রাত ১১:৩১, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ শিক্ষা

ঢাবি প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এ বিষয়ে ‘বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার’ সুপারিশ উঠে এসেছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনার থেকে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার নানা দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুইদিনের এই সেমিনারে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইবুন্যাল ও গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক নানা ইস্যু নিয়েও আলোকপাত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত দুইদিনের এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এতে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের সাবেক অধ্যাপক,  রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশিষ নন্দী।  বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। স্বাগত ভাষণে সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের কার্যক্রম তুলে ধরার পর এর পরিচালক অধ্যাপক  ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে আরো বেশি জোরদার করতে আমরা এই সেমিনারটি আয়োজন করেছি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আশীষ নন্দী আঠারো ও ঊনিশ শতকে ঘটে যাওয়া নানা গণহত্যার ঘটনার উদাহরণ টেনে এনে বলেন, আমার কৈশোরে দেখা সবচেয়ে নৃশংতম গণহত্যাটি ঘটেছে একাত্তরে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সব নৃশংসতম রূপটি আমি আর কোথাও দেখি না। উচ্চতর পর্যায় নয়, স্কুল-কলেজ থেকেই গণহত্যা বিষয়ক সিলেবাস প্রণয়নের পক্ষে জোর দিলেন এই গবেষক।

তিনি বলেন, একটি ফ্রেমওয়ার্ক করতে হবে, কিভাবে তরুণদের আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সম্পর্কে জ্ঞান দান করব। পাঠদান প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে, তাদের বয়স উপযোগী করে কোন বিষয়গুলো আমরা তাদের দেখাব বা জানাব। উচ্চতর পর্যায়ে গবেষণা তো চলবেই, পাশাপাশি এই লেভেলে এ শিক্ষাটা যদি সিলেবাসে ঢুকানো যায়, তবে তরুণরাই একদিন ঠিক গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটা আদায় করে নেবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, গণহত্যার দায়ে পাকিস্তানকেও একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। ইতিহাস কখনো ওদের ক্ষমা করবে না, ক্ষমা করবে না প্রজন্ম। এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে। পরে বায়োলজ্যিকাল, সোশ্যাল মডেল উপস্থাপনায় তিনি যুদ্ধাপরাধ, নৃশংসতার গল্প শুনিয়ে বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, সামাজিকভাবেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

 পাকিস্তানের সঙ্গে ভৌগোলিক সীমারেখার পার্থক্য নয়, তাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক তফাৎ রয়েছে বাংলাদেশের, সেটা আগে এই জনগণকে বোঝাতে হবে। তখন বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জনগণও সম্পৃক্ত হয়ে পড়বে। শুধু আলোচনা বা গবেষণা নয়, এবার গণহত্যা বিষয়ক কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি এখনো নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।   যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াতেও আসছে নানা বাধা। সেই বাধা উপেক্ষা করে ইতিহাসের সত্যিটাকে সামনে তুলে ধরতে হবে বা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। সেই জন্য আমাদের গবেষণা খাতকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে হবে, বিজ্ঞানভিত্তিক এক কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। প্রথম দিনের সেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জেনোসাইড: বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘মেমোরি অফ জেনোসাইড অ্যান্ড ভায়োলেন্স’, ‘স্টেট, সোসাইটি অ্যান্ড ভায়োলেন্স’। এ সেমিনারগুলোতে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে প্রবীণ আইনজীবী কামাল হোসেন, এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন। দ্বিতীয় দিন আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে সেমিনার। অনুষ্ঠিত হবে ‘দ্য পলিটিকস অফ জেনোসাইড অ্যান্ড ট্রানজিশনাল জাস্টিস’, ‘প্রিভ্যান্টিং ভায়োলেন্ট  এক্সিট্রিমিজম অ্যান্ড রেডিকেলাইজেশন’, ‘জেনোসাইড অন দ্য রোহিঙ্গা মাইনরিটি’ শিরোনামের বিভিন্ন সেশন।

 

দুদকের লক্ষ্য এবার কোচিং সেন্টারের মালিকরা

প্রশ্ন ফাঁস, নোট-গাইড, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, এমপিওভুক্তি, নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে দুর্নীতি রুখতে সরকারকে ৩৯ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যে সব শিক্ষক অবৈধভাবে কোচিং করিয়ে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং কোচিং সেন্টারের মালিকদের অবৈধ সম্পদ খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের বদলি নিশ্চিত করা এবং ডিসেম্বরে নোট-গাইড প্রকাশনা সংস্থাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস রোধসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে পরীক্ষায় বহু নির্বাচনী প্রশ্ন সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে বর্ণনামূলক, সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন করার সুপারিশ করেছে দুদক।

সংস্থাটির উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য জানান, কমিশনের সচিব মো. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত এই সুপারিশমালা বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনের ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ৩৯টি সুপারিশ করা হয়েছে সরকারকে। শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক  বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকেও সুপারিশগুলো পাঠানো হবে বলে জানান প্রনব। শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক দলের ওই অনুসন্ধানের নেতৃত্বে ছিলেন দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন।

প্রশ্নপত্র ফাস: প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার মাধ্যমেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে কিশোরদের প্রথম পরিচয় হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে সেখানেই তারা দুর্নীতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসকে ‘দুর্নীতির নতুন সংযোজন’ হিসেবে বর্ণনা করে এতে বলা হয়, ‘অবৈধ অর্থের বিনিময়ে কতিপয় দুর্নীতিপরায়ন সরকারি কর্মকর্তা এ জাতীয় অপরাধের সঙ্গে জড়িত।’ প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি ও পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রও যুক্ত থাকতে পারে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটিতে বাছাই করে মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশ্ন প্রণয়ন ও বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অঙ্গীকার নেওয়া, মডারেটরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা, প্রতিটি উপজেলায় সর্বোচ্চ দুটির বেশি পরীক্ষা কেন্দ্র না রাখা, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা বা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করার কথা বলা হয়েছে দুদকের সুপারিশে। গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের খবর সংবাদ মাধ্যমে এলেও এবার এর ব্যাপকতা পৌঁছেছে প্রাথমিক স্তরেও। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগের পরও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জেএসসি এবং পঞ্চমের পিইসিতে অনেক বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগেই চলে এসেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। প্রাথমিক সমাপনীর শেষ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নও পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে একটি ফেইসবুক পেইজে। নুরুল ইসলাম নাহিদ দাবি করে আসছেন, প্রশ্নপত্র ছাপানোর স্থান বিজি প্রেস থেকে এখন আর ফাঁসের সুযোগ নেই। এত চেষ্টার পরও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে না পেরে তিনি দুষছেন শিক্ষকদের।

কোচিং ও নোট-গাইড বাণিজ্য: কোচিং মালিক ও কিছু শিক্ষকের অবৈধভাবে স্বল্প সময়ে সম্পদ অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষা কার্যক্রমের মনিটরিংয়ের অভাব এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে কোচিং ও নোট-গাইড বাণিজ্যের মাধ্যমে দুর্নীতি হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দুদকের। এই সমস্যার সমাধানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করতে নগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা অনুসারে বদলি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের প্রশাসনিক কোনো পদে পদায়ন না করা, ঢাকার কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো শিক্ষক তিন বছর চাকরি করলে তাকে আর এই শহরের বাইরের প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেওয়া, বিষয়ের বাইরে ক্লাস না নেওয়া নিশ্চিত করা এবং গ্রামের স্কুলগুলোতে শিক্ষকের স্বল্পতা দূর করতে ব্যবস্থা  নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বহু নির্বাচনী প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া প্রয়োজন এবং প্রশ্ন বর্ণনামূলক, সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী করতে বলা হয়েছে। কোচিং নীতিমালার বাইরে যে সব শিক্ষক কোচিং করাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী অভিভাবকদের সম্মতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে কিছু শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। কোচিং ও কোচিং সেন্টার বন্ধ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সকল কোচিং সেন্টারের মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যারা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তাদের বিষয়গুলো দুদক খতিয়ে দেখবে।’ প্রতিবছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সব নোট-গাইড প্রকাশনা সংস্থায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা কথাও বলা হয়েছে সুপারিশে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির আদলে কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে দুদক। এছাড়া বর্তমানে এমপিওভুক্তি বিকেন্দ্রীকরণের কারণে দুর্নীতি কিছুটা কমলেও এক্ষেত্রে নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছে দুদক। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু বিকেন্দ্রীকরণ নয়, নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর এ সব কাজে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন নীতিমালা অনুসরণ, তিন বছরের বেশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থা থেকে বদলি এবং শিক্ষকদের পেনশন আবেদনের সাথে সাথেই পেনশন প্রাপ্তির দিন-ক্ষণ জানিয়ে দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড: এনসিটিবির কার্যক্রম স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে দুদকের সুপারিশে বলা হয়, এর দরপত্র প্রক্রিয়ায় ‘ই-টেন্ডারিং’ করা প্রয়োজন। টেন্ডার প্রক্রিয়া দুর্নীতির একটি বড় উৎস। কোনো কর্মকর্তা যদি নামে বা বেনামে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দরপত্র অংশগ্রহণ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। লেখক কমিটি, শিক্ষা উন্নয়ন কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটিতে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া শিক্ষাক্রম ও পাণ্ডুলিপি প্রণয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বইয়ের পাণ্ডুলিপি যখন এনসিটিবি প্রেসে পাঠানো হয়, ঠিক একই সময়ে এনসিটিবির অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নোট-গাইড প্রকাশকদের কাছে চলে যায়। এজন্য কঠোর মনিটরিং দরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজ নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে দুদকের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, নিয়ম অনুসারে নথি নিষ্পত্তি না করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে বিষয় নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটিয়ে দুর্নীতির পথ সৃষ্টি করা হয়। এ সব কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের গাড়ির অবৈধ ব্যবহার বন্ধ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন ক্রয়, গাড়ি ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণের নামে অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের যে সব অভিযোগ রয়েছে তা দূর করতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০১০ অনুসারে শর্তপূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

 

ডাকসু নির্বাচন দাবিতে শিক্ষার্থী ওয়ালিদের অনশন অব্যাহত

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থী ওয়ালিদ আশরাফের অনশন গতকাল শুক্রবার ১৪তম দিনে পড়েছে। গত ২৫ নভেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে স্মৃতি চিরন্তনে তাঁবু টানিয়ে অনশন পালন করে আসছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের হিন্দি ও রুশ ভাষা কোর্সের সান্ধ্যকালীন ছাত্র ওয়ালিদের শরীর ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। দুর্বল শরীরেই প্রকাশিত হচ্ছে ‘প্রতিবাদের ভাষা’।

তবুও ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনড় তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ তাকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়নি। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা ওয়ালিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা ডাকসু নির্বাচনের বিরোধী নই তবে তা অনুষ্ঠানে কিছুটা সময় লাগবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ডাকসু নির্বাচন সবারই দাবি।

 তবে দাবি আদায়ের নামে কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে। এরইমধ্যে একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়লেও হাসপাতালে যেতে ও চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান ওয়ালিদ। গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জোর করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান তার স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা। চিকিৎসক তাকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলেও স্যালাইন নিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে তাঁবুতে ফেরেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার দেখা যায়, তাঁবুর ভেতরে বসে আছেন ওয়ালিদ। অনেকেই আসছেন তার সঙ্গে দেখা করতে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তিনি। যে-ই আসছেন, গণস্বাক্ষরের খাতায় সইয়ের জন্য ওয়ালিদ তাকে অনুরোধ করছেন। এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক স্বাক্ষর পড়েছে সেই খাতায়।

তিন ধাপ বৈষম্যের অবমান চান সহকারী শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একই যোগ্যতার সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলে তিন ধাপ বৈষম্যের অবসান চেয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট। প্রধান শিক্ষকের একধাপ পরের গ্রেডে বেতনস্কেল নির্ধারণের দাবিতে ২২ ডিসেম্বরের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। অন্যথায় ২৩ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারী শিক্ষক সমাজের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায় বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের বেতন একই ছিল। ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ছিল। ২০০৬ সালে এই ব্যবধান ২ ধাপ হলেও ২০১৪ সালে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় তিন ধাপে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ঘোষিত ৮ম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া প্রধান শিক্ষকরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন আর প্রশিক্ষণছাড়া সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৫তম। একই যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে যোগদান করলেও সহকারী শিক্ষকরা তিনধাপ নিচে বেতন পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন, একজন সহকারী শিক্ষক সেখানে শেষ করেন। এই বৈষম্য চরম দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। এই বৈষম্যের নিরসন করে প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের প্রাণের দাবি।

এ সময় সংগঠনের পক্ষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহীনুর আক্তার। তিনি বলেন, আমাদের একদফা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় দেশব্যপী সকল জেলায় সংবাদ সম্মেলন। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে ২৩ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি তপন কুমার মন্ডল প্রমুখ।

 

মাধ্যমিক স্তরে আর বিভাগ থাকছে না

মাধ্যমিক স্তরের পড়ালেখায় আর বিভাগ থাকছে না। নতুন শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা হবে। ফলে এখন থেকে আর নবম শ্রেণিতে থাকবে না বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শাখার আলাদা বিভাগ। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয় নির্বাচন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ইচ্ছামতো বিষয় নির্বাচনের মাধ্যমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করবে। এইচএসসি স্তরে গিয়ে বিষয় নির্বাচন করে পড়তে হবে। এই প্রস্তাব মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের। তারা জেএসসি ও এসএসসিতে পরীক্ষার বিষয় কমানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১) চৌধুরী মুফাত আহমেদ বলেন, শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শিক্ষাবিদরা ইতিবাচক মত দিয়েছেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষাবিদদের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে অনেকগুলো বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা কমবে। শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় গত বছর। কমিটির সদস্যদের নিয়ে গত বছর ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কক্সবাজারে দুই দিনের আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষাবিদরা বেশ কিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশ বাস্তবায়নে কয়েকটি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়। সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা সাব-কমিটি আট দফা সুপারিশ প্রস্তাব করেছেন। তাতে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষাক্রমের বিষয়বস্তু গুরুত্ব অনুসারে তিন গুচ্ছে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। ‘ক’গুচ্ছে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত। ‘খ’ গুচ্ছে বিজ্ঞান, সমাজ পাঠ (ইতিহাস, পৌরনীতি ও ভূগোল)। ‘ক’ ও ‘খ’ গুচ্ছ বাধ্যতামূলক। আর ‘গ’গুচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি, চারু-কারু কলা, শরীরচর্চা ও খেলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি ও গার্হস্থ্য, নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি। এ গুচ্ছে প্রকৌশল প্রযুক্তি (বিদ্যুৎ, যন্ত্র, কাঠ, ধাতু ইত্যাদির ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রয়োগ) যুক্ত করার মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় চারু ও কারুকলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, শরীরচর্চা ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়গুলো বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ১০টি বিষয় থেকে তিনটি কমবে। সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা হবে। শিক্ষাবিদদের মতে, ‘গ’গুচ্ছের বিষয়ে জ্ঞান ও তত্ত্বের চেয়ে চর্চা, আগ্রহ বৃদ্ধি, মনোভাবের পরিবর্তন ও সৃজনশীলতার প্রকাশ এবং প্রায়োগিক দক্ষতা বেশি প্রয়োজন। এসব বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে বিদ্যালয়ভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও এর সঙ্গে যুক্ত সুচিন্তিত সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলির নিবিড় যোগ স্থাপন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ধারণা দিতে নির্দেশিকা তৈরি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ভবিষ্যতের কর্ম ও পেশা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নবম ও দশম শ্রেণিতে আগের শ্রেণির গুচ্ছের সঙ্গে ‘ঘ’গুচ্ছ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ গুচ্ছে পদার্থ, রসায়ন, জৈব বিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, হিসাব, বিপণন, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি। ‘ঘ’গুচ্ছ থেকে যেকোনো দুটি বিষয় শিক্ষার্থীরা নিতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা ইচ্ছে করলে ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে ঐচ্ছিকভাবে আরও একটি বিষয় নিতে পারবে। তবে বাধ্যবাধকতা নেই। কমিটির সদস্যরা জানান, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয় বাধ্যতামূলক ও দুটি ঐচ্ছিক বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাবলিক পরীক্ষায় ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষা না নিলে একটি বিশেষ শ্রেণি ক্ষুব্ধ হতে পারে। সে বিবেচনায় ধর্ম ও তথ্যপ্রযুক্তি বাধ্যতামূলক বিষয় করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঐচ্ছিক বিষয় একটি কমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণিতে পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয় ছাড়া ‘গ’গুচ্ছ থেকে দুটি ও ‘ঘ’গুচ্ছ থেকে দুটি বা তিনটি বিষয় নিতে হবে। এর ফলে এসএসসিতে ১৪টি বিষয় থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা কমবে। অর্থাৎ ঐচ্ছিক বিষয়সহ মোট ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা হবে। প্রসঙ্গত, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ১৩টি বিষয় থেকে তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা কমিয়ে ফেলেছে। সদ্য সমাপ্ত অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ে ধারবাহিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা বাদ দেয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে এই দুই বিষয়ে পরীক্ষা হবে না। তবে শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের নম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডে পাঠাতে হবে। মূল মার্কসিটে এসব বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ থাকবে। তবে পরীক্ষার ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য জানান, পাঠ্য বইয়ের তত্ত্ব ও তথ্য আয়ত্ত হলো কিনা যাচাই করতে পাবলিক পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। পাঠ্যপুস্তকের বিষয় জানা মূলত স্কুলভিত্তিক অর্ধ বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা ও ধারাবাহিক গাঠনিক মূল্যায়নের ক্ষেত্র। শিক্ষণ-শিখনের সময় বাড়াতে পাবলিক পরীক্ষার ধরন পরিবর্তন করে স্বল্প সময়ে শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষাগুলো প্রতিটি বিষয়ের একপত্রের তিন ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়ার জন্য মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। এটি বাস্তবায়ন করলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ ও অশান্তি লাঘব হবে। মাসব্যাপী পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের ব্যস্ত থাকতে হবে না। শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হবে না। কমিটির সদস্যরা শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময় বাড়িয়ে অন্তত এক ঘণ্টা করার প্রস্তাব করেছেন। আবশ্যিক বিষয়ের জন্য যথেষ্ট সময় নির্ধারণ করে সাপ্তাহিক ও বার্ষিক সময় বিন্যাস, পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময় কমিয়ে বছরব্যাপী পাঠদানের সময় বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা কমিটি ১৮ জেলার ৮৬ জন শিক্ষকের মতামত, ১১টি সভা, ছয়টি কনফারেন্স, দুটি স্কুলের ১০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফডিজি), ২১ জন কারিকুলাম বিশেষজ্ঞের মতামতের আলোকে এসব প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। সূত্র আরও জানায়, সভায় শিক্ষাক্রম পরিমার্জন কমিটির সুপারিশ উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সভায় উপস্থিত কমিটির প্রায় সকল সদস্য প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন। শুধু কিছুটা ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিভাগ তুলে দিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করলে বিজ্ঞান বিষয়ের গুণগতমান কমে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ না থাকলে উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সিলেবাসের সঙ্গে তাল মিলাতে পারবে না। কারণ বর্তমানে নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞানের বিষয়ের বইগুলোতে যেসব কন্টেন্ট আছে তা মানসম্মত না। নতুন পদ্ধতি চালু করলে যেন কোনোভাবেই বিজ্ঞানের বইয়ের মান কমে না যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। মান ঠিক রেখে নতুন পদ্ধতি চালু করতে তার আপত্তি নেই। তা না হলে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনে নামবেন। বৈঠকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, উচ্চ মাধ্যমিকে এক বিভাগ থেকে পাস করে উচ্চ শিক্ষা নেয় অন্য বিষয়ে।

শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকে বিভাগ নির্বাচনে সঠিক সিদ্বান্ত নিতে পারে না। উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত তিনি গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতি চালুর মত দিয়েছেন। জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, মাধ্যমিক স্তরে বিভাগভিত্তিক পড়াশুনার পরিবর্তে গুচ্ছভিত্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সকল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, ভূগোল ও ইতিহাস বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভাগ পছন্দ করে ভর্তি হবে। আমেরিকায় এ পদ্ধতি চালু আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্রামার বিষয়ে দক্ষতা যাছাই করতে পাবলিক পরীক্ষা নয়। ব্যাকরণ লিখতে, পড়তে ও বলতে জানা চর্চার বিষয়, মুখস্ত করার বিষয় না। মুখস্তবিদ্যা ও শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২৭ বছর ধরে হচ্ছে না ডাকসু নির্বাচন

আলী আজম সিদ্দিকী : দেশে উচ্চশিক্ষায় সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গৌরবের জায়গা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দেশের ইতিহাসের আন্দোলন সংগ্রাম গুলোতে ইতিবাচক ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নেতা তৈরিতে ডাকসু’র অবদান দেশবাসী নতমস্তকে স্বীকার করে। তবে হতাশার ব্যাপার হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু গৌরবময় ইতিহাসের নায়ক ‘ডাকসু’ নির্বাচন হয় না প্রায় ২৭ বছর! অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল বাকি সব সংগঠনের নির্বাচন নিয়মিতই হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নির্বাচন হয়; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচন হয়, সিনেট-সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচন হয়। কিন্তু যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, তাদের নির্দলীয় ও সাধারণ মঞ্চটির নির্বাচন আয়োজনে যেন ঘোরতর আপত্তি প্রশাসনের। শিক্ষার্থীদের দাবি, ডাকসু কার্যকর না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেটেও শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শেষ ২৭ বছরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসিরা প্রত্যেকে ডাকসু’র গুরুত্ব স্বীকার করলেও নেয়নি কার্যকর পদক্ষেপ। দেখা মেলেনি নির্বাচনের।

এদিকে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ আশরাফের অনশন  সোমবার ১০ম দিনে গড়িয়েছে। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন ঢাবির প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার। ওয়ালিদ বলেন, এখনকার শিক্ষার্থীরা ডাকসুকে শুধু একটি ক্যাফেটেরিয়া হিসেবে চিনে। তাই ডাকসু’র প্রকৃত পরিচয় সব শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এই অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ অনশন চালিয়ে যাব। প্রয়োজন হলে মরবো, তবু দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবো না।

গত ২৫ নভেম্বর বিকাল ৪টা থেকে অনশন করছেন ওয়ালিদ আশরাফ। অনশন দশম দিনে গড়ানোয় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও মনোবল হারাননি তিনি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষকরা সংহতি জানানোয় বরং মনোবল আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি। ওয়ালিদ আশরাফের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গণস্বাক্ষর খাতায় সই করেছেন ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক ড. গীতিয়ারা নাসরিন এবং ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কাজী সাখাওয়াত হোসেন ও অধ্যাপক মনিরুজ্জামান খন্দকার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী ও নেতা দিপক রায় প্রমুখ।

স্বৈরশাসকদের সময় ডাকসু নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর শাসনামলে ডাকসু আলোর মুখ দেখছে না। যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ক্ষমতাসীন দলগুলোর ছাত্রসংগঠনের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার ভয়ে নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে না। পাকিস্তানের অগণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামলে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের সেনাশাসিত সরকারের সময়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ১৯৯০ সালে দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরুর পর থেকে কোন এক অজানা কারণে নির্বাচনটি আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আওয়ামীলীগ, বিএনপি এবং মাঝে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কেউই ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়নি। ছাত্ররা আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র এনেছেন, কিন্তু তাদের গণতন্ত্র চর্চার সবচেয়ে বড় প্লাটফর্মটিই হারিয়ে ফেলেছেন। গণতান্ত্রিকভাবে সর্বজনীন নেতা নির্বাচনের সুযোগ হারিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাই ডাকসু কে চেনেন শ্রেফ একটি খাবারের ক্যান্টিন হিসেবে। আর ডাকসু’র গৌরবময় ইতিহাসের গল্প পড়েন কেবল পত্র-পত্রিকায়, মনোযোগী শ্রোতার মত গল্প শোনেন কর্মচারীদের কাছ থেকে।

বারবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না নির্বাচন। ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ডাকসু থেকে নির্বাচিত ৫ জন প্রতিনিধি সিনেটে থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘ দিন নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই সিনেট সভা হচ্ছে। বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডাকসু নির্বাচনের জোর দাবি ওঠে। এরপর ২০১৫ সালে ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হলে তৎকালীন ভিসির কাছে ডাকসু নির্বাচনসহ ১৯ দফা দাবি জানালেও ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘ডাকসু নির্বাচন ইজ মাস্ট’ মন্তব্য করলে দেশের সর্বত্র ডাকসু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ডাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রশাসন ইতিবাচক। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আমরা নির্বাচন দিতে চাই। একটা দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন হয় না। নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হয় সে লক্ষ্যে যে প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতা গুলো আছে সেগুলো দূর করা হচ্ছে।

ডাকসু’র নির্বাচন দাবি করে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া তুলে ধরার একটাই প্লাটফর্ম সেটা হলো ‘ডাকসু’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে কতোটা উদাসীন সেটা আমরা দেখেছি। বিগত ১০দিন ধরে চলা সাবেক শিক্ষার্থী ওয়ালিদের অনশনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন সহকারী প্রক্টর তার সাথে কথা বলেছেন।

ডাকসুর দাবিতে ঢাবি প্রশাসনের দিকে আঙুল তোলার সময় এসেছে মন্তব্য করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচনের জন্য ১২০ টাকা নেয়া হলেও নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম নেতৃত্ব সংকটের মুখে পড়বে। এজন্য শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের অধিকার আমাদেরকেই আদায় করতে হবে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান বলেন, স্বায়ত্বশাসনের জায়গা থেকে বহু আগে সরে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ সরকারের স¦দিচ্ছা সবার আগে প্রয়োজন। কিন্তু আমার মনে হয় না সরকার এতোটা গণতান্ত্রিক মনোভাব লালন করে।তবে আমাদের এক কথা ডাকসু নির্বাচনের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে তারপর ডাকসু নির্বাচন দিতে হবে।

ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা সব সময়ই ডাকসু নির্বাচন চাই। ডাকসু’র বিপক্ষে ছাত্রলীগ কখনোই ছিলো না। তবে অনশনরত শিক্ষার্থী ওয়ালিদের আন্দোলনের যোক্তিকতা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি তার। তিনি বলেন, আমরা মাস্টার্স প্রোগ্রামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশ মনে করি না। সেক্ষেত্রে কোন এক কলেজের শিক্ষার্থী অনশন করতেই পারেন। তবে তার এই অনশনে ঢাবি ছাত্রলীগের কোন সমর্থন নেই।

 

বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শুরুর পর নীতিমালা চূড়ান্ত

বেসরকারি স্কুলে ভর্তি শুরুর পরে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। রোববার এ নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে দশম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বয়সসীমা। এটি ১৪ প্লাস থেকে ১৫ প্লাস করা হয়েছে। এছাড়া পাঠ্যবই থেকে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির আয়োজন করা হবে। ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণিতে যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ভর্তি করতে হবে। অন্যসব ক্লাসে পরীক্ষা নেয়া যাবে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণিতে তিনটি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে তিন বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত) ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাঠ্যপুস্তকের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী যে শ্রেণিতে লেখাপড়া করেছে, সেই ক্লাসের বই থেকে পরবতী ক্লাসে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে। ভর্তিতে আগের মতো মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, এলাকা, শিক্ষা বিভাগের কোটা থাকবে। পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুলের ১০ শতাংশ আসন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মাউশির কর্মকর্তারা বেসরকারি হাইস্কুলের ফরমের দামও ২০০ থেকে আরও ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়। এরপর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে একজন যুগ্মসচিব সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন হাইস্কুলে যান। পরে বিষয়টি নাকচ করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে, ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগেই রাজধানীর অধিকাংশ স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। মিরপুরের মনিপুর স্কুলসহ অনেক স্কুলে প্রথম শ্রেণির লটারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। অনেক স্কুলের লটারি ও ভর্তি পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হয়েছে। নীতিমালা চূড়ান্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিলম্ব করায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখার যুগ্মসচিব সালমা জাহান বলেন, এবার বেসরকারি স্কুল ভর্তি নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বসয়সীমা ও ভর্তি পরীক্ষায় পাঠ্যপুস্তকের বাহিরে প্রশ্ন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যারা আগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে তারা নতুন নীতিমালার পরিপন্থী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

লোভনীয় অফার দিয়ে মাইকিং-পোস্টারিং ক্ষেতলালে বাড়ি বাড়ি ধরনা দিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহের প্রতিযোগিতা

নজরুল ইসলাম আকন্দ, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) : চলতি শিক্ষাবর্ষে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ না হতেই জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে যত্রতত্র গড়ে ওঠা কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুলে লোভনীয় অফারে প্লে থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত আগাম শিক্ষার্থী ভর্তি অভিযান শুরু হয়েছে। অধিকাংশ কেজি স্কুলের শিক্ষক, পরিচালক ও মালিকরা তাদের স্কুলে শিশুদের ভর্তি করাতে অভিভাবকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এমনকি আকর্ষণীয় রঙিন পোস্টারিংয়ের পাশাপাশি মাইকিং করে এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। শিশুকে কোন স্কুলে ভর্তি করাবেন, কার কথা রাখবেন এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন অভিভাবকরা।

সরেজমিন ও শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, ক্ষেতলাল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ  স্থানসহ হাটবাজার, গ্রামগঞ্জে প্রায় ২৫টি কিন্ডার গার্টেন (কেজিস্কুল) গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু স্কুলে শিক্ষার গুণগত মান কিছুটা ভাল হলেও অবকাঠামোর দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অধিকাংশ স্কুলে একটি কক্ষের মধ্যে বেড়া (পার্টিশান) দিয়ে গাদাগাদি করে একাধিক ক্লাস পরিচালনা করা হয়। এতে বেড়ার অপর প্রান্তের শিশুদের হৈচৈ শুনে শিক্ষার্থীরা পাঠে অমনোযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া অধিকাংশ স্কুলের খেলাধুলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা বিমুখ হয়ে ক্লাস রুমে ছুটোছুটি করে।

 এ কারণে কারণ কোন শিশু পড়ে গিয়ে কিংবা বেঞ্চের সাথে টোকা রেগে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ফলে অভিভাবকরা ওইসব স্কুলে তাদের সন্তানকে ভর্তি না করিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও গুণগত মানসম্পন্ন স্কুল খুঁজে ভর্তি করাচ্ছেন। কেজি স্কুল থেকে শিক্ষার্থী সরিয়ে নেয়ার কারণে ওইসব স্কুলের শিক্ষার্থী অনুপাতিক হারে কমে যাচ্ছে। এ সংকট মোকাবেলা করতে দুই মাস আগেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ সর্বত্র পোস্টার ব্যানার লাগিয়ে এবং মাইকিং করে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষক, পরিচালক ও স্কুল মালিকরা শিক্ষার্থী ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

এদিকে সরকার প্রাথমিক স্কুলগুলোতে শিক্ষা সহায়ক উপবৃত্তি চালু করায় শিশু ও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অভিভাবকদের লোভনীয় অফার দিয়ে কেজি স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য এখন থেকে বাসা-বাড়িতে কেজি স্কুলের শিক্ষক, পরিচালক ও মালিকরা প্রতিনিয়ত পৃথকভাবে ধরনা দিচ্ছেন।

উপজেলার বটতলী এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করানোর জন্য ইতিমধ্যে ক্ষেতলাল এবং বটতলী থেকে একাধিক স্কুলের প্রতিনিধি ও শিক্ষকরা বাড়িতে এসে লোভনীয় অফার দিয়েছেন। এই নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেজি স্কুলের এক শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্কুলে নিয়োগ দেয়ার সময় স্কুল পরিচালক শিক্ষার্থী সংগ্রহের শর্তে  নিয়োগ দেন। চাকরি রক্ষার্থে পরিচালকের দেয়া শর্ত পূরণের জন্য আমরা শিক্ষার্থী সংগ্রহের চেষ্টা করি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষেতলাল উপজেলায় মোট ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ২৫টি কিন্ডার গার্টেন (কেজি) স্কুল রয়েছে। সরকারি স্কুলগুলোতে শতভাগ শিক্ষা সহায়তা দেয়ায় শিশু ও প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী পূর্বের তুলনায় বাড়তে পারে। সে কারণে কেজি স্কুল কর্তৃপক্ষ অগামী শিক্ষার্থী সংগ্রহ অভিযান চালাতে পারেন। তবে যেভাবেই হোক, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষে সর্বত্র আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

 

 

সরকারি কলেজ শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করবেন কাল ও সোমবার

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয়করণের ফলে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদমর্যাদা দেওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার ও সোমবার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ‘নো বিসিএস, নো ক্যাডার’ দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত মহাসমাবেশে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতারা এ ঘোষণা দেন। মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকার সরকারি কলেজের বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা অংশ নেন।

 এ সময় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির  মহাসচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী রোব ও সোমবার দেশের সব সরকারি কলেজে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। ‘ওইদিনও যদি ফের নতুন করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয় তাহলে লাগাতার আন্দোলনে যাবো আমরা।’ তিনি বলেন, সামনে ডিসেম্বর মাস, তাই ওই মাসে কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছি না। তবে যদি দাবি মানা না হয় তাহলে পূর্ণ দিবস কর্ম বিরতি পালন করা হবে।

 

এসএসসির সূচি প্রকাশ পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা । শিক্ষা মন্ত্রণালয়  বুধবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার এই সূচি প্রকাশ করেছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ১ ফেব্রুয়ারি এই পরীক্ষা শুরু হলেও গতবছর ওইদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বরস্বতী পূজার ছুটির কারণে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ ফেব্রুয়ারি। এবারের সূচি অনুযায়ী, আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা হবে।

২৫ ফেব্রুয়ারি সংগীতের ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চের মধ্যে বেসিক ট্রেডসহ এসএসসির সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৬ মার্চের মধ্যে সব ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে। আর কারিগরি বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। আগামী বছর থেকে এসএসসিতে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও লেখাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে না। এ সব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর বোর্ডে পাঠাবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বরাবরের মতই সকালের পরীক্ষা হবে সকাল ১০টা থেকে ১টা, বিকালের পরীক্ষা বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ পাবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে বা ব্যবহার করতে পারবে না বলে নির্দশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ঢাবির ৭ ছাত্র গ্রেফতার, চবি’র একটি চক্রকে খুঁজছে সিআইডি

জালিয়াতি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হওয়ার অভিযোগে সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি দল।

মঙ্গলবার ভোররাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে প্রোক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান বিশেষ পুলিশ (এসএস) সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। গ্রেফতার শিক্ষার্থীরা হলেন- তানভীর আহমেদ মল্লিক, বায়েজিদ, নাহিদ ইফতেখার, ফারদিন আহমেদ সাব্বির, প্রসেনজিত দাস, রিফাত হোসাইন, আজিজুল হাকিম। জালিয়াত চক্র ৪ থেকে ৭ লাখ টাকার বিণিময়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে এসব শিক্ষার্থীর কাছে প্রশ্নোত্তর পৌঁছে ছিল। এই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা দিয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল।

মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজিটাল জালিয়াতি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগে গত ১৪ নভেম্বর রংপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাভিদ আনজুম তনয়কে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই চক্রের সদস্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আকাশকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে সিআইডি। আদালতে পাঠানোর পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

 সেখানে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নাম জানায় তারা। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরাই জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।’ জালিয়াতির প্রক্রিয়া উল্লেখ করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা ডিভাইসের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর পৌঁছে দিতো। এর আগে আমরা এমন ডিভাইস উদ্ধার করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে এই চক্রটি তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা নিতো বলে আমরা তথ্য প্রমাণ পেয়েছি।’ মোল্যা নজরুল বলেন, ‘এই ডিভাইস দিয়ে যেকোনও পরীক্ষাতেই জালিয়াতি করা সম্ভব। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও জালিয়াতি করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকতে পারে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম একটি মামলা হয়েছে। আমরাও লিংক আপ খুঁজছি। তারা তাদের মতো করে তদন্ত করছে। তবে আমরাও কাজ করছি।’

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অমর একুশে হল ও ড.শহীদুল্লাহ হলে অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহীউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রথম গ্রেফতার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে জালিয়াতিচক্রের অন্যতম হোতা তনয়ের নাম উঠে আসে। এরপর গত ১ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে একই চক্রের সদস্য নাফিকে আটক করা হয়। এরপর ৩ নভেম্বর আটক করা হয় একই চক্রের সদস্য আনিনকে। সংবাদ সম্মেলনে মোল্যা নজরুল ইসলাম আরও বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো এই চক্রের আরও সদস্যদের ব্যাপারে সিআইডির কাছে তথ্য আসছে। এই চক্রে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

গ্রেফতার শিক্ষার্থী ও জালিয়াত চক্রের রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের অপরাধী হিসেবে আমরা আটক করেছি। কেউ রাজনৈতিক দলের কোনও সদস্য কিনা সেটা বিবেচনা করিনি।’ সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এই চক্রটিকে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দীন খান, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস প্রমুখ।

 

ডিউক অব এডিনবার্গ এ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাবি’র ৬৪ শিক্ষার্থী

ঢাবি প্রতিনিধি : সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে অসাধারণ সাফল্যের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৬৪জন কৃতী শিক্ষার্থীকে ‘দি ডিউক অব এডিনবার্গস ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবননের সেমিনার কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্র্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘দি ডিউক অব এডিনবার্গ ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন’ এর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক সু ওয়াকার। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতরের পরিচালক অধ্যাপক মেহজাবীন হক। এছাড়াও ডিউক অব এডিনবার্গ এ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের জাতীয় পরিচালক অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রিজওয়ান বিন ফারুক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষক নিয়োগে কোটা পদ্ধতি বাতিলে রুল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা, জেলা কোটা পদ্ধতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে শিক্ষাসচিব, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতের এই আদেশ স্পেশাল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিবাদীদের নিকট পাঠাতে বলা হয়েছে।

বুধবার রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ-প্রত্যায়ন বিধিমালার ২০০৬ এর বিধি ৯ এর উপবিধি ২(গ) চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। জামালপুরের সেলিম রেজাসহ ১৭২ জন নিবন্ধন সনদধারী এ রিট দায়ের করেন। ২ এর(গ) তে বলা আছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উপজেলা, জেলা এবং জাতীয়ভিত্তিক মেধাক্রম অনুসারে ফলাফলের তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হইবে। আইনজীবী বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি কোটা পদ্ধতির কারণে মেধাবী অনেকেই চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটা সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২৯ অনুচ্ছেদের ১ এ বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে। আদালত শুনানি শেষে উপরোক্ত রুল জারি করেছেন।

 

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা এবার বহিষ্কারের রেকর্ড

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার চতুর্থ দিনে রোববার অসাধুপন্থা অবলন্বন করায় রেকর্ড ১২২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কার হয়েছেন চট্টগ্রাম বোর্ডের এক শিক্ষক। এর আগে পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন ১ নভেম্বর অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১৬ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বহিষ্কার করা হয় ১৯ জনকে। তৃতীয় দিন গত শনিবার জেএসসির কোনো পরীক্ষা ছিল না। এদিন শুধু জেডিসির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ২০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আর অসাধুপন্থা অবলম্বনের কারণে ১২ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং বিভাগ থেকে পাঠানো তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

জেএসসির ইংরেজি ১ম পত্র, জেডিসির আরবি ২য় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় সব কয়টি বোর্ডে মোট ২৩ লাখ ৯০ হাজার ১৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও ৬২ হাজার ৬১৮ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়াও অসাধু কার্যক্রমের অপরাধে এদিন প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষক বহিষ্কার হয়েছেন। জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪৫ জন। এরমধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭০২ জন। আর অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ঢাকা বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছে ৫৮ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহী বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ২৪১ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭১ জন। বহিষ্কার হয়েছে ৪ জন শিক্ষার্থী। কুমিল্লা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৪২৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৩ জন। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৯৪ জন। বহিষ্কার হয়েছে ৯ জন শিক্ষার্থী।

যশোর শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৫১৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ জন। অনুপস্থিত ছিল ৫ হাজার ১৬৩ জন শিক্ষার্থী। এ বোর্ডে বহিষ্কার নেই। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১১ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৫৮ জন। আর অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ১৫৩ জন। বহিষ্কার হয়েছে ৫ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও অনৈতিক কাজের জন্য একজন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭ জন। আর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ জন। অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৫৩৫ জন। বহিষ্কার হয়েছে একজন শিক্ষার্থী। বরিশাল বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৯৪ জন। আর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৬ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৮ জন।

এ বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছে ১৩ জন শিক্ষার্থী। দিনাজপুর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ১৮৬ জন। অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ২৮১ জন। বহিষ্কার হয়েছে ১ জন। মাদ্রাসায় জেডিসিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৯৫ জন।

পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৪ জন। এই বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ২১ হাজার ৫৩০ জন। বহিষ্কার হয়েছে ৩১ জন শিক্ষার্থী। জানা গেছে, এবারও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্যসব বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে নেয়া হবে। এ বছর থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ের পরীক্ষা হবে না। তিন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে সরবরাহ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত বুধবার জেএসসিতে বাংলা প্রথম পত্র ও জেডিসিতে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ পরীক্ষার মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ১৮ নভেম্বর।

ঢাবির শিক্ষকদের সভায় হাতাহাতির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল নীল দলের সাধারণ সভায় শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে নীল দলের একাংশ। রোববার বিশ^বিদ্যালয়ের অপারাজেয় বাংলার পাদদেশে নীল দলের আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য আ ক ম জামাল উদ্দীন এর উপর বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী সহ কয়েকজন হামলা করেছেন উল্লেখ করে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়।

অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল পদে থেকে প্রক্টর অধ্যাপক রব্বানী সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে উদ্দেশ্য করে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আমি তার কথার প্রতিবাদ জানালে আমার উপর হামলা করা হয়। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। মানববন্ধনে অধ্যাপক আব্দুল আজিজ বলেন, এ ধরনের মানববন্ধনে দাঁড়ানো আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার। সমাজ আমাদের সম্মানের স্থানে বসিয়েছে। কিন্তু আমরা নিজেদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা করেন। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সহিদ আকতার হোসাইন, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বায়তুল্লাহ কাদেরী , সিনেট সদস্য অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়না রহমান, অধ্যাপক ফজলুর রহমান, অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা প্রমুখ। মানববন্ধনে  সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীও অংশগ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে নীল দলের সাধার সভায় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর বক্তৃতাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আ ক ম জামাল উদ্দীন, প্রক্টর গোলাম রাব্বানী সহ কয়েকজন আহত হন। এই  ঘটনায় জামাল উদ্দীন ও প্রক্টর পরস্পরকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা দু’দিনে অনুপস্থিত ১ লাখ ২২ হাজার, ঝরে পড়া নিয়ে উদ্বেগ

ঝরে পড়া রোধে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিলেও প্রতিবছর অষ্টম শ্রেণি পার করতে পারছে না লাখ লাখ শিক্ষার্থী। অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলেও এসব শিক্ষার্থীর কয়েক লাখ ঝরে যায় প্রতিবছর। চলতি বছরে প্রথম দুই পরীক্ষায় অনুপস্থিত প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার, যা উদ্বেগের। বিনামূল্যে বই ও পড়াশোনার খরচ সরকার বহন করলেও ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধান নিয়ে আদতে সরকারের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আর এই ঝরে পড়াকে উদ্বেগজনক হিসেবেই দেখছেন শিক্ষাবিদরা। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বলছে, ঝরে পড়া রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের জন্য একটি লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।

চলতি বছরের অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার প্রথম দিন আটটি সাধারণ ও মাদরাসা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ৬০ হাজার ৮৯৩ জন। দ্বিতীয় দিন এই সংখ্যা ৬১ হাজার ৯৮৯ জনে গিয়ে দাঁড়ায়। মাত্র দু’দিনেই অনুপিস্থিতির সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার। প্রথম দিন জেএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র ও জেডিসিতে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং দ্বিতীয় দিন জেএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং জেডিসিতে আকাইদ ও ফিকহ বিষয়ের পরীক্ষা হয়। বিগত বছরগুলোতেও দেখা যায় প্রথম দিনেই পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল অর্ধলাখ। তবে পরীক্ষার্থী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে অনুপস্থিতির হারও। ২০১৩ সালে প্রথম দিন জেএসসি-জেডিসিতে অনুপস্থিত ছিল ৫৯ হাজার ৫১৭ জন, ২০১৪ প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ৪৬ হাজার, ২০১৫ সালে প্রথম দিন অনুপস্থিত ৪১ হাজার ৮০৯ জন এবং ২০১৬ সালে ৫৯ হাজার ৬৬১ জন পরীক্ষার্থী। অষ্টমে ঝরে পড়ার কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো গবেষণা নেই বলে  জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান। এবার জেএসসি-জেডিসির প্রথম দিনের থেকে দ্বিতীয় দিনে বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। কেন এতো ঝরে যাচ্ছে- সেই প্রশ্ন রেখে ড. মাহাবুবুর রহমান বলেন, এসএসসির মতো জেএসসি-জেডিসিতে টেস্ট পরীক্ষা বা বাছাই পদ্ধতি নেই। যারা রেজিস্ট্রেশন করে সবাই পরীক্ষার যোগ্য হয়। তবে তার ধারণা, শিশুশ্রম ও বাল্য বিয়েই ঝরে পড়ার মূল কারণ হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে ১৮ বছর বয়স দেখিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। আর ৫ম-৮ম শ্রেণির মধ্যে ঢুকে যায় শিশুশ্রমে। গ্রামের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দু’জন বা গ্রুপ ধরে স্কুলে গেলে ঝরে পড়ে না। তবে একজনের বিয়ে হয়ে গেলে গ্রামে আর অন্যজন স্কুলে যেতে চায় না।

কারণ বয়সের হিসাবে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। তিনি বলেন, জেএসসির এসব শিক্ষার্থী এসএসসি পর্যন্ত ৫-১০ লাখ ঝরে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ঝরে পড়া নিয়ে গবেষণা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বিয়ে এবং শিশুশ্রমই মূল কারণ। এবারের জেএসসি-জেডিসির শিক্ষার্থীরা ২০১৪ সালে পঞ্চম শেণিতে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী দিয়েছেন, সে সময় নির্বাচনকালীন উত্তপ্ত ছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সেই কথা স্মরণ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ট শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ছিল। এবার বন্যা বা প্রকৃতিক দুযোগ একটা কারণ কিনা, দেখতে হবে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী আরো বলেন, ২০১৪ সালের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পরীক্ষার্থী ছিল ২৯ লাখ। তারাই কমে গিয়ে ২৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। জেএসসি-জেডিসির শুরুতেই হারিয়ে গেছে লাখের বেশি শিক্ষার্থী। মেয়েদের সংখ্যাটাই হয়তো বেশি হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তা-ভাবনা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতো ঝরে যাওয়ায় বোঝাই যাচ্ছে প্রস্ততি ছিল না। ঝরে পড়ার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। ‘ঝরে পড়াটা ভালো লক্ষণ না। একটা পরীক্ষা দিয়ে ঝরে গেলো। এই পরিস্থিতি চলা উচিত না। এ ঘটনা উদ্বেগের।’ তিনি বলেন, এসব পরীক্ষার্থীর তথ্য যেহেতু সরকারের কাছে রয়েছে, সেহেতু গবেষণাভিত্তিক তালিকা করা উচিত। কেন ঝরে গেলো- গবেষণা করা উচিত। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ঝরে পড়া কমানোর ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের জন্য অনলাইনে একটি নির্দেশনা দেবো।
 

 

ঢাকার ২৪ সরকারি স্কুলের ৫২২ শিক্ষককে বদলির সুপারিশ দুদকের

বছরের পর বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে থেকে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে রাজধানীর ২৪টি সরকারি বিদ্যালয়ের ৫২২ জন শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। কমিশনের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষকরা ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ বছর পর্যন্ত এক বিদ্যালয়েই রয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি কোচিং বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অর্থ উপার্জন করছেন।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য ও নিয়োগ বাণিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ তদন্ত শুরু করে দুদক। দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল এই তদন্ত শেষে বুধবার কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করে। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা মোতাবেক শিক্ষকদের এক কর্মস্থলে তিন বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেই তাদেরকে অন্যত্র বদলি করার নির্দেশনা রয়েছে।’ শিক্ষকদের বদলি না করার পেছনে রাজনৈতিক চাপ, তদবির ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন রয়েছে উল্লেখ করে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু সংখ্যক শিক্ষক কোচিং বা প্রাইভেট বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বছরের পর বছর ঢাকার একই বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন।

যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির সুপারিশ করা হয়েছে- গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ৩২ জন, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৬ জন, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের ১৭ জন, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, শেরেবাংলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৭ জন, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাই স্কুলের ২৫ জন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন, নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ২৯ জন, আরমানিটোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২১ জন, ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুলের ৯ জন, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩২ জন, বাংলাবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২ জন, টিকাটুলী কামরুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ জন, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৮ জন, শেরেবাংলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন, ধানমন্ডি কামরুন্নেছা সরকারি বিদ্যালয়ের ৭ জন, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ জন ও নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের ৭ জন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক কর্মস্থলে বছরের পর বছর থাকার ফলে ওই শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানোর নামে কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়তে বাধ্য করা হয়। দশ বছরের বেশি কোনো শিক্ষক এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তাকে বিভাগের বাইরের বিদ্যালয়গুলোতে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে দুদকের প্রতিবেদনে। এছাড়া পাঁচ বছরে বেশি সময় কর্মরত শিক্ষকদের ঢাকা নগরীর বাইরে এবং তিন বছরের বেশি সময় এক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলে অন্য বিদ্যালয়ে বদলির সুপারিশ করেছে দুদক।

এছাড়া সাত জেলা শিক্ষা অফিসারকে জেলায় দায়িত্ব না দিয়ে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও বরিশালের সাত বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। এসব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিশ্চিতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদেরকে শিক্ষক হিসেবে পদায়ন না করতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এরা হলেন- তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহরীন খান রূপা, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেহেরুন নেছা, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নুরুন নাহার, ধানমণ্ডি কামরুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাসরিন আক্তার, গাজীপুরের কালিগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের লুবনা আক্তার, চট্টগ্রামের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শাহিদা আক্তার ও বরিশালের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুবা খানম।

তুচ্ছ ঘটনায় ঢাবি -বুয়েট সংঘর্ষ : আহত ৫

ঢাবি প্রতিনিধি : তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগের কর্মীরা। সংঘর্ষে বুয়েটের ৫ শিক্ষার্থী আহত হন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে রাজধানীর পলাশী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সংঘর্ষের দুই ঘন্টা পর নিজ বান্ধবিকে এগিয়ে দিতে পলাশী গেলে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক প্রেমিকযুগল।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার জহুরুল হক হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বুয়েট ক্যাম্পাসে বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর গাজা সেবন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। এসময় ঢাবি শিক্ষার্থীর বান্ধবীকে কটু কথা বলে বুয়েটের প্রথম বর্ষের কয়েকজন। এর কিছু সময় পর ঢাবির কয়েকজন মিলে বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার এলাকায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে জহুরুল হক হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরানকে ধরে নিয়ে যায় বুয়েট ছাত্রলীগের কর্মীরা। ঘটনা জানার পর জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে লাঠি, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইমরানকে উদ্ধার করতে গিয়ে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে।

এ সংঘর্ষে বুয়েটের মহুরী, দিব্য, অনিক, সৌরভ ও সাদমান আহত হন। আহত সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাদমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পরে বুয়েটের বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা লাঠি, রড নিয়ে পলাশী মোড়ের পাশে অবস্থান করে। এই অবস্থায় পলাশী মোড়ে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষ এড়াতে পলাশীর মোড়ে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ আল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসব। যারাই দোষী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্রজ্যোতি টীকাদার বলেন, জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আমাদের হলে গিয়ে হামলা চালায়। এ হামলায় ঘটনায় আমাদের পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন।

জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ তালুকদারের দাবি, বৃহষ্পতিবারের ঘটনায় আমার হলের কেউ জড়িত ছিল না। আবাসিক এলাকার ছেলেরা জড়িত ছিল। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আজ (শুক্রবার) আমার হলের এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এই সংঘর্ষ হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমি ইতোমধ্যে উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা দুই বিশ্ববিদ্যালয় বসব। দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এদিকে ঢাবি জহুরুল হক হল এবং বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ঢাবি-বুয়েটের এক প্রেমিকযুগল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাসের রাস্তায় এই হেনস্তার ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার প্রেমিক ঢাবির গণিত বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র আব্বাস কুরাইসী। আর ওই ছাত্রী বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলেও ঐ ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীকে হেনস্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টীকাদার বলেন, ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। তবে বুয়েটের কোন শিক্ষার্থী যদি এধরনের কাজ করে থাকে তাহলে তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করব।

 

ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজে ভর্তি আবেদন শুরু

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর ৭ সরকারি কলেজের জন্য পৃথক ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় অধিভুক্ত সাতটি কলেজে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান ও পাস কোর্সে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান পুরাতন সিনেট মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ওয়েবসাইট উদ্বোধন ও ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন। ভিসি জানান, িি.ি৭পড়ষষবমব.ফঁ.ধপ.নফ ওয়েবসাইটে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করা যাবে আগামী ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত। ওয়েবসাইট থেকে পে-ইন-সিøপ নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফি বাবদ সোনালী ব্যাংকের অনলাইনে ৪০০/-(চারশত) টাকা জমা দিতে হবে। তিনি বলেন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর শুক্রবার, বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শনিবার ও বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের অধীনে ১৬ হাজার ৯০০টি, বাণিজ্য ইউনিটের অধীনে ৮ হাজার ৭৮৫টি এবং বিজ্ঞান ইউনিটের অধীনে ৮ হাজার ৬০০টি আসন রয়েছে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার এবং সাত কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাত কলেজ ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।

 

জেএসসি-জেডিসিতে বসবে সাড়ে ২৪ লাখ শিক্ষার্থী

এবার ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশে নেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

সচিবালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী ১ থেকে ১৮ নভেম্বর দেশের ২৮ হাজার ৬২৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুই হাজার ৮৩৪টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেবে।

এবার জেএসসি-জেডিসির ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২ জন ছাত্রী এবং ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৮ জন ছাত্র।

আট বোর্ডের অধীনে এবার জেএসসিতে ২০ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে তিন লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৩ জন পরীক্ষা দেবে।

গত বছর এ পরীক্ষায় ২৪ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ জন অংশ নিয়েছিল জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৫৬ হাজার ৪৫ জন।

জেএসসিতে এবার ৯৬ হাজার ২১২ জন এবং জেডিসিতে ১৪ হাজার ৩৬৭ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে।

নাহিদ বলেন, গতবছর এক থেকে তিন বিষয়ে যারা অকৃতকার্য হয়েছিল তারাও এবার পরীক্ষা দেবে। এই সংখ্যা জেএসসিতে ৮৭ হাজার ৬৯৭ জন; জেডিসিতে ১১ হাজার ৭৭০ জন।

বিদেশের নয়টি কেন্দ্রে এবার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

পরীক্ষার্থীদের যে এবার নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষা কেন্দ্র প্রবেশ করতে হবে, সে কথা আগের দিনই জানানো হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রী বুধবার বলেন, “শিক্ষকরা সকালে যাওয়ার পর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এটা বন্ধ করার জন্য পরীক্ষার্থীরা ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে ঢুকবে, তারপর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হবে।”

এবারও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ের পরীক্ষা হবে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে।

জেএসসি-জেডিসিতে এবার থেকে শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্মমুখী শিক্ষা এবং চারুকলা বিষয়ের পরীক্ষা হবে না। বছরজুড়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে এসব বিষয়ের নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বোর্ডে সরবরাহ করা হবে।

এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি পত্রে ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে। বহু নির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে দুটি বিভাগ থাকলেও দুটি অংশ মিলে ৩৩ পেলেই পাস বলে গণ্য হবে, অর্থাৎ এসএসসির মত দুই অংশে আলাদাভাবে পাসের প্রয়োজন নেই।

শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা বরাবরের মতই অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম ও সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধীরা পাবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তারা শ্রুতি লেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসোইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

ঢাবি প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া মূল্য তালিকা মানছে না ক্যান্টিন মালিকেরা

আলী আজম সিদ্দিকী : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো ক্যান্টিনের খাবারের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও মূল্য না কমে পক্ষান্তরে বৃদ্ধি করেছে ক্যান্টিন মালিকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো হলের ক্যান্টিন ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। খাবারের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে মাস্টার দা সূর্যসেন হল ক্যাফেটেরিয়া এবং বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনের মালিককে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হল প্রশাসন। বাকি হলগুলোতে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা অচিরেই সমাধান হবে না মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের ক্যান্টিন ঘুরে কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত দামে খাবার বিক্রি হতে দেখা যায়নি। সবগুলো হলের ক্যান্টিনেই বাড়তি টাকা নেওয়ার জন্য নানা ধরনের কৌশল দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নির্ধারণ করা দাম অনুযায়ী তেলাপিয়া মাছের দাম ১৮ টাকা রাখার কথা হলেও ২৮ টাকা নিচ্ছে তারা। একইভাবে ২২ টাকার রুই মাছ ৪০ টাকা, ৩০ টাকার গরুর মাংসের দাম ৪০ টাকা, ২০ টাকার মুরগির মাংস রাখছে ৪০ টাকা। এর আগে ভাতের সাথে ডাল ফ্রি থাকলেও এখন তারা অতিরিক্ত ৩ টাকা নিচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ছল-চাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে ক্যান্টিন মালিকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখ করে দেওয়া খাবারের আইটেম মেন্যুতে না রেখে অন্য নামে একই খাবার উচ্চ মূল্যে পরিবেশন করছেন তারা। এছাড়া সবথেকে বড় ভোগান্তির নাম খাদ্য তালিকায় স্পেশাল ট্যাগ জুড়ে দেওয়া এবং রোস্ট পোলাও আইটেম। স্পেশালের মোড়কে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটছে ক্যান্টিন মালিকেরা। এছাড়া বেশ কয়েকটি ক্যান্টিনের নতুন চার্টে অল্প কয়েকটি খাবার আইটেমের দাম উল্লেখ থাকলেও এই চার্টের বাইরে অনেকগুলো খাবারের আইটেম বিক্রি করা হচ্ছে। সেগুলোতে ক্যান্টিন মালিকেরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুুবুর রহমান বলেন, ফুল প্লেট ভাত ৬ টাকা, হাফ প্লেট ৩ টাকা, ডাল ৩ টাকা। সে হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর ২৭ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে খাবার হওয়ার কথা। কিন্তু সবক্ষেত্রেই ১০/১৫ টাকা করে বেশি রাখছেন ক্যান্টিন মালিকেরা। প্রত্যেকদিন ৩ বেলা খাবারের জন্য আমাদের গুনতে হয় অন্তত ১৫০ টাকা। এক মাসে যা প্রায় ৫ হাজার টাকার সমান। এছাড়া অন্যান্য খরচ তো আছেই। এত খরচ একজন গরিব পিতার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। খাবারের দাম কমানো হলেও বাস্তবে আমরা বাড়তি দামেই খাচ্ছি। সরেজমিন হলগুলোর ক্যান্টিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ক্যান্টিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম রাখা হচ্ছে।

সবগুলো আইটেমই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্য রাখছেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। কিন্তু অন্য হলগুলোর চিত্র একই। ভাত-মুরগি-ডাল একসাথে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাখা হচ্ছে ৪৩ টাকা; কোন কোন হলে তা ৪৭ টাকা। এ অবস্থায় গত শুক্রবার দুপুরে খাবারে মূল্য বেশি রাখায় মাস্টার দা সূর্যসেন হল ক্যাফেটেরিয়া এবং বিজয় একাত্তর হলের মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে হল প্রশাসন। এ সময় বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট আ জ ম শফিউল আলম ভূঁইয়া ক্যান্টিন পরিদর্শনে গিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের দায়ে একটি আইটেম ফেলে দেন। একই অবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিক হলের ক্যান্টিনে গিয়ে দেখা যায় মুরগি-ভাতের দাম ৪২ টাকা। মুরগির মূল্য ২০ টাকা লেখা থাকলেও ভাতসহ ৪২ টাকা কেন প্রশ্ন করলে ম্যানেজার সাথে ভাজি দেওয়া হয় জানান। ভাজির দাম বাদ দিলে ভাতের জন্য ১৬ টাকা কেন রাখছেন প্রশ্ন করলে তিনি মুচকি হেসে বলেন ভাই নিয়মের ফাঁক ফোকর আছে, আমাগোও তো বউ বাচ্চা আছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর প্রভোস্ট কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্যান্টিনে খাবারের মূল্য একই নির্ধারণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ মিলে বর্তমান বাজার বিবেচনায় বিভিন্ন হল ক্যান্টিনগুলোর জন্য সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিয়া রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, সেহেতু এটা বাস্তবায়ন হবেই। ওরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে না পারে তাহলে আমরা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেব। আজ কিংবা কালকের মধ্যেই আমরা হল প্রশাসন মিটিং ডেকে অভিযান প্রেরণ করব।

 

 

 

যানজটে আটকে গেল হাজারো পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন

রাবি প্রতিনিধি : স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। রাত-দিন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার একদিন আগেই রওনা দিয়েছিলেন রাজশাহীর উদ্দেশে। কিন্তু যানজটেই আটকে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন। গত শনিবার সকালে রওনা দিয়েও রোববার সকালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি হাজারো ভর্তিচ্ছু। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে রওনা দিয়েছিল তারা। ফলে তারা আজকের পরীক্ষা দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে ‘ই’ ইউনিটের প্রথম শিফটের ই-১ এর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর সাড়ে ১০টা থেকে ‘ই’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষায়ও তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে জানায় টাঙাইলে যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন পরীক্ষার্থী। দুপুরের পর তারা রাজশাহী পৌঁছাতে পারবে বলে     আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ‘ই’ ইউনিটের সাব-উইনিট ‘ই-১’-এর মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়। মানিকগঞ্জের ভর্তিচ্ছু খাদিজা খান (ই-১ : ২০৭৬৩) জানান, ‘শনিবার ৭টায় বাসে উঠেছি। এখনও টাঙ্গাইলে আটকে আছি।

 আমার পরীক্ষা সকাল সাড়ে ৮টায় ছিলো। রাস্তায় বিভিন্ন গাড়িতেই অসংখ্য পরীক্ষার্থী রয়েছে।’ আব্দুল্লাহ আল মস্কুর (ই-১ : ১৮৬০০০) এর অভিভাবক আব্দুল্লাহ আল মনসুর বলেন, ‘আমাদের ঢাকা থেকে বাস ছিলো শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায়। গাড়িতে উঠেছি রাত সাড়ে ৮টায়। রাস্তায় যে অবস্থা তাতে আজকে আসতে দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে। অথচ ছোটো ভাইয়ের পরীক্ষা ছিল সকাল সাড়ে ৮টায়।’ ভর্তিচ্ছু রাহী বলেন, ‘আমার পরীক্ষা সাড়ে ১০টায়। কিন্তু দুপুরেও বোধহয় রাজশাহীতে আসতে পারবো না। রাস্তায় দুর্ভোগের মধ্যে আছি। যানজটের কারণে আমার স্বপ্নই ভেঙে গেল।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, ‘আমরা জেনেছি অসংখ্য শিক্ষার্থী রাস্তায় আটকে রয়েছে। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই। আমাদের পরীক্ষা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পরও হলে ঢুকতে দিব।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, “আমরা পরীক্ষার হলে দেখেছি ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে। হয়তো রাস্তায় অল্পসংখ্যক আটকে আছে। তবে সাড়ে ১০টার পরীক্ষায় আশা করছি, তারা পৌঁছাবে।” যানজটে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনে কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। আমাদের চিন্তা-ভাবনায় এটা নেই।’
প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন : আটক ১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ¯œাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার তিন শিফটে ‘ই’ (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত) ইউনিট এবং দুই শিফটে ‘এ’ (কলা অনুষদ) ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ‘ই’ ইউনিটের পরীক্ষার শুরুতেই জালিয়াতির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এদিকে যানজটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সকালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ‘ই’ ইউনিটে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৮৪.১৮ শতাংশ। উপস্থিতির বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা ফয়জার রহমান বলেন, ‘ই’ ইউনিটের ৪১ হাজার ২৩২ জন ভর্তিচ্ছুর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩৪ হাজার ৭০৯ জন। ছয় হাজার ৫২৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। যার উপস্থিতির হার ৮৪.১৮ শতাংশ। জালিয়াতির অভিযোগে আটক রবিউল ইসলামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায়। তিনি আব্দুল মতিন নামে একজনের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের রসায়ন বিভাগের একটি কক্ষ থেকে তাকে আটক করে কর্তব্যরত শিক্ষকরা। তার রোল নম্বর ‘ই’১-১৮১৬৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান জানান, ‘ই’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা চলার সময় রবিউল ইসলাম নামের একজন আব্দুল মতিনের পরিবর্তে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কর্তব্যরত শিক্ষকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তাকে পুলিশে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রক্টর আরো বলেন, ‘ওই একটি ঘটনা বাদে আর কোন জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। পরবর্তীতে পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও সব ধরনের জালিয়াতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত, গোয়েন্দা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, পুলিশ-প্রশাসন কাজ করবে।’

জালিয়াতির অভিয়োগে আটকে বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আটককৃত রবিউল ইসলাম কোথাকার শিক্ষার্থী এটা জানা যায়নি। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আজ সোমবার  সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ‘কে’ ইউনিট, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বি-১ ইউনিট, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বি-২ ইউনিট, দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ডি ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) এবং সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ডি ইউনিট (অ-ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাবির ভর্তি পরীা জালিয়াতির দায়ে ১২ জনের কারাদণ্ড

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীায় ‘ডিভাইস’ নিয়ে জালিয়াতি করায় ১২ শিার্থীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে আদালত বসিয়ে এই শাস্তি দেন ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিা অনুষদ কেন্দ্র থেকে আটক আল ইমরান ও নূরে আলম আরিফ, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন থেকে আবু হানিফ নোমান এবং উদয় স্কুল থেকে মো. শাহ পরান, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শৌমিকা প্রতিচি সাত্তার, মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ থেকে খন্দকার সিরাজুল ইসলাম ও মো. রাকিবুল ইসলাম, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে মোছা. আরিফা বিল্লাহ তামান্না, শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ থেকে মো. আবুল বাশার ও নাহিদ হাসান কাউসার এবং আহম্মেদ বাওয়ানি একাডেমি কেন্দ্র থেকে এসএম জাকির হোসাইন ও মো. তানভীর হোসাইন।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীা চলাকালীন সময়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক করে নিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরীা চলাকালীন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি করার ১২ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’ প্রতিকেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর থাকার পরেও ডিভাইস নিয়ে কীভাবে পরীার্থীরা হলে ঢুকেছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী বলেন, পরীার্থীরা একসাথে তাড়াতাড়ি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করছে।

 এতে ভিড়ের ভেতরে অনেক সময় তাদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তাই প্রবেশ পথে দায়িত্বরতদের সামনের পরীায় মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারে আরো সচেতন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের মোট ৮৭টি কেন্দ্রে ‘ক’ ইউনিটের পরীা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে। এবার এক হাজার ৭৬৫ আসনের বিপরীতে অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৫০৬ জন ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী। এই ইউনিটের পরীা চলাকালীন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান কার্জন হল পরীা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ঢাবির সেই সিনেট সভা ও উপাচার্য প্যানেল অবৈধ

রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট গত জুলাইয়ে যে বিশেষ সভা করেছিল এবং সেখানে তিন সদস্যের যে উপাচার্য প্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট।

এ বিষয়ে এর আগে হাই কোর্টের দেওয়া রুলের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেয়। যথাযথভাবে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সিনেট গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে হাই কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি করেন কামরুল হক সিদ্দিকী। আর রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

এর আগে আপিল বিভাগ সিনেটে মনোনীত ওই তিন সদস্যের প্যানেল নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করে হাই কোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিল। আর রুল নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তখনকার উপাচার্যই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে সেই আদেশে জানানো হয়েছিল। কিন্তু আট বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় রুল নিষ্পত্তির আগেই গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে ‘সাময়িকভাবে’ উপাচার্যের দায়িত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ভবনে হওয়া সিনেট সভায় উপাচার্য নির্বাচনে যে তিন জনের প্যানেল অনুমোদন করা হয়েছিল, সেখানে অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের নাম ছিল না। ফলে ওই সিনেট সভা এবং তিন সদস্যের প্যানেল অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের তেমন কোনো প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিকজ কার্যক্রমে পড়ছে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

‘ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নিয়োগ অধ্যাদেশের লঙ্ঘন’

ঢাবি প্রতিনিধি : ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নির্বাচন না দিয়ে পুনরায় অন্য একজনকে ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্ব দেওয়াকে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আ জ ম শফিউল আলম ভুঁইয়া। তিনি এ ঘটনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সংবিধানখ্যাত ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশে উল্লিখিত নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শফিউল ইসলাম তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

এর আগে গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সিন্ডিকেটের সভায় ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে তার জায়গায় অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে আজকের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। শফিউল ইসলাম বলেন, গত ২ জুলাই ২০১৭ তারিখে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। সে অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে আমার কার্যকাল ৯০ দিন পূরন হওয়ার কথা।

 এ অবস্থায় নতুন ডিন নিযুক্ত করতে হলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করাটাই আইনসিদ্ধ। কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসাবে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং প্রচলিত রেওয়াজের পরিপন্থী এবং অধ্যাদেশের সুুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো তাকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে অধ্যাপক শফিউল আলম বলেন, আমি ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি।

পূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকায় এবং এবিষয়ে সংবাদপত্রে ছাপা হওয়ায় গত সপ্তাহে অনুষদের এক কর্মকর্তাকে বদলি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই। কিন্তু তার কোন সুরাহা না করে উল্টো আমাকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আমি বিস্মিত। তিনি আরও বলেন, একজন ভারপ্রাপ্ত ডিনকে সরিয়ে অন্য আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি নীতির পরিপন্থী। সম্পূর্ন বিনা কারণে একজন ভারপ্রাপ্ত ডিনকে সরিয়ে অন্য একজনকে আবার ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগের ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নেই বললেই চলে।

 এর আগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরি ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ছিলেন। পরবর্তিতে নির্বাচিত ডিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। অধ্যাপক নাজমুল করিমও অনুরূপ পন্থায় দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। সর্বশেষ শেখ আব্দুস সালাম ভারপ্রাপ্ত ডিন থাকার পর পরবর্তীতে নির্বাচিত ডিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এই যখন অনুষদের ঐতিহ্য তখন আমাকে কেন নির্বাচন না দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হলো? তাহলে আমি কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আক্রোশের শিকার? অধ্যাপক শফিউল আলম সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাবির এক শিক্ষক বলেন, বর্তমান উপাচার্য ও তার আশেপাশের লোকজনকে জায়গা করে দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আইন হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা নিয়ে আর কোনো ব্যবসা চলবে না উল্লেখ করে বলেছেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে আইন করা হচ্ছে।  শিক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) পরিকল্পনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে। তা অচিরেই বন্ধ করতে হবে। গাইড ও নোট বই বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের মহান এই পেশাকে কলুষিত করে যেসব শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কারিগরী শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রতি আরো গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ভোকেশনাল স্কুল কলেজগুলোকে উন্নত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রধান সমন্বয়ক (এসডিজিএস) আবুল কালাম আজাদ ও স্টেপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ বি এম আজাদ। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস।  

 

 

ভর্তি পরীক্ষা ঢাবির ‘খ’ ইউনিটে পাশের হার ১৬.৫৬

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ভর্তি পরীক্ষার পাশের হার ১৬.৫৬ শতাংশ। এছাড়া মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫১৮৮ জন। সর্বোচ্চ ১৮৪.৭০ স্কোর করে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী অনিক ইসলাম। এছাড়াও ১৭৪.৮০ পেয়ে ২য় স্থান অধিকার করেছেন ডেমরা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম, ১৭২.১০ স্কোর করে ৩য় স্থান অধিকার করেছেন রাজশাহী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নাতিক মাহমুদ।

সোমবার সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান প্রশাসনিক ভবনে কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন। এসময় কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও খ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সমন্বয়কারী ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: রহমত উল্লাহ, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শুক্রবার কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে ভর্তিচ্ছু ৩২ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ হাজার ৩৩৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৮৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ২৬ হাজার ১৪৫ জন। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৪১৭ জন। এবার ‘খ’ ইউনিটে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৩ শ ৬৩ টি।

 

ঢাবির খ-ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ঢাবির আই আর ডিপার্টমেন্টের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দু’জনকে আটক করা হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে জালিয়াত সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করে পুলিশ।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাবির ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ৬০৫৪ নম্বর কক্ষে ভর্তি-ইচ্ছুক তানসেনের পরিবর্তে ঢাবি শিক্ষার্থী শাহজাহান পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় শাহজাহানকে দেখে পরীক্ষার হলের শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরে নিশ্চিত হয়ে তাঁকে আটক করা হয়। তার মাধ্যমে তানসেনকে ফাঁদে ফেলে আটক করা হয়

। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা প্রক্সির মাধ্যমে একজনের পরীক্ষা অন্যজনে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে তাঁদের শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিম। আটককৃত ঢাবি শিক্ষার্থী বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শাহজাহান আলী। তিনি ঢাকা কলেজে থেকে ২০১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা তানসেন মিয়ার হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিচ্ছেলেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জালিয়াত চক্র সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে আটককৃতদের পরিচয় জানা যায়নি।

জালিয়াতি চক্র ধরা পড়ার বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ বলেন, ‘আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি, ঢাবি শিক্ষার্থী শাহজাহান ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী তানসেনের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তানসেনের প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে শাহজাহানের ছবির মিল ছিল না। তাই আমরা শাহজাহানকে আটক করি। পরে তার মাধ্যমে তানসেনকে আটক করি। আটককৃতদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাবির গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বাইরের মোট ৫৩টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, কোনো ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ছাড়াই প্রথম পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেন্দ্রগুলোতে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়টি বেশ ভালোভাবে কাজ করেছে।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার স্বপ্নের জায়গা। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সচেষ্ট রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ‘গ’ ইউনিটের ন’টি বিভাগে ১ হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে ২৯ হাজার ৯৫৪ জন ভতিচ্ছু পরীক্ষার্থী আবেদনপত্র জমা দেন। এ হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ২৪।

 তবে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তা জানা যায়নি। পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, মোবাইল ফোনসহ যোগাযোগ করা যায়- এমন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, অসদুপায় ও অনিয়ম ঠেকাতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষ বিএফএ (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে চারুকলা অনুষদসহ ক্যাম্পাসের মোট ১১টি কেন্দ্রে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চ-ইউনিটে ১৩৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৭২।

 



Go Top