রাত ১১:৫২, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সদ্য প্রয়াত সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শেষ বারের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলোশহরের চশমা হিলের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সেতুমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হৃদয়জুড়ে, অন্তরজুড়ে শুধুই চট্টগ্রাম, এই মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতেন।

আজকে চট্টগ্রামে যে বাঁধভাঙা শোককাতুর মানুষ দেখছি, সেটা থেকেই বোঝা যায় তার প্রতি মানুষে ভালোবাসা কতটা প্রকট। চট্টগ্রাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। আমাদের নেত্রী তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। তিনি বলতেন, আমার স্বপ্ন, আমার ধ্যান, আমার প্রাণ, আমার সবকিছুই

 

কল্যাণপুরে স্যুটকেসের ভিতর থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর দক্ষিণ কল্যাণপুরে স্যুটকেসের ভিতর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাত-পা ও মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে কল্যাণপুর থেকে গাবতলীমুখী সড়কের পাশে স্যুটকেসটি পড়েছিল বলে দারুস সালাম থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান জানান।

ওসি বলেন, সকাল থেকে গাবতলীমুখী পথে সোহরাব পেট্রোল পাম্পের কাছে ব্যাপটিস্ট চার্চের সামনে মূল সড়কের পাশে একটি কালো স্যুটকেসে পড়েছিল। এটি দীর্ঘক্ষণ মালিকবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয় টোকাই স্যুটকেসটি খুলে ভিতরে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায়। দারুস সালাম থানার এসআই এলিস মাহমুদ জানান, স্যুটকেসের ভিতর মরদেহ ছাড়া আর কিছু ছিল না। তিনি বলেন, নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

 

মহাখালীতে বৃদ্ধাকে জবাই করে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মহাখালী আরজতপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে মিলু গোমেজ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া জানান, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাটের ড্রইং রুমের দরজার সামনে থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওই স্থানেই মরদেহটি পড়ে ছিল।’ নিহত বৃদ্ধার স্বামী অনিল গোমেজ ওই বাড়ির মালিক জানিয়ে পুলিশ বলছে, বাড়ির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া থাকলেও বাড়িওয়ালার ফ্ল্যাটে বৃদ্ধ দম্পতি অনিল ও মিলুই থাকতেন।

 পুলিশ পরিদর্শক সেন্টু মিয়া আরও বলেন, সকালে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা পানি না পেয়ে বাড়িওয়ালা অনিল গোমেজের ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিছুক্ষণ পর ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ অনিল দরজা খুলে দিলে ভাড়াটিয়ারা বৃদ্ধার রক্তাক্ত লাশ  দেখতে পান। এর পরেই ভাড়াটিয়ারা পুলিশকে খবর দেয় জানিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বাড়ির কাজে ব্যবহার করা একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙা বা কোনো মালামাল খোয়া যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ বলছে, সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে মিলু গোমেজকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে অনিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ পরিদর্শক সেন্টু মিয়া বলেন, অনিলের শরীরে আঁচড়ের দাগ পাওয়া  গেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

নন্দীগ্রামের বধ্যভূমি অযত্ন অবহেলায়

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : অবহেলা ও অযতেœ পড়ে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বামন গ্রামের বধ্যভূমি। বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, তবুও বামন গ্রামের যুদ্ধকালীন সময়ের নির্মম হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নেয়া হয়নি  কোনো পদক্ষেপ। সংরক্ষণের অভাবে অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে বধ্যভূমি। মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে বামন গ্রামের বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার কোনও লেশ চোখে পড়ে না বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা সদর থেকে কালিগঞ্জ সড়কের সিমলা বাজার পেরিয়েই বামন গ্রাম। উপজেলার একটি মাত্র এই গ্রামের বধ্যভূমি সংস্কার না করায় এলাকার লোকজন খড়ের পালা দিয়ে ঘিরে রেখেছে চারপাশ। সেখানে বাঁধা রয়েছে গরু-ছাগল। গড়ে উঠেছে জঙ্গল। বধ্যভূমির পাশেই সাধারন মানুষের চলাচলের মেঠো পথ। এ কারণে সেখানকার বধ্যভুমির স্মৃতি প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকেই ভূলে গেছেন এই বধ্যভূমির কথা। সরকারিভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা না হলে, মুছে যাবে বধ্যভূমির স্মৃতি- এমন মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন ও মোজাম্মেল হক।

বধ্যভূমির গাছের সাথে অস্পষ্ট একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে, ওই সাইনর্বোড এর তথ্য থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল গভীর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা বামন গ্রামে হানা দেয়। তারা বাড়ি বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বামন গ্রামের সুখ দুঃখ পুকুর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মির্জাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন ভোরে কোলাহল শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি অনেক লোকজনের রক্ত মাখা লাশ গর্তের মধ্যে পড়ে আছে। মর্মান্তিক ঘটনার খবর শুনে বামন গ্রামের সুখ-দুখ পুকুরপাড়ে ছুটে আসেন আশপাশ এলাকার শতশত মানুষ। এই দৃশ্য দেখে প্রায় সকলেরই হৃদয় কেঁপে ওঠে, সকলের চোখের মায়াভরা পানি ঝরে পড়েছিল। একই রাতে উপজেলার হাটকড়ই হিন্দুপাড়ায় হানা দিয়ে সুরেশ চন্দ্র, বুজেশ্বর চন্দ্র, সুরেস প্রামানিক ও অধির চন্দ্রকে হাটকড়ই হাইস্কুল মাঠে গুলি করে হত্যা করে পাক-বাহিনী। পরে তাদের স্থানীয় মহাশ্মশানেই সমাধি করা হয়। সেই জায়গাটি বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

 

ঈশ্বরদী-পাবনা রেলপথে প্রথম পরীক্ষামুলক ট্রেন চলাচল

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : নির্মাণাধীন পাবনা-ঈশ্বরদী রেলপথে প্রথম পরীক্ষামুলক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এনিয়ে উচ্ছসিত পাবনার সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে  ছেড়ে আসা পরীক্ষামূলক ট্রেনটি বেলা পৌনে ১১টায় পাবনা স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় জেলা প্রশাসক রেখা রাণী বালো ট্রেনে আসা রেল কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান।

রেল কর্মকর্তারা জানান, ঘন্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা আসতে পরীক্ষামূলক ট্রেনেটির সময় লেগেছে ৪০ মিনিটের কিছু বেশী। এদিকে ট্রেন পাবনার বাইপাসে এসে পৌঁছার পর সাধারণ মানুষের উচ্ছাসে এক আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই এলাকা দিয়ে চলবে ট্রেন। আর তাই মানুষের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়।

মাজগ্রাম-ঢালারচর রেলপথ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সুবক্তগীন জানান, ঈশ্বরদীর মাজগ্রাম থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার রেলপথ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাবনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ ও আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে আজ পরীক্ষামুলক ট্রেন চালানো হলো। আগামী
জানুয়ারি মাসে পাবনা-ঈশ্বরদী রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী  শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি  দেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই  রেলালাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পাবনারবাসীর প্রাণের দাবি এ  রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত  নেয়। এ সময় নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে রেলপথটি ঈশ্বরদী  থেকে পাবনা হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত  নেওয়া হয়।  সে অনুযায়ী ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটির (একনেক) এর বৈঠকে এ  রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৮২   কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি  পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২৯  কোটি টাকা। ২০১৩ সালে ২  ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা এই  রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করেন।

 



Go Top