রাত ১১:৪৬, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বিশ্বের প্রথম জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২১) এ খাতে সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে সরকার। দেশে পরিবেশগত সুশাসন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় বিনিয়োগ খুবই কম। এ কারণে বিশাল উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার (সিআইপি)’ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দেশে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অধিকতর অর্থায়নের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অর্থনতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়ায় বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা দায়ী নই।

বিশ্বের পাঁচটি বড় দেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল ও ভারত ৫৫ শতাংশ কার্বণ নিঃসরণ করে। অথচ এসবের ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা’। ‘জলবায়ু ঝুঁকি এখন ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। আমরা এখন দেখি, উড়োজাহাজে ভ্রমণে জার্কিং বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পরে উড়োজাহাজের সিটে বসে থাকতে পারবো না’। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘সরকার এমন সব নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে সকলের জন্য প্রকৃত প্রস্তাবেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। আমরা আশা করি যে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সঠিক ও অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্প নির্বাচনে এই কৌশলগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা সহায়ক হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নীতিগত উদ্দেশ্য সফলভাবে অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে’। ‘পরিবেশ বিপর্যয় শুধু আমাদের একার সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এককভাবে মোকাবেলা সম্ভব নয়, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএইডের মিশন ডিরেক্টর জেনিনা জেরুজালস্কি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ডেভিড ডুলান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

ভিন্ন আঙ্গিকে এবারের বাণিজ্য মেলা, পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি

আর ২৫ দিন পরেই শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ ২০১৮। এবারের মেলাকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে আর সে লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে প্রস্তুতি চলছে। ভিন্নতা আনতে এবং দর্শনার্থীদের কাছে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করতে এবারের মেলায় ফিশ ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম প্রদর্শন করা হবে। শিশুদের জন্য থাকবে পার্ক, গেমিং জোন ও খেলার উপকরণ। তবে সবচেয়ে আকর্ষণ থাকবে মূল ফটকে। এবারের মেলার মূল ফটকে তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

বৃহস্পতিবার  রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অস্থায়ী মেলা প্রাঙ্গনে গেলে আয়োজকরা জানান, আগামী বছরের ০১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন।

সে লক্ষ্যে আগামী ২৭ ডিসেম্বরের আগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণে বরাদ্দ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছে। নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে চারপাশ টিনশেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকরা কেউ মাটি কাটছেন, কেউ ইট নিচ্ছেন আবার কেউ চাল নির্মাণে ব্যস্ত। মূল ফটক ছাড়া সকল স্টলের কাজ শুরু হয়েছে। আয়োজকরা জানান, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে দৃষ্টিনন্দন ১৪টি বাগান, তিনটি রেস্তোরাঁ,  ইকোপার্ক, শিশুপার্ক, পর্যাপ্ত টয়লেট, এটিএম বুথ, মসজিদ, প্রতিবন্ধীদের জন্য অটিজম সেন্টার, মাদার কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ইত্যাদি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, মেলায় ১৪ ক্যাটাগরিতে দেশ-বিদেশের ৫২০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে    থাকছে ৬৪টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৩৬টি মিনি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ১৭টি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, ২৫টি মিনি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, চারটি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ছয়টি মিনি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ২৭টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন এবং ৮টি মিনি বিদেশি প্যাভিলিয়ন।

এছাড়া ৬৭টি প্রিমিয়ার স্টল, ১৮টি বিদেশি স্টল, ২৬০টি সাধারণ স্টল ও ২৪টি ফুড স্টল থাকবে। মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমস্ত এলাকা সিসি টিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। দর্শনার্থীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এবারের মেলা সফল হবে। গত বছরের তুলনায় এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল ফটকে দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ভিন্ন কিছু করতে যাচ্ছি, যা দেখে দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যাবে। আশা করছি, তারা পুরো মেলা দারুণ উপভোগ করবেন’। ‘আমরা দ্রুত কাজ করার জন্য বলেছি। ২৭ ডিসেম্বরের আগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে’।

 

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

অনিয়ম ও দুর্নীতির দশ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী দুই বছর কোনো ধরনের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের এই নির্দেশ বুধবার সকালে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “দেওয়ান মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করেছিল। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বোর্ড সভায় পরিচালকদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।”

সব মিলিয়ে দশটি গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়ালের এমডিকে অপসারেণের এই নির্দেশ দিয়েছে বলে শুভঙ্কর সাহা জানান।

বিস্তারিত আসছে

 

বড় বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি ব্যবসায়ীরা: বাণিজ্যমন্ত্রী

সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, সৌরপ্যানেল এবং সার কারখানায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সফররত সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করে।

সৌদি আরবের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপের নির্বাহী সভাপতি মোসহাবাব আব্দুল্লাহ আলখাতানির নেতৃত্বে সোমবার ঢাকায় আসা ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি বুধবার এফবিসিআই আয়োজিত একটি বাণিজ্য সেমিনারেও অংশ নেবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, আমরা আশা করি এর মধ্য দিয়ে অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন চে¤॥^ার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সৌদি ব্যবসায়ীদের ভালো সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী মুহিতও। সৌদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কোম্পানির সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সচিবালয়ের বৈঠকে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দুই মন্ত্রী। তোফায়েল বলেন, আমরা একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, সৌদি আরব চাইলে যেকোনো একটি অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশে যারা বিনিয়োগ করবে তাদের যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় আমরা তা অবশ্যই পূরণ করব। আমরা বলেছি সকল ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করব। বাংলাদেশ আটটি খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যাল, লেদার, পাট, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, হিমায়িত পণ্য খাতে আমরা বিনিয়োগ করছি। ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা মিটিয়ে ১২৭টি দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর শুধু চামড়াজাত পণ্য, পাট ও চা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হত জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা সাতশর বেশি পণ্য রপ্তানি করি, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আমরা রপ্তানি করি। শুধু সৌদি আরবের ব্যবসায়ী নয়, অন্য দেশের ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে কীভাবে বেশি লাভবান হতে পারেন সেই পন্থাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কেউ যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাহলে লাভবান হবে। কারণ আমরা এখনও এলডিসিভুক্ত দেশ। আমরা বেশিরভাগ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাই। এখানে বিনিয়োগ করে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাবেন। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

আমাদের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক ঘাটতি আছে। কিছুটা বাধা থাকলেও প্রায় সবাই কোনো জটিলতা ছাড়াই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে সৌদি ব্যবসায়ীদের জানান তিনি। ২০০৯ সালে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল জানিয়ে মুহিত বলেন, এই সম্যসা সমাধানে সরকার ক্র্যাশ গ্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। এখন বেসরকারি কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদান করছে, আমরা তাদের নিশ্চয়তা দিয়েছি আমরা তাদের বিদ্যুৎ কিনব। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেটা খুব বেশি স্ট্র্যাকচারড না, একটু ইন্ডিভিজুয়াল এফোর্টের উপর নির্ভরশীল ছিল।

আমাদের প্রত্যাশা ছিল ইট সুড বি স্ট্র্যাকচারড। রপ্তানি করার মত বাংলাদেশের অনেক পণ্য থাকলেও সেগুলো নিয়ে খুব প্রচার হয় না বলে জানান একজন সৌদি ব্যবসায়ী। এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, আমাদের পরিচিতি সিম্পল গার্মেন্টস দিয়ে। কিন্তু এখন আমরা এতভাবে ডাইভারসিফাইড হয়েছি যে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথেষ্ট এক্সপোর্ট ক্যাপাবিলিটি আছে। সেদিক দিয়ে এটি উল্লেখযোগ্য ভিজিট হয়েছে বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশ এখন ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন, সেটার ফলও আমরা পাচ্ছি। ২০১৫ সালের পর যে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা, এটা খুবই কাজের হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের মত ছিল, গত অর্থ বছরে এটা দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি মুভমেন্ট অব এফডিআর বাংলাদেশে বেশ কার্যকর হচ্ছে। সৌদি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপের নির্বাহী সভাপতি মোসহাবাব আব্দুল্লাহ আলখাতানি এ ধরনের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রতিনিধিদলে যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন তারা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন বলেও জানান তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে সৌদি আরবে, বিপরীতে আমদানি করেছে ৬০৫ দশমিক চার মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

 

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে চালের দাম

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: রাজধানীর বাজারে এসেছে নতুন চাল। ধান পাওয়া যাচ্ছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা মণ দরে। এ দামে ধান কিনে লাভসহ সব খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি চালের দাম ৪৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। ফলে চালের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল তা এখন কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে এর উল্টো। রাজধানীর বাজারে সব ধরনের চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। ৪৫ টাকা কেজি দরে চাল মেলা তো দূরের কথা, কিছু কিছু চালের দাম ৭০ টাকাও ছাড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু মিল-মালিক কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম নিজেই কাছে এমন অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে এখন নতুন চাল এসেছে। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এখন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ দামে ধান কিনে, সেই ধানের চালের দাম সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকায়। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের এমন বাড়তি দাম। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকায়। নাজির সাইলের দাম বেড়ে ৭০ টাকা ছুঁয়েছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত। নতুন চাল আসার পরও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। রামপুরা বাজারে চাল কিনতে আসা গৃহিনী হালিমা বেগম বলেন, একের পর এক জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে।

তার প্রশ্ন, এখন কেন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা হবে? এখন আবার চালের দাম বেড়েছে। অথচ নতুন ধান উঠেছে। বাজারেও নতুন চাল এসেছে। তাই চালের দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তো দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। চালের দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের মেসার্স আল্লাহর দান রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, বাজারে নতুন চাল এসেছে। কিন্তু গত চার-পাঁচদিনে চালের দাম দু’দফা বেড়েছে। কোনো কোনো ব্যাপারি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ টাকা করে দু’দফায় ১০০ টাকা, আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা করে দু’দফায় ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিনিকেট, মোটা সব ধরনের চাল আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, যারা চাল বানায় অর্থাৎ মিলাররা যদি দাম না কমায় তাহলে দাম বাড়তেই থাকবে। এখন সিজন, এ সময়ও ৬৫-৬৬ টাকায় চাল বিক্রির অর্থ আমরা মিল-মালিকরা চালের দাম কমাচ্ছি না। আর আমরা যে দাম কমাচ্ছি না এর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী তাও বুঝতে পারছি না। ‘আমরা ব্যবসা করার জন্য এসেছি। যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেন, তারা যদি বসে থাকেন, আমি তো সুযোগ নেবই। আমি এক টাকার জিনিস ২০ টাকা ধরব’- বলেন খোরশেদ আলম। তিনি আরও বলেন, চালের ব্যবসা ১৫ থেকে ২০ জনের দখলে চলে গেছে।

কয়েকজন ব্যাংক থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এখন তারা এ সিজনে কম দামে ধান কিনছেন। কারও কারও প্রত্যেক জেলায় গোডাউন আছে। ধান কিনে গোডাউনে মজুদ করছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান-কমান। চালারে দাম কমানোর উপায় হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের উচিত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে, এখনই আমদানি করা। এখন চাল আমদানি করলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। ভারতে যে চালের দাম ৪৫ টাকা হয়েছিল, এখন তা ৩৫-৩৬ টাকায় পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এ দেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল না কিনে আমদানি করে তা হলে তিন লাখ টন চাল ব্যবসায়ীদের হাতেই থাকবে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩৯ টাকা দিয়ে চাল কিনে গোডাউনে নিলে আবার বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে। ৩৯ টাকা দরে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে আমদানি করলে কেজিতে সরকারের তিন টাকা করে খরচ কম হবে- যোগ করেন এ মিল-মালিক নেতা।

 

চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৫৭ শতাংশ সঞ্চয়পত্র বিক্রি

বিনিয়োগে খরা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, ব্যাংক আমানতের সুদহার কম ও পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতাসহ নানা কারণে এখন সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্য ধরেছিল, তার ৫৭ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে প্রথম চার মাসেই। জাতীয় সঞ্চয় পরিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (জুলাই- অক্টোবর-১৭) প্রথম চার মাসের সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। চার মাসের একত্রিত হিসেবে বছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। আর চার মাসে মোট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ অর্জন হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এ দিকে চলতি অর্থবছরের একক মাস হিসেবে অক্টোবরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট আয় হয়েছে ৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে এটি ছিল ৪ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। জানা গেছে, আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধের পর যে পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকে তাকে বলা হয় নিট বিনিয়োগ। তাই বিনিয়োগের ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতিমাসে মুনাফা দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। ব্যবসা-বাণিজ্যও তেমন ভালো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে চলছে বিনিয়োগ মন্দা। ফলে ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পাহাড় জমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়েই আমানতে সুদহার কমিয়েছে। অন্যদিকে এখন সঞ্চয়পত্রে সুদহার ব্যাংকের চেয়ে বেশি। যার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। তবে সঞ্চয়পত্রের এ ঋণের টাকা সরকারকে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন এ অর্থনীতি বিশ্লেষক। তা না হলে এই ঋণ বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে হবে। সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

চালের দাম ৪০ টাকার মধ্যে আনার চেষ্টা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

চালের দাম কমিয়ে কেজিপ্রতি ৪০ টাকার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, শেষ ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে শুধু এই বছরেই আমরা খাদ্য সমস্যায় পড়েছি। অসময়ের বন্যার কারণে এবার ফসলের ক্ষতি হয়েছে, চালের দাম বেড়ে গেছে। আমরা এটাকে কমিয়ে ৪০ টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি। আগাম বন্যায় হাওলে ফসলহানির পর এপ্রিল-মে থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে কোরবানির ঈদের পর কয়েক দিনে চালের দাম বাড়ে অস্বাভাবিকভাবে। সরু চালের দাম খুচরায় কেজিপ্রতি ৭০ টাকা পর্যন্ত ওঠে, সমানতালে বাড়তে থাকে মোটা চালের দামও। এই প্রেক্ষাপটে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে চালকল মালিক, আমদানিকারক, আড়ৎদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বৈঠক হয়। এতে সরকার ব্যবসায়ীদের কয়েকটি দাবি মেনে নিলে মিল মালিকরা চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কমানোর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি চাল আমদানির শর্ত শিথিল হওয়ায় ভারত, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকে চাল আমদানিও শুরু হয়।

এতে মোটা চালের দাম কিছুটা কমে এলেও চিকন চালের দামে এখন পর্যন্ত তেমন একটা হেরফের হয়নি। চালের দাম কমানোর বিষয়টিকে সরকার খুব গুরুত্বে সঙ্গে নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ইতোমধ্যে চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো চালের দাম কমাচ্ছে। আমরা বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। ‘অ্যাচিভিং এসজিডিস: এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ) আয়োজিত পলিসি ডায়ালগে মন্ত্রী বলেন, এক দশক ধরে আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে রয়েছে। আর শেষ তিন বছরে আমরা ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। ২০০৯ সলে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার সময় আমরা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে চাঙা করার নীতি গ্রহণ করি, যাতে বাজারে পণ্য সরবরাহ কমে না যায়। এ নীতি অবলম্বন করে আমরা দারুণ সফলতা পেয়েছি। মুহিত বলেন, বাংলাদেশে ৩০ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমায় রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন করা আমাদের প্রধান পলিসি। শেষ আট বছরে আর প্রতিবছরই এক শতাংশ করে কমিয়েছি। আমার ধারণা, আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারব। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭৮ সাল থেকে ৩২টি প্রকল্পে বাংলাদেশে ইফাদ সরাসরি ৭১ কোটি ৭২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর উপকার ভোগ করেছে ১ কোটি ৭ লাখ পরিবার। বর্তমানে ইফাদ বাস্তবায়নাধীন ছয়টি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, বাজার ও অর্থ প্রবাহে অভিগম্যতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় জীবিকার সন্ধানে সহযোগিতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ এগোচ্ছে। বিনিয়োগে ইফাদের সহযোগীদের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, নেদারল্যান্ডস সরকার, স্পেন সরকার, জার্মানির কেএফডব্লিউ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, কোরিয়া, নোরাড, ড্যানিডা, ইউএসএইড এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও দেশি এনজিও রয়েছে।

 

স্বর্ণের দাম বাড়লো ভরিতে ১৪০০ টাকা

করতোয়া ডেস্ক : দুই দফায় কমার দুইমাস পর আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে বাড়ছে এক হাজার ৪শ’ টাকা। আজ রোববার থেকে ভরিপ্রতি ৫শ’ ৮৩ টাকা থেকে এক হাজার ৪শ’ টাকা পর্যন্ত বাড়ছে অলংকার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এ ধাতুর দাম।

শনিবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ মূল্য সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে বাজুস। এর আগে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিলো চলতি বছরের ২০ ও ২৫ সেপ্টেম্বর।

বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, সবচেয়ে ভালোমানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হবে ৪৯ হাজার ২২২ টাকায়।

 শনিবার পর্যন্ত এ মানের স্বর্ণের ভরিপ্রতি বিক্রিমূল্য ছিল ৪৭ হাজার ৮২২  টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে এ মানের স্বর্ণের দাম বেড়েছে এক হাজার ৪শ’ টাকা। পরবর্তী দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ভরিপ্রতি বিক্রি হবে ৪৭ হাজার ৬ টাকায়। শনিবার পর্যন্ত এ মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রিমূল্য ছিলো ৪৫ হাজার ৭২৩ টাকা। ভরিপ্রতি বেড়েছে এক হাজার ২৮৩ টাকা। আর ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ এক হাজার ১৬৬ টাকা বেড়ে ভরিপ্রতি বিক্রি দর দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪০৭ টাকা। বর্তমানে এ মানের স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম রয়েছে ৪০ হাজার ২৪১ টাকা।

আন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরিপ্রতি ২৫ হাজার ৩৬৯ টাকার বদলে রোববার থেকে বিক্রি হবে ২৫ হাজার ৯৫২ টাকায়। অর্থাৎ ভরিতে বেড়েছে ৫৮৩ টাকা।
এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রূপার দাম। ২১ ক্যাডমিয়ামের প্রতি ভরি রুপার বিক্রিমূল্য এক হাজার ৫০ টাকা।

 

আয়কর মেলা শুরু করদাতারা কর দিয়ে গৌরববোধ করে

স্টাফ রিপোর্টার: করদাতারা কর দিয়ে গৌরববোধ করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো.নজিবুর রহমান। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার কচিকাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে আয়কর সপ্তাহ-২০১৭ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।কর অঞ্চল-৪ এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে করে।নজিবুর রহমান বলেন, করদাতারা কর দিয়ে গৌরববোধ করে। তারা  শার্টের কলারে হাত দিয়ে বলে আমি কিন্তু কর দেই। তাই বলতে চাই, করদাতারা করদাতা হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এটা রাজস্ব বোর্ডের একটি সফলতা।  আমরা চাই করদাতা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে। আগে মানুষ করজালে আসতে চাইতো না কারণ করদাতা মনে করতো একবার করজালে আবদ্ধ হলে আর বের হওয়া যাবে না।

 কিন্তু করদাতাদের মধ্যে এই ভ্রান্ত ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন, বাংলাদেশে কর ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। এটি অনেক কিছুর নির্দেশক। এটি নির্দেশ করে উন্নয়নের সাথে কর ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কর ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে দেশ উন্নত হতে পারে না। সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে স্বচ্ছভাবে কর আরোপের মাধ্যমে সম্পদ বাড়ানো এবং সেই সম্পদ জনগণের কাজে ব্যয় করা হয়। তিনি আরও বলেন, কর দেওয়া ও কর নেওয়ার মধ্যে সম্মানের বিষয় জড়িত।

 এতে তৃপ্তির বিষয় রয়েছে। দেশের উন্নয়নে আমার দায়িত্ব আছে, যা আইন দ্বারা স্বীকৃত। করদাতারা নিজেকে অপরের কাছে করদাতা হিসেবে পরিচয় দিতে সাচ্ছ্যন্দবোধ করে। এছাড়া  দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এর মধ্যে ২০৩০ এসডিজি, সেখানে আমাদের বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং উন্নত দেশকে অতিক্রম করার একটা প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। এর জন্য আমাদের রাজস্ব প্রয়োজন। কারণ রাজস্ব হলো উন্নয়নের অক্সিজেন যেটা  এনবিআরের স্লোগান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, এনবিআর এর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, কর অঞ্চল-৪ এর কমিশনার রাধেশ্যাম রায় প্রমুখ।
 

 

রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৯০ টাকা কেজি সবজির দামও চড়া

স্টাফ রিপোর্টার: বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসা সত্বেও আবারও দাম বেড়েছে। রাজধানীতে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। পাশাপাশি বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। গত সপ্তাহে বেশকিছু সবজির কেজি ৩০ টাকায় নেমে আসলেও আজ ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ চৌধুরী পাড়া এবং খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।


ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুতে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার পর মাঝে কিছুটা কমেছিল। কিন্তু আজ আবার হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। মূলত আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রভাবে দেশি পেঁয়াজের দামও বেশ বেড়েছে। শুক্রবার খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা কেজি দরে, যা একদিন আগে বৃহস্পতিবারও বিক্রি হয়েছে ৭০-৭৫ টাকায়। আর এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। অপরদিকে আমাদানি করা পেঁয়াজের দাম এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা কেজি।

 যা বৃহস্পতিবার ছিল ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা। রামপুরা মোল্লাবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহিম বলেন, হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৬৫ টাকা কেজি। আজ আড়ত থেকেই মাল আনতে হয়েছে ৮০ টাকা কেজি দরে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে ৭৫ টাকায় চলে এসেছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রভাবে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। তবে বাজারে দেশি বা আমদানি কোন ধরণের পেঁয়াজেরই কমতি নেই। ব্যবসায়ী আরও বলেন, এখন পেঁয়াজের দাম কমার কথা। কারণ কিছুদিন পরেই বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলে পেঁয়াজের দাম না কমে বরং বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়া ঠিক না। এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি ফুলকপি, বাধাকপি, শিম, লাউ এখন বাজারে ভরপুর। সঙ্গে ঝিঙা, পটল, করলা, ঢেঁড়স, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, শাল গম, পাঁকা ও কাঁচা টমেটা সবকিছুর সরবরাহই রয়েছে পর্যাপ্ত।

এরপরও প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে পাঁকা টমেটো। প্রতি কেজি পাঁকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। সে হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। তবে কাঁচা টমেটো গত সপ্তাহের মতোই ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে শিম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। বেগুনের দাম ৪০- ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

আর পটল গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় নেমে আসলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে মুলা আগের মতোই ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাল গম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আর ৩০ টাকায় নেমে আসা ধুন্দলের কেজি আবার বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় আরও রয়েছে ঝিঙে, চিচিঙ্গা,ঢেঁড়স, লাউও। গত সপ্তাহে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ঝিঙে-চিচিঙ্গা দাম বেড়ে হেয়েছে ৫৫-৬০ টাকা। আর ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া ঢেঁড়সের দাম এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। আর ৩০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। তবে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে করলা।

 এ সবজিটির কেজি ৪০-৪৫ টাকা। আর ৩০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপি ও বাধাকপি আজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী মো. জামান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরণের সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে গাজরের কেজি বিক্রি করেছি ৮০ টাকা, আজ বিক্রি করতে হচ্ছে ১০০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা শিমের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। পটলের দাম আবার ৫০ টাকায় চলে এসেছে। এ ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে এখন সব ধরনের সবজি ভরপুর। আড়তে কোনো সবজির অভাব নেই। কিন্তু এরপরও সেখানে দাম চড়া।

আর বেশি দামে কিনে আনার কারণে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমার হিসেব মতে এখন কোনো সবজির দাম ৩০ টাকারও বেশি হওয়ার কথা না। কিন্তু বাজারে আজ কোনো সবজিই ৪০ টাকার নিচে পাবেন না। সবজির দাম বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে শাকের বাজার। লাল শাক ও সবুজ শাক আগের সপ্তাহের মতোই ৫ থেকে ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। পুঁই শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়, মুলা শাক ৫ টাকা, পালন শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া স্থিতিশীল রয়েছে মুরগির মাংসের বাজারও। সাদা ব্রয়লার মুরগি বিক্রি গত সপ্তাহের মতোই ১২০-১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

বিদ্যুতের দাম বাড়ল ৫.৩ শতাংশ

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়িয়েছে সরকার; এর ফলে প্রতি মাসে বাড়তি টাকা গুণতে হবে ভোক্তাদের। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বৃহস্পতিবার বিইআরসি বলেছে, নতুন এ হার কার্যকর হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে।

দাম বাড়ানো হয়েছে কেবল খুচরা পর্যায়ে; পাইকারিতে বিতরণ কেন্দ্রেগুলোর জন্য বিদ্যুতের দাম তাতে বাড়ছে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত আটবার বাড়ানোর হল বিদ্যুতের দাম।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুতের দাম গড়ে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়িয়েছিল সরকার। তাতে মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের খরচ বাড়ে ২০ টাকা; ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে খরচ বাড়ে কমপক্ষে ৩০ টাকা।

চলতি বছর মার্চে বিভিন্ন খাতে গ‌্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছিলেন, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম বাড়ায় বিদ্যুতের দামও সমন্বয় করা প্রয়োজন।

এরপর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত সেপ্টেম্বরে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে শুনানির আয়োজন করে। সেখানে পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব আসে।

এর মধ্যে ডিপিডিসি গ্রাহক পর্যায়ে ৬.২৪ শতাংশ, ডেসকো ৬.৩৪ শতাংশ, ওজোপাডিকো ১০.৩৬ শতাংশ, আরইবি ১০.৭৫ শতাংশ এবং পিডিবি ১৪.৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, গণশুনানি করার পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানাতে হয়।

এবারও শুনানিতে বিতরণ সংস্থাগুলোর দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয় ভোক্তাদের পক্ষ থেকে। ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে দাম কমানোর একটি প্রস্তাব নিয়েও শুনানি হয়।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে হরতাল দিয়ে তার প্রতিবাদ জানানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল বাম দলগুলো। কিন্তু তারপরও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এল।

বিইআরসির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ দাম বাড়ানো হলেও বিদ্যুতের ন্যূনতম চার্জ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে মাসে ৫০ ইউনিটের কম ব্যবহার করেন এমন প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের (মোট গ্রাহকের ১৩ শতাংশ) বিদ্যুৎ বিল কমবে।

এই দাম বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রায় ৬০ লাখ গ্রাহকের ( মোট গ্রাহকের ৩৮ শতাংশ) মাসিক বিল মোটেও বৃদ্ধি পাবে না বলেও বিইআরসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

বিস্তারিত আসছে

খাদ্য উৎপাদন কমেছে সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন

আগাম বন্যার কারণে গত অর্থবছর দেশে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ নয় লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন কমেছে বলে জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আউশ, আমন ও বোরো ধান এবং গম, ভুট্টা ও আলুর উৎপাদনের হিসাব তুলে ধরেন।

মোজাম্মেল জানান, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৮৮ লাখ মেট্রিক টন আউশ ধান উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ২১ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টনে নেমে আসে।

তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমন উৎপাদন বেড়েছে। এই অর্থবছরে ১৩৬ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন আমন উৎপাদন হয়েছে, যা আগের অর্থবছর ছিল ১৩৪ দশমিক ৮৩ লাখ মেট্রিক টন।

আগাম বন্যায় এবার বোরো ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান বিবিএস সচিব। মার্চ থেকে মে- এই তিন মাস বাংলাদেশে বোরোর চাষ হয়। গত অর্থবছর এই মৌসুমে ১৮৯ দশমিক ৩৭ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছিল। আর এবার বন্যার কারণে তা কমে হয়েছে ১৮০ দশমিক ১৩ লাখ মেট্রিক টন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে গম উৎপাদনও আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৬ হাজার মেট্রিক টন কমেছে বলে জানান মোজাম্মেল হক। তবে গত অর্থবছর আলুর উৎপাদন বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে ৯৪ দশমিক ৭৪ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল, সেখানে ২০১৬-১৭ সময়ে হয়েছে ১০২ দশমিক ১৫ লাখ মেট্রিক টন।

বেড়েছে ভুট্টার উৎপাদনও। আগের অর্থবছরের ২৪ দশমিক ৫৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে হয়েছে ২৭ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। পরিকল্পনা মন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বোরো ধানের উৎপাদন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সার্বিকভাবে খাদ্য উৎপাদন কমে গেছে।

খাদ্য পণ্যের উৎপাদন কমলেও গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হিসাব করতে খাদ্য পণ্যের বাইরেও অন্যান্য কৃষি পণ্যের হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

 

বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্ক ত্রিমাত্রিক: তথ্যমন্ত্রী

 বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এখন ‘ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক’ বিরাজমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘চীনা ও বাংলাদেশিদের ক্যামেরায় সুন্দর মুহূর্ত: আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও চীনা চলচ্চিত্র সপ্তাহ’ এর উদ্বোধনী আসরে এসে এ কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক হাজার বছরের পুরনো। দুই দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যেও সম্পর্কের সেতু বন্ধন রচিত হয়েছে। তাই বলা যায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন ত্রিমাত্রিক। চীন যখন দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন পন্থা অবল¤॥^ন করতে যাচ্ছে, তখন সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশও কাজে লাগাতে পারে বলে মন্তব্য করেন জাসদ একাংশের সভাপতি ইনু। বাংলাদেশ ও চীনের পর্যটক, সৌখিন ও পেশাদার আলোকচিত্রীদের পাশাপাশি দুই দেশের দূতাবাস কর্মকর্তাদের তোলা ছবি নিয়ে সাজানো হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এতে উঠে এসেছে দুই দেশের ভূপ্রকৃতি আর মানুষের জীবনযাপনের গল্প। উন্নয়নমূলক নানা কর্মকান্ডের পাশাপাশি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে নারী ও শিশুদের সামাজিক অবস্থানের কথাও। ইনু বলেন, ছবি সবসময় সঠিক কথা বলে। ইতিহাসকে সঠিকভাবে চিত্রায়িত করে, এতে লুকোছাপার কিছু নেই। এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী দুদেশের জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করে দেবে। বাংলাদেশের চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে চীন আন্তর্জাতিক বেতার-সিআরআই, চীনা চলচ্চিত্র মহাফেজখানা, বাংলাদেশে প্রবাসী চীনাদের সংস্থা। সহযোগিতায় ছিল সিআরআই, এসএমএফ কনফুসিয়াস ক্লাসরুম ও চায়না ডটকম।

 

রোহিঙ্গাদের কারণে বাজেটে চাপ খুব বেশি হবে না: মুহিত

রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে বলে মন্তব্য করলেও এই কারণে আগামী বাজেটে চাপ ‘খুব বেশি’ হবে না বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সোমবার সচিবালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন তিনি।

আগামী বাজেটে রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রভাব ফেলবে কি না- এই প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন,রোহিঙ্গা ডিপার্টমেন্টস যা চাচ্ছে, আমরা তাই দিচ্ছি, তবে প্রেসার খুব বেশি হবে না। তবে বাজেটের উপর চাপ না পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যে খরচাপাতি হচ্ছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। আমার বাজেট হেস্তনেস্ত হয়ে যাবে, সে রকম হয়ত হবে না। রোহিঙ্গাদের জন্য এডিবির কাছে সহায়তা চাওয়া হবে বলে জানান মুহিত।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হ্যাঁ, আমরা অফকোর্স চাইব। আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে চেয়েছি। এডিবির যেটা হল, আমাদের যে নরমাল কোটা তার থেকে বের হয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের প্রজেক্ট বানাতে হবে। আগামী বাজেটের একটা সম্ভাব্য অঙ্ক নিয়ে পরিকল্পনা করতে সচিবকে বলা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বর্তমান অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট হবে আগামী বছর। মুহিত ওই বাজেটের আকার ৫ লাখ কোটি টাকায় নেওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই দেখছেন। মন্ত্রণালয়গুলোর কী পরিমাণ চাহিদা থাকতে পারে, তা সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন মুহিত।

 

রফতানির পরিবেশ তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের ৩৬৫৬ কোটি টাকা ঋণ

বিদেশে রফতানি ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দু’টি প্রকল্পের আওতায় ৪৫ দশমিক ৫৭ কোটি ডলারের এ ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতি ডলার সমান ৮০ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় আসবে প্রায়  ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। রোববার বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে এ সংক্রান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি)  সচিব কাজী শফিকুল আযম ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থাটির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ইআরডি ও বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দু’টি প্রকল্পের আওতায় পৃথক পৃথক ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জব’ প্রকল্পের আওতায় ১০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। তৈরি পোশাক, রফতানি সম্ভাবনাময় চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা সামগ্রী, প্লাস্টিক, পাদুকা ও ইলেকট্রিক পণ্য রফতানির পথের সমস্যা দূর করা হবে এ ঋণে।  দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের আন্তর্জাতিক নতুন বাজারে প্রবেশেও সহায়তা করবে। ফলে দেশে প্রচুর পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি কর্মসূচি বিশেষ করে টেকনোলজি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে কারিগরি ও শ্রম দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

অটোমেটেড কম্পিউটার নিউমেরিকাল কন্ট্রোল (সিএনসি) মেশিন, ডিজাইন ও প্যাটার্ন মেকিং ইত্যাদির প্রতিবন্ধকতাও দূর করবে। অন্যদিকে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি’ প্রকল্পের আওতায় ৩৫ দশমিক ৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অবকাঠামোর উন্নয়নে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাব প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পটির আওতায় অর্থায়নের যোগ্য খাতগুলো হলো-  বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ, বন্দর নির্মাণ, শিল্পপার্কের উন্নয়ন, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, পানি সরবরাহ,  শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা , আইসিটিসহ অন্যান্য সামাজিক খাত। বিশ্বব্যাংকের ঋণের অর্থ ছয় বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক শূর্ন দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

রাজধানীর বাজারে অস্থির পেঁয়াজ, কেজি ৮০ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজারে উঠেছে শীতের সবজি। মাসের প্রথম সপ্তাহেই যার সুফল পাচ্ছেন ক্রেতারা। প্রতি কেজি সবজিতে কমেছে ৫-১০ টাকা। মাসের সামনের সপ্তাহগুলোতে এ দাম আরো কমবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে সবজির বাজার স্থিতিশীলতার দিকে এগোলেও এখনও অস্থির পেঁয়াজের দর। একই অবস্থা আদার দরে। পেঁয়াজের লাগামহীন দামে অস্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। সবশেষ খুচরা বাজারের তথ্যানুযায়ী, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা, আমদানি পেঁয়াজ ৬০ টাকা ও আদা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও আজিমপুর কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য জানা যায়।

সবজির খুচরা বাজারের তথ্যানুযায়ী, প্রতিকেজি ধনিয়াপাতা ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, সিম ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি আলু ২৫ টাকা (পুরান), শসা ৫০ টাকা ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। পেঁয়াজের ‘অস্থিরতা’র বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, সাধারণত এ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজের চাষ শুরু হয়ে যায়। ফলে বীজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য পেঁয়াজ ক্ষেতে চলে যায়। এতে বাজারে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়। যার কারণে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আমদানি কমে যাওয়ায় এতো দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

 নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের পেঁয়াজের খুচরা বিক্রেতা মিলন বলেন, নতুন পেঁয়াজ উঠে গেলে বাজারে দাম কমে যাবে। কিন্তু এবার উল্লেখযোগ্য হারে আমদানি কমে যাওয়ায় দাম নিন্মমুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম। সবজির দাম কমার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তাই দাম কমছে। আশা করা যায় আগামী সপ্তাহে সবজির দাম আরও কমবে। আজিমপুর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা নাসির বাংলানিউজকে বলেন, শীতকাল হলো সবজির রাজা। উৎপাদন বেশি হওয়ায় দামও কম থাকে। অন্যদিকে স্থিতিশীল রয়েছে চালের বাজার। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৭০ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৫০-৫৫ টাকা এবং স্বর্ণা ও পারিজা ও ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। সবশেষ খুচরা বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি দেশী রসুন ৮০ টাকা, আমদানি রসুন ৮৫ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০ টাকা, আমদানি ডাল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে প্রতি কেজি বোয়াল ২৮০ টাকা, কাতল ১৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১২৫ টাকা, রুই মাছ ২০০-৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০-৬৫০ টাকা (আকারভেদে) দরে বিক্রি হচ্ছে। মিলছি বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ। মাংসের বাজারও রয়েছে গত সপ্তাহের দরে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কর্ক ১৫০-২২০ টাকা (আকারভেদে-পিস) পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের হার ২২.৫০ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এই সরকার সম্পূর্ণভাবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত। সরকার যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ দেশের উন্নয়ন হবে। দেশের দারিদ্র্য দূর হবে। আমাদের উন্নয়নের একমাত্র লক্ষ্যমাত্রা হলো দারিদ্র্য দূর করা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আমরা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি। ২০২৪ সালের পর দেশে কোনও দারিদ্র্য থাকবে না।

রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উন্নয়ন মেলা-২০১৭ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। পল¬ী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান কাজি খলীকুজ্জমান আহমদ। বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ এর এমডি আব্দুল করিম। আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ছয় দিন এই মেলা চলবে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। এখন সেটাকে আমরা নামিয়ে এনেছি ২২.৫০% শতাংশে। এটা আমাদের কৃতিত্বের বিষয়। তবে এটাতে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। কারণ এখনও এই দেশে তিন কোটি দরিদ্র মানুষ রয়েছে। এই তিন কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। শুধুই প্রত্যাশা নয়, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হবে। বাংলাদেশ একদিন সমৃদ্ধশালী দেশ হবে।

 

মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগে আকিজ গ্রুপকে অনুমতি দিয়েছে সরকার

বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপকে মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে সরকার। বিদেশে বিনিয়োগে বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তারা দাবি জানিয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আকিজ গ্রুপের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পায়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়াতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কমিটি এটি অনুমোদন করেছে, কমিটি পজিটিভলিই এটি দেখেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আকিজকে অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাবটি এসেছিল। আকিজ গ্রুপকে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি কোনো পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, একটি প্রস্তাবই এসেছিল, যেভাবে প্রস্তাব এসেছে সেভাবেই অ্যাপ্রুভ হয়েছে। আকিজ জুট মিলস মালয়েশিয়ায় দুটি কোম্পানি অধিগ্রহণ করার জন্য ২ কোটি ডলার বিদেশে নিতে চায় বলে এর আগে গণমাধ্যমে খবর এসেছিল।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চাওয়া হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক-১ আহমেদ জামালকে প্রধান করে ‘বাংলাদেশি উদ্যোক্তা কর্তৃক বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)’ গঠন করা হয়। ওই কমিটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করে সম্প্রতি আকিজ গ্রুপ কর্তৃক মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

তবে এর সঙ্গে ১৩টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল। ১৯৪৭ সালের ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশনের বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইনে সামান্য পরিবর্তন করে বিদেশে বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করা হয়। তবে বাছাই করা কয়েকটি কোম্পানিই বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। এই সুযোগ অবাধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। মুদ্রা পাচার ঠেকাতেও বিদেশে বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে। এক সময় তামাকপণ্য উৎপাদনকারী আকিজ তাদের ব্যবসার পরিসর অনেক বাড়িয়ে এখন বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের শিল্প গ্রুপ। ১৫টি শিল্প খাতে বিস্তৃত তাদের কারখানাগুলোয় মোট কর্মীর সংখ্যা ৩২ হাজার।

বিদেশি সাহায্যনির্ভর না হওয়ার পরামর্শ মুহিতের

 টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল না থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ কাজে লাগাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের স্টিয়ারিং কমিটির চতুর্দশ সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।

সভার শুরুতে সভাপতির বক্তৃতায় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভাল করায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণেই বাংলাদেশের পক্ষে তা সম্ভব হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কেবল বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের দেশের সম্পদের ব্যবহারে উদ্যোগী হতে হবে। মুহিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য যে টেকসই উন্নয়নমাত্রা ঠিক কার হয়েছে তা অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং সমন্বিত। সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটা সবচেয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিলিয়ন ডলার খরচ ও বৈদেশিক সাহায্যের বিষয় বলা আছে। আমাদের সীমিত অভিজ্ঞতা দিয়েও আমরা জানি, বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়া বেশ জটিল। সে কারণে বিভিন্ন দেশ নিজেদের সম্পদ দিয়ে বেশ ভাল কাজ করেছে। এমনকি তারা এমডিজির প্রত্যাশিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি অগ্রগতি দেখাতে সক্ষম হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, গতানুগতিকতার বাইরে এসে উদ্যোগী হতে হয়। নিজস্ব ইচ্ছাশক্তিকেও কাজে লাগাতে হবে। কেনিয়ার নাইরোবিতে গ্লোবাল পার্টনারশিপের গত সভার প্রসঙ্গ টেনে মুহিত বলেন, আগের সভায় আমরা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ছয়টি অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছিলাম। সেগুলোর অগ্রগতি এবার জানা যাবে।

সভায় জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মহাপরিচালক দমিনিক শিলার বলেন, গ্লোবাল পার্টনার ও স্টিয়ারিং কমিটির মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বয় তৈরি করার ক্ষেত্রে এই সভা ভূমিকা রাখবে। আমি চাইব, দেড় দিনের এ সভায় আমরা কেবল সারাংশে পড়ে না থেকে বিস্তারিত আলোচনার দিকে যাব। উগান্ডার অর্থ, পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হারুনা ক্যাসোলো কিয়েউন বলেন, এসডিজি উচ্চাকাঙ্ক্ষী, তা ঠিক। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা অর্জনে আমাদের উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে। দক্ষিণের দেশগুলোকে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীর বাজারে সবজিসহ নিত্য পণ্যের দাম অস্থিতিশীল

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। অধিকাংশ সবজিরই কেজিপ্রতি দাম ৬০ টাকার ওপরে। গতকাল শুক্রবার  কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা ও মূলা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট (২০০/২৫০ গ্রাম) ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ টাকা এবং লাল শাক ও ডাটা শাকের আঁটি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ৫০ টাকা ও ১০০ গ্রাম ধনেপাতা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, ‘সব কিছুর দাম বেশি। এতো দাম দিয়ে কি কেনা যায়! পেঁপের দামটাই একটু কম আছে। এজন্য দুই কেজি পেঁপে কিনে নিয়েছি’। সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ মুহসীন বলেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, সে অনুসারে বিক্রি করি। আড়তে সবজির পাইকারি দাম বেশি’। এক-দেড় মাসের মধ্যে শীতকালীন শাক-সবজি আসতে শুরু করলে দাম কমে যাবে বলে আশা করেন এ বিক্রেতা। চরা বাজারে মরিচের সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে এবার বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

পাইকারি ও খুচরা বাজারে সমানভাবে দাম বেড়েছে এ দুই পণ্যের। কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১৫-২০ টাকা ও আদায় বেড়েছে ২০ টাকা। তরকারির নিত্যসঙ্গী এ দু’টি পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ পড়ছে ক্রেতার। ডিমের দাম হালিতে তিন টাকা ও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে সামান্য বেড়েছে। তবে চাল, ডাল ও রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।  বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। তবে সেজন্য কয়েকদিন অপো করতেই হবে।

মিরপুর-৬ নম্বরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ কিনতেই মুখ বেজার হচ্ছে ক্রেতাদের।   এ বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, ভারতের পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি আদা ১৬০ টাকা ও ভারতের আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে।

পাইকারিতে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেওএক সপ্তাহ আগে দেশি আদার কেজি ১৪০ টাকা ও আমদানি করা ভারতের আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়।    ক্রেতা মিরপুরের আনোয়ার হোসেন বলেন, মরিচের দাম বাড়ছে। এখন যদি পেঁয়াজেরও দাম বাড়ে, তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে। পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, দেশি রসুনের কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 ভারতের বড় রসুনের কেজি ১৪০ টাকা। এ দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে।অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি মসুর ডাল ১০০ টাকা, মোটা চাল ৫০ টাকা ও চিকন চাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে। মুরগি বিক্রেতা স্বপন জানান, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ বধানে বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

ছবি: ইসমাইল হোসেন  টাকা, দেশি কক ৩৫০-৪০০ টাকা ও পাকিস্তানি কক ২০০ টাকা। ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে প্রতি সপ্তাহেই এ দাম হেরফের হয়ে থাকে বলেও জানান স্বপন। ব্রয়লার মুরগির সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে ডিমের দামও। ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন জানান, ডিমের হালি ২৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  গরুর মাংস ৪৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা ও কাতল মাছ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এ বাজারে।

 

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের ‘সহায়তা নেবে’ বাংলাদেশ

মিয়ানমারে থেকে আসা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই সহায়তার পরিমাণ ও ধরণ কী হবে- তা ঠিক হবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বুধবার বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিন বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

 তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিশ্ব ব্যাংকও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে চায়, সহায়তা করতে চায়।

“আমরা তদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা কী পরিমাণ সহায়তা দেবে, সে সহায়তার কতোটা অনুদান হবে; কতোটা  ঋণ হবে, না পুরোটাই ঋণ হবে তা তা আমরা দুপক্ষ বসে ঠিক করব।”

মুহিত জানান, শিগগিরই বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে যাবে। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি -আইডিএ ‘রিফিউজি ফান্ড’ নামে নতুন একটি তহবিল গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের সহায়তা দেওয়া।

এই তহবিলের আকার ২০০ কোটি ডলার। যে কোনো দেশ প্রয়োজনে সেখান থেকে তিন বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিতে পারে। তবে সেজন্য সুদ দিতে হয়। মোট অর্থের একটি অংশ বিশ্ব ব্যাংক অনুদান হিসেবেও দিতে পারে।  

বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান চিমিয়াও ফান গত ২৭ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তহবিল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ঋণ দেওয়ার বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন।

অর্থমন্ত্রী মুহিত সে সময় বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা সহায়তা করছে। বাংলাদেশ আশা করে, বিশ্ব ব্যাংকও সেখাবে সহায়তা দেবে, ঋণ নয়।

বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের সহায়তার ব্যাপারে তারা খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।… বাংলাদেশ এই তহবিলের কী পরিমাণ পাবে; শর্ত কী হবে সেসব বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে।”

বিশ্ব ব্যাংক সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা  বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমরা সম্মান জানাই এবং প্রশংসা করি। আমরা বাংলাদেশের সহায়তার জন্য যা করা সম্ভব তার পুরোটাই করব। আমাদের একটি রিফিউজি সহায়তা উইনডো আছে; সেখান থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে ‘যৌক্তিক বিবেচনার’ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পরে বিশ্ব ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার সামাল দিতে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংক এই সঙ্কটে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছে।

ওই সহায়তার পরিমাণ কী হবে তা এখনও নির্ধারণ করা না হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং সড়ক অবকাঠামোর মত বিষয় এর আওতায় আসতে পারে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

অ্যানেট ডিক্সনকে উদ্ধৃত করে সেখানে বলা হয়, “আমরা আশা করব, রোহিঙ্গারা শিগগিরই তাদের দেশে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু তার আগে তাদের জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। এ জন্য যা করা সম্ভব তার সবই আমরা করব।”

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত দেড় মাসে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের সহায়তায় জোর তৎপরতা চালাচ্ছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দাতা ও উন্নয়ন সংস্থা।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য বিশ্ব ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সমালোচনা হবে কিনা- এমন প্রশ্নে মুহিত  বলেন, “যে সহায়তা তারা দেবে সেটা অনুদান না ঋণ- তা তো এখনও ঠিক হয়নি। আর যদি ঋণ নিয়ে আমরা রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেই, তাতে দোষ কী? আমরা তো মানবতার জন্য এই কাজ করছি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি…। যারা সমালোচনা করবে তারা রাবিশ।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের এই সহায়তার কিছু অংশ যদি ঋণও হয়, তার সুদের হার হবে ‘খুবই সামান্য’। এটা নিয়ে ‘বিচলিত হওয়ার মত কিছু’ তিনি দেখছেন না।

সম্মেলনের প্রথম দিন

বিশ্ব আর্থিক খাতের এই দুই মোড়লের ছয় দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন শেষ হবে ১৬ অক্টোবর। সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে; যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।

সম্মেলনের প্রথম দিন বেশ ব্যস্ত সময় কেটেছে মুহিতের। বিশ্ব ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ছাড়াও আইএমএফের ডিএমডি মিতসুহিরো ফুরুসাওয়া এবং বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা এমআইজিএ-এর ডিএমডি কিকো হোন্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

 

এসডিজি অর্জনে সহায়তা না পেলেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: মুহিত

করতোয়া ডেস্ক: বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা না পেলেও অভ্যন্তরীণ তহবিল গঠন করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাশের একটি হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়নের পথে এমডিজির শিক্ষা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জনে যে ধরনের অর্থ সহায়তা প্রয়োজন, তা পাবার কোনোই সম্ভাবনা নেই। তাই বলে কি আমরা থেমে থাকবো? নিশ্চয়ই না। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তহবিল গঠনের বহুবিধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছি। সামগ্রিক উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি। অভূতপূর্ব সাড়াও পাচ্ছি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের কাছে থেকে। তবে এসডিজি অর্জনে অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতার প্রকাশ ঘটছে জানিয়ে মুহিত বলেন, এসডিজি অর্জনে এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একজন প্রধান মুখ্য সমন্বয়ক কাজ করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগিতায় মিলেনিয়াম হিল্টন হোটেলের ডিপ্লোমেট বলরুমে এই সেমিনারের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ‘দি ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্ননেন্স (আইপ্যাগ)। স্বাগত বক্তব্য আইপ্যাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনীর খসরু বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সফলতার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হলে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ঘনিষ্ট সহযোগিতা তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে ইউএনডিপির প্রশাসক ও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ম্যাগডি মার্টিনেজ-সুলিমান বলেন, এমডিজি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে সাফল্য প্রদর্শন করেছে, তা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ, এমডিজির সাফল্য ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য এসডিজির চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ এবং এসডিজি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে উন্নয়ন অর্থনীতির ভূমিকা নিয়ে সেমিনারটিকে চারটি অধিবেশনে ভাগ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক, গবেষণাবিদ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ও বিশ্বের ১৬ জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব সেশনগুলোতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল থেকে প্যানেল আলোচক ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ও ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম।

ভবন ভাঙতে আরও ৭ মাস পেল বিজিএমইএ

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বেআইনিভাবে নির্মিত ১৬ তলা বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে পোশাক রপ্তানিকারকদের এই সংগঠনকে আরও সাত মাস সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

ভবন ভাঙার জন্য আরও এক বছর সময় চেয়ে বিজিএমইএর করা আবেদনের শুনানি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বিভাগ রোববার এ আদেশ দেয়।

রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর গত মার্চে বিজিএমইএর আবেদনে আপিল বিভাগ ছয় মাস সময় দিয়েছিল, যা শেষ হয় ১২ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকেই নতুন করে সাত মাস গণনা শুরু হবে।  

শুনানিতে বিজিএমইএর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, “এটাই শেষ সুযোগ। এরপর আর সময় চাইবেন না। এর মধ্যে যা করার করবেন।”

আদালতে বিজিএমইএ-এর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী। অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ মামলায় হাই কোর্টে অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করা মনজিল মোরসেদও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।  

জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলেছিল হাই কোর্ট। ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে। পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

রায়ের পর কার্যালয় সরিয়ে নিতে বিজিএমইএ তিন বছর সময় চাইলেও আপিল বিভাগ তাদের ছয় মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ করতে বলে। সেই ছয় মাস সময় শেষ হওয়ার আগে আগে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ২৩ অগাস্ট আবেদন করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সে সময় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেই আমরা চলে যাব। তবে নতুন ভবন সম্পন্ন হতে আরও এক বছর সময় লাগবে।”

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজধানীর উত্তরার ১৭ নাম্বার সেক্টরে অর্ধেক মূল্যে সাড়ে ৫ বিঘা বিজিএমইএকে বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ৭ সেপ্টেম্বর টাকা পরিশোধ করে সেই জমির দলিল বুঝে পেয়েছে বিজিএমইএ।

 

ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি

তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আরও সাড়ে চারশ কোটি ডলার ঋণ নিতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ, রেলপখ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দরসহ অবকাঠামো খাতে ১৭টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাস্তাবয়ন করবে বাংলাদেশ।

প্রথম দুটি লাইন অব ক্রেডিটের মত এবারও এই ঋণের জন্য বছরে ১ শতাংশ হারে সুদে দিতে হবে বাংলাদেশকে। ঋণ শোধে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর সময় পাওয়া যাবে।

বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তার আগে তারা বৈঠকও করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শফিকুল আযম এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকে (এক্সিম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাসকিনহা এই চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অরুণ জেটলি বলেন, গত সাত বছরে বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধি পেয়েছ। আর্থসামাজিক দিক দিয়ে ব্যাপকেউন্নয়ন করেছে।

“আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে আগেও পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। তারই ধারাবাহিকতায় এই বড় অংকের ঋণচুক্তি।” আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ভালো। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল। আগামীতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি।”

চলতি বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য এই সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় অর্থমন্ত্রীর এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হল।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে একশ কোটি ডলার ঋণ দেয় ভারত। ওই ঋণের আওতায় নেওয়া ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ১২টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান।  

আর ২০১৬ সালে দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটে ভারত থেকে পাওয়া দুইশ কোটি ডলারের আওতায় নেওয়া ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছন তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ১১৩৮ কোটি ডলারের  ঋণচুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে ভারতের এই তৃতীয় এলওসি হচ্ছে বাংলাদেশের করা দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণ চুক্তি।

ভারতের অর্থমন্ত্রী এই সফরে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ ও ভারতীয় হাই কমিশন এই বক্তৃতার আয়োজন করেছে।

 

অরুণ জেটলি ঢাকায়

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ভারতের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছান ভারতীয় অর্থমন্ত্রী। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

বিমানবন্দর থেকে অরুণ জেটলিকে নিয়ে যাওয়া হয় সোনারগাঁও হোটেলে। এই সফরে তিনি সেখানেই থাকবেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় হোটেলেই এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের অর্থমন্ত্রীর।

ভারতের অর্থ সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সফরে অরুণ জেটলির সঙ্গে রয়েছে।

এই সফরে তৃতীয় দফায় বাংলাদেশকে ভারতের ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হবে বলে সোমবার ভারতীয় দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার দুই অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তৃতীয় দফার এই ঋণচুক্তি বাস্তবায়নে ‘ডলার লাইন অব ক্রেডিট’ চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই চুক্তি হলে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার পাওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষার জন্য দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ‘যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটও স্বাক্ষরিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ভারতের অর্থমন্ত্রী এই সফরে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ ও ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে ‘ভারত সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ’ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

এছাড়া দুই অর্থমন্ত্রী যৌথভাবে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ‘ক্যাশলেস ভিসা সার্ভিস’ পরিচালনার নতুন সেবা এবং এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঢাকা কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন।

এর বাইরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন অরুণ জেটলি ।

 

চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিতে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়

লাইসেন্স ছাড়া যারা চাল ও গমের ব্যবসা করছেন তাদেরকে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে যেসব ব্যবসায়ী লাইসেন্স নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) এবং অঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (আরসি ফুড) নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

সচিবালয়ে সোমবার মাঠ পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খাদ্য কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে নোটিস জারি করবেন। আমরা ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করতে চাই না। এছাড়া কোন ব্যবসায়ী কতটুকু চাল ও গম মজুদ রেখেছেন তা নীতিমালা অনুসারে ১৫ দিন পর পর সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কামরুল বলেন, ১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব অ্যাসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী এক মেট্রিক টনের বেশি চাল ও গমের ব্যবসা যারা করেন খাদ্য অধিদপ্তর থেকে তাদের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের আরসি ফুড ও ডিসি ফুডরা অজ্ঞতার কারণেই হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক, এতদিন এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন না, এই আইনটি তারা কার্যকর করেনি।

ওই আইন অনুযায়ী মিলারের পাশাপাশি আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদেরও (যারা এক টনের বেশি চাল-গমের ব্যবসা করেন) খাদ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। কামরুল জানান, আইন অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে একজন ব্যবসায়ী ৩০০ মেট্রিক টন ধান ও চাল ৩০ দিন পর্যন্ত মজুদ রাখতে পারবেন। ৩০ দিনের মধ্যে এই মজুদ বিক্রি না হলে রিপোর্ট করে জানাতে হবে। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল ও গমের ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স না নিলে জেলা প্রশাসক, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা অন্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স আছে জানিয়ে কামরুল বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরকে বেশিরভাগ সময় তারা ইগনোর করেন। কিন্তু কন্ট্রোল অব অ্যাসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী অন্যান্য দপ্তরের লাইসেন্স থাকার পরও (চাল-গমের ব্যবসা করলে) আমাদের দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। চাল ও গম ব্যবসায়ীদের মজুদ শস্যের পাক্ষিক হিসাব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে দিতে হবে, এটা আইনে বলা আছে কিন্তু তারা সেটা করেন না। মজুদের পাক্ষিক হিসাব না দিলে এই আইনে তিন বছরের জেলসহ জরিমানার বিধান আছে। লাইসেন্স নিতে হবে এবং আমাদের পরিষ্কার পাক্ষিক হিসাব দিতে হবে। মিলার ও আড়তদাররা চালের দাম বাড়িয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করেছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ চাল বিভিন্ন গোডউনে ছিল, এখনও আছে।

আমি তাদের নাম বলতে চাই না। এরাই বিভিন্ন সময়ে সিন্ডিকেট করে তেলের দাম, চিনির দাম বাড়ায়। খবর পেয়েছি বিভিন্ন গোডাউনে তাদের এক লাখ, দুই লাখ, তিন লাখ বস্তা চাল মজুদ রয়েছে। আমাদের কাছ থেকে তারা লাইসেন্সও নিচ্ছে না। কামরুল বলেন, অকাল বন্যার সুযোগ নিয়ে একটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল, ইনশাআল্লাহ আমরা সেই সংকট মোকাবেলা করতে সফলতার সাথে সক্ষম হয়েছি, সংকট সৃষ্টিকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। এই গোষ্ঠী যাতে আর কোনো দিন সংকট অবস্থা সৃষ্টি করতে না পারে, অপতৎপরতা না চালাতে পারে এজন্য আমরা আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়েছি। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ তাদের শনাক্ত করে তারা ব্যবস্থা নেবে। এক মাস পর আমন আসবে, কোনো সমস্যা আমাদের নেই। আমরা আমন সংগ্রহ করতে পারব। মজুদ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে, আর কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 

প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় বাংলাদেশের ৭ ধাপ অগ্রগতি

বিশ্বে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশকে আরও সাত ধাপ এগিয়ে এনেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। তাদের ‘গ্লোবাল কমপেটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৭-১৮’ বলছে, এবার ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ৯৯তম অবস্থানে। আগের বছর এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ১০৬ এ পৌঁছেছিল।

চলতি বছরের শুরুতে চালানো জরিপের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বুধবার বিশ্বব্যাপী একযোগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দাভোস ফোরাম নামে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থা ২০০১ সাল থেকে এ প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে।

 

একটি দেশের অবস্থান বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পণ্য বাজারের দক্ষতা, শ্রম বাজারের দক্ষতা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, বাজারের আকার; বাজারের সংবেদনশীলতা এবং নতুন ধারণার প্রবর্তন- এই ১২টি মানদণ্ড ব্যবহার করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।

 

সব মিলিয়ে এবার বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ৩ দশমিক ৯, যা গতবছর ৩ দশমিক ৮ ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের স্কোর ৩ দশমিক ৮ ছিল। তার আগের তিন বছর ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭, ৩ দশমিক ৭ ও ৩ দশমিক ৬।  

সূচকের ১২টি মানদণ্ডের ভেতরে এবার প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, বাজারের আকার; বাজারের সংবেদনশীলতা এবং নতুন ধারণার প্রবর্তন- এই নয়টিতে বাংলাদেশের স্কোর বেড়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা, পণ্য বাজারের দক্ষতা, শ্রম বাজারের দক্ষতা মানদণ্ডে স্কোর হয়েছে গতবারের সমান। কোনো মানদণ্ডেই এবার বাংলাদেশের অবনতি হয়নি।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যসায়ীরা দুর্নীতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দক্ষ কর্মীর অভাবকেই বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গতবারের মত এবারও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সূচকে শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, তাদের স্কোর ৫ দশমিক ৮৬। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, হংকং, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ফিনল্যান্ড।

এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল পাকিস্তান ছাড়া সবাই আছে বাংলাদেশের উপরে।

এক ধাপ পেছালেও ভারতের অবস্থান এবার রয়েছে ৪০ নম্বরে। ভুটান ৯৭ থেকে উঠে এসেছে ৮২ নম্বরে। শ্রীলঙ্কা ৭১ থেকে পিছিয়ে ৮৬ তম অবস্থানে চলে গেছে। নেপাল ৯৮ থেকে এগিয়ে ৮৬তম অবস্থানে এসেছে। আর পাকিস্তান ১২২ থেকে উঠে এসেছে ১১৫ নম্বরে।   

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবার মোটামুটি ভালো করলেও তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামোর উন্নয়ন এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

 

২০২৪ সালের মধ্যেই দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, জাতিসংঘ নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে বলে তিনি আশা করছেন। নাগরিকদের আয়কর দিতে উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু আমার হিসাব অনুযায়ী, আমরা ২০২৪ সালের মধ্যেই দারিদ্র্যমুক্ত হব।

মুহিত বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত মানে এই নয় যে দেশে তখন কোনো লোক গরিব থাকবে না। তখনও প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ দরিদ্র থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচনে এখন বাজেটে বরাদ্দ হয় জিডিপির ২ শতাংশের মত। সেটাকে আমরা অনবরত বাড়িয়ে যাচ্ছি। মিরপুর শপিং কমপ্লেক্সের কনভেশন সেন্টারে ‘আয়কর ক্যাম্প ও করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সরকারের লক্ষ্য পূরণে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনাদের সহায়তা না হলে রাষ্ট্রটা সামনে এগোবে না। আপনারা যদি রাষ্ট্রের জন্য রসদ সরবাহ না করেন, কর না দেন, শুল্ক না দেন, মূসক না দেন তাহলে রাষ্ট্র আপনাদের কাছে সেবা পৌঁছাবে কীভাবে? চলতি অর্থবছর রেকর্ড চার লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া মুহিত আগামী অর্থবছরে সাড়ে চার লাখ বা তার কিছু বেশি টাকার বাজেট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।

সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ অনুষ্ঠানে বলেন, যারা কর ও রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের জন্য এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। এটা আরও কঠিন করা উচিৎ। আমরা যদি বেছে বেছে পাঁচ কোটি লোকের হিসাব অনলাইনে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যেই এটা সোনার বাংলা হয়ে যাবে। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, দেশে এখন রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি চালু হয়েছে, রাজস্ব সেবা ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের মানুষ কর দিচ্ছে বলেই সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের মত বড় প্রকল্প নিতে পারছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, এবার আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর আয়কর মেলা, ২৪ নভেম্বর থেকে আয়কর সপ্তাহ এবং ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস উদযাপন করা হবে।

চালের পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম কমছে

চাল মজুতে নজরদারিসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পর খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে এখন চালের সংকট নেই। বেশি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা আগেই চাল কিনে ফেলায় পাইকারি বাজারে চাল বিক্রি কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। দাম আরও কমে যাবে। এক সপ্তাহ আগে মোটা চালের দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৫০ টাকা এবং সরু চালের দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত ওঠার পর সরকারের তিন মন্ত্রী মিলে চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের এক সপ্তাহ পর সোমবার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে চালের বাজারে ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক খবর মিলেছে।

পাইকারি বাজারে চিকন চালের দাম পাঁচ টাকা এবং মোটা চালের দামও পাঁচ থেকে সাত টাকা করে কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি সুবিধা বৃদ্ধি, মজুত ও বাজার মনিটরিংয়ের কারণে চালের দাম কমে এসেছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কেনা চাল বিক্রি হয়ে গেলে আরও কমে যাবে। চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিক লায়েক আলী বলেন, মিলে এখন আর চাল বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে কাস্টমার নাই। বিক্রি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, হয়তো বাজারে চালের অভাব নাই। মজুতের সাথে এমন কেউ ছিল যারা চাল বাজারে ছেড়েছে। নিঃসন্দেহে সাপ্লাই বাড়ছে। প্রোডাকশন তো থেমে নেই। মিলে কেনাবেচা নাই। একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি যাতে মজুত না হয় সেজন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে বেশকিছু গুদাম সিলগালা এবং জরিমানা করেছে সরকার।

মজুত রাখার কারণে প্রশাসন উল্টো যেন ব্লেইম না দেয়, সেজন্য হয়তো মিল থেকে ব্যবসায়ীরা চাল কিনছে না বলে মনে করেন লায়েক আলী। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে এখন ৬১ টাকার সরু চাল ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আমদানির জন্য যারা এলসি খুলেছে আগের ৪৪ টাকা থেকে কমে ৪১-৪২ টাকায় এসেছে মোটা চাল। ঈশ্বরদী চাল ব্যবসায়ীদের নেতা খায়রুল ইসলাম জানান, বস্তায় ২০০ টাকা করে দাম কমেছে। কৃত্রিম সংকট ছিল। যখন দাম বাড়ে তখন সবাই কেনে। ভারত থেকে চাল আসবে না- এমন গুজবে দাম বেড়েছিল। এখন আমদানি হবে। সেজন্য দাম কমছে। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা জেলার সভাপতি আইয়ুব বাচ্চু  বলেন, সরকারের সাথে আমাদের মিটিংয়ের পর পাইকারি বাজারে খুব তাড়াতাড়ি দাম চালের দাম কমেছে। খুচরায় কমতে কিছুটা সময় লাগবে, কারণ বেশি দামে কিনে তো লোকসান দেবে না।

তিনি জনান, মোটা চাল বস্তা যেখানে আগে ২৪০০-২৫০০ টাকা ছিল তা কমে ২০০০-২১০০ টাকায় এসেছে। চিকন চালের বস্তা ২৬০০ থেকে কমে হয়েছে ২৪০০ টাকা। মিল থেকে আর এখন কেউ চাল কিনছে না দাবি করে আইয়ুব বাচ্চু বলেন, ১৫ টনের ওপরে মজুত রাখা যাবে না- এ ভয়ে হয়তো চাল কিনছে না। ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকির ভয়ে মজুত করছে না। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারের সাথে বৈঠকের পর এ পর্যন্ত কোনো চাল বিক্রি হয়নি বলে দাবি করেন বাচ্চু। তিনি বলেন, প্রতিদিন ১২০০ বস্তা উৎপাদন ও বিক্রি হলেও সেটা তলানিতে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ওই সভায় প্লাস্টিকের বস্তায় তিন মাস চাল আমদানি ও বিক্রি, বাজার মনিটরিং, আদমানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সারা দেশে ওএমএসের চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। চালের দাম আরও কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাচ্চু।

তিনি বলেন, আমদানিও বেড়ে গেছে। এখনও বাজারে চালের অভাব নাই। আর বাজারে ভর্তি ধান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এবার ধানের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বাজারে নতুন ধান চলে আসবে। ফলে আর কোনো অভাব হবে না। মজুত না হলে আর দাম বাড়বে না বলে মনে করেন আইয়ুব বাচ্চু। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে বিক্রি করা মিরপুর ১১ নম্বরে মেসার্স বেঙ্গল রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম দেওয়ান  বলেন, ৬০ টাকার মিনিকেট ৫৬ টাকা এবং ৫০ টাকার মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়। এখন বেচাকেনা খারাপ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আগে চাল কিনেছে সেগুলো বিক্রি করছে। নতুন কেনা চালে খুচরা বাজারে দাম আরও কমে যাবে।



Go Top