রাত ১১:৪০, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ প্রবাস

করতোয়া ডেস্ক: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে গার্মেন্ট সামগ্রীর পাইকারী মার্কেট হাংতুয়া কেনাঙ্গা হোলসেল সিটিতে বুধবার অভিযান চালিয়ে ৬০ বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় শতাধিক শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।

মার্কেটে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় সাদা পোশাকের ইমিগ্রেশন বিভাগ ও পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মার্কেটে ঢুকে কাগজপত্র চেক করতে শুরু করে। এ সময় পুরো মার্কেটজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। কর্মরত ৬০ বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় শতাধিক শ্রমিককে আটক করা হয়। কেনাঙ্গা হোলসেল সিটিতে কর্মরত নোয়াখালীর পিয়াস মাহমুদ জানান, আটক বাংলাদেশিদের অনেকের কাগজপত্র ছিল। কাগজ থাকার পরও যৌথবাহিনী তাদের আটক করে নিয়ে যায়। তাদের বৈধ কাগজপত্র ও চলমান বৈধকরণ প্রক্রিয়া মাই-ইজি ও ই-কার্ড অন্য মালিকের নামে করা আছে।

 

মালদ্বীপে বাংলাদেশিসহ আটক প্রায় ১শ শ্রমিক

করতোয়া ডেস্ক: বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বাংলাদেশিসহ প্রায় ১০০ জন অভিবাসীকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে মালদ্বীপ পুলিশ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী মালের জিকরা মসজিদের রাস্তায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয় বলে মালদ্বীপের স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে খবরটি এসেছে। মালদ্বীপ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মালদ্বীপে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসী শ্রমিক বসবাস করে বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে নথিভুক্ত নয় এমন ৬০ হাজার শ্রমিক রয়েছে যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি ও ভারতীয়। এরা নির্মাণ ও পর্যটন খাতে কাজ করছে।

বাংলাদেশি প্রবাসীরা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া অবৈধ অভিবাসীদের অধিকাংশই প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। তবে ঠিক কতোজন রয়েছে বা তাদের পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। মালদ্বীপ অভিবাসন বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা হাসান খলিল বলেন, অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তারের এ অভিযান মালদ্বীপ পুলিশ ও মালদ্বীপ অভিবাসন বিভাগ যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। এটি একটি নিয়মিত পরিদর্শন, কোন অভিযোগের ভিত্তিতে নয়। আমরা সাধারণত হটস্পট লক্ষ্য করে থাকি, যেখানে সাধারণত প্রবাসী কর্মীরা প্রতিদিন সকালে জড়ো হয়।

আমরা এ অভিযানে মূলত যারা আইডি কার্ড দেখাতে পারছে না, যাদের আইডি কার্ড নেই ও যাদের আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের তল্লাশি করি। মালদ্বীপ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ ডিসেম্বর মাসে একই রকমের যৌথ অভিযানে মালের কার্নিভালের ক্যাফেতে কর্মরত ৫০ জন প্রবাসী কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। গত বছর নভেম্বরে যৌনকর্মী পাচারের অভিযোগে তিন বাংলাদেশিকে দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো দেশটির আদালত। ২০১৩ সালে পাশ হওয়া এ মানব পাচার আইনে এখন পর্যন্ত মালদ্বীপের কোন নাগরিক অভিযুক্ত হননি। ভিসা লঙ্ঘন বা ফৌজদারী অপরাধের জন্য অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অনুনমোদিত অভিবাসীদের দেশত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির হুলুমাল দ্বীপের আটককেন্দ্রে রাখা হয়।

 

সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ২৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্তেকাল

করতোয়া ডেস্ক: সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসে আরও ৪ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন-নারায়ণগঞ্জের মো.হারুন অর রশিদ ভূইয়া (৬৬), নাটোরের মো.মহসিন আলী প্রমানিক (৭১),  জামালপুরের মো.দীনেস আলী প্রমানিক (৭৬) ও রংপুরের মো.আব্দুল রাজ্জাক (৫৭)। মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আরাইহাজারের আব্দুল ওহাব ভূইয়ার ছেলে মো.হারুন অর রশিদ ভূইয়া মদিনা আল  মুনাওয়ারায় আল আনসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বাংলাদেশ হজ মিশনের তথ্য মতে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নজিরপুর গ্রামের মো.মহসিন আলী প্রমানিক হার্ট  অ্যাটাক করে মক্কা আল-মুকাররমায় মারা যান। একই সূত্র মতে জানা যায়, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় জামালপুর সদর জেলার ঘোডাধাপ গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে মো.দীনেস আলী প্রমানিক হার্ট  অ্যাটাক করে দার আল উলুম হোটেলে মদিনা আল মুনাওয়ারায় মারা যান। স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে রংপুর সদর জেলার আজিজুললাহ গ্রামের মো.আব্দুল রাজ্জাক হার্ট  অ্যাটাক করে মক্কা আল মুকাররমায় মারা যান। এ নিয়ে মোট বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর সংখ্যা ২৩ জন। এর মধ্যে মক্কায় ১৭ জন ও মদিনায় ৬ জন মারা গেছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত পাওয়া বাংলাদেশ হজ মিশনের তথ্যমতে, আগত সর্বমোট হজযাত্রী ৯৭ হাজার ৫০৬ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৩ হাজার ৩৭০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৯৪ হাজার ১৩৬ জন।

সৌদি আরবে ২ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসে মক্কা আল-মুকাররমায় আরও  ২ বাংলাদেশি মারা গেছেন। তারা হলেন- নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের মো.শফিকুল ইসলাম (৫৮) এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীর মো.আব্দুছ ছোবহান।

মক্কায় হাজীদের সেবার কর্মরত কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান জানান,

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে মো.শফিকুল ইসলাম মক্কা আল-মুকাররমায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তার পাসপোর্ট নম্বর- বিএম ০৩৮৯০০৪। পিআইডি নম্বর- ০৯৫১০৫৮।

এছাড়া শনিবার রাতে মো.আব্দুছ ছোবহান মক্কা আল-মুকাররমায় অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে জানান মাকসুদুর রহমান। আব্দুছ ছোবহানের পাসপোর্ট নম্বর- বিএম ০৬০৩৪৯৬। পিআইডি নম্বর-১৪৩৫১৩৯।

এ পর্যন্ত সৌদি আরবে সর্বমোট ১৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ জন ও মহিলা একজন।

সর্বশেষ স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত জেদ্দায় হজ মিশনের তথ্য মতে, আগত সর্বমোট হজযাত্রী ৬৪ হাজার ১৫৮ জন।

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদি আরবে নারীসহ আরো ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে আরও ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এক নারীসহ মৃত এ তিনজনকে নিয়ে এবারের হজে গিয়ে মৃত বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

মক্কা ও মদিনায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার ভোর রাতের মধ্যে এই তিন জন মারা যান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যে শনিবার ভোর রাতে মদিনার আল মুনাওয়ারায় মারা যাওয়া মো. আবু জাফরের (৬১) বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলায়।

মদিনা আল মুনাওয়ারায় মৌসুমী হজ কর্মকতা এ কে এম শহিদুল্লাহ জানান, হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান আবু জাফর। তার পাসপোর্ট নম্বর বিএল ০৯৩০৮১৭, আর হজযাত্রী নম্বর ০০৯৮২৩৫।

আর মক্কায় শুক্রবার সকালে শরিফা বেগম (৫৬) নামে এক নারী এবং তার আগের বৃহস্পতিবার রাতে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরী সভাপতি আবুল কাসেম মোহাম্মদ শাহজাহান (৬১) মারা যান।

মিশন বাংলাদেশ মক্কায় কর্মরত কাউন্সেলর জহিরুল ইসলাম জানান, ঢাকার আশকোনার দক্ষিণখানের বাসিন্দা শরিফা বেগমের পাসপোর্ট নম্বর বিএম ০৬৮৬৫৭১, আর হজযাত্রী নম্বর ০৭৯৩০৩৮।

খেলাফত মজলিসের নেতা আবুল কাসেম মোহাম্মদ শাহজাহান অসুস্থ হয়ে মারা যায়। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দার পাসর্পোট নম্বর বিএম ০৬৬৮৯৪৯; আর হজযাত্রী নম্বর ১০৬৪০৭৬।

চলতি বছর গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ১৭৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গিয়েছেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বাংলাদেশি আরেক হজযাত্রীর মৃত্যু

করতোয়া ডেস্ক: সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত আবদুর রাজ্জাক (৭৫) রাজবাড়ী সদর জেলার আজগর আলীর ছেলে। তার পাসপোর্ট নম্বর- বিএন ০৬০৭০২৬। পিলগ্রিম নম্বর ০৫৯৮১৫৯। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে মক্কা আল-মুকাররমায় আবদুর রাজ্জাক হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বলে জানান মক্কায় হাজীদের সেবায় কর্মরত কাউন্সেলর জহিরুল ইসলাম। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ালো তিনজন। এছাড়া গত বুধবার রাত ২টার দিশব মক্কা আল মুকাররমায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বরিশাল জেলার মুলাদি থানার মো.ফরিদ উদ্দীন (৬১) এবং তার আগে  খোন্দকার এ আর এম ইউসুফ নামে আরেক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদি আরবে আরেক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে আরও এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মো.ফরিদ উদ্দীনের (৬১) বাড়ি বরিশাল জেলার মুলাদি থানায়।

স্থানীয় সময় বুধাবার রাত ২টার দিকে মক্কা আল-মুকাররমায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ফরিদ উদ্দীন মারা  যান বলে জানান মক্কায় হাজীদের সেবায় কর্মরত কাউন্সেলর মাকসুদুর রহমান।

মৃত ফরিদ উদ্দীনের পাসপোর্ট নম্বর- বিএম ০৯৫৩৫৫৫ এবং পিলগ্রিম নম্বর-০১৫২২১১।

এ নিয়ে চলতি বছর দুইজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হলো। এর আগে সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে মক্কা আল-মুকাররমায় খোন্দকার এ আর এম ইউসুফ নামে এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিলো।

এই বিভাগের আরো খবর

৫৩২ প্রতিষ্ঠানে সবাই পাস, সবাই ফেল ৭২ প্রতিষ্ঠানে

 

মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে এসএসসির মত এবার এইচএসসিতেও ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পাসের হার গতবারের ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২০ হাজার ৩০৭ জন।

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দু’জন । নিহতের নাম রাকিবুল ইসলাম খান (৪৫)। তার দেশের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলের নোয়াগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম আলী নেওয়াজ খান। আহত হওয়া দু’জন হলেন সিলেটের কামাল হোসেন (৪২) ও সরাইলের নূর আলম।

স্থানীয় সময় সোমবার রাতে রিয়াদ চেক পোস্টের কাছে আল খারিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান রাকিবুল।

রাকিবুলের বন্ধু এমদাদুল হক সুমন জানায়, রাতে আল খারিজ থেকে রিয়াদ আসার পথে চেক পোস্টের কাছাকাছি এসে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।

বাংলাদেশে রাকিবুলের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। তিনি আল খারিজ এলাকায় ১৫ বছর ধরে নিজের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

নিহতের মৃতদেহ আল খারিজ বাদশাহ খালেদ হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়েছে। আহত দু’জনকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, আহত কামালের দু’টি পা ভেঙে গেছে। অন্যদিকে নূর আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ

বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের কারণে মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। রোববার মন্ত্রণালয়ে এক সেমিনারে তিনি বলেন, তাদের দেওয়া সময় অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধদের বৈধতার জন্য সময় রয়েছে। কিন্তু তারা হঠাৎ করেই অভিযান শুরু করেছে। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হলে, তারা অভিযান বন্ধ করে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বৈধভাবে পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত চার মাস ধরে ই-কার্ডের আবেদন নেওয়া হয়, যার সময় শেষ হয় ৩০ জুন। এরপর ১ জুলাই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিনের অভিযানেই ৫১৫ জন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করা হয়।

তবে মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে পাসপোর্ট ও রিহায়ারিং সম্পন্ন করে বৈধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হাই কমিশন কর্তৃপক্ষ। গত ১ জুলাই শনিবার বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) হেদায়াতুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ৩০ জুন ই-কার্ড দেওয়া বন্ধ হলেও রিহায়ারিং চালু থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যারা ই-কার্ড পেয়েছেন তাদের দ্রুত বাংলাদেশ হাই কমিশন হতে পাসপোর্ট করে রিহায়ারিং সম্পন্ন করে বৈধ হতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিখাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্টস (আরবিএম) ‘মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চাইলেও মালয়েশিয়ার সরকারের অবস্থানের কারণে সেখানকার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বাংলাদেশ সরকার করেনি, করেছে মালয়েশিয়ার সরকার। বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রায় ১,১০০ এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে মাত্র ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। ১০টিতে রাজি না হলে তারা তাদের বাজার আবার বন্ধ করে দিতে পারত। তাই আমরা এ নিয়ে আর কোনো কথা বলিনি।

সরকার জাপান ও রাশিয়াসহ আরো বেশ কিছু নতুন শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে কাজ করছে বলেও জানান নুরুল ইসলাম। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, অভিবাসন ব্যয় ও মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট নিয়ে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় আছে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে অনেক সমস্যার সমাধান একদিনে করা যাবে না। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তাই আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না। যেসব বিষয়ে কোনো মামলা নেই, আমরা সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। সরকার অভিবাসন ব্যয় কমাতে কাজ করলেও এখনও এটি অনেক দেশের চেয়ে বেশি বলে জানান তিনি। পৃথিবীর অনেক দেশেই অভিবাসন ব্যয় এত বেশি নয়। তারা যতদূর সম্ভব অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কর্মী পাঠাতে চেষ্টা করে। যে কারণে নেপালের শ্রমিক এখন বিভিন্ন দেশে বাড়ছে। আমাদেরও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ব্যবস্থাকে অভিবাসন খাতের বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক সিআর আবরার। তিনি বলেন, এ ধরনের অবস্থা কাঙ্খিত নয়। দেশের শ্রমবাজার বাঁচাতে এ ধরনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। অভিবাসন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা। বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে না, বরং কর্মী প্রেরণের পরিমাণ বাড়ছে। এর আগে একবছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী পাঠাতে পেরেছি। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ছয় মাসে এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানো হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার, যা বছর শেষে অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে ১০ লাখ অতিক্রম করবে।

বিভিন্ন দেশে এখনো ভিসা বিক্রির মতো ঘটনা ঘটায় দেশের অভিবাসন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় শ্রমিকরা গিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে। এসব কর্মীদের দূতাবাসের মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে হবে। তিনি অভিবাসন ব্যয় এবং সিন্ডিকেট ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। ব্র্যাকের হেড অব মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম শরীফুল হাসান বলেন, মালয়েশিয়ায় নতুন শ্রমিক পাঠানোর চেয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়া এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণই এই মুহূর্তে শ্রমখাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী যাওয়া বন্ধ না করলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। আরবিএম সভাপতি ফিরোজ মান্নার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের নির্বাহী সদস্য মহসীনুল করিম। আরবিএম সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বায়রার যুগ্ম-মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান, সাবেক মহাসচিব রিয়াজুল ইসলাম, মনসুর আহমেদ কালাম ও বায়রার সহ-সভাপতি আবদুল হাই বক্তব্য দেন।

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদি আরবে সড়কে দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত

করতোয়া ডেস্ক: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে দাম্মাম-খোবার হাইওয়েতে খাবিজ ফারজানিয়া সানাইয়া এলাকার আলজামিল স্টিল কোম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে ঘটনাস্থনেই প্রাণ হারান মোহাম্মদ হানিফ নামের বাংলাদেশি। মোহাম্মদ হানিফের দেশের বাড়ি কুমিল্লায়, তার বাবার নাম আব্দুল করিম। দুর্ঘটনার শিকার প্রায় একই নামের অপর বাংলাদেশি শুক্রবার দাম্মামের মারকাজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান। তার নাম মোহাম্মদ হানিফ মিয়া। তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলাধীন এলাসিন খান বাড়ির হজরত আলীর ছেলে। নিহতরা দাম্মামের মেসার্স ফারেস নাজদ কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করতেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের আইন সহায়তাকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ। দাম্মামে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ফখরুল ইসলাম জানান, নিহতদের লাশ দাম্মামের সেন্ট্রাল হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

সাড়ে ৩ হাজার বাংলাদেশির সেকেন্ড হোম মালয়েশিয়া

করতোয়া ডেস্ক: একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় গত দেড় দশকে মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় বাড়ি গড়ার অনুমতি পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে সংখ্যায় তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এমএম২এইচ জাতীয় কর্মশালায় দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নাজরি আজিজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০০২ সালে মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম (এমএম২এইচ) নামে এই কর্মসূচি চালুর পর থেকে ভালো সাড়া পড়েছে।এ পর্যণ্ত ১২৬টি দেশের ৩৩ হাজার ৩০০ মানুষ এই সুবিধা পেয়েছেন।

এই কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে শীর্ষে রয়েছে চীন; দেশটির ৮ হাজার ৭১৪ জন এই সুবিধা পেয়েছে। এরপরই জাপানের অবস্থান; দেশটির ৪ হাজার ২২৫ জন মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ গড়ার অনুমতি পেয়েছেন। এরপর যথাক্রমে বাংলাদেশ (৩,৫৪৬), যুক্তরাজ্য (২,৪১২), ইরান (১,৩৩৬), সিঙ্গাপুর (১,২৯৫), তাইওয়ান (১,২০৮), দক্ষিণ কোরিয়া (১,২৬৬), পাকিস্তান (৯৭৩) ও ভারতের (৮৯০) অবস্থান। মন্ত্রী নাজরি বলেন, সেকেন্ড হোম কর্মসূচির আওতায় অংশ নেওয়া মানুষরা স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসাবে মোট এক হাজার ২৮০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করেছেন। এমএম২এইচ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মুদ্রা পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরে রয়েছে। এক লাখ ডলার জমা দেওয়াসহ বিশেষ কিছু শর্ত পূর্ণ করে যে কোনো দেশের নাগরিকরা মালয়েশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পান। প্রাথমিকভাবে ১০ বছরমেয়াদী সোস্যাল ভিসা নবায়নযোগ্য।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৫১৫ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর প্রথম দিন এক হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যাদের অর্ধেকই বাংলাদেশি।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দপ্তরের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলীর বরাত দিয়ে মালয়েশিয়া স্টার জানিয়েছে দেশটির ১৫৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট এক হাজার ৩৫ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।  

আটকদের মধ্যে ৫১৫ জন বাংলাদেশি, ১৩৫ জন ইন্দেনেশীয়, ১০২ জন ফিলিপিনো, ৫০ জন থাই ও দুজন ভিয়েতনামি নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, এদের কাছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দেওয়া এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) বা সাময়িক অবস্থানের অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।

আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী ও তিনটি শিশুও রয়েছে বলে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য। মুস্তাফার আলী জানান, নিয়ম ভেঙে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখায় ১৬ জন চাকরিদাতাকেও তারা আটক করেছেন।

মহাপরিচালককে উদ্ধৃত করে মালয়েশিয়ার সান ডেইলি লিখেছে, আটকরা ই-কার্ডের জন্য আবেদন না করার বিভিন্ন রকম কারণ দেখিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তারা আবেদনের সময়সীমা জানতেন না। আবার কেউ বলেছেন, ওই সময়সীমা বাড়ানো হবে বলে চাকরিদাতারা তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন।   

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বৈধভাবে পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত চার মাস ধরে ই-কার্ডের আবেদন নেওয়া হয়, যার সময় শেষ হয় ৩০ জুন।  

ইমিগ্রেশন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৬ হাজার ৯৫৭টি কোম্পানির মোট একলাখ ৫৫ হাজার ৬৮০ জন কর্মী ই-কার্ডের আবেদন করেন, যারা ১৫টি দেশের নাগরিক।

আবেদনকারীর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৭১ হাজার ৯০৩; এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (২৬ হাজার ৭৬৪) ও মিয়ানমারের (১১ হাজার ৮২৫) নাগরিকরা। বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম জানান, এই ই-কার্ডের মেয়াদ আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অর্থাৎ, যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা কাজের অনুমতি নেই, ওই ই-কার্ড হাতে থাকলে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় থেকে কাজ করতে পারবেন।

ওই সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট ও ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।

তা না হলে নির্ধারিত সময়ের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। সান ডেইলি লিখেছে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। সেই হিসেবে অবৈধ শ্রমিকদের মাত্র ২৩ শতাংশ ই-কার্ড সংগ্রহ করেছে।   

 

মালয়েশিয়ায় অভিযানে আটক ৩৩০ বাংলাদেশি

করতোয়া ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী জোরদার অভিযানে অন্তত ৩৩০ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। দেশজুড়ে অভিযানে আটক হয়েছেন মোট ৭৫২ অভিবাসী। যাদের মধ্যে রয়েছেন মায়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতের নাগরিক।
অবৈধ শ্রমিকের নিবন্ধনের জন্য ই-কার্ড (এনফোর্সমেন্ট কার্ড) গ্রহণে বেঁধে দেওয়া মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযানে এই অভিবাসীদের আটক করা হয়।

অভিযান চালানো হয়েছে জোহর বাহরু, ক্লাং, আলোর স্তার, কোটা বারু, মালাক্কা, আইপো, কুয়ালা তেরেঙ্গানু, কুয়ানতান, কোটা কিনাবালু, সেরেমবান ও জর্জটাউনের বিভিন্ন এলাকায়। দেশটির অভিবাসন বিভাগের এ জোরদার অভিযানে সহায়তায় ছিল স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলীর বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম বার্নামা অভিবাসীদের এ খবর দিয়েছে।
স্বয়ং ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তাফার আলীর নেতৃত্বে একটি দল জালান জাতি কিরি এবং কাপারে মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করে।
আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ২৩৯ জন শ্রমিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ৫১ জনের কাছে কোনো বৈধ কাগজ পাওয়া যায়নি। যার বেশিরভাগই বাংলাদেশি বলে জানান মুস্তাফার।

তিনি বলেন, সেখানকার আসবাবপত্র এবং প্লাস্টিক ম্যানুফেকচারিং ফ্যাক্টরিগুলোতে অভিযান চালানো হয়। আশ্চর্যজনক হচ্ছে ডরমিটরিগুলোতে পরিস্থিতি ছিল শান্ত। শ্রমিকরা নিশ্চিন্ত মনেই ছিলেন একসঙ্গে। মায়ানমারের একজন নারী শ্রমিক জানান, নিবন্ধনের মেয়াদের শেষ সর্ম্পকে তিনি জানতেন না। সেই নারী বলেছেন, আমাদের নিয়োগকর্তা সবার কার্ড প্রস্তুতির জন্য কাজ করছেন। তবে এখনো সবাই পাননি। তিনি আমাদের এ বিষয়ে চিন্তা করতে মানা করেছেন।
আগের দিনই মুস্তাফার কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন, এ নিবন্ধনের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। তিনি বলেন, যারা ভেবেছেন আবারো মেয়াদ বাড়ানো হবে, তাদের বলছি আর কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখন কঠিন সিদ্ধান্তে যাবো। এটা হয়তো মায়া-মমতাহীন মনে হবে, তবে আমাদের দেশের লাভ এবং সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনুমোদনহীন বিদেশি শ্রমিকদের ধরতে প্রতিদিনই অভিযান চলবে। আমাদের দেশকে অবৈধ শ্রমিকমুক্ত করতে হলে এটা করতেই হবে। শুক্রবার (৩০ জুন) অনলাইনে ই-কার্ড নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়।

 

সৌদি আরবে পুড়েছে বাংলাদেশিদের শতাধিক দোকান

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি মার্কেটে আগুন লেগে দুইশরও বেশি দোকান পুড়ে গেছে, এগুলোর বেশিরভাগের মালিকানাই বাংলাদেশিদের। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘বাথা মার্কেট’ নামে পরিচিত বিপণিবিতানটিতে আগুন লাগে বলে সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রবাসী বাংলাদেশি হাসান তালুকদার জানান।

তিনিবলেন, “আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা কাউকে কাছাকাছি যেতে দিচ্ছিলেন না।” হাসানের বাসা ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটার দূরে বাথা রোচাচী ভবনে। তিনি জানান, দুই ঘন্টা পর রাত সাড়ে ৮টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

“তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা না গেলেও বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এর সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা,” বলেন হাসান।

‘মরে তো যাবোই, দোয়া করো যাতে কষ্ট কম হয়’

করতোয়া ডেস্ক: ‘লন্ডনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যখন ঘটে, তখন ফজরের নামাজ শেষ। আগুন ছড়াইতেসে সবাই দেখতেসে। ও ওর চাচাতো ভাইয়ের কাছে শেষ ফোনকল করেছে, ভাইয়া দোয়া করো, যাতে আমাদের কষ্ট কম হয়। মারা তো যাবোই, কষ্ট যাতে কম হয় দোয়া করো।’ যুক্তরাজ্যের লন্ডনের নর্থ কেনসিংটনে ২৪ তলা এক ভবনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ তলায় বসবাসরত এক বাঙালি পরিবারের মেয়ে হোসনার আকুতির কথা জানাচ্ছিলেন লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ওর আত্মীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, ওর বিয়ের কার্ড প্রস্তুত ছিল। বিয়ের সব কেনাকাটাও প্রায় শেষ। এখানে আগামী ২৯ জুলাইয়ের  জন্য হল বুকিং দেওয়া হয়েছে। সেই মেয়ের কণ্ঠে শেষ আকুতি ভেসে আসে, মরে তো যাবোই, দোয়া করো যেন কম কষ্ট হয়। তারা এই ভবনের ১৭ তলায় ১৪৪ নম্বর ফ্ল্যাটটিতে ছিলেন।’ এর আগে গত রাতে বাংলাদেশি সময় দুটার দিকে তিনি (মুনজের আহমেদ চৌধুরী) ফেসবুক স্ট্যাটাসে মেয়েটির বিয়ের খবরসহ লেখেন, ‘ লন্ডনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ এ পরিবারটি।

কোনও খোঁজ পেলে উল্লিখিত নাম্বারে জানান।’ নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, কমরু মিয়া, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনার বিরইনবাদ গ্রামে। এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। মুনজের আহমেদ বলেন, ‘ওরা ফ্ল্যাটটিতে বছর খানেক আগে উঠেছে। আর কোনও বাঙালি পরিবারের নিখোঁজ হবার খোঁজ-খবর এখনও আমরা পাই নাই।’ পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বলতে গিয়ে মুনজের বলেন, ‘ওই পরিবারের পাঁচ জনের কথা আমি জানি। দুই ভাই, এক বোন, মা ও বাবা। এক ভাই লণ্ডনে স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকেন।’ তিনি কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘আমি পরিবারের সদস্যদের একজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এখন অন্ধকারের মধ্যে । এ দেশে পুলিশ যতক্ষণ উদ্ধার করে নিহত বলবে না, ততক্ষণ নিখোঁজ। পুলিশ এলাকাটাতে কাউকে যেতে দিচ্ছে না ।’

মুনজের আরও বলেন, ‘আমরা লন্ডন সময় গতকাল পাঁচটার দিকে জানতে পারি, এই পরিবারের কথা। পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি শোকাহত। যেখানে সম্প্রতি বাংলাদেশি তিনজন এমপি পদে পুনঃনির্বাচিত হলেন। এই লন্ডন থেকেই ক্রিকেটের খবর গেছে, এরমধ্যে লন্ডনের মতো শহরে পুড়ে মরছে। বাংলাদেশে হলে বলতাম নিরাপত্তার সমস্যা। লন্ডনের মতো শহরে এটা বেদনাদায়ক ঘটনা।’ আগুনের ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাজার খানেক লোকের আবাস গ্রিনফিন টাওয়ার নামের ওই ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। অন্তত ৭৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মুনজের আহমেদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় জানান, ‘লন্ডনে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনটি থেকে জীবিত আর কাউকে উদ্ধারের আশা নেই।’

 

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের হাতে প্রবাসী শ্রমিক খুন

করতোয়া ডেস্ক: মালয়েশিয়ার পেরাকেইন্দোনেশিয়ান সহকর্মীদের হাতে খুন হয়েছেন এক বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক। নিহত দিদারুল ইসলামের বয়স ২৭ বছর। তিনি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পেরাক প্রদেশের বাতু কুরাউ শহরের তামান কারু পেরমা এলাকার একটি কন্সট্রাকশন সাইটে ওই এ ঘটনা ঘটে বলে তাইপিং পুলিশের সহকারী কমিশনার হ্যারিথ কাম আবদুল্লাহ বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার দি স্টার পত্রিকা জানিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জানান, ভুল বোঝাবুঝি থেকে নির্মাণ কর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডায় এক পর্যায়ে তিন ইন্দোনেশিয়ান সহকর্মী দিদারকে ছুরি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে। পরে গুরুতর আহত দিদারকে নির্মাণ সাইট থেকেঅ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় তাইপিং হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তে দিদারের মাথায় ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় এবং ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

গৃহকর্মী নির্যাতন: নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কূটনীতিক গ্রেপ্তার

শ্রমিক পাচার, গৃহকর্মীকে নির্যাতন এবং মজুরি চাওয়ায় হত্যার হুমকির অভিযোগে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সকালে নিউ ইয়র্কের পুলিশ তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার কয়েক ঘণ্টা পর কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে হাজির করা হয়।

বিচারক ড্যানিয়েল লুইস ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলারে তার জামিন ঠিক করে দেন এবং তার পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দেন বলে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন জানান।

অ্যাটর্নি ব্রাউন  বলেন, সীমিত কূটনৈতিক দায়মুক্তিসহ কনস্যুলার অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত শাহেদুলের বিরুদ্ধে এক বিদেশিকে এনে তার কুইন্সের বাসায় রেখে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত বিনা মজুরিতে জোরপূর্বক কাজ করানোর ঘটনায় শ্রম পাচার ও নির্যাতনসহ অভিযোগ ৩৩ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

“২০১২ সালের শেষ দিকে শাহেদুল বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ আমিন নামে একজনকে গৃহকর্মী হিসেবে নিউ ইয়র্কে এনে তার পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করেন। তাকে দিয়ে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করালেও বিনিময়ে ‘একটি পয়সাও’ দেওয়া হয়নি।

“মজুরি দাবি করলেই আমিনকে মারধর করা হতো। নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে আমিনকে হত্যার হুমকি- এমনকি বাংলাদেশে তার বৃদ্ধা মা ও ছেলে-মেয়েকেও হত্যার হুমকি দেন।নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে গত বছরের মে মাসে আমিন পালিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিচার চায়।”

যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কর্মকর্তা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কূটনৈতিক মর্যাদায় বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল যে আচরণ করেছেন, তা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও প্রায় চার বছরের ওভারটাইমসহ বেতন ও যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

জামিন পেলে মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুন শাহেদুলকে আবার আদালতে হাজির হতে বলে জানান অ্যাটর্নি ব্রাউন।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, তারা ৫০ হাজার ডলারের বন্ড সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও শাহেদুল ইসলামের মুক্তির আনুষ্ঠানিকতায় আরও ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

 তিনি বলেন, “আমিন গত বছর বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করেছি। গৃহকর্মী নিয়োগ থেকে পারিশ্রমিক-ভাতা ও ভ্রমণ ভাতার সবকিছুই ডেপুটি কনসাল জেনারেলের ব্যক্তিগতভাবে করার কথা।

“তাই বেতন একেবারেই পাননি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি সত্য না মিথ্যা তা আমি বলতে পারবো না। তা নিতান্তই শাহেদুলের ব্যাপার।”

‘প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শাহেদুলের পাশে’ থাকবেন বলে জানান কনসাল জেনারেল।

একই ধরনের অভিযোগে এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলার নোটিস দেওয়ার পর্যায়েই তিনি নিউ ইয়র্ক ছাড়েন।

মামলাটি এখনও ঝুলে থাকলেও তার গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজ গ্রিন কার্ড পেয়েছে।

 

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. মোস্তফা (৩৫), তিনি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের ধানধৌল গ্রামের উত্তর কালামুড়িয়া পাড়ার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৌদির আল-কাশিন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আল হকার কোম্পানিতে কর্মরত গোলাম সরওয়ার জানান, রোববার ডালটা নামে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে আল কাশিনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার মোস্তফাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোস্তফা ১৪ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক।

 

নিউ ইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ বাংলাদেশির লাশ ঢাকায় আসছে আজ

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির কাছে নর্দার্ন স্টেট পার্কওয়েতে দুর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ ঢাকায় আসছে। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে আমিরাত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে লাশ পাঠানো হয়েছে বলে কমিউনিটি নেতা ও প্রবাসীরা জানান। লাশের সাথে তাদের পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে যাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বুধবার সকালে কফিন তিনটি ঢাকায় পৌঁছবে। নিহতরা হচ্ছেন- ঢাকার মাতোয়াইলের শামসুল আলম (৬১), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আতাউর রহমান দুলাল (৩৫) এবং ময়মনসিংহের নৌমহল এলাকার রায়হান ইসলাম (২৮)। অপর আহত আল আমিনকে (৩৬) স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার বাসিন্দা। স্থানীয় টহল পুলিশ জানায় সময় শনিবার নিউ ইয়র্কের কাছে লং আইল্যান্ড এলাকার নর্দার্ন স্টেট পার্কওয়ের এক্সিট ৩১-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। বহনকারি প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন ও অপর দু’জনকে আহত অবস্থায় কাছের উইনথ্রপ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আরো একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল আমিনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। তার ডান হাত ও পা এবং বুকের পাজরের অংশবিশেষ ভেঙ্গে গেছে বলে চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। এখনও তার জ্ঞান ফিরেনি। তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিহত ও আহতরা সবাই নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর জ্যামাইকা এলাকায় বসবাস করতেন এবং লং আইল্যান্ডে তাদের কর্মস্থল ইনভাজিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে সকালের শিফটে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রায়হান ইসলাম সহকর্মীদের নিয়ে তার নিজের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। নিহত শামসুল আলম তার এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে জ্যামাইকায় বসবাস করতেন। তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ঢাকার মিরপুর কলেজের অধ্যাপক। তাদের বড় মেয়ে শামস জেরিন তাসনিম ঢাকায় আর্মি হাসপাতালের ডাক্তার, দ্বিতীয় মেয়ে মমো নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের ছাত্রী। একমাত্র ছেলে তনয় নিউ ইয়র্কের আলফ্রেড নোবেল ইউনির্ভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নিহত আতাউর রহমান তার স্ত্রীকে নিয়ে জ্যামাইকায় বসবাস করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রায় দুই বছর ফ্লোরিডায় বসবাসের পর মাসখানেক আগে তারা নিউ ইয়র্কে আসেন এবং লং আইল্যান্ডের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনায় অপর নিহত রায়হান ইসলাম স্ত্রী ও ৪ বছর বয়সি এক মেয়েকে নিয়ে জ্যামাইকার সাটফিন এলাকায় বসবাস করতেন।

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির নিকটবর্তী নর্দার্ন স্টেট পার্কওয়েতে দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টায় তাদের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে বলে নিউ ইয়র্কের টহল পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন- রায়হান ইসলাম (২৮), মো. ডি আলম (৬১) ওআতাউর রহমান দুলাল (৩৪)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এ. মোল্লাকে (৩৬) স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হতাহতরা সবাই নিউ ইয়র্কের কুইন্সের বাসিন্দা। তারা সবাই গাড়িতে করে কর্মস্থল লং আইল্যান্ডে যাচ্ছিলেন। রায়হান গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়া আরেক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা হলো একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচ। শনিবার ভোরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাফার-আল বাতিন থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে উম্মে জম জম এলাকায় এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান দুজন।

নিহতরা হলেন আজিজুর রহমান ওরফে আব্দুল আজিজ, তার ছেলে আরাফাত বিন আজিজ (৮), মেয়ে লুবাবা বিনতে আজিজ (৪), শাশুড়ি আকলিমা বেগম (৫৫) ও গাড়ি চালক মাসুদ।

আহত হন আজিজের স্ত্রী মোরশেদা পারভীন মুন্নি (৩৫)। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আজিজের বাড়ি ফেনী শহরের বারাহিপুর এলাকায়। পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে হারানো স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

আজিজুর রহমানের বড় ভাই সাইদুল হক জানান, বারাহিপুরের ‘ক্ষণিকালয়’ বাড়ির নয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট আজিজ। ১৯৯২ সালে তিনি সৌদি আরব যান। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি সেদেশে ব্যবসা করছেন।

“তিন মাস আগে দেশে আসেন স্ত্রী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে ওমরাহ করতে নেওয়ার জন্য। এপ্রিলের ১৮ তারিখ তারা সৌদি আরব চলে যান।”

সাইদুল জানান, শনিবার ভোরে ওমরাহ শেষে ফেরার পথে উম্মে জম জম এলাকায় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আজিজের দুই সন্তান ও গাড়ি চালক নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আজিজ ও শাশুড়ির মৃত্যু হয়।
আজিজের আরেক বড় ভাই শফিকুর রহমান জানান, পরিবারের সবার ছোট ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সবাই। বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন নিহতের বোন ও স্বজনরা। সবার ছোট হয়ে সবার আগে এভাবে চলে যাবে ভাই কখনও তারা ভাবতে পারেনি।

আজিজের দীর্ঘদিনের বন্ধু মোহাম্মদ আলী বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আজিজ এলাকায় দানশীল ব্যক্তি ছিল। নিয়মিত মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা করত।

খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ওই পরিবারকে সান্তনা দিতে ছুটে যান স্থানীয় কাউন্সিলর বাহার উদ্দিন বাহার।

তিনি বলেন, “নিহত সকলের মরদেহ দেশে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সরকারের সহযোগিতা আশা করছি। ফেনী পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা লাগলে করা হবে।”

স্রোতের পাথরে পা আটকে প্রবাসীর মৃত্যু

করতোয়া ডেস্ক: মালয়েশিয়ার একটি পর্যটন এলাকায় স্রোতের পাথরে আটকে এক প্রবাসী বাংলাদেশি ডুবে মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটির বেন্টং শহরে জনপ্রিয় চামমন জলপ্রপাত পর্যটন কেন্দ্রে সাঁতার কাটার সময় মনির হোসেন জালাল উদ্দিন নামে এই বাংলাদেশি ডুবে যান বলে মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা সূত্রে জানা যায়। নিউ স্ট্রেইটস টাইমস ও অস্ট্রো আওয়ানিসহ মালয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদটি গুরুত্ব সহকারে ছাপিয়েছে। স্থানীয় সংবাদপত্র মাধ্যমে জানা যায়, মনির হোসেন জালাল উদ্দিন (৪০) তার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে জলপ্রপাতে সাঁতার কাটছিলেন। জলপ্রপাতে পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে গেলে মনির স্রোতের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান বলে উপস্থিত দর্শনার্থী ও পর্যটকরা জানান। মালয়েশিয়ার সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের (এপিএম) পরিচালক জয়নুল ইউসুফ বলেন, “পর্যটক ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে এপিএমের ১১ জন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান। জলপ্রপাতের গভীরে স্রোতের পাথরে পা আটকে যাওয়া অবস্থায় ডুবন্ত মনিরকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি। পরে তার লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য বেন্টং হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নৌকায় ইউরোপমুখীদের মধ্যে বাংলাদেশিই বেশি

করতোয়া ডেস্ক : গত বছরের প্রথম তিন মাসে ইতালিতে অবৈধভাবে পাড়ি জমানো শরণার্থীদের মধ্যে মাত্র একজন ছিল বাংলাদেশি, ২০১৭ সালে তা ২ হাজার ৮০০ জনে গিয়ে ঠেকেছে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপে শরণার্থীদের উৎসস্থল হিসেবে একক দেশ হিসেবে সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাককে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে বলে যুক্তরাজ্যের দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই শরণার্থীরা মূলত লিবিয়া হয়ে ইতালিতে ঢুকেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পাড়ি জমায় এই শরণার্থীরা, এরপর ভূমধ্য সাগরে নৌকা ভাসায় ইতালির লক্ষ্যে। ইউরোপে শরণার্থীদের রুট ও জনমিতির মানচিত্র বদলের এই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তাদের কথায়। তবে অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি জমানো বাংলাদেশিদের এই সংখ্যাধিক্যের পেছনে রোহিঙ্গারাও একটি কারণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে থাকা জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরাও এই সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে বলে তাদের ধারণা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শরণার্থীদের ঢল সামলাতে কয়েক বছর আগে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তির পর আজিয়ান সাগরের রুটটি দিয়ে অনুপ্রবেশ কমে গেলে ভূমধ্য সাগর হয়ে ইতালিতে পাড়ি জমানো বেড়ে যায়। সক্রিয় হয়ে ওঠে যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ায় মানবপাচারকারীরাও। আইওএম কর্মকর্তা ফ্লাভিও দি গিয়াকোমো ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, ‘গত বছর মার্চ নাগাদ তিন মাসে ইতালিতে ঢোকা বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল একজন।

এই বছরে ওই সময়ে এই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ২৮৩১ জনে। এই তথ্যটি শরণার্থীদের জাতীয়তার পরিবর্তনের বিষয়টি মেলে ধরে।’ ভূমধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢোকার অবৈধ পথটি বেশ বিপদসঙ্কুল। সেখানে নৌকাডুবিসহ নানা কারণে এই এবছরই প্রায় ১১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতালিতে যেতে নৌকায় ওঠার আগে বাংলাদেশ থেকে দুবাই কিংবা তুরস্ক হয়ে লিবিয়ার মাটিতে নামা বিমানেই হয়। এজন্য ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাচারকারীদের দিতে হয়েছে বলে ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে উদ্ধার বাংলাদেশি কয়েকজন দাতব্য সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের জানিয়েছেন।

এর মধ্যে ১০ হাজার ডলারের মতো দিতে হয় লিবিয়া পৌঁছানো পর্যন্ত, এরপর নৌপথের জন্য ৭০০ ডলার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লিবিয়া বিষয়ক গবেষক হানান সালেহ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, ‘আমার জানা মতে দুবাই থেকে ত্রিপলির (লিবিয়ার রাজধানী) কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই। দুবাই থেকে তিউনিস হয়ে আসতে হয়।’ ইতালির সিসিলি ও অ্যাপুলিয়ায় পৌঁছনো বেশ কয়েকজন মানবাধিকারকর্মীদের বলেছেন, ওয়ার্কিং ভিসার জন্য তাদের ৩ থেকে ৪ হাজার ডলার দিয়েছেন ‘এজেন্টকে’। হানান সালেহ বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে যে লিবিয়ায় বিমান থেকে নামার পরপরেই এই শরণার্থীদের অনেকের কাছ থেকে সব কাগজপত্র নিয়ে তাদের একটি সিøপ ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে আরও অর্থ নেওয়ার পথ তৈরি করে।’ লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে অপসারণের পর বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি মানব পাচারকারীদের বড় সুযোগ করে দিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক নিকোলাস ম্যাকগিহান ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, ঢাকা থেকে দুবাই পর্যন্ত রুটটিতে অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তারা (জনশক্তি রপ্তানিকারক) অনেক যুবকের কাছে স্বপ্ন বিক্রি করে, কিন্তু সেই যুবকদের স্বপ্ন বেশিরভাগ সময় খান খান হয়ে যায়। রেমিটেন্সে আশায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকার জনশক্তি রপ্তানিতে এই অনিয়মের বিষয়ে উদাসীন বলে তার মন্তব্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের বড় শ্রম বাজার হলেও ইউরোপমুখে তাদের সংখ্যাধিক্যের কারণ ব্যাখ্যা করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দি রয়াল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষক গ্যারেথ প্রাইস ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরাও বাংলাদেশ হয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের যুদ্ধাপরাধে ফাঁসিতে ঝোলানোর পর দলটির অনেকে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাচ্ছেন। ইউরোপ সেক্ষেত্রে ভাল গন্তব্য। আর কেউ যদি কেউ একটা রুট তৈরি করতে পারে, তারপর মানুষের ব্যবহারে দ্রুতই তা জমজমাট হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেন প্রাইস।

 

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সামসুল আলম দুলাল (৫০) চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার পটিকখিরা গ্রামের আবুল হোসাইনের ছেলে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। দুলালের নিকটাত্মীয় কামরুজ্জামান জানান, হঠাৎ করে দুলাল ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে রিয়াদের আল ওবায়েদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সামসুল আলম দুলাল দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন। তার স্ত্রী,  এক ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। মৃত দুলালের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।

বাহরাইনে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

করতোয়া ডেস্ক: বাহরাইনের রাজধানী মানামায় সড়ক দুর্ঘটনায় কাজী সোহেল (২৮) নামে এক  বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বাহরাইন স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় মানামার মানামা হাইওয়ের ফোর সিজন হোটেলের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ডাকসিন চাঁদপুর এলাকার মিজিয়াপাড়া গ্রামের কাজী দুলালের ছেলে। তার সেন্ট্রাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার (সিপিআর) নং-৮৭০৬৪১৩২৮। তিনি আল রিফাইন ক্যাফটেরিয়া নামক একটি রেস্টুরেন্টে মোটরসাইকেলে ডেলিভারির কাজ করতেন।
এ ব্যাপারে নিহতের রুমমেটরা  জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে সোহেল মোটরসাইকেলে ডেলিভারির জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকায় তার মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়। পরে টহলরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সালমানীয়া মেডিকেল কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি  করে। সেখানে চিকিৎসাধীর অবস্থায় শনিবার (২২ এপ্রিল ) তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ সালমানীয়া মেডিকেল কমপ্লেক্স হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তার মরদেহ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানো হবে বলে  জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দোহারের ২ জনের মৃত্যু

করতোয়া ডেস্ক: সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার দোহার উপজেলার দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দোহার থানার ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে সৌদি আরবের ওয়াদি আল দরুস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন -দোহার উপজেলার জয়পাড়া এলাকার মো. সেলিম ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরবৈতা এলাকার মুসলিম মোল্লা। নিহতদের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে সৌদি আরবের জিজান থেকে রিয়াদে যাচ্ছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি। ওয়াদি আল দাউসির এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

মালয়েশিয়ায় ৩৭ বাংলাদেশি আটক

করতোয়া ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় ৩৭ বাংলাদেশিসহ ৩৭৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সারাওয়াক প্রদেশে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন দফতরের মুখপাত্র মাসপাউন বোলহাসানের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপপ্রধান রোসলিয়াহ কাসিমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদেরকে আাটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৫৮ জন ইন্দোনেশিয়া, ১২৭ জন চীন, ৪৩ জন ভারত, ৭ জন ফিলিপাইন, ১ জন শ্রীলঙ্কা ও ৩ জন স্থানীয় নাগরিক। এদের মধ্যে ১১৯ জন পুরুষ ২ জন নারীর কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ৪১ জন, ভারতের তিনজন এবং ফিলিপাইনের দু’জন নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। বারনামা আরও জানায়, গত রোববার সারাওয়াক অভিবাসন দফতর মালয়েশিয়ার মুকানের বালিনগিয়ান এলাকায় একটি নির্মাণাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

ফেনী প্রতিনিধি : সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাহতাব উদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহতাব ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার গাবতলা পাটোয়ারি বাড়ির ফয়েজ আহাম্মদের ছেলে।

মাহতাবের ভাতিজা কপিল  জানান, সোমবার রাতে জেদ্দা শহরে টিউশনি শেষে বাসায় ফিরছিলেন মাহতাব। এসময় এক মাইক্রোবাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। আধঘণ্টা পর পুলিশ এসে মাহতাবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাহতাব সেখানে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। ১৭ মার্চ তার নামাজে জানাজা শেষে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হবে বলেও জানান ভাতিজা কপিল।



Go Top