রাত ১১:৫২, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তাজাতিক

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে এই ধরনের যে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বলেছে বাংলাদেশ।

সোমবার সকালের ওই হামলায় এক বাংলাদেশি যুবকের জড়িত থাকার কথা নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানানোর পর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই, তার ধর্ম কিংবা জাতীয়তা যাই হোক না কেন। তাকে অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।” “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের যে জিরো টলারেন্স নীতি, তার প্রতি অঙ্গীকার থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের নিন্দা জানায়। নিন্দা জানায় সোমবার সকালে নিউ ইয়র্ক শহরের এই ঘটনায়ও,” বলা হয় বিবৃতিতে।

সোমবার সকালে ম্যানহাটনের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর আহত অবস্থায় আকায়েদ উল্লাহ নামে ২৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যুবককে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো আকাইদ থাকেন ব্রুকলিনে। তিনি একটি ইলেকট্রিক কোম্পানিতে চাকরি করেন। আকিয়াদের বাড়ি চট্টগ্রামে এবং গত সেপ্টেম্বরে তিনি সর্বশেষ দেশে ফিরেছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হককে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে আকিয়াদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য নেই।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আকায়েদ নিজের সঙ্গে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় গ্রেপ্তারের পর আকায়েদকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

নিউ ইয়র্কে ‘আত্মঘাতী হামলার চেষ্টায়’ বাংলাদেশি

নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে ব্যস্ত সকালে বিস্ফোরণের পর আহত অবস্থায় এক বাংলাদেশি যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন। আকায়েদ উল্লাহ নামে ওই যুবক আত্মঘাতী হামলাকারীদের মতো নিজের দেহে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ।

আকিয়াদ আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই হামলার চেষ্টা চালান বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে। তবে পুলিশ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী আকায়েদ সাত বছর আগে ওই দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালাতেন তিনি; পরে একটি ইলেকট্রিক কোম্পানিতে চাকরি নেন।

আকিয়াদের বাড়ি চট্টগ্রামে এবং গত সেপ্টেম্বরে তিনি সর্বশেষ দেশে ফিরেছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হককে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে আকায়েদর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য নেই।

ম্যানহাটনের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাস হামলাকারীর বিচার চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অফিসযাত্রার সময় পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।  

পরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেমস ও নিল সংবাদ সম্মেলনে এসে জানান, বিস্ফোরণে আহত সন্দেহভাজন যুবক আকায়েদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, ওই যুবক ব্রুকলিনে থাকেন এবং তিনি বাংলাদেশ থেকে সাত বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

এই বিস্ফোরণে আকায়েদ ছাড়া আর চারজন আহত হন বলে নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে। তবে তাদের কারও অবস্থাই গুরুতর নয়।

হামলাকারী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করছেন নিউ ইয়র্ক পুলিশের সাবেক কমিশনার বিল ব্রাটন।

তিনি এনবিসি নিউজকে বলেন, “গত সাত বছর ধরে সে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং খুব সম্ভবত আইএসের নামে এ বিস্ফোরণে ঘটিয়েছে। তাই, অবশ্যই এটা সন্ত্রাসী হামলা এবং অবশ্যই পরিকল্পিত।”

নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেমস ও নিলও বলেন, এটি সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা। গ্রেপ্তার ব্যক্তির আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।

গ্রেপ্তার আকায়েদকে গুরুতর অবস্থায় বেল ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, “একটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হয়েছিল। ভাগ্য ভাল যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি সফল হতে পারেনি।”

পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম টার্মিনাল; সকালে অফিসগামী মানুষের ভিড়ের মধ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাতাল রেল স্টেশন থেকে যখন মানুষ প্যাসেজ ধরে উঠে আসছিল, তখন বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়ার মধ্যে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

গণমাধ্যমে আসা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, মুখে দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি পড়ে আছেন, তার পেটে আড়াআড়ি লম্বা ক্ষতচিহ্ন। তার প্যান্ট মোটামুটি অক্ষত থাকলেও ক্ষতচিহ্নের উপরে শার্ট ও গেঞ্জি পুড়ে গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা পরে জানান, পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিই আকায়েদ, যাকে তারা গ্রেপ্তার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, তার কোমরের দিকে পাঁচ ইঞ্চি ধাতব পাইপ এবং ব্যাটারি প্যাঁচানো থাকতে দেখা যায়। তার শরীরেও তার জড়ানো ছিল।

“ওই ব্যক্তি জ্যাকেটের নিচে শরীরের ডানদিকে বোমাটি বহন করছিল।” আকায়েদ যে ইলেক্ট্রিক কোম্পানিতে কাজ করেন, সেখানে বসেই এই ‘পাইপ বোমা’ বানান বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র উপর হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে লন্ডনে এক বাংলাদেশি যুবক গ্রেপ্তার হওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে নিউ ইয়র্কে আকায়েদ আটক হলেন।

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি

একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বৃহস্পতিবার আয়োজিত ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে গুলি, কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরায়েলের পতাকা, ট্রাম্পের ছবি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাথর ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায়। এর জবাবে সেনারা তাদের ওপর গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের হেবরন ও আল-বিরেহ শহরে হাজার হাজার ফিলিস্তিন বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’ বলে স্লোগান দিতে থাকে তারা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একজন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্য ১৪ জন বারাব বুলেটে আহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছেন, পাথর ছোঁড়া শত শত বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ‘রায়ট-ডিসপারজাল গিয়ার’ ব্যবহার করেছে সেনারা।

গাজা উপত্যকায় সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভের সময় অন্য পাশে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার জবাবে সেনাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী আহত হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দেয় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার নেতা ইসমাইল হানিয়া নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জুড়ে গাজার বিভিন্ন শহর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে।

বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গাজা ও পশ্চিম তীর। এদিকে, জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা বিক্ষোভ করে। আম্মানের পাশে বাকা শরণার্থীশিবিরের শত শত ফিলিস্তিনি রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি প্রত্যাহারে জর্ডান সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে ধ্বনি তোলে, ‘আমেরিকার পতন হোক… আমেরিকা সন্ত্রাসের জননী।’ যিশু খ্রিষ্টের পবিত্র জন্মভূমি ঐতিহ্যবাহী বেথেলহেমে খ্রিষ্টমাসের বাতি নিভিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করে, বেথেলহেমের ‘চার্চ অব দি ন্যাটিভিটি’ যিশু খ্রিষ্টের জন্মস্থান। এই চার্চের বাইরে একটি ও রামাল্লাহতে ইয়াসির আরাফাতের কবরের পাশে আরেকটি খ্রিষ্টমাস ট্রির শোভাবর্ধক বাতি নিভিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

ফিলিস্তিনের সব রাজনৈতিক দল-মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে নামে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলবে। গাজা উপত্যকার উত্তরাংশে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের কয়েক শত ফিলিস্তিনি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।

গাজা সিটির প্রাণকেন্দ্র ও গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একই চিত্র দেখা গেছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের ছবি ও তাদের পতাকা নিয়ে  বিক্ষোভকারীদের আমেরিকাবিরোধী মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আকাশ।

ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে সারা মুসলিম বিশ্ব ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিন্দা প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। এখন পর্যন্ত শুধু ফিলিপাইন ও চেক রিপাবলিক ট্রাম্পের ঘোষণা সমর্থন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও তেল আবিব থেকে জেরজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করার কথা জানিয়েছে।

সহিংসতা, অস্থিতিশীলত ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ট্রাম্পকে এ ধরনের ঘোষণা না দিতে আহ্বান জানালেও তিনি কারো কথা রাখেননি। ট্রাম্পের ঘোষণার পরও অনেক দেশ একই ধরনের আশঙ্কা ব্যক্ত করে তার সমালোচনা করেছে।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা সেই উগ্রবাদীদের সুযোগ করে দিয়েছে, যারা ধর্মীয় যুদ্ধ বাঁধাতে চায়।

জেরুজালেম: ফিলিস্তিনিদের ‘ক্ষোভ দিবসে’সংঘর্ষে নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে ঘোষিত ‘ক্ষোভ দিবসে’ ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার পশ্চিমতীর ও গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন তার ‘গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট অম্ব্যুলেন্স সার্ভিসের তথ্যনুযায়ী, পশ্চিমতীর ও গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলি ও রাবার বুলেটে ৮০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সেনাদের ছোড়া কাঁদুনে গ্যাসেও অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আরও ৩১ জন আহত হয়েছিলেন।

শুক্রবার জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই ফিলিস্তিনিরা দেয়ালঘেরা পুরনো জেরুজালেমের গেইটে গিয়ে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এ সময় তারা শ্লোগান তোলে, ‘জেরুজালেম আমাদের, আমাদের রাজধানী জেরুজালেম’ এবং ‘ফাঁকা কথা চাই না, চাই পাথর, কালাশনিকভ’। পরে ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

হেব্রন, বেথেলহেম, নাবলুসে বহু ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাথর ছুড়ে মারে, জবাবে কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে ইসরায়েলি সেনারা।

গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। দুই দিনের ‘ক্ষোভ দিবসে’ এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। পরে আহত আরেকজন মারা যান বলে গাজা হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

টিভিতে প্রচারিত দৃশ্যে বেথলেহেমে পাথর ছুড়ে মারা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদেরকে জলকামান ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

সেনাদের কাঁদুনেগ্যাস আর বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিদের টায়ার পোড়ানোয় ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারিদিক। ইসরায়েলি সেনারা বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেটও ছুড়ে।

অন্যান্য যেসব স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে সেসব জায়গাতেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।

ফিলিস্তিনি নেতারা শুক্রবার ইন্তিফাদার ডাক দেওয়ার সহিংসতার আশঙ্কায় পশ্চিম তীর ও গাজা সীমান্তে আগে থেকেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল।

জেরুজালেমে পুরনো শহরের বাইরে পুলিশ শত শত বিক্ষোভকারীকে হটিয়ে দিতে গেলে ধস্তাধস্তি হয়। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে সংঘর্ষে অন্তত ২১৭ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসাকর্মীরা।

রাত নেমে আসার পর অধিকাংশ এলাকায়ই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসে। রাতে গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে রকেট হামলার সতর্কীকরণ সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা থেকে নিক্ষেপ করা দুটি রকেট প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

রকেট হামলার জবাবে গাজায় ‘জঙ্গিদের লক্ষ্যস্থলগুলোতে’ বিমান হামলা চালানোর হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি ওই বিমান হামলায় ছয় ‍শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।  

অপরদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ‘জঙ্গিদের’ প্রশিক্ষণ শিবির ও অস্ত্র গুদামে হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমান হামলায় আহতদের অধিকাংশই ওই প্রশিক্ষণ শিবিরের পাশের একটি ভবনের বাসিন্দা।

জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার নীতির পরিবর্তনকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও আরব ও মুসলিম বিশ্ব নিন্দা জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, “জেরুজালেম বিষয়ে মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি আমরা। এই অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শান্তি উদ্যোগের মধ্যস্থতাকারীর যোগ্যতা হারিয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোও কয়েকদশকের নীতি বদলে দেওয়ার এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আরব অঞ্চলজুড়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও বিক্ষোভ হয়েছে। জর্ডান, মিশর, ইরাক, তুরস্ক, তিউনিশিয়া এবং ইরানে ফিলিস্তিনপন্থি হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করেছে।

মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মত মুসলিমপ্রধান বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভমিছিল হয়েছে। জার্মানির বার্লিনে যুক্তরাষ্ট্র দূতবাসের সামনেও বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ বিক্ষোভকারী।

 

কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ শান্তিরক্ষী নিহত

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের একটি ঘাঁটিতে বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৩ জন।

শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে এ হামলার ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেস এ হামলাকে সাম্প্রতিক সময় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর ঘটে যাওয়া হামলার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী বলে বর্ননা করেছেন ।

এসময় তিনি এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে, নিহত শান্তিরক্ষীদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন।

নববর্ষের দিনকে ‘নরক’ বানানোর হুমকি দিয়েছে আইএস

করতোয়া ডেস্ক : নববর্ষের প্রথম দিনকে ‘নারকীয় দিনে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছে কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ইউরোপের ক্রিসমাস মার্কেটগুলোতে ‘পায়ে হেঁটে গিয়ে’ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তারা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়াতে এমন পরিকল্পনা তাদের। সাম্প্রতিক এক প্রচারণামূলক পোস্টারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে আইএস।নতুন পোস্টারে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে হামলার হুমকি দিয়েছে এই জঙ্গি দল। এতে প্যারিসের আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফে সমবেতদের দেখা যায়। এর সাথে একটি ছুরিও দেখা যায়, যা দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। পোস্টারের ক্যাপশনে বলা হচ্ছে: আমরা নববর্ষের দিনকে নরক করে তুলবো।

এই জঙ্গিদের সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে তা শেয়ার করছে। এর আগে সন্ত্রাসী গ্রুপটি পায়ে হেঁটে হামলা চালানোর হুমকি দেয়। ইউরোপজুড়ে ক্রিসমাস মার্কেটগুলোতে বোলার্ড ও গেট স্থাপনের কথা বলার পর তাদের ওই হুমকি। কথিত আইএসের প্রচারণা দল জার্মানিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার প্রকাশ করে; হুমকি দেয়, তুমি মার্কেটের সামনে গাড়ির জন্য প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করলেও, পায়ে হেঁটে সেখানে প্রবেশ করা মানুষকে থামাতে পারবে না।

 এই হুমকি দেওয়া পোস্টারে মুখোশধারী এক ব্যক্তিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যায়, যিনি অনেকটা গোপনে অবস্থান করছেন, এবং হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এই বছরের ক্রিসমাস লাইটের নিচ দিয়ে এক জঙ্গি হেঁটে যাচ্ছে। যার গায়ে জড়িয়ে রয়েছে বুলেটের বেল্ট। কথিত আইএস’এর সাম্প্রতিক একটি পোস্টার। এই বছরের ক্রিসমাস লাইটের নিচ দিয়ে এক জঙ্গি হেঁটে যাচ্ছে। যার গায়ে জড়িয়ে রয়েছে বুলেটের বেল্ট। কথিত আইএস’এর সাম্প্রতিক একটি পোস্টার। ডিজিটালি তৈরি হুমকিগুলোর মধ্যে ‘নববর্ষকে নরক’ বানানোরটি সর্বশেষ। এর আগেও ক্রিসমাস ও ২০১৮ সালে ইউরোপের প্রধান শহরগুলো, যুক্তরাষ্ট্রে, রাশিয়ায় রক্ত ঝড়ানোর বার্তা ছিলো। তখন লন্ডন, নিউইয়র্ক ও রোমে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে পোস্টার প্রকাশ করে কথিত আইএস। এছাড়াও রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও পোপ এবং আগামী বছরের ফুটবল বিশ্বকাপেও হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি দলটির প্রচারণা প্রধান। গ্রুপটির প্রোপাগান্ডা উইং হলো- ‘দ্য ওয়াফা মিডিয়া ফাউন্ডেশন’।

তারা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। সিরিয়া ও ইরাকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে জঙ্গি দলটি। বিশ্বজুড়ে ভীতি ছড়ানোর জন্য লোন-ওল্ফ সমর্থকদের কাজে লাগাচ্ছে তারা। জঙ্গিগোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করা ওয়েবসাইট সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কার্টজ বলেন, কথিত আইএসের এমন হুমকি প্রমাণ করে, তারা আরও ব্যাপক হারে লোন-ওল্ফ হামলায় ঝুঁকছে, যেহেতু তারা ইরাক ও সিরিয়ায় ভূমি হারাচ্ছে। যদিও এই হুমকিগুলোকে সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত, এখানে আইএস মিডিয়া গ্রুপের একটা প্রচারণার উপাদানও রয়েছে। ভ্যাটিকানের মতো জায়গা বা ফিফা বিশ্বকাপ-২০১৮ এর মতো আয়োজনের দিকে লক্ষ্য করে হুমকি তাই জানান দেয়।

এই বিভাগের আরো খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে বাড়ি ছেড়েছে ১৯০০০০ অধিবাসী

করতোয়া ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কাছাকাছি এলাকার ১৯০,০০০ অধিবাসী বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডে এরই মধ্যে অন্তত কয়েকশ’ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; দমকল বাহিনীর ৫ হাজার সদস্য বনের ভেতর বিস্তৃত চারটি অগ্নিকাণ্ড দমাতে লড়াই করছে। গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোর উত্তরে আরও একটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ড শুরু হলে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া অধিবাসীর সংখ্যা আগের তুলনায় চারগুণ বেড়ে যায়। দাবানলের মধ্যেই ভেনচুরা কাউন্টি এলাকায় এক নারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দাবানলে নয়,ওজাই শহরে হওয়া এক গাড়ি দুর্ঘটনায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত অন্তত এক লাখ ৮৯ হাজার অধিবাসী এলাকা ছেড়েছে বলে ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাজ্যটির গভর্নর জেরি ব্রাউন দাবানল বিস্তৃত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর হোয়াইট হাউজ ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। মরুভূমির উত্তপ্ত বাতাসের কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দাবানলের কারণে বৃহস্পতিবারের সব ক্লাস বাতিল বাতিল করেছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। অগ্নিকাণ্ডের সতর্কতা জারি করা এলাকার মধ্যে না পড়লেও ‘অনিশ্চয়তার মুখে’ ক্লাস বাতিলের এ সিদ্ধান্ত হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ধন্যাঢ্য এলাকা হিসেবে পরিচিত বেল এয়ারের ছিটমহলের বিভিন্ন বাড়ি থেকে বুধবারই দমকলকর্মীদের বিভিন্ন চিত্রকর্ম সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। এই এলাকাতেই বিয়ন্স ও এলন মাস্কের মতো তারকা শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের বাড়ি।

 ‘পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে’ জনপ্রিয় গায়ক লিওনেল রিচি তার লাস ভেগাসের অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন; বুধবার সন্ধ্যায় ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। দাবানলে মিডিয়া মোগল খ্যাত রুপার্ট মারডকের এস্টেট ও একটি আঙ্গুরখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।  দাবানলের কারণে গেটি মিউজিয়াম বৃহস্পতিবারও বন্ধ থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই মিউজিয়ামেই লিওনার্দো ভিঞ্চি, ভ্যান গগ ও টার্নারের বেশ কয়েকটি চিত্রকর্ম আছে। তবে ‘বায়ু পরিস্রাবণ ব্যবস্থার’ কারণে ভেতরে থাকা দাবানলের গরম বাতাসে চিত্রকর্মের ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ, এ কারণে সেগুলো সরানোরও প্রয়োজন দেখছে না তারা।

এই বিভাগের আরো খবর

ট্রাম্পের ঘোষণায় ঢাকায় বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা মানবজাতিকে বিভক্ত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ঢাকা মহানগরের সভাপতি শাহেদুল আলম চৌধুরী।গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামী ছাত্রসেনা।

সমাবেশে শাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, এই ঘোষণায় শান্তিময় পৃথিবীতে আরও অশান্তি নেমে আসবে। এ সময় আরও বক্তব্য দেন-বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম সাংগঠনিক সচিব সৈয়দ মোজাফফর আহমদ, সদস্য অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দীন, হাবীবুর রহমান প্রমুখ। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে হোয়াইট হাউসে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

ইসরায়েল ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিন। এরইমধ্যে তার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে ফিলিস্তিনিরা। গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।

 

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা ট্রাম্পের

করতোয়া ডেস্ক : ফ্রান্স, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ অনেক মিত্র দেশের আহ্বানকে তোয়াক্কা না করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির ঘোষণা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে হোয়াইট হাউজে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময় বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“দুই দশকেরও বেশি সময়ের ছাড় দিয়েও আমরা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি।” জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করতে এতদিন বিশেষ আদেশে পররাষ্ট্র দপ্তরকে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা। মঙ্গলবারও ট্রাম্প ওই আদেশে সই না করায় তিনি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ উল্টে এই ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিচ্ছেন বলেও জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই ‘দুই রাষ্ট্র’ সমাধান চাইলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সায় থাকবে।

১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিল। মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলে তা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘মরণ ছোবল’ হবে বলে সতর্ক করেছিলেন ফিলিস্তিনের নেতারা।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে জেরুজালেমে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর জিম্মাদার জর্ডান এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তার পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ’।

এই সিদ্ধান্ত ‘চরম সীমা’ অতিক্রম করবে বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান। সৌদি আরবও এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সায় নেই তাদের অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্যেরও।
মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ফোন করে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, যাদের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোও ছিলেন।

পোপ ফ্রান্সিসও জাতিসংঘ প্রস্তাবনা অনুসারে জেরুজালেমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইসরায়েল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চান ফিলিস্তিনের নেতারা।
যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি ম্যানুয়েল হাসাসিয়ান বিবিসিকে বলেন, জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধান’ প্রচেষ্টায় ‘মরণছোবল’ এবং ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে পার্লামেন্টে বলেছেন, জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাজ্য অবস্থান বদলায়নি। “নগরীটির মর্যাদা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করা উচিত এবং এটিকে ইসরায়েল ও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ভাগ করে দেওয়া উচিত।”

ওদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে উল্লাস প্রকাশ করে অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেত্তে।
“এ পদক্ষেপে ইসরায়েলের শত্রুরা মেনে নিতে বাধ্য হবে যে, জেরুজালেম কখনও বিভক্ত হবে না,” বলেছেন তিনি।

প্রত্যাখ্যান আরব, ইউরোপ ও জাতিসংঘের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাতিসংঘ।
এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘অস্থিরতা কবলিত অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিন বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন তার নেতৃত্বদানকারী ভূমিকার জলাঞ্জলি দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে। জেরুজালেম বিষয়ে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত নীতি পাল্টে দেওয়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্ররা।

ট্রাম্পের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ফ্রান্স, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখারও আবেদন জানিয়েছে দেশটি। ব্রিটেন বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শান্তি উদ্যোগের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখবে না এবং জেরুজালেমে ইসরায়েল ও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব থাকা উচিত।

জার্মানি বলেছে, জেরুজালেমের মর্যাদা শুধু দ্বি-রাষ্ট্রীক সমাধানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব রাষ্ট্রগুলোও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে সৌদি আরব বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা ‘অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’।
আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইসরায়েলে সঙ্গে প্রথম শান্তিচুক্তি করা মিশর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এতেও জেরুজালেমের আইনি মর্যাদা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটবে না। জর্ডান বলেছে, পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে দৃঢ় করায় ট্রাম্পের পদক্ষেপ ‘আইনি বৈধতা হারিয়েছে’।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, জেরুজালেমের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সঙ্কট সৃষ্টি করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে আর তাতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ট্রাম্পের এই ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্রের কন্স্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে কয়েকশ প্রতিবাদকারী। কন্স্যুলেট ভবনের দিকে কয়েন ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে মারে তারা।   

ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের দেওয়া প্রস্তাবের লঙ্ঘন অভিহিত করে এর ‘তীব্র নিন্দা’ করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধী, এটি পরিষ্কার করে দিন।”

এসব প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইসরায়েলে প্রথম দিন থেকে এটি আমাদের লক্ষ্য ছিল, এটি শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

 

জেরুজালেম: ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান আরব, ইউরোপ ও জাতিসংঘের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাতিসংঘ।

এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘অস্থিরতা কবলিত অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিন বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন তার নেতৃত্বদানকারী ভূমিকার জলাঞ্জলি দিয়েছে।

জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে।

জেরুজালেম বিষয়ে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত নীতি পাল্টে দেওয়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্ররা। ট্রাম্পের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ফ্রান্স, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখারও আবেদন জানিয়েছে দেশটি।

ব্রিটেন বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শান্তি উদ্যোগের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখবে না এবং জেরুজালেমে ইসরায়েল ও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব থাকা উচিত।

জার্মানি বলেছে, জেরুজালেমের মর্যাদা শুধু দ্বি-রাষ্ট্রীক সমাধানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব রাষ্ট্রগুলোও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে সৌদি আরব বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা ‘অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’।  আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইসরায়েলে সঙ্গে প্রথম শান্তিচুক্তি করা মিশর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এতেও জেরুজালেমের আইনি মর্যাদা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটবে না।

জর্ডান বলেছে, পূর্ব জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে দৃঢ় করায় ট্রাম্পের পদক্ষেপ ‘আইনি বৈধতা হারিয়েছে’। লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, জেরুজালেমের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সঙ্কট সৃষ্টি করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে আর তাতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ট্রাম্পের এই ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্রের কন্স্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে কয়েকশ প্রতিবাদকারী। কন্স্যুলেট ভবনের দিকে কয়েন ও অন্যান্য বস্তু ছুড়ে মারে তারা।   

ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের দেওয়া প্রস্তাবের লঙ্ঘন অভিহিত করে এর ‘তীব্র নিন্দা’ করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধী, এটি পরিষ্কার করে দিন।”

এসব প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইসরায়েলে প্রথম দিন থেকে এটি আমাদের লক্ষ্য ছিল, এটি শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

 

ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি পাচ্ছে জেরুজালেম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বুধবার এ ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিবেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স, সিএনএনের।

ওই কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, এ দিন গুরুত্বপূর্ণ এক ভাষণে ট্রাম্প ঘোষণা করবেন, তেল আবিব থেকে দূতাবাস স্থানান্তরের পরিকল্পনা প্রণয়ণের জন্য তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিয়েছেন।

তবে তিনি দূতাবাস স্থানান্তরের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দিবেন না এবং প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করতে তিন থেকে চার বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় ভাষণটি দিবেন ট্রাম্প। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব কথা জানান।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তাতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়বে এবং এতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে বলে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন।

কিন্তু সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যেই তার সমর্থকরা ও ইসরায়েল সরকার উল্লাস প্রকাশ করতে শুরু করেছে। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ট্রাম্প একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ওয়েভারে স্বাক্ষর করবেন, এতে তিনি দূতাবাস স্থানান্তরের বিষয়টি এখনকার মতো পিছিয়ে দিতে পারবেন, কারণ জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের জন্য এখনও কোনো ভবন প্রস্তুত করা হয়নি।

পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে ইসরায়েল; ট্রাম্পের এ ঘোষণায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দাবিটি স্বীকৃতি পাবে।

আন্তর্জাতিক মহল পুরো জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়নি। প্রাচীন এই শহরটিতে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান আছে।

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ছিল, জেরুজালেমের মর্যাদা কী হবে তা অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে (ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে) আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে; কিন্তু ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ওই নীতি পুরোপুরি পাল্টে যাবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই ট্রাম্প এ ঘোষণা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম।   

 

২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি টুইট করেছেন ট্রাম্প-মোদি

২০১৭ সালে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরেই সবচেয়ে বেশি টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটারের তরফ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর অল ইন্ডিয়া।

২০১৭ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি টুইট জনপ্রিয় তিন-এ জায়গা করে নিয়েছে। তিনি ওই টুইটে লিখেছিলেন, কোন শিশুই অন্য কারো বর্ণ, ধর্ম কিংবা অতীতকে ঘিরে ঘৃণা নিয়ে জন্মায় না। তার ওই টুইটটি চলতি বছরে সবচেয়ে বেশিবার রিটুইট করা হয় এবং এর লাইকের সংখ্যা ত্রিশ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার টুইটারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ কোটি ১ লাখ ফলোয়ার নিয়ে এবং নরেন্দ্র মোদি ৩ কোটি ৭৫ লাখ ফলোয়ার নিয়ে টুইটারে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

টুইটারে শীর্ষ দশে থাকা বিশ্বের অন্যান্য নেতারা হলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মৌরিচিপ ম্যাক্রি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সন্তোস এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট আকুন রেশমি জোকো উইদোদো।

ওবামার আরো দুটি টুইটও জনপ্রিয় দশটি টুইটের মধ্যে স্থান পেয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে বেশি টুইট করা ১০ সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যম হচ্ছে ফক্স নিউজ, সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, এমএসএনবিসি, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য হিল, এনবিসি নিউজ, এবিসি, পলিটিকো এবং এপি।

রোহিঙ্গা নয়, মিয়ানমারের বৌদ্ধ শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে চায় ভারত

সংহিসতা থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের নীতি লঙ্ঘন করলো ভারত। রোহিঙ্গাদের বাদ দিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১ হাজার ৩০০ এর বেশি বৌদ্ধ শরণার্থীকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য মিজোরামে আশ্রয় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের কারণে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পালিয়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে। ১ হাজার ৩০০ এর বেশি এসব শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে কেন্দ্রীয় সরকার মিজোরামের প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ভারতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য গত আগস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবক’টি রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হয়৷ কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রোহিঙ্গারা ভারতের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে যে আবেদন করেছে, তা শুনানিযোগ্য নয়। কারণ, ৩২ অনুচ্ছেদ দেশের নাগরিকদের জন্য; অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নয়৷

 

 

পাকিস্তানকে সিআইএয়ের কড়া হুঁশিয়ারি

 

 

পাকিস্তান তার অভ্যন্তরে সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য ধ্বংস না করলে যুক্তরাষ্ট্রই ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান মাইক পম্পেও।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তান যদি তার এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্বর্গ নির্মূল না করে, তাহলে তাদের ধ্বংস করতে আমরা সবকিছুই করব।

আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলের পক্ষে পাকিস্তানের সমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে সোমবার ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাট্টিস। তবে এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু কিন্তু সম্প্রতি সম্পর্কের টানাপোড়েনে থাকা পাকিস্তানের প্রতি মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে। আফগানিস্তানে তালেবানকে পরাজিত করতে পাকিস্তানের সমর্থন চাইছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাস, শুধু তখনই এই পরাজয় সম্ভব যখন আফগান সরকারের সঙ্গে তাদের পোক্ত ঐক্য গড়ে উঠবে।

পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বিমানে থাকা অবস্থায় রোববার সংবাদিকদের মাট্টিস বলেন, পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে রাখার পরিকল্পনা নেই তার। তিনি বিশ্বাস করেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।

সোমবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাকান আব্বাসি ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন মাট্টিস। পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে এটি তার প্রথম পাকিস্তান সফর। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে একটি সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টার করা হবে।

তথ্যসূত্র : ডন অনলাইন

ইন্দোনেশিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ২০ জনের মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ায় ঘূর্ণিঝড় দাহলিয়ার তাণ্ডবে ২০ জন নিহত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল বোর্ড ফর ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

রোববারের ওই ঘূর্ণিঝড়ে এখনও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় দুই হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এছাড়া আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় জাভা প্রদেশে বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।

নিখোঁজ লোকজনকে খুঁজতে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকায় বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এক হাজার ১৭৪ জন সেনা ও পুলিশ সদস্য উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশটির জাভা এলাকায় চেমপাকা নামের আরও একটি ঝড়ের তাণ্ডবে কমপক্ষে ২৭ জন প্রাণ হারায়।

ঘূর্ণিঝড়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ১৬ জন নিহত নিখোঁজ শতাধিক

করতোয়া ডেস্ক : ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এক শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড়ে অন্তত ১৬ জন নিহত ও আরও শতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতে ৯ জন ও শ্রীলঙ্কায় ৭ জন মারা গেছেন। ভারতের একজন কর্মকর্তা জানান, বহিঃসমুদ্রে দেশটির অন্তত শতাধিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের নিরাপদে উপকূলে ফেরা নিযে সংশয় দেখা দিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু ও কেরালা উপকূলে ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড় আঘাত হানে। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে যায়, বিদ্যুতের লাইন ভেঙ্গে পড়ে এবং সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন স্থাপনার অনেক ক্ষতি হয়। ঝড়ের কারণে চেন্নাইয়ের স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এ দুই রাজ্যের সাতটি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮শ’র বেশী লোককে উদ্ধার করেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

২০১৯’র এপ্রিলে সিংহাসন ছাড়ছেন জাপানের সম্রাট

করতোয়া ডেস্ক : অবশেষে জাপানের সম্রাট আকিহিতোর সিংহাসন ছাড়ার সময় নির্ধারণ করেছে জাপান সরকার। জাপান সম্রাট আকিহিতোর ক্ষমতা ছাড়ার বিল অনুমোদন ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জানিয়েছেন।এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সম্রাটের জন্মদিনেই নতুন সম্রাট নারুহিতো মুকুট পরতে পারেন বলে গণমাধ্যমে রাজপরিবার থেকে জানানো হয়েছিল।কিন্তু জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ আইন আকারে সম্রাট আকিহিতোর স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছাড়ার বিল পাসের পর তার সিংহাসন ত্যাগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত এক কমিটির সভায় নতুন করে দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। আবে বলছেন, সম্রাটের শারিরীক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা আগামী ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল তার ক্ষমতা ছাড়ার দিন নির্ধারণ করেছি। পরের দিন নতুন সম্রাট হিসেবে নারিহিতো ক্ষমতা পাবেন।

এর আগে গত সেপ্টম্বরে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে চলা অধিবেশনে মধ্যে দিয়ে আলোচিত বিলটি অনুমোদন পায়। এদিন সংসদ থাকা ক্ষমতাশীন লির্বারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি পা এলডিপি ছাড়াও অন্য ছয়টি দলের সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন। বিলে বলা হয়েছে, আইন আকারে বিল প্রকাশের পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে কেবলমাত্র সম্রাট আকিহিতো স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছাড়তে পারবেন। একইসঙ্গে রানিও তার কর্তৃত্ব হারাবেন। ৮৩ বছর বয়সী সম্রাট আকিহিতো গতবছর অগাস্টে বয়স ও রুগ্নস্বাস্থ্যের কারণে ঠিকঠাকমত দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে এক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বার্তায় সিংহাসন ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু জাপানের বিদ্যমান আইনে সম্রাটের সিংহাসন ত্যাগ করার বিধান না থাকায় তা দেশটির আইননুঙ্গ ও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, শিনজো আবে সরকার আইন করে সম্রাট আকিহিতোর সিংহাসন ছাড়ার সুযোগ করে দেয়।

সংসদে বিলটি ওঠার পর, সংসদের বিরোধীদল সম্রাটদের সিংহাসন ছাড়ার আইনটি অন্যন্য সম্রাটের ক্ষেত্রেও যাতে কার্যকর থাকে সে  দাবি তোলে। কিন্তু সরকারি সাংসদরা তার বিরোধিতা করলে বিলটি অনুমোদনের পর বিরোধদলীয় সাংসদরা ওয়াক আউট করে। এ সময় সংসদে মন্ত্রিসভার মূখ্য সচিব ইয়াশিদা সুগা বলেন, এ বিলটি কেবল চলতি সম্রাটের ক্ষমতা ছাড়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। অন্যন্য সম্রাটের জন্য বিল পাস করতে গেলে আমাদেরকে আগে দেশের জনগণের মতামত নিতে হবে। তারপর চাইলে জাতীয় সংসদের সাংসদরা চিরস্থায়ীভাবে বিল করতে পারেন। আইন অনুযায়ী, কেবলমাত্র সম্রাটের রক্তবহন করে এমন পুরুষ সদস্যরা পরবর্তী সম্রাট হওয়ার সুযোগ পায়। আর সে অনুযায়ী আকিহিতোর ছেলে ৫৫ বছর বয়সী যুবরাজ নারুহিতো ক্ষমতা পাচ্ছেন। সম্রাট আকিহিতোর হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার প্রোস্টেট ক্যানসারও রয়েছে। ১৯৮৯ সালে বাবা সম্রাট হিরোহিতোর মৃত্যুর পর সিংহাসনে আসীন হয়েছিলেন আকিহিতো। জাপানিদের কাছে তিনি খুবই জনপ্রিয় এবং সম্মানিত একজন সম্রাট।

আমিরাতে ‘অবরুদ্ধ’ মিশরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী

মিশরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক জানিয়েছেন, তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

২০১২ সালে মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে মোহাম্মদ মুরসির কাছে পরাজিত হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন আহমেদ শফিক। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির বিরুদ্ধে বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘অবরুদ্ধ’ করার তথ্য প্রকাশিত হলো।

আলজাজিরাকে দেওয়া বিশেষ ভিডিও সাক্ষাৎকারে আহমেদ শফিক বলেছেন, তিনি জানেন না কেন তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগে মানা করা হয়েছে শুনে আমি বিস্মিত। তবে কী কারণে তা করা হয়েছে, আমি জানি না এবং জানতেও চাই না।’

বুধবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণায় আহমেদ শফিক বলেন, ‘আমি আবার মিশরের নেতৃত্ব দিতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছি এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মিশরে ফেরার আগে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছি।’

ভিডিও সাক্ষাৎকারে তাকে থাকতে দেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি, তবে তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কথা শুনে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে বাধা দিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে মিশরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি আমি।’

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন
 

‘সবচেয়ে দূরপাল্লার’ ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে, যাকে পুরো বিশ্বের জন্যই হুমকি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।  

মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি সংগঠন বলছে, উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো অংশে আঘাত হানতে সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং থেকে উৎক্ষেপণের পর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায় তারপর নেমে এসে বুধবার সকালে উত্তর কোরিয়া থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দূরে জাপানের জলসীমায় পড়ে।

যে কোনো ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই  গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া।

ব্যালিস্টিক মিসাইলের সর্বশেষ পরীক্ষাটি তারা চালিয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। ওই মাসেই তারা পারমাণবিক অস্ত্রের ষষ্ঠ পরীক্ষাটি চালায়।  উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকিই তাদের লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না।

নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার এক সপ্তাহের মাথায় আবারও ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালাল পিয়ংইয়ং। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সাংবাদিকদের বলেন, উত্তর কোরিয়ার এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ছিল আগের যে কোনোটির চেয়ে বেশি। আর তারা যা করছে, তা পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, মিসাইলটি আকাশে থাকতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আর ট্রাম্প পরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এটা দেখবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস’ এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো স্থানে সেটি পৌঁছানো সম্ভব।

তবে বুধবারের পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়া হালকা কোনো মক ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে বলেই সংগঠনটি মনে করছে। সেক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওই দূরত্বে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব নাও হতে পারে, কারণ পারমাণবিক ওয়ারহেডের ওজন অনেক বেশি।

 

পোপের সফর ঘিরে মিয়ানমারের ভয়

মিয়ানমারের উদ্দেশে ভ্যাটিকান ছেড়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। এটাই মিয়ানমারে তার প্রথম সফর। তবে পোপের এই সফরকে কেন্দ্র করে কিছুটা আতঙ্কিত মিয়ানমার। পোপ তার সফরে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গা বলে উল্লেখ করবেন কিনা তা নিয়ে ভয়ে আছে দেশটি।

কারণ মিয়ানমারের কর্মকর্তা, বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী এমনকি সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা কেউই রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করে না। তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী মনে করে। তারা রোহিঙ্গাদের বাঙালী বলে। কিন্তু পোপ তার সফরে যদি রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেন তবে তা থেকে নতুন করে সহিংসতা শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনদিনের এই সফরে পোপ মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি এবং সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। মিয়ানমার সফর শেষে বাংলাদেশে আসবেন পোপ। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

মিয়ানমারে সফরের সময় কোন বৈঠকে কিংবা ভাষণে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না করতে পোপকে পরামর্শ দিয়েছেন মিয়ানমারের কার্ডিনাল আর্চবিশপ চার্লস মোং বোর।

সাধারণত এ ধরণের পরামর্শ পোপকে গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। কিন্তু মিয়ানমারে প্রথমবারের মত কোন পোপের সফরে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে চায় ভ্যাটিকান। সে কারণে এবার তিনি পরামর্শটি মেনে চলবেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে ভ্যাটিকান।

পোপকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানও এমন পরামর্শ দিয়েছেন। মিয়ানমারে ৬ লাখ ৬০ হাজার ক্যাথলিক খ্রিস্টান বাস করে। বুধবার দেশটির এক উন্মুক্ত সমাবেশে পোপ উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া তিনি বৌদ্ধ নেতাদের সঙ্গেও দেখা করবেন।

ভ্যাটিকানের কর্মকর্তারা বলছেন, পোপ মিয়ানমার সফরের সময় মৈত্রী পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংকট সমাধানের জন্য সংলাপের ওপর জোর দেবেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে গত তিন মাসে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সরকার চাইলেও ইসলামাবাদে অভিযানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের ইসলামাবাদের রাস্তায় উগ্র ইসলামপন্থীরা আইনমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শনিবার থেকে বিক্ষোভ করতে থাকলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সামরিক-বেসামরিক কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ দেশজুড়ে মিডিয়া ব্ল্যাক আউট জারি করেছে পাকিস্তান সরকার।

শনিবার থেকে কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইন-শৃংখলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষে রাজধানী একেবারেই অচল হয়ে যায়। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রোববার উগ্রপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী তলব করা হয়। সেনাবহিনীর পক্ষ থেকে পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা মাঠে নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থা ডন নিউজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের বদলে সামরিক-বেসামরিক উভয় পক্ষই বিষয়টির রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে।

উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানের খবর যাতে প্রচার না হয় সে জন্য পাকিস্তানের সরকার সকল প্রকার ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রচার বন্ধ রেখেছে গত ২৮ ঘন্টা ধরে।

দেশটির আইনমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তিন সপ্তাহ ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভ করে আসছিল তেহরিক-ই-লাবাইকের নেতা-কর্মীরা। শনিবার থেকে এই আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

 

হজযাত্রীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করবে সৌদি

সৌদি আরব হজযাত্রীদর জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী হজ মৌসুম থেকে এটি কার্যকর করা হবে বলে ধর্মমন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিসুর রহমান বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে হজযাত্রীরা পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশে জেদ্দা ও মদিনা যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের জন্য প্রি-ক্লিয়ারেন্স পাবেন। এর ফলে হজযাত্রীদের সৌদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়ে অপেক্ষার জামেলা পোহাতে হবে না।বাংলাদেশের বিভিন্ন বিমান বন্দরে প্রি-ক্লিয়ারেন্স চালু করার উপায় খুঁজে বের করতে শিগিগির সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা আসবে। আনিসুর রহমান আরও বলেন, সৌদি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ফিরে যাওয়ার আগেই এখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট দেশের এই তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে প্রি-ক্লিয়ারেন্স চালুর অনুরোধ জানাবে। হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি শাহাদাত হোসেন তাসলিম সৌদি কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এটি হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে তুলবে। আমাদের দেশের হজযাত্রীরা সৌদি বিমান বন্দরে নেমে সোজা লাগেজ এরিয়ায় চলে যেতে পারবেন। সৌদি আরবের কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০১৮ সালে এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী পাঠাতে পারবে। এ পর্যন্ত দুই লাখের বেশি হজ গমনেচ্ছু আগামী বছরের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন। শাহাদাত হোসেন জানান, সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় চলতি বছর হজ মৌসুমে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রি-ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন করেছে।

 

চীনে কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর নিংবোর একটি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ওই বিস্ফোরণে অন্তত ২ জন নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি ভবনও ধ্বসে পড়েছে। কি কারণে এই বিস্ফোরণ তা জানা যায়নি।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নির্মাণ শিল্পের জন্য বিখ্যাত নিংবো শহরটি সাংহাংয়ের ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। ঝেইজিয়াং প্রদেশের এ শহরের জিয়াংবেই এলাকাটি রোববার সকালের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বলে কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিংবো শহরের দমকল বিভাগের বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে।

অন্য এক প্রতিবেদনে চীনের সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানায়, বিস্ফোরণের পর আশপাশের এক কিলোমিটার এলাকার ভবনগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা যায়, অসংখ্য জানালার কাঁচ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পড়ে।

সিসিটিভির প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি গাড়ি এবং ধ্বসে পড়া একটি ভবনও দেখানো হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, এটি গ্যাসজনিত বিস্ফোরণ নয়। ঘটনার পর উদ্ধার অন্তত ৩০ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

বিস্ফোরণের পর কাছাকাছি একটি আবাসিক এলাকার বেশ কয়েকটি ভবন ধ্বসে পড়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় ঝেইজিয়াং ডেইলি।  পুনঃনির্মাণ কাজের জন্য ভবনগুলোর বাসিন্দাদের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবুতে চীন পুলিশের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ নিয়েও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

আহতদের মধ্যে অন্তত ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

রয়টার্স বলছে, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য চীনে প্রায়ই এ ধরণের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। হতাহতের পরিমাণ কমিয়ে আনতে দেশটির সরকার এই বিষয়ে তদারকি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

মসজিদে হামলার বদলা নেওয়া হবে: সিসি

সিনাই প্রদেশের আল রাওদাহ মসজিদে বোমা হামলা ও গুলির ঘটনায় দায়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘সর্বশক্তি দিয়ে’ প্রতিক্রিয়া দেখানোর ঘোষণা দিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি।

শুক্রবারের ওই হামলায় অন্তত ২৩৫ জন নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আহতের সংখ্যাও শতাধিক।

হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনাইয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়ায় ঘটনার জন্য তাদেরই সন্দেহ করা হচ্ছে।

কায়রো থেকে ১৩০ মাইল দূরে বির আল আবেদ শহরের মসজিদে ভয়াবহ এ বোমা হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশরের সেনাবাহিনী আইএসের বেশক’টি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় বলে বিবিসি জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, জঙ্গিগোষ্ঠীটির মজুদ করা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করা হয়েছে।  মসজিদে হামলায় ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়ি চিহ্নিত করে সেগুলোর ওপরও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি মুখপাত্রের।  

কয়েক দশকের মধ্যে প্রাণঘাতি এ হামলার পর মিশরে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টা পর টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কায়রোর লড়াই থামিয়ে দিতেই জঙ্গিরা মসজিদে বোমা হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

“সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ শহীদের রক্তের বদলা নেবে। সর্বশক্তি দিয়ে আমরা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করবো,” বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদভ, আরব লিগ প্রধান আহমেদ আবদুল গেইতের পাশাপাশি ইরান, ফ্রান্স, ইসরায়েল ও সৌদি আরব এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

 ২০১৩ সালের জুলাইয়ে সেনাবাহিনী মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিশরে জঙ্গি হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। একের পর এক জঙ্গি হামলায় শত শত পুলিশ, সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছেন।

এসব ঘটনার অনেকগুলোর জন্যই আইএস-সংশ্লিষ্ট সিনাই প্রভিন্স জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল মিশরের কপটিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় স্থাপনা।

২০১৫ সালে রাশিয়ার একটি বিমান ধ্বংস করে ২২৪ জনকে হত্যার ঘটনাতেও আইএসপন্থি জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, আল রাওদা মসজিদে সুফিবাদীরা নিয়মিত নামাজ পড়তে আসেন। আর আইএসসহ বিভিন্ন জিহাদি গ্রুপ সুফিবাদের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুর্গম পথে চলতে সক্ষম- এমন চারটি বাহনে চড়ে হামলাকারীরা ওই মসজিদে আসে। জুমার নামাজ যখন শেষ হচ্ছে, তখন সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত মানুষ যখন পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় হামলাকারীরা।

ওই মসজিদের প্রবেশ পথ আটকে দেওয়ার জন্য বাইরে থাকা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। প্রায় ৪০ জন অস্ত্রধারী এই হামলায় অংশ নেয় বলে তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।

হতাহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর লোকজনও আছে।

গত কয়েক বছর ধরেই সিনাইয়ে এক ধরনের ‘মিডিয়া ব্ল্যাক আউট’ চলছে, এমনকি রাষ্ট্রায়াত্ত সংবাদমাধ্যমগুলোকেও সেখানে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মিশরের সেনাবাহিনী প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের লড়াইয়ে হারিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে। কিন্তু যে মাত্রায় সেখানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে, তাতে সেনা অভিযানের সাফল্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

 

মিশরে মসজিদে হামলা, নিহত বেড়ে ২৩৫

মিশরের উত্তরাঞ্চলীয় সিনাই প্রদেশে জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে বোমা ফাটিয়ে এবং গুলি চালিয়ে ২৩৫ জনকে হত্যা করেছে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা।

বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার আল-আরিশ নগরীর কাছে বির-আল আবেদ শহরের আল রাওদাহ মসজিদে এ হামলায় আহত হয়েছে আরও শতাধিক মানুষ।

গোলযোগপূর্ণ সিনাইয়ে ২০১৩ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জিহাদি দলগুলোর উত্থানের পর থেকে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুর্গম পথে চলতে সক্ষম- এমন চারটি বাহনে চড়ে হামলাকারীরা ওই মসজিদে আসে। জুমার নামাজ যখন শেষ হচ্ছে, তখন সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত মানুষ যখন পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় হামলাকারীরা। ওই মসজিদের প্রবেশ পথ আটকে দেওয়ার জন্য বাইরে থাকা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। প্রায় ৪০ জন অস্ত্রধারী এই হামলায় অংশ নেয় বলে তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসা ছবিতে মসজিদের মেঝেতে সারি সারি মৃতদেহ এবং রক্তমাখা জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের হাসপাতালে নিতে মসজিদের প্রবেশপথে দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্সের সারি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, “মানুষ যখন ছুটে পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন তাদের ওপরও গুলি চালাচ্ছিল ওরা। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সেও ওরা গুলি করেছে।”

মিশরের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। কাদের নিশানা করে এ হামলা হতে পারে- সি বিষয়েও এসেছে বিভিন্ন রকম তথ্য।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, ওই মসজিদে সুফিবাদীরা নিয়মিত নামাজ পড়তে আসেন। আর আইএসসহ বিভিন্ন জিহাদি গ্রুপ সুফিবাদীদের বিরুদ্ধে। হতাহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর লোকজনও রয়েছে।

কায়রোতে বিবিসির প্রতিবেদক স্যালি নাবিল বলছেন, সিনাইয়ের উত্তরাংশে জঙ্গিরা এতদিন মূলত সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করেই বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছিল। এই প্রথম সেখানে মুসলমানদের কোনো মসজিদ এভাবে হামলার শিকার হল। হতাহতের সংখ্যার দিক দিয়েও এ হামলা নজিরবিহীন।

গত কয়েক বছর ধরেই সিনাইয়ে এক ধরনের ‘মিডিয়া ব্ল্যাক আউট’ চলছে, এমনকি রাষ্ট্রায়াত্ত সংবাদমাধ্যমগুলোকেও সেখানে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মিশরের সেনাবাহিনী প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের লড়াইয়ে হারিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে। কিন্তু যে মাত্রায় সেখানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে, তাতে সেনা অভিযানের সাফল্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

শুক্রবারের হামলার পর মিশরে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল-সিসি টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারের কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে এবং আরব লিগ প্রধান আহমেদ আবদুল গেইত এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবিসি লিখেছে, ২০১৩ সালের জুলাইয়ে সেনাবাহিনী ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিশরে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। একের পর এক জঙ্গি হামলায় শত শত পুলিশ, সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছেন।

এসব ঘটনার অনেকগুলোর জন্যই আইএস-সংশ্লিষ্ট সিনাই প্রভিন্স জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল মিশরের কপটিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় স্থাপনা। আবার ২০১৫ সালে রাশিয়ার একটি বিমান ধ্বংস করে ২২৪ জনকে হত্যার ঘটনাতেও আইএসপন্থি জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হয়।

মিশরে জুমার নামাজে হামলায় নিহত ২৩৫

করতোয়া ডেস্ক : মিশরের উত্তর সিনাই প্রদেশে জুম্মার নামাজের জঙ্গিদের বোমা ও বন্দুক হামলায় কমপক্ষে ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বির আল আবেদ শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ৪টি গাড়ি থেকে হামলাকারীরা নামাজ আদায়কারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই হামলায় আরো শতাধিক আহত হয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে সিনাই অঞ্চলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে দেশটির সরকার।     একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থকরা।

 এখনো পর্যন্ত হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। এর আগে সিনাইয়ে জঙ্গিদের ধরতে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী অ্যামবুশে গেলে পাল্টা আক্রমণে ৫০ পুলিশ নিহত হয়। মিশর সরকার পরে জানায় ১৬ জন পুলিশ মারা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে সেনা অভ্যুত্থানে মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

মুগাবে পরিবার জিম্বাবুয়েতে নিরাপদ : এমনানগাওয়া

করতোয়া ডেস্ক : সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ও তার পরিবার জিম্বাবুয়েতে নিরাপদে থাকবেন বলে জানিয়েছেন এমারসন এমনানগাওয়া; কিছুক্ষণের মধ্যে যিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।শুক্রবার জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, দেশে ফিরে মুগাবের সঙ্গে কথা বলেছেন এমনানগাওয়া। দ্য হেরাল্ড পত্রিকার খবরে আরও বলা হয়, ক্লান্তির কারণে এমনানগাওয়ার শপথ অনুষ্ঠানে মুগাবে উপস্থিত থাকবেন না এবং এ বিষয়ে দুই নেতার কথা হয়েছে।

দলের উত্তরসূরী নিয়ে দ্বন্দ্ব, ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদ থেকে এমনানগাওয়াকে বরখাস্ত, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ, ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টি থেকে মুগাবেকে পদত্যাগের আহ্বান ও মুগাবের অস্বীকার, মুগাবেকে সরাতে অভিশংসন প্রস্তাব এবং সর্বশেষ মুগাবের পদত্যাগ। এমাসের শুরুতে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে একের পর এক নাটকীয়তার পর শান্তিপূর্ণ ভাবেই দেশটির ক্ষমতার পালাবদল হতে চলেছে। ১৯৮০ সালে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হওয়া জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতার যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন মুগাবে; যিনি আফ্রিকার জাতির পিতাদের একজন।

 তারপর থেকে গত ৩৭ বছর ধরে সাবেক এই গেরিলা নেতাই জিম্বাবুয়ে শাসন করে আসছেন। শুক্রবার রাজধানী হারারের একটি স্টেডিয়ামে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন এমনানগাওয়া। ঐতিহাসিক এ মুহূর্তের সাক্ষী হতে এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষ স্টেডিয়ামে জড় হয়েছেন। বরখাস্ত হওয়ার পর ‘নিরাপত্তার অভাবের’ কথা বলে দক্ষিণ আফ্রিকা পালিয়ে গিয়েছিলেন এমনানগাওয়া। মুগাবের পদত্যাগের ঘোষণা আসার পরদিন বুধবার তিনি জিম্বাবুয়ে ফেরেন।

এই বিভাগের আরো খবর

তিব্বত ‘অতীত ভুলে’ চীনের সঙ্গেই থাকতে চায় : দালাই লামা

করতোয়া ডেস্ক : চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা নয়, তিব্বতের বৃহত্তর উন্নয়ন চান বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা। ভারতে নির্বাসিত তিব্বতের এই আধ্যাত্মিক নেতা বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ‘ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স’ এর সঙ্গে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।দালাই লামা বলেন, মাঝে মাঝে সংঘাত হলেও চীন এবং তিব্বত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, অতীতে যা ঘটে গেছে তা অতীতই। আমাদেরকে এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে। আমরা স্বাধীনতা চাই না… চীনের সঙ্গে থাকতে চাই। আমরা আরও বেশি উন্নয়ন চাই। তবে তিব্বতের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে চীন সম্মান দেখাবে- এটিও আশা করেন বলে জানান দালাই লামা।

তিনি আরও বলেন, “তিব্বতের আলাদা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। চীনারা নিজের দেশকে ভালবাসে। তেমনিই আমরাও আমাদের দেশকে ভালবাসি। গত কয়েক দশকে যা যা ঘটেছে সে সম্পর্কে বেশিরভাগ চীনা নাগরিকই জানে না উল্লেখ করে দালাই লামা বলেন, কয়েকবছরে দেশে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। তিব্বতের পরিবেশগত তাৎপর্যের কথা তুলে ধরে দালাই লামা বলেন, “পরিবেশবিদরা একে তৃতীয় মেরু বলছেন। সিন্ধুর মতো প্রধান কিছু নদী তিব্বত থেকে এসেছে। আর এর ওপর নির্ভর করে কোটি কোটি মানুষ। তিব্বতের খেয়াল রাখলে শুধু এ অঞ্চলের উন্নতিই নয়, একইসঙ্গে এ বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্যও তা ভাল হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদি রাজপুত্ররা আছেন যেখানে

করতোয়া ডেস্ক : রিয়াদে পাঁচতারকা হোটেল রিৎজ-কার্লটনে আছেন গ্রেপ্তারকৃত সৌদি রাজপুত্রসহ দুই শতাধিক এলিট আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার সৌদি রাজপুত্ররা যেখানে আছেন, সেটি কারাগার নামের বিলাশবহুল আন্তর্জাতিক মানের একটি পাঁচতারকা হোটেল।সৌদি আরবের রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানির মালিকাধীন রিৎজ-কার্লটন হোটেল রাখা হয়েছে সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত ১১ রাজপুত্রকে। তাদের সঙ্গে আছেন সৌদি আরবের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক প্রভাবশালী ও এলিট ব্যক্তি। বিবিসির লিসি ডুসেট প্রথম সাংবাদিক, যিনি এই অভিজাত কারাগারে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। হোটেলের মধ্যে কী কী সুবিধাদি আছে, তা ভিডিওতে ধারণ করেছেন তিনি।

 সুইমিংপুল, জিমসহ সব ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা আছে এই হোটেলে। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অসততার অভিযোগে ৪ নভেম্বর বাদশা সালমানের দুই ভাতিজাসহ ১১ রাজপুত্র ও ২০০ শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে সৌদি আরবের নবগঠিত দুর্নীতিবিরোধী কমিটি। বাদশার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সৌদি আরবে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে। যুবরাজ বিন সালমান সৌদি আরবকে উদারপন্থি মুসলিম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। শরিয়্যাহ আইনের কড়াকড়ি শিথিল করছেন তিনি। তবে এসব পদক্ষেপকে তার ক্ষমতা সুসংহত করার পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা। বিষয়টি তার জন্য চ্যালেঞ্জিংও। কোনো কারণে মুখ থুবড়ে পড়লে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে তাকে। রিৎজ-কার্লটন হোটেলে বন্দিদের মধ্যে প্রাক্তন যুবরাজ ও প্রয়াত বাদশা আবদুল্লাহ ছেলে মোহাম্মদ বিন নায়েফও রয়েছেন। ভিডিওতে বিবিসির সাংবাদিক লিসি ডুসেট ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছেন বিলাশবহুল এই বন্দিশালার পরিস্থিতি।

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top