ভোর ৫:১৯, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ খুলনা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাহবুব আফাজ নামে এক ভুয়া ডাক্তারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল মারুফ এ জরিমানা করেন।

সোহেল মারুফ  জানান, ভেড়ামারা শহরে বিভা ফার্মেসিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় কাগজপত্র না থাকা এবং ডাক্তার না হয়েও প্রেসক্রিপশন লেখা ও ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার অপরাধে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ওষুধের দোকানের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় আরো তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

 

সুন্দরবনের ‘দস্যু গামা বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় সুন্দরবনে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘বনদস্যু’ গামার মৃত্যু হয়েছে। কয়রা থানার ওসি মো. এনামুল হক জানান, সুন্দরবনের আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর ভায়লার খাল এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পলাশ মণ্ডল ওরফে গামা (৪০) কথিত বনদস্যু মুন্নাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পুলিশের ভাষ্য। তবে পুলিশ তার ঠিকানা-পরিচয় বলতে পারেনি।

ওসি বলেন, “কদিন আগে বনদস্যু পলাশসহ মুন্নাবাহিনীর সদস্যরা এক জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভায়লার খাল এলাকায় অভিযান চালায়।

“সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুন্নাবাহিনীর সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘণ্টাখানেক বন্দুকযুদ্ধের পর তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ পলাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।”

পলাশের ঠিকানা-পরিচয় খোঁজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা

খুলনার দৌলতপুরের পাবলা এলাকায় অনুপ দাশ (২৬) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) ভোরে মহানগরীর কেশব লাল রোডে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অনুপ মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল। সোমবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে পাবলার তিন দোকানের মোড়ের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি তিনি।

ভোরে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ডিআইজির ক্রাইম টিম কাজ করছে বলেও জানান ওসি হুমায়ুন কবির।

খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ তরুণ নিহত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও দুই জন। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মিকশিমিল বাজার এলাকায় শনিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. হাবিল হোসেন।

নিহতরা হলেন ডুমুরিয়ার শোভনা গ্রামের জহুরুল মোড়লের ছেলে মোস্তাকিম মোড়ল (১৭) এবং চহেড়া গ্রামের তপন মন্ডলের ছেলে অসীম মন্ডল (১৮)।

আহত শোভনা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মোড়লের ছেলে খালেদ মাসুদ (১৬) ও খরসন্ডা গ্রামের আহম্মদ সরদারের ছেলে সবুজ সরদার (১৭) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. হাবিল হোসেন জানান, শনিবার দুপুরে দুটি মোটরসাইকেলে চার বন্ধু খুলনা থেকে ডুমুরিয়ার শাহপুর বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।

“খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মিকশিমিল বাজার মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় দুটি মোটরসাইকেল। রাস্তার পাশে গাছে ধাক্কা লেগে তারা চারজনই আহত হন।

“খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে দুজনের মৃত্যু হয়।”

 

স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা

সাতক্ষীরার তালায় স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

রোববার উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই নারীর মৃত্যু হয় বলে পাটকেলঘাটা থানার ওসি মোল্লা জাকির জানান।

মৃত মুন্নি খাতুন (২৫) উপজেলার খলিশখালি ইউনিয়নে বাগমারা গ্রামের মুছা গাজীর স্ত্রী।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পালিয়ে গেছেন মুছা।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরহাদ জামিল বলেন, ওই গৃহবধূর শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হচ্ছিল।

মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন্নি খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে তার একটি ছেলে হয়। এরপর থেকে মুছা দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে তাকে মারধর শুরু করে এবং বাবার বাড়ি চলে যেতে বলেন।

“এর জেরে শনিবার রাতে কথাকাটির পর তাকে মারধর করেন মুছা। এরপর ঘুমের মধ্যে মুছা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আত্মরক্ষার চেষ্টার সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তার শরীর কিছুটা পুড়ে যায়।”

তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এসে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে বলে মুন্নি জানিয়েছিলেন।

ওসি জাকির বলেন, মুছাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শিশু হাসমি হত্যায় মাসহ চার জনের ফাঁসির রায়

খুলনায় নয় বছরের শিশু হাসমি মিয়াকে হত্যার ঘটনায় তার মাসহ চারজনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোসাম্মাৎ দিলরুবা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে হাসমির মা সোনিয়া আক্তার, মো. নুরুন্নবী, মো. রসুল, মো. হাফিজুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি রাব্বি সরদারকে আদালত খালাস দিয়েছে।

২০১৬ সালের ৯ জুন খুলনা নগরীর কার্ত্তিককুল এলাকা থেকে শিশু হাসমির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে জানা যায়, নুরুন্নবীর সঙ্গে সোনিয়ার পরকীয়া প্রেমের জের ধরে মায়ের সামনেই গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয় হাসমিকে। পরে তার লাশ সিমেন্টের বস্তায় ভরে খুলনা বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সরদার ডাঙ্গা বিলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাসমির মা সোনিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।  আড়ংঘাটা থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান তদন্ত শেষে গতবছর ৩০ জুন হাফিজুরকে বাদ দিয়ে তিন জনের নামে অভিযোগপত্র দিলে তাতে নারাজি দেন হাসমির বাবা।

পুনরায় তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক মিঠু রানী দাসি গত ২৮ ডিসেম্বর সাত জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসার পর পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে গত ২ এপ্রিল বিচার শুরু করে আদালত।  

 

কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গি’ নিহত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন এক নব্য জেএমবি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। দৌলতপুর থানার ওসি শাহ দারা খান জানান, বোয়ালিয়া মাঠ এলাকায় গতকাল শুক্রবার ভোরের দিকে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসলাম আলী (৪২) জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর গ্রামের আছান আলীর ছেলে। ওসি দারা খান বলেন, একদল দুর্বৃত্ত নাশকতা সৃষ্টির জন্য বোয়ালিয়া মাঠ এলাকায় তিন রাস্তার মোড় বটতলায় গোপন বৈঠক করছে এমন গোপন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়।

 তারা পুলিশ দেখে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ আসলামকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তুল, দুটি গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করেছে বলে জানান ওসি দারা খান। তিনি বলেন, নিহত আসলাম নব্য জেএমবির সদস্য। তার বিরেুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই শরিফুল, এএসআই সুব্রত, কনস্টেবল সজিব ও নওশাদ আহত হয়ে প্রাথমিক নিয়েছেন বলে জানান ওসি দারা খান।

 

খুলনায় হত্যাকান্ডে সন্দেহভাজন অস্ত্রসহ গ্রেফতার

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যিনি একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নগরীর আকমানের মোড় থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আড়ংঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান। গ্রেপ্তার মিঠু মোল্লা (৪০) ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা সরদারপাড়া এলাকার আব্দুল করিম মোল্লার ছেলে। মিঠুর কাছ থেকে দুইটি বিদেশী পিস্তল, একটি পাইপগান, দশ রাউন্ড গুলি এবং দুইটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয় বলে পরিদর্শক মোস্তাক জানান।

 সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গত ৩১ মে আড়ংঘাটা বাইপাস সড়কের আকমানের মোড় থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তিকে মিঠু মোল্লা গুলি করে হত্যা করেছে এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আকমানের মোড় এলাকায় মিঠুর অবস্থানের গোপন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মিঠুর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা রয়েছে কি না তা জানতে বিভিন্ন থানায় খবর নেওয়া হচ্ছে বলে পরিদর্শক মোস্তাক জানান।

খুলনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা মহানগরের দৌলতপুরে ওয়াসার পানির পাইপ স্থাপনের কাজ চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল আউয়াল (৫০) নামে এক মোডিক্রেনের ড্রাইভারের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে দৌলতপুর কল্পতরু মার্কেটের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ওয়েজুল হক  জানান, ওয়াসার পানির পাইপ স্থাপনের কাজ চলাকালে ৩ হাজার ৩শ’ ভোল্টের বিদ্যুৎলাইনের সঙ্গে মোডিক্রেনের হেট লেগে যায়। এতে বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে আব্দুল আউয়াল মারা যান। খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ড্রাইভার আব্দুল আউয়াল এখানে একটি প্রল্পের আওতায় কাজ করতেন।

এই বিভাগের আরো খবর

৫৭ ধারায় মামলা: ডুমুরিয়া থানার ওসি প্রত্যাহার

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায়’ খুলনার ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে খুলনার পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা এ কথা জানান। গত ২৯ জুলাই সকালে ডুমুরিয়ায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কয়েকটি পরিবারের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

“বিতরণের দিন রাতেই একটি ছাগল মারা যায়। পরদিন সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়ল তার ফেইসবুকে প্রতিমন্ত্রীর একটি ছবি পোস্ট করেন এবং লেখেন, ‘সকালে ছাগল বিতরণ বিকালে মৃত্যু’।”

এ নিয়ে ডুমুরিয়া থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে আরেক সাংবাদিক সুব্রত ফৌজদার। পরে সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা মধ্যে বুধবার জামিন পেয়েছেন লতিফ মোড়ল।

পুলিশ সুপার বলেন, “সাংবাদিক লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি পুলিশ। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।”

খুলনার এ ঘটনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় কোনো মামলা নেওয়ার আগে পুলিশ সদর দপ্তরের আইনি পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা থানাগুলোকে দিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।

৫৭ ধারায় আলোচিত খুলনার সাংবাদিক লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে মামলাটিতে আইনের অপপ্রয়োগ হয়েছে বলে মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও মন্তব্য করেছেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

৫৭ ধারায় গ্রেফতার খুলনার সাংবাদিক লতিফের জামিন

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে জামিন দিয়েছে আদালত। লতিফের আইনজীবী ফরিদ আহমদে জানান, খুলনা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আমলি আদালত খ অঞ্চলের বিচারক নুসরাত জাবিন বুধবার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

মঙ্গলবার সকালে লতিফকে গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতে হাজির করলে আদালত বুধবার শুনানির দিন রেখে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আব্দুল লতিফ খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।

ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, সোমবার রাতে ডুমুরিয়া থানায় সুব্রত নামে এক ব্যক্তি এ মামলাটি দায়ের করেন। সুব্রত যশোর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক স্পন্দন’ পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি। ওসি বলেন, দুপুরে খুলনার বিচারিক হাকিম নুসরাত জাবিনের আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। ‘বুধবার জামিন শুনানির দিন রেখে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।’

এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, গত ২৯ জুলাই সকালে ডুমুরিয়ায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কয়েকটি পরিবারের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করা হয়।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। বিতরণের দিন রাতেই একটি ছাগল মারা যায়। পরদিন সাংবাদিক লতিফ মোড়ল তার ফেইসবুকে প্রতিমন্ত্রীর একটি ছবি পোস্ট করেন এবং লেখেন, ‘সকালে ছাগল বিতরণ বিকালে মৃত্যু’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন সম্পাদক পরিষদসহ গণমাধ্যমকর্মীরা। ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা। ফেইসবুক স্ট্যাটাস ও সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ৫৭ ধারায় মামলা হয় এবং কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ফেইসবুকে ছাগল মন্ত্রী নিয়ে স্ট্যাটাস সাংবাদিক কারাগারে

খুলনা প্রতিনিধি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বাতিলে গণমাধ্যমকর্মীদের দাবির মধ্যে খুলনায় আরেক সাংবাদিককে এ মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  মঙ্গলবার সকালে আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুপুরে আদালতে হাজির কররে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আব্দুল লতিফ খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।

ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, সোমবার রাতে ডুমুরিয়া থানায় সুব্রত ফৌজদার মামলাটি দায়ের করেন। সুব্রত যশোর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক স্পন্দন’ পত্রিকার খুলনার ডুমুরিয়া । ওসি বলেন, দুপুরে খুলনার বিচারিক হাকিম নুসরাত জাবিনের আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। বুধবার জামিন শুনানির দিন রেখে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, গত ২৯ জুলাই সকালে ডুমুরিয়ায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কয়েকটি পরিবারের মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। বিতরণের দিন রাতেই একটি ছাগল মারা যায়। পরদিন (রোববার) সাংবাদিক লতিফ মোড়ল তার ফেইসবুকে প্রতিমন্ত্রীর একটি ছবি পোস্ট করেন এবং লেখেন-সকালে ছাগল বিতরণ বিকালে মৃত্যু। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা। ফেইসবুক স্ট্যাটাস ও সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ৫৭ ধারায় মামলা হয় এবং কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

খুলনায় বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ২

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে বাস-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কের রাজবাত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরদার মোশারফ হোসেন বলেন, যাত্রীবাহী বাসটি খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যচ্ছিলো। এ সময় কৈয়ে বাজারের দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে ইজিবাইক চালকসহ এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। উদ্ধার করে মরদেহহগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

তাৎক্ষনিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি।

স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় আরও ৩-৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

খুলনায় ছিনতাইকারীর চোখ উপড়েছে জনতা

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা শহরের গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ডে এক ‘ছিনতাইকারীর’ দুই চোখ উপড়ে দিয়েছে স্থানীয়রা; যার নামে অর্ধডজন মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খালিশপুর থানার ওসি মো. নাসিম খান জানান, আহত মো. শাহজালাল ওরফে শাহকে (৩১) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে। শাহজালাল খুলনা শহরের খালিশপুর নয়বাটি রেল বস্তি এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।

ওসি নাসিম প্রাথমিক তদন্তের বরাতে বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুরাতন যশোর রোডের শুকুর আহমেদের স্ত্রী ও মেয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে এসে দুই ব্যক্তি তাদের ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তারা চিৎকার দিলে স্থানীয়রা গিয়ে শাহজালালকে ধরে পিটুনী দেওয়ার পর দুই চোখ তুলে ফেলে। তবে শাহজালালের সঙ্গী শুভ মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শাহজালালকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করায় বলে জানান ওসি নাসিম। শাহজালালের বিরুদ্ধে পিরোজপুর, খুলনা সদর ও ডুমুরিয়া থানায় হত্যা, ডাকাতি ও মাদকসহ অর্ধডজন মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার নামে দ্রুত বিচার আইনে খালিশপুর থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন শুরু

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা জেলা বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে মহানগরীর হোটেল টাইগার গার্ডেনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি এসএম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। এদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

খুলনায় বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত গুলিবিদ্ধ

খুলনায় বন্দুকযুদ্ধে দেলোয়ার হোসেন (৩০) নামে এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর কল্পতরু মার্কেটের মাঠে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলি, ২টি রামদা ও ১টি শাবল উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ দেলোয়ারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ ডাকাত দৌলতপুর এলকার আঞ্জুমান রোডের নুরু পাটোয়ারীর ছেলে। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় হত্যা প্রচেষ্টা, ডাকাতি ও মাদকসহ ৫টি মামলা রয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির জানান, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে একদল ডাকাত দৌলতপুর কল্পতরু মার্কেটের মাঠে বসে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের একটি দল কল্পতরু মার্কেটের মাঠে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে এলোপাতাড়িভাবে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়।

ডাকাতদের গুলিতে অপর ডাকাত দেলোয়ার হোসেন হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হন। কিছুক্ষণ পর ডাকাতরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেলোয়ারকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়।

বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের তিন সদস্য আহত হন বলেও জানান ওসি হুমায়ূন কবির। আহত পুলিশ সদস্যদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

খুলনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গ্রেপ্তার আসামিসহ নিহত ২

খুলনা শহরে গ্রেপ্তার আসামিকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ওই আসামিসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে; পৃথক ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও একজন।

মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র এডিসি মনিরা সুলতানা জানান, সোমবার ভোরের দিকে শহরের নূরনগর ও প্রভাতী স্কুল এলাকায় গোলাগুলির এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন – শহরের সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. বাবু ওরফে গুড্ডু বাবু (৩৫) ও বাবলাদিয়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. আল মাহমুদ (২৪)।

খুলনা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী গুড্ডু বাবুকে সঙ্গে নিয়ে তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রাতে রেলওয়ে এলাকার প্রভাতী স্কুলের পেছনে অভিযানে যায় পুলিশ।

“সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে বাবু ও তার সহযোগী মাহমুদ আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এই দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।”

নিহতদের বিরুদ্ধে যুবলীগকর্মী সাইদুর হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, তিনটি গুলি ও চারটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে নূরনগর এলাকায়ও একটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, “শহরের নূরনগর এলাকায় রাতে অভিযানে গেলে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময় হয়। এ সময় পুলিশ অস্ত্র ও গুলিসহ গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী ইয়াসির আরাফাতকে (৩২) গ্রেপ্তার করে।”

আরাফাতের বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণসহ ছয়টি মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

এই বিভাগের আরো খবর

প্রেমের ফাঁদে অপহরণ প্রেমের ফাঁদে ধরা

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় অপহৃত এক গৃহবধূকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হয়েছেন – চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডু উপজেলার মতিন মিয়ার ছেলে পাভেজ ও বেলায়েত হোসেনের ছেলে রাসেদ কবিরাজ।সদর থানার এসআই রবিউল ইসলাম  বলেন, পারভেজ মোবাইল ফোনে মাগুরা সদর উপজেলার এক গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেন।

 গত ২৪ মার্চ তাকে মাগুরা থেকে বিয়ের কথা বলে নিয়ে যান। ওই নারীর সঙ্গে পারভেজ জোর করে শারীরিকভাবে মেলামেশা করেন। আর মাগুরায় ওই নারীর স্বামীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। তার স্বামী মাগুরা থানায় জিডি করলে পুলিশ ফাঁদ পাতে। পুলিশের সহযোগিতায় মাগুরার এক নারী পারভেজের সঙ্গী রাসেদের সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের অভিনয় করে তাকে মাগুরায় ডেকে আনেন বলে পুলিশের ভাষ্য। গত ২৫ মে রাসেদ মাগুরায় আসেন এই নারীকে টট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন মাগুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশ রাসেদকে গ্রেপ্তার করে।

 এসআই রবিউল বলেন, পরে রাসেদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সীতাকু-ে অভিযান চালিয়ে এক বাড়ি থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। আর অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। পারভেজ ও রাসেদসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে অপহরণ করে আসছে বলে জানান এসআই রবিউল। তিনি বলেন, তারা এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হবে বলে জানান এসআই রবিউল।

 

মাগুরায় অপহরণে ব্যর্থ হয়ে বাবা-মেয়েকে কুপিয়ে জখম

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা সদরে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করতে না পেরে তাকে ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে উত্তক্তকারীরা। উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে এ ঘটনা ঘটে। বাবা ও মেয়েকে মাগুরা সদর হাহপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সজীব মোল্লাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গাঙ্গনালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পাশ করা এই ছাত্রীর মা সাংবাদিকদের বলেন, ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে এলাকার সজীব মোল্লাসহ একদল বখাটে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রতিনিয়ত অশ্লীল প্রস্তাব দিয়ে এসেছে। তারা একাধিকবার তার মেয়ের হাত ও ওড়না ধরে টানটানি করেছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সজীব ও নাজমুলের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার মেয়েকে তুলে নিতে তাদের বাড়িতে চড়াও হয়।

এ সময় তারা তাদের বাধা দিলে গেলে সন্ত্রাসীরা প্রথমেই তার স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, কপাল, পিঠ, দুই হাতসহ বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে  তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে হামলাকারীরা মেয়েকে তুলে নিতে গেলে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে জাপটে ধরে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা চাপতি দিয়ে তার মেয়ের পিঠে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়, বলেন মেয়েটির মা।


 পরে গ্রামবাসী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেয়েটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তিন-চার বছর ধরে এলাকার বখাটে যুবক সজীব, নামুলসহ কয়েকজন বখাটে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। স্কুলে যাতয়াতের পথে তারা তার হাত ও ওড়না ধরে টানাটানি করেছে কয়েকবার। প্রতি মুহূর্তে মেয়ে আতংকের মধ্যে স্কুলে যাতায়াত করেছে।

 

তিনি বলেন, ওই সময় এ ঘটনায় তিনি তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন। মামলা করার পর সদর উপজেলার আঠারখাদা ইউনিয়ন পরিষদে বসে চেয়ারম্যান অমরেশ বিশ্বাস, স্থানীয় তারেক কাজী ও মিন্টু চৌধুরীসহ এলাকার কয়েকজন তাকে আশ্বাস দেন যে মামলা তুলে নিলে ভবিষ্যতে আর ঝামেলা করবে না তারা। কিন্তু এরপর মামলা তুলে নিলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে জানান ওই ছাত্রীর বাবা। বৃহস্পতিবার রাতে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রসহ তার মেয়েকে তুলে নিতে তার বাড়িতে হামলা চালায়।


 এ সময় বাধা পেয়ে তারা তাকে ও তার মেয়েকে কুপিয়ে জখম করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।  সন্ত্রাসীদের পক্ষে কিছু লোক এখনও তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ কারণে তাদের পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, বলেন ছাত্রীর বাবা। হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হামলায় আহত ছাত্রী পিঠে ব্যান্ডেজ নিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।

তার চোখে মুখে আতংকের ছাপ। অপরিচিত মানুষ দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠছেন। মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মমতাজ মজিদ বলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়ে বাবা-মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আল মাহবুব জানান, পুলিশ মূল অভিযুক্ত সজীবসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত ও অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

 

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

কুষ্টিয়ার মিরপুরে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও অন্তত নয় জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রোববার দুটি এবং শনিবার রাতে একটি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী নির্মল মণ্ডল (৩০), অজ্ঞাত পরিচয় এক ভিক্ষুক এবং বাসের সুপারভাইজার সায়েম ইসলাম (৩০)। আহতদের মধ্যে ছয়জন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

মিরপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বেলা ১০টার দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় অজ্ঞাতনামা এক ভিক্ষুক নিহত হয়েছেন।

ওসি বলেন, এছাড়া সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের বিজিবি ক্যাম্পের সামনে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস মিরপুরগামী একটি অটোবাইককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

“এতে অটোবাইকে থাকা মাছ ব্যবসায়ী নির্মল মণ্ডল রাস্তায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।” অপর দুর্ঘটনা ঘটে শনিবার গভীর রাতে।

রফিকুল ইসলাম জানান, রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ঢাকাগামী কুষ্টিয়া এক্সপ্রেস এর একটি বাস গোবিন্দপুর এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

“এতে ঘটনাস্থলে বাসটির সুপারভাইজার সায়েম মারা যান এবং বাসের সহকারীসহ নয় যাত্রী আহত হন।”

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসের চালক সহকারী হেলাল মন্ডল (৩০), যাত্রী শাহেদ (৩৫), রহমান (৪৫), হাওয়া খাতুন (৬০), মমতাজ খাতুন (৪৫) ও ইউসুফ (৪০)।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকাজনক।

হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ বিশ্বজিৎ কুমার জানান, তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

খুলনায় বিএনপি নেতা গুলিতে নিহত

খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন মিঠু অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ সময় একজন আহতও হন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ফুলতলা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফুলতলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সানোয়ার হোসেন মাসুম।

নিহত আলাউদ্দিন মিঠু (৪৫) ফুলতলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

গুলিতে আহত হন তার সহযোগী নওশের। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদরশীর বরাত দিয়ে সানোয়ার বলেন, রাতে ফুলতলা উপজেলা সদরে বাড়ির কাছে ফুলতলা বাজারে নিজ কার্যালয়ে কয়েকজনসহ বসা ছিলেন মিঠু।

এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন বন্দুকধারী গুলি করে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মিঠুর মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

খুলনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ নিহত

খুলনা নগরীতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন, যিনি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর পশ্চিম টুথপাড়া খ্রিস্টানপাড়া বালুর মাঠে এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন বলে সদর থানা পুলিশের দাবি।

নিহত মুনসী রাজু (২৮) পশ্চিম টুথপাড়া দারোগা বস্তির বাসিন্দা।

রাজু শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সেকেন্ড ইন কমান্ড। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ পঁচাটি মামলা রয়েছে বলে সদর থানার ওসি এমএম মিজানুর রহমান জানান।

ওসি মিজানুর বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুনসীর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল ডাকাত খ্রিস্টানপাড়া বালুর মাঠে একত্রিত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে অভিযান চালালে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

“কিছুক্ষণ পর তারা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে মুনসী রাজুকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোর ৪টা ১০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

নিজেদের গুলিই রাজুর মাথা ও বুকে লেগে মারা গেছে বলে দাবি ওসি মিজানুরের। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিনটি পিস্তলের গুলি, কয়েকটি চাইনজ কুড়াল ও রাম দা উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

ওসি বলেন, গেলাগুলিতে তিনি নিজে এবং চার কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। অপর আহতরা হলেন এসআই সুজিত কুমার, এসআই মিহির কুমার, এএসআই সরোয়ার হোসেন ও এএসআই কমল কান্তি।

তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

খুলনায় হাতুড়ি পেটায় স্কুলছাত্র নিহত

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা নগরীতে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠীর বিরুদ্ধে। খুলনা সদর থানার ওসি এমএম মিজানুর রহমান জানান, গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে ১৩ বছর বয়সী হাসানের মৃত্যুর পর তার সহপাঠী আদনানকে আটক করে পুলিশ। খুলনা নগরীরর গগণবাবু রোড এলাকার অহিদুল শেখের ছেলে হাসান স্থানীয় ইউসেপ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আটক আদনানন গরীর ট্যাংক রোডের মো. আছাদের ছেলে।  

এ ব্যাপারে ওসি মিজানুর বলেন, রোববার দুপুরে স্কুল থেকে একসঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হাসান ও আদনানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। গ্লাক্সো মোড়ে পৌঁছানোর পর পাশের একটি কারখানা থেকে হাতুড়ি নিয়ে আদনান মাথায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হয় হাসান। ওসি জানান, স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় হাসানকে উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সকালে তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসক হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি বলেন, হাসানের মৃত্যুর পর আদনানকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় হাসানের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

 

চুয়াডাঙ্গায় আগুনে পুড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় সদর উপজেলায় আগুনে পুড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত আছিয়া খাতুন (৭৫) সদর উপজেলার শ্রীকোল বোয়ালিয়া গ্রামের বরকত আলীর স্ত্রী।

এসআই শফিকুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আছিয়া নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১২টার দিকে আগুন লাগলে দগ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। সকালে পরিবারের লোকজন থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

মশার কয়েল অথবা ঘরের রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই আছিয়ার লাশ দাফন ও এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

খুলনায় গৃহবধূ হত্যায় স্বামীসহ ২ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড

খুলনায় আট বছর আগে রাজিয়া সুলতানা দীপা নামে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে তার স্বামী ও এক আত্মীয়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। খুলনার জন নিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এসএম সোলায়মান বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সুলতানার স্বামী গোপালগঞ্জের তারগ্রামের মইনুদ্দিন মোল্লার ছেলে মো.লিটু মোল্লা (৩০) ও তার ভগ্নিপতি মজিদ হাওলাদার। রায় ঘোষণার শুধু লিটু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মজিদ পলাতক। মামলার নথিতে বলা হয়, খুলনার খালিশপুরের বাবার বাড়ি থেকে ২০০৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় লিটু ও মজিদের সঙ্গে গোপালগঞ্জে শ্বশুর বাড়িতে ফিরছিলেন দীপা (১৯)।পথে তারা দীপাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরদিন তার লাশ রূপসা সেতু এলাকার জাবুসার বিল থেকে উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরিফ মাহমুদ জানান, সংবাদপত্রে দীপার লাশের ছবি দেখে ২৫ ফেব্রুয়ারি তার বাবা হারুন অর রশিদ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। পরে রূপসা থানার ওসি মো.আজমল হোসেন বাদী হয়ে লিটু ও মজিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে রুপসা থানার এসআই মাহফুজ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে এ মামলার বিচারকাজ শুরু করে আদালত।

খুলনায় ট্রাকের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত, সড়ক অবরোধ

খুলনায় শহরে ট্রাকের ধাক্কায় এক স্কুল ছাত্র নিহত হওয়ার পর এক ঘণ্টা খুলনা-যশোর মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ দেখিয়েছে স্থানীয়রা।  খানজাহান আলী থানার ওসি আশরাফুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ফুলবাড়ি গেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

নিহত মোস্তাফিজুর রহমানের (১২) বাড়ি খানজাহান আলী থানার সোনালী জুট মিলের পাশে। তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। ওসি আশরাফুল বলেন, “সকালে সাইকেলে করে স্কুলে যাওয়ার পথে খুলনা থেকে যশোরগামী একটি ট্রাক মোস্তাফিজুরকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”

দুর্ঘটনার পর জুট মিলের শ্রমিকেরা খুলনা-যশোর মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে বলে জানান তিনি।

 

খুলনায় কলেজ ছাত্র হত্যা মামলায় পাঁচ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

খুলনা প্রতিনিধি: কলেজ ছাত্র বোরহান উদ্দিন গাজী ওরফে মারুফ (১৮) হত্যা মামলায় আপন ৫ ভাইকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কেশবপুর উপজেলার কিসমত শানতলা গ্রামের মৃত জয়নাল ধাবকের ৫ ছেলে মো. মহির উদ্দিন ধাবক (৪৫), মো. জহির উদ্দিন ধাবক (৪১), মো. কহির উদ্দিন ধাবক (৩৫), মো. দবির উদ্দিন ধাবক (৩০) ও মো. কবির উদ্দিন ধাবক (৩৩)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কিসমত শানতলা গ্রামের কলেজ ছাত্র হত্যা মামলার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে উপস্থিত চার ভাই হলেন- জহির, দবির, মহির ও কহির। আর কবির পলাতক রয়েছেন।

মুজিবনগরের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানের বরখাস্তাদেশ স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার: মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আমিরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা জার্জিস হোসাইনকে দেওয়া সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। দু’জনের পৃথক রিট আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বুধবার রুলসহ এ স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুলে তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে রুলের জবাব দিতে হবে।


২০১৩ সালের নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা আদালতে গৃহীত হওয়ায় গত ৩ এপ্রিল রাতে মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জার্জিস হোসাইনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

 মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেমায়েত উদ্দিন জানান, মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জুলিয়া মইন স্বারিত এ সংক্রান্ত আদেশ রাতে পৌঁছে। আদেশের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের মতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থি বলে সরকার মনে করে। ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইনের (সংশোধিত ২০১১) ১৩ (খ) (১) ধারা অনুসারে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে’।

 মুজিবনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারবিরোধী হরতাল-অবরোধ পালনকালে উপজেলার গৌরীনগর গ্রামে পুলিশের ওপর হামলা চালান বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হোসেনসহ পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আমিরুল ইসলাম ও জার্জিস হোসাইনসহ বিএনপি-জামায়াতের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। পুলিশের চার্জশিটে আমিরুল ইসলামকে ২নং ও জার্জিস হোসাইনকে ৯নং আসামি করা হয়।

 

খুলনায় অস্ত্র মামলায় দুইজনের ১০ বছর করে কারাদন্ড

খুলনা প্রতিনিধি: অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখায় খুলনায় দুই ব্যক্তিকে ১০ বছর করে কারাদ- দিয়েছে আদালত। সোমবার খুলনার জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম সোলায়মান এ রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নগরীর পাবলা দফাদার পাড়ার শেখ জহুরুল ইসলামের ছেলে শেখ সুমন (২৪) ও গাইকুড় এলাকার মৃত আবু সেলিম খানের ছেলে নাহিদ নেওয়াজ খান (৩৩)। রায় ঘোষণার সময় দুজনেই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া অন্য একটি ধারায় দুজনকে সাত বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। দুই দন্ড একইসঙ্গে চলবে বিধায় দুইজনকে ১০ বছর কারাদন্ড ভোগ করতে হবে বলে জানান আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন। মামলার এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০১২ সালের ১ সেপ্টম্বর দৌলতপুরের দেয়ানা পশ্চিম পাড়া এলাকা থেকে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ সুমন ও নাহিদকে আটক করে র‌্যাব। এ ঘটনায় র‌্যাব-৬ খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক বিদ্যুৎ চন্দ্র দে বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসান একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন।



Go Top