সকাল ৮:১২, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

অনুশীলনের সময় চোট পাওয়ায় মোস্তাফিজ প্রোটিয়াদের বিপক্ষে আর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারছেন না। আর তার পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন টেস্ট সিরিজ খেলে দেশে ফিরে যাওয়া পেসার শফিউল ইসলাম।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম টেস্ট খেলার পর কাঁধের ইনজুরিতে দ্বিতীয় টেস্ট খেলা হয়নি শফিউলের। আর ওয়ানডে দলে না থাকায় দেশে ফিরে আসেন এই পেসার। তবে প্রথম ওয়ানডের আগে অনুশীলনে পা মচকে যাওয়ায় ওয়ানডে সিরিজ আর খেলা হচ্ছে না মোস্তাফিজের। এবার বাঁহাতি এই পেসারের পরিবর্তে দলে যোগ দিচ্ছেন শফিউল ইসলাম

এদিকে দেরি করে দ্বিতীয় ওয়ানডের ভেনু কেপ টাউনে পৌঁছানোয় সোমবার মুস্তাফিজের স্ক্যান করানো সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে ম্যানেজার মিনহাজুল আবেদীন জানান, মঙ্গলবার ডাক্তারের অ্যাপয়েনমেন্ট নেওয়া হবে। এরপর মোস্তাফিজের স্ক্যান করানো হবে। আর ওর জায়গায় শফিউল দলে যোগ দিচ্ছে।

ঊরুর পেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠায় দ্বিতীয় টেস্ট ও প্রথম ওয়ানডেতে খেলতে না পারা তামিম দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলবেন বলেও জানান মিনহাজুল আবেদিন।

বাবরের সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও পাকিস্তানের জয়

দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরির দেখা পেলেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির উপর ভর করেই দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় তুলে নিল পাকিস্তান। আর এতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ীরা।

আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সরফরাজ আহমেদ। ৪০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া পাকিস্তান ১০০ রানে পৌঁছতে না পৌঁছতেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে।

তবে সপ্তম উইকেটে শাদাব খানকে সঙ্গে নিয়ে ১০৯ রানের জুটি গড়েন বাবর আজম। তুলে নেন ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান। আর শাদাব খান ৫২ রানে অপরাজিত থাকলে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রানের সম্মানজনক পুঁজি পায় পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই নিরুশান ডিকওয়ালাকে ফেরান জুনায়েদ খান। এরপর শুরু হয় ব্যাটসম্যানেদের আসা যাওয়া। স্কোর বোর্ডে ৯৩ রান তুলতে ৭ উইকেট হারিয়ে ভেঙে পড়ে লঙ্কানদের টপ অর্ডার। তবে এক প্রান্ত ধরে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন উপুল থারাঙ্গা।

অষ্টম উইকেটে ভেনডারসীকে সঙ্গে নিয়ে ৭৬ রানের জুটি গড়ে লঙ্কানদের জয়ে স্বপ্ন দেখান থারাঙ্গা। কিন্তু রাইসের বলে ২২ রান করা ভেনডারসী আউট হয়ে গেলে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানে খেলতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

ওয়ানডে সিরিজের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কা। এ তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটি অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের লাহোরে। তবে ওই ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফরে না যেতে বোর্ডের কাছে অনুরোধ করেছিল শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ৪০ ক্রিকেটার। কিন্তু তাদের আবেদনে সাড়া না দিয়ে পাকিস্তানে গিয়ে ম্যাচ খেলার কথা জানিয়েছে বোর্ড।

পাকিস্তানে সফর নিয়ে এক বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড জানায়, ‘পাকিস্তানের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার পর, এসএলসি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অক্টোবরের ২৯ তারিখে লাহোরতে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলবে।’

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে শ্রীলঙ্কার সীমিত ওভারের অধিনায়ক উপল থারাঙ্গা এই ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন। এ জন্য টিম ম্যানেজমেন্ট পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব নতুন কারো ওপর দিতে চাইছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য আজ (মঙ্গলবার) দল ঘোষণা করতে পারে শ্রীলঙ্কা।

প্রথমবারের মতো বিপিএলে মালিঙ্গা

দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার কথা ছিল শ্রীলঙ্কার পেসার লাসিথ মালিঙ্গার। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় লিগ স্থগিত হয়েছে এক বছর। ওই সময়ই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে বিপিএলের পঞ্চম আসর। সুযোগ থাকায় বিপিএলের অফার লুফে নিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২৩ উইকেটের মালিক মালিঙ্গা চুক্তি করেছেন রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে। রংপুর রাইডার্সের চেয়ারম্যান মোস্তফা আজাদ মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ক্রিস গেইলকে লিগের শুরু থেকেই পাবে রংপুর রাইডার্স। ফলে বিপিএলের জৌলুস আরও বেড়ে যাবে বলে বিশ্বাস তার।
শ্রীলঙ্কাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাদ দেওয়া মালিঙ্গা প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে যাচ্ছেন। বিদেশী লিগগুলোতে নিয়মিত মুখ মালিঙ্গা। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলছেন দীর্ঘদিন। পাশাপাশি ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সে ও জ্যামাইকান তলাওয়াসে, কাউন্টিতে কেন্ট, বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলেছেন মালিঙ্গা। এবারের বিপিএলে তার অন্তর্ভুক্তি জৌলুস বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

প্রসঙ্গত, বাজে ফর্মের কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে নেই লাসিথ মালিঙ্গা। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের দাবি, ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নেই মালিঙ্গা। তাই তাকে ওয়ানডে দলে রাখা হচ্ছে না। জুনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর মালিঙ্গা ১৩ ওয়ানডে খেলেছেন। ভারতের বিপক্ষে কিছুদিন আগেই খেলেছেন টি-টোয়েন্টি সিরিজ

তাই বলে এতটা অসহায় আত্মসমর্পণ

কিম্বার্লির উইকেট আর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ বিবেচনায় ২৭৮ মোটেই নিরাপদ স্কোর নয়। এই পুঁজি নিয়ে জিততে হলে বাংলাদেশের বোলারদের অসাধারণ কিছুই করে দেখাতে হতো। কিন্তু বোলাররা এতটাই অসহায় আত্মসমর্পণ করল যে, পরাজয়ের ব্যবধানটাও কমানো গেল না। দক্ষিণ আফ্রিকা যে ম্যাচ জিতেছে ১০ উইকেটে!

ওয়ানডে ক্রিকেটে কোনো উইকেট না হারিয়ে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটিই। গত বছর বার্মিংহামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৫৫ রান তাড়ায় জেসন রয় ও অ্যালেক্স হেলসের ব্যাটে চড়ে ১০ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলার ২৮২ রানের জুটি গড়ল নতুন রেকর্ড। বাংলাদেশ আর কিছু রান করলে ওয়ানডেতে উদ্বোধনী জুটির বিশ্ব রেকর্ডটাও হয়ে যেত! সেটা না হওয়ায় সনাৎ জয়াসুরিয়া ও উপুল থারাঙ্গার ২৮৬ রানের উদ্বোধনী জুটির বিশ্ব রেকর্ডটা অক্ষুণ্ণ রয়ে গেল।

তারপরও ডি কক-আমলার ২৮২ রানের জুটির কম রেকর্ড হয়নি। যেকোনো উইকেটেই এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০১৫ সালে হ্যামিল্টনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনি জুটির ২৫৬ ছিল আগের সর্বোচ্চ। একই বছর জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমলা ও রাইলি রুশোর ২৪৭ রান ছিল উদ্বোধনী জুটির আগের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের বিপক্ষেও সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড এখন ডি কক-আমলার। তারা দুজন ছাড়িয়ে গেছেন ১৯৯৭ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার দিপক চুদাসামা ও কেনেডি ওটিয়েনোর ২২৫ রানের জুটিকে।

রেকর্ড জুটির পথে ডি কক ১৪৫ বলে ২১ চার ও ২ ছক্কায় করেছেন ১৬৮ রান। ১১২ বলে ৮ চারে ১১০ রান আমলার। সাত বোলার ব্যবহার করেও এই জুটি ভাঙতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। উল্টো সবাই রান দিয়েছেন মুক্ত হস্তে! অভিষিক্ত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তো ৫ ওভারেই দিয়েছেন ৪৬ রান! শেষ দিকে তবুও জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু নাসির হোসেন বাউন্ডারিতে ডি ককের ক্যাচ ফেলায় সেটাও হয়নি। সেটা হলে ১০ উইকেটের হারটা অন্তত এড়ানো যেত!

এমন হারে মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিটাও ম্লান হয়ে গেল। টেস্ট সিরিজে তিনি সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়েছিলেন বারবার। রঙিন পোশাকে জ্বলে উঠলেন প্রথম ম্যাচেই। করলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। যেটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেকোনো ফরম্যাটেই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানদের প্রথম সেঞ্চুরি। মুশফিকসহ প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই উইকেটে থিতু হয়েছিলেন। কিন্তু মুশফিক ছাড়া আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহটাও তিনশ পেরোয়নি।

কিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভালে রোববার টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন মাশরাফি। মুস্তাফিজুর রহমান চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন ম্যাচের আগেই। টসের সময় জানা যায়, প্রথম ম্যাচে খেলছেন না তামিম ইকবালও। বাদ পড়েন সৌম্যর সরকার। ওয়ানডে অভিষেক হয় সাইফউদ্দিনের।

ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন লিটন দাস। দুজন শুরুটা করেছিলেন সতর্ক। দারুণ কয়েকটা চার হাঁকান লিটন। এর মধ্যে কাগিসো রাবাদাকে পুল করে মারা চারটা চোখে লেগে থাকার মতো। তবে ইনিংস বড় করতে পরেননি লিটন। ওই রাবাদার বলেই স্লিপে ফাফ ডু প্লেসির দারুণ ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ২৯ বলে করেন ২১ রান।

৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর উইকেটে আসেন সাকিব আল হাসান। অন্য প্রান্তে ইমরুল এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি। ডুয়ান প্রিটোরিয়াসের বলে উইকেটকিপার কুইন্টন ডি কককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৪৩ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ইমরুল করেন ৩১ রান।

তৃতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন মুশফিক ও সাকিব। দুজন দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন। সাকিব ১৭ রানে পৌঁছে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন। সেই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম পাঁচ হাজার রান ও দুইশ উইকেটের ‘ডাবল’ স্পর্শ করেন। এর আগে সবচেয়ে দ্রুততম ২২১ ম্যাচে এই ডাবল ছুঁয়েছিলেন প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। সাকিবের লাগল মাত্র ১৭৮ ম্যাচ!

তবে সাকিবও ইনিংস বড় করতে পারেননি। প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহিরের বলে হাশিম আমলাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাকিব। ২৯ বলে ২ চারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ৪৫। তার বিদায়ে ভাঙে ৫৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।

অন্য প্রান্তে মুশফিক খেলেছেন তার মতোই। সাকিবের বিদায়ের পরপরই অভিষিক্ত ডেন প্যাটারসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে মুশফিক ফিফটি পূর্ণ করেন ৫২ বলে। তার নতুন সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। রাবাদার ১৪০ কিলোমিটার গতির একটি বলে হাঁকান দারুণ ছক্কা। তবে তিনিও ইনিংস বড় করতে পারেননি। প্রিটোরিয়াসের স্লোয়ারে ডেভিড মিলারের হাতে ক্যাচ দেওয়া মাহমুদউল্লাহ ২৭ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় করেন ২৬।

বাংলাদেশ দুইশ ছুঁয়েছিল ৩৯ ওভার ২ বলে। রান বাড়ানোর তাড়নায় ২১ বলে ১৯ রান করে রাবাদার বলে ফেরেন সাব্বির রহমান। পরের বলেই ২ রান নিয়ে মুশফিক পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন মুশফিক। ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারের ৯০ ছিল আগের সর্বোচ্চ। ১০৮ বলে সেঞ্চুরি করতে ১০টি চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা হাঁকান মুশফিক। তার এটি পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, ২০১৫ সালের নভেম্বরের পর প্রথম।

দলে ফেরা নাসির হোসেন দুই চার হাঁকিয়েই ৮ বলে ১১ করে ফেরেন। সেঞ্চুরি পর মুশফিকও ৮ বলে একটি চারের বেশি বাউন্ডারি মারতে পারেননি। শেষ ওভারে অভিষিক্ত সাইফউদ্দিনের একটি করে চার ও ছক্কায় বাংলাদেশ পায় ২৭৮ রানের সংগ্রহ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ২০০৭ বিশ্বকাপে গায়ানায় ৮ উইকেট হারিয়ে করা ২৫১ ছিল আগের সর্বোচ্চ। ১০ বছর আগের সেই ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছিল। আর এবার হারল লজ্জার রেকর্ড গড়ে! 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৮/৭ (মুশফিক ১১৬*, ইমরুল ৩১, সাকিব ২৯, মাহমুদউল্লাহ ২৬, লিটন ২১, সাব্বির ১৯; রাবাদা ৪/৪৩, প্রিটোরিয়াস ২/৪৮, তাহির ১/৪৫)।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪২.৫ ওভারে ২৮২/০ (ডি কক ১৬৮*, আমলা ১১০*)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কুইন্টন ডি কক।

এমন হারের পর মাশরাফি যা বললেন

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করেছিল প্রিয় ফরম্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা আর হয়নি। অন্তত প্রথম ওয়ানডেতে। রেকর্ড গড়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি ১০ উইকেটের ব্যবধানে জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক ১৬৮ ও হাশিম আমলা ১১০ রানে অপরাজিত থেকে রেকর্ড গড়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এমন লজ্জাজনক হারের পর মাশরাফি জানিয়েছেন বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার উপর চাপ তৈরি করতে পারেনি। রান নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। মুশফিকের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন। কৃতিত্ব দিয়েছেন কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলাকে। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি অনুভব করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের সফল ওয়ানডে অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু ক্রিকেটে নয়, সব ধরণের খেলাধুলায়ই এমনটা ঘটে।

ম্যাচ শেষে মাশরাফি বলেন, ‘আমি মনে করি মুশফিক খুব ভালো ব্যাট করেছে। ব্যাটসম্যানদের পক্ষ থেকে ভালো প্রচেষ্টা ছিল। উইকেট বেশ ভালো ছিল। আমাদের আরো রক্ষণাত্মক বোলিং করা উচিত ছিল। যেহেতু এটি ভালো উইকেট ছিল, সেহেতু আমরা জানতাম যে আমাদের উইকেট নিতে হবে। কিন্তু আমরা শুরুতে কোনো উইকেট নিতে পারিনি। কোনো ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে আপনি যদি দুই প্রান্ত থেকেই রান আটকাতে পারেন, চাপ তৈরি করতে পারেন, তাহলে উইকেট আসবে। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি।’

ডি কক ও হাশিম আমলাকে কৃতিত্ব দিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘সমস্ত কৃতিত্ব দিতে হবে হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কককে। আমরা ভেবেছিলাম তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র কোনো ব্যাটসম্যান টপ অর্ডারে ভালো খেলবে। মুশফিক সত্যিই দারুণ ব্যাটিং করেছে। তবে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ক্রিকেটে এমনটা ঘটে। সব খেলাধুলায়ই এমনটা হয়। আশা করছি পরের ম্যাচে তামিমকে আমরা পাব।

মুশফিকের সেঞ্চুরি

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৯ ওভারে ২৬৫/৬

নাসিরের বিদায়

আগের বলেই বেরিয়ে এসে কাভার দিয়ে চার মেরেছিলেন রাবাদাকে। পরের বলেই আউট নাসির হোসেন। শর্ট বলে পুল করেছিলেন, জোর পাননি শটে। বৃত্তের ভেতরই সোজা মিড উইকেটে আমলার হাতে।

৮ বলে ১১ করে ফিরলেন নাসির। ৪৭.২ ওভারে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ২৫৩।

মুশফিকের দারুণ সেঞ্চুরি

টেস্ট সিরিজের বিতর্ক ঘেরা সময়টা পেরিয়ে রঙিন পোশাকের প্রথম ম্যাচেই উজ্জ্বল মুশফিক। উপহার দিলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি।

১০ চার ও ২ ছক্কায় ১০৮ বলে মুশফিক ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি।

মুশফিকের এটি পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম। দেশের বাইরে মাত্র দ্বিতীয়। দেশের বাইরে আগের সেঞ্চুরিটি ছিল সেই ২০১১ সালে, জিম্বাবুয়েতে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরিও এটি। সৌম্য সরকারের ৯০ ছিল আগের সর্বোচ্চ।

ফিরলেন সাব্বির

সময়ের দাবি ছিল শট। সাব্বির আউট হলেন সেই চেষ্টায়। রাবাদাকে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন কাভার দিয়ে। বল গেল সীমানায় ফিল্ডারের হাতে।

একটি করে চার ও ছয়ে ২০ রান করে আউট হয়েছেন সাব্বির। বল খেলেছেন ২১টি।

বাংলাদেশ ৪৫.২ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩৭।

এবার পারলেন না মাহমুদউল্লাহ

বেরিয়ে এসে রাবাদাকে ছক্কা মেরেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু পারলেন না প্রিটোরিয়াসকে মারতে। মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন প্রিটোরিয়াস।

মাহমুদউল্লাহকে বেরিয়ে আসতে দেখে স্লোয়ার শর্ট বল করেছিলেন প্রিটোরিয়াস। তাতেই টাইমিংয়ে গড়বড়। বল উঠেছে শুধু আকাশে। বৃত্তের ভেতরই ক্যাচ নিয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

২৬ রানে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ। ভাঙল ৬৯ রানের জুটি। বাংলাদেশ ৩৮.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫।

আরেক জুটির পঞ্চাশ
 
সাকিবকে হারানোর ধাক্কা অনেকটাই সামাল মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ জুটিতে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তৃতীয় সফলতম জুটি আরও একবার পথ দেখাচ্ছে দলকে। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটিতে হয়েছে পঞ্চাশ।
 
মুশফিক তো শুরু থেকে্ই খেলছেন দারুণ। আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে মাহমুদউল্লাহকেও। ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার কাগিসো রাবাদাকে বেরিয়ে এসে দুর্দান্ত এক ছক্কা মেরেছেন তিনি।
 
দুজনের এটি দ্বাদশ অর্ধশত রানের জুটি। সেঞ্চুরি জুটি আছে আরও দুটি।
 
বাংলাদেশের রান ৩৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৮। ৬৬ রানে খেলছেন মুশফিক, ১৯ রানে মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশের দেড়শ

সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন মুশফিক। তাহিরের বলে মাহমুদউল্লাহর দারুণ এক বাউন্ডারিতে দলের রান স্পর্শ করেছে দেড়শ।

৩০ ওভারে ১৫০ রান বাংলাদেশের, উইকেট পড়েছে ৩টি। ৫৪ রান নিয়ে খেলছেন মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ৫। অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ২৪।

মুশফিকের পঞ্চাশ

প্যাটারসনের বলে এগিয়ে এসে উড়িয়ে মারলেন কাভার দিয়ে। বল সীমানার ওপারে। ছক্কায় পঞ্চাশ ছুঁলেন মুশফিকুর রহিম। লেগেছে ৫২ বল।

মুশফিক উইকেটে যাওয়ার পর থেকেই গতি পেয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। জুটির সঙ্গী সাকিবকে হারালেও কমেনি তার ব্যাটের ধার ও গতি। খেলেছেন দারুণ সব শট।

মুশফিকের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের এটি ২৭তম ফিফটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলা আগের ৫ ইনিংস মিলিয়ে করতে পেরেছিলেন ৩৬ রান!

জুটি ভাঙলেন তাহির

সাকিব-মুশফিকের জুটি যখন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে দারুণভাবে, তখনই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরালেন ইমরান তাহির। সাকিবকে ফিরিয়ে ভাঙলেন জুটি।

তাহিরের গুগলি না বুঝেই হয়ত ড্রাইভ করেছিলেন সাকিব। ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপে হাশিম আমলার হাতে। জুটি গড়ে ওঠার পরও স্লিপ রাখায় কৃতিত্ব দিতে হবে অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিকেও।

২৯ রানে আউট হলেন সাকিব। ২৬ ওভারে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১২৬।

জুটির পঞ্চাশ

জুটি ভাঙতে জেপি দুমিনিকে আক্রমণে এনেছেন ফাফ দু প্লেসি। তবে দুমিনির ওভারেই অর্ধশতক হলো সাকিব-মুশফিক জুটির।

বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে জুটি আরও একবার দারুণভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশকে। তৃতীয় উইকেটে দুজন জুটি বেঁধেছেন এই প্রথম। তাতেই ছাড়িয়ে গেছেন পঞ্চাশ। সব মিলিয়ে দুজনের এটি ত্রয়োদশ অর্ধশত রানের জুটি। শতরানের জুটি আছে চারটি। দুটিই বাংলাদেশের রেকর্ড।

২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১২০। ৩১ রানে খেলছেন মুশফিক, ২৮ রানে সাকিব।

শতরান পেরিয়ে

ইমরুল কায়েস আউট হওয়ার পর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন মুশফিকুর রহিম। দুজনে মিলে বেশ ভালোভাবেই টানছেন দলকে।

তিন নম্বরে নামা সাকিব নিজের সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ছেড়ে অনেকটাই ধীরে খেলছেন। মনোযোগ তার সিঙ্গেলসে। মুশফিক অবশ্য খেলছেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। মেরেছেন দারুণ তিনটি চার।

২২ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১০১। তৃতীয় উইকেট জুটির রান ৩৪।

সাকিবের ৫ হাজার

মাইলফলক ছুঁতে প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। তিনে নামা সাকিব আল হাসান সেটি ছুঁয়ে ফেললেন ইনিংসের ২০তম ওভারে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুঁলেন ৫ হাজার ওয়ানডে রান।

দুইশ উইকেট ছাড়িয়েছেন সাকিব বেশ আগেই। ওয়ানডেতে ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ‘ডাবল’ সবচেয়ে কম ম্যাচে ছুঁলেন সাকিবই, মাত্র ১৭৮ ম্যাচে।

বাজে শটে আউট ইমরুল

লেগ স্টাম্পের বাউন্সার টেস্ট সিরিজেও বেশ ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। ওয়ানডের শুরুতেও একই অবস্থা। আউট হলেন ইমরুল।

লেগ স্টাম্পে থাকা শর্ট বল হালকা খেলে ফাইন লেগে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন ইমরুল। বল ব্যাটে আলতো ছুঁয়ে লেগে গেল কিপারের হাতে।

অস্বস্তিকর শুরুর পর যখন কেবল হাত খুলতে শুরু করেছেন তখনই আউট ইমরুল। প্রিটোরিয়াসের বলে ফিরলেন ৩১ রানে। বাংলাদেশ ১৪ ওভারে ২ উইকেটে ৬৭।

ইমরুলের রক্ষা

দক্ষিণ আফ্রিকা দশম ওভারেই আক্রমণে আনল স্পিন। প্রথম ওভারেই প্রায় সফল হয়েই গিয়েছিলেন ইমরান তাহির। কিন্তু বেঁচে গেলেন ইমরুল।

গুগলিতে রিভার্স সুইপ করতে গিয়েছিলেন ইমরুল। বল তার গ্লাভসে লেগে উঠে যায় বাতাসে। তবে কিপার ও স্লিপ, দুজন থেকেই বল ছিল একটু দূরে। ১৬ রানে রক্ষা পেলেন ইমরুল।

১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৪৪।

তিনে সাকিব

তিন নম্বর পজিশনটি বেশ কিছুদিন ধরেই হয়ে আছে বাংলাদেশের সমস্যা। সাব্বির রহমানকে নিয়ে পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার নতুন চমক। তিনে সাকিব আল হাসান!

টি-টোয়েন্টিতে বেশ কবার তিনে খেললেও ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আগে একবারই তিনে ব্যাট করেছিলেন সাকিব। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনে খেলার কারণ ছিল ১৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। সেবার প্রথম বলেই বোল্ড হয়েছিলেন সাকিব।

লিটনের বিদায়

এক পাশে দারুণ খেলছিলেন লিটন দাস, আরেক পাশে ধুঁকছিলেন ইমরুল কায়েস। অথচ প্রথমে আউট হলেন লিটনই।

দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন বলের দুই বোলারের পারফরম্যান্সও বাংলাদেশের শুরুর মত। এক পাশে দুর্দান্ত রাবাদা, আরেক পাশে বিবর্ণ প্যাটারসন। তবে এখানে উল্টো হয়নি, প্রথম উইকেটের দেখা পেলেন রাবাদাই।

লেংথে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়া দারুণ ডেলিভারি ছোবল দিল লিটনের ব্যাটে। স্লিপে দারুণ ক্যাচ নিলেন ফাফ দু প্লেসি। ক্যাচ সঠিক ছিল কিনা বুঝতে তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য নিলেন আম্পায়াররা। মাঠের বড় পর্দায় শুরুতে ‘নট আউট’ দেখানোয় সংশয় জাগলেও পরে দেখানো হলো আউট।

২১ রানে ফিরলেন লিটন। ৮.৫ ওভারে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৪৩।

মন্থর শুরু

কাগিসো রাবাদা শুরু করেছিলেন ওয়াইড দিয়ে। তবে লাইন-লেংথ খুঁজে পান দ্রুতই। আরেক পাশে অভিষিক্ত ডেন প্যাটারসনের শুরুটাও খারাপ হয়নি। বাংলাদেশের দুই ওপেনার খুব বেশি সুযোগ পাননি শট খেলার। ৫ ওভারে রান বিনা উইকেট ১৬।

প্রথম ৫ ওভারে বাউন্ডারি হয়েছে দুটি। ৩ ওভার বোলিংয়ে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন রাবাদা।

ওপেনিংয়ে ইমরুল-লিটন

তামিম ইকবাল নেই চোটে, একাদশে জায়গা পাননি সৌম্য সরকারও। নতুন উদ্বোধনী জুটিতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। প্রথমবার একসঙ্গে ওপেনিংয়ে জুটি বেঁধেছেন লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস।

প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডে খেলছেন লিটন। দশম ওয়ানডে খেলতে নামা ব্যাটসম্যান আগে ওপেন করেছিলেন একবারই। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে।

প্যাটারসনের প্রথম

দক্ষিণ আফ্রিকা দলেও অভিষেক হচ্ছে একজনের। প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামছেন ডেন প্যাটারসন। ২৮ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার খেলেছেন চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক, ফাফ দু প্লেসি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড মিলার, জেপি দুমিনি, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো, কাগিসো রাবাদা, ডেন প্যাটারসন, ইমরান তাহির।

সাইফ উদ্দিনের অভিষেক

তিন পেসারের পাশাপাশি বাংলাদেশ একাদশে পেস বোলিং অলরাউন্ডারও আছেন একজন। দেশের ১২৫তম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের।

দেশের মাটিতে গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছেন সাইফ উদ্দিন। গত এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। এরপর হাই পারফরম্যান্স দলের হয়ে ব্যাটে-বলে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সফরে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ওয়ানডে অভিষেক।

বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন।

টস জিতে ব্যাটিং

কয়েন ছুড়লেন ফাফ দু প্লেসি, মাশরাফি বিন মুর্তজা ডাকলেন ‘হেড’। জিতলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। টেস্ট সিরিজে যেটি নিয়ে ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচনা, সেটির পুনরাবৃত্তি হলো না এবার। ব্যাটিং নিল বাংলাদেশ।

নেই তামিমও

মুস্তাফিজকে হারানোর পর আরেকটি বড় ধাক্কা। আগের দিন যদিও বলা হয়েছিল, তামিম ইকবালের খেলার সম্ভাবনা বেশি, ম্যাচের আগে এলো দুঃসংবাদ। চোট পুরোপুরি কাটিয়ে না উঠতে পারায় প্রথম ওয়ানডে খেলতে পারছেন না তামিমও।

দলের সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলারকে ছাড়াই লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। টেস্টের মত ওয়ানডেতেও পাওয়া যাচ্ছে না সেরা দল।

দুঃস্বপ্নের অতীত

টেস্টের মত ওয়ানডেতেও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের অতীতটা ভুলে যাওয়ার মত। ১২টি ওয়ানডে খেলে ১০টিতেই হার, দুটি ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

প্রথম ওয়ানডের ভেন্যু কিম্বার্লির ডায়মণ্ড ওভালে দুটি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এই মাঠে ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই তারা হেরেছে ৭ উইকেটে।

ম্যাচের আগেই ধাক্কা

ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই বড় এক ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডের আগের দিন অনুশীলনে পা মচকে গেছে মুস্তাফিজুর রহমানের। বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে ক্ষুরধার অস্ত্রকে ছাড়াই তাই মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

প্রথম ম্যাচে নিশ্চিত করেই নেই। বাকি দুই ওয়ানডেতে মুস্তাফিজ খেলতে পারবেন কিনা, সেটি বোঝা যাবে পরে।

আক্রমণের মন্ত্রে মাশরাফি

শরীরী ভাষায় জড়তা, আচরণের সংশয়-অস্বস্তি। আত্মবিশ্বাসের প্রবল ঘাটতি। টেস্ট সিরিজ জুড়ে বাংলাদেশ ছিল এমনটিই। তবে ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই সব জড়তা ঝেড়ে ফেলতে চান মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক দিয়েছেন আক্রমণের ডাক।

ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন মাশরাফি বলেছেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলার প্রশ্নই উঠে না। যদি এমন ভাবনা থাকে, নিজেদের দিনে আমরা ওদের হারাতে পারব, আমার মনে হয় তাহলে আমরা সুযোগই পাব না। ব্যাটিং-বোলিং যাই করি এখান থেকে বের হয়ে আসার একমাত্র পথ হচ্ছে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা।”

 

দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাজঘরে

কিম্বার্লিতে প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে।

টস: টস জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্কোর: ৭৫/২ (১৬ ওভার)। ব্যাটিং: সাকিব আল হাসান (১১) ও মুশফিকুর রহিম (৬)  

 

আউট: লিটন দাস (২১), ইমরুল কায়েস (৩১)।

প্রিটোরিয়াসের বলে ফিরলেন ইমরুল: শর্ট বলে ইমরুলের দূর্বলতা বুঝে বারবার একই বল করে যাচ্ছিলেন প্রিটোরিয়াস। ধারাবাহিক বোলিংয়ে দ্বিতীয় ওভারেই পেয়ে যান সাফল্য। লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন ৩১ রান করা ইমরুল কায়েস। ৪৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। ইমরুলের আউটের সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৬৩। 

চার বছর পর তিনে সাকিব: ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো তিনে ব্যাটিং করেছিলেন সাকিব। ১৫৮ রানে তামিম ও এনামুলের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুত রান তুলতে সাকিব তিনে নেমেছিলেন। কিন্তু গোল্ডেন ডাক মারেন সাকিব। চার বছর পর আবার সাকিব তিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন।

ভালো শুরুর পর আউট লিটন: কাগিসো রাবাদা ও ডেন পিটারসেনের বোলিং সামলে দারুণ শুরু করেছিলেন লিটন কুমার দাস। পুল, কাভার ড্রাইভ ও স্ট্রেইট ড্রাইভে বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন একাধিকবার। কিন্তু ভালো শুরুর পর ইনিংসটিকে বড় করতে ব্যর্থ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ২৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২১ রান করে আউট উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। কাগিসো রাবাদার বলে দ্বিতীয় স্লিপে ডু প্লেসির হাতে ক্যাচ দেন লিটন। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৪৩। 

বাংলাদেশ দল: ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন।

মুস্তাফিজকে ছাড়া বাংলাদেশ: শনিবার অনুশীলনের আগে ফুটবল খেলার সময় পা মচকে যাওয়ায় প্রথম ওয়ানডে খেলতে পারছেন না মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডে সিরিজও মিস করতে পারেন মুস্তাফিজ। আজ মুস্তাফিজের পায়ে স্ক্যান করানো হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে টিম ম্যানেজম্যান্ট।

ম্যাচ ফিটনেস নেই তামিমের: ইনজুরির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে পারেননি তামিম। ফিট হয়ে নেটে ফিরলেও ম্যাচ ফিটনেস নেই তামিমের।

সাইফউদ্দিনের অভিষেক: ১২৫তম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আজ ওয়ানডে অভিষেক হল মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। এর আগে পেস বোলিং অলরাউন্ডার বাংলাদেশের হয়ে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।

 

 


দক্ষিণ আফ্রিকা দল: কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, আন্দ্রিলে ফিকোযাও, কাগিসো রাবাদা, ডেন পিটারসন, ইমরান তাহির ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস।

ডেন পিটারসনের যাত্রা শুরু: প্রোটিয়াদের ৪ টি-টোয়েন্টি খেলে ৫ উইকেট নিয়েছেন ডেন পিটারসেন। ডানহাতি এ পেসারের মাথায় আজ উঠল ওয়ানডে ক্যাপ।

ডেভিড মিলারের ‘সেঞ্চুরি’: মাঠে নেমেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন ডেভিড মিলার। আজ শততম ওয়ানডে খেলছেন হার্ডহিটার এ ব্যাটসম্যান। ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রঙিন জার্সিতে যাত্রা শুরু করেন কিলার মিলার। 

চার বছর পর কিম্বার্লিতে ওয়ানডে ম্যাচ: ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে কিম্বার্লিতে সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছিল। চার বছর পর এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ১৯৯৮ সালে অভিষেকের পর এই মাঠে ওয়ানডে হয়েছে মাত্র ১২টি। এখানে এর আগে দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছিল ৭ উইকেটে।

কার্তিক, ধাওয়ান, শার্দুল ফিরলেন ওয়ানডে দলে

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের জন্য শনিবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। দলে ফিরেছেন দিনেশ কার্তিক, শেখর ধাওয়ান ও শার্দুল ঠাকুর। দলের বাইরে গেছেন লোকেশ রাহুল, মোহাম্মদ সামি ও উমেশ যাদব।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দলে ছিলেন দিনেশ কার্তিক। ওই সফরে খেলেছিলেন ওয়ানডে ম্যাচ। তবে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তাকে দলে রাখেনি টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দলে সুযোগ পেলেও ম্যাচ খেলতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ মিস করেছিলেন শেখর ধাওয়ান। পারিবারিক কারণে খেলতে পারেননি। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিলেন। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফেরার পর এবার ওয়ানডেতেও ফিরলেন বাঁহাতি ওপেনার।

কপাল পুড়েছে লোকেশ রাহুলের। শ্রীলঙ্কা সিরিজে বাজে পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ঠিকই টিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সিরিজে কোনো ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেননি। এবার দল থেকেও বাদ পড়লেন।

শেখর ধাওয়ান ফেরায় কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। ধাওয়ানের পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রোহিত শর্মার পার্টনার ছিলেন আজিঙ্কা রাহানে। টানা চার হাফ-সেঞ্চুরি করে নিজের জায়গা পাকাপাকি করেছেন রাহানে। ধাওয়ান ফেরায় দল নির্বাচনে কোহলিকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ৪ নম্বর পজিশনে কে ব্যাটিং করবেন সেটা নিয়েও দুশ্চিন্তায় টিম ম্যানেজম্যান্ট। একই পজিশনে একাধিক খেলোয়াড় থাকায় মাথা ঘামাতে হচ্ছে বেশ। হার্দিক পান্ডিয়া সবশেষ সিরিজে চারে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ করেছেন। মানিশ পান্ডেও সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়েছেন। কার্তিক দলে ফেরায় নতুন করে ভাবতে হচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্টকে।  

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডে খেলতে মাঠে নামবে ভারত। ম্যাচটি হবে মুম্বাইয়ে। পরের দুটি ম্যাচ পুনে ও কানপুরে অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ ও ২৯ অক্টোবর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

ভারত দল: বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, আজিঙ্কা রাহানে, মানিশ পান্ডে, কেদার যাদব, দিনেশ কার্তিক, মাহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর পাটেল, কুলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, জসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার ও শার্দুল ঠাকুর

পোলার্ডকে দলভুক্ত করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ খেলতে আগ্রহী ছিলেন কাইরন পোলার্ড। বিপিএলের একাধিক ফ্রাঞ্চাইজি পোলার্ডকে পেতে আগ্রহ দেখালেও ক্যারিবীয়ান এ তারকা তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ বিপিএলের সময় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ফলে কপাল পুড়েছে টি-টোয়েন্টির একাধিক তারকা ক্রিকেটারের! যদিও বিপিএলের একাধিক ফ্রাঞ্চাইজি এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এদের মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস।

সাকিবের দল কাইরন পোলার্ডকে বিপিএলের জন্য দলভুক্ত করেছে। এর আগে বিপিএলের প্রথম দুই আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে খেলেছিলেন পোলার্ড। পোলার্ডকে পুরো বিপিএলের জন্য পেয়েছে ঢাকা। বিপিএলের সবগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনন্য এক রেকর্ডও গড়বেন পোলার্ড। ক্রিকেটের সবথেকে ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটে ৪০০ ম্যাচ খেলার হাতছানি পোলার্ডের। ৩৮৭ ম্যাচ খেলে সবার উপরে রয়েছেন পোলার্ড। বিপিএলে ১৩ ম্যাচ খেললেই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪০০ ম্যাচ খেলবেন এ ক্যারিবীয়ান তারকা।

এবারের বিপিএলে সবথেকে বেশি বিদেশী ক্রিকেটার দলভুক্ত করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। কাইরন পোলার্ড বাদে দলের অন্যান্য বিদেশী ক্রিকেটার হলেন কুমার সাঙ্গাকারা, শেন ওয়াটসন, শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, শাহিন শাহ আফ্রিদি, কেভিন লুইস, কেভিন কুপার, রেনসফোর্ড বেটন, সুনিল নারিন, কাইরন পাওয়েল, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, গ্রায়েম ক্রেমার, জো ডেনলি, আকিল হোসেন।

এছাড়া দেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছে সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ শহীদ, মেহেদী মারুফ, আবু হায়দার রনি, জহুরুল ইসলাম, নাদীফ চৌধুরী, সাকলাইন সজীব, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, সাদমান ইসলাম, নুর আলম সাদ্দাম।

মুস্তাফিজকে ছাড়া মাঠে নামছে বাংলাদেশ

কিম্বার্লিতে আজ বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ হারের পর মাশরাফির দল যখন ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে তখনই বড় দুঃসংবাদ পেল টাইগার শিবির।

পা মচকে যাওয়ায় কিম্বার্লিতে আজ খেলবেন না মুস্তাফিজুর রহমান। গতকাল অনুশীলনের আগে ফুটবল খেলার সময় পা মচকে যায় মুস্তাফিজের। এরপর আর তাকে অনুশীলনে দেখা যায়নি। প্রধান নির্বাচক ও এ সফরে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন,‘ট্রেনিংয়ের আগে গা-গরমের সময় পা মচকে যায় মুস্তাফিজের। আগামীকাল (আজ) সে খেলতে পারবে না। সিরিজ থেকে ছিটকে গেছে কি না তা আজ পায়ের স্ক্যান করার পর জানা যাবে।’

মুস্তাফিজের ছিটকে যাওয়ায় দলে ঢুকতে পারেন তাসকিন আহমেদ। তিন পেসার ও পেস অলরাউন্ডার নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা আগের থেকেই ছিল বাংলাদেশের। মাশরাফি, রুবেলের সঙ্গে খেলার কথা মুস্তাফিজের। পেস অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আসছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সৌম্য সরকার, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন।

বৃষ্টিতে ভেসে গেল ভারত-অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি

 তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি বৃষ্টি আইনে ভারত জিতে নেয় ৯ উইকেটের ব্যবধানে। পরের ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়া জিতে নেয় ৮ উইকেটের ব্যবধানে। ১-১ এর সমতা নিয়ে আজ শুক্রবার হায়দরাবাদে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ভারত-অস্ট্রেলিয়ার। 

কে জিতবে সিরিজ? ভারত নাকি অস্ট্রেলিয়া, সেটা নিয়ে চলছিল আলোচনা। মাঠে গড়ানোর আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছিল বেশ। কিন্তু সেই উত্তাপে পানি ঢেলে দিয়েছে বৃষ্টি। বেরসিক বৃষ্টির কারণে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের একটি বলও মাঠে গড়াতে পারেনি। ফলে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচটি। ১-১ এর সমতা নিয়েই শেষ হয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

অবশ্য ম্যাচটি আয়োজনের জন্য হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ডসম্যানরা কম চেষ্টা করেননি। ভেজা স্থানগুলোতে বালি দিয়ে মাঠ খেলার উপযুক্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আম্পায়াররা মাঠ পরিদর্শন করে জানিয়েছেন এই মাঠ খেলার উপযুক্ত নয়। ফলে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচটি।

 

বাবর-মালিক জেতালেন পাকিস্তানকে

ওয়ানডেতে বাবর আজমের ব্যাটিং গড় ৫৩.৮৮। উল্টো চিত্র টেস্ট ক্রিকেটে। সাদা পোশাকে ব্যাটিং গড় মাত্র ২৩.৭৫। রঙিন পোশাকে ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান যে বিস্ফোরক ব্যাটিং করেন তা নয়, কিন্তু ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক, কার্যকরী।

ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে এরই মধ্যে ওয়ানডে দলে নিজের জায়গা পাকাপাকি করে নিয়েছেন। কিন্তু টেস্ট একাদশে নড়বড়ে। রঙিন পোশাকে বাবর আজম কতটা ছন্দে থাকেন তার আরেকটি প্রমাণ শুক্রবার পাওয়া গেল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে রান খরায় ভুগতে থাকা বাবর আজম ওয়ানডেতে ফিরেই পেয়েছেন সেঞ্চুরির স্বাদ।

তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ভর করে দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ২৯২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানের বেশি করতে পারেনি। ৮৩ রানের বড় জয়ে সিরিজ শুরু করেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ব্যাট হাতে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৩ রান করেন বাবর আজম। ১৩১ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান। সেঞ্চুরি পান ১২৮ বলে, যা তার মন্থরতম সেঞ্চুরি। বাবর আজম ধীর গতিতে রান তুললেও শোয়েব মালিক ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলেন। ৬১ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৮১ রান করেন মালিক। পরবর্তীতে বল হাতে অবদান রাখায় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ডানহাতি এ স্পিন অলরাউন্ডার। এ দুই ব্যাটসম্যান ছাড়া রান করেছেন ফাখহার জামান (৪৩) ও মোহাম্মদ হাফিজ (৩২)। বল হাতে সুরঙ্গা লাকমাল সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ৬৭ রান তুলতেই লঙ্কানদের অর্ধেক ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৪১ রান যোগ করে প্রতিরোধ গড়েন থিসারা পেরেরা ও লাহিরু থিরিমান্নে। ২৬তম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে এসে লেগ স্পিনার শাদাব খান আউট করেন পেরেরাকে (২১)। এরপর দলের স্কোর একাই টেনে নেন আশেলা ধনাঞ্জয়া। ৭২ বলে ৫০ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ধনাঞ্জয়া। বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন পেসার রুম্মান রাইস ও হাসান আলী।

৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান। আগামী ১৬ অক্টোবর আবুধাবিতে সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। 
 

এমসিসি সাকিবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়’

প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। কমিটির চেয়ারম্যান মাইক গ্যাটিং জানিয়েছেন, সাকিবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তারা।

নতুন করে এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটিতে চারজনকে নেওয়া হয়েছে। সাকিব তাদের মধ্যে অন্যতম। সাকিব ছাড়া আছেন নিউজিল্যান্ডের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সুইজ বেটস, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন পেসার ইয়ান বিশপ এবং শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অফ স্পিনার ও আইসিসির বর্তমান এলিট প্যানেলের আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা।

এমসিসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মাইক গ্যাটিং। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইক বিয়ারলির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন গ্যাটিং।

এমসিসির ক্রিকেট কমিটির নতুন চেয়ারম্যান মাইক গ্যাটিং সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বলেছেন, ‘সাকিব প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে কমিটিতে যোগ দিচ্ছেন।  বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটেই সাকিবের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আমরা তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।’

এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটি:

মাইক গ্যাটিং (চেয়ারম্যান), ভিঞ্চ ভন ডার ভিজল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ইয়ান বিশপ, রমিজ রাজা, জন স্টিফেনসন, কুমার সাঙ্গাকারা, কুমার ধর্মাসেনা, সৌরভ গাঙ্গুলি, রড মার্শ, রিকি পন্টিং, সুইজ বেটস, টিম মে এবং সাকিব আল হাসান।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ানডে লিগের অনুমোদন

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ানডে লিগ চালুর অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি। অকল্যান্ডে আইসিসির বোর্ড সভার শেষ দিন শুক্রবার বিষয়টি সবুজ সংকেত পেয়েছে।

২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে দেখা যাবে দুই বছর মেয়াদী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। অংশ নেবে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয় দল। প্রতিটি দল দুই বছরের মধ্যে ছয়টি সিরিজ খেলবে। তিনটি ঘরে, তিনটি প্রতিপক্ষের মাঠে।

সিরিজে ম্যাচ থাকবে কমপক্ষে দুটি। অ্যাশেজের মতো সর্বোচ্চ পাঁচ ম্যাচও হতে পারে। ২০২১ সালের এপ্রিলে শীর্ষে থাকা দুই দল জুনে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের প্লে-অফ খেলবে।

ওয়ানডে লিগ শুরু হবে ২০২০ সালে। খেলবে ১৩টি দল। আইসিসির পূর্ণ সদস্য (টেস্ট খেলুড়ে) ১২ দলের সঙ্গে যোগ দেবে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের জয়ী দল।

তিন বছরের লিগে রূপান্তর হওয়ার আগে ২০২৩ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এটি দুই বছর ধরে চলবে। এই সময়ে প্রতিটি দল আটটি করে সিরিজ খেলবে। সিরিজে ম্যাচ থাকবে তিনটি।

তবে পয়েন্ট পদ্ধতি কী হবে কিংবা প্রতি সপ্তাহের ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনা (এফটিপি) কেমন হবে, এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

অকল্যান্ডের বোর্ড সভায় পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে চার দিনের টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারেও অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি। এই গ্রীষ্মে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই প্রক্রিয়া।

কোহলি আর একটি চার হাঁকালেই…

আগের ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। তাতেও অবশ্য রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছেন বিরাট কোহলি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ইনিংস খেলে প্রথম ‘শূন্য’ রানে আউট হওয়ার রেকর্ড। এটি ছিল যে ৪৮ ইনিংসে কোহলির প্রথম ‘ডাক’।

ভারতীয় অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ তৃতীয় ম্যাচে একটি চার হাঁকালেই দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করবেন। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ চার হাঁকানোর মাইলফলক।

এর আগে দুইশ চার হাঁকিয়েছেন কেবল তিলকারত্নে দিলশান ও মোহাম্মদ শাহজাদ। ২২৩ চার নিয়ে সবার ওপরে প্রাক্তন শ্রীলঙ্কা ব্যাটসম্যান দিলশান। দুই চার মারলে আফগানিস্তানের শাহজাদকে (২০০) ছাড়িয়ে দুইয়ে উঠে যাবেন কোহলি (১৯৯)। ১৯৯টি চার আছে প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামেরও।

আর ৩৮ রান করলে দিলশানকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হয়ে যাবেন কোহলি। ৭৯ ইনিংসে ১ হাজার ৮৮৯ রান দিলশানের। আর কোহলির ১ হাজার ৮৫২ রান ৪৮ ইনিংসে। ৭০ ইনিংসে ২ হাজার ১৪০ রান নিয়ে সবার ওপরে ম্যাককালাম।

আজ ভারত-অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি রুপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে। ১-১ সমতা থাকায় এই ম্যাচের জয়ী দল জিতবে সিরিজ। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
 

ক্যালিসের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় সাকিব

২০১৫ সালের ১৫ জুলাই চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলাকে আউট করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০০ উইকেটের স্বাদ পান সাকিব আল হাসান। ১৫৬ ম্যাচে সাকিব ২০০ উইকেট তুলে নেন। ২০০ উইকেট নেওয়ার আগেই ব্যাট হাতে ৪ হাজার রান পূর্ণ করেন। সেটাও ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৪২তম ম্যাচে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক রেকর্ড গড়া সাকিব ২০০ উইকেট নিয়ে ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের আরেকটি অভিজাত ক্লাবের সদস্যও হয়েছিলেন সেই ম্যাচে। ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেটের ‘ডাবল’ ওয়ানডেতে ছিল শুধু ছয়জন ক্রিকেটারের। সাকিব সপ্তম ক্রিকেটার হিসেবে ওই ক্লাবে প্রবেশ করেন। কিন্তু সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে সাকিব ঢুকেছিলেন ওই ক্লাবে। ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেট পেতে সাকিবের লেগেছিল ১৫৬ ম্যাচ। সেখানে ৪৮ ম্যাচ বেশি খেলে একই ক্লাবে প্রবেশ করেন পাকিস্তানের আব্দুর রাজ্জাক। এরপর রয়েছেন ক্রিস ক্রেইন্স (২১৩), জ্যাক ক্যালিস (২২১), সনাৎ জয়াসুরিয়া (২৩৫), শহীদ আফ্রিদি (২৩৮) ও ক্রিস হ্যারিস (২৪৪)।

দ্রুততম ৪০০০ রান ও ২০০ রানের রেকর্ড গড়া সাকিবের সামনে এবার আরেকটি রেকর্ডের হাতছানি। দ্রুততম ৫০০০ রান ও ২০০ উইকেটের রেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ওয়ানডেতে সাকিবের উইকেট-সংখ্যা ২২৪। ব্যাট হাতে রান করেছেন ৪৯৮৩। আর মাত্র ১৭ রান করলেই ওয়ানডের সর্বকালের সেরা ৪ অলরাউন্ডারের পাশে ঠাঁই পাবে সাকিবের নাম।

জ্যাক ক্যালিস ১৯৭ ম্যাচে ৫০০০ রান ও ২০০ উইকেট পেয়েছিলেন। এ ক্লাবে ঢুকতে জয়াসুরিয়ার লেগেছিল ২০৪ ম্যাচ। পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ও আব্দুর রাজ্জাকের লেগেছিল ২৩৯ ও ২৫৮ ম্যাচ।

সাকিব ১৭৮তম ওয়ানডে খেলতে ১৫ অক্টোবর কিম্বার্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবেন। এরপর আরো দুটি ওয়ানডে খেলবেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডের কাছে ১৭ রান মামুলি। প্রস্তুতি ম্যাচে ৬৮ রান করা সাকিব এ সফরেই জ্যাক ক্যালিসকে টপকে যাবেন, তা বলাই যায়। 

বাংলাদেশের হয়ে তামিম ইকবাল প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০০০ রান পূর্ণ করেছেন। ড্যাশিং ওপেনারের ওয়ানডেতে রান ৫৭৪৩।

ওয়ানডেতে ৫০০০ রান ও ২০০+ উইকেট

নাম

ম্যাচ

রান

উইকেট

সনাৎ জয়াসুরিয়া

৪৪৫

১৩৪৩০

৩২৩

জ্যাক ক্যালিস

৩২৮

১১৫৭৯

২৭৩

শহীদ আফ্রিদি

৩৯৮

৮০৬৪

৩৯৫

আব্দুর রাজ্জাক

২৬৫

৫০৮০

২৬৯

সাকিব আল হাসান

১৭৭

৪৯৮৩

২২৪

বৃহস্পতিবার ডি ভিলিয়ার্স-ডুমিনিদের মুখোমুখি মাশরাফিরা

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা বাংলাদেশ হেরেছে বাজেভাবে। বাংলাদেশের সামনে এবার ওয়ানডে সিরিজের চ্যালেঞ্জ।

আগামী রোববার কিম্বারলিতে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে বৃহস্পতিবার ব্লুমফন্টেইনে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন মাশরাফি-মুশফিকরা। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়।

প্রস্তুতি ম্যাচে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও জেপি ডুমিনির মতো তারকা ক্রিকেটারও খেলবেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের হয়ে। টেস্ট সিরিজে ব্যর্থ বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার।

সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই টেস্ট সিরিজ খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। রঙিন পোশাকে খেলবেন সাকিব। চোট দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে দিয়েছিল তামিম ইকবালকে। বুধবার তামিম অনুশীলনে ফিরেছেন। প্রস্তুতি ম্যাচে হয়তো খেলবেন না। তবে প্রথম ওয়ানডেতেই ফিরতে পারেন

২ কোটি টাকার স্পন্সর হারালেন বেন স্টোকস

মধ্যরাতে ব্রিস্টলের রাস্তায় মারামারি করে বিপাকে আছেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। একের পর এক দুঃসংবাদ শুনতে হচ্ছে তাকে। ইতিমধ্যে অ্যাশেজ দল থেকে প্রাথমিকভাবে বাদ পড়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার শুনলেন আরো এক দুঃসংবাদ। ক্রীড়া পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিউ ব্যালেন্স স্টোকসের সঙ্গে ২ লাখ পাউন্ড তথা ২ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮৫ টাকার চুক্তি বাতিল করেছে।

অ্যাশেজ সিরিজের জন্য ইংল্যান্ড টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক বেন স্টোকসকে প্রাথমিকভাবে দলে রাখা হয়নি। মূলত এই কারণেই তার সঙ্গে বাৎসরিত ২ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮৫ টাকার চুক্তি বাতিল করেছে নিউ ব্যালেন্স। চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, নিউ ব্যালেন্স আমাদের বিশ্বব্যাপী অ্যাথলেটদের এমন কোনো আচরণ ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে না যেটা আমাদের ব্র্যান্ড, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না। সে কারণে বেন স্টোকসের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করেছি।’

বেন স্টোকসের মারামারির ঘটনায় ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড আলাদাভাবে তদন্ত করছে। অবশ্য বেন স্টোকস জনগনের কাছে, যার সঙ্গে মারামারি করেছে তার সঙ্গে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন দেখার বিষয় তার এমন আচরণের জন্য কী ধরনের শাস্তি হয়।
 

দুপুরে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে শুরু হবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজে মাঠে নামার আগে আজ বৃহস্পতিবার একটি ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি ম্যাচে সফরকারী বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশ। যার নেতৃত্বে রয়েছেন জিয়ান পল ডুমিনি। আছেন তারকা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। কেশব মহারাজ ও এইডেন মার্করামের মতো খেলোয়াড়রা।

ব্লুমফন্টেইনে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে মাঠ নামবেন মাশরাফি-মুশফিকরা।

সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই টেস্ট সিরিজ খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। রঙিন পোশাকে খেলবেন সাকিব। চোট দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে দিয়েছিল তামিম ইকবালকে। বুধবার তামিম অনুশীলনে ফিরেছেন। প্রস্তুতি ম্যাচে হয়তো খেলবেন না। তবে প্রথম ওয়ানডেতেই ফিরতে পারেন।

ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশে যারা রয়েছেন :
জেপি ডুমিনি (অধিনায়ক), ম্যাথিউ ব্রিটসকি, এমবুলেলো বুদাজা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, বেউরান হেনড্রিক্স, হেইনরিচ ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুলডার, মালুসি সিবোতো ও খায়া জোন্দো।

পর পর দুই বলে সাজঘরে সৌম্য-ইমরুল

ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ব্লুমফন্টেইনে এই ম্যাচে খেলছেন না তামিম ইকবাল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ :  ৮.৩ ওভারে ৩২/২।
আউট হয়েছেন : সৌম্য সরকার (৩) ও ইমরুল কায়েস (২৭)।

বাংলাদেশ দল : ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন দাস, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও রুবেল হোসেন।

ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশে যারা রয়েছেন :
জেপি ডুমিনি (অধিনায়ক), ম্যাথিউ ব্রিটসকি, এমবুলেলো বুদাজা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, বেউরান হেনড্রিক্স, হেইনরিচ ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুলডার, মালুসি সিবোতো ও খায়া জোন্দো।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে সপ্তম স্থানে রয়েছে। ৯৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এই অবস্থানে রয়েছে। ৯৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী পাকিস্তান রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা রয়েছে অষ্টম স্থানে। এই তিন দলেরই ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। সুযোগ রয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়ে ওঠা-নামার।

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠস্থানে উঠে আসার। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য একটা সুযোগ। এই সিরিজে বাংলাদেশ যদি স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ১০০। টাইগাররা উঠে যাবে ষষ্ঠস্থানে। বাংলাদেশ যদি দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়, তাহলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯২। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা যদি পাকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট হবে ৯১। আর পাকিস্তানের পয়েন্ট হবে ৮৯। এই সমীকরণেও বাংলাদেশ র‌্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠস্থানে উঠেতে পারে।

তাছাড়া বাংলাদেশ যদি প্রোটিয়াদের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে তাহলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৯৫। আর যদি কোনোভাবে ২-১ ব্যবধানে মাশরাফি বাহিনী সিরিজ জিতে যায় তাহলে রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৭। তাতে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ছয়ে উঠতে পারবে বাংলাদেশ।

তবে পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানেই থাকবে যদি তারা ৫-০ কিংবা ৪-১ ব্যবধানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতে যায়। টেস্টে শ্রীলঙ্কা যেভাবে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করেছে তাতে করে ওয়ানডেতে এই ব্যবধানে পাকিস্তানের পক্ষে সিরিজ জেতা সহজ হবে না।

ভারত সফরেও অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে ঢিল!

টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভারতকে দ্বিতীয় ম্যাচে ৮ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। যে হার মেনে নিতে পারেননি ভারতীয় কিছু উগ্র ভক্ত! গুয়াহাটিতে ম্যাচ শেষে  টিম হোটেলে যাওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়ার বাসে পাথর জাতীয় কিছু ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। তাতে অবশ্য কেউ হতাহত হননি। কিন্তু ঢিল ছুড়ে মারার আকস্মিক ঘটনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্টিভেন স্মিথদের মাঝে।

 

ঘটনার পর ছবিসহ টুইট করে সে খবর জানান ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ, ‘ভয়ঙ্কর ঘটনা। টিম বাসের জানালায় পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে।’ ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায় বাসের কাচ ঢিলের ঘটনায় হয়েছে চুরমার। যদিও ভারত সফরে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

অবশ্য এর আগে বাংলাদেশ সফরেও ঘটেছে এমন ঘটনা। গত মাসে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সময় চট্টগ্রামে একইভাবে পাথর জাতীয় কিছু ছুড়ে মারা হয়েছিল অসি টিম বাসে।

দুবাই টেস্টে শেষ রোমাঞ্চের অপেক্ষা

আবুধাবিতে প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৩৬ রানের জবাবে পাকিস্তান করেছিল ১১৪ রান। ২১ রানের আক্ষেপে পুড়েছিল সরফরাজ আহমেদের দল। এবার দুবাইয়ে ফিরল একই রোমাঞ্চ। আজ শেষ দিনে পাকিস্তানের জয়ের জন্য চাই ১১৯ রান। শ্রীলঙ্কার সিরিজ জিততে প্রয়োজন মাত্র ৫ উইকেট। 

অথচ একটা সময় মনে হয়েছিল দুবাই টেস্ট পঞ্চম দিনে নিয়ে যাওয়াই পাকিস্তানের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৩১৭ রানের লক্ষ্যে নেমে ৫২ রান তুলতেই পাঁচ উইকেট হারায় পাকিস্তান। নাটকীয়ভাবে ম্যাচের পরিবর্তন হয়ে যায় ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে। অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও আসাদ শফিক ২২ গজের ক্রিজে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। লড়াকু এক জুটিতে পাকিস্তানকে শুধু ম্যাচে ফিরিয়ে আনেননি, জয়ের স্বপ্নও দেখাচ্ছেন। চতুর্থ দিন শেষে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান পাকিস্তানের। আসাদ ৮৬ ও সরফরাজ ৫৭ রানে অপরাজিত।

দিনের শেষের মতো দিনের শুরুতেই দাপট দেখায় পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ব্যাটে-বলে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরে স্বরূপে। ৪৮২ রান করা শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট মাত্র ৯৬ রানে। ওয়াহাব রিয়াজ ৪টি এবং হারিস সোহেল নিয়েছেন ৩টি উইকেট। হারিস সোহেল এক ওভারের স্পেলেই পেয়েছেন ৩ উইকেট। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন কুশল মেন্ডিস।

জবাবে ডিনার বিরতির আগে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। একে একে সাজঘরে ফিরেন সামি আসলাম (১), আজহার আলী (১৭), হারিস সোহেল (১০), শান মাসুদ (২১) ও বাবর আজম (০)। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পাকিস্তানকে। ডিনারের পর শুধুই পাকিস্তানের দাপট। কোনো উইকেট না হারিয়ে রান তুলেছেন ২.৭১ গড়ে। ৪০.১ ওভারে ১৪৬ রান করেছেন দুজন।

শ্রীলঙ্কাকে উইকেট না দিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়া এ দুই ব্যাটসম্যান শেষ দিনে পাকিস্তানকে জয় এনে দিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।

পাকিস্তানের সামনে রেকর্ড গড়ার হাতছানি। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেট হারানোর পর শেষ ৫ উইকেটে ২৪৩ রান করে টেস্ট জয় করেছিল। শেষ ৫ উইকেটে এতো রান করে জয়ের রেকর্ড নেই অন্য কারো। সরফরাজরা যদি ১১৯ রান করতে পারে তাহলে শেষ ৫ উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াবে ২৬৫। অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড গড়ে তাহলে নতুন রেকর্ড গড়বে পাকিস্তান।

হঠাৎ কী হলো বাংলাদেশের?

বাংলাদেশ শেষ কবে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল? সেই পরিসংখ্যান বের করতে হলে ২১ টেস্ট পেছনে যেতে হবে। সবশেষ ২০১৪ সালে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ২৮৪ রানে হারিয়েছিল সফরকারী শ্রীলঙ্কা। এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেট ঘুরে দাঁড়ায়। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেয়। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।

এই সফরে যাওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগেও কেউ হয়তো কল্পনা করেনি বাংলাদেশ এমন বাজেভাবে হারবে। বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশের ছন্নছাড়া ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সেই পুরনো কঙ্কাল। অন্তত দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে তাদের বিপক্ষে লড়াই করবে মুশফিক-তামিমরা তেমনটাই প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এমন কী প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানের ব্যবধানে হারার পর ধারনা করা হচ্ছিল দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। কিন্তু কোথায় কী! উল্টো ২১ টেস্ট পর ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জাকে সঙ্গী করল।

যে পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা একের পর এক সেঞ্চুরি তুলল। রান পাহাড় গড়ল। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারল না। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ও স্পিনাররা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ছেলে-খেলা খেলল, সেখানে বাংলাদেশের বোলাররা প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের ন্যুনতম পরীক্ষায় ফেলতে পারল না।

হঠাৎ কী হল বাংলাদেশ দলের?

বোলাররা যেন লাইন-লেন্থ ভুলে গেছেন। পেসারদের বলে বিষ নেই, তেজ নেই। স্পিনাররা টার্ন পাচ্ছেন না। কেমন খাপছাড়া বল করছেন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ব্যাটিংটাই ভুলে গেলেন! কোন বল কিভাবে খেলতে হবে, কোন বলের কী মেরিট সেটার বোধ-বিবেচনাটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। কোন বল খেলতে হবে, কোন বল ছাড়তে হবে- সেটাও যেন বেমালুম ভুলে গেছেন। এ যেন পুরনো সেই বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। যখন একের পর এক টেস্টে ইনিংস ও বড় ব্যবধানে হার মানত বাংলাদেশ। যখন বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশে তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হকদের মতো তারকারা ছিল না। কিন্তু এখন তারকাবহুল দলও এমন বাজেভাবে একটি সিরিজ হারল! এটা কী টেস্ট সিরিজ ছিল? নাকি কোনো দুঃস্বপ্ন?

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ৪৯৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৩২০ রান করল। এ পর্যন্ত মেনে নেয়া যায়। পরের গল্পটুকু যে বিষাদময়। ১৭ বছর ধরে টেস্ট খেলা একটি দলের ক্ষেত্রে এক কথায় লজ্জাজনক ব্যাপার। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ রানে অলআউট হল বাংলাদেশ। হার মানল ৩৩৩ রানের ব্যবধানে।

এরপর ব্লুমফন্টেইনে ভালো কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে শুক্রবার মাঠে নামল বাংলাদেশ। ভালোর উল্টোটা হল। আড়াই দিনেই ইনিংস ও ২৫৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারল। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং তোপের মুখে বাংলাদেশের কেউ কোমর সোজা করে দাঁড়াতেই পারল না। প্রথম ইনিংসে লিটন কুমার দাস যা একটু লড়াই করলেন (৭০)। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে একটু লড়াইয়ের চেষ্টা করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪৩)। বাকিরা থাকলেন আসা যাওয়ার মিছিলে। গতকাল প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলাম ও লিটন কুমার দাস সপ্তম উইকেটে ৫০ রানে জুটি গড়েছিলেন। সেই লিটন আজ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ ৪৩ রানের জুটি গড়লেন। এই জুটিটা ভেঙে যাওয়ার পর মুহুর্তেই খসে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের লেজ। প্রথম ইনিংসে ১৪৭ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৭২ রানে। ইনিংস ও ২৫৪ রানের হার মেনে লজ্জাবনত মস্তিস্কে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ।

ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স সত্যিই বেমানান। পরবর্তী সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে টাইগাররা, সেই প্রত্যাশায় বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা-
প্রথম ইনিংস : ৫৭৩/৪ ডিক্লে. (মার্করাম ১৪৩, ডু প্লেসিস ১৩৫, আমলা ১৩২, এলগার ১১৩; শুভাশীষ ৩/১১৮)।

বাংলাদেশ-
প্রথম ইনিংস : ১৪৭/১০ (লিটন ৭০, ইমরুল ২৬; রাবাদা ৫/৩৩, অলিভিয়ের ৩/৪০)।
দ্বিতীয় ইনিংস : ১৭২/১০ (মাহমুদউল্লাহ ৪৩, ইমরুল ৩২; রাবাদা ৩০/৫, ফেলুকো ৩/৩৬)।

পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরালেন বোলাররা

পাকিস্তানের পেসারদের দাপটে ছন্নছাড়া শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের পেসারদের তোপে পুড়েছে লঙ্কানরা। বোলাররা পাকিস্তানকে ফিরিয়ে এনেছে ম্যাচে।

আবুধাবিতে দুই দলের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কা সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৮২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৬২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ২২০ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ফ্লপ লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। ৩৪ রান তুলতেই সফরকারীদের অর্ধেক ব্যাটসম্যান সাজঘরে। রোববার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ২৫৪ রানে এগিয়ে দিনেশ চান্দিমালের দল।

পাকিস্তানকে শেষ বিকেলে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। ১০ রানে ৩ উইকেট নেন ওয়াহাব। ৩.৩ ওভারেই ওয়াহাব লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডার গুড়িয়ে দেন। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস ও ইয়াসির শাহ। কুশল মেন্ডিস ৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
 


রোববার পুরো দিনটি ছিল বোলারদের। সব মিলিয়ে এদিন ১৫ উইকেট পকেটে পুড়েছেন বোলাররা। ব্যাটসম্যানরা করেছেন মাত্র ২৪৫ রান। অথচ প্রথম দুদিন ১০ উইকেটে রান হয়েছিল ৫৩৩।

বিনা উইকেটে ৫১ রানে দিন শুরু করা পাকিস্তান সবকটি উইকেট হারায় মাত্র ২১১ রানে। শেষ সেশনে ৫ উইকেট হারিয়ে দ্রুত অলআউট হয় পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন আজহার আলী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৬ রান আসে হারিস সোহেলের ব্যাট থেকে। বল হাতে শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন দিলরুয়ান পেরেরা ও রঙ্গনা হেরাথ।

দ্বিতীয় টেস্টের ম্যাচেই নাটাই লঙ্কানদের হাতে। প্রথম টেস্টে ১৩৬ রানের টার্গেটে ২১ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। এবার লক্ষ্যটা আরও অনেক বড়। এ ম্যাচ হারলে সিরিজও হারবে সরফরাজ আহমেদের দল।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে লারার ৪৫ বলের ঝড়?

১৯৯৮ সালে প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলেন ক্রিকেটের বরপুত্র ব্রায়ান চার্লস লারা। সেবার উইলিস ইন্টারন্যাশনাল কাপের আসর বসেছিল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে সেটাই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শিরোপা। শিরোপা আসে দক্ষিণ আফ্রিকার নায়ক থেকে খলনায়কে রূপ নেয়া হেনসি ক্রোনিয়ার হাত ধরে!

দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ব্রায়ান লারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপার কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শিরোপার স্বাদ দিতে পারেননি। তারপরও ক্রিকেটের বরপুত্রের মনে ধরে যায় বাংলাদেশকে! এক বছর যেতে না যেতেই লারা নিজ দলকে নিয়ে চলে আসেন বাংলাদেশে। তখন ছিল না কোনো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। বাংলাদেশ পায়নি টেস্ট স্ট্যাটাসও। তাই খেলতে হয়েছিল শুধু ওয়ানডে ম্যাচ। দুই ম্যাচের জন্য লারার নেতৃত্বে ঢাকায় আসে জিমি অ্যাডামস, ওয়েভাল হাইন্ডস, শিবনারায়ন চন্দরপল, রিকার্ডো পাওয়েলরা। দুটি ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জয় পেলেও লারা ক্যারিয়ার জুড়ে বাংলাদেশের ওই সফরকে স্মরণীয় করে রাখেন ভিন্ন এক কারণে।

ঘটনাটি ৯ অক্টোবর ১৯৯৯ সালের। আগের রাতেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরদিনই আবার একই মাঠে ম্যাচ। প্রথম ওয়ানডেতে ২ রান করা লারা কিছুটা বিষন্ন, কিছুটা বিমর্ষ। পরের ম্যাচে তাই জ্বলে ওঠার জেদ চেপে বসে তার। সেই জেদের বহিঃপ্রকাশ এমনটা হবে তা ভাবতেও পারেননি বাংলাদেশ, ক্রিকেট বিশ্ব।


২২ গজের ক্রিজে তাণ্ডব চালিয়ে ৪৫ বলে ব্রায়ান লারা তুলে নেন সেঞ্চুরি। মনে পড়ছে লারার সেই তাণ্ডবলীলার কথা! ১৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লারা। ২৬ বলে পেয়েছিলেন হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ। পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদির পর সেটি ছিল ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। ৭ বছর এ রেকর্ড ধরে রাখতে পেরেছিলেন। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে হতাশ হয়ে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। তার আউটের জন্য হাপিত্যেশ করে পুরো বাংলাদেশ। জানেন শেষ পর্যন্ত কার বলে আউট হয়েছিলেন ক্রিকেটের এ বরপুত্র? নামটা শুনলে অবাকই হবেন। কারণ হাবিবুল বাশার সুমন আউট করেছিলেন লারাকে। ডানহাতি অফব্রেক বোলার বাশারের সেটিই মাত্র একমাত্র আন্তর্জাতিক উইকেট। লারা আউট হন ১১৭ বলে। ৬২ বলে ১৮ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

লারা অনেকটাই ভাগ্যবান। ১৮ বছর আগে তার গড়া রেকর্ড এখনও ভাঙতে পারেননি কোনো ওপেনার। পরবর্তীতে যারা দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন তারা কেউই ওপেনিংয়ে ছিলেন না।  ১৯৯৬ সালে সনাৎ জয়াসুরিয়ার (৪৮ বল) দ্রুততম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার ছয় মাস পরই শহীদ আফ্রিদি (৩৭ বল) তার রেকর্ড ভাঙেন। আফ্রিদির রেকর্ড টিকে ১৮ বছর। ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি তার রেকর্ড ভাঙেন কোরি অ্যান্ডারসন (৩৬)। কোরি অ্যান্ডারসনও ভাগ্যবান নন। তার রেকর্ডটি টিকে মাত্র ৩৮২ দিন। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ২০১৫ সালে ৩১ বলে করেছিলেন দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। দুই বছরের বেশি সময় ধরে ভিলিয়ার্স নিজের কাছেই  রেখেছেন রেকর্ডটি। মাঝে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার ৪৪ বলে সেঞ্চুরি করে লারার রেকর্ড ভেঙেছিলেন। 

বাংলাদেশের মাটিতে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচের দ্রুততম সেঞ্চুরি লারার। ১ বল বেশি খেলে ২০১৩ সালে ৪৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ব্রেন্ডন টেলর। ঢাকা লিগে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে রাজশাহীতে ঝড় তুলেন টেলর।

লড়াই করতে পারবে টাইগাররা?

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাংলাদেশের জন্য যেন বিভীষিকা। জয় তো দূরের কথা, প্রোটিয়াদের মাটিতে টাইগারদের লড়াকু চেহারাই দেখা যায় না। আগের দুই সফরে প্রতিটি ম্যাচে হার মানা বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম লজ্জাজনক অধ্যায়ের জন্মও সেখানে। ২০০৩ বিশ্বকাপে কানাডার মতো দলের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই। আগের চেয়ে অনেক পরিণত হলেও প্রথম টেস্টে বলতে গেলে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। ব্লুমফন্টেইনে আজ শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে লড়াই করতে পারবে তো? ‍উত্তর খোঁজা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর দুটো থেকে।

 

গত এক দশকে টাইগারদের সাফল্যে বিশাল অবদান সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের। মাঠের বাইরে দুজনে যেমন ঘনিষ্ট বন্ধু, তেমনি মাঠেও লড়াকু যোদ্ধা। অথচ ব্লুমফন্টেইনে সাকিব-তামিমকে ছাড়াই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম নিয়েছেন সাকিব, আর তামিমকে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে পায়ের ইনজুরি। তামিমকে হারানোর হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকও, ‘একাদশে দলের সেরা খেলোয়াড়কে না পাওয়া অবশ্যই বড় ধাক্কা।’

চার বছর পর সাকিব-তামিমকে ছাড়া কোনও টেস্ট খেলছে টাইগাররা। দুই তারকার অনুপস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য আরেকটি আশঙ্কা, ব্লুমফন্টেইনের সবুজ উইকেট। পচেফস্ট্রুম টেস্টের উইকেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ফাফ ডু প্লেসিস। এবার তাই সবুজ উইকেট দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা দক্ষিণ আফ্রিকার।

অবশ্য পেসবান্ধব পিচ যে বাংলাদেশের ‘সর্বনাশ’ করবে, আগে থেকে তা ভাবার কোনও কারণ নেই। রুবেল-মোস্তাফিজ-তাসকিন-শফিউলকে নিয়ে গড়া পেস আক্রমণকে হেলাফেলা করার উপায় নেই। বরং ব্যাটিং নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ রানে গুটিয়ে গেলেও প্রথম ইনিংসে ভালোই ব্যাটিং করেছিল টাইগাররা, মুমিনুল আর মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছিল দুটো চমৎকার ইনিংস। মুশফিক-তামিম-সাব্বিররা অবশ্য সম্ভাবনা জাগিয়েও ফিফটিতে পৌঁছাতে পারেননি।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা এখানেই, শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করতে না পারা। অনেক ‘গবেষণা’ করেও এই সমস্যা থেকে যে বেরিয়ে আসা যায়নি তার বড় প্রমাণ পচেফস্ট্রুম টেস্ট।

তবে পেছনের কথা মনে রেখে লাভ নেই। ভুল শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মুশফিকও প্রথম টেস্টের দুঃসহ স্মৃতি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তার উপলব্ধি, ‘আমরা প্রথম টেস্ট বাজেভাবে হেরেছি, তবে আরেকটা সুযোগ আছে আমাদের।’

ব্লুমফন্টেইনে সত্যিই আরেকটি সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ এবার কাজে লাগাতে পারবে টাইগাররা?

তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশের ‘টেস্ট’

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তার। অবশ্য শুধু রান দিয়ে তামিম ইকবালের ব্যাটিং সামর্থ্য তুলে ধরা কঠিন।

 

ব্যাটিংয়ে বর্তমান বাংলাদেশ দলের নির্ভরতার প্রতীক তিনি। গত কয়েক বছর ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম করে বাংলাদেশের সাফল্যের পথটা করেছেন চওড়া। সেই তাকে ছাড়া টেস্টে খেলতে নামলে অধিনায়কের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ তো পড়বেই!

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পর থেকেই দুশ্চিন্তার মেঘ উড়াউড়ি করছে তামিমকে ঘিরে। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পড়লেন চোটে। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর স্ক্যানে জানা গেল পায়ের পেশিতে টান পড়েছে তার। তাতে অনিশ্চয়তার পর্দা পড়ে তামিমের প্রথম টেস্ট খেলা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য শঙ্কার মেঘ কেটে তামিম মাঠে নেমেছিলেন। যদিও বড্ড তাড়াতাড়িই করে ফেলেছিলেন তিনি। বিষয়টা বোঝা যাচ্ছে এখন, যখন জানা গেছে পুরানো ওই চোটটা নতুন করে ফিরে এসেছে আবার। যার খেসারত হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্লুমফন্টেইনের দ্বিতীয় টেস্টে নেই বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনার।

২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়ার পর তৃতীয়বার ঘটছে এমনটা, যেখানে বাংলাদেশকে টেস্টে খেলতে হচ্ছে তাকে ছাড়া। হার-জিত কিংবা ড্র, তামিম বরাবরই সামলেছেন ওপেনিংয়ের দায়িত্ব। পায়ের চোটটা এবার বাধা হয়ে দাঁড়ালো তার সামনে। ২০১৩ সালের পর আবারও টেস্ট মিস করছেন এই ওপেনার। ওই বছরই দুবার খেলতে পারেননি তিনি পাঁচ দিনের ম্যাচ। প্রথমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, পরে জিম্বাবুয়ে সফরে।

অভিষেকের পর প্রথমবার কোনও টেস্ট মিস হয় তামিমের ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। গলের ওই টেস্টে তামিমের অভাবটা অবশ্য টের পায়নি টাইগাররা। তিনি না থাকলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরির (২০০) সঙ্গে মোহাম্মদ আশরাফুল খেলেছিলেন ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাদের সঙ্গে নাসির হোসেনের (১০০) সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে করেছিল ৬৩৮ রান। শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে ৫৭০ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর দ্বিতীয় ইনিংসও ঘোষণা করেছিল ৪ উইকেটে ৩৩৫ রানে। মাঝে বাংলাদেশের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে গল টেস্ট এমনিতেই এগোচ্ছিল ড্রয়ের দিকে। শেষ পর্যন্ত টাইগাররা ১ উইকেট হারিয়ে ৭০ রান করার পর ড্রতে শেষ হয় ম্যাচটি।

এমন পারফরম্যান্সের পর জোর দিয়েই বলা যায় তামিমের না থাকাটা ওই ম্যাচে প্রভাব ফেলেনি একেবারেই। শুধু তামিম নন, গলের ওই টেস্টে ছিলেন না সাকিব আল হাসানও! ২০১৩ সালের পর ব্লুমফন্টেইনে আবারও বাংলাদেশ নামতে যাচ্ছে দলের সেরা দুই খেলোয়াড়কে ছাড়া।

ওই ২০১৩ সালেই তামিমকে ছাড়া আবারও টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে এই ওপেনারকে ছাড়া অবশ্য ভুগতে হয়েছিল খুব। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচটি হেরেছিল সফরকারীরা ৩৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৮৯ রানের পর বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল মাত্র ১৩৫ রান। পরে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে ২২৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয় মুশফিকদের, এবার ১৪৭ রানে গুটিয়ে গিয়ে বড় হার নিয়ে ছাড়তে হয় মাঠ। দ্বিতীয় টেস্টে তামিম ফিরলে বাংলাদেশও ফেরে জয়ে। স্বাগতিকদের হারিয়েছিল ওই ম্যাচে ১৪৩ রানে।

চার বছর পর আবারও তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশের পরীক্ষা। সাকিবের অভাবটাই কাটাতে পারেনি পচেফস্ট্রুমে, সেখানে তামিমের না থাকাটা যে দলের জন্য বড় ধাক্কা, সেটা বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বলে গেছেন অধিনায়ক মুশফিক। যদিও সেই ধাক্কা কাটিয়ে ভালো খেলার কথাও শুনিয়ে গেছেন তিনি।

কিন্তু প্রথম টেস্টে বাজেভাবে হারের পর ব্লুমফন্টেইনে প্রোটিয়াদের পেস বোলারদের সামনে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। ‘অনভিজ্ঞ’ স্কোয়াডে মুশফিক ও ইমরুল কায়েসের সঙ্গে কেবল তামিমেরই অভিজ্ঞতা আছে এই মাঠে খেলার। ২০০৮ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ব্লুমফন্টেইন টেস্টে তামিম প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছিলেন ৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ২০ রান। তার ব্যর্থতার ম্যাচে বাংলাদেশও হেরেছিল ইনিংস ও ১২৯ রানে।

সেখানেই শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া টেস্টে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। যে পরীক্ষায় নামতে হবে এবার তামিমকে ছাড়া।



Go Top