সকাল ৮:১১, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

রাখাইনে চলমান সেনা নির্যাতনের মূলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারকে ফেরত নিতেই হবে। কোন শরণার্থী ক্যাম্পে নয়, তাদের নিজের বাড়িতেই ফিরিয়ে দিতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চতুর্থ দফা বৈঠকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান জোরালো কন্ঠে এ দাবি জানান। সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে কঠোর চাপও দিতে বলেন তিনি। পাশাপাশি জোর দেন, নিজের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর। গত শুক্রবার মধ্য রাতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে আয়োজিত অনানুষ্ঠানিক আরিয়া ফর্মুলার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জাতিসংঘে নিয়োজিত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।

 এবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহবান জানান। এবারের বৈঠকে রাখাইনে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তার শর্তহীন অবাধ প্রবেশাধিকার এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন-এ তিনটি বিষয়ে একমত হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগুলো।

বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে এতবড় চাপ কতদিন ধরে বহন করা সম্ভব হবে, বিশ্বকে তা ভাবতে হবে। আমরা আশা করি, উন্নত দেশগুলো জাতিসংঘের মাধ্যমে দ্রুত এ সংকট সমাধানে একটি ফলপ্রসু উদ্যোগ নেবে। সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে অবিলম্বে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমারকে বাধ্য করা। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানাই।

এই বিভাগের আরো খবর

ভেজাল রোধে কঠোর হতে হবে

দেশের গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় খাদ্য দ্রব্যে ভেজালের যে চিত্র উঠে আসে তা উদ্বেগজনক এর আগে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে মোট ৫ হাজর ৮১২টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪৭টি পণ্যেই ছিল ভেজাল। শতকরা হিসাবে যা ৫৪ শতাংশেরও বেশি। গম, ডাল, চিনি, লবণ, দুধ, তেল, ঘি, মাখন, কেক, মিষ্টি দই থেকে শুরু করে এমন কোন খাদ্য দ্রব্য খুঁজে পাওয়া কঠিন, যা ভেজাল মিশ্রিত নয়। একদিকে ভেজাল, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি।

বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা। অন্যদিকে মানের বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারছেন না ক্রেতা। একদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছুঁতে চাইছে, অন্যদিকে প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক খাদ্য দ্রব্যে যে শুধু ভেজাল মেশানো হচ্ছে তা-ই নয়, যে সব কারখানায় এগুলি তৈরি করা হয় সেগুলোর অধিকাংশের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, আবর্জনা ও পুতিগন্ধময়। খাদ্য তৈরীতে ব্যবহৃত পানিও নোংরা ও দূষিত। তদুপরি অনেক খাদ্য দ্রব্য রাখা হয় খোলা আকাশের নিচে।

 চারদিকে বস্তি ও নোংরা আবর্জনাপূর্ণ পরিবেশে। স্বল্প পুঁজির এসব কারখানার মালিক মূলত সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী। যেন তেনভাবে খাদ্য দ্রব্য প্রস্তুত করে বাজারজাত করাই তাদের লক্ষ্য। বাজারের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে মোড়কজাত করা হয় নামিদামি কোম্পানীর নামে। এর গুণগত মান নিয়ে তাদের আদৌ কোন মাথাব্যথা নেই। অথচ খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফরমালিনসহ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল। ফলমূলসহ শাক-সবজি সবখানেই কেমিক্যাল, ফল রঙিন করতে বিষাক্ত কেমিক্যাল দেয়া হচ্ছে।

 শাক-সবজি, ফল তাজা রাখার জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক। বাজার থেকে কিনে আনা ফল মাসাধিককাল ফ্রিজের বাইরে থাকলেও নষ্ট হচ্ছে না। আহার্য সামগ্রী আকর্ষণীয় করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে টেক্সটাইলের রঙ। এর সঙ্গে পোড়া তেল-মবিল তো রয়েছেই। দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোও এ ব্যাপারে সোচ্চার। কিন্তু যারা এসব দেখভালের সঙ্গে জড়িত সেসব কর্তৃপক্ষ না দেখার ভান করার নীতি গ্রহণ করায় তাদের ঘুম ভাঙানো যাচ্ছে না। এ অবস্থার অবসানে সরকারকেই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার

বিশ্বে পানির উৎস প্রতিদিনই কমছে। পানি সংকটের মুখে মানবজাতি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলেছে, পৃথিবীতে ভূ-গর্ভে পানির যত মজুদ আছে তার এক-তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কত তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় তা জানা এবং সে পানি কত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। এর ওপর আছে আবার পানির নানারূপ দূষণ। পানির অভাব এখনও এ দেশে তেমন নেই, কথা সত্য। তবে সেই বিপুল পরিমাণ পানির সামান্যই পানযোগ্য। নদী-নালা, পুকুর-ঝিল, এসবের পানি বেশির ভাগই দুষিত।

 এ পানি পান উপযোগী তো নয়ই, সাধারণ ব্যবহারোপযোগীও নয়। কয়েক যুগ আগেও ভূ-উপরিস্থিত পানির মান খারাপ হলেও ভূ-গর্ভস্থ পানিওর ওপর ভালোই নির্ভর করা যেত। পাতকুয়া, চাপকল ছিল মানুষের ভরসার স্থল। ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় পাতকুয়ার ব্যবহার বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন নতুন উৎপাত আর্সেনিকের কারণে অনেক এলাকায় চাপকলের পানিও পানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা আমাদের দেশের জন্য বিরাট হুমকি স্বরূপ। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯টি জেলায়ই পানিতে আর্সেনিক লেভেল গ্রহণযোগ্য সীমার (বাংলাদেশে জন্য ৫০ পিপিবি) চেয়ে ওপরে অবস্থান করছে। ভূ-গর্ভের বেশ গভীরের পানিতে উচ্চ ঘনত্বের আর্সেনিকের উপস্থিতির ফলে এই দূষণ সৃষ্টি হয়। মানুষের জন্য এটি একটি নীরব ঘাতক।

 মানুষের জন্য সব লেথাল ডোজ (খউ) হচ্ছে ১২৫ মিলিগ্রাম। আর্সেনিক মানব দেহের জন্য পারদের চেয়েও চারগুণ বেশি বিষাক্ত। এটার প্রতিক্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে হয় না। এর প্রভাব মানবদেহে আট থেকে ১৫ বছর পরে এটির কার্যকারিতা মানব শরীরে দৃশ্যমান হয়। ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারকারীরা নানারোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। পানিকে বিশুদ্ধ পানি হিসেবে ব্যবহার করতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের এর প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জলবায়ু পরিবর্তনের অপপ্রভাব

জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন ১৯১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যান হাটনে প্রায় ৪ লাখ লোকের ‘পিপলস কøাইমেট মার্চ’ শীর্ষক বিক্ষোভ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে বলেছিলেন, এই গ্রহেই আমাদের আগামী প্রজন্ম বাস করবে। যেহেতু ‘গ্রহ বি’ নামে কোন গ্রহ নেই, সেহেতু ‘পরিকল্পনা বি’ নামের কোনো পরিকল্পনা নেই। অর্থাৎ দ্বিতীয় পৃথিবী না থাকায় বিকল্প কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি আরও বলেছিলেন বিশ্বের উচিত জনগণের মধ্যে বিদ্যমান পরিবর্তনের ক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আমাদের কার্যক্রমকে কাজে লাগানো’। বিজ্ঞানীরা বলেন, আগামী দশকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সমুদ্র স্তর বৃদ্ধি পাবে। এতে তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করবে।

 আরো তীব্র মাত্রার সাইক্লোন হবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হবে। এখনই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চলতি শতকের শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক শিল্প সময় কালের চেয়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ এলাকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি উৎপাদন, পানি সম্পদ, উপকূলীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ২০৯০ সাল নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ায় বেশি বেশি বন্যা ও খরা হবে। এর ফলে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লে বন্যা প্রবণ এলাকা প্রায় ২৯ শতাংশ বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লে বন্যা প্রবণ এলাকা প্রায় ২৯ শতাংশ বাড়বে। উষ্ণ হতে থাকা জলবায়ুর ফলে দারিদ্র্য হ্রাস মন্থর হয়ে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবার জীবন যাত্রাই বদলে যাবে।

 তবে এতে পরিবারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী প্রধানত উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। এসব দেশে শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এবং জলবায়ু পরিবর্তনে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কার্বন ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে এ দেশগুলো। আর এর শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের তৎপরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর

জিডিপি’র রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশের জিডিপিতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির বিশ্ব অর্থনীতির চালচিত্র প্রতিবেদন ২০১৭ তে বাংলাদেশের সামস্টিক অর্থনৈতিক গতিধারা সম্পর্কে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ২০১৭ প্রকাশ করে। এতে চলতি অর্থ বছরে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে ঠেকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা গত অর্থ বছর শেষে ছিল ৬ শতাংশ। আর চলতি হিসেরে ভারসাম্যে নেতিবাচক অবস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান অর্থ বছর শেষে চলতি হিসাবে জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি হবে, যা গত অর্থ বছরে ছিল দশমিক ৭০ শতাংশ। আইএমএফ বলছে, আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ হারে। এ বছরও বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে।

 তার আগে এডিবি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৭ এ বলেছে, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আইএমএফ’র বিবেচনায় এশিয়ার সম্ভাবনাময় বাজার ও অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। গত দশকে দুনিয়াব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দার সূচনা হয়েছিল তার রেশ এখনো কাটেনি। এ অবস্থায়ও বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বরবারই ৬-এর ওপর থেকেছে। এমনকি দেশে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংঘাতের বছরগুলোয়ও প্রবৃদ্ধির এই ধারা বহাল থেকেছে। আমাদের প্রবৃদ্ধির এই হার একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে, যা আমাদের অনেক আশান্বিত করে। স্বাধীনতার অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। স্বাধীনতার চার দশক পরে এসে সেই পালে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। এই ধারা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, সেই অঙ্গীকার নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ এগিয়ে নেবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বাল্য বিয়ে রোধ

বাংলাদেশের ৭৩ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় বাল্য বয়সে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোরাম ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা জরিপে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী শিক্ষার দিক থেকে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখালেও বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে এ দেশের মেয়েদের রক্ষা করা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে সারা বিশ্বে প্রতিদিন অনৈতিকভাবে বাল্য বিয়ের বেড়াজালে পতিত হয় ২০ হাজারের বেশি মেয়ে। সেভ দ্য চিলড্রেন ও বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণায় বাল্য বিয়ের হার আরো বেশি। প্রায় ৭.৫ মিলিয়নের হিসাব দেখানো হয়েছে তাদের জরিপে। সেভ দ্য চিলড্রেন সংস্থার  জরিপ অনুযায়ী প্রতি তিন জন মেয়ের মধ্যে একজনের বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে। নব বিবাহিতার সুযোগ হয় না লেখাপড়া শেষ করার। প্রথম দিকে সবকিছু সামলে নিয়ে লেখাপড়া শুরু করলেও সংসারের চাপ, সন্তান ধারণ আর সামাজিকতার আড়ালে ধীরে ধীরে চেপে যায় শিক্ষিত হওয়ার ইচ্ছা।

বলা বাহুল্য, আমাদের দেশেই সবচেয়ে বেশি বাল্য বিয়ে হয়। এ দেশের কথিত আইনে বাল্য বিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও কাজের ক্ষেত্রে এর মূল্যায়ন হয় না বললেই চলে। বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে। বাল্য বিয়ে রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া দিক নির্দেশনাগুলো এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। তবে বাল্য বিয়ে আশানুরূপ সুফল পেতে হলে সমাজ দেহ থেকে বখাটেপনা বন্ধে সর্বাগ্রে পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিশুদের নিরাপত্তাহীন করছে এই বখাটেপনা। মা-বাবারা বাধ্য হয়ে অনেক সময় নিরাপত্তার আশায় তার স্কুল পড়–য়া কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বাল্য বিয়ে আইন অনুযায়ী অবৈধ হলেও এই আইনের কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। বাল্য বিয়ে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অর্জিত সব সাফল্যকে নি®প্রভ করে তুলছে। প্রসূতি স্বাস্থ্যের জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হোক।

এই বিভাগের আরো খবর

বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর এখনও নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতা চলছে। এ কারণে রাখাইন থেকে এখনও রোহিঙ্গারা দল বেঁধে আসছে। তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ যুদ্ধের মতো আত্মহননের পথ বেছে নেবে না। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী। দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান চায়। গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ২৮টি দেশের কূটনীতিকদের সামনে রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেছেন। এ ছাড়াও গত মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন মিয়ানমার সরকারের দেওয়া প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এড়ানোর কৌশল। প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার আসলে দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।

 রোহিঙ্গা সংকট এখন আর দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, এটি আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আমরাও মনে করি রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজ বিশ্ব সমাজের অভিন্ন দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে কোনো কোনো দেশ প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও তারাও চায় এ সমস্যার সমাধান হোক। সমস্যার সমাধানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন ঠেকাতে সে দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহবান জানিয়েছে।

 শুধু রোহিঙ্গা নয়, সে দেশের শতাধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিটিই জাতিগত নিপীড়নের শিকার। এটা বন্ধ করতে হলে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জরুরি। রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের নিজস্ব এবং একে বাঙালি ইস্যু বলে বর্মি শাসকরা নিজেদের দায় এড়াতে পারেন না। সভ্য দুনিয়ার কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ সংকট সমাধানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া এ সংকট সমাধান সম্ভব নয়।

এই বিভাগের আরো খবর

বখাটেপনার শিকার

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বখাটেদের অত্যাচারে আত্মহননের পথ বেছে নিল আরও এক স্কুল ছাত্রী। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিলি খাতুন। এর আগে গত রোববার দুপুরে এরই পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা করে মোস্তফাপুর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের জিয়ানগর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী রাজিফা আকতার সাথী। ইভটিজিং এর নোংরা প্রবণতার শিকার, সাথী ও মিলি। স্কুলে যেতে বখাটেদের উৎপাত, পাড়া মহল্লায় হয়রানিসহ সম্প্রতি কিশোরীদের প্রতি যৌন ঘটনা অস্বাভাবিক বেড়েছে। বারবার পরিবারগুলো বিচারের দাবি করে আসলেও মিলছে না প্রতিকার যা অন্যায়কারীর শাস্তি।

 আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে- এসব ক্ষেত্রে তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয়, প্রভাবশালীরা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়। অন্যায়কারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার ফলে অপরাধের পাল্লা দিন দিন ভারী হয়। দীর্ঘদিন ধরে বখাটে ইয়াসিন জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া সাথীকে উত্ত্যক্ত করছিল। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করার পরও ক্ষান্ত হয়নি ওই বখাটে যুবক। সালিসও হয়েছিল। পরিবার প্রভাবশালী, তাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সালিসও বখাটেপনা থেকে ফেরাতে পারেনি।

 আত্মহত্যায় প্ররোচনাদের অভিযোগে ইয়াসিনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের ওপর বখাটের সহযোগী ও আত্মীয় স্বজন হামলা চালায়। বখাটেদের উৎপাতে প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক স্কুল ছাত্রী ও তরুণী আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এসব প্রতিকারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অতি প্রয়োজনীয়। দেশে নারী নির্যাতন আইনকে দ্রুত বিচার আইনের প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। দ্রুত অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচারাধীন করার জন্যই এটা করা। কিন্তু এসব অপরাধ বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত আসতেই নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব বাধা দূর করার ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে যতœবান হবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

এগোচ্ছে বাংলাদেশ

সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা সূচকেই বাংলাদেশ যথেষ্ট পরিমাণে এগিয়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে ক্রমেই বেড়ে চলেছে বিনিয়োগের পরিমাণও। বাড়ছে কর্মসংস্থান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। খাদ্য উৎপাদনেও বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে। মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে এসেছে।

 এ ছাড়া সামগ্রিকভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ অনেক খাতেই বাংলাদেশের অর্জন উৎসাহব্যঞ্জক। তার প্রভাব পড়ছে দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রেও। সেই সঙ্গে দারিদ্র্য নিরসনে বিশেষ বিশেষ উদ্যোগ থাকায় দ্রুতই বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত দেশের কাতারে নাম লেখাবে- এমনটাই প্রত্যাশা। বাংলাদেশের এই সাফল্য গাথার স্বীকৃতি পাওয়া যায় বৃটেনের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম দি ইকোনমিস্টের মূল্যায়নে। তারা বলছে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি এখন পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থ বছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপির আকার এক হাজার ৫৩৮ মার্কিন ডলার, সেখানে পাকিস্তানের এক হাজার ৪৭০ ডলার।

 বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে এখন শিল্পখাতের অবদান ২৯ শতাংশ অথচ জন্মলগ্নে এ অবদান ছিল মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ। সার্বিকভাবে আমরা সরকারকে বলতে চাই, এ অর্জন পুরো জাতির জন্যই ইতিবাচক। কিন্তু একে আরো এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কোন বিকল্প নেই। দারিদ্র্যসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক ঝুঁকি, লিঙ্গ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বৈষম্য ইত্যাদি সমস্যা মোকাবলো করে জাতিগত দিক থেকে তা হবে একটি অন্যতম অর্জন। যে কোনো মূল্যে উন্নয়নের এ ধারা এগিয়ে নিতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যবস্থা

যে দেশের সিংহভাগ মানুষ দারিদ্র পীড়িত, সে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বের সঙ্গেই সামনে আসে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশের স্বাস্থ্য সেবার চিত্র বড় বেশি বিবর্ণ এবং দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এক ভয়াবহ পীড়াদায়ক বিড়ম্বনার ক্ষেত্র। অসহায় রোগিরা কিভাবে সেবাবঞ্চিত অর্থাৎ ন্যায্য অধিকার ভোগ থেকে বঞ্চিত, তা আমাদের দেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পায়। একদিকে সরকারি  হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার ঘাটতি অন্যদিকে যত্রতত্র ক্লিনিক গজিয়ে ওঠা-দালালদের উৎপাত এর ভয়াবহ সব বর্ণনা আমাদের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে অহরহই প্রকাশিত হচ্ছে। চিকিৎসা খরচ এখন আর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই। দেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

 এ হিসাব সরকারি সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরই। নিত্য নতুন নামে, নানা সুবিধার প্রচার চালিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায়ও পৌছে গেছে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের এই সংখ্যা বেশ ইতিবাচক মনে হলেও এর উল্টো পিটে ফুটে উঠেছে সেবার চেয়ে লাভজনক বাণিজ্যে রূপান্তরের অমানবিক চিত্র। খবরে প্রকাশ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মাথাপিছু চিকিৎসা ব্যয় সবচেয়ে বেশি। ২০ বছরে ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৭ শতাংশ। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অন্য খাতের চেয়ে সহজে দ্রুত মুনাফা পাওয়ার আশায় এখন স্বাস্থ্য খাতের ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 তাদের মতে, এর পরিণতিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মানুষ ক্রমাগত নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত না করতে পারলে এটা সরকারের আরেক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হবে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য খাতে যেসব জায়গায় অনিয়ম, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য হচ্ছে সেসব জায়গায় সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। কারণ স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নাগরিক অধিকার। আর এ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই।

এই বিভাগের আরো খবর

মিয়ানমারের সুমতি হোক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারে পাঠানোর পর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনসিএইচআর। গত  মঙ্গলবার সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যখন বাড়ি ফিরতে চাইবে তখন তা করতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়ায়। বাংলাদেশে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি এই মন্তব্য করল। গত সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আলোচনার বাংলাদেশ জাতিসংঘকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুক্ত করতে রাজি নয়।

এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার ইউএনসিএইচ আর এর মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহে কিক বলেন, আমরা দুই দেশের মধ্যকার দ্বি পক্ষীয় আলোচনায় বিস্তারিত শুনতে এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা জানতে চাই। ঐতিহ্যগতভাবে রোহিঙ্গাদের প্রতি এ দেশের মানুষের সহানুভূতি রয়েছে। তবে অতিরিক্ত শরণার্থীর ভার বহনের ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করা হয়। আমরা চাই রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধান হোক। সমস্যার সমাধানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 চার দশক ধরে রাখাইন রাজ্যের এ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীটি সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়নের শিকার। আমরা আশা করব বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারের সমস্যা সহ বিশ্বের মুসলমান, বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত -নিপীড়িত সংখ্যালঘু মুসলমানদের সুরক্ষায় ভূমিকা পালন করবে। রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে নাগরিকত্ব সহ সসম্মানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটা জাতিসংঘকে নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এ শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এ কাজে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সহযোগিতা দিতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পাটের ন্যায্য মূল্য মিলছে না

পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। পাট রফতানির মাধ্যমে এক সময় অর্জিত হতো দেশের সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা। পাট উৎপাদন করে চাষিরা যে অর্থ পেতেন তা দিয়ে তাদের সাংবার্ষিক খরচ চলত। কিন্তু এখন সেসব অতীত দিন। এখন পাটের ন্যায্য মূল্য কৃষক পায় না। দেশের হাট বাজারে পাটের ব্যাপক আমদানি হচ্ছে। কিন্তু আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। মানভেদে ৯শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬শ টাকা মণ দরে পাট বেচাকেনা হয়েছে। তবে এতে উৎপাদনের খরচও ঘরে তুলতে পারেননি অনেক কৃষক।

 অন্যদিকে দিনের পর দিন পাটের দরপতনের ফলে কৃষকরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। পাটের জায়গা দখল যাচ্ছে অন্যান্য লাভজনক আবাদ। মূলত পাটের উৎপাদন খরচ বেশি ও পাট পচানোর পানির অভাবেই কৃষকরা পাটচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বিশ্বে পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। দেশেও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা এ সুযোগ ভালোভাবেই গ্রহণ করছেন। তাদের ব্যবসা ভালো। তাহলে কৃষক কেনো ন্যায্য মূল্য পায় না। পাট চাষিদের সুদিন ফিরিয়ে আনতে পাটের বাজার অšে¦ষণে  নজর দেওয়া দরকার।

 পাটের বিকল্প ব্যবহারের দিকেও নজর দিতে হবে। পাট উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনার জন্যও নিতে হবে পদক্ষেপ। পাট রপ্তানিতে প্রণোদনা দেওয়ার কথাও ভাবতে হবে। পাট চাষের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ কৃষক। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল শ্রমিকের স্বার্থে পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নজর দিতে হবে। পাটখাতে আগে দরকার পাট চাষিদের তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। পাট চাষি, ব্যবসায়ী শ্রমিক সবার হতাশা দূর করে পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বিকল্প ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের যথাযথ বাজারজাত করণের ব্যবস্থা নিশ্চিত কল্পে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন না

কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্বেও বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। স্বল্পতম ব্যয়ে উৎপাদন কৌশল গ্রহণ না করায় ভোক্তারা বছরে ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। অথচ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খাতভিত্তিক খরচগুলো সঠিকভাবে সমন্বয় করা হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৬ পয়সা কমানো যায়। আর স্বল্পতম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩২ পয়সা পর্যন্ত কমানো সম্ভব। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের মূল্য পরিবর্তনের ওপর গণ শুনানির সমাপনী দিনে এ তথ্য এবং প্রস্তাব তুলে ধরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এর আগে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, বিতরণকারী সংস্থা কোম্পানিগুলো।

পিডিবি প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম গড়ে ৭২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এবং তা ৫৭ পয়সা বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির কারিগরি কমিটি। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকার কমদক্ষ এবং বেসরকারি রেন্টাল বিদ্যুতে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। অথচ পিডিবির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গ্যাসের অভাবে অপেক্ষাকৃত কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। ওই গ্যাস পিডিবি পেলে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জনগণের ওপর খরচের বোঝা চাপিয়েই যাচ্ছে সরকার।

এই দুর্নীতি বন্ধ এবং নীতিগত ভুল সংশোধন করতে হবে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে সীমিত আয়ের মানুষ। গ্রাহকদের শ্রেণিভেদে দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে গরিব আবাসিক গ্রাহকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। শিল্পের ওপরও পড়বে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব। শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বাড়বে দ্রব্যমূল্যও। এর মাশুলও দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাদেরই। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে এসব বিষয় বিবেচনায় আনা উচিত বলে আমরা মনে করি।

বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন না

কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্বেও বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। স্বল্পতম ব্যয়ে উৎপাদন কৌশল গ্রহণ না করায় ভোক্তারা বছরে ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। অথচ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খাতভিত্তিক খরচগুলো সঠিকভাবে সমন্বয় করা হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৬ পয়সা কমানো যায়। আর স্বল্পতম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩২ পয়সা পর্যন্ত কমানো সম্ভব। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের মূল্য পরিবর্তনের ওপর গণ শুনানির সমাপনী দিনে এ তথ্য এবং প্রস্তাব তুলে ধরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এর আগে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, বিতরণকারী সংস্থা কোম্পানিগুলো।

পিডিবি প্রতি ইউনিট পাইকারি বিদ্যুতের দাম গড়ে ৭২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এবং তা ৫৭ পয়সা বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির কারিগরি কমিটি। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকার কমদক্ষ এবং বেসরকারি রেন্টাল বিদ্যুতে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। অথচ পিডিবির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গ্যাসের অভাবে অপেক্ষাকৃত কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। ওই গ্যাস পিডিবি পেলে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জনগণের ওপর খরচের বোঝা চাপিয়েই যাচ্ছে সরকার।

এই দুর্নীতি বন্ধ এবং নীতিগত ভুল সংশোধন করতে হবে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে সীমিত আয়ের মানুষ। গ্রাহকদের শ্রেণিভেদে দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে গরিব আবাসিক গ্রাহকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। শিল্পের ওপরও পড়বে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব। শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বাড়বে দ্রব্যমূল্যও। এর মাশুলও দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাদেরই। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে এসব বিষয় বিবেচনায় আনা উচিত বলে আমরা মনে করি।

এই বিভাগের আরো খবর

বিদেশে অর্থ পাচার

মুদ্রা পাচার শুধু একটি দেশের অর্থনীতিরই ক্ষতি করে না, দেশটির উন্নয়ন প্রচেষ্টাকেও ব্যাহত করে। বাংলাদেশে সেই মুদ্রা পাচার আজ উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে  ৪৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কর ফাঁকি, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার এবং সস্তা শ্রমের সুবাদে অসৎ ব্যবসায়ীরা যে মুনাফার পাহাড় গড়ে তুলেছে তার এক বড় অংশই পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়ে থাকে। গত জানুয়ারি মাসে ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আমাদের গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

 আনন্দ বাজারে সে খবরে বলা হয়েছিল -আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ইত্যাদি উন্নত ধনী দেশ সহ ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ ও বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ভোগ করছে। সে খবর অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি। আয়ের ৮০ শতাংশ নানা পথে বিদেশে চলে যায়। কম দামে যন্ত্রপাতিসহ উৎপাদন সামগ্রী কিনে বেশি দাম দেখিয়ে হরহামেশাই অর্থ পাচার করা হচ্ছে। দেশে কাঙ্খিত বিনিয়োগ হয় না, কর্মসংস্থান বাড়ে না, দারিদ্র্য পিছু ছাড়ে না- এমনি হা-পিত্যেশ আমাদের বরাবরের। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা সহ বহু রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তাতেও বিনিয়োগ গতি পায় না।

 কিন্তু আমরা কখনো সেই না পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করি না। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, একশ্রেণির ব্যবসায়ী জনগণের অর্থে সরকারের দেওয়া সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এ দেশে ব্যবসা করছে, আর বিদেশে অর্থ পাচার করছে। অর্থ পাচার বোধ করা না গেলে দেশে বিনিয়োগ গতি পাবে না। অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে কড়া হতে হবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে আইনি প্রতিরোধসহ কার্যকর ব্যবস্থা।

এই বিভাগের আরো খবর

আমিরাত থেকে সুবার্তা

শিগগিরই বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেশটির ভিসা পেতে আর কোনো জটিলতা থাকবে না। আমিরাতে সফররত বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আরব আমিরাতের বন্ধ ভিসা চালু করার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমিরাতের মানব সম্পদ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী সাকর খোবাস সাঈদ খোবাস। ২০১২ সালে বাংলাদেশের ওপর যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল তা শিগগিরই তুলে নেবে কাতার। বুধবার এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন নুরুল ইসলাম বিএসসি। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন কোনো শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে যাবার অনুমতি পাননি।

 তবে যারা আগে থেকেই আমিরাতে কাজ করছিলেন তারা আগের মতোই কাজ করছেন। তাদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। উল্লেখ্য, ৭ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক আমিরাতে নির্মাণ শিল্পের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। আমরা মনে করি মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির এ বার্তা বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্য সুসংবাদ হিসাবে দেখা হচ্ছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ। বিশ্ব মন্দার মুখেও আমাদের অর্থনীতি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। যাদের অর্থে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল, তাদের দেখভালে সরকারের আরো মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতা দাবি করে। আমরা জানি, আমিরাতে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ধ রয়েছে। স্পন্সর পরিবর্তনও হচ্ছে না।

 ফলে দেশটিতে অবস্থানরত ৭ লক্ষাধিক প্রবাসীর অনেকেই পড়েছেন নানা বিপাকে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেছেন আমিরাতের মানব সম্পদ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এই সমস্যারও খুব শিগগিরই সমাধান করা হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ যেমন নতুন শ্রম বাজারে প্রবেশের জন্য আবশ্যক, তেমনি পুরনো বাজার ধরে রাখতেও ব্যবস্থা নিতে হবে। যে সব দেশের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেসব দেশে নতুন করে কর্মি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সড়কে অব্যাহত মৃত্যু

নয় জেলায় গত মঙ্গলবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৪ জনের। এর আগে গত রবি ও সোমবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। এ নিয়ে গত ২৩১ দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ১৪০ জন দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কম নয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও থেকে খবর আসে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হতাহতদের স্বজনের আহাজারি আমরা দেখেই চলেছি। প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার পর কেবল প্রতিদিনই এভাবে সড়কে-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবার পরিজনদের কান্না কেবল নয়, পরিবারের সদস্যকে কিংবা নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে সারাজীবন কতজন গুমরে গুমরে কাঁদে এবং জীবনের দায় বহন করে বেঁচে থাকে।

 দেশে প্রতি বছর সরকারি হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে প্রায় ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রাণহানির সংখ্যা ২১ হাজার। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের চেয়ে আহতদের সংখ্যা কয়েকগুণ হওয়ারই কথা। যাদের একাংশকে সারাজীবন পঙ্গুত্বের অভিশাপে ভুগতে হয়। এ জন্য প্রতি বছর গড়ে যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয় তার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। পৃথিবীতে যে সব দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে বাংলাদেশের স্থান অন্যতম। বড় দুর্ঘটনায় অনেক বেশি প্রাণহানি এক সঙ্গে ঘটলে যখন হৈ চৈ পড়ে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন নড়ে চড়ে বসে। তারপর আবার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ফিরে আসে। ফিটনেসবিহীন যান চলে যত্রতত্র। ঝুঁকিপূর্ণ সব চালক ও জরাজীর্ণ গাড়ি উচ্ছেদ করা গেলে, সড়কে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হলে, আইনের প্রয়োগ কঠোর হলে সড়কে নৈরাজ্য কমে আসবে।

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গা ফেরাতে প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায়। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে রাজি হয়েছে দেশটি। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানের মানদ  ঠিক করতে মিয়ানমারের কাছে একটি চুক্তির খসড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। গত সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়েব বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে এসব আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে, বৈশ্বিক চাপে মিয়ানমারের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হয়েছে। সোমবারের আলোচনায় বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার।

 তবে বাংলাদেশ বলছে, ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত আশ্রয় নেওয়া নয় লাখের বেশি রোহিঙ্গার সবাইকে ফেরত নিতে হবে। যদিও মিয়ানমার এ মুহূর্তে গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত আসা প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা আর নিবন্ধিত ২ হাজার ৪১৫ জন শরণার্থীকে ফেরানোর কথা বলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদ আলী জানান, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ওয়ার্কিং গ্রুপ কীভাবে গঠন করা হবে তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

 পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি রূপ রেখা এবং এ সংক্রান্ত দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির খসড়া হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই রূপ রেখায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ প্রতিনিধিকেও অন্তর্ভুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে  বাংলাদেশ। আমাদের দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেয়। রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে নিশ্চয়তার জন্য ঢাকাকে ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

জিআই পণ্য কাটারিভোগ চাল

জামদানি ও ইলিশের পর দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের স্ব স্ব সুরক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও ব্যবসায়ী সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চাল কাঠারিভোগের মালিকানা বা স্বত্ব পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে এটির স্বীকৃতি সনদ পেতে আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী আরও ২৩ পণ্যের জিআই সনদ পেতে ডিজাইন, পেটেন্ট ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরে (ডিপিডিটি) আবেদন করা হয়েছে। দিনাজপুর অঞ্চলে বেশি উৎপাদন হওয়া কাঠারিভোগ চালের জিআই নিবন্ধন হলে বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পাবে। সুগন্ধি এ চালের জিআই নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। ১৯১২ সাল থেকে এ জাতের ধান দিনাজপুর জেলায় চাষাবাদ হচ্ছে।

 সরু ও সুগন্ধি এ চাল বাজারে বেশ জনপ্রিয়। দিনাজপুর অঞ্চলের বিশেষ জাতের এই ধান অন্য জেলায় চাষাবাদ করলে সুগন্ধ কমে যায়। এ কারণে এটি শুধু ওই জেলায় ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে পরিচিত পেয়েছে যুগ যুগ ধরে। ওই জেলার কৃষি ও পরিবেশগত অবস্থা এ জাতের ধান চাষের জন্য উপযোগী। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য, ফসল, মাছ বা উৎপাদিত সামগ্রীর নিবিড় সম্পর্ক থাকলেও এতদিন বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে গত বছর পর্যন্ত কোনোটির স্বীকৃতি ছিল না। গত বছর জামদানির সনদ দেওয়া হয়।

 চলতি বছর জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ইলিশ। এরপর পেতে যাচ্ছে কাটারিভোগ চাল। কর্মকর্তারা জানান, দেশের কোনো পণ্যের জিআই নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির আবেদন করার সুযোগ নেই। অ্যাসোসিয়েশন বা সংস্থাকে আবেদন করতে হবে। পণ্যের নিবন্ধন সনদ পাওয়ার পর উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কারিগর আলাদা নিবন্ধন পাবেন। নিবন্ধিত পণ্যের সুবিধা তখন তারা ভোগ করতে পারবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

জঙ্গি বিরোধী অভিযান

বাংলাদেশ-স্পেন যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের জঙ্গি অর্থায়নে মামলার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামি আতাউল হক সবুজকে স্পেনে গ্রেফতার করেছে সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত শুক্রবার রাতে এ অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে অভিযান চালিয়ে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী থেকে তার সহযোগিদের করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে ৮ জন পল্লবীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়াহমি টেকনোলজিতে কর্মরত। অভিযোগ স্পেনের প্রতিষ্ঠান আইসিংকটেল থেকে ওয়াহমির অনুকূলে বিপুল অর্থ পাঠানো হয়। যার ৫৩ ভাগই জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করছে র‌্যাব। দুটি প্রতিষ্ঠানেই মালিক সিরিয়ায় বিমান হামলায় নিহত জঙ্গি সাইফুল হক সুজন ওরফে সিফুল হকের ভাই সবুজ।

 গত শনিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। দ্বি-পক্ষীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুই দেশে একই সময়ে এ ধরনের অভিযানকে পারস্পরিক সহযোগিতার উজ্জল দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিতে স্পেনের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট যোগাযোগ করে। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিনিময় ও তৎপরতার কারণে সবুজ ও তার সহযোগিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

 শান্তির ধর্ম ইসলামের সঙ্গে অশান্তি ও অকল্যাণের অপচর্চাকারীদের যে দুরতম সম্পর্ক নেই তা সহজে অনুমেয়। জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের মানুষের শত শত বছর ধরে লালন করা উদার ধর্মীয় চেতনার পরিপন্থী। সন্দেহ নেই জঙ্গিবাদ এখন একটি বিশ্বজনীন সমস্যা এবং দুনিয়ার অনেক দেশই এ সমস্যার মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য ঈর্ষণীয় এবং একের পর এক জঙ্গি আস্তানার নিধন, সে সক্ষমতারই পরিচয় বহন করছে। আমরা আশা করি জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম যে কোনো মূল্যে অব্যাহত রাখা হবে।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

জরুরিভাবে সড়ক-মহাসড়ক মেরামত

টানা বৃষ্টি এবং বন্যায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতি হয়েছে। এসব সড়কের তাৎক্ষণিক মেরামতে প্রয়োজন ২০০ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের কাছে এর মধ্যেই বরাদ্দের চাহিদা জানিয়েছে সওজ। সড়কগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করতে হলে এ অংক আরও বাড়বে।

বর্ষা শেষে আগামী নভেম্বরে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। সারা দেশে সওজের অধীনে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়কের দৈর্ঘ্য ২১ হাজার ৩০২ কিঃ মিঃ। এবারের বন্যায় সওজের ১০ শতাংশ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, দুই হাজার ৩০ কিঃ মিঃ সড়ক-মহাসড়ক বন্যায় নষ্ট হয়েছে। সওজ কর্মকর্তাদের ধারণা স্থায়ী মেরামতের ক্ষেত্রে আড়াই হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে।

 কারণ স্থায়ী মেরামত করতে গেলে কোথাও কোথাও নতুন করে সড়ক নির্মাণ করতে হবে। কোথাও পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থা পাল্টে ফেলতে হবে। অনেক গ্রামে সেতু কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। প্রাথমিক হিসাবে গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বন্যায় সওজের ৯টি অঞ্চলের ৪২ জেলায় সড়ক-মহাসড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

২৫৫টি সড়কের কোথাও আংশিক ভেঙে গেছে। কোথাও উপরিভাগের পুরো পিচ ধুয়ে মুছে গেছে। অনেক জায়গায় ভেসে গেছে সেতু-কালভার্ট ও সংযোগ সড়ক। ২২ জেলার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। সেগুলো পেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

 আমাদের দেশে নৌপথ, রেলপথ থাকলেও বর্তমানে সাধারণত নির্ভর করা হয় সড়কপথের ওপর। অস্বীকার করার উপায় নেই, গত দুই দশকে সড়ক পথের বিস্তৃতি দেশের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এক সময়ের দুর্গম অঞ্চলগুলো এখন সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক উন্নত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের কল্যাণে দেশের অনেক দুর্গম অঞ্চলের যোগাযোগ এতই সহজ হয়ে গেছে যে, গ্রামে বসেই আধুনিক জীবন যাপনের সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে এবার দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের সড়ক পথ, বেহাল দশা। বেহাল সড়ক যাতে জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর

দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মাসেতু

প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু এখন ক্রম দৃশ্যমান বাস্তবনা। গত শনিবার সকালে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খঁুঁটির ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে প্রথম স্প্যানটি সফলভাবে বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। সেতু ঘিরে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, মাদারীপুরের শিবগঞ্জ শরীয়তপুরের জাজিরায়ও চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। সেতুতে বসানো প্রথম স্প্যানটি চীনের তৈরি। স্প্যানটির অংশগুলো সমুদ্রপথে দেশে আনা হয়।

পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যানটি অক্টোবর মাসের শেষের দিকে স্থাপন করা হবে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ১২টি স্প্যান চীন থেকে শিপমেন্টের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।  এর আগে মাওয়ায় ১০টি স্প্যান চলে এসেছে। সেতুতে মোট খুঁটি (পিলার) হবে ৪২টি। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দুরত্ব ১৫০ মিটার। সেতু নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের। দ্বিতল বিশিষ্ট পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে।

 মূল সেতুর দৈর্ঘ্য পোনির অংশের ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙ্গার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। দ্বিতল বিশিষ্ট পদ্মাসেতু হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনে দেড় দশক আগে একটি বৃহৎ সেতু নির্মাণের যে স্বপ্ন সূচিত হয়েছিল তার চূড়ান্ত আকৃতি দেওয়ার কাজ শনিবার আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন  করেন। এ সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।

 নদী শাসনের কাজ করেছে আরেক চীনা প্রতিষ্ঠান। আট হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে মাওয়া ও জাজিরায়, নদীর তীরে ১২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করছে। আমরা মনে করি, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিছক অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করে চলছে, বৈদেশিক সহায়তা ছাড়াও আমরাও পারি। এই সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে উন্নয়নের গতি জোরালো হবে। পদ্মা সেতুর কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক দশমিক দুই শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ইকোনমিক কষ্ট বেনিফিট অ্যানালাইসিস পদ্মা ব্রিজ প্রজেক্ট শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ পদ্মা সেতু থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই সেতু শুধু অর্থনীতিতেই মাইলফলক হয়ে থাকবে না, আমাদের সামর্থ্যরে উচ্চ মাপকাঠি হয়ে ভবিষ্যতে বিবেচিত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতিযোগিতা সূচকে এগিয়ে

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক বা ওয়ার্ল্ড কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্স (জিসিআই) এ বছর সাতটি দেশকে পেছনে ফেলে ৯৯তম অবস্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রথম বাংলাদেশ এই তালিকার শীর্ষ ১০০ দেশের মধ্যে উঠে এল, যেখানে মোট দেশের সংখ্যা ১৩৭। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান চিল ১০৬তম। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কারণ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন। পাশাপাশি তিনটি দেশ ডেমিনিকান রিপাবলিক, লেবানন ও এল সালভাদর। আগের অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এসব দেশ গত বছর বাংলাদেশের ওপরে ছিল। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক তৈরির ক্ষেত্রে দেশের ৮৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর মতামত জরিপ করা হয়। এতে উঠে আসে, ব্যবসায়ীদের চোখে বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি। এর পরের অবস্থানগুলোতে আছে অবকাঠামোর ঘাটতি, অদক্ষ আমলাতন্ত্র ও শিক্ষিত শ্রমশক্তির অভাব।

 গত বছর ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে অবকাঠামোর অভাবকে উল্লেখ করেছিলেন। ১৯৭৯ সাল থেক প্রতি বছর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউ ইএফ) এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। প্রতিবেদনে দুর্নীতিকে বাংলাদেশের ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে চিহ্নিত করা হয়। আজ বেশির ভাগ সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের ওপরে। শুধু স্বাধীনতাই বাংলাদেশকে এ সুযোগ এনে দিয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। যে কোনো দেশের জন্য এই সূচক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই মূলত কোনো দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার গতি নির্ধারিত হয়। বিশ্ব বাজারে দেশের ভাবমূর্তি তৈরি হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ আগের বছরের তুলনায় যথেষ্ট এগিয়েছে বলেই সূচকের এমন অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। যেসব সূচকে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে, সেগুলোর উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

চাপ অব্যাহত রাখুন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতাকে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ফল উল্লেখ করে মানবতাবিরোধী পূর্ণ তদন্তের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ আহবান জানান। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রথম বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, রাখাইনে সহিংসতা মানবাধিকারের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভাল ভাষায় বলার সময় শেষ হয়েছে।

 কয়েক দিন আগে নিরাপত্তা পরিষদের ছয়টি সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, সেনেগাল, মিশর, সুইডেন, ফ্রান্স ও কাজাকিস্তান জাতিসংঘ মহাসচিবকে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতির ওপর নিরাপত্তা পরিষদে এই বিবৃতি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছিল। চীন, রাশিয়া ও জাপান মিয়ানমারের পক্ষালম্বন করে বলেছে, এখনই দেশটির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ ঠিক হবে না। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে। আমরা মিয়ানমারের পক্ষ অবলম্বনকারী এই তিন দেশের ভূমিকার নিন্দা জানাই। এখন প্রয়োজন বাংলাদেশে অবস্থানরত ৯ লাখসহ নানাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং সেই নিশ্চয়তা প্রদান, যাতে সেখানে তারা নিরাপদে বাস করতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নিরাপদ বলয় গঠনের বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রেখেছেন। আমরা রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান জরুরীভাবে আশা করি।

এই বিভাগের আরো খবর

তথ্য অধিকারে সোচ্চার হতে হবে

স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতে খারুজ্জামান। আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে তিনি এ আহবান জানান। এ সময় জনগণের জন্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিও আহবান জানান তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি যদি এক দিকে আইনটি বাস্তবায়নের কথা বলে আর অন্যদিকে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনটির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। ফলে আইনটির সুফল থেকে মানুষ বঞ্চিত হবে।

 বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম কর্মিদের কর্মিসহ যারা স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার চর্চা করেন তারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কারণে প্রায়ই ঝুঁকির সম্মুখীন হন। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সাংবাদিকরা জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। কারণ ক্ষতিকর, মানহানিকর, হাঙ্গামা সৃষ্টির উষ্কানিমূলক কোন কিছু তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকাশ করা হলে সংক্ষুব্ধ যে কেউ মামলা করলেই আসামিকে গ্রেফতার করা যাবে এবং তা অজামিনযোগ্য। ফলে বিশেষভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মহল আইনটির অপব্যবহার করে চলেছে। কোন খবর অসত্য, ক্ষতিকর বা মানহানিকর হলে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে, আগে থেকে বিদ্যমান আইন আছে, প্রেস কাউন্সিল আছে। আমরা ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানাই এবং আশা করি, সরকার এমন কিছু করবে না, যা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে।

এই বিভাগের আরো খবর

পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা। আশুরা শব্দটি আরবি আশরুন থেকে এসেছে। আশুরা মানে দশম। ইসলামের পরিভাষায় আশুরা বলতে মহররম মাসের ১০ তারিখকে বোঝায়। মহররম ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। আজ থেকে ১৩৭৮ বছর আগে হিজরি ৬১ সনের এই দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত আলী (রা) পুত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা) শাহাদত বরণ করেন। এ ছাড়া হোসাইন (রা) এর অনুসারীদের মধ্যে মোট ৭২ জন শহীদ হন। অন্যায়, অসত্য ও শোষণের বিরুদ্ধে কারবালার প্রান্তরে এই বিয়োগান্ত ঘটনাকে মুসলিম বিশ্ব প্রতি বছর দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করে। নিজেদের ঈমানি শক্তিকে স্রষ্টার পরম সান্নিধ্য লাভের জন্য উজ্জীবিত করে। কারবালার প্রান্তরে হোসাইন (রা) নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করার শিক্ষাই আমাদের দিয়ে গেছেন। ১০ মহররম মানবজাতির ইতিহাসে নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ।

 এদিকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নির্বাসনে পাঠানো হয় প্রথম মানব-মানবী হজরত আদম (আঃ) ও বিবি হাওয়া (আ) কে। অসংখ্য নবীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ দিনের সঙ্গে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার কঠিন সংগ্রামে অসীম সাহসের সঙ্গে আপোসহীন লড়াই করে কীভাবে প্রয়োজনে আত্মবিসর্জন দিতে হয়, সে শিক্ষা আমরা লাভ করতে পারি কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা থেকে। অন্যায়, অসত্য ও শোষণের বিরুদ্ধে কারবালার এই বিয়োগান্ত ঘটনাকে মুসলিম বিশ্ব প্রতি বছর দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করে। নিজেদের ইমানি শক্তিকে স্রষ্টার পরম সান্নিধ্য লাভের জন্য উজ্জীবিত করে তোলে।

 মক্কার বুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা) সত্য ও কল্যাণের যে পূত-পবিত্র বাণী উচ্চারণ করেন তাতে আতংকিত হয়ে ওঠে অসত্য, সুন্দর ও অকল্যাণের প্রতিভুরা। অন্যায় যুদ্ধে ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া জয়ী হলেও সে জয় পরাজয়ের চেয়েও লজ্জাজনক। পক্ষান্তরে হজরত হোসাইন (রা) কে ইতিহাসে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে যুগে যুগে স্মরণ করা হচ্ছে শ্রদ্ধার সঙ্গে। আশুরার এই পবিত্র দিনে কারবালার শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পিটিয়ে শিশু সাগর হত্যা

আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা কিছুতেই বাদ যাচ্ছে না। বয়স মাত্র ১৬। নাম সাগর মিয়া। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের সংগা অনুযায়ী এখনো শিশু বলা যায় তাকে। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চুরির অপবাদে শিশু সাগর মিয়াকে পিটিয়ে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা আমাদের বেদনাহত তেমনই বিস্মিত করেছে। একটি খুঁটিতে বাঁধা শিশু সাগর মিয়ার দেহ পিটুনিতে নেতিয়ে পড়ার যে চিত্র বুধবারে দেশের সব মাধ্যমে হয়েছে, তা পাষন্ড হৃদয়কেও বেদনাহত করতে বাধ্য। আমাদের মনে পড়ে তারই সমবয়সী শিশু সিলেটের রাজনের কথা। সবজি বিক্রেতা এই শিশুটিকে চুরির অপবাদ দিয়ে  একই পন্থায় হত্যা করা হয়েছিল ২০১৫ সালের ৮ জুলাই। তাতে সারা দেশ তোলপাড় হয়েছিল। প্রশাসন বাধ্য হয়েছিল ঘাতকদের বিচারের কাঠগড়ায় তুলতে।

 স্থানীয় একটি হ্যাচারির লোকজন পানির মোটর চুরির অপবাদে তাকে আটক করে মালিকের নির্দেশে তার কর্মচারিরা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেদম প্রহার করে। এক পর্যায়ে শিশুটি মারা গেলে তার লাশ গুমের চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট লোকজন। হ্যাচারিতে হতভাগ্য শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানোর সময় ধারে কাছের লোকজন তা উপভোগ করেছে। কেউ কেউ তাদের মোবাইল ক্যামেরায় সে নির্দয় নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেছে। কিন্তু তার বুক ফাটা আর্তনাদে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। আমরা রাজনের পর দেখেছি খুলনায় শিশু রাকিব সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো বেশ কিছু শিশু-কিশোর অনুরূপ নৃশংসতার শিকার হয়েছে।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে মানবিকতার উৎকর্ষ সাধন দূরে থাক, স্বাভাবিক বিবেচনা বোধও হারিয়ে ফেলে মানুষ শিশু-কিশোরকে হত্যা করছে। দেশের আইন হাতে তুলে নেওয়া বিকৃত মস্তিস্কের কিছু মানুষের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এর আগের ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার সত্ত্বেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব ঘটনার ঘাতকরা যদি বিন্দুমাত্র ছাড় বা অনুকম্পা পায়, সেটা হবে মানবতার জন্য গ্লানিকর ও অপমানজনক। আমরা সাগর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক দ্রুত শাস্তির দাবি করছি। 

এই বিভাগের আরো খবর

শিশু নির্যাতন

সমাজে নানান কারণে নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে শিশুরা। বড়দের নিষ্ঠুরতার কাছে ছোটরা সবচেয়ে অসহায়। সেই নিষ্ঠুরতা অনেক সময় বাবা-মার কাছ থেকেও আসে, বাইরের মানুষ থেকেও আসে। তারা নির্যাতিত হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। সার্বিক বিবেচনায় ঘরে-বাইরে কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। শিশু নির্যাতনের বিচার হয় না বলেই একের পর এক বাড়ছে ঘটনা।

শিশুদের প্রতি শারীরিক নির্যাতন বন্ধে কাজ করছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের নেতৃবৃন্দ বলছেন, শিশুর প্রতি শারীরিক নির্যাতনের যে চিত্র পাওয়া যায় তা অত্যন্ত ভয়াবহ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসের নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮৯২টি শিশু। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৫৮৯টি শিশু সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

 যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৪১টি শিশু অপমৃত্যুর শিকার। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৮৬ শিশু। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী গত বছর ৬৪শিশু বাবা-মার হাতে খুন হয়েছে। সে হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে ৫ শিশু এ নির্মমতার শিকার হচ্ছে। যদিও সমাজের নৈতিকতার অবক্ষয় শিশু নির্যাতনের প্রধান কারণ, কিন্তু এসবের প্রতিকারের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অতি প্রয়োজনীয়।

দেশে নারী-শিশু নির্যাতন আইনকে দ্রুত বিচার আইনের প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। দ্রুত অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচারাধীন করার জন্যই এটা করা। কিন্তু এসব অপরাধ বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত আসতেই নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব বাধা দূর করার ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সরকার, গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে যতœবান হবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

উল্টো পথের যাত্রীদের অর্থদন্ড

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে উল্টো পথে চলা গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা উল্টোপথে গাড়ি চালান তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তৃতীয় দিনের মঙ্গলবারও ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ রাজধানীতে উল্টোপথে গাড়ি আটকানো অভিযান চালায়। এতে ৫৩টি মোটর সাইকেল সহ বিভিন্ন ধরনের ৫৯টি যানবাহন পুলিশের হাতে আটকা পড়ে। মঙ্গলবার উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে এবার এক জ্যেষ্ঠ সচিবের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশের এক কর্তাও ধরা খেয়েছেন। এদের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ও পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি উল্টোপথে আসায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর আগে রোববার ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে গাড়ি নিয়ে আসায় প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সচিব, পুলিশসহ অর্ধ শতাধিক গাড়ির মালিক বা চালককে জরিমানা করা হয়েছিল। তারা নির্ধারিত পথ ধরেননি, যানজট এড়াতে অপেক্ষাকৃত ফাঁকা বিপরীত দিক দিয়ে চলতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছেন। এভাবে আইন লঙ্ঘন হয়তো তারা নিয়মিতই করে থাকেন। ট্রাফিক বিভাগ বিষয়টি উপেক্ষা করে কিংবা সেটা করতে বাধ্য হয়। কারা আইন লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তি দিতে গিয়ে কোন বিপদে পড়তে হয়, সেটা নিয়ে সদা ভয়। একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বা পুলিশ সদস্যের কতটা বুকের পাটা থাকে যে তিনি বা তারা একজন প্রতিমন্ত্রী, সচিব বা পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি আটকাবেন। বাধ্য হয়ে তারা চোখ ঘুরিয়ে নেন। দুদক চেয়ারম্যানের উৎসাহে তারা রোববার এই সাহস দেখিয়েছেন।

 পুলিশের দায়িত্ব বেআইনি কাজ নিয়ন্ত্রণ করা, সেটি যে-ই করুক। পুলিশের সেই অবস্থানই নিশ্চিত করতে হবে। এ অভিযানটি যেন শুরুতেই শেষ হয়ে না যায়। এটা যেন নিয়মিত চলুক ট্রাফিক আইন নিশ্চিত করার অভিযান। তবে তাদেরও আশ্বস্ত করতে হবে যেন সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো পুলিশ সদস্যই কোনো ধরনের অসুবিধায় পড়বেন না। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী যে-ই হোক না কেনো তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের অভিযান স্থায়ী করতে পারলে রাজধানী যানজটমুক্ত হবে – এটা জোর দিয়ে বলা যায়।

এই বিভাগের আরো খবর

রাখাইনে বিপন্ন মানবতা

রাখাইন রাজ্যে চলছে হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন-অগ্নিসংযোগ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতায় যখন বিপন্ন সেখানকার রোহিঙ্গা জীবন, ঠিক তখনই তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে অন্য এক মানবিক বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের মুখে খাবার জুটলে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকেও আমরা খাওয়াতে পারব। প্রয়োজনে ভাগাভাগি করে খাব। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নতুন করে এ দেশে আসা শুরু হয় গত ২৫ আগস্ট থেকে।

রোহিঙ্গা আসার এই ঢল অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশে তখন আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা হবে ১৫ লাখের মতো। ইউএনএইচসি আরের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক। সেখানে সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের সংখ্যা ২৯ লাখ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আশ্রয়দাতা পাকিস্তানে আছে ১৪ লাখ শরণার্থী।

 জাতিসংঘের দুটি সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে। এ সংস্থা দুটির একটি জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিএইচআর। অন্যটি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম। এ ছাড়া বাংলাদেশে এবার শরণার্থীদের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ হাজার সন্তান সম্ভাবনা নারী রয়েছেন। তাদের সন্তানরা পৃথিবীতে এ সংখ্যা ১৫ লাখ স্পর্শ করবে। এর ফলে বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থীর দেশে পরিণত হবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ কামাল বলেন, মানবিক কারণেই আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। নিজেদের অর্থায়নেই শুরু হয় ত্রাণ তৎপরতা। তবে বিদেশ থেকেও সহায়তা এসেছে এবং আসা প্রক্রিয়াধীন। মিয়ানমার নিজেদের জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে- এমনটিই প্রত্যাশিত।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top