত

কিশোররা ড্রাগ গ্রহণ করছে কি করছে না, তা নিয়ে প্রচুর ড্রামা রয়েছে। কিন্তু ড্রাগের ব্যবহারকে চিহ্নিত করার মূল চাবিকাঠি হল- আপনার কিশোর সন্তানের আচরণে আকস্মিক বা সুস্পষ্ট পরিবর্তন সন্ধান করা। আপনার সন্দেহপূর্ণ ধারণাকে গুরুত্ব দিন।

যদি কোনোকিছু আপনাকে দুশ্চিন্তিত করে, এটি সম্পর্কে আপনার স্বামী বা স্ত্রী বা সঙ্গী, বিশ্বস্ত শিক্ষক বা কোচ এবং সন্তানকে ভালোবাসে বা যত্ন করে এমন কারো সঙ্গে কথা বলুন। দুই মাথা সবসময় একমাথার চেয়ে অধিকতর ভালো এবং আপনার দুশ্চিন্তা শেয়ার করার ফলে আপনি বেশি কনফিডেন্ট হবেন ও আপনার কিশোর সন্তানকে সাহায্য করার জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

‘অ্যা প্যারেন্ট’স গাইড টু টিন অ্যাডিকশন’র লেখক, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সাইকিয়াট্রি বিভাগের ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং অ্যাডিকশন সাইকিয়াট্রিস্ট লরেন্স এম. ওয়েস্টরেইক কিশোরদের ড্রাগ সেবন চিহ্নত করার উপায় বিষয়ক একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

১. সচরাচরের চেয়ে বেশি নিদ্রালু বা উত্তেজিত দেখাবে

আবেগের উত্থান-পতন জীবনের অংশ। টিনেজার বা কিশোরদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে। যদি আপনার কিশোর সন্তানের মধ্যে টেবিলে ঘুমিয়ে পড়া কিংবা স্কুলশেষে দীর্ঘ ন্যাপ বা ঘুম যাওয়ার মতো অভ্যাস দেখা যায়, তাহলে তা দেরিতে ঘুম যাওয়ার রেজাল্ট নয়। বিপরীতভাবে, যদি আপনার কিশোর সন্তান রিল্যাক্স হতে না পারে অথবা কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া নার্ভাস বা ভীত থাকে, তাহলে সন্দেহ করতে পারেন যে সে মাদক সেবন করছে। আপনার কিশোর সন্তানের মধ্যে অত্যধিক ক্লান্তি বা উত্তেজনা কিংবা উভয় দেখা দিলে তাকে একজন ক্লিনিশিয়ান বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারেন।

২. খিটখিটে হতে পারে এবং আপনার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারে

অভিমান করা বা বিরক্ত হওয়া এবং কথাবার্তা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিশোরদের কমন বৈশিষ্ট্য। যদি আপনার কিশোর সন্তান আপনার সঙ্গে সবরকম কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, তাহলে আপনার তার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত। মাদক ব্যবহার করার কারণে সে এমনটা করতে পারে। আপনি নীরবে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। সে মাদকের সঙ্গে জড়িত হোক বা না হোক, আপনি শব্দগতভাবে কিংবা শারীরিকভাবে তাকে আঘাত দেবেন না, কিন্তু একেবারে কেনোকিছু বলবেন না তাও নয়। আপনি কৌশলে কিন্তু কোমল ভাষায় কথা বলতে পারেন, যেমন- ‘আমি জানি, তুমি এখন আমার সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাচ্ছো না, কিন্তু মনে রাখবে আমি সবসময় তোমার পাশে আছি এবং তোমার যেকোনো প্রয়োজনে আমি সাহায্য করতে পারি।’

৩. বন্ধু পরিবর্তন করে

কিশোরদের বিহেভিয়ারে সঙ্গীদের প্রচুর প্রভাব পড়ে, তাই সে কি রকম বন্ধু নির্বাচন করছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি এবং আপনার পরিবারও কিশোর সন্তানের বিহেভিয়ারে প্রভাব ফেলেন, যা সে অ্যাডমিট করতে পারে বা নাও করতে পারে। যদি আপনার কিশোর সন্তান এমন বন্ধু নির্বাচন করে যারা মাদক বা অ্যালকোহল সেবনকারী, তাহলে তাকে তাদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করুন, এটা বলতে হেজিটেশনে ভুগবেন না যে তাদের কেউ কেউ খারাপ কাজে প্রভাবিত। আপনার সন্তান আপনাকে এড়িয়ে যাতে তাদের সঙ্গে মিশতে না পারে সে ব্যাপারে প্রস্তুত থাকুন। যদি আপনার সন্তান তাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে, তবে তারও মাদক সেবনের ঝুঁকি থাকে।

৪. সচরাচরের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে

আপনার সন্তানের অর্থব্যয়ের কারণ আপনি বুঝতে না পারলে বা আপনাকে না জানালে, তবে এটাকে জরুরি সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরে নিতে পারেন। তাদের যেকোনো অজ্ঞাত ব্যয় কিছু প্রশ্নের সৃষ্টি করে, যেমন- প্রতি সপ্তাহে তুমি কত টাকা খরচ কর, তুমি কাদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাও বা ঘুরতে যাও? যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে আপনার সন্তানের হাত থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে, তাহলে সন্দেহ করতে পারেন যে সে মাদক সেবন করে বা অস্বাভাবিক কোনোকিছু করে। তাদের অজ্ঞাত ব্যয়ের উৎস অনুসন্ধানে কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এবং খারাপ উৎস পাওয়া গেলে তা থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখার উপায় অবলম্বন করুন।

৫. স্কুলওয়ার্ক কমে যায়

যদি আপনার কিশোর সন্তানের স্কুলওয়ার্কের মান বা স্কুলওয়ার্ক কমে যায় অথবা হঠাৎ করে বিহেভিয়ার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে মাদককে সম্ভাব্য কালপ্রিট হিসেবে সন্দেহ করতে পারেন। যে কাউন্সেলর আপনাকে ডেকেছেন তার সঙ্গে কথা বলুন এবং স্কুলের সবার সঙ্গে কথা বলে আপনার সন্তানের সমস্যা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করুন। শিক্ষক, প্রশাসক, প্রশিক্ষক এবং সেবাদাতার পুরো নেটওয়ার্কের সঙ্গে কথা বলুন, যারা আপনার সন্তানের সমস্যার কারণ উদঘাটন করতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনে কনসালটেশনের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

৬. খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন হয়

যদি আপনার কিশোর সন্তান হঠাৎ করে খাওয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং দ্রুত ওজন হ্রাস পায় বা বৃদ্ধি পায়, তাহলে ড্রাগকে এর একটি কারণ ভাবতে পারেন। কোকেন বা অ্যাম্ফিট্যামাইনের মতো উত্তেজক কোনোকিছু সেবনে ওজন হ্রাস পেতে পারে। এমনকি কিছু কিশোর ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক সেবন করে। আপনার কিশোর সন্তান খাওয়ার প্রতি উদাসীনতা দেখালে, ওজন হ্রাস পেলে, খুব অলস হয়ে পড়লে, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা দেখালে এবং ওজন বৃদ্ধি পেলে পিডিয়াট্রিশিয়ান বা ক্লিনিশিয়ানের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। পিডিয়াট্রিশিয়ানকে আপনার সন্তান সম্পর্কে আপনার উদ্বেগের ব্যাপারে জানান। প্রায়ক্ষেত্র পিডিয়াট্রিশিয়ানদের অ্যাডিকশন সমস্যার জন্য ভালো রেফারেল নেটওয়ার্ক থাকে এবং তারা আপনার সন্তানকে চিকিৎসার জন্য এমনভাবে মোটিভেট করতে পারেন যা আপনি পারেন না। আপনার সন্তানের সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহল সম্পর্কে আলাপ করতে যেন ভুলে না যান।

৭. প্রিয় কার্যকলাপের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে

নতুন কাজ এবং লক্ষ্য নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে আপনার কিশোর সন্তানকে অনুমতি দেওয়া উচিত। কিন্তু আপনার সন্তান হঠাৎ করে কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললে বা আগ্রহ একেবারেই অনুপস্থিত থাকলে, তাহলে তা মাদক সমস্যার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। ক্লান্তি, উদাসীনতা এবং কোনোকিছু করার জন্য মোটিভেশনের অভাবে ফেলতে মারিজুয়ানা ড্রাগ কুখ্যাত। আপনার সন্তান কোনোকিছুর প্রতি আগ্রহ হারালে অথবা হোমওয়ার্ক, স্পোর্টস, ক্লাব ও দলের কার্যক্রমে লেগে থাকতে ব্যর্থ হলে আপনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। মারিজুয়ানা এবং অন্যান্য মাদক কোনো কিশোরের উদ্যম থামিয়ে দেয় বা হ্রাস করে, তার অ্যাকাডেমিক উজ্জ্বল সম্ভাবনা এবং সামাজিক দক্ষতা অর্জনে বাধা দেয়।

৮. শারীরিক স্বাস্থ্য অধিকতর খারাপ হয়

আপনার কিশোর সন্তানের অজুহাতে বোকা বনে যাবেন না: যদি তার রক্তরাঙা চোখ, বিস্তৃত পিউপিল বা শরীরে খোঁস-পাঁচড়া থাকে, তাহলে মনে করতে পারেন যে সে মাদক সেবন করে। ঘনঘন ব্লাডি নোজ বা রানি নোজ অথবা মুখ, ঠোঁট বা হাতে যেকোনো ধরনের ক্ষত হতে পারে কোকেন বা মিথঅ্যাম্ফিট্যামাইন ব্যবহারের লক্ষণ। শরীরের কোনো অংশ ঢেকে রাখার মানে হল আপনার সন্তান কোনো শারীরিক সমস্যাকে আপনার কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করছে। আপনার সন্তানকে পর্যবেক্ষণ করে কোনো পিডিয়াট্রিশিয়ান বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান এবং প্রয়োজনে রেফারেল বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

৯. ড্রাগ অথবা ড্রাগ প্যারাফারনেলিয়া আছে

অ্যাডিকশন গোপনে বিস্তৃত হয়, তাই আপনার কিশোর সন্তানের ব্যাগে অজ্ঞাত পিল, পাইপ, সিরিঞ্জ বা অন্যান্য উপাদান পাওয়া গেলে অন্যান্য স্থানেও খুঁজে দেখুন। আপনার সন্তানের রুম বা জিনসপত্র চেক করতে দ্বিধা করবেন না। তার বন্ধুবান্ধব বা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের মধ্যে অধিকাংশই ছেলেমেয়েদের প্রাইভেসি রেসপেক্ট করেন, কিন্তু ড্রাগ সমস্যার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে, তা না হলে তাদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আপনার সন্তানকে ড্রাগ অ্যাডিকশন থেকে মুক্ত করতে কোনো অ্যাডিকশন সাইকিয়াট্রিস্ট বা রেফারেল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

কোমল পানীয়র ভিন্ন ব্যবহার

স্বাস্থ্যের জন্য কোমল পানীয় যতই অপকারী হোক না কেনো, এর চাহিদা কিন্তু কম নয়। তবে পান করা ছাড়াও কালো রংয়ের কোমল পানীয় দিয়ে আরও অনেক কাজই করা যায়।

প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি পন্থা নিয়ে গৃহস্থালীবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কালো কোমল পানীয়র কয়েকটি ব্যবহার এখানে দেওয়া হল।

পোড়া বাসন পরিষ্কার করতে: পুড়ে যাওয়া হাঁড়ি, কড়াই ইত্যাদির নাছোড়বান্দা দাগ ওঠাতে কোমল পানীয় কাজে লাগাতে পারেন। পোড়া বাসনে কোমল পানীয় ঢেলে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। পানীয়ের অম্লীয় উপাদান দাগ তুলে ফেলবে অনেকটাই।

বার-বি-কিউ সস: পার্টিতে কোমল পানীয় আছে কিন্তু বার-বি-কিউ সস ফুরিয়ে গেছে! এমন অবস্থায় টমেটো কেচাপের সঙ্গে কোমল পানীয় মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন বার-বি-কিউ সস।

মার্কারের দাগ তুলতে: আপনার দস্যি সন্তান যদি সারা ঘরে মার্কার দিয়ে চিত্রকর্ম এঁকে থাকে তবে মেজাজ সামলে কোমল পানীয় যোগাড় করুন। দাগ লাগা স্থানগুলোতে কোমল পানীয় মাখিয়ে আলতোভাবে ঘষুন। পরে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

চুলের যত্নে: অবাক হচ্ছেন! তবে এটা সত্যি। কোমল পানীয়তে থাকে ফসফোরিক অ্যাসিড যা মাথার ত্বকের জন্য উপকারী। চুল কোঁকড়া করতে সাহায্য করে। ডাই করা চুলের রং তোলে এবং চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।

বাগান পরিচর্যার সরঞ্জাম: মাটিতে কোমল পানীয় ঢাললে ওই অংশের ‘পিএইচ’য়ের মাত্রা কমে, ফলে গাছ বেড়ে ওঠার জন্য আদর্শ হয়ে ওঠে। বাগান বিশেষজ্ঞরা কম্পোজিট বিনে কোমল পানীয় যোগ করার পরামর্শ দেন। কারণ, এতে মাইক্রোঅর্গানিজমের বৃদ্ধি শক্তিশালী করে এবং সারের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। দূর করে পোকামাকড়ও।

ছবিতে পুরনোভাব দিতে: নতুন ছবিকে পুরানো ছবির মতো করে তুলতে কোমল পানীয় ব্যবহার করতে পারেন। তেমন কিছুই করতে হবে না, শুধু কোমল পানীয়তে ছবিটি ডুবিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, সবগুলো কাজের জন্যই চাই কালো রংয়ের কোমল পানীয়।

ছবি: রয়টার্স।

সরষে ইলিশ রান্নার সবচেয়ে সহজ রেসিপি

বাজারে দেখা মিলছে ইলিশের। এর স্বাদের কথা আলাদা করে মনে করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। এই একটি মাছ দিয়েই তৈরি করা যায় নানারকম খাবার। সরষে ইলিশের নাম শুনলে জিভে জল চলে আসতে বাধ্য। আজ থাকছে সরষে ইলিশ তৈরির সহজ রেসিপি-

উপকরণ: ইলিশ মাছ বড় ১টি, সরিষা বাটা কোয়ার্টার কাপ, সরিষার তেল আধা কাপ, হলুদ সামান্য, মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, আস্ত কাঁচা মরিচ ফালি ৫-৬টি, লবণ পরিমাণমতো, লেবুর রস ২ টেবিল-চামচ।

প্রণালি: সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এবারে আধা কাপ পানি মিশিয়ে চুলায় মৃদু আঁচে বসিয়ে ঢেকে দিন। মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিন।

ইঁদুর দূর করার ঘরোয়া উপায়

গৃহস্থালি সমস্যার অন্যতম হচ্ছে ইঁদুরের আনাগোনা। কাপড় থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগও ছড়ায় ক্ষতিকারক এই প্রাণীটি। ইঁদুরের উপদ্রব থেকে বাঁচতে কয়েকটি ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারেন।  

 

 

  • মেন্থলের গন্ধ সহ্য করতে পারে না ইঁদুর। তুলার টুকরা মেন্থল তেলে ভিজিয়ে ইঁদুরের আনাগোনা বেশি এমন স্থানে রেখে দিন। ইঁদুর তো দূর হবেই, উপরন্তু মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠবে ঘর!
  • রসুন কুচি করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার পানিটুকু ছড়িয়ে দিন ইঁদুরের বাসার আশেপাশে। ইঁদুর আসবে না।
  • পাতলা কাপড়ে লবঙ্গ নিয়ে রেখে দিন। ইঁদুর ঘেঁষবে না ধারেকাছে।
  • কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথালিন রেখে দিন। ইঁদুর দূর হবে। গোটা কয়েক ন্যাপথালিন ছড়িয়ে দিতে পারেন ইঁদুরের বাসার আশেপাশেও।
  • ট্যালকম পাউডার অথবা বেবি পাউডার ছিটিয়ে দিতে পারেন ইঁদুরের বাসার আশেপাশে। মুক্তি মিলবে ইঁদুর থেকে।
  • ২ কাপ অ্যামোনিয়ার সঙ্গে ১০০ মিলি পানি ও ২ চা চামচ ডিটারজেন্ট পাউডার মেশান। মিশ্রণটি রেখে দিন যেখানে ইঁদুরের উপস্থিতি দেখা যায় সেখানে। দূর হবে ইঁদুর।
  • ইঁদুরের বাসার আশেপাশে ও ঘরের কোণে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিলেও মুক্তি মিলবে ইঁদুর থেকে।
  • গোলমরিচ গুঁড়া করে ছিটিয়ে দিন রান্নাঘরে ও যেখানে ইঁদুর দেখা যায় সেখানে। পালাবে ইঁদুর।   

তথ্য: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ক্ষমা কিভাবে করবেন?

ড. রবার্ট এনরাইট হচ্ছেন ক্ষমা করার বৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রদূত। তার চার ধাপের ক্ষমা মডেল আন্তরিকতার সঙ্গে ক্ষমা প্রদর্শনের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও অপমানবোধ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে কাউকে কোনো কিছুর জন্য সত্যিকার অর্থে ক্ষমা করার পদক্ষেপ আলোচনা করা হয়েছে।

* জেনে রাখুন যে সবাই ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য
প্রত্যেকেরই এমন কেউ থাকেন যিনি তাদের সঙ্গে ঘৃণিত ব্যবহার করেন, যেমন- পিতামাতা- যারা তাদের অগ্রগতিকে উপেক্ষা করেন, স্বামী বা স্ত্রী- যিনি সমস্যাপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে তাদেরকে প্রতারিত করেন, অথবা এমন ব্যক্তি- যিনি তাদের কোনো পরিকল্পনার সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ান। এ ধরনের অন্যায় আচরণ দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ ক্ষতি করে না, কিন্তু অবসাদ, ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং অন্যান্য অসুস্থ ধরনের ক্রোধের উদ্রেক করতে পারে। তারা এমন অন্যায় আচরণ করলে এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ক্ষমা একটি অপশন বা তাদেরকে ক্ষমা করা যেতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা প্রকাশিত ‘ফরগিভনেস ইজ অ্যা চয়েজ’ এর লেখক এবং সাইকোলজিস্ট রবার্ট এনরাইটের মতে, ‘যখন আমরা খুব অন্যায়ভাবে অন্যদের আচরণের সম্মুখীন হব, এসব ডিল করার জন্য বিকল্প হিসেবে ক্ষমা বেছে নেওয়া উচিত যাতে এসব অন্যায় আচরণের প্রতিক্রিয়া আমাদের ওপর অসুস্থ উপায়ে প্রভাব বিস্তার না করে।’ ক্ষমা করার পথ বেছে নেওয়ার জন্য আপনার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি এমন কিছু যা আপনি নিজে নিজে অর্জন করতে পারেন, যদি জানা থাকে যে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে।

* সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি ক্ষমা করতে চান
ক্ষমা করার গুণ অর্জন করার প্রথম ধাপ হচ্ছে, এটি এমন কিছু যা প্রকৃতপক্ষে আপনি বেছে নিতে চান তার সিদ্ধান্ত নেওয়া, কিন্তু এটি এমন বিষয় নয় যে কেউ ক্ষমা করার জন্য চাপ দিচ্ছে। এনরাইট বলেন, ‘মানুষকে ক্ষমা করতে বাধ্য করা উচিত নয়। আমি মনে করি, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষ এটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।’ এনরাইট জোর দিয়ে বলেন যে, ক্ষমার মানে কোনো অন্যায় দোষ থেকে মুক্তি দেওয়া নয় বা কোনো অন্যায় ভুলে যাওয়া নয়, অথবা এমন কোনো সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয় যা অশুভ।’ তিনি বলেন, ‘কিছু লোক ক্ষমার অর্থকে ভুলভাবে বোঝে এবং বলে যে আমি যদি ক্ষমা করি, তাহলে আমি সুবিচার পাব না।’ এটি ক্ষমার বড় একটি সমালোচনা যা সত্য নয়।

* একটি তালিকা তৈরি করুন
প্রারম্ভিক এই ধাপ দিয়ে ক্ষমার প্রক্রিয়া শুরু করুন: যেসব লোকেরা আপনাকে আঘাত করেছে বা কষ্ট দিয়েছে অথবা আপনার ক্ষতি করেছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করুন, আঘাত বা কষ্ট বা ক্ষতি ছোট হোক বা বড় হোক তা কোনো ব্যাপার নয়, শৈশবে ফিরে যান। এরপর সবচেয়ে কম অন্যায় আচরণকারী ও ক্রোধ উদ্রেককারী নাম থেকে সর্বোচ্চ অন্যায় আচরণকারী ও ক্রোধ উদ্রেককারী নাম পর্যন্ত ক্রমবিন্যাস করুন। তালিকার সবচেয়ে নিচের নামটি থেকে ক্ষমার প্রক্রিয়া শুরু করুন অর্থাৎ সর্বোচ্চ ক্রোধ উদ্রেককারী ব্যক্তিকে ক্ষমার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু করুন অথবা তাদেরকে ক্ষমার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু করুন যারা আপনাকে এখনো কষ্ট দিচ্ছে বা বিব্রত করছে যা প্রীতকরও নয় বিপর্যয়করও নয়। তালিকার সবচেয়ে নিচের নাম থেকে উপরের নাম পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া রিপিট করলে আপনার ক্ষমা করার মানসিকতা বেড়ে যাবে এবং আপনি সেসব ব্যক্তিদের আরো ভালোভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন যারা আসলেই আপনাকে কষ্ট দিয়েছে বা দিচ্ছে।

* আপনার ক্রোধ আবিষ্কার করুন
এটি হচ্ছে এনরাইটের ক্ষমা মডেলের প্রথম ধাপের অফিসিয়াল স্টার্ট এবং এটি ক্ষমার গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এনরাইটের মতে, ‘এটি একপ্রকার চেকলিস্ট।’ আপনার ক্রোধের পরিপ্রেক্ষিতে আপনি কি করছেন? আপনি কিভাবে এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন? আপনার ক্রোধের শারীরিক প্রতিক্রিয়া কি ছিল? এনরাইটের মতে, সবচেয়ে কমন শারীরিক পীড়া হচ্ছে ক্লান্তি এবং হতাশাপূর্ণ বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে কাউকে বিশ্বাস করতে না পারা অথবা প্রত্যেকে নিজের স্বার্থে কাজ করছে। এনরাইট বলেন, ‘আপনি একবার এসব প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকালে প্রশ্ন দেখা দেবে- আপনি কি আরোগ্য হতে চান? কোন জিনিসটি ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদেরকে দ্বিতীয় ধাপে নিয়ে যায়?’

* ক্ষমার অঙ্গীকার করুন
দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে, ক্ষমার সংজ্ঞা পুনরায় বোধগম্য করা এবং এটির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া। এই সংজ্ঞা হচ্ছে তাদের প্রতি ভালো মনোভাব পোষণ করা যারা আপনার প্রতি ভালো আচরণ করেনি। এনরাইট বলেন, লোকেরা একবার প্রথম ধাপ সম্পূর্ণ করলে এবং তাদের ক্রোধের প্রতিক্রিয়া কিভাবে তাদের অসুখী করছে তা বুঝতে পারলে তাদের মধ্যে ক্ষমা করার প্রবণতা আসবে।’ দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হচ্ছে যাদেরকে আপনি ক্ষমা করতে যাচ্ছেন তাদের ক্ষতি না করা। এনরাইট বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে আপনি তাদের ভালো করছেন। এটি কেবল নেতিবাচক কোনোকিছু না করা বোঝায়।’

* অন্যের কষ্ট বিবেচনা করুন
এই ধাপ ক্ষমা মডেলের ‘কাজ’ ধাপ শুরু করে। এর লক্ষ্য হচ্ছে, অন্য ব্যক্তির জন্য চুড়ান্তভাবে দয়া অনুভব করা, কিন্তু এভাবে শুরু করবেন না। এর পরিবর্তে তাদের সম্পর্কে নতুন উপায়ে চিন্তা করুন। লোকটি কিভাবে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে? কিভাবে তারা অন্যায় আচরণ করেছিল? তারা কি কষ্ট পেয়েছিল, যে কারণে তারাও আপনাকে কষ্ট দিয়েছে? এনরাইট বলেন, ‘আমরা তাদের কাজকে দোষারোপ করার জন্য নিজেদেরকে এসব প্রশ্নগুলো করি না। কিন্তু সমালোচনার যোগ্য ব্যক্তিটিকে পর্যবেক্ষণ করে দেখলে হয়তো বুঝতে পারবেন যে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তিনিও তো আপনার মতো মানুষ যিনি অভ্রান্ত ও সর্বশক্তিমান নন।’

* অন্যের মনুষ্যধর্ম বিবেচনা করুন
এখন আপনি যে ব্যক্তির কষ্ট মূল্যায়ন করেছেন তার মনুষ্যধর্ম বিবেচনা করুন। এনরাইট বলেন, ‘আপনারা উভয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন, আপনারা উভয়েই মৃত্যুবরণ করবেন, আপনারা উভয়েই কর্তিত হলে রক্তপাত হয়, আপনাদের উভয়েরই ইউনিক ডিএনএ আছে এবং আপনারা মারা গেলে আপনাদের মতো অন্য ব্যক্তি হবে না।’ এবার চিন্তা করুন যে আপনার মতো মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্বলিত লোকটিকে ক্ষমা করবেন কিনা।

* অন্যের প্রতি কোমলতা অনুভব করুন
অন্যের প্রতি কোমলতা অনুভব করুন। এতে ক্রোধ নিবারণে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। এভাবে আপনার অনুভূতির পরিবর্তন হলে আপনি অসুস্থ ক্রোধ থেকে রেহাই পেতে পারেন। এনরাইট বলেন, অন্যের প্রতি কোমলতা অনুভব হচ্ছে, দয়ার ক্ষীণালোক বা সামান্য একটি অংশ।

* পেইন সহ্য করুন
আপনি একবার কোমলতা অনুভব করা শুরু করলে, পরের ধাপ হবে পেইন বা কষ্ট সহ্য করা। এনরাইট বলেন, ‘আমরা লোকদেরকে পেইন থেকে পরিত্রাণ পেতে বলছি না, আমরা এটি বহন করতে বলছি।’ এর মানে এই নয় যে আপনার পেইন অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এনরাইটের মতে, ‘এটি আপনার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি করে।’ যারা আপনাকে পেইন দিয়েছে তারা আপনার মনুষ্যধর্ম দেখতে না পেলে এবং আপনার কোমল হৃদয় বুঝতে না পারলে আপনিও তাদের মতো আচরণ করবেন? তা করলে আপনার ব্যক্তিত্ব থাকল কোথায়?

* পেইন প্রদানকারী ব্যক্তিকে উপহার দিন
আমরা এটা বোঝাচ্ছি না যে, আপনার একসেট ক্যান্ডেল কিনে উপহার দেওয়া উচিত। কিন্তু এনরাইট সৃজনশীল উপায়ে বা অন্য কোনো উপায়ে পেইন প্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য ভালো কিছু করার জন্য উৎসাহিত করছেন। তিনি বলেন, ‘যদি পেইন প্রদানকারী ব্যক্তি আপনার জন্য বিপজ্জনক হয়, তাহলে আপনার তাদেরকে জানাতে হবে না যে আপনি এটা করছেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘আপনি তাদের নামে চ্যারিটিতে অর্থ ডোনেট করতে পারেন, তাদের কাছে একটি ইমেইল পাঠাতে পারেন, এবং এমনকি আপনি তাদের সরাসরি দেখলে তাদেরকে হাসি বা ভালো শব্দ উপহার দিতে পারেন।’ এরকম করার মানে এই নয় যে, আপনি তাদের সঙ্গে ইন্ট্যারঅ্যাক্ট বা মিটমাট করার চেষ্টা করছেন, এটি শুধুমাত্র তাদের প্রতি আপনার ভালো মনোভাবের জানান দেওয়া।

* ডিসকভারি বা উদঘাটন ধাপ শুরু করুন
এটি হচ্ছে ক্ষমা মডেলের চতুর্থ এবং শেষ ধাপ। এ ধাপে আপনি উদঘাটনের চেষ্টা করবেন আপনি কি সাফার বা ভোগ করেছেন। এনরাইট বলেন, ‘সাধারণত মানুষেরা তাদের পেইন বা কষ্ট সম্পর্কে বেশি সচেতন থাকে। তারা খারাপ দিন অতিবাহিত করা ব্যক্তিদের সঙ্গে অবস্থান করলে আরো বেশি ধৈর্য্যশীল হয়ে ওঠেন, তারা দেখেন যে লোকেরা পেইন নিয়ে সবসময় আশপাশে চলাফেরা করছেন এবং তারা সাধারণত অন্যদের পেইন সম্পর্কে অধিক সচেতন হয় ও ভালোর জন্য ভূমিকা রাখতে চায়।’ আপনি একবার বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি পেয়ে থাকলে জীবনে আবার উন্নতিলাভ করতে শুরু করবেন।

* রিপিট, রিপিট, রিপিট
সবচেয়ে বেশি পেইন প্রদানকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করার মাধ্যমে আপনি এ প্রক্রিয়া শুরু করতে না চাইলে, আপনি যাদের ক্ষমা করতে চান তাদের প্রত্যেকের ওপর এ প্রক্রিয়া রিপিট করা উচিত। এনরাইট এ প্রক্রিয়ায় সফল হওয়ার জন্য কোনো জার্নাল রাখতে অথবা কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সমর্থন বা সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। ১৫ মিনিট করে সপ্তাহে কয়েকবার এ প্রক্রিয়া রিপিট করুন। এটি কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটি নির্ভর একটি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া আরম্ভ করার পূর্বে আপনি ক্ষমার মহত্ব সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডাসর্ড ডাইজেস্ট

রেসিপি: ড্রাই চিলি চিকেন

উপকরণ
হাড়ছাড়া মুরগির মাংস- ৩৫০ গ্রাম
ডিম- ১টি
কর্ন ফ্লাওয়ার- আধা কাপ
রসুন বাটা- আধা চা চামচ
আদা বাটা- আধা চা চামচ
লবণ- স্বাদ মতো
তেল- ভাজার জন্য
পেঁয়াজ কুচি- ২ কাপ
কাঁচামরিচ কুচি- ২ চা চামচ
সয়া সস- ১ টেবিল চামচ
ভিনেগার- ২ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালি
ডিম সামান্য ফেটিয়ে নিন। এবার মুরগির মাংসের সঙ্গে ডিম, কর্ন ফ্লাওয়ার, আদা ও রসুন বাটা মেশান। পাত্রে ২ চা চামচ লবণ ও প্রয়োজন মতো পানি দিন। মিশ্রণে যেন মাংস পুরোপুরি ডুবে থাকে। আধা ঘণ্টা এভাবে রেখে দিন।   
প্যানে তেল গরম করুন। তেলে মুরগির মাংস ভেজে তুলুন। আরেকটি প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন। মরিচ কুচি দিয়ে নাড়তে থাকুন। লবণ, সয়া সস, ভিনেগার ও মাংসের ভাজা টুকরা দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। পরিবেশনের আগে ধনেপাতা কুচি ও কাঁচামরিচ ছিটিয়ে দিন। 

রেসিপি: টক-মিষ্টি অরেঞ্জ চিকেন

উপকরণ
কমলার রস- ১/৪ কাপ
মুরগির মাংসের ছোট টুকরা- ১ কাপ
ডিম- ২টি (সাদা অংশ)
সয়া সস- আধা চা চামচ
রাইস ভিনেগার- আধা চা চামচ
লবণ- স্বাদ অনুযায়ী
রসুন- ১ কোয়া
আদা কুচি- ১/৪ চা চামচ
তেল- ১/৪ কাপ
কর্ন ফ্লাওয়ার- ২ টেবিল চামচ
চিনি- ১/২ টেবিল চামচ
তিলের তেল- ১/৪ চা চামচ
মরিচ- স্বাদ মতো  
প্রস্তুত প্রণালি
একটি বড় পাত্রে কর্ন ফ্লাওয়ার ও দুটি ডিমের সাদা অংশ একসঙ্গে ফেটিয়ে নিন। মিশ্রণে মুরগির মাংসের টুকরাগুলো মেখে রাখুন ৫ মিনিট। এবার কমলার রস, চিনি, তিলের তেল, মরিচের গুঁড়া, আদা, রসুন, লবণ, ভিনেগার ও সয়া সস একসঙ্গে মিশিয়ে সস তৈরি করুন। নন-স্টিক প্যানে সস দিয়ে চুলার বসিয়ে দিন। চিনি গলে গেলে নামিয়ে ফেলুন।
একটি ছোট পাত্রে ১ টেবিল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার ও আধা কাপ পানি দিন। প্রয়োজনে আরও খানিকটা কর্ন ফ্লাওয়ার মিশিয়ে ঘন করুন মিশ্রণ।
মাঝারি আঁচে কড়াইয়ে তেল গরম করুন। গরম তেলে মুরগির মাংসের টুকরা সোনালি করে ভেজে তুলুন। তৈরি করে রাখা সসে ভাজা মুরগির টুকরা দিয়ে টস করে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন অরেঞ্জ চিকেন।

কান পরিষ্কারের সঠিক উপায়

কানের ভেতর অপরিষ্কার থাকলে চুলকাতে থাকে এবং ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কান পরিষ্কারের জন্য আমরা অনেকেই কটন বাড বা কোনো শক্ত কাঠি ব্যবহার করি, যা আমাদের কানের জন্য ক্ষতিকর।

কানের ময়লা পরিষ্কারের সহজ ও সঠিক কৌশল জেনে নিন।

১. একটি পাত্রে পরিষ্কার এবং একেবারে হালকা গরম পানি নিন (বেশি গরম বা ঠান্ডা পানি আপনার কানের অডিটরি নার্ভে সমস্যা তৈরি করতে পারে)। চাইলে হালকা গরম পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড নিতে পারেন।

২. বেরিয়ে আসা পানির জন্য কানের নিচে একটি তোয়ালে বা বাটি ধরুন।

৩. পাত্রে রাখা হালকা গরম পানি ব্যবহারের জন্য একটি একটি ড্রপার নিন।

৪. মনে রাখবেন, যে কান পরিষ্কার করবেন তার বিপরীত হাত ব্যবহার করতে হবে। যেমন, ডান কান পরিষ্কার করার জন্য বাম হাত মাথার পিছন দিয়ে ঘুরিয়ে ডান কান সোজা করে উপরের দিকে টেনে ধরতে হবে।

৫. আপনার কানের ছিদ্রপথে ড্রপার দিয়ে হালকা গরম পানি দিন।

৬. যখন দেখবেন আপনার কানের ভেতরের খইল বা ময়লা বেরিয়ে আসছে, তখন বুঝবেন আপনি পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। তবে এই প্রক্রিয়াতে যদি আপনার মনে হয় আপনি কানে ব্যথা পাচ্ছেন তাহলে জোর করে পদ্ধতিটি অনুসরণ করবেন না। আর যদি এই পদ্ধতিটি কাজ না করে তাহলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার পুনরায় শুরু করতে পারেন।

৭. পুরো পদ্ধতিটি শেষ হওয়ার পর কানে কয়েক ফোঁটা অ্যালকোহল দিন (চাইলে পারঅক্সাইডের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন), অতিরিক্ত পানি শুকানের জন্য।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

 

 

আমারি ঢাকায় ইতালিয়ান বুফে

রাজধানীর গুলশানের পাঁচ তারকা হোটেল ‘আমারি ঢাকা’ ইতালিয়ান বুফের আয়োজন করছে আমায়া ফুড গ্যালারিতে।

থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞ ইতালিয়ান শেফ মার্কো বোস্কানির অ্যাপায়নে এই আয়োজনে থাকছে থাই, চাইনিজ, জাপানিজ, ইন্ডিয়ান বুফের সঙ্গে ইতালিয়ান বুফে। এই বুফের মধ্যে থাকবে মুখরোচক পাস্তা, রিসোত্তোস, লাজানিয়া, ইতালিয়ান স্টাইল সিফুড, পোকাসিয়া, বারবিকিউ, ইতালিয়ান ডেজার্ট সহ আরো অনেক কিছু।

পাশাপাশি থাকবে লাইভ কুকিং, যেখানে মিলবে পছন্দমতো খাবার। ইতালিয়ান বুফের বিশেষ এই অফারটি উপভোগ করা যাবে- ব্রেকফাস্ট ১৬০০++, লাঞ্চ ১৯৯৯++ এবং ডিনার ২৪৯৯++ টাকায়।

সহজেই তৈরি করুন সবজি পাকোড়া

শীত মানেই মজার সব সবজি। সবজি বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে খাওয়া হয়। চাইলে তৈরি করতে পারেন মজাদার পাকোড়া। ঝটপট বিকেলের নাস্তায় কিংবা শিশুর টিফিনে রাখতে পারেন সবজি পাকোড়া। রইলো রেসিপি-

উপকরণ: ময়দা ৩ কাপ, কর্ণফ্লাওয়ার ২ চা চামচ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, নুডলস ১ কাপ, ডিম ১ টি, গাজর কুচি ১ কাপ, আলু কুচি ১ কাপ, সিম কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, বাঁধাকপি ১ কাপ, মরিচ কুচি ৭-৮ টি, গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ (ঝাল খেলে মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ), লবণ পরিমানমতো, তেল ভাজার জন্য।

প্রণালি: প্রথমে নুডলস সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। গাজর, আলু, বাঁধাকপি, সিম সেদ্ধ করে নিয়ে পেঁয়াজ, মরিচ, ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, ময়দা ও লবণ দিয়ে সামান্য পানিসহ মেখে নিতে হবে। এরপর হাত দিয়ে ছোট ছোট পাকোড়া বানিয়ে ডুবো তেলে ভালোভাবে লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। এরপর সস দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মচমচে মিক্সড সবজি পাকোড়া।

খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ১১ প্রাকৃতিক উপায়

মাথার ত্বকের শুষ্কতা অথবা সেবোরেইক ডার্মাটাইটিসের মতো চর্ম অবস্থার কারণে খুশকি হতে পারে। একজিমা, সোরিয়াসিস কিংবা ম্যালাসিজিয়া নামক ইস্ট সদৃশ ফাঙ্গাসের অতিবৃদ্ধির কারণেও এটি হতে পারে।

ড্রাগস্টোর ড্যানড্রাফ রিমেডিতে শ্যাম্পুর সঙ্গে পাইরিথিওন থাকতে পারে- যার টার্গেট হচ্ছে ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া, কেটোকোনজোল থাকতে পারে- এটাও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে ফাইট করে, কোল টার ও সেলেনিয়াম সালফাইড থাকতে পারে- যা মাথার ত্বক কোষের বৃদ্ধি মন্থর করে এবং এ কোষের ক্ষতি করে বা মৃত্যু ঘটায় এবং স্যালিসিলিক অ্যাসিডও থাকতে পারে- যা ফ্লেক বা খুশকি আলগা করে- যার ফলে মাথা ধুলে ফ্লেক দূর হয়ে যায়।

বিরক্তিকর সাদা খুশকি থেকে মুক্তি পেতে ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু এড়িয়ে যেতে পারেন এবং এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়গুলো অবলম্বন করতে পারেন।

১. অ্যাসপিরিন

অনেক মেডিক্যাটেড ড্যানড্রাফ শ্যাম্পুতে থাকা সক্রিয় উপাদান, স্যালিসিলিক অ্যাসিড, অ্যাসপিরিনেও থাকে। খুশকি নিয়ন্ত্রণে আনতে- দুইটি অ্যাসপিরিনকে চূর্ণ করে সূক্ষ্ম পাউডারে পরিণত করুন এবং আপনি চুল ধোয়ার সময় যে স্বাভাবিক পরিমাণ শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তার সঙ্গে অ্যাসপিরিন পাউডার মিশিয়ে নিন, আপনার চুলে এ মিশ্রণ ১/২ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং তারপর সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করে আবার মাথা ধুয়ে ফেলুন।

২. টি ট্রি অয়েল

এক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, শ্যাম্পুর সঙ্গে ৫ শতাংশ টি ট্রি অয়েলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে খুশকির তীব্রতা কমায়। আপনি সাধারণত যে পরিমাণ শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল যোগ করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে, টি ট্রি অয়েল কিছু অপ্রীতিকর অবস্থার প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে পারে।

৩. বেকিং সোডা

ড্যানড্রাফ রিমেডি বা খুশকি প্রতিকারে বেকিং সোডা খুব কার্যকর। আপনার চুলকে ভেজান এবং তারপর একমুঠো বেকিং সোডা আপনার স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে ঘষুন। শ্যাম্পু পরিহার করে মাথা ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা খুশকি উৎপাদনকারী অতিসক্রিয় ফাঙ্গি হ্রাস করে। প্রথমদিকে আপনার চুল শুকনো থাকতে পারে, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর আপনার স্ক্যাল্প প্রাকৃতিক তৈল উৎপাদন শুরু করবে- যা আপনার চুলকে নরম করবে এবং আপনাকে খুশকিমুক্ত রাখবে।

৪. অ্যাপল সিডার ভিনেগার

ডা. মেহমেৎ ওজ ড্যানড্রাফ রিমেডির জন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগারের ওপর জোর দিয়েছেন, কারণ অ্যাপল সিডার ভিনেগারের অ্যাসিডিটি স্ক্যাল্পের পিএইচ পরিবর্তন করে স্ক্যাল্পকে ইস্ট বিকাশের জন্য কঠিনতর করে তোলে। একটি স্প্রে বোতলে এক-চতুর্থাংশ কাপ অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ কাপ পানি মিশান এবং এ মিশ্রণ আপনার স্ক্যাল্পে স্প্রে করুন। একটি টাওয়েল দিয়ে আপনার মাথা মুড়িয়ে নিন এবং ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দুইবার অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করুন।

৫. মাউথওয়াশ

খুশকি থেকে প্রতিকার পেতে- আপনার নিয়মিত ব্যবহার করা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং তারপর অ্যালকোহল-ভিত্তিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এরপর রেগুলার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। মাউথওয়াশের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রপার্টি খুশকি সৃষ্টিকারী ইস্টের বিকাশ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৬. কোকোনাট অয়েল

ক্রাঞ্চিবেটি ডটকমের মতে, কোকোনাট অয়েল বা নারকেল তেল খুশকি প্রতিকারে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। গোসলের পূর্বে, ৩/৫ চা-চামচ নারকেল তেল আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন এবং প্রায় একঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। আপনি নারকেল তেল সমৃদ্ধ শ্যাম্পুও ব্যবহার করতে পারেন।

৭. লেবুর রস

খুশকি থেকে মুক্তির জন্য আপনি লেমন বা লেবু ব্যবহার করতে পারেন। ২ চা-চামচ লেবুর রস আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন এবং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ১ চা-চামচ লেবুর রস ১ কাপ পানিতে মিশান এবং এ মিশ্রণ দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে নিন। খুশকি অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এরকম করুন। লেবুর অ্যাসিডিটি স্ক্যাল্পের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে খুশকির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

৮. লবণ

খুশকি দূরীকরণের জন্য চুলে শ্যাম্পু ব্যবহারের পূর্বে সাধারণ লবণ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়, কারণ লবণের খুশকি দূর করার ক্ষমতা আছে। সল্টশ্যাকার থেকে কিছু লবণ আপনার স্ক্যাল্পে ফেলুন এবং স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন। এবার শ্যাম্পু দিন।

৯. অ্যালোভেরা

উপরে উল্লেখিত সকল ড্যানড্রাফ রিমেডি খুশকি দূর করে, কিন্তু এসবের চেয়ে দ্বিগুণ কাজ করে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী- কারণ এটি ‘ইচ-ফাইটার’, অর্থাৎ চুলকানির বিরুদ্ধে এটি ফাইট করে। শ্যাম্পু ব্যবহারের আগে স্ক্যাল্পে অ্যালোভেরা ম্যাসাজ করুন, কিন্তু ম্যাসাজের পূর্বে স্ক্যাল্পে চুলকাবেন না। অ্যালোভেরার শীতলকারী প্রভাব চুলকানি উপশম করবে।

১০. রসুন

রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রপার্টি খুশকি-সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করার জন্য পারফেক্ট। রসুন পিষে স্ক্যাল্পে ঘষুন। রসুনের ঘ্রাণ দূর করতে হিল উইথ ফুড ডট ওআরজির পরামর্শ হচ্ছে, মাথা ধোয়ার পূর্বে পিষিত রসুনের সঙ্গে মধু মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।

১১. অলিভ অয়েল

সারারাতব্যাপী অলিভ অয়েল বা জলপাই তেলে স্ক্যাল্প সিক্ত রাখা হচ্ছে, পুরুষদের ড্যানড্রাফ রিমডি। প্রায় ১০ ফোঁটা অলিভ অয়েল আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন এবং একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে সারারাত ঢেকে রাখুন। সকালে আপনার রেগুলার শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে ফেলুন। আরো দ্রুত ফলাফলের জন্য অলিভ অয়েল সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

শিশুর যত্নে কিছু টিপস

নানারকম দুষ্টমিতে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখে আপনার পরিবারের যে সদস্যটি, সে কিন্তু নিজের যত্ন নিজে নিতে পারে না! কারণ একটি শিশু জানেই না কিভাবে যত্ন নিতে হয় নিজের, কেন যত্ন নিতে হয়। শিশুকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সবার আগে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে মা-বাবার। এরপর পরিবারের বাকিরা তো রয়েছেনই। চলুন জেনে নেই আপনার আদরের শিশুটিকে যত্নে রাখার কিছু উপায়-

শিশুকে হালকা গরম পানিতে গোসল করালেও মাথা ধোয়ানোর সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। শিশুর মাথায় খুশকি হলে তা ভালো হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুর চুলে তেল দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

হেয়ার স্টাইলের জন্য শিশুদের পছন্দের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। শিশুরা যে হেয়ার স্টাইলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এমন কাটই দেওয়া ভালো। এছাড়া শিশুর মুখের গঠন ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে হেয়ার স্টাইল দেওয়া যেতে পারে।

শিশুর চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে প্রতিদিন চুল ভালোভাবে শিশুদের উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে হবে। কারণ বড়দের শ্যাম্পুতে ব্যবহৃত উপাদান বাচ্চাদের জন্য সহনশীল নয়। বাচ্চাদের চুলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই।

শিশুদের তেলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন নিতে হবে। সব ধরনের তেল শিশুদের জন্য উপযোগী নয়। বাচ্চাদের মাথার ত্বকে এক্সট্রা ভার্জিন গ্রেড নারকেল তেল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাচ্চার মাথায় সরিষার তেল ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

শিশুদের চুলের ও মাথার ত্বকের যত্নে বাবা মার সবসময় অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বাচ্চাদের জন্য সাবান, শ্যাম্পু ও তেল ব্যবহারের আগে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারলে ভালো। এছাড়াও শিশুর চুলে চুলকানি বা র্যাশ হলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তেল বা শ্যাম্পুতে সমস্যা হলে এগুলোর ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে।

৭ ঘটনায় ডিভোর্স ঝুঁকির ভবিষ্যদ্বাণী করেছে বিজ্ঞান

কেউই হয়তো শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারে না যে, একটি দম্পতি ডিভোর্সের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে বেশ ভালো ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হয়েছেন। গবেষকরা দেখেছেন, ডিভোর্স নেয়া দম্পতিদের মধ্যে কিছু বিষয়ে মিল রয়েছে, যেমন তাদের দাম্পত্য কলহের ধরন, অন্যের কাছে নিজেদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দেয়ায় ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত জীবন।

নিচে ৭টি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে কোনো দম্পতির ডিভোর্সের সম্ভাবনা ধারণা করা যেতে পারে।

১. কিশোর বয়সে অথবা বত্রিশ বছর বয়সের পর বিয়ে করা

বিয়ে করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে, যখন আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত মনে করেন এবং এমন কাউকে খুঁজে পেয়েছেন যার সঙ্গে সারাজীবন কাটানো সম্ভব বলে নিশ্চিত হন।

এক সমীক্ষা মতে, যারা কিশোর বয়সে অথবা ৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে করেন তাদের ক্ষেত্রে ডিভোর্সের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে কিশোর বয়সিদের জন্য এ ঝুঁকি বেশি।

ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ’র প্রফেসর নিকোলাস উল্ফফিঙ্গার এর গবেষণা অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সের পরে বিয়ে হওয়া দম্পতির ডিভোর্সের সম্ভাবনা প্রতি বছর ৫% করে বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, ২০ বছর বয়সের পরই বিয়ে করার ভালো সময়। ২০১৫ সালে প্রকাশিত অপর একটি গবেষণায় তিনি বলেন, স্বামী স্ত্রীর বয়সের বয়সের অধিক পার্থক্য ডিভোর্সের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

‘দ্য আটলান্টিক’ এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বয়সের পার্থক্য ১ বছর হলে, ডিভোর্সের সম্ভাবনা ৩%, ৫ বছর হলে সম্ভাবনা ১৮% এবং ১০ বছর হলে ৩৯%।

২. স্বামীর ফুল টাইম চাকরি না থাকা

হার্ভার্ড থেকে প্রকাশিত ২০১৬ এর এক গবেষণামতে, আর্থিক অবস্থা নয় বরং কাজের ধরনের ওপর ডিভোর্সের ঝুঁকি নির্ভর করে। গবেষক আলেকজান্ডারের মতে, যেসব দম্পতিদের মধ্যে স্বামীর ফুল টাইম চাকরি নেই তাদের ডিভোর্সের সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়ায় ৩.৩% এবং ফুল টাইম চাকরি থাকলে সেই সম্ভাবনা কমে দাঁড়ায় ২.৫%। তবে স্ত্রীর উপার্জনের বিষয়টি ডিভোর্সের ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখে না। গবেষকদের মতে, স্বামীরাই ঘরের কর্তা, তারা ঘরে নয় বাইরেই বেশি সময় কাটাবে এবং উপার্জন করবে এই চিন্তাভাবনা এখনো সমাজে বিদ্যমান বলে এরকমটা হয়।

৩. শিক্ষাজীবন সম্পন্ন না করা

অস্বাভাবিক মনে হলেও, যারা শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি টেনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, তাদের ডিভোর্সের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অন্তত গবেষণা তাই বলে।

ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিক্স এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি পোস্টে ন্যাশনাল লঙ্গিচ্যুডিনাল সার্ভে অব ইয়ুথ (১৯৭৯) এর ফলাফল তুলে ধরা হয়, যা কয়েকটি দম্পতির বিয়ে এবং ডিভোর্সের ধরন এর ওপর গবেষণা করেছিল। পোস্টে বলা হয়: ‘শিক্ষিত দম্পতির ডিভোর্সের সম্ভাবনা কম, আর শিক্ষাজীবন শেষ না করা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেক সংখ্যকের ডিভোর্সের সম্ভাবনা থাকে, যেখানে শিক্ষিত দম্পতিদের মধ্যে ডিভোর্সের সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ দম্পতির।’ এর কারণ হিসেবে, নিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার ফলে নিম্ন উপার্জন এবং এর ফলশ্রুতিতে জীবনযাত্রার নিম্নমান উল্লেখ্য।

৪. সঙ্গীর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা

মনোবিজ্ঞানী জন গটম্যান দাম্পত্য জীবনের কিছু বিষয়কে ফোর হর্সম্যান অব অ্যাপোক্যালিপস’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যেগুলো খুব নিখুঁতভাবে ডিভোর্সের লক্ষণ প্রকাশ করে।

* অবজ্ঞা : সঙ্গীকে নিজের চেয়ে ছোট করে দেখা। তাকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা।

* সমালোচনা : সবসময় সঙ্গীর দোষত্রুটি তুলে ধরা, তার সমালোচনা করা।

* দায়িত্বহীনতা : কোনো সমস্যায়, বিপদ আপদে দায়িত্ব নিতে না চাওয়া।

* নির্বিকার আচরণ : তার পছন্দের বা প্রিয় কোনো ব্যাপারে আগ্রহ না দেখানো, কথাবার্তার সময় নির্বিকার আচরণ করা।

৫. নবদম্পতির মতো অতিরিক্ত স্নেহশীলতা

আপনি যদি আপনার সঙ্গীকে চুমু দেয়া, জড়িয়ে ধরা এবং তার হাত ধরার প্রতি আগ্রহী না হন তবে সেটা একটা সমস্যা হতে পারে। তবে আপনি যদি এই ব্যাপারে অতি আগ্রহী হয়ে থাকেন সেটা আরো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী টেড হস্টন ১৩ বছর ধরে ১৬৮টি দম্পতির ওপর গবেষণা করেন। তিনি এবং তার দল দম্পতিদের বিয়ের দিন থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে বেশ কিছু ইন্টারভিউ নিয়েছেন। পরবর্তীতে তার গবেষণায় চমকপ্রদ এক ফলাফল পাওয়া যায়, আর তা হলো- বিয়ের ৭ বছর বা তার আরো পরে যেসব দম্পতির মধ্যে ডিভোর্স হয়েছে তারা নতুন দাম্পত্য জীবনের শুরুতে যারা পরবর্তীতে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছে তাদের চেয়ে অন্তত এক তৃতীয়াংশ বেশি ভালোবাসা ও রোমান্টিকতা প্রকাশ করেছিলেন।

সাইকোলোজি টুডের এক কলামে বিশেষজ্ঞ এভিভা প্যাটজ বলেন, যেসব দম্পতির সম্পর্কের শুরুটা হয় প্রচন্ড রোমান্টিকতায়পূর্ণ তাদের সম্পর্কেই ডিভোর্স বেশি দেখা যায় কারণ চাইলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরুর ভালোবাসার এই তীব্রতা পরবর্তীতে ধরে রাখা যায় না। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, যেসব বিয়ের শুরুতে ভালোবাসা হলিউড স্টাইলের না হয়ে বরং সাধারণভাবেই শুরু হয় সেসব বিয়ের ভবিষ্যতই বেশি উজ্জ্বল বলে দেখা যায়।

৬. কথা বলা বা ঝগড়ার সময় নির্বিকার থাকা

যখন আপনার সঙ্গী আপনার সঙ্গে কঠিন কোনো বিষয়ে কথা বলেন অথবা ঝগড়া চলার মুহূর্তে আপনি কি কোনো মতামত না দিয়ে একেবারে চুপ করে থাকেন? অথবা আপনার সঙ্গে এমনটা হয়? যদি তাই হয় তবে এটা আপনার সম্পর্কের জন্য খারাপ লক্ষণ।

২০১৩ সালের ৩৫০ দম্পতির ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামীর মধ্যে এমন নির্বিকার মনোভাব থাকলে সেই সম্পর্কে ডিভোর্সের সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া যে সম্পর্কে একজন অপরের চাওয়া পাওয়ার খুব একটা মূল্য দেয় না, সেই সম্পর্ক খুব একটা সুখী হয় না।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমরা নিজেদের দোষটা বুঝতে পারি না। প্রত্যেকেই ভাবে তার সঙ্গীই হচ্ছে সমস্যার প্রধান কারণ। এ ধরনের মনোভাব সবার আগে ত্যাগ করতে হবে। প্রত্যেকটা সমস্যায় আপনি কিভাবে কথা বলছেন, সমস্যার সমাধানে আপনার ভূমিকা কী সেটাও খেয়াল রাখা দরকার। মনে রাখবেন, এক হাতে তালি বাজে না।

৭. সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা করা

১৯৯২ সালে একদল গবেষক নতুন বিবাহিত দম্পতিদের এক বিশেষ ধরনের ইন্টারভিউ নিয়েছিল যাতে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই তাদের সম্পর্কের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাপারে মতামত জানতে চেয়েছিল। তাদের মতামত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা অনুমান করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, কোন কোন দম্পতির ডিভোর্সের ঝুঁকি রয়েছে। তাদের গবেষণায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটারে স্বামী-স্ত্রীর স্কোরই তাদের সম্পর্কের দুর্বলতা বা শক্তিমত্তা প্রকাশ করে থাকে। তার মধ্যে রয়েছে:

* একে অপরের প্রতি স্নেহ-মমতা।

* সম্পর্কে ‘আমি’ ভাব দূর হয়ে প্রত্যেক সঙ্গীর মধ্যে ‘আমাদের’ বোধটা তৈরি হয়েছে কিনা।

* সঙ্গীর বলা কোনো কথাকে অন্যজন কতটুকু পর্যন্ত টেনে লম্বা করে।

* সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা

* বিবাহিত জীবন নিয়ে হতাশা

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

ত্বক উজ্জ্বল করে শসা

ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের কোনও বিকল্প নেই। ত্বকের স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে শসা ব্যবহার করতে পারেন নিয়মিত। শসার প্রায় পুরোটাই পানি। এছাড়া ভিটামিন সি ও নানা ধরনের গুণসমৃদ্ধ শসা ত্বক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে। ডার্ক সার্কেল দূর করার জন্য শসা স্লাইস করে চোখের উপর দিয়ে রাখতে পারেন। অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন ত্বকের যত্নে। জেনে নিন ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় শসা কীভাবে ব্যবহার করবেন।  


লেবুর রস ও শসা

  • তিন টেবিল চামচ শসার রসের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন।

  • কাচের মুখবন্ধ বয়ামে মিশ্রণটি সংরক্ষণ করুন।

  • দিনে কয়েকবার এই মিশ্রণ দিয়ে মুখ মুছে নিন।

  • এটি ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল করবে।  

গ্রিন টি ও শসা

  • এক কাপ গরম পানিতে গ্রিন টি মিশিয়ে নিন।

  • চায়ের লিকার ঠাণ্ডা হলে ১১ টেবিল চামচ লিকারের সঙ্গে ২-৩ টেবিল চামচ শসার রস মিশিয়ে নিন।

  • একটি স্প্রে বোতলে মিশ্রণটি ঢেলে নিন।  

  • মুখ পরিষ্কার করে এটি ব্যবহার করুন।

অ্যালোভেরা জেল ও শসা

  • ২ টেবিল চামচ শসার রসের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন।

  •  তুলার ছোট টুকড়া মিশ্রণে ডুনিয়ে মুখে লাগান ঘষে ঘষে।

  • দিনে কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন ত্বকে।

শসা ও ভিটামিন ই

  • ভিটামিন ই ট্যাবলেট থেকে তেল বের করে নিন।

  • তেলের সঙ্গে ২ চা চামচ শসার রস মেশান।

  • খুব ভালো করে ঘষে ঘষে ত্বকে লাগান মিশ্রণটি।

  • নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে ফিরে আসবে প্রাণ।

গোলাপজল ও শসা

  • ১ টেবিল চামচ শশার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে নিন।

  •  একটি স্প্রে বোতলে নিয়ে নিন মিশ্রণটি।

  • ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে তারপর এটি স্প্রে করুন।

  •  এটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের বাড়তি তৈলাক্তভাব দূর হবে।

টমেটো ও শসা

  • ১ টেবিল চামচ শসার রসের সঙ্গে ১ চা চামচ টমেটোর রস মেশান হবে।

  • দিনে অন্তত একবার মুখে এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন। ত্বক থাকবে সুস্থ ও সুন্দর।

গ্লিসারিন ও শসা

  • আধা চা চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে ১ চা চামচ শসার রস মিশিয়ে নিন। 

  • মিশ্রণটি প্রতিদিন ব্যবহার করুন ত্বকে। ত্বক নরম হবে।

সেদ্ধ পুলি পিঠা

বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা। পিঠাপুলি খাওয়ার এখনই তো সময়। রোজ সন্ধ্যায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে পিঠা বিক্রেতারা পিঠা বিক্রি করতে বসেন ঠিকই, কিন্তু তাতে মেলে না পরিপূর্ণ স্বাদ। সেইসঙ্গে সেসব পিঠা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। তাই ঘরেই তৈরি করে নিন মজাদার সব পিঠা। আজ থাকলো সেদ্ধ পুলি পিঠা তৈরির রেসিপি-

উপকরণ: আতপ চালের গুঁড়া ৪ কাপ, খেজুরের গুড় পরিমাণমতো, কোরানো নারকেল ২ কাপ।

প্রণালি: আতপ চালের গুঁড়া হালকা ভেজে পরিমাণমতো পানি দিয়ে খামি করে নিন। কড়াইতে গুড় ও নারকেল একসঙ্গে চুলায় দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। মিশ্রণটি শুকিয়ে আঠা আঠা করে নামিয়ে রাখুন। খামির হাতে নিয়ে গোল গোল করে বেলে মাঝখানে পুর দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকারের আকার দিয়ে মুখটি বন্ধ করে দিন। এভাবে সব পুলি পিঠা বানিয়ে ভাপে সিদ্ধ করে গরম গরম পরিবেশন করুন। ঠান্ডা পুলি খাওয়ার মজাই আলাদা।

ওজন বাড়লেই পরীক্ষায় ফেল

পরীক্ষায় পাসের প্রথম শর্ত হচ্ছে ভালো লেখাপড়া। কিন্তু নানজিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ভালো লেখাপড়া করলেই ছাত্ররা পরীক্ষায় পাস করতে পারে না। কারণ এখানে পরীক্ষায় পাস করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার পাশাপাশি প্রত্যেক ছাত্রকে একটি নির্দিষ্ট শারীরিক ওজনের অধিকারী হতে হয়। 

শুনতে অদ্ভুত ও হাস্যকর মনে হলেও সম্প্রতি চীনের জিয়াংসু প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়টি এই নিয়ম চালু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় মাসব্যাপী একটি সেমিস্টারের ষাট শতাংশ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে ওজন কমানোর ওপর। বাকি চল্লিশ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ তাদের একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর।

প্রতিটি সেমিস্টারের শুরুতে প্রত্যেক ছাত্রকে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাদের সঠিক ওজন পরিমাপ করাতে হয়। যদি কারো শরীরে মেদের পরিমাণ তার ওজনের ত্রিশ শতাংশ বেশি হয় তবে তাকে ওই সেমিস্টার শেষ হওয়ার পূর্বে অবশ্যই কঠোর অনুশীলন ও খাদ্যাভাসের মাধ্যমে বাড়তি মেদ ঝরাতে হবে। তবেই মিলবে সেমিস্টারের সম্পূর্ণ নম্বর।

তবে যাদের ওজন কম, তাদের বেঁচে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তাদের জন্যও প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন শারীর চর্চা ক্লাসে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অদ্ভুত এই ধারণাটি জো কুয়ানফু নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের মস্তিষ্কপ্রসূত। তিনি বলেন, ‘আমি জেনে অবাক হয়েছি যে,  অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত শরীরচর্চা করে না। ফলে তারা মুটিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শারীরিকভাবেও কাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তাই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। আশাকরি ছাত্ররা অন্তত তাদের পরীক্ষায় পাসের নম্বরের জন্য হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা করবে।’
 

খাবারের স্বাদ বাড়াতে কাঁচা মরিচের চাটনি

ঝালপ্রেমী রয়েছেন অনেকেই। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় ঝাল কিছু না থাকলে যেন তাদের চলেই না! আর ঝাল মানেই মরিচ। যারা ঝাল খেতে ভীষণ ভালোবাসেন, তাদের জন্য স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে একটি ব্যতিক্রমী রেসিপি কাঁচা মরিচের চাটনি রেসিপি। চলুন জেনে নেয়া যাক-

 

উপকরণ: কাঁচা মরিচ- ২৫০ গ্রাম, ভিনেগার- ২ কাপ, কর্ন ফ্লাওয়ার- ২ টেবিল চামচ, বিটলবণ- ১/২ চা চামচ, রসুন বাটা- ২ টেবিল চামচ, লবণ- এক চিমটি, সোডিয়াম বেনজয়েট- ১/২ চা চামচ, চিনি- ১ কাপ।

 

প্রণালি: কাঁচা মরিচ বোঁটা ফেলে ধুয়ে ২ ফালি করে ১ কাপ ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এক দেড় ঘণ্টা পর ভিনেগার থেকে তুলে মিহি করে বাটতে হবে অথবা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিবেন। প্যানে মরিচ বাটা, ১ কাপ ভিনেগার, রসুন বাটা, চিনি, লবণ দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে হবে। ফুটে উঠলে ৩-৪ মিনিট পর কর্নফ্লাওয়ার কিছু ভিনেগার দিয়ে গুলে মিশ্রণটিতে ঢেলে ঘন ঘন নাড়তে হবে। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ ভিনেগারের মধ্যে সোডিয়াম বেনজয়েট মিশ্রণটিতে গুলে ভালো করে চাটনিতে দিতে হবে। ঠান্ডা হলে কাচের বোয়ামে সংরক্ষণ করতে হবে।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে কাঁচা মরিচের চাটনি

ঝালপ্রেমী রয়েছেন অনেকেই। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় ঝাল কিছু না থাকলে যেন তাদের চলেই না! আর ঝাল মানেই মরিচ। যারা ঝাল খেতে ভীষণ ভালোবাসেন, তাদের জন্য স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে একটি ব্যতিক্রমী রেসিপি কাঁচা মরিচের চাটনি রেসিপি। চলুন জেনে নেয়া যাক-

উপকরণ: কাঁচা মরিচ- ২৫০ গ্রাম, ভিনেগার- ২ কাপ, কর্ন ফ্লাওয়ার- ২ টেবিল চামচ, বিটলবণ- ১/২ চা চামচ, রসুন বাটা- ২ টেবিল চামচ, লবণ- এক চিমটি, সোডিয়াম বেনজয়েট- ১/২ চা চামচ, চিনি- ১ কাপ।

প্রণালি: কাঁচা মরিচ বোঁটা ফেলে ধুয়ে ২ ফালি করে ১ কাপ ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এক দেড় ঘণ্টা পর ভিনেগার থেকে তুলে মিহি করে বাটতে হবে অথবা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিবেন। প্যানে মরিচ বাটা, ১ কাপ ভিনেগার, রসুন বাটা, চিনি, লবণ দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে হবে। ফুটে উঠলে ৩-৪ মিনিট পর কর্নফ্লাওয়ার কিছু ভিনেগার দিয়ে গুলে মিশ্রণটিতে ঢেলে ঘন ঘন নাড়তে হবে। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ ভিনেগারের মধ্যে সোডিয়াম বেনজয়েট মিশ্রণটিতে গুলে ভালো করে চাটনিতে দিতে হবে। ঠান্ডা হলে কাচের বোয়ামে সংরক্ষণ করতে হবে।

রূপচাঁদা মাছ ফ্রাই

সামুদ্রিক মাছের মধ্যে অনেকেরই সবচেয়ে বেশি পছন্দের মাছটি হলো রূপচাঁদা। রূপচাঁদা মাছ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে চাইলে রাখতে পারেন রূপচাঁদা ফ্রাই। রইলো রেসিপি।

উপকরণ: রূপচাঁদা মাছ- ২টা, পেয়াজ বাটা-১/২ চা চামচ, লবণ- স্বাদমতো, পেঁয়াজ ভাজা- ১/২ কাপ, কাঁচামরিচ- ৩-৪টা, আদা+রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ, হলুদ- ১ চা চামচ, শুকনো মরিচের গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরার গুঁড়া- ১/২ চা চামচ, লেবুর রস- ১/২ চা চামচ (চাইলে নাও দিতে পারেন), তেল- ভাজার জন্য।

প্রণালি: প্রথমে মাছ ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। তারপর মাছগুলোর দুইপাশে ছুরি দিয়ে লম্বা লম্বা কয়েকটি দাগে কেটে নিতে হবে। এবার তেল ছাড়া অন্য সব মসলার উপকরণ (পেঁয়াজ বাটা, লবণ, আদা + রসুন, হলুদ, শুকনো মরিচের গুড়া, জিরার গুড়া ও লেবুর রস) একত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর এই মসলার মিশ্রণকে মাছের সাথে খুবই সুন্দর করে মাখাতে হবে। যাতে সব মসলা মাছের মধ্যে ভালো করে ঢুকে। এই মাখানো মাছগুলোকে ১ ঘণ্টার মতো ঢেকে রাখতে হবে। এদিকে একটা কড়াইয়ে তেল নিয়ে গরম করতে হবে। তেলটা ডুবো হতে হবে। এবার আঁচ কমিয়ে দিয়ে একটি করে মাছ লাল করে ভেজে উঠিয়ে নিতে হবে। তারপর টিস্যু পেপারে মাছগুলোকে রাখতে হবে। তেল শুষে নিলে পরিবেশন ডিশে নিয়ে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ ভাজাটা দিয়ে সাজিয়ে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

ছানার সন্দেশ তৈরির সহজ রেসিপি

মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে পছন্দের একটি নাম ছানার সন্দেশ। খুব সহজেই এটি তৈরা করা যায় এবং খেতেও ভীষণ সুস্বাদু বলে অনেকেই বাড়িতে তৈরি করেন ছানার সন্দেশ। রেসিপি জানা থাকলে তৈরি করতে পারেন আপনিও। রইলো রেসিপি-

উপকরণ: ছানা-১ কাপ, চিনি- আধা কাপ, এলাচগুঁড়া- ১ চিমটি, পেস্তা+কিসমিস- কুচি সাজানোর জন্য।

প্রণালি: ছানা, চিনি ও এলাচগুঁড়া একসাথে চুলায় জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। চিনি গলে একটু আঠালো হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলতে হবে। একটি পাত্রে সামান্য ঘি মেখে সন্দেশের মিশ্রণ ঢেলে বসিয়ে নিতে হবে। ঠান্ডা হলে ছুরি দিয়ে চার কোনা অথবা বরফির মত করে কেটে ফেলুন। চাইলে ছাঁচে দিয়ে নানান রকম আকৃতি দিতে পারেন। হাত দিয়েও করে নিতে পারেন। ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন মজাদার ছানার সন্দেশ।

আমারি ঢাকায় ইতালিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল

রাজধানীর গুলশানের পাঁচ তারকা হোটেল ‘আমারি ঢাকা’ আয়োজন করছে ইতালিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল ‘চিয়াও ঢাকা’। ফেস্টিভ্যালটি চলবে আমারি ঢাকার আমায় ফুড গ্যালারিতে।

আগামী ১ নভেম্বর একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফেস্টিভ্যালটি করা উদ্বোধন হবে। ফুড ফেস্টিভ্যালটি চলবে ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।

ফেস্টিভ্যালে আমায়া ফুড গ্যালারিতে মিলবে থাইল্যান্ড থেকে আগত অভিজ্ঞ ইতালিয়ান শেফ মার্কো বোস্কানির ফুড অ্যাপায়ন। তিনি ১৯৮৩ সালে ইতালির গিওভান্নি পাসটোর ইনস্টিটিউট থেকে তার রন্ধনসম্পর্কীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

শেফ মার্কো বোস্কানির দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমারি ঢাকার আঙিনায় এই ইতালিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে।

এই ফুড ফেস্টিভ্যালে থাকছে মুখরোচক পাস্তা, রিসোত্তোস, লাজানিয়া, ইতালিয়ান স্টাইল সিফুড, মিট বারবিকিউ সহ আরো অনেক কিছু। ডিনারের এই আয়োজন উপভোগ করা যাবে ৩৯৯৯++ টাকায়l ইতালিয়ান ডেসার্ট থাকবে এই ফেস্টিভ্যালের আরেকটি বিশেষ আয়োজনl বুকিং ও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ: ০১৮৭৮৪২২২২২,০১৮৭৮৪৯৯৯৯৯।

অরেঞ্জ কেক তৈরি করবেন যেভাবে

অনেক রকম কেকই তো খাওয়া হয়। অরেঞ্জ কেক কখনো খেয়েছেন কি? না না, বাইরে থেকে কিনে নয়, নিজে তৈরি করে? চাইলে আপনি ঘরেই তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু অরেঞ্জ কেক।

 

উপকরণ: মাখন- ১৫০ গ্রাম, চিনি- ১৫০ গ্রাম, ডিম- ৩ টা, ময়দা- ২০০ গ্রাম, লবণ-১ চিমটি, বেকিং পাউডার- ১ চা চামচ, ১টি কমলালেবুর রস, ভ্যানিলা এসন্সে- ১/২ চা চামচ, ইচ্ছে হলে সামান্য কমলালেবুর খোসা কোরানো দিতে পারেন ।

প্রণালি: অরেঞ্জ ফ্লেভার কেক তৈরি করতে প্রথমে মাখন ও চিনি ভালো করে ইলেকট্রিক বিট বা হ্যান্ড বিটে বিট করে নিতে হবে। তারপর মাখন ও চিনির মধ্যে ডিমের সাদা অংশ দিয়ে বিট করতে হবে। ভালোভাবে বিট হয়ে গেলে। ময়দা, লবণ, বেকিং পাউডার ও ভ্যানিলা এসন্সে একসঙ্গে মেশাতে হবে। ময়দাটা মেশানো হয়ে গেলে কমলালেবুর রস এর মধ্যে দিতে হবে।

 

শেষে ডিমের কুসুমগুলো দিয়ে কিছুক্ষণ বিট করতে হবে। এবার কেক প্যানের চারপাশে তেল লাগিয়ে নিতে হবে। তারপর প্যানে কেক মিশ্রণটি ঢেলে দেন। ওভেন হালকা গরম হলে তারপর ১৮০ ডিগ্রিতে ওভেন ১০-১৫ মিনিটের জন্য প্রথমে বসিয়ে দেবেন। কিছুক্ষণ পরে ১৬০ ডিগ্রিতে ৩০ -৩৫ মিনিট আবার রাখবেন। এবার কাঠি বা টুথপিক ধুকিয়ে চেক করে দেখুন। হয়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করবেন।

গরম করলেই বিষ

ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন রান্না করার ঝক্কিটা নিতে চায় না অনেকেই। তাই ফ্রিজে রাখা খাবার গরম করে খেয়ে ফেলি আমরা। তবে সব খাবারই কিন্তু বার বার গরম করে খাওয়া ঠিক না। কিছু খাবার একাধিকবার গরম করলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো একাধিকবার গরম করলে তাতে থাকা কেমিক্যাল পাল্টে যায়। এতে করে সেসব খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে তা উল্টো শরীরের ক্ষতি করে। এমনকি সেসব খাবার বিষক্রিয়া তৈরি করে অসুস্থ করে তুলতে পারে আপনাকে। এই যেমন রান্না করা মুরগির মাংস যদি একাধিকবার গরম করে খাওয়া হয়, তাতে হজমের খুব ক্ষতি হয়। তাই যেসব খাবার একাধিকবার গরম করা অনুচিত সেগুলো জেনে নেই চলুন-

ভাত : আমরা যে ভাত খাই, তার চালে ব্যাকটেরিয়া থাকে। রান্না করার পরও সেসব ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকে। তাই দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা ভাত খাওয়া উচিত নয়। সেই ভাত আবারো গরম করলে ব্যাকটেরিয়া ঠিকই শরীরের ক্ষতি করবে। এতে করে বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে আপনার।

আলু : আলুতে প্রচুর প্রোটিন থাকে। তবে একাধিকবার গরম করা হলে আলু তার পুষ্টিগুণ হারায়। এরপর ঠান্ডা করে আবারো যদি গরম করা হয় তাহলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, এতে করে ফুড পয়জন তৈরি হতে পারে।

মাশরুম : মাশরুমেও প্রচুর প্রোটিন থাকে। তবে রান্নার পর ঠান্ডা করে আবারো গরম করা হলে এই মাশরুম শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর হতে পারে। এতে হজমের সমস্যা হতে পারে, পাকস্থলীতে ব্যথা হতে পারে। এমনকি হার্টের জন্যেও ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই রান্নার পর ঠান্ডা হলেই মাশরুম খেয়ে ফেলা উচিত। নইলে  ফ্রিজে রেখে পরদিনই নামিয়ে ঠান্ডা অবস্থায় খেতে হবে। আবার গরম করা যাবে না।

ডিম : ডিম রান্নার পর আবারো গরম করা হলে আপনার হজমের জন্য অনেক ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে তা।

মুরগীর মাংস : মুরগীতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। তাই একাধিকবার গরম করা হলে মুরগীর প্রোটিনের গঠন পাল্টে যায়, এতে করে হজমের জন্য খবু ক্ষতির কারণ হয়ে উঠে। তাই রান্না করা মুরগী ঠান্ডা করেই খাওয়া ভালো। কারণ রান্নার একদিন বা কয়েকদিন পর আবারো গরম করা হলে মুরগীর মাংস হজমের খুব ক্ষতি করতে পারে। যদি দ্বিতীয়বার গরম করতেই হয়, তাহলে চুলায় অল্প আঁচে অনেকক্ষণ ধরে গরম করে তবেই তা খাওয়া উচিত।

সবুজ শাকসবজি : পালং শাকের মতো সবুজ শাক সবজিতে আয়রন ও নাইট্রেট থাকে অনেক। তাই এগুলো একাধিকবার গরম করা হলে ক্যানসারের জীবাণু তৈরি করতে পারে শরীরে। তাই সবুজ শাকসবজি রান্নার পরই খেয়ে ফেলা উচিত। এগুলো ফ্রিজে রেখে পরদিন বা কয়েকদিন পর খাওয়া একেবারেই ঠিক না।

দ্বিতীয়বার বা একাধিকবার খাবার নিরাপদে গরম করতে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে-

* খাবার যদি আবারো গরম করতে হয় তবে তা দ্রুত করতে হবে। এক্ষেত্রে খাবারে ১৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট উত্তাপ দিতে হবে।

* ফ্রিজ থেকে রান্না করা সে পরিমাণ খাবারই আবার গরম করুন, যতোটুকু খাবেন আপনি।

* সব খাবারের খাদ্য উপাদানই একটি আরেকটির চেয়ে আলাদা। দ্বিতীয়বার গরম করার পর সেগুলো উত্তাপ যাতে ঠিক মতো ধরে রাখতে পারে, সে জন্য ঢেকে রাখুন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্টেপ টু হেলথ

নারকেলের সন্দেশ রেসিপি

সুস্বাদু একটি খাবার নারকেলের সন্দেশ। বিশেষ করে শিশুরা খেতে খুব পছন্দ করে নারকেলের সন্দেশ। খুব সহজে আর অল্প সময়েই ঘরে তৈরি করতে পারেন এই মজাদার নারকেলের সন্দেশ। রইলো রেসিপি।

 

উপকরণ: মিষ্টিযুক্ত নারকেল- ২ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক- অর্ধেক কৌটার বেশি, ঘি-১ টেবিল চামচ, আপনার পছন্দের খাবার রঙ।

 

প্রণালি: প্রথমে ঘি অল্প আঁচে গরম করে নিতে হবে। তারপর নারকেল দিয়ে এক মিনিট ভাজতে হবে। এবার কনডেন্সড মিল্ক ঢেলে দিয়ে মাঝারি চুলায় রান্না করতে হবে। যতক্ষণ নারকেল একসাথে ভাজা না হয়। ভাজা হয়ে গেলে ভাজা নারকেলকে তিন ভাগে ভাগ করে এর সাথে কয়েক ফোঁটা খাবার রং দিতে হবে। চাইলে রং নাও করতে পারেন। এখন হাতের সাহায্যে গোল গোল করে নারকেল গুড়ার (এই গুড়াটা বাজারে পাওয়া যায়) উপর গড়াতে হবে। আপনার কাছে মিষ্টিযুক্ত নারকেল না থাকে তাহলে কোড়ানো নারিকেল এ চিনি মিশিয়ে নিবেন তারপর এই সন্দেশ করবেন।

সুস্বাদু মুরগির টেংরি কাবাব

কাবাব খেতে ভালোবাসেন অনেকেই। রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঝটপট অর্ডারও দিয়ে বসেন প্রিয় এই খাবারটির। সেরকমই একটি খাবার হলো মুরগির টেংরি কাবাব। এই টেংরি কাবাব খুব সহজেই বাসায় বানানো যায়। রইলো রেসিপি।

 

উপকরণ: মুরগির রান ৪টি, কাবাবের মসলা-১ টেবিল-চামচের একটু কম, আদাবাটা-১/২ চা-চামচ, রসুনবাটা-১/২ চা-চামচ, পেয়াজ বাটা-১ চা চামচ, জিরার গুড়া-১/২ চা চামচ, গরম মসলার গুড়া-১/২ চা চামচ, নারিকেল বাটা- ১ চা-চামচ, কাজু বাদামবাটা- ১ চা-চামচ, গুঁড়ামরিচ- স্বাদমতো, লবণ- স্বাদমতো, হলুদের গুড়া-পরিমাণমতো, লেবুর রস- ২ চা-চামচ, টক দই- ৩ টেবিল-চামচ, তেল- পরিমাণমতো, কমলা খাবার- রং সামান্য (কালার না চাইলে নাও দিতে পারেন), কাঠ কয়লা এক টুকরা।

প্রণালি: প্রথমে মুরগির রানগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে । এরপর মাংসের মধ্যে একে একে পেঁয়াজ বাটা, আদা ও রসুন বাটা, লবণ, জিরার গুড়া, গরম মসলার গুড়া, মরিচের গুঁড়া, কাবাব মসলার গুঁড়া, টক দই, নারিকেল-বাটা, বাদাম-বাটা, লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে মেরিনেট করে রাখতে হবে। এই মেরিনেট করার মাংস তিন থেকে চার ঘণ্টার জন্য রাখতে হবে।

 

চাইলে সারারাত মেরিনেট করে রাখতে পারেন। এতে স্বাদ আরও ভালো হবে। সারারাত মেরিনেট করলে ফ্রিজে (ডিপে নয়) রেখে দিতে হবে। এবার নন স্টিক প্যানে পরিমাণ মতো তেল গরম করে মুরগির রানগুলো মসলাসহ দিয়ে হালকা আঁচে ঢেকে ভাজতে হবে। ভালো করে দুইপাশেই ভাজতে হবে। মাংস ভালো মতো সিদ্ধ ও মসলাগুলো মাখা মাখা হয়ে আসলে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর কয়লার টুকরাটি গ্যাসের চুলার উপর দিয়ে কিছুক্ষণ পুড়িয়ে নিতে হবে।

 

কয়লা পুড়ে লাল হয়ে আসলে মুরগির পাতিলের ভেতর এক টুকরা ফয়েল পেপার দিয়ে, তার উপর জ্বলন্ত কয়লা ও একটু তেল কয়লার উপর ছিটিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ঢাকনা খুলে কয়লা ও ফয়েল পেপার ফেলে দিতে হবে। কয়লার জন্য, কাবাবে সুন্দর একটা বার-বি-কিউ স্বাদ আসবে।

বেগুনের যত গুণ

বেগুন আমাদের সবার কাছেই পরিচিত একটি সবজি। সুস্বাদু এই সবজিটির রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। বেগুনে এক ধরনের এসিড রয়েছে, যা শরীরে প্রবেশকৃত রোগ জীবাণু, টিউমারের জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আঁশ-জাতীয় খাদ্য উপাদান। যা বদ হজম দূর করে। বেগুন আরো রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, শর্করা, চর্বি, আমিষ, আয়রন। বেগুন এর উদ্ভিজ্জ আমিষ শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করে।

 

বেগুন ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘ই’ এবং ‘কে’ (ক) সমৃদ্ধ সবজি। ভিটামিন ‘এ’ চোখের পুষ্টি জোগায়, চোখের যাবতীয় রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর ভিটামিন ‘সি’ ত্বক, চুল, নখকে করে মজবুত। দেহে রক্ত জমাট বাঁধার বিরুদ্ধে কাজ করে ভিটামিন ‘ই’ ও ‘কে’। এই ভিটামিন চারটি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে বহুগুণে কার্যকর। আরো বেগুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম, যা দাঁতকে করে মজবুত, দাঁতের মাড়িকে করে শক্তিশালী। নখের ভঙ্গুরতা রোধ করে। এককথায় শুষ্ক ত্বকের জন্য বেগুন খুবই উপকারী। কারণ বেগুন ত্বকের সিক্ততা প্রদান করে অনেকাংশে।

বেগুন ফাইবার, ভিটামিন বি ১, বি ৬, বি ৩, সি, কে তে ভরপুর থাকে। এছাড়াও এতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে বলে বেগুন হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী একটি খাবার। আরো হৃদপিণ্ডের জন্য অপরিহার্য ফ্ল্যাভোনয়েড যা বেগুনেই বিদ্যমান থাকে। তাই নিয়মিত বেগুন খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায় অনেক ক্ষেত্রে। কোলেস্টেরল হলো চর্বিজাতীয় উপাদান, যা রক্তে জমে যায়। যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকে, তারা কোনো রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই খেতে পারে বেগুন। কারণ বেগুনে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই।

বেগুনের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট জ্ঞানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং সর্বদা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী। ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছাড়াও এই উপাদানটি মস্তিষ্ককে রোগ ও টক্সিন থেকে মুক্ত থাকতেও সহায়ক এবং মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কে বেশি রক্ত প্রবাহিত হলে অক্সিজেনও বেশি পৌঁছে দিতে থাকে। যার ফলে স্মৃতি শক্তি ও বিশ্লেষণ মূলক চিন্তার উন্নতি ঘটে।

হজম শক্তির ক্ষেত্রে বেগুন অনেক সহায়ক একটি সবজি। কারণ ফাইবারে সমৃদ্ধ বেগুন প্ররিপাক প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী। এর ফাইবার শরীরের খাদ্য প্রক্রিয়াজাৎকরণে সাহায্য করে এবং পাকস্থলীতে পরিপাক রসের উৎপাদন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে থাকে।

 

বেগুনে উচ্চ মাত্রার ফাইবার ও কম দ্রবণীয় কার্বোহাইড্রেট থাকে বলে রক্তের গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রার সমস্যা আছে যাদের তাদের জন্য উপকারী খাবার। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে বেগুন।

 

বেগুনে আয়রনও রয়েছে অনেক মাত্রায়, যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রক্তশূন্যতার রোগীরাও খেতে পারে এই সবজি। এতে চিনির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই ডায়াবেটিসের রোগী, হৃদরোগী ও অধিক ওজন সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিশ্চিন্তে খেতে পারে বেগুনের তরকারিটি।

বেগুনে রয়েছে রিব্লোফ্ল্যাভিন নামক উপাদান। এই উপাদান জ্বর হওয়ার পরে মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া জ্বর জ্বর ভাব দূর করতে সাহায্য করে থাকে।



Go Top