সকাল ৮:০৮, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অদক্ষতা ও অযোগ্যতার দায়ে ঔষধ প্রশাসন থেকে বরখাস্ত এক কর্মকর্তা কীভাবে এখনও চাকরিতে আছেন- তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে এক সপ্তাহের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদালত। এ বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অদক্ষতা ও অযোগ্যতার দায়ে ঔষধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে আদালতের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দুই কর্মকর্তার মধ্যে ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম তথ্য গোপন করে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল-১ এ আবেদন করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে। এর মধ্যে তিনি কাজও শুরু করেছেন। বিষয়টি জানার পর আদালতে এই আবেদন করা হয় জানিয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, আজ হাই কোর্ট তার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ স্থগিত করেছে। বরখাস্ত হওয়ার পর শফিকুল ইসলাম আবার কীভাবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা কীভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা এক সপ্তাহের মধ্যে ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। আদালত বিষয়টি আগামী ২৬ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছে। রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে ২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়।

 

রাজধানীতে দুই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু

রাজধানীতে দুই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। রূপনগর থানার উপ-পরিদর্শক পরিমল চন্দ্র সরকার জানান, গত রোববার দিনগত রাত  সোয়া ২ টার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকার ২৬ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসা থেকে লাবনী আকতার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বাসার সিলিংফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চাচাতো ভাই জাকির হোসেনের সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রযেছে বলে স্বামী সন্দেহ করতো। এসব কারনে লাবনী প্রায় মন খারাপ করে থাকতো। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন। এই দম্পতির এক কন্যা সন্তান রযেছে। স্বামী নাসির উদ্দিন প্রাইভেটকার চালক। নিহত লাবনী ঝালকাঠি সদরের ভেজখান গ্রামের মৃত কারী আব্দুল বারীর মেয়ে।

এদিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে সোমবার সকালে ফারজানা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উত্তর শাহজাহানপুরে ৬৩৪ নম্বর বাসায় স্বামী ও এক মেয়েকে নিয়ে বাস করছিলেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার স্বামী আব্দুর রহমান তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সকাল পৌনে ১১টায় মৃত ঘোষনা করেন। ফারজানার স্বামী আব্দুর রহমান ঢামেক হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের জানান, তার স্ত্রী শ্বাসকষ্টের রোগী। সকাল ৮টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক ও পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদিকে ওই নারী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন- এমন সন্দেহ চিকিৎসকদের। শাহজাহানপুর থানার এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, তার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

রাতের ইন্টারনেট অফার বন্ধের নির্দেশ হাই কোর্টের

ব্লু হোয়েল গেইম নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গেইমটির সব লিংক বন্ধ ও মোবাইল অপারেটরগুলোর রাতের ‘বিশেষ ইন্টারনেট অফার’ ছয় মাসের জন্য বন্ধ করাসহ তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ তিন দফা নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনা গুলো হলো- ব্লু হোয়েল বা এ জাতীয় ইন্টারনেট ভিত্তিক ‘মরণখেলার’ গেইটওয়ে লিংক বন্ধ করতে হবে, রাত ১২টার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশের সব মোবাইল অপারেটরের ‘রাত্রিকালীন বিশেষ ইন্টারনেট অফার’ ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকবে এবং ব্লু হোয়েলসহ এ জাতীয় ইন্টারনেট ভিত্তিক গেইমে আসক্তদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং দেওয়া এবং অভিজ্ঞদের নিয়ে একটি ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসিকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলে আদালত। আদালতে রিটকারীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

সুব্রত বর্ধনসহ সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী গত রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। আইনজীবী পল্লব বলেন, দেশের সব মোবাইল অপারেটরের রাত্রিকালীন বিশেষ ইন্টারনেট অফার কেন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা রুলে জানতে চেয়েছে আদালত। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্রসচিব, শিক্ষাসচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, আইনসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং মোবাইল অপারেটরদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। ‘ব্লু হোয়েল’ বা ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’ একটি অনলাইন গেইম, যা অংশগ্রহণকারীকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়।

এই গেইমে খেলোয়াড়দের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতে দেওয়া হয়, শুরুতে হালকা কিছু কাজ দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সব কাজ দেওয়া হয়। সব শেষে চূড়ান্ত কাজ হিসেবে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বলা হয়। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় ‘এফ৫৭’ নামে যাত্রা শুরু করে গেইমটি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক সাবেক মনোবিদ্যা শিক্ষার্থী গেইমটি তৈরি করেন। ওই গেইম খেলে ১৬ কিশোরীর আত্মহত্যার পর বুদেইকিনকে রাশিয়ায় আটক করা হয়। ‘ব্লু হোয়েল’ গেইমে বাংলাদেশেও আত্মহত্যার খবর গণমাধ্যমে আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত সপ্তাহে বিটিআরসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন। এর ধারাবাহিকতায় বিটিআরসি তিন দিন আগে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়। ইন্টারনেটে ব্লু হোয়েল কিংবা এর মতো জীবনবিনাশী কোনো গেইমের তথ্য পেলে ২৮৭২ নম্বরে ফোন করে তা জানাতে বলা হয় সেখানে।

প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিবসহ ১০ বদলি

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, রেজিস্ট্রার ও প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিবসহ ১০ কর্মকর্তাকে বদলির অনুমোদন দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর এটি কার্যকর হবে।

আজ রোববার দুপুরের দিকে প্রধান বিচারপতি (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার অনুমোদনের পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারির পর তাঁদের বদলি কার্যকর হবে।

সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন আদালতে তাঁদের বদলির জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ এম আমিনুল ইসলামকে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজকে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা জজ, আনিসুর রহমানকে পঞ্চগড় জেলার অতিরিক্ত জেলা জজ, যাবিদ হোসাইনকে রংপুরের নারী-শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক, রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঢাকার স্পেশাল জজ, অরুণাভ চক্রবর্তীকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা জজ, ফারজানা ইয়াসমিনকে পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ, কামাল হোসেন শিকদারকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা জজ, আজিজুল হককে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা জজ এবং এইচ এম ইসমাঈলকে বরগুনাতে বদলি করা হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার পাঠানো কিছু ‘প্রশাসনিক পরিবর্তন’-এর প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর খাস কামরায় বৈঠক করেন মন্ত্রী।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিছু অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ চেঞ্জ (প্রশাসনিক পরিবর্তন) করতে চান, সেগুলো উনি আমাকে অবহিত করেছেন।’

মন্ত্রীর ওই বৈঠকের পর রোববার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

প্রধান বিচারপতি সিনহার পদে ফেরা হচ্ছে না, ইঙ্গিত অ্যাটর্নি জেনারেলের

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সহকর্মীরা বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে কাজ করতে না চাওয়ায় তার প্রধান বিচারপতির পদে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে বলেও মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।

অ্যাটর্নি জেনারেল শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতিরা যদি উনি ফেরার পর না বসতে চান তাহলে উনার পক্ষে একা বসা সম্ভব হবে না। বাস্তব অবস্থা হল, পাঁচজন বিচারপতি যদি এক সাথে বসতে না চান তাহলে বিচার বিভাগীয় অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। সুতরাং বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করলে (তার) ফিরে এসে ওই চেয়ারে বসা সুদূরপরাহত।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তাকে সরানোর বা বেঞ্চে না বসার ব্যাপারে সরকারের কোনো ভূমিকাই নেই। বরঞ্চ প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে যেসমস্ত অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে শুনেছেন, মাননীয় অন্যান্য বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সাথে বসতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়েছে উনি ছুটি নিতে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, যদি কোনো রকম সত্য না হত, দেশের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এসমস্ত কথা বলা কি সম্ভব হত?

১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ আছে। অভিযোগগুলো সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি ভাল জানেন। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন,  প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে যে নাটকীয়তার সৃষ্টি করে গেছেন এবং লিখিত একটি বিবৃতি তিনি সাংবাদিকদের হাতে দিয়ে গেছেন, তার প্রেক্ষিতে দেশবাসীকে জানানো প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি। প্রধান বিচারপতি যে বিবৃতি দিয়ে গেছেন, এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট যদি বসে থাকত, তাহলে দেশবাসী একটি বিভ্রান্তিতে পড়ে যেত। দেশবাসীর কাছে এ সমস্ত ঘটনার স্পষ্ট করার প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি। বিচারপতি সিনহা যাওয়ার আগে বক্তব্যে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার কার্যপরিধি নিয়ে যে কথা বলেছেন, তা নিয়ে ভিন্নমত জানান মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি যাওয়ার সময় বলে গেছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শুধু রুটিন মাফিক কাজ করবেন, এটা ঠিক না। যদি কেউ ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি হন, সেটিও সাংবিধানিক পদ। সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। বিচারালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত বিচারিক কাজ, বেঞ্চ গঠনসহ যাবতীয় কাজ তিনি করবেন। সব দায়-দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এটা কোনো যৌক্তিক কথা হল না যে, একজন প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে থাকবেন তখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, এটা ঠিক না। অসুস্থতার কথা অস্বীকারের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আগের চিঠিতে অসুস্থ বলেছিলেন,  সুস্থ থাকার কথা বলেছেন। এটা তো  কথা। উনি নিজে বলে গেছেন, উনি স্বেচ্ছায় গেছেন। এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি না। ছুটির বিষয়টি নিয়ে যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছেন তাদের আর কথা বলা উচিৎ না।

 

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ছুটিতে যাওয়া প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়ার আগে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা। সভাপতি জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে একাংশ প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করে। পরে সমিতির সহসভাপতি মো. অজি উল¬াহ পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ অজি উল¬াহর নেতৃত্বে অপর একাংশ সংবাদ সম্মেলন করতে আসে। এ অবস্থায় বিএনপি-সমর্থক ও আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের মধ্যে বাদানুবাদ চলে। উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, সমিতির সভাপতির বক্তব্যের পর অন্য কোনো ব্যক্তির আইনজীবী সমিতির নামে কোনো সংবাদ সম্মেলন বা কোনো কিছু করার এখতিয়ার নেই। যদি কেউ এ রকম কিছু বলেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত। কেউ এমন চেষ্টা করলে তা আইনজীবী সমিতির বক্তব্য হবে না।

প্রায় ১০ মিনিটের মতো বিএনপি ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্বিতন্ডা চলে। একপর্যায়ে সমিতির সহসভাপতি বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা আপত্তি জানাতে থাকেন। পরে তিনি সমিতির প্রবেশপথে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন। আগের ঘোষণা অনুসারে, দুপুর ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সমিতির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এতে জয়নুল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান রাষ্ট্রপতি। কাজেই রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বানÑবিচার বিভাগকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। জয়নুল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রের তিন বিভাগÑশাসন, আইন ও বিচার বিভাগ। সংবিধান অনুসারে বিচার বিভাগ হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। সেই অভিভাবককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিমান দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাচ্ছি, অভিমান ভুলে বিচার বিভাগ রক্ষায় এগিয়ে আসুন।

জয়নুল আবেদীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের যে পরিবর্তনের কথা বলেছেন, সে সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে গেলেন যে অতীতে এ ধরনের কর্মকান্ড ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কখনো করেননি। এই আইনজীবী সমিতি মনে করে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার জন্য অন্তত ধীর থাকবেন। এর আগে সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, প্রশ্ন এসেছে, প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। আইনমন্ত্রী বলেছেন, উনি অসুস্থ, চিঠি পেয়েছেন। ওই চিঠি প্রধান বিচারপতির নয় দাবি করে তিনি বলেন, ওই চিঠি আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা চিঠি। ২ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথম জানিয়েছিলেন যে উনি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন; উনি কীভাবে জানলেন? রাষ্ট্র জড়িত আছে বলেই উনি জেনেছেন। এ জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে সহসভাপতি উম্মে কুলসুম বেগম, সহসম্পাদক শামীমা সুলতানা, সদস্য শেখ তাহসিন আলী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। পৃথক সংবাদ সম্মেলনে অজি উল¬াহ বলেন, সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। আমরা এর সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, উনি ছুটি নিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন স্বেচ্ছায়। ছুটি শেষে আবার ফিরে আসবেন। বিচারকাজ পরিচালনা করবেন। প্রশাসনিক পরিবর্তন বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একমত নন জানিয়ে অজি উল¬াহ বলেন, ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে যাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হবে, তিনিই প্রশাসনিক ও বিচারিক সব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সাংবিধানিকভাবে তাঁর এ কাজ পরিচালনায় বাধা নেই। এ নিয়ে সভাপতি-সম্পাদক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তব্য প্রদান করার জন্য সাংবাদিকদের জানানোর পর সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ অনুগামী আইনজীবীরা বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেননি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।প্রধান বিচারপতি বিব্রত হয়েছেনÑএ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অজি উল¬াহ বলেন, রায় প্রকাশের পর রায় নিয়ে যেকোনো গোষ্ঠী সমালোচনা করতে পারেন। ওই সমালোচনার জন্য কারও ব্যথিত, দুঃখিত, বিব্রত বোধ করা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। গঠনমূলক সমালোচনা করা ব্যক্তিগত অধিকারের পর্যায়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট ১১ অভিযোগ’

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ উঠেছে, যার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের বিরল এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

শনিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরে বিবৃতিটি আসার আগে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করেন। ছুটি নিয়ে বিচারপতি সিনহা বিদেশে যাওয়ার আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ আখ্যায়িত করে সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিটি দেওয়া হয়। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সংসদে দুই মন্ত্রী বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার তার সহকর্মীদের মধ্য থেকেও একই অভিযোগ এল। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে বলা হয় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন।

তন্মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ আরও সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ওই বৈঠকে বিচারপতি ঈমান আলী ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য চার বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার ছিলেন। বিচারপতি ঈমান আলী সেদিন ঢাকায় ছিলেন না। বঙ্গভবনের বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিজেরা বৈঠক করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সহকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন যে গুরুতর অভিযোগগুলো প্রধান বিচারপতিকে জানানো হবে।

তিনি যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না। ওই দিনই পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে যান। তার সঙ্গে অভিযোগগুলো নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও সুদত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এই অবস্থায় অভিযোগসমূহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না। এই পর্যায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন যে সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে ২/১০/২০১৭ তারিখে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান। কিন্তু এরপর বিচারপতি সিনহা সহকর্মীদের কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার কথা জানান বলে বিবৃতিতে বলা হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার দেন রাষ্ট্রপতি।

আইনমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন আজ
রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটির আবেদনে অসুস্থতার কথা লেখা থাকলেও বিদেশ যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তা অস্বীকার করায় পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্কের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে সাংবাদিকদের কাছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে শনিবার একটি আমন্ত্রণপত্রও পাঠানোও হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘আপনার সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী আসিনুল হক ১৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।’

ষোড়শ সংসোধনীর রায় নির্ধারিত সময়েই রিভিউ আবেদন: আইনমন্ত্রী

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণে সংসদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যেই আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অসুস্থতার কথা জানিয়ে একমাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৩ অক্টোবর চারটি দেশে ভ্রমণে যাচ্ছেন, ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে থাকবেন বলে এখন পর্যন্ত ঠিক আছে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।  বৃহস্পতিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।  

লেজিস্লেটিভ ইম্প্যাক্ট অ্যাসেস্মেন্ট (এলআইএ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। আইনমন্ত্রী জানান, দু’দিন আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। ৭৯৯ পাতার এ রায় পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও ২৮ দিন সময় হাতে আছে। এ ২৮ দিনের মধ্যেই রিভিউয়ের আবেদন করবেন রাষ্ট্রপক্ষ’।

তিনি বলেন, ‘৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি বেশ বড়। তাই যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি রিভিউ আবেদন দাখিল করা সম্ভব না হয়, তবে নিয়ম অনুসারে সময়ের আবেদন জানানো হবে’। এর আগে বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও জানান, পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি ২-৩ দিন আগে পেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১ আগস্ট সকালে ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। ওইদিনই সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৩ জুলাই ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত রায়টি দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হয়ে যায়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়েছিলো।

জামায়াতের আমীরসহ ৮ নেতা ১০ দিনের রিমান্ডে

জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদসহ আট নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে ‘গোপন বৈঠক’ করার সময়  রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত প্রত্যেকের দশ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, গোপনে বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে দলটির আমির মকবুল আহমাদ, সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রাম মহানগরের আমির  মোহাম্মদ শাজাহান ও সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির জাফর সাদেক, সেক্রেটারি জেনারেলের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় পুলিশের দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক সাজু মিয়া জানান, এই আটজনের প্রত্যেককে দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মহানগর হাকিম গোলাম নবী প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত জানুয়ারি মাসে জামায়াতের শপথধারী সদস্যদের ভোটে মকবুল আহমাদ আমির ও শফিকুর রহমান সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন।

 

৩ যুদ্ধাপরাধীর আপিল শুনানি পেছাল

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির আবদুস সুবহান এবং জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল শুনানি পিছিয়ে গেছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এই তিন মামলার আপিল শুনানির জন্য ২১ নভেম্বর নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছে।

এর মধ্যে আজহার ও কায়সারের আপিল শুনানি মঙ্গলবারই শুরু হওয়ার কথা ছিল। আর সুবহানের আপিল শুনানির জন্য ১৬ অক্টোবর দিন রাখা ছিল।

কিন্তু আজহার ও সুবহানের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দেশের বাইরে থাকায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন আট সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম করেন চার সপ্তাহ সময়ের আবেদন।   

শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির আপিল শুনানির জন্য ২১ নভেম্বর নতুন তারিখ ঠিক করে দেয়।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

প্রসিকিউশনের আনা নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা এবং ১৪ জনকে খুনের অপরাধে।

এছাড়া ওই অঞ্চলের বহু নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে ধর্ষণের জন্য তুলে দেওয়ার অভিযোগে একাত্তরের এই বদর কমান্ডারকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করেন এই জামায়াত নেতা।


আবদুস সুবহান

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পানায় হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবদুস সুবহানকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাণদণ্ড দেয়।

প্রসিকিউশনের আনা ১ নম্বর অভিযোগে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বের করে ২০ জনকে হত্যা; ৪ নম্বর অভিযোগে সাহাপুর গ্রামে ছয়জনকে হত্যা এবং ৬ নম্বর অভিযোগে সুজানগর থানার ১৫টি গ্রামে কয়েকশ মানুষকে হত্যার দায়ে সুবহানকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।

২ নম্বর অভিযোগে পাকশী ইউনিয়নের যুক্তিতলা গ্রামে পাঁচজনকে হত্যা এবং ৭ নম্বর অভিযোগে সদর থানার ভাড়ারা ও দেবোত্তর গ্রামে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেওয়া হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড।

এছাড়া ৩ নম্বর অভিযোগে ঈশ্বরদীর অরণখোলা গ্রামে কয়েকজনকে অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় সুবহানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন ৫, ৮ ও ৯ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে সুবহানকে খালাস দেওয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৮ মার্চ আপিল করেন সুবহান।

যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত চলার মধ্যেই ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা থেকে সুবহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।


সৈয়দ কায়সার

মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণের মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে সৈয়দ কায়সারকে ২০১৫ সলের ২৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে ওই দুই জেলায় যুদ্ধাপরাধে নেতৃত্ব দেন এই মুসলিম লীগ নেতা। জিয়াউর রহমানের আমলে তিনি হয়ে যান বিএনপির লোক, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময় জাতীয় পার্টির।

সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৪টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

তাকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয় ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে, যার মধ্যে দুই নারীকে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।  এই দুই বীরাঙ্গনার মধ্যে একজন এবং তার গর্ভে জন্ম নেওয়া এক যুদ্ধশিশু এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি আপিল করেন সৈয়দ কায়সার।

রাজধানীতে গ্রেফতার ৪ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রে চিকিৎসক

সাড়ে তিন কোটি টাকার চেকসহ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসক রয়েছেন। গত শুক্রবার রাত থেকে গত রোববার রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হচ্ছেন- সাবিনা ইয়াসমিন তিন্নি, মো. রাশেদুজ্জামান রিপন, ডা. মো. সামছুর রশীদ দিপু ও ডা. মো. সোলায়মান হোসেন ওরফে মেহেদী।

র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, গোপন সূত্রে তারা জানতে পারেন, একটি প্রতারক চক্র মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে তা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র বলে পরীক্ষার্থীদেরকে টাকার বিণিময়ে সরবরাহ করছে। মোবাইল ফোন, ই- মেইল, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত প্রশ্নপত্র বিতরণ করছিল তারা। পরে র‌্যাব-১০ এর একটি দল শুক্রবার রাত থেকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে তারা জানায়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার সময় তারা ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে থাকে।

পরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে জানিয়ে ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশ্নপত্র সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম চেক, নগদ টাকা গ্রহণ, ছাত্র-ছাত্রীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ভর্তিচ্ছুদের অভিভাবকদের ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে নেয়। এরপর তারা ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইভার জাতীয় অ্যাপস্ ব্যবহার করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই বুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে থাকে। অভিযানের সময় গ্রেফতারদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের তিন কোটি পঞ্চাশ লাখ ২৫ হাজার টাকার ৪৬টি চেক, ৬টি ব্ল্যাঙ্ক চেকসহ, পরীক্ষার্থীদের ২২টি অ্যাডমিট কার্ড, ২২টি একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রশংসাপত্র, ৫ সেট কথিত প্রশ্নপত্র, ৬টি মোবাইল ফোন ও একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

 

বিদেশি টিভিতে বিজ্ঞাপন বন্ধে পদক্ষেপ নয় কেন: হাই কোর্ট

দেশে সম্প্রচারিত বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর বেঞ্চ এ রুল জারি করে। তথ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বিটিভির মহাপরিচালক ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

একলাছ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের যেসব চ্যানেল বিদেশে সম্প্রচার করা হয়, সেগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা সংবাদ ও অনুষ্ঠান ছাড়া কোনো বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করা হয় না। অথচ বাংলাদেশে সম্প্রচারিত সব বিদেশি চ্যানেলে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করা হচ্ছে। এটা ‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’ এর লঙ্ঘন। ফলে আদালত রুল জারি করেছে। ওই আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে গত ২০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করা হয়।

সম্প্রচার বা সঞ্চালনের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ সংক্রান্ত আইনটির ১৯ ধারা বলা হয়েছে, ‘সেবা প্রদানকারী ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যেসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার বা সঞ্চালন করিতে পারবে না তা নিম্নরূপ, যথা: (১৩) বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন।’ একলাছ ভূঁইয়া বলেন, এই আইন অনুসারে পরবর্তীতে ২০১০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় একটি বিধিমালা তৈরি করে। সেখানেও বিধি-নিষেধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি বিদেশি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে অহরহ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। কিছু কোম্পানিও বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে।

দেশি চ্যানেলে ভ্যাট/ট্যাক্স দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার হলেও বিদেশি চ্যানেলে সেটি হচ্ছে না। এতে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে দেশের টাকা ‘অবৈধভাবে’ বিদেশে ‘পাচার’ হয়ে যাচ্ছে অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিতে আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দেশে সম্প্রচারিত বিদেশি টিভি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। তা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের ‘অনাপত্তি ও অনুমতিমত্র’ এবং লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়।

 

রাজধানীতে ২৮ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হচ্ছে- মাদকবিক্রেতা চক্রটির প্রধান জাহিদ ও তার সহযোগী পাপিয়া, ফেরদৌস, মুসা ও রফিক। গত শুক্রবার দিনগত রাতে তাদের উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব-১।

র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে চক্রের প্রধান জাহিদ ও এক নারীসহ তার চার সনহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা র‌্যাবকে জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিল। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের নামও বলেছে তারা। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

সরকার বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করেছে : মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার: সরকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বেহাল অবস্থা করে দিয়ে বিচার বিভাগের সম্মান, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি নস্যাৎ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের উদ্যোগে ‘চলমান সংকটের সমাধান কোন পথে’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, ন্যায় বিচারের প্রতীক, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির যে বেহাল অবস্থা বর্তমান সরকার করেছে, তার ফলে সর্বোচ্চ আদালতের তথা বিচার বিভাগের সম্মান-মর্যাদা-ভাবমূর্তি নস্যাৎ হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নালিশের অন্যতম কারণ হচ্ছে-তিনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একজনের জন্য হয় নাই, সকলের জন্য হয়েছে।

এটা কী তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন? এই কথাটা বলাতেই তাদের (সরকার) এতো বিদ্বেষ ও ক্ষোভ তাঁর (প্রধান বিচারপতি) বিরুদ্ধে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের অযৌক্তিকতা তুলে ধরে মওদুদ আহমদ বলেন, গুটি কয়েক মানুষ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সবাই ত্যাগ স্বীকার করেছেন; শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র, দেশের সব শ্রেণির মানুষ, সবাই ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

 সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, আহমেদ আজম খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুণ রায় চৌধুরী, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

বার অ্যাসোসিয়েশন একটি রাজনৈতিক দলের কব্জা হয়ে গেছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে উদ্বেগ তারা নিজেরা তৈরি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের এই বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ উদ্বেগ তারা নিজেরা-নিজেরাই তৈরি করেছেন। আমাদের আইনজীবীদের দেখতে হবে আদালত ঠিকমত চলছে কিনা। আদালতের কার্যাক্রম ঠিকমত হচ্ছে। কাজেই এখানে উদ্বেগের কী থাকবে?

আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, আমাদের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি যিনি আছেন আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, তিনি যদি মনে করেন বেঞ্চ রদবদল করবেন, তাহলে তিনি করতে পারবেন। এটা স্বাভাবিক নিয়মে সবসময় যেভাবে হয় সেভাবেই হবে। এতে কোনও অসুবিধা নেই বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, আজকে (বুধবার) পাঁচ বিচারপতির একটি বেঞ্চে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তাতে ১০০ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একজন বিচারপতির জন্য বিচার বিভাগ থেমে থাকে না। আরেক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, কোনও বিচারপতি ছুটিতে গেলে সেটা নিয়ে রাজনীতি করার তো কিছু নাই। আমি আগেও বলেছি, যারা রাজনীতি করছেন, তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করছেন। আমাদের বার অ্যাসোসিয়েশন একটি রাজনৈতিক দলের কব্জা হয়ে গেছে। তারা সেই দলের নানারকম কার্যালয় চালিয়ে যাচ্ছে। কাদের মোল্লার স্ত্রী-স্বজনদের নিয়ে বারের অডিটোরিয়াম ব্যবহার করা, য্দ্ধুাপরাধের মামলার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া,এটা কি কোনও সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ? এটাতো তারা করেছেন!প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে ছুটি নিয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা কী, তা জেনেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, এটাতো আমার দায়িত্ব না। প্রধান বিচারপতি কোথায় থাকবেন, কোথায় আছেন, সেটাতো আমার দায়িত্ব না। আমার দায়িত্ব আদালতের মামলা করা। এ বিষয়ে যারা বেশি উৎসাহী তারা খুঁজে দেখুক। এক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, প্রধান বিচারপতি কোথায় আছেন, সেটা আমার জানার কথা না আপনার এমন বক্তব্যে আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেছেন তিনি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, তিনিই যদি না জানেন, তাহলে অন্য কারও পক্ষে জানা সম্ভব কিনা।

এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার এ বক্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং এটা নিয়ে তারা অতিরঞ্জিত করে বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি সকাল নয়টায় কোর্টে আসি। প্রায়ই রাত নয়টা পর্যন্ত আমাকে থাকতে হয়। আমি তো কারও দারোয়ান না। কে কোথায় আছে, না আছে বা আজকে কোন বিচারপতি আসলেন না বা বিচারপতি কোথায় গেলেন। এই খোঁজ খবর নেওয়ার দায়িত্ব তো আমার না। পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগে মামলার জট বাড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত নিম্ন আদালত থেকে মামলার জট শুরু হয়। আপিল বিভাগে কোনও মামলা পেন্ডিং আছে, সেজন্য রাষ্ট্রের কোনও কাজ ব্যাহত হয়েছে, এ রকমতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। যে মামলাগুলো তাড়াতাড়ি শুনানি করা দরকার, সেগুলো তো আমরা মেনশন করে তাড়াতাড়ি শুনানি করি। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যখন আসবে তখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কোর্টকে জানাবো। কোর্টের সিদ্ধান্ত আবার মন্ত্রণালয়ে জানাবো।

প্রচন্ড চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে : এড. জয়নুল

প্রধান বিচারপতিকে প্রচন্ড চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ‘জরুরি সভা’ শেষে সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের আইনজীবী সমিতি মনে করে তাঁর (প্রধান বিচারপতি) ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, তিনি যাতে এক মাসের জন্য ছুটিতে চলে যান। আপনারা জানেন, জাতি জানে, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে যে- একটি জাজমেন্টের পর তাঁকে একটি রাজনৈতিক দল, সরকার বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছিল। আমরা মনে করি, সেই চাপের অংশ হিসেবে গত সোমবার তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি ছুটিতে যাননি, তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে। সেজন্য মঙ্গলবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রকৃত রহস্য জানার এবং জাতির কাছে তা প্রকাশ করার জন্য আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ব্রিফিংয়ে সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনও কথা বলেন।

এদিকে, সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত এক নাগরিক মানববন্ধনে নিরাপত্তার নামে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে আড়াল করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, দেশবাসী জানেন এস কে সিনহা আমাদের প্রধান বিচারপতি। তাঁর ব্যাপারে গত সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত যে বিতর্কের শুরু হয়েছে সেটা প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকার পরিষ্কার করবেন- এটা আমরা প্রত্যাশা করি।

নিরাপত্তার নামে তাঁকে (প্রধান বিচারপতি) আড়াল করা হয়েছে। দুদু অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং আইনজীবী নেতৃবৃন্দ-কাউকে তাঁর (প্রধান বিচারপতি) সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব শহীদুননবী ডাবলুর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা, কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) এএসএম শামীম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

স্ত্রীকে ফাঁসাতে নিজ শিশু সন্তানকে বাবার অপহরণ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে স্ত্রীর সাথে দ্বন্দ্বের জের ধরে ৩৯ দিন বয়সী নিজ শিশু সন্তানকে অপহরণ করেছে এক মাদকাসক্ত বাবা। তার নাম সম্রাট। পুলিশ সম্রাট ও ময়না নামে তার এক সহযোগীকে গ্রেফতারসহ মাহির পিয়াশ নামের ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে। অপহরণের একদিন পর মঙ্গলবার শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয় পুলিশ। স্ত্রীকে ফাঁসাতে এই অপহরণ নাটক করেছিল সম্রাট- এমন কথাই জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাট মাদকাসক্ত হওয়ায় এ নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীর সাথে বাকবিতন্ডা হতো। ঝগড়ার একপর্যায়ে মাস-দুয়েক আগে স্ত্রী পাখিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন সম্রাট। পাখি গিয়ে উঠেন বান্ধবীর বাসায়। সেখানেই জন্ম হয় মাহিরের। এরপর পাখি যোগাযোগ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ শিশু সন্তানকেই অপহরণ করেন সম্রাট। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিশুটি অপহৃত হয়। শিশুর মা বিষয়টি পুরিমকে জানান। এরপর থেকেই যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জোর তৎপরতা শুরু করে। শিশুর ছবি দেখার পর নিজের সন্তানের কথা মনে পড়ছিল বারবার। আমিসহ আমার অফিসাররা গত ২৬ ঘণ্টায় দুই ঘণ্টাও ঘুমাতে পারিনি। আমাদের তৎপরতায় মানুষরূপী পশুর দল ছোট্ট মাহিরকে একটি বিশেষ জায়গায় রেখে যেতে বাধ্য হয়। পরে সোমবার মধ্যরাতে আমরা মাহিরকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছি। আর সম্রাট ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছি।’

 

সফটওয়্যার কোম্পানীর আড়ালে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন, গ্রেফতার ১১

স্পেনে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে সফটওয়্যার কোম্পানি সিনটেক- এর মালিক বাংলাদেশী নাগরিক আতাউল হক সবুজকে গ্রেফতারের পর সেখানকার পুলিশের দেয়া তথ্যে দেশে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এদের মধ্যে ৭ জন সবুজের মালিকাধীন বাংলাদেশে অবস্থিত ওয়াইমি নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত। অন্যরা তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছিল। শনিবার ভোরে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেলাল উদ্দিন (২৯), আল আমিন (২৩), ফয়সাল ওরফে তুহিন (৩৭), মঈন খান (৩৩), আমজাদ হোসেন (৩৪), নাহিদ (৩০), তাজুল ইসলাম (২৭), জাহেদুল্লাহ (২৯), আল মামুন (২০), আল আমিন (২৩) ও টলি নাথ (৪০) নামের ওই ১১ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪।  বেলা ১১টায় র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

ওই র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ‘স্পেনের আইটি কোম্পানি সিনটেক ও বাংলাদেশের ওয়াইমি একই মালিকের প্রতিষ্ঠান। মালিকের নাম আতাউল হক সবুজ। সে স্পেনে বসবাস করে। তার কোম্পানি সিনটেকের মাধ্যমে ওয়াইমি অর্থ পাঠাতো। যার ৪৭ শতাংশ বেতন ও অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় হতো। বাকিটা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন হতো। আটকদের মধ্যে ৭জন ওয়াইমির ও বাকিরা অন্য প্রতিষ্ঠানের।’

র‌্যাব মুখপাত্র আরও জানান, একই মালিকের দুই প্রতিষ্ঠানে স্পেন ও বাংলাদেশে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একইসঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে। স্পেনে আতাউল হক সবুজকেও আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজকে দেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তারা কিভাবে জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সমস্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আটক করেছি।’

র‌্যাব জানায়, সাইফুল ইসলাম সুজন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক বছর দুয়েক আগে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে সিরিয়াতে মারা যায়। এই ঘটনায় সুজনের বাবাকে আটকও করেছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সুজন তখন আইব্যাক নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি চালাতো। বাংলাদেশসহ নয়টি দেশে শাখা ছিলো কোম্পানিটির। পরে সুজন মারা গেলে বন্ধ হয়ে যায় আইব্যাক। র‌্যাবের দাবি, ওইসময় তার ভাই আতাউল হক সবুজ বিদেশে পালিয়ে যায়। নতুন করে ওয়ামী নামে একটি সফটওয়্যার ফার্ম খোলে সে। যেখানে যোগ দেয় আইব্যাকের বেশিরভাগ কর্মী। র‌্যাব স্পেনে বসে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সবুজ আটক হলে তাদের দেয়া তথ্যে দেশে অভিযান চালিয়ে এই ১১ জনকে আটক করে তারা।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আতাউল হক সবুজ হলো আগে যে আইবেক ছিলো সেই অংশের দেখা-শুনা করতো। তার ভাই যখন সিরিয়াতে নিহত এবং যখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তখন সে স্পেনে চলে যায়। সেখানে গিয়ে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান খুলে। বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ওই নতুন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকে।

র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতার ১১ জনের মধ্যে সাত জন ওয়ামীতে কর্মরত। বাকিরা বিভিন্নভাবে তাদের সহায়তা করতো। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত জঙ্গি নেতা বাসারুজ্জামান চকলেটের কাছে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছিলো তামিম চৌধুরীকে পৌঁছে দেয়ার জন্য। সেই টাকার পেছনেও এই চক্রটি জড়িত বলে দাবি র‌্যাবের। গ্রেফতার ১১জনকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি অর্থায়নের দেশি বিদেশি বিভিন্ন উৎস সর্ম্পকে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা র‌্যাব কর্মকর্তাদের।

 

প্রতীকী বিচারে গণহত্যায় দোষী সু চির সরকার

করতোয়া ডেস্ক: প্রতীকী বিচারে মিয়ানমারের অং সান সু চি সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীকে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ‘দোষী সাব্যস্ত’ করেছে কুয়ালালামপুরের ‘আন্তর্জাতিক গণ-আদালত’। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা, কাচিন, কারেনসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ২০০ মানুষের জবানবন্দি শুনে এবং  বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে রোমভিত্তিক সংগঠন পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের (পিপিটি)  সাত ‘বিচারকের’ প্যানেল গতকাল শুক্রবার এই প্রতীকী রায় ঘোষণা করে।

মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয় ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিন এই গণ আদালতের শুনানি চলে। ট্রাইব্যুনালের সভাপতি আর্জেন্টিনার সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন শুক্রবার গণ আদালতের প্রতীকী ‘রায়’ ঘোষণা করে বলেন, তাদের বিচার মিয়ানমারের শাসক গোষ্ঠী গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এই প্রতীকী বিচারের রায় মানার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা কারও নেই। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত-প্রক্রিয়ায় যুক্ত আইনবিদ, অধিকারকর্মী ও গবেষকরা এই গণ আদালতে মিলিত হয়েছিলেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান দমনাভিযান বন্ধের দাবি নিয়ে।

 আগুন জ্বলছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার গর্জনদিয়া, সারাপাড়া, বড়ডিল ও খোনাকারাপাড়া গ্রামে। পিপলস ট্রাইব্যুনালের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকও এই শুনানিতে বিবৃতি দেন। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তিনি কুয়ালালামপুরে তুলে ধরেন।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসের সাবেক সভাপতি দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন ছাড়াও এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেলে ছিলেন ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত-প্রক্রিয়ায় যুক্ত মালয়েশীয় অধিকারকর্মী জুলাইহা ইসমাইল, ঢাকার সেন্টার ফল স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিসের উপদেষ্টা কম্বোডীয় আইনজীবী হেলেন জার্ভিস, অস্ট্রেলিয়ার মেকুইয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান গিল এইচ বোয়েরিঙ্গার, ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার আইনজীবী নুরসিয়াবানি কাতজাসুংকানা, ইরানের মানবাধিকার কর্মী আইনজীবী সাদি সদর এবং ইতালির সুপ্রিম কোর্টের সলিসিটর জেনারেল নেল্লো রোসি। মালয়েশিয়ার স্টার জানিয়েছে, মিয়ানমারে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে ১৭ দফা সুপারিশ করেছে পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল।

  জাতিসংঘের একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ দলকে মিয়ানমারে গিয়ে পূর্ণ তদন্ত চালানোর সব ধরনের সুযোগ দেওয়ার কথাও সেখানে রয়েছে। পিপলস ট্রাইব্যুনাল বলেছে, মিয়ানমার সরকারকে তাদের সংবিধান সংশোধন করে সব জাতিগোষ্ঠীকে নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়াসহ যেসব দেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভার বহন করছে, তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে পিপলস ট্রাইব্যুনালের সুপারিশে।

 গণ আদালতের সুপারিশ তুলে ধরে অধ্যাপক বোয়েরিঙ্গার বলেন, গণআদালতের বিচারে উঠে আসা সমস্ত তথ্য-প্রমাণ, রায় এবং সুপারিশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হবে, যাতে তারা মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিতে পারে। এই প্রতীকী বিচার কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা মালয় ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিভিলাইজেশন ডায়ালগের পরিচালক চন্দ্র মোজাফফর এই রায়কে মিয়ানমার সরকারের  অপরাধ চিহ্নিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

আসিয়ান বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের মত আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই পিপলস ট্রাইব্যুনালের তথ্য-প্রমাণ কাজে লাগানো যাবে বলেও তিনি মত দেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ১৯৭৯ সালে ইতালির বোলোনিয়ায় যাত্রা শুরু করে পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে এ পর্যন্ত ৪৩টি প্রতীকী বিচারের আয়োজন করেছে এ সংগঠন।

 

রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারেন : আইনমন্ত্রী

শান্তিপূর্ণভাবে আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান চাই’ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন-নিপীড়ন ও দেশত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারেন।

রোববার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
‘রোহিঙ্গা নির্যাতন যদিও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় কিন্তু যেভাবে নির্বিচারে শিশুসহ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, এটা হতে পারে না’- যোগ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছি। একাত্তর সালে আমাদের সঙ্গে যেমনটি ঘটেছিল, তেমনটি এখন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আমরা ঘটতে দেখছি।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা রোহিঙ্গাদের বিষয়। রোহিঙ্গারাই আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার বিষয়টি চিন্তা করবে। এ ধরনের অনেক নজিরও রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট কয়েকটি পুলিশ পোস্টে হামলার অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে এখন পর্যন্ত তারা প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। বাদ যায়নি নিরীহ নারী ও শিশু।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মমতায় প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

ষোড়শ সংশোধনী : রিভিউ করবে সরকার

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে অ্যাটার্নি জেনারলকে চিঠি দেব রিভিউ করার জন্য। এটি হবে আমাদের রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।’

‘আপনারা (সাংবাদিকরা) জানেন রায়ে ৭৯৯ পৃষ্ঠা রয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমরা এ রিভিউ করব।’

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকছে না। এই ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৩ জুলাই খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

রায় ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়’ উল্লেখ করে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার চিন্তা-ভাবনার কথা জানান।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। ‘বিচারকদের পদের মেয়াদ’-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বিল অনুসারে, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ দফায় বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান রাখা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রমাণিত ও অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাবে না।’ ৩ দফায় বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব-সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবে। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। আপিলের ওপর গত ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১১তম দিনে গত ১ জুন শেষ হয়। ওই দিন আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। গত ৩ জুলাই রায়ের সংক্ষিপ্তসার ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বাসা ভাড়া দেয়া বা পরিবহনও নয় ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নিষেধ : পুলিশ সদর

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা তাদের জন্য নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান বা বাসাবাড়ি ভাড়া করে অবস্থান করতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দফতর। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) সোহেলী ফেরদৌস স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্টস্থানে বসবাস, খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যাম্পে অবস্থান করবে। তাদের অবস্থান ও গতিবিধি শুধুমাত্র কক্সবাজারের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকবে। তারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে অবস্থান বা আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবেন না। তাদের নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে কেউ বাসা ও  বাড়ি ভাড়া দিতে পারবেন না। এছাড়া রোহিঙ্গারা নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে অন্যান্য জায়গায় যাতায়াত করতে পারবেন না।

তারা সড়ক, রেল ও নৌপথে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গমনাগমন করতে পারবেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের পরিবহনের চালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে রোহিঙ্গাদের পরিবহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থানের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোরও অনুরোধ করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও গণহত্যা থেকে বাঁচতে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে কক্সবাজার অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর রোহিঙ্গাদের অনেকেই কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

বনানীতে অভিনেত্রী ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন দাখিলে ফের তারিখ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানীতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে এক অভিনেত্রী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি বাহাউদ্দিন ইভানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। গতকাল সোমবার নির্ধারিত দিনে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সুলতানা আক্তার প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব ৩ অক্টোবর নতুন দিন রাখেন বলে আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মান্নান। এ মামলায় গ্রেফতার আসামি ব্যবসায়ীপুত্র বাহাউদ্দিন ইভান ইতোমধ্যে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

 আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে তোলাপাড়ের দুই মাসের মধ্যে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এনে ইভানের বিরুদ্ধে গত ৪ জুলাই বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন এক তরুণী। এরপর গত ৬ জুলাই বিকালে র‌্যাব-১ ও ১১ এর যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে ইভানকে গ্রেফতার করা হয়। এর পরদিন তাকে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।রিমান্ড শেষে গত ১২ জুলাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ইভান।

 

বিজিএমইএ-এর ভবন সরানো নিয়ে আবেদনের শুনানি ৫ অক্টোবর

স্টাফ রিপোর্টার: তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ হাতিরঝিলে বেআইনিভাবে গড়ে তোলা তাদের ভবনটি ভাঙার জন্য আরও এক বছর সময় চেয়ে যে আবেদন করেছে, আপিল বিভাগে তার শুনানি হবে ৫ অক্টোবর।চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গতকাল সোমবার বিজিএমইএ-এর আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানির জন্য এই দিন ঠিক করে দেন। কার্যালয় সরিয়ে নিতে বিজিএমইএ এর আগে তিন বছর সময় চাইলেও আপিল বিভাগ তাদের ছয় মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ করতে বলেছিল।

 সোমবার সেই ছয় মাস সময় শেষ হওয়ার আগে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ২৩ অগাস্ট এই আবেদন জমা দেয় বিজিএমইএ। বিজিএমইএ-এর পে অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী চে¤॥^ার আদালতে শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম জানান, উচ্চ আদালতে বর্তমানে অবকাশ চলায় চে¤॥^ার আদালত ছুটির পরে শুনানির তারিখ ঠিক করে দিয়েছে। এর ফলে ভবন ভাঙতে আপিল বিভাগের নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ের পরও আরও প্রায় এক মাস সময় পেল বিজিএমইএ।

 

মেডিকেলে ভর্তিতে নম্বর কাটা নিয়ে আদেশ আজ

স্টাফ রিপোর্টার: মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোর ভর্তি পরীায় অংশগ্রহণকারীদের মেধা তালিকা তৈরির সময় দ্বিতীয় বারের পরীার্থীদের ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈধ কি না সে বিষয়ে মঙ্গলবার আদেশ দেবে হাই কোর্ট। এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের অবকাশকালীন বেঞ্চে শেষ হয়। আদালতে রিট আবেদনের পে শুনানি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ; রাষ্ট্রপে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।

পরে ইউনুস সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিতীয় বার এমবিবিএস ভর্তি পরীায় অংশগ্রহণকারীদের প্রাপ্ত ন¤॥^র থেকে মেধা তালিকা তৈরির সময় ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্বান্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী যুক্তি দেখিয়ে এটাকে বেআইনি ঘোষণার জন্য নির্দেশনা চেয়ে ২৭ আগস্ট হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়। আজ সেটির শুনানি হয়েছে; আদালত আগামীকাল এ বিষয়ে আদেশে দেবেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার জানান, মঙ্গলবার আদেশের আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে শুনানি করতে পারেন।

 রিট আবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ শিাবর্ষ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির আবেদন আহ্বান করে গত ২১ অগাস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর প্যারায় বলা হয়, এমবিবিএস বা বিডিএস ভর্তি পরীায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারীদের সর্বমোট ন¤॥^র থেকে ৫ ন¤॥^র কেটে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। রিটে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীায় অংশগ্রহণকারীদের মেধাতালিকা থেকে ৫ ন¤॥

^র কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে; তার সঙ্গে ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (চিকিৎসা শিা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বিবাদী রাখা হয়েছে।

 

রাজধানীতে ২ জঙ্গি গ্রেফতার গাড়ি হামলার পরিকল্পনা, বিচ্ছিন্নভাবে তৎপর জেএমবি : পুলিশ

রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাইম আহমেদ ওরফে আনাস ওরফে আবু হামজা ওরফে আরিশা কুনিয়া এবং আনোয়ার হোসেন নামের এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩০টি ডেটোনেটর (বিস্ফোরক) ও উগ্রবাদী মতাদর্শের বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেফতাররা গাড়ি বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিলো বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতার নাঈম আহমেদ গুলশানের হলি আর্টিজান হামলা মামলার অন্যতম আসামি বাশারুজ্জামান চকলেটের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০১৫ সালে তারা একই আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। গত বছরের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় যারা নিহত হন, তাদের সঙ্গে নাঈমও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। মনিরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, বাশারুজ্জামান চকলেট চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশি অভিযানে নিহত হয়েছেন। সিরিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত সাইফুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে বিভিন্ন সময় নাঈমের যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি জানান। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, অপর আসামি আনোয়ার হোসেন সাভারের হেমায়েতপুরে একটি মোটর গ্যারেজের মালিক। ২০১৫ সাল থেকে তিনি নব্য জেএমবিতে যুক্ত হন। নব্য জেএমবির শুরা সদস্যদের পরামর্শে গাড়ি হামলার জন্য তিনি তার গ্যারেজ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেন। গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর নব্য জেএমবির সদস্যরা গাড়িবোমা হামলারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যারা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাদের বড় অংশ নিহত হয়েছে বা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জেএমবির সারোয়ার জাহান, রিপন, নোমান, আল-বানী ও ডনের যোগাযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গত সোমবার মিরপুরের দারুস সালামের মাজার রোডে র‌্যাবের অভিযানে নিহত ‘আবদুল্লাহ’র সঙ্গেও ডনের পরিচয় ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা করার সামর্থ্য এখন প্রায় নেই। তবে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের তৎপরতা আছে। নোয়াখালীতে একজন পীর খুন হওয়ার ঘটনায় নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। জঙ্গিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, নব্য জেএমবির শূরা সদস্যদের পরামর্শে গাড়ি হামলার জন্য আনোয়ার হোসেন তার গ্যারেজে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলো। এই ধরণের পরিকল্পনার কথা সে স্বীকার করেছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মিরপুরে পোশাককর্মীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

রাজধানীর মিরপুরের রাইনখোলা এলাকার একটি গ্যারেজে নিয়ে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে জানিয়ে শাহ আলী থানার এসআই রোকসানা আকতার বলেন, ওই পোশাককর্মী ও তার বড় বোন রাতে কানের দুল ঠিক করাতে রাইনখোলার সি ব্লকের বাজারে একটি গহনার দোকানে গিয়েছিলেন। দুল ঠিক করতে দেরি হওয়ায় ছোট বোনকে সেখানে রেখে বড় বোন বাসায় ফিরে যান।

এরপর তিন যুবক সেখানে আসে। তারা কথা আছে বলে এক মিনিট সময় চায় এবং ‘ক’ ভবনের পেছনে একটি রিকশা গ্যারেজে নিয়ে ওই পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করে। ওই যুবকদের কথোপকথনের সূত্র ধরে ওই নারী পুলিশকে জানায়, ধর্ষণকারী ব্যক্তির নাম রনি এবং তার সঙ্গে ছিল বেপারী বাবু ও রুবেল ওরফে রনি। এসআই রোকসানা বলেন, ‘এলাকার লোকজনের সহায়তায় পুলিশ প্রথমে ভন্ড রনি এবং পরে বেপারী বাবু ও রুবেলকে গ্রেফতার করে।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

নাইকোর সঙ্গে চুক্তি অবৈধ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে এক দশকের বেশি সময় আগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের করা দুটি চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট। আদালত বলেছে,  সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় নাইকোর গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিম্ন আদালতে বিচারাধীন দুটি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা যাবে না। আর ওই দুই চুক্তির আওতায় নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশের সব সম্পত্তি এবং ৯ নম্বর ব্লকে থাকা নাইকোর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনে গতবছর দেওয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে একটি ছিল বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের (জয়েন্ট ভেনচার) চুক্তি। গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে অন্য চুক্তি হয়েছিল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম ওই দুই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতবছর মে মাসে জনস্বার্থে এক রিট আবেদন করেন। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি করে চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ। সেই সঙ্গে ওই চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশকে তার জবাব দিতে বলা হয়। সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেয় হাই কোর্ট, যাতে চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে নাইকোর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর নাইকোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন গণিও শুনানিতে ছিলেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, ‘এটা স্বীকৃত যে নাইকো দুর্নীতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০৩ সালে যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং গ্যাস ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি করে। এ কাজে নাইকো বাংলাদেশে তাদের তৎকালীন এজেন্ট কাসেম শরীফের সঙ্গে চার মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছিল। তাকে পরে নাইকো বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এটা স্বীকৃতি যে  কাজ পাওয়ার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে উৎকোচ দেওয়া হয়েছিল। যদিও নাইকো বলেছে যে উৎকোচ নয়, উপহার হিসেবে তারা তা দিয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের উপহার সামগ্রী দেওয়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন।’

কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস ২০০৩ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্সকে সঙ্গে নিয়ে ফেনী ও ছাতকে গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের দায়িত্ব পায়। ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে নাইকোর ৮০ শতাংশ এবং বাপেক্সের ২০ শতাংশ মালিকানা ছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল নাইকো। কিন্তু তাদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকে দায়ী করে আদালতে যায় পেট্রোবাংলা। সেই মামলায় ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। সেইসঙ্গে ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে নাইকোর সরবরাহ করা গ্যাসের দাম পরিশোধ করা বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই অর্থ পরিশোধের দাবি নিয়ে নাইকো আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করলে ২০১৪ সালে নাইকোর পক্ষে রায় আসে। সেখানে বলা হয়, নাইকোর পাওনা ২১৬ কোটি টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। সংবাদমাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী, নাইকো কুমিল্লার বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রে তাদের অংশ বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে পেট্রোবাংলা তাতে আপত্তি তোলে। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর তখনকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০০৫ সালের ১৮ জুন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন মোশাররফ।

পরে কানাডার আদালতে নাইকো স্বীকার করে যে, ২০০৫ সালের মে মাসে মোশাররফকে প্রায় ২ লাখ ডলার দামের একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার উপঢৌকন দিয়েছিল তারা। এর বাইরেও বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ বাবদ ৫ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল তাকে। ঘুষ দেওয়ার কারণে কানাডার আদালতের রায়ে নাইকোকে ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। নাইকোকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে একটি মামলা করে দুদক, যাতে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলা বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে রয়েছে। নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল দুদক। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০১০ সালের মার্চে হাই কোর্ট ওই মামলা বাতিল করে দেয়।

এই বিভাগের আরো খবর

নাইকোর সঙ্গে চুক্তি অবৈধ: হাই কোর্ট

কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে এক দশকের বেশি সময় আগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের করা দুটি চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনে গতবছর দেওয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা।

এর মধ্যে একটি ছিল বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে (জয়েন্ট ভেনচার) কাজের চুক্তি। গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে  অন্য চুক্তি হয়েছিল।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম ওই দুই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতবছর মে মাসে জনস্বার্থে এক রিট আবেদন করেন।

ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি করে চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

সেই সঙ্গে ওই চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশকে তার জবাব দিতে বলা হয়।

সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দিল হাই কোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর নাইকোর পক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন গণি।

বিস্তারিত আসছে

এই বিভাগের আরো খবর

ভেজাল ওষুধে ২৮ শিশুর মৃত্যু ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট

রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যু ঘটনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবকে আজ বৃহস্পতিবার ফের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  বুধবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের দুই কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। সচিবের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী।

গত ২১ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে তলব করেন হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আদালতে হাজির হন সচিব।ওই দুই কর্মকর্তা হলেন- ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন। ব্যাখ্যার শুনানিকালে আদালত বলেন, ১৬ মার্চ থেকে বিবাদীরা বসে আছেন। কোনও ব্যবস্থা নেননি। ওই ঘটনায় মোট ৭৬ শিশু মারা গেছে। আপনি (দুই কর্মকর্তা) বহাল তবিয়তে আছেন। আর  বলছেন, দেখতেছি। এ সময় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আগে সতর্ক, তারপর বরখাস্ত। সতর্ক না করলে জটিলতার সৃষ্টি করতো। তখন আদালত বলেন, ‘আপনি তো (দুই কর্মকর্তা) জামাই আদরে আছেন। আদালতকে মনজিল মোরসেদ জানান, দু’জনকে বদলি বা সাসপেন্ড কিছুই করা হয়নি। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার এ বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। আদালত বলেন, ‘কোর্টকে আর খাটো করার চেষ্টা করবেন না। মার্চ থেকে বলে আসছি। এক পর্যায়ে কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার আগে শোকজ, তদন্ত আছে। আমরা ব্যাখা তৈরির জন্য সময় পাইনি। আমাদের সময় দরকার। তখন আদালত বলেন, ২৪ আগস্ট যথাযথভাবে ব্যাখ্যা দেবেন। ৭৬ শিশু মারা গেল। আপনার (সচিব) ছেলে-মেয়ে এখানে থাকে না। যারা মারা গেছে, এরা কি মরার জন্য জন্মেছে? এটা দুর্ভাগ্যজনক।

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top