ভোর ৫:১৯, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের করা পাঁচ মামলার মধ্যে একটি করে মামলায় দিলদার আহমেদসহ আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। বাকি দুই মামলায় আসামির জামিন প্রশ্নে হাই কোর্টের শুনানি এক মাসের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে জারি করা রুলের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ  বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। এর ফলে গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের মুক্তির পথ খুললেও বনানীর ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত আহমেদের বাবা দিলদারকে দুই মামলায় আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

আপন মালিকদের পক্ষে হাই কোর্টে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, পাঁচটি মামলার মধ্যে গুলশান থানায় দুটি মামলা করা হয়েছিল গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে। তাদের হাই কোর্ট জামিন দিয়েছে।  ফলে এ দুজনের মুক্তিতে বাধা নেই। আর আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রমনা থানার মামলায় হাই কোর্ট তাকে জামিন দিলেও বাকি দুই মামলায় জামিন শুনানি এক মাসের জন্য মুলতবি করায় আপাতত তার মুক্তি মিলছে না। আপন মালিক তিন ভাইকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে যাবে বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ জানান। বনানীর একটি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নামে ডেকে নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গত মে মাসে গ্রেফতার হন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের ছেলে সাফাত আহমেদ।

বর্তমানে কারাগারে থাকা সাফাতসহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই আপন জুয়েলার্সের ‘অবৈধ লেনদেন’ এর খোঁজে তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দা। মে মাসের শেষ দিকে আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শোরুম থেকে ১৫ দশমিক ৩ মণ সোনা এবং ৭ হাজার ৩৬৯ টি হীরার অলঙ্কার জব্দ করে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে গত ১২ আগস্ট আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়। দুই মামলায় গত ২২ আগস্ট তিন ভাই হাই কোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। এরপর বিচারিক আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরদিন আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠায় আদালত। এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে পাঁচ মামলায় জামিন আবেদন করেন আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২২ নভেম্বর আপন জুয়েলার্সের মালিকদের কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছিল হাই কোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি বৃহস্পতিবার আদালতে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্ভুদ্ধ হয় আকায়েদ

বাংলাদেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজে নিজেই জঙ্গিবাদে উদ্ভুদ্ধ হয়েছে নিউ ইয়র্কে বোমা হামলার অভিযোগে গ্রেফতার চট্টগ্রাম সন্দ্বীপের আকায়েদ উল্লাহ (২৭)। বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আকায়েদ নিউ ইয়র্কেই জঙ্গিবাদে ‘ হোম গ্রোন’ হয়েছে। বাংলাদেশে তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে দেশে সে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি আকায়েদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলফ র‌্যাডিকালাইজড হয়েছে। আমরা তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আকায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল।’

কাজী নাফিস নামে একজন বাংলাদেশি আমেরিকায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় আটক হয়েছিল সেই তথ্য টেনে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজী নাফিসের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য ছিল, সে যেসব মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করতো তারা হিজবুত তাহেরীর ও আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে আকাইদের সম্পর্কে বাংলাদেশে এমন কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।’ আকাইদ কিভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সে বিকারগ্রস্থ ছিলো কি না, বা কারও দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে কি না সেটি ওই দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

আমরা তার স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিলাম, তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্তের প্রয়োজনে আবারও তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।’ তিনি জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আকাইদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই জানিয়েছেন, বিয়ের পর আকাইদ তাকে জঙ্গি নেতা জসিমউদ্দিন রহমানীর বিভিন্ন বই পড়তে বলতো। রহমানীর অডিও রেকর্ড শুনাতো। কিন্তু স্ত্রী রহমানির বই পড়তেন না।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। কারণ আমেরিকায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী আছে, যারা সেখানে নানা ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করছে, তাদের উপর যাতে এ ঘটনার কোনো প্রভাব না পড়ে সেজন্য আমরা তদন্ত করছি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে। যদি তারা আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করে সহায়তা চায় তবে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা জেনেছি আকাইদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে।  সেখানে থেকে তারা ঢাকায় এসে বসতি স্থাপন করে। আকাইদের বাবা সানাউল্লাহ অনেক আগে তার মামার সঙ্গে আমেরিকায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ব্যবসা করেন। সে সময় আকাইদ ঢাকার সিটি কলেজে বিবিএ পড়তো। পরে ২০১১ সালে সানাউল্লাহ তার পুরো পরিবারকে আমেরিকায় নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, আকায়েদ উল্লাহ গত বছরের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলায় বিয়ে করেন। তার শ্বশুর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের একটি দোকানে কাজ করেন। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ও সন্তানের টানেই আকাইদ দেশে এসেছিল বলে জানায় পুলিশ।

স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে যা জেনেছে পুলিশ : ঢাকায় আকায়েদের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ের পর আকায়েদ তার স্ত্রীকেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বাধ্য করে। এমনকি স্বামীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিয়ের পর থেকে আকায়েদের স্ত্রী হিজাব পরে চলাফেরা করতেন। এটিকে সাধারণ ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলার মতোই মনে করেছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। আকায়েদের স্ত্রী এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সিটিটিসির আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালে আকায়েদ তার পুরো পরিবারকে নিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে যায়। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখনই তাদের মধ্যে সালাফিজম-এর রীতি মেনে চলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। সারাবিশ্বে সক্রিয় জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলোর বেশিরভাগই সালাফি মতবাদ অনুসরণ করে থাকে। বিয়ের সময় আকায়েদের দাড়ি ছিল। তখন থেকেই তাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। বাইরে তেমন যেত না।

সারাদিন বাড়িতেই থাকত। অন্যদের নিয়মিত নামাজ পড়তে অনুরোধ করত। আকায়েদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই সিটিটিসির কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, প্রতিদিনই সকালে তিনি ফোন করে আকায়েদকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন। আকায়েদ ফজরের নামাজ শেষ করে কাজে বেরিয়ে যেতো। সোমবারও তিনি আকায়েদকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন। তারপর তাদের মধ্যে বেশ কয়েক মিনিট কথাবার্তাও হয়। এসময় আকায়েদ তার এবং সন্তানের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে ফোন রেখে দেয়। জুঁই আরও জানান, আকায়েদ আমেরিকাতে গেলেও শেষদিকে কিছুটা আমেরিকা বিদ্বেষী হয়ে ওঠেছিল। তার সঙ্গে ইরাক-সিরিয়ায় মুসলমানদের নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়েও কথাবার্তা বলতো। তাকেও বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারের লেকচার শুনতে বলতো। ভিডিও বার্তাগুলোর লিংক পাঠাতো। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি ধীরে ধীরে তার স্বামী ধর্মীয় উগ্রবাদীদের খাতায় নাম লিখিয়ে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করে চলেছেন।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ধানমন্ডির কাকলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং বাংলাদেশ রাইফেলস স্কুল (মুন্সী আব্দুর রউফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এইচএসসি পাস করার পর আকায়েদ ঢাকার সিটি কলেজে বিবিএতে ভর্তি হন। তৃতীয় বর্ষে পড়া অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। আকায়েদের এক মামা দীর্ঘদিন আমেরিকায় বাস করতেন। তিনি প্রথমে আকায়েদের বড় ভাই আহসান উল্লাহকে আমেরিকায় নিয়ে যান। আহসান উল্লাহ সেখানে প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা শেষে চাকরি শুরু করেন। আহসানই ২০১১ সালে তার বাবা-মা, দুই ভাই ও দুই বোনকে তার কাছে নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগে চাকরি করলেও আহসান উল্লাহ সেখানে একটি ইলেকট্রনিক কোম্পানি চালু করেন। এই বছরই ভাইয়ের সেই প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করে আকায়েদ। আকায়েদের স্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম দিকে আকায়েদ ট্যাক্সি চালাতো। তারপর একজন প্রবাসী বাঙালির দোকানে কাজ করতো। নিউ ইয়র্কে গিয়ে লেখাপড়ায় বিচ্ছেদ ঘটলেও ইংরেজির ওপর সে একটি কোর্স করে বলেও সিটিটিসির কর্মকর্তাদের জানান তিনি।


হামলার আগে ফেইসবুকে ট্রাম্পকে হুমকি : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুয়ায়ী, ২৭ বছর বয়সী ওই তরুণের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের আদালতে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা, জনসমাগমস্থলে বোমা হামলা, ধ্বংসাত্মক ডিভাইস ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ দায়ের করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা। ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ আগে ফেইসবুকে এক পোস্ট দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আকায়েদ। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে বাকি জীবন কারাগারেই কাটতে হতে পারে আকায়েদকে। আহত আকায়েদকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ম্যানহাটনের বেলভিউ হাসপাতালে। সেখানে তার বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেমস ও’নিল সেখানকার সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে সে ওই ঘটনা ঘটায়। অক্টোবর নিউ ইয়র্কের রাস্তায় পথচারীদের ওপর ট্রাক উঠিয়ে আটজন হত্যার ঘটনায় যে উজবেক অভিবাসীকে দায়ী করা হয়, আকায়েদও তার মত জিহাদি কোনো গোষ্ঠীর প্রভাবে একাকী হামলা চালানোর পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করেন নিউ ইয়র্কের মেয়র অ্যান্ড্রু কুমো। তিনি বলেন, ‘তারা দুজনেই ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়েছে। আকায়েদ ওইভাবেই বোমা বানানো শিখেছে।’

 

বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট নিয়ে আদেশ ২ জানুয়ারি

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধির বহু আলোচিত গেজেটটি প্রকাশ হলেও এক বিচারকের অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় তা জমা পড়েনি।  

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ওই গেজেট গত সোমবার প্রকাশ করে সরকার, যা বুধবার এফিডেভিট আকারে বুধবার আপিল বিভাগে জমা দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপক্ষের।

কিন্তু বুধবার সকালে আদালত বসার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বলেন, বেঞ্চের পাঁচ বিচারকের মধ্যে একজন ব্যক্তিগত কারণে আসতে পারেননি।

এই শুনানি যেহেতু ফুল বেঞ্চে হয়ে আসছে, সেহেতু বুধবার আর হচ্ছে না জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের পর ২ জানুয়ারি আদেশের জন্য পরবর্তী দিন ঠিক করে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে সোমবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার আপত্তিতে তা বহু দিন ঝুলে ছিল।

এই শৃঙ্খলা বিধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের কাছ থেকে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এই বিধিমালায় সব ‘ঠিকঠাক’ বলে মনে করলেও সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ এর ভেতরে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু’ দেখতে পাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের অন্যতম নেতা আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, এই গেজেটের মধ্যে দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন করে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাকেই আপাতত বড় পাওয়া বলছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।

মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়।

ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত বছর ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ।

এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে।

আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এর আগে শৃঙ্খলা বিধিমালার যে খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছিল, গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সিনহা।

শৃঙ্খলাবিধির সেই খসড়া নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর ছুটি শেষে ১০ নভেম্বর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

এরপর গত ১৬ নভেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার সঙ্গে বৈঠক করে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ওই খসড়া নিয়ে মতপার্থক্য দূর হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় সোমবার গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

 

ঢাকায় আকায়েদের স্ত্রী, শ্বশুর শ্বাশুড়ি আটক, জিজ্ঞাসাবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে আটক চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ মুসাপুরের আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই (২৪), শ্বশুর জুলফিকার হায়দার এবং শাশুড়ি মাহফুজা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। মঙ্গলবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে রাজধানীর জিগাতলার মনেশ্বর রোডের একটি বাসা থেকে তাদের সিটিটিসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মনেশ্বর রোডের বাড়িটিতে ছয় মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন আকায়েদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, আকায়েদ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে খবর নেওয়া হয়েছে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আকায়েদ সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে চায়নি। সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আকায়েদের  স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছি। তাদের কাছ থেকে আকায়েদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ সূত্র জানায়, গত বছর জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁইয়ের সঙ্গে আকায়েদের বিয়ে হয়। গত ১০ জুন তাদের ঘরে একটি সন্তান জন্ম  নেয়। আকায়েদের পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, সন্তান হওয়ার খবর পেয়ে আকায়েদ গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে এসেছিল। এক মাস অবস্থানের পর ২২ অক্টোবর সে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যায়।

এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে আকায়েদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসে জুঁইকে বিয়ে করে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র আকাইদ উল্লাহ সম্পর্কে কিছু জানতে চায়নি। তবে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে আকাইদের সম্পর্কে খবর নিয়েছে। তিনি জানা, পুলিশ আকায়েদ সম্পর্কে খবর নিয়েছে। আকায়েদের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মুসাপুর ইউনিয়নে। তারা চার-ভাই বোন। দু’বছর আগে তার বাবা সানাউল্লাহ নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেন। আকায়েদের এক ভাই, এক বোন এবং মা রয়েছেন নিউইয়র্কে। তার বাবা সানাউল্লাহ ঢাকার হাজারীবাগে বসবাস করতেন। চামড়ার ব্যবসা ছিল তার। আকায়েদ উল্লাহ হাজারীবাগেই বড় হয়েছেন। সন্দ্বীপ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, আকাইদের চাচাতো ভাই সোহরাব হোসেন ও তার খালু তুসান কোম্পানিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিদেশী গণমাধ্যমের খবর অনুয়ায়ী, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসে আকায়েদ। পরে আকায়েদ স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে। সেখানে ড্রাইভিংয়ের কাজ করতো সে। আকায়েদ সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালালেও ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি একটি আবাসন কোম্পানিতে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আকায়েদ তার দেহের সঙ্গে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আকায়েদ ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তাদের দাবি। উল্লেখ্য, সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের কাছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটে। এর সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহ নামে এক বাংলাদেশি যুবকের সংশ্লিষ্টতা পায় নিউ ইয়র্ক পুলিশ। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত আকায়েদ উল্লাহকে এখন  বেলেভু হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণে তার হাত ও পেটের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। বিস্ফোরণে আরও চার ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।

 

 

শিশু মুস্তাসিম হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি বহাল

প্রায় ১৬ বছর আগে জামালপুরের সাত বছরের শিশু মুস্তাসিম বিল্লাহ হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে বাকি দু’জনকে ফাঁসির দণ্ড থেকে রেহাই দিয়ে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারুফা আক্তার শিউলি। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অমূল্য কুমার সরকার।
 
আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফজুলল হক খান ফরিদ ও শফিকুজ্জামান। পারিবারিক সম্পত্তির লোভে ২০০১ সালের ৩১ মে রাতে জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার  বাসিন্দা আমেরিকা প্রবাসী লুৎফর রহমানের ৭ বছরের শিশুপুত্র মুস্তাসিম বিল্লাহকে চাচাতো ভাই তোফায়েল আহমেদ হীরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে জামালপুর সদরের নান্দিনা খড়খড়িয়া এলাকায় নিয়ে দণ্ডপ্রাপ্তরা শিশু মুস্তাসিম বিল্লাহকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে একটি নির্মাণাধীন ভবনের মেঝেতে পুতে রাখে।
 
এ ঘটনায় পুলিশ তোফায়েল আহমেদ হীরাকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপহরণের ৭৯ দিন পর শিশু মুস্তাসিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় শিশু মুস্তাসিমের খালু আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে তোফায়েল আহমেদ হীরাসহ ৬ জনকে আসামি করে জামালপুর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় শিশু মুস্তাসিমের খালু আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে তোফায়েল আহমেদ হীরাসহ ৬ জনকে আসামি করে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
 
এ মামলায় ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহেদুজ্জামান শিকদার আসামি তোফায়েল আহমেদ হীরা, সোহেল রানা শিপন, আনোয়ার হোসেন, লোকমান আলী, আয়নাল হকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেন।
 
এ রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্ট লোকমান ও আয়নালকে খালাস দিয়ে বাকিদের দণ্ড বহাল রাখেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল।
 
দণ্ডপ্রাপ্ত তোফায়েল আহমেদ হীরা, সোহেল রানা শিপন, আনোয়ার হোসেন এখনও পলাতক। এদিকে ২০০৩ সালে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শিশু মুস্তাসিম বিল্লাহ অপহরণ মামলায় তোফায়েল আহমেদ হীরা, সোহেল রানা ও আনোয়ার হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এ মামলার আপিলও হত্যা মামলার আপিলের শুনানি একসঙ্গে হয়।

এ মামলায় হীরার দণ্ড বহাল রেখে বাকি দু’জনকে খালাস দেন হাইকোর্ট।

বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট আগামী সপ্তাহে আইনমন্ত্রী

ঢাবি প্রতিনিধি: অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালার গেজেট আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলা বিধিটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) চলে গেছে বলে আমি জানি। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে এ গেজেট প্রকাশ হবে। বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য নতুন এই সময় জানানো হল।

 সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর এক আদেশে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সরকারের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এর আগে শৃঙ্খলা বিধিমালার যে খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছিল, গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সিনহা। শৃঙ্খলাবিধির সেই খসড়া নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর ছুটি শেষে ১০ নভেম্বর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

 

রিজলের বিরুদ্ধে মামলার আলোচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

করতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ভূমিকার জন্য ফিলিপিন্সের রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফটের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে খবর দিয়েছে রয়টার্স।  এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। বাংলাদেশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই মামলায় যুক্ত হওয়ার কোনো ইংগিতও তাদের দিক থেকে পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়।

 এর মধ্যে পাঁচটি মেসেজে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপিন্সের আরসিবিসিতে। আর আরেক আদেশে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয় ২০ লাখ ডলার। শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া শেষ পর্যন্ত আটকানো গেলেও ফিলিপিন্সের ব্যাংকে যাওয়া অর্থের বেশিরভাগটাই স্থানীয় মুদ্রায় বদলে জুয়ার টেবিল ঘুরে চলে যায় নাগালের বাইরে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাইবার চুরির এই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে ঘটনার এক মাস পর, ফিলিপিন্সের একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে। বিষয়টি চেপে রাখায় সমালোচনার মুখে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আতিউর রহমান; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে আনা হয় বড় ধরনের রদবদল। ওই সময়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মামলা করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি গত ২২ মাসেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। পুরো বিশ্বে আলোচিত এই সাইবার চুরির পেছনে কারা ছিল- তা জানা যায়নি এখনও। ফিলিপিন্সের রিজল ব্যাংকের একটি শাখা হয়ে বেরিয়ে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এক ক্যাসিনো মালিকের ফেরত দেওয়া দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিয়েছে ফিলিপিন্স। এ ঘটনায় রিজল ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার জরিমানাও করেছে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 ওই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলেও বাংলাদেশকে বাকি অর্থ ফেরতে কোনো দায় নিতে নারাজ ব্যাংকটি। রয়টার্স লিখেছে, গতমাসে এক কনফারেন্স কলে রিজলের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা নিয়ে নিউ ইয়র্ক ফেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ব্যাংকিং লেনদেনের আন্তর্জাতিক মেসেজিং নেটওয়ার্ক সুইফটের দুজন প্রতিনিধিও ছিলেন ওই আলোচনায়। ওই আলোচনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা রয়েছে এমন তিন বাংলাদেশি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, রিজলের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিউ ইয়র্ক ফেডে একটি প্রস্তাব পাঠাবে বলে সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে।

 প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ ওই দেওয়ানি মামলাটি করা হবে নিউ ইয়র্কে। বাংলাদেশ আশা করছে, ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফট কর্তৃপক্ষও সেখানে বাদী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা নিউ ইয়র্কে পাঠানো হবে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তথ্যদাতাদের একজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা রয়টার্সকে বলেছেন, ওই রকম কোনো মামলার বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। তবে রিজার্ভ চুরির পুরো অর্থ ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক ফেড বা সুইফটের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিউ ইয়র্ক ফেডের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত একজনের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংককে আইনি পরামর্শ দিচ্ছেন- এরকম একজন ওই কনফারেন্স কলে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি তোলেন।  বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো লিখিত প্রস্তাব পাঠালে তা বিবেচনা করে দেখা হবে বলে ওই বৈঠকে আশ্বাস দেন নিউ ইয়র্ক ফেডের কর্মকর্তারা। তবে ওই মামলার বাদী হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সম্মতি তারা দেননি বা এ বিষয়ে পরে আর কোনো কাজও এগোয়নি বলে নিউ ইয়র্কের ওই তথ্যদাতা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

 

বেসিকের বাচ্চুকে সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে দ্বিতীয় দিন প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার বিকাল পৌনে ৫টায় দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিল জাতীয় পার্টির এই সাবেক এমপিকে। তবে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নেরই জবাব দেননি তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিন সোমবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিজেকে তিনি দোষী বলে মনে করেন না।

আব্দুল হাই বাচ্চু দুদকের তলবে হাজির হলে সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কমিশনের পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাবাসাদ শেষে দুদকের নতুন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে নেমে এলে বাচ্চুকে ঘিরে ধরে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন সাংবাদিকরা। এক পর্যায়ে তিনি ভিড় ঠেলে মূল ফটক দিয়ে বেরিয়ে যান। তখনও কয়েকজন সাংবাদিককে বাচ্চুর পেছনে ছুটতে দেখা যায়। বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান তখন মোবাইল ফোনে গাড়ি চালককে তাগাদা দিচ্ছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিক এ সময় বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে প্রশ্ন করেন বাচ্চুকে। তবে কোনো উত্তর তারা পাননি। গাড়ির অপেক্ষায় মোবাইল চাপতে চাপতে বাচ্চুকে বলতে শোনা যায়, ‘কী বিপদেই না পড়লাম!’ দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে দুপুরে খাবারের প্রস্তাব দিলে বাচ্চু শুধু চা-বিস্কুট খান। দুপুরে কিছুটা অসুস্থ বোধ করলে দুদকের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক জ্যোতির্ময় চৌধুরী তাকে পরীক্ষা করে দেখেন। পরে চিকিৎসক জানান, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়া তার তেমন কোনো সমস্যা নেই।

কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, আব্দুল হাই বাচ্চুকে ৫৬টি মামলার মধ্যে ১৫টি মামলার বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুই তদন্ত কর্মকর্তা। অন্য মামলায় আবারও তাকে জিজ্ঞাসাদ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রনব। বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর সম্প্রতি ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক। বাচ্চুর আগে ব্যাংকের সাবেক ১০ পরিচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরা হলেন- ব্যাংকটির পরিচালনা পর্যদের সাবেক সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, আনিস আহমদ, কামরুন নাহার আহমেদ, অধ্যাপক কাজী আকতার হোসাইন, সাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, একেএম কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, শ্যাম সুন্দর শিকদার ও একেএম রেজাউর রহমান।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক। ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় গত বছর রাজাধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক।

আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত। তবে আসামির তালিকায় বাচ্চু বা ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের কেউ না থাকায় দুদকের ওই তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে দুদকের বক্তব্য ছিল, ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাচ্চুর সংশি¬ষ্টতা তারা পায়নি। তাই তার নাম আসামির তালিকায় রাখা হয়নি। কিন্তু গতবছর ফেব্রুয়ারিতে সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের নিয়োগ করা নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে অনিয়মিত ঋণ মঞ্জুর, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর সংশি¬ষ্টতা ছিল। আর চলতি বছর অগাস্টে এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদকে আসামি না করায় উষ্মা প্রকাশ করে। ব্যক্তি যেই হোক না কেন- এ ধরনের মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ যেন না হয় সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সে সময় সতর্ক করে আদালত।

এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে দুদকের একজন পরিচালক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও তদন্তের প্রয়োজনে বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন।

সচিবালয় এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর আগুন, বিএনপির ১৫ জন আটক

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় সচিবালয় এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগসহ পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় কদমফোয়ারা এলাকা থেকে বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলামমহ ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।  মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, খালেদা জিয়ার জন্য জড়ো হওয়া বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, পুলিশ বিনা উস্কানিতে তাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছিল।

জিয়া এতিমখানা এবং দাতব্য ট্রাস্টে দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল। তার হাজিরাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকশ নেতা-কর্মী নাজিমউদ্দিন সড়কের আদালত এলাকায় জড়ো হয়েছিল। ফেরার সময় তারা বেগম জিয়ার গাড়ির পিছনে পিছনে মির্ছিল দিতে দিতে আসছিল। মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে আগাতে থাকলে পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে একদল বঙ্গবাজারের দিকে ও অপরদল উল্টো ঘুরে জিরো পয়েন্টের দিকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার পথে তারা ‘ভাঙ গাড়ি’ বলে চিৎকার করতে করতে পথ চলতি ও রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা সরকারি বেসরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে।

এসব গাড়ির সামনের ও পেছনের কাচগুলো ভাঙচুর করেছে তারা। এছাড়াও বঙ্গবাজার এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্ট মেহেদির মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। প্রত্যক্ষদর্শী সিলেটের মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমানের গাড়িচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে স্যার আজ ১টায় সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। আমি গাড়ি নিয়ে নিচে অপেক্ষা করছিলাম। বেলা ৩টার দিকে এখানে ৫ শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে যায় এবং বৃষ্টির মতো ইট নিক্ষেপ করতে থাকে।’ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপসচিব মো. রোকন উদ্দিনের গাড়িচালক মো. শাহজালাল বলেন, ‘শিক্ষা ভবনের ওইদিক থেকে ৫শতাধিক ছেলেপেলে এসে হট্টগোল-গাড়ি ভাংচুর শুরু করে। আমি গাড়ির ভেতরে ছিলাম।

পরিস্থিতি দেখে দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে যাই।’ ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (রমনা) মারুফ হোসেন সরদার জানান,  ‘দুপুরে সচিবালয়ের সামনে দর্বৃত্তরা কিছু গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এর মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহের মামলার বিচারক হাই কোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলামের প্রটেকশনের গাড়ি ও পুলিশের গাড়িও রয়েছে। এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।’ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত পরিচালক নাসিরুল আহম্মেদের গাড়িচালক সালাম বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা সামনে যেসব গাড়ি পেয়েছে প্রায় প্রতিটিরই কাচ ভেঙে দিয়ে গেছে। এমনকি রাস্তায় চলন্ত গাড়ির পেছনেও ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মেরেছে। এ সময় অন্তত শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’ পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী সরকার আজমের গাড়িচালক আমির হোসেন বলেন, ‘গাড়িটি পার্ক করে খেতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ শুনি আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। দৌড়ে গাড়ির কাছে এসে দেখি, দুর্বৃত্তরা গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে দিয়ে গেছে।’

জয় বাংলা কেন জাতীয় স্লোগান নয়: হাই কোর্ট

জয় বাংলা স্লোগানকে কেন ‘জাতীয় স্লোগান ও মূলমন্ত্র’ ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ  সোমবার এই রুল জারি করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব এবং শিক্ষা সচিবকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এর জবাব দিতে বলেছে হাই কোর্ট। এই রিট আবেদনটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বশির আহমেদ; আদালতে তিনি নিজেই এ বিষয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

বশির আহমেদ পরে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই সমস্ত জাতি এক হয়েছিল। এই স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়েই বীর বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে। তিনি বলেন, জয় বাংলা কোনো দলের স্লোগান নয়, কোনো ব্যক্তির শ্লোগান নয়, এটা বাঙালির জাতীয় ঐক্য ও প্রেরণার প্রতীক। পৃথিবীর ৬০টি দেশে জাতীয় স্লোগান আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে আমরা আমাদের চেতনার সেই জয় বাংলাকে স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছরেও জাতীয়  স্লোগান হিসেবে পাইনি। আগামী রোববার বিষয়টি আবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে বলে জানান এ আইনজীবী।

 

সড়কে তারেক মাসুদের মৃত্যু ৪ কোটি ৬১ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের রায়

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। ক্ষতিপূরণ চেয়ে তারেক মাসুদের স্ত্রীর করা এক মামলায় বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ  রোববার এই রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, চালক, বাস মালিক ও বীমা কোম্পানিকে তিন মাসের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

২০১১ সালের ১৩ অগাস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাস আরোহী তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মুক্তির গান ও মাটির ময়না চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ তখন তার নতুন ছবি ‘কাগজের ফুল’ এরশুটিং শুরুর কাজ করছিলেন। সাংবাদিকতার সাবেক শিক্ষক মিশুক মুনীর তখন টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কাগজের ফুল’ এর লোকেশন দেখতেই তারা মানিকগঞ্জে গিয়েছিলেন। তারেক মাসুদের প্রডাকশনার ওয়াসিম ও কর্মী জামাল এবং মাইক্রোবাসের চালক মুস্তাফিজও নিহত হন ওই দুর্ঘটনায়। আহত হন ওই মাইক্রোবাসে থাকা তারেকের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চিত্রশিল্পী ঢালী আল-মামুন ও তার স্ত্রী দিলারা বেগম জলি এবং তারেকের প্রোডাকশন ইউনিটের সহকারী সাইদুল ইসলামও।

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তিসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ওই ঘটনা পুরো দেশকে নাড়া দিয়ে যায়। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মানিকগঞ্জের আদালত চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের ওই বাসের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও সেখানে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আসেনি। দুর্ঘটনার দেড় বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মোটরযান অর্ডিনেন্সে ১২৮ ধারায় বাসমালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানিকগঞ্জে মামলা করে। পরে বাদীপক্ষের আবেদনে জনস্বার্থে মামলা দুটি হাই কোর্টে স্থানান্তর করা হয়।

২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাই কোর্টে তারেক মাসুদের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে প্রথম দিন সাক্ষ্য দেন তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। বাদীপক্ষে এ মামলায় মোট নয় কোটি ৯৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৮ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, তাদের ছেলে নিশাদ মাসুদ এবং তারেকের মা নুরুন্নাহার ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা পাবেন। এই টাকার মধ্যে বাসের চালক দেবে ৩০ লাখ টাকা; বীমা কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স কম্পানি দেকে ৮০ হাজার টাকা, আর বাকি চার কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ টাকা দেবে তিন বাস মালিক। চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার। বীমা কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স কম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে ছিল ব্যারিস্টার সারা হোসেন; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান।

বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এ মামলার রায় ঘোষণা শুরু করে গত বুধবার সকালে। বুহস্পতিবার ও রোববার দুপুর পর্যন্ত রায় পড়া চলে এবং এরপর আদালত ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ঘটনা বিরল। এর আগে ১৯৮৯ সালে মিনিট্রাকের চাপায় দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০১০ সালে ২ কোটি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিল হাই কোর্ট। তবে এরকম উদাহরণ খুব বেশি নেই। মানিকগঞ্জের সেই দুর্ঘটনায় মিশুক মনিরের স্ত্রী মঞ্জুলী কাজী ও ছেলে সুহৃদ মুনীরের  করা মামলাটি আগামী ৪ ফেব্রূয়ারি হাই কোর্টে শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

 

চলতি মাসেই হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিট : পুলিশ

এ মাসেই হলি আর্টিজান মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মনিরুল ইসলাম এ কথা বলেন। তিনি বলেন, হলি আর্টিজান মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ আসামি ধরা পড়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মনিরুল ইসলাম জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত হাদিসুর রহমান সাগর নামের এক আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। হত্যাকান্ডে অর্থায়নকারী আকরাম হোসেন নামে একজনকে এখনো ধরা যায়নি।

তিনি বলেন, গত ১৫ আগস্ট পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে পুলিশের অভিযানে সাইফুল ইসলাম নামে যে ব্যক্তি নিহত হন, তার পেছনেও আকরাম হোসেনের অর্থায়ন ছিল। হলি আর্টিজান হামলায় যুক্ত বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে অতি সম্প্রতি ডিএনএ টেস্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত বছরের ১ জুলাই রাতে পাঁচ জঙ্গি গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়। এ হামলায় নিহত হন দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক। জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন পুলিশের দুজন কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের ১২ ঘণ্টার জিম্মি সংকটের অবসান হয়। ওই অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়।

 

যাত্রাবাড়ীতে আনসারুল্লাহ’র দুই সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। তারা হচ্ছে- আবদুর রাজ্জাক ওরফে মাসুম (২৮) ও আবদুল মোমিন ওরফে সোহেল (৩২)। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ী রেললাইন এলাকা থেকে বিস্ফোরক, বোমা  তৈরির সরঞ্জাম, জিহাদি বই ও দাওয়াতপত্রসহ তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে র‌্যাবের দাবি। র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, গ্রেফতার দুজন নারায়ণগঞ্জের হাজীপাড়ায় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব।

 

পিলখানা বিদ্রোহে গোয়েন্দা ব্যর্থতার তদন্ত প্রয়োজন : হাই কোর্ট

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহের আগে গোয়েন্দারা কেন সেই সম্ভাবনার তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছিল তা তদন্ত করে দেখার সুপারিশ এসেছে পিলখানা হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায়ে। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার রায় ঘোষণার দ্বিতীয় দিনে তিন সদস্যের বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার তার পর্যবেক্ষণে কয়েক দফা সুপারিশ ও মতামত তুলে ধরেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পরের মাসেই বিডিআরে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ঢাকার পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহী জওয়ানদের হাতে মারা যান ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। রক্তাক্ত সেই বিদ্রোহে বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে জওয়ানদের বিদ্রোহ। এ মামলার ৮৫০ আসামির মধ্যে জজ আদালতে ১৫২ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জজ আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক ‘মোটিভ’ ছিল। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ‘মোটিভও’ থাকতে পারে। বিদ্রোহের তথ্য আগে জানতে না পারার ঘটনায় ‘গোয়েন্দা দুর্বলতা’ ছিল বলেও মনে করেছে জজ আদালত। ওই রায়ে বিচারক বলেছিলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির ‘অপারেশন ডালভাত’ কর্মসূচিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে জড়ানো ঠিক হয়নি। তাতে বাহিনীর ‘ঐতিহ্য’ নষ্ট হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকরের অনুমতি (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানি শেষে হাই কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার।

তার মতামত ও সুপারিশগুলো হল-
বিডিআরের ডালভাত কর্মসূচির মত উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নেওয়া উচিৎ নয়। যে কোনো বাহিনীতে অধস্তনদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতনদের পেশাদারিত্বমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা উচিৎ। বিজিবির কাঠামোতে বাহিনীর আইন অনুযায়ী সে সম্পর্ক প্রতিপালন করা প্রয়োজন। সেজন্য সময় সময় মতবিনিময় করা প্রয়োজন। পিলখানায় বিদ্রোহের আগে অধস্তনদের কিছু দাবিদাওয়া বিডিআরের ঊর্ধ্বতনদের কাছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। এ ধরনের আমলাতান্ত্রিকতা দূর করতে হবে। যদি কোনো প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ থেকে থাকে, তা প্রশমন করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বাহিনীতে কারও কোনো পাওনা যদি থেকে থাকে, তাও দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। বিডিআরের নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী ছিল। পিলখানায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল সংরক্ষিত। গোয়েন্দা বাহিনী বিদ্রোহের আগে কোনো তথ্য দিতে কেন ব্যর্থ হয়েছে? কেন তারা নিশ্চুপ ছিল? এটা কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে দেখতে হবে। এর আগে রোববার সকালে রায় শুরুর পর বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী তার হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণের সংক্ষিপ্তসার পড়ে শোনান। সেখানে তিনি বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে যে কোনো মূল্যে তাদের দাবি আদায় করা। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করে এই সুশৃঙ্খল বাহিনীকে অকার্যকর করা। সেনাবাহিনী-বিডিআরকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীলতায় নিপতিত করা।

 এমনকি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত করা।’ বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শওকত হোসেন আগেই জানিয়েছিলেন, পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবে দিলেও আসামিদের সাজার বিষয়ে তিন বিচারক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। আর সোমবার রায়ের আদেশ অংশ ঘোষণা করার আগে তিনি বলেন, কেবল একটি বিষয় ছাড়া বাকি সব পর্যবেক্ষণেও তারা একমত হয়েছেন। সেগুলো বেঞ্চের অভিমত হিসেবে গণ্য হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী পারভীন জবার জবানবন্দি থেকে উদ্ধৃত করে সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণে বিচারপতি শওকত হোসেন বলেন, ‘ওই সাক্ষী বলেছেন, ‘এরা (বিদ্রোহী জওয়ান) মানুষ ছিল না। এদের আচরণ ছিল পশুর মত।  তারা যে সম্মিলিতভাবে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা সাক্ষীর জবানবন্দিতেই ফুটে উঠেছে।  এটা একটা দিক।’ আবার ১৯৮১ সালে রংপুর ডাক বাংলোয় নিজের দেখা একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই জটিলতার আরেকটি দিক সম্পর্কে বলেন বিচারপতি শওকত  হোসেন। ‘সেখানে আমি দেখেছি, একজন সৈনিক একজন সেনা কর্মকর্তার জুতা পরিষ্কার করে মোজা পরিয়ে দিচ্ছেন। কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মধ্যে সার্ভিসের এই মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন।  এই আচরণ মানবিক ও প্রশাসনবান্ধব হতে হবে। ‘মনে রাখতে হবে, সৈনিকরা অন্য কোনো দেশের মানুষ না, এ দেশেররই সন্তান। কেবল বাহিনীতে নয়, সব ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঔপনিবেশিক মানসিকতার আচরণ বদলাতে হবে।’

 

১৩৯ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল

পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। জজ আদালতে মৃত্যুদন্ডের আদেশ পাওয়া ১৫২ জনের মধ্যে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং চারজনকে হাই কোর্ট খালাস দিয়েছে। সর্বোচ্চ সাজার আদেশের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

জজ আদালতে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে; আর হাই কোর্টে খালাস পেয়েছেন ১২ জন। জজ আদালতে খালাস পাওয়া যে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল, তাদের মধ্যে ৩১ জনকে হাই কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে। এছাড়া চারজনকে সাত বছর করে কারাদন্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়েছে। এ মামলার সাড়ে আটশ আসামির মধ্যে আরও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছিল জজ আদালত। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদন্ড, আট জনকে সাত বছরের কারাদন্ড, চারজনকে তিন বছরের কারাদন্ড দিয়েছে হাই কোর্ট। খালাস পেযেছেন ২৯ জন।
 
বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করে। হাই কোর্টের বিশেষ এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে নাম বিজিবি) সদরদপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের এই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। বিডিআর জওয়ানদের ওই রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে। ঢাকার জজ আদালত ২০১৩ সালে এ মামলার রায়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকরের অনুমতি (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল এরপর আসে হাই কোর্টে। শুনানি শেষ হওয়ার সাত মাস পর হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ রোববার রায় দেওয়া শুরু করে।

জজ আদালতের রায়
বিডিআর জওয়ানদের ওই রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকান্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ওই রায়ে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়া বিডিআরের উপ সহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদন্ড। পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরও ১০ বছরের কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদন্ড দেন বিচারক। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়। কারও কারও সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেয় বিচারিক আদালত। জজ আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির ‘অপারেশন ডালভাত’ কর্মসূচিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে জড়ানো ঠিক হয়নি। এটা বাহিনীর ‘ঐতিহ্য’ নষ্ট করেছে। রায়ে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক ‘মোটিভ’ ছিল। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ‘মোটিভও’ থাকতে পারে। এই বিদ্রোহের তথ্য আগে জানতে না পারার ঘটনায় ‘গোয়েন্দা দুর্বলতা’ ছিল বলেও মনে করেছে আদালত। সেই রায়ে বিচারক বলেন, ‘সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংস করার মোটিভ নিয়ে এই বিদ্রোহের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের দেশকে ছোট করা, বিদেশি বিনিয়োগ না আসার জন্য কলকাঠি নাড়া হয়েছে।’ আদালত মনে করে, দেশের ‘অর্থনৈতিক মেরুদন্ড’ দুর্বল করার জন্য ওই বিদ্রোহ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। আর সশস্ত্র বাহিনীকে নিরুৎসাহিত করাও এর একটি কারণ হতে পারে। এই বাহিনীর সদস্যদের আবারও জাতিসংঘ শান্তি মিশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া এবং পিলখানার ভেতরে স্কুলে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের সন্তানদের ভর্তির ব্যাপারে আরও ছাড় দেয়ার পরামর্শ দেন বিচারক। সেনাসদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে বিডিআর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত আছেন। এ জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতো ২০ শতাংশ ভাতা তাদের পাওয়া উচিত। তাদের ঝুঁকিভাতা দেয়া যায় কি না, তাও দেখা উচিত, পর্যবেক্ষণে বলেন তিনি।

 

বিদ্রোহের রায় আনন্দ-বিষাদে প্রতিক্রিয়া

বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় হাই কোর্টের রায়ের পর সাজা বহাল থাকাদের পরিবারে যেমন কান্নার রোল পড়েছে, তেমনি আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে খালাসপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলার আপিলের রায় শুনতে  সোমবার হাই কোর্টে উপস্থিত ছিলেন ৮৫০ আসামির অনেকের পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের নিয়ে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অপেক্ষার অবসান ঘটে বিকালে তিন বিচারকের বেঞ্চের রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

রায়ে পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের সময় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে হাই কোর্ট। জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৫২ জনের মধ্যে আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে হাই কোর্ট খালাস দিয়েছে। খালাস পাওয়াদের একজন নায়েক সুবেদার আলী আকবর; বিদ্রোহের মাত্র চার মাস আগে পিলখানায় বদলি হয়ে এসেছিলেন তিনি। হাই কোর্টে সাজা ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী রেহানা আক্তার। ফাঁসি থেকে খালাস পাওয়ার বিষয় জানার পর হঠাৎ হাসির ঝিলিক দেখা যায় তার মুখে। খবরটি পরিবারের অন্য সদস্যদের মোবাইলে জানানো শুরু করেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাসিন্দা রেহানা; একজনকে মোবাইলে বলছিলেন, ‘আম্মু, তোমার আব্বু খালাস পেয়েছে।’ জানতে চাইলে রেহানা বলেন, ছোট মেয়ে রুবিনা আক্তার শম্পাকে তার বাবার খালাসের খবরটি দিচ্ছিলেন তিনি। আলী আকবর ও রেহানার মেজ মেয়ে শম্পা ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসে পড়েন। অন্য দুই সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, আর ছোট মেয়ে পড়েন দশম শ্রেণিতে। রেহানা বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি।

কিন্তু আইনি লড়াই শেষ করলে তো কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। তারপরও খুশি, এতদিন রায় পক্ষে পেয়েছি।’ রেহানা বলেন, তার স্বামী অবসরে ঠিক আগে সদর দপ্তরে বদলি হয়ে এসেছিলেন, তার চার মাস পরেই বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে এবং তাতে তিনিও ফেঁসে যান। ফাঁসি থেকে খালাস পেয়েছেন সদর ব্যাটালিয়নের বিল্লাল হোসেন খান, ঘটনার পর থেকে যিনি কারাগারে আছেন। সদর ব্যাটালিয়ানের এমটি শাখায় কাজ করতেন বিল্লাল। তার বড় মেয়ের জামাই সালাউদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।’ রেহানা ও সালাউদ্দিনের খুশির মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে বিলাপ করে কাঁদছিলেন বকুল বেগম; তার ছেলে সিগন্যালম্যান আবুল বাশারের ফাঁসির সাজা বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। রায় শুনতে ধামরাই থেকে আসা এই নারী বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পাই নাই। আমরা আপিল করব। আমার ছেলের কোনো দোষ না থাকার পরও তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’ বকুলের দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বাশার ছেলেদের মধ্যে বড়। বকুল বলেন, বিদ্রোহের ওই ঘটনার পর তাদের পরিবার প্রায় ‘শেষ’। রায়ের পর হাই কোর্ট প্রাঙ্গণে হাউ মাউ করে কাঁদছিলেন ফাঁসি বহাল থাকা সুবেদার মেজর জাকির হোসেন জামালের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি আকুতি করতে থাকেন, ‘মাগো, বাবা কইয়া কার কাছ যাইয়াম গো।’

 রায়ের আগে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষার সময় জিন্নাত বলেছিলেন, তার বাবার কর্মস্থল ছিল খাগড়াছড়ি, তিনি এলপিআরে ছিলেন। তার মা নার্গিস ফাতেমা পিলখানায় বিডিআর হাসপাতালে নার্স ছিলেন। পিলখানাতেই ছিল তাদের বাসা। তার বাবা বিদ্রোহের সময় ওই বাসায়ই ছিলেন। জান্নাত বলেন, ‘আমার বাবা সাভারে একটি জমি কেনার কাজে গিয়েছিল। সেদিন সে ঘটনাস্থলে ছিল না। তাকে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল।’ পিলখানার গোলাগুলিতে জান্নাতের মা নার্গিস মারা যান, তার লাশ পাওয়া যায়নি। জান্নাতের দুই চাচাও ছিলেন বিডিআরে।

সিপাহি আলামিন নাইক্ষ্যংছড়ি ১৫ নাম্বার ব্যাটালিয়নে ছিলেন। ফয়সাল ছিলেন ১০ নাম্বার  ব্যাটালিয়নে সুনামগঞ্জে। তারা প্যারেডে অংশ নিতে পিলখানায় এসেছিলেন। তাদের দুজনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। যাবজ্জীবন থেকে খালাস পাওয়াদের একজন সিপাহী আতিকুর রহমান; রায় শুনতে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই কামরুল হাসান। রায়ের পর কামরুল বলেন, ‘দীর্ঘ নয় বছর অপেক্ষার পর আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। ওই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছি। তারপরও আমর আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।’ ঘটনার পর থেকে কারাগারে আছেন নওগাঁর মহাদেবপুরের আতিকুর। বিদ্রোহের এক বছর আগে জন্ম হয়েছিল তার একমাত্র মেয়ে নাসার, যে এখন শৈশব ছেড়ে কৈশোরে পা দিয়েছে। কামরুল বলেন, ‘তার (আতিকুর) নামে বিস্ফোরক মামলা আছে। সেটা নিষ্পত্তি হলে তাকে মুক্ত করতে পারব বলে আশা করি।’

 

পোপ ফ্রান্সিসের সফর নিরাপত্তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন : ডিএমপি প্রধান

তিন দিনের সফরে পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ উপলক্ষে সোমবার ডিএমপি’র সদর দফতরে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পোপ ফ্রান্সিস’র সফরের সব ভেন্যু, হোটেল ও বিমানবন্দরে থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া স্ট্যান্ডবাই হিসেবে প্রস্তুত থাকবে সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।’ তিনি বলেন, ‘পোপের আগমন সফল করতে আগত  বিদেশি  অতিথিদের জন্য নির্ধারিত হোটেল, সম্মেলন স্থলসহ প্রত্যেকটি ভেন্যু সুইপিংসহ সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। আর্চওয়ে স্থাপন এবং পুরুষের পাশাপাশি নারী স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। আবাসনস্থল ও যাতায়াত রাস্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রুফটপ ডিউটি, মোবাইল ডিউটির ফোর্স মোতায়েন থাকবে।’

সমন্বয় সভায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাসহ পোপের সফর উপলক্ষে গঠিত নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রোজারিও এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর পোপ ফ্রান্সিস ঢাকা আসছেন। আগামী ২ ডিসেম্বর ফিরে যাবেন তিনি।

 

 

 

পিলখানা হত্যা: ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন

 

পিলখানা হত্যা: ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন বহাল

পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। এ মামলায় জজ আদালত যে ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন দিয়েছিল, তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে; হাই কোর্টে খালাস পেয়েছেন ১২ জন।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করছে। এ মামলার সাড়ে আটশ আসামির মধ্যে সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের রায় এসেছিল জজ আদালতে।

তাদের বিষয়ে হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

হাই কোর্টের বিশেষ এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।


২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে নাম বিজিবি) সদরদপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের এই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

বিডিআর জওয়ানদের ওই রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার জজ আদালত ২০১৩ সালে এ মামলার রায়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস দেওয়া হয় ৬৯ জনকে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকরের অনুমতি (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল এরপর আসে হাই কোর্টে। শুনানি শেষ হওয়ার সাত মাস পর হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ রোববার রায় দেওয়া শুরু করে।

পিলখানা হত্যা: দুপুরের পর মূল রায়

পিলখানা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দ্বিতীয় দিনে পর্যবেক্ষণ পড়া শেষ করেছে হাই কোর্ট; রায়ের আদেশের অংশ জানা যাবে বেলা আড়াইটার পর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার আপিল শুনানিতে গঠিত হাই কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার সোমবার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে তার পর্যবেক্ষণের সংক্ষিপ্তসার পড়া শুরু করেন।

বেলা পৌনে ১টায় তিনি পর্যবেক্ষণ পড়া শেষ করলে আদালত মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায়। তার আগে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক শওকত হোসেন জানান, মূল রায় (আদেশের অংশ) ঘোষণা শুরু হবে বেলা আড়াইটায়।  

এর আগে রোববার সকালে রায় শুরুর পর বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী তার হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণের সংক্ষিপ্তসার পড়ে শোনান।

পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবে দিলেও আসামিদের সাজার বিষয়ে তিন বিচারক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন বিচারপতি শওকত হোসেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পরের মাসেই বিডিআরে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ঢাকার পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহী জওয়ানদের হাতে মারা যান ৫৭ সেনা কর্মকর্তা। রক্তাক্ত সেই বিদ্রোহে বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে জওয়ানদের বিদ্রোহ।

বিদ্রোহের মামলায় বিডিআর বাহিনীর বিশেষ আদালতে ৬ হাজার জওয়ানের কারাদণ্ডের পর পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মামলাটির বিচার শুরু হয় সাধারণ আদালতে।

ঢাকার জজ আদালত ২০১৩ সালে এ মামলার রায়ে ৮৫০ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকরের অনুমতি (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল এরপর আসে হাই কোর্টে। শুনানি শেষ হওয়ার সাত মাস পর হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ রোববার রায় দেওয়া শুরু করে।

বিদ্রোহের পেছনে ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র’

আলোচিত এ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী রোববার বলেন, “বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পূর্বাপর আলোচনা ও পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, এ ঘটনা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসেরও চেষ্টা।

“কিন্তু ধ্বংসের সে চক্রান্ত রুখে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। সদ্য নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় মনোবল নিয়ে শক্ত হাতে বিদ্রোহ দমনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”

বিএনপি নেতাসহ সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা তখন দাবি করেছিলেন, বিদ্রোহ সামলাতে সরকারের পদক্ষেপ যথাযথ ছিল না। ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়ে সেনাবাহিনীকে অভিযান চালাতে দিলে অনেককে বাঁচানো যেত।

হাই কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, “বিডিআর বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে যে কোনো মূল্যে তাদের দাবি আদায় করা। বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করে এই সুশৃঙ্খল বাহিনীকে অকার্যকর করা। সেনাবাহিনী-বিডিআরকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীলতায় নিপতিত করা। এমনকি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত করা।”

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক শওকত হোসেন রোববার প্রারম্ভিক বক্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে বিভিন্ন সময়ে এই আধা সামরিক বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, “জওয়ানরা ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সেই ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ভুলুণ্ঠিত করেছে। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে দেশের আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্তান্তে লিপ্ত হয়।

“এমনকি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের উপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। এই কলঙ্কের চিহ্ন তাদের বহুকাল বহন করতে হবে।”

জজ আদালতের রায়

বিডিআর জওয়ানদের ওই রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ওই রায়ে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়া বিডিআরের উপ সহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। কারও কারও সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেয় বিচারিক আদালত।

জজ আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির ‘অপারেশন ডালভাত’ কর্মসূচিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে জড়ানো ঠিক হয়নি। এটা বাহিনীর ‘ঐতিহ্য’ নষ্ট করেছে।

রায়ে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক ‘মোটিভ’ ছিল। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ‘মোটিভও’ থাকতে পারে।

এই বিদ্রোহের তথ্য আগে জানতে না পারার ঘটনায় ‘গোয়েন্দা দুর্বলতা’ ছিল বলেও মনে করেছে আদালত।

সেই রায়ে বিচারক বলেন, “সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংস করার মোটিভ নিয়ে এই বিদ্রোহের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের দেশকে ছোট করা, বিদেশি বিনিয়োগ না আসার জন্য কলকাঠি নাড়া হয়েছে।”

আদালত মনে করে, দেশের ‘অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড’ দুর্বল করার জন্য ওই বিদ্রোহ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। আর সশস্ত্র বাহিনীকে নিরুৎসাহিত করাও এর একটি কারণ হতে পারে।

এই বাহিনীর সদস্যদের আবারও জাতিসংঘ শান্তি মিশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া এবং পিলখানার ভেতরে স্কুলে সাধারণ বিডিআর সদস্যদের সন্তানদের ভর্তির ব্যাপারে আরও ছাড় দেয়ার পরামর্শ দেন বিচারক।

“সেনাসদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে বিডিআর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত আছেন। এ জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতো ২০ শতাংশ ভাতা তাদের পাওয়া উচিত। তাদের ঝুঁকিভাতা দেয়া যায় কি না, তাও দেখা উচিত,” পর্যবেক্ষণে বলেন তিনি।

 

পিলখানা হত্যা: দ্বিতীয় দিনের মত রায় পড়ছে হাই কোর্ট

 

 

আপন মালিকদের জামিন নয় কেন: হাই কোর্ট

অর্থপাচার মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম ও তার দু্ই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।

আপন মালিকদের পাঁচটি আবেদনের শুনানি করে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করে।

ঢাকার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় গত মে মাসে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন দিলদারের ছেলে সাফাত আহমেদ। সাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে আপন জুয়েলার্সের ‘অবৈধ লেনদেনের’ তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দারা।

এরপর গত ১২ অগাস্ট শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মুদ্রাপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দিলদার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গুলশান, ধানমণ্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার এনে এর অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ তারা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেনি।

এসব মামলায় দিলদার ভাইয়েরা হাই কোর্ট থেকে জামিন নিলেও তার মেয়াদ শেষে নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

তিন ভাই ২৪ অক্টোবর ঢাকার মহানগর আদালতে ভিন্ন ভিন্ন হাকিমের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে দিলদার ও তার ভাইয়েরা হাই কোর্টে আসেন। তাপের পক্ষে শুনানি করেন এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমদ।

আদেশের পর আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “একটি সোনার দোকানকে কেন্দ্র করে শুল্ক আইনে নোটিস দেওয়া হযেছিল, সেখানে চোরাচালানের অভিযোগের কথাও বলা ছিল। সেই নোটিস পেন্ডিং থাকা অবস্থায় মামলা করেছে। কিন্তু এটা অর্থ পাচার আইনের বিষেই নয়। ব্যবসার সুনাম নষ্ট করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।”

এই আইনজীবী জানান, দুই সপ্তাহ পর বিষয়টি আবারও আদালতে আসবে এবং আদালত সে সময় অ্যাটর্নি জেনারেলকে শুনানি করতে বলেছে।

 

‘ঘোড়ামারা’ আজিজসহ ৬ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড

 

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা তিন অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আসামিদের সাজা কার্যকর করতে হবে।

 

 

 

 

 

৭ মার্চ কেন ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস নয়: হাই কোর্ট

একাত্তরে যে ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন, সেই ভাষণের দিন ৭ মার্চকে কেন ‘ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল দেয়।

একাত্তরের ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান কেন সংরক্ষণ করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে মঞ্চে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন সেই স্থানটি নির্ধারণ করে সেদিনের সেই মঞ্চের আদলে মঞ্চ পুননির্মাণ, পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের স্থান এবং যে স্থানে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা জানানো হয়েছিল- সেই স্থান চিহ্নিত করে কেন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও আদালত জানতে চেয়েছে। মঞ্চের জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ‘স্পিচ মোডের’ (তর্জনি উচিয়ে ভাষণের সময়কার ভঙ্গি) ভাস্কর্য নির্মাণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- সেই প্রশ্নও রুলে রাখা হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অর্থ সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া রুল বাস্তবায়নে প্রকল্প গ্রহণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- সে বিষয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে হাই কোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তাদের। হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বশির আহমেদ। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। সাড়ে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ কোটি বাঙালিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো।

 

হাসপাতালে লাশ আটকে রাখা যাবে না: হাই কোর্ট

চিকিৎসার খরচ বা হাসপাতালের বিল পরিশোধে অক্ষম কোনো রোগীর লাশ আটকে রাখা যাবে না বলে রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। দরিদ্র ও দুস্থ রোগীদের আত্মীয় স্বজনদের সহযোগিতার জন্য একটি তহবিল গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচ বছর আগে দেওয়া এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসাইন এবং বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রায় দেয়।

রায়ের পর রিটকারীপক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০১২ সালে জুন মাসে একজন গরিব পরিবার তাদের শিশু সন্তানকে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং ১৫ হাজার টাকা জমা দেয়।

কয়েকদিন চিকিৎসার পর শিশুটির মৃত্যু হলে চিকিৎসার ব্যয় বাবদ আরও ২৬ হাজার টাকা দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারলে শিশুটির লাশ দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

২০১২ সালের ৮ জুন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ওই খবর প্রকাশিত হলে তা যুক্ত করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোমবার রায় এল।

রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে-

১. চিকিৎসার খরচ পরিশোধের অক্ষমতার কারণে কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতাল মৃত ব্যাক্তির লাশ জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

২. . বিল পরিশোধে অক্ষম গরিব রোগীদের চিকিৎসার খরচ পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তহবিল গঠণ করতে হবে।

৩. ১ নাম্বার নির্দেশনা উল্লেখ করে অবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি সার্কুলার জারি করতে হবে এবং দেশের লাইসেন্সকৃত সকল ক্লিনিক-হাসপাতালে যে সেই সার্কুলার পৌছায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ৮ জুন ২০১২ তারিখে সিটি হাসপাতালে সেই নবজাতকের লাশ হস্তান্তর না করায় এবং  অভিভাকরা  সন্তানের লাশ নিতে ব্যার্থ হওয়ায় বিষয়টি অমানবিক ও মানবাধিকারের লংঘন হয়েছে। এই কারণে ওই হাসপাতালকে পাঁচ হাজার টাকা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে দান করতে হবে।

 

অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

সাড়ে আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। সোমবার সকালে ঢাকার ধানমন্ডির ১৩ নম্বর রোডে পঙ্কজ রায়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি দল।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সোমবারই আদালতে হাজির করা হবে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস রোববার পঙ্কজ রায়ের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জেনের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে বলা হয়, এই ব্রোকারেজ হাউজ ব্যবসায়ী চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে জমা দেওয়া হিসাব বিবরণীতে মোট ২১ কোটি ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০২ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। এর মধ্যে আট কোটি ৫০ লাখ ৪১ হাজার ১০৬ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।  

দুদক কর্মকর্তারা জানান, এলায়েন্স সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগেও মামলা রয়েছে। চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্ত্রীসহ নিকট আত্মীয়দের বেআইনিভাবে ঋণ দেওয়ায় অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজকে চলতি বছরের শুরুতে ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করেছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

 

হাইকোর্টে জামিন পাননি রানা

সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ার মামলায় তিন বছরের কারাদন্ডের বিরুদ্ধে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সোহেল রানাকে জামিন না দিয়ে শুনানির জন্য আপিল গ্রহণ করে আদেশ দেন। আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। সোহেল রানার পক্ষে ছিলেন জাহানারা বেগম।

আদেশের পরে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, আদালত শুনানির জন্য রানার আপিল গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি তাকে যে জরিমানা করা হয়েছিলো তা স্থগিত করেছেন। তবে তাকে জামিন দেননি। চলতি বছরের ২৯ আগস্ট নির্ধারিত সময়ে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় ঢাকা বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েসের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নন-সাবমিশন মামলাটির এ রায় দেন।

২০১৩ সালের ২২ মে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, তার স্ত্রী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে, বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দায়-দেনা ও আয়ের যাবতীয় সম্পদের বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে দুদক। এর আগে থেকেই রানা কাশিমপুর কারাগারে থাকায় তার নামীয় নোটিশ জারি করা যায়নি। পরে কারাগারেই নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার নিরসন করে ২০১৫ সালের ০১ এপ্রিল সোহেল রানার নামীয় ইস্যুকৃত সম্পদ বিবরণীর নোটিশ বিশেষ বাহকের মাধ্যমে কাশিমপুর কারাগারে পাঠায় দুদক। ২ এপ্রিল নোটিশটি সোহেল রানার কাছে পাঠান জেল সুপার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে প্রথমে স্ত্রীর মাধ্যমে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন রানা। এ আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে দুদক জানিয়ে দিলে রানা পরে আর নোটিশের কোনো জবাব কিংবা সম্পদের হিসাব বিবরণী দুদকে দাখিল করেননি। ২৬ এপ্রিল সম্পদের হিসাব বিবরণী ফরমে কোনো তথ্য না দিয়ে তা খালি পাঠান তিনি। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় ওই বছরের ২০ মে দুদকের উপ-পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম সোহেল রানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

গত ২৩ মার্চ সোহেল রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করেন আদালত। মামলাটির ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে ২৯ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। রানা প্লাজা ধসের পর পরই সোহেল রানার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে এ অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের উপ-পরিচালক মফিদুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম। তাদের দেওয়া অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানা গেছে, মাত্র ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যেই সাভারে দু’টি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেন রানা। এর একটি ৫০ শতাংশ জমিতে নির্মিত নয়তলা রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হন।

আরেকটি আটতলা রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা টাওয়ার (প্রতি ফ্লোর ৪০০০ বর্গফুট)। সাভারে সোহেল রানার পাঁচতলা আবাসিক ভবন এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার জয়ম-পের গ্রামের বাড়িতে একটি দোতলা ভবনও রয়েছে। এছাড়া রানা ব্রিকস এবং এম এ কে ব্রিকস নামের দু’টি ব্রিক ফিল্ড রয়েছে তার। সাভার পৌর এলাকা ও পৌর এলাকার বাইরে রানা ও তার মা-বাবার নামে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। সাভার বাসস্ট্যান্ডে রানার নামে রানা অয়েল মিল রয়েছে। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস রয়েছে। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংকে পাঁচটি ঋণ হিসাবসহ ২৩টি ব্যাংক হিসাব আছে। এর মধ্যে রানার নামে ৩৫ লাখ টাকার একটি এফডিআরও রয়েছে। এ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল প্রায় ১৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেক ও তার মা মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধেও পৃথক দু’টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক।  

 

 

 

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে ভারমুক্ত হলো বিচার বিভাগ: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগে বিচার বিভাগ ভারমুক্ত হলো বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, আমি প্রথমেই বলেছি। বিচার বিভাগ ভারমুক্ত হলো। বিচার বিভাগের কোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, চরিত্র স্খলনে জড়িত থাকেন, কোনোমতে তাঁর বিচার বিভাগে থাকা উচিত নয়। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে সাংবাদিকেরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে  রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া কী?’ এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে যায় এবং গেজেট প্রকাশিত হতে হয়। সংবিধানে আছে, স্বহস্তে দরখাস্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে দিলে এটি (পদত্যাগপত্র) কার্যকর হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলতে শুধু প্রধান বিচারপতিকে বোঝায় না, সব কজন বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতিকে বোঝায়। আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা যেদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা প্রকাশ করলেন, বেঞ্চে বসতে রাজি হলেন না, সেদিনই বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলাম, ফিরে এসে প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করা সুদূরপরাহত। মাহবুবে আলম আরও বলেন, আসলে পদত্যাগ করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। কারণ, আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসতে যদি না চান, তাঁর অন্য কোনো পথ থাকে না।

 

 

 

আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাই এখন প্রধান বিচারপতি : আইনমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক : ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাই এখন সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রমে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি বলেও এ সময় মন্তব্য করেন আনিসুল হক।

গত সোমবার অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে শুক্রবার কানাডার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। সিঙ্গাপুর ছাড়ার আগেই দেশটিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।
শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে।

 

 



Go Top