সকাল ৮:১২, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে

 বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : বড়াইগ্রামে দুই কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে আব্দুস সোবহান (৩৮) নামে একজন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বনপাড়া-হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়কের রয়না ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সোবহান টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ডোলকাম গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে ও দুর্ঘটনা কবলিত ওয়াল্টন কোম্পানীর গাড়ির হেলপার।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই ননী গোপাল জানান, মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাট থেকে গাজীপুরগামী ওয়াল্টন কোম্পানীর মালামাল পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ঢ ৬২-০০৬২) কে রয়না ফিলিং স্টেশন থেকে মহাসড়কে উঠার সময় প্রাণ আরএফএল কোম্পানীর অপর একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো উ ১১-৩৬৮৩) ধাক্কা দেয়। এতে ওয়াল্টন কোম্পানীর কাভার্ড ভ্যানের হেলপার আব্দুস সোবহান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

চৌহালীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় ১২ জেলের কারাদন্ড, কারেন্ট জালজব্দ

এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : ইলিশ মাছের উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রজনন কেন্দ্র সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ নিধনকারী জেলেদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ অপরাধে ১২ জেলেকে আটক করে তাদের প্রত্যেককে ৭ দিন করে কারাদন্ড এবং ৫ হাজার মিটার আটক জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এসব জেলে এবং ক্যারেন্ট জাল আটক করে।

আদালত জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত গত সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থল ও সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নজুড়ে যমুনায় অভিযান চালায়। এ সময় মাছ ধরা অবস্থায়  গোসাইবাড়ির নুর মোহাম্মদের ছেলে হাসান আলী (২৮), বোয়ালকান্দির শুকুর আলীর ছেলে রেজাউল (৩৩), চারু মিয়ার ছেলে আজিজল (৩৫), চাঁদপুরের আব্দুল হামিদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫), খালেক মিয়া (২০), রুপনাই গ্রামের নেকবরের ছেলে শেখ সাদী (২৪), আয়নালের ছেলে আলম (২৭), দেওয়ানতলার রহমত আলীর ছেলে আশান আলী (৩২), ব্রাক্ষ্মণগ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে  মোহাম্মদ আলী (৩২), কাইয়ুম উদ্দিনের ছেলে ইয়াকুব আলী (৪০), নজরুল ইসলামের ছেলেআবুল কাশেম (৩৫) এবং টাঙ্গালের ইষাপাশার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে আলতাফ আলী (৪০) সহ ৫ হাজার মিটার জাল আটক করা হয়। পরে আটককৃত জেলেদের প্রত্যেককে ৭ দিন করে কারাদন্ড এবং জাল গুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। গত  সোমবার সন্ধ্যায় সাজাপ্রাপ্তদের এনায়েতপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ সময় এনায়েতপুর থানার ওসি তদন্ত মোয়াজ্জেম হোসেন, চৌহালী মৎস্য অধিদফতরের ক্ষেত্র সহকারী শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার ২ মণ ইলিশ মাছ বিভিন্ন মাদ্রসায় ও এতিম খানায় বিতরণ করা হয়।

বড়াইগ্রামে ৯৪৫ পিস ইয়াবাসহ বাসযাত্রী আটক

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : বড়াইগ্রামে ৯৪৫ পিস ইয়াবাসহ শহীদুল ইসলাম (২৬) নামে এক বাসযাত্রীকে আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের লাতুরিয়া এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের একটি ঢাকাগামী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক শহীদুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদরগা সেন্টার পাড়া এলাকার নুর ইসলামের ছেলে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি জিএম শামসুন নুর জানান, গতকাল দুপুর বারোটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাতুরিয়া এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৪৪০০) তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ৯৪৫ পিস ইয়াবাসহ বাসের যাত্রী শহীদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

 

ধর্ষণ করল ছোট ভাই : ২২ দিন পর বড় ভাই আটক

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের এক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ২২ দিন পর ধর্ষকের বড় ভাই চাঁন মিয়া ফকিরকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনায় প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবার দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় (নং (১৯) ৯/১৭) ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ২০০৩ সালের সংশোধনী আইনের ৯ এর ১/৩০ ধারায় তাকে  মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাতে তাকে উপজেলার জামালপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আটককৃত চাঁন মিয়া ওই গ্রামের হরমুজ আলী ফকিরের ছেলে এবং ধর্ষণকারী মো. হাশেম ফকির আটককৃতের ছোট ভাই।

ভিকটিমের দিনমজুর পিতা জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ফুঁসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি হলুদ ক্ষেতে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই হলুদ ক্ষেতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে হাশেমকে তার প্রতিবন্ধী মেয়ের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে ওই ব্যক্তি লাঠি নিয়ে তাড়া করলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। তিনি পরের দিন কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের ২২ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ ধর্ষককে আটক করতে পারেনি।

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান ফারুক মাস্টার বলেন, এ ব্যাপারে ১৫ অক্টোবর স্থানীয় জামালপুর বাজারে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। আর মানববন্ধনের পরপরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দিন তড়িঘড়ি করে ধর্ষকের বড় ভাই চাঁন মিয়া ফকিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে শুধু ধর্ষককে আসামি করা হয়েছে। ধর্ষণ করেছে ছোট ভাই আর ওই কাজের সহযোগী দেখিয়ে বড় ভাইকে আটক করা হলো। এটা খুন বা ডাকাতির মামলা না, যে ওই কাজে সহযোগিতা করবে।      

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলাল উদ্দিন আসামি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভিকটিমের বাবার দায়ের করা মামলায় আটক চাঁন মিয়া ফকিরকে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অপরাধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং  ২০০৩ সালের সংশোধন ৯ এর ১/৩০ ধারায় তাকে মঙ্গলবার গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন মালদ্বীপের মডেল কন্যা রাওধা আত্মহত্যা করেছেন

রাজশাহী প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ভোগ’র মডেল রাউধা আতিফ রাজশাহীতে আত্মহত্যাই করেছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এমন কথায় বলা হয়েছে।  মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এর আগে দু’দফার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল মালদ্বীপের এই মডেল আত্মহত্যা করেছিলেন।

রাজশাহী মহানগর জজ আদালতের পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আসমাউল হক সোমবার সন্ধ্যায় তাদের কাছে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।  দুপুরে তারা সেটি রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত-১ এ উপস্থাপন করেন।

আবুল হাশেম জানান, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। রাউধাকে হত্যা করা হয়েছিল, এমনটিও বলা হয়নি। তাই বাদীপক্ষের আইনজীবী এই প্রতিবেদনে নারাজি দিতে চান। এ জন্য তিনি বিচারক মাহবুবুর রহমানের কাছে সময় প্রার্থনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে আদালত এখনও কোনো আদেশ দেননি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আসমাউল হক জানান, দুই দফার ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও মুঠোফোন পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাউধা আত্মহত্যাই করেছিলেন। এরপরই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এবং প্রতিবেদন দাখিলের আগে এ বিষয়টি রাউধার বাবাকেও অবহিত করা হয়েছে।

আসমাউল হক জানান, প্রেমে ব্যর্থ হয়েই রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন। মালদ্বীপের শাহী গণি নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই যুবক পড়াশোনার জন্য লন্ডনে থাকেন। রাউধার হটসঅ্যাপ থেকে জানা গেছে, শাহীর সঙ্গে রাউধার সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। এ নিয়ে প্রচন্ড রকমের মানসিক চাপে ছিলেন রাউধা। আত্মহত্যার আগের রাতেও শাহীর সঙ্গে রাউধার কথা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে রাউধা আতিফের (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মালদ্বীপের নীলনয়না মেয়ে রাউধা বাংলাদেশে এসেছিলেন পড়তে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মডেলিং করতেন। রাউধার মৃত্যুর দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ শাহমখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। রাউধার লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজশাহীতে দাফন করা হয়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপরে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করেন।
এদিকে রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে গত ১০ তিনি এপ্রিল রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় রাউধার সহপাঠী ভারতের কাশ্মীরের মেয়ে সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়। কিন্তু সিরাতকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গত ১৪ এপ্রিল হত্যা মামলাটি শাহমখদুম থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। এরপর কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয়বারের মতো রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। সে প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন।

তবে মোহাম্মদ আতিফ এখনও দাবি করে আসছেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন। কনকলতা নামে রাজশাহীর এক নারীকে তিনি বিয়েও করেছেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাইনের’ একটি দল রাজশাহীতে এসে রাউধাকে নিয়ে একটি প্রামান্যচিত্র নির্মাণ করেছে।



Go Top