রাত ১১:৪০, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ চট্রগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সদ্য প্রয়াত সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শেষ বারের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলোশহরের চশমা হিলের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সেতুমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হৃদয়জুড়ে, অন্তরজুড়ে শুধুই চট্টগ্রাম, এই মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতেন।

আজকে চট্টগ্রামে যে বাঁধভাঙা শোককাতুর মানুষ দেখছি, সেটা থেকেই বোঝা যায় তার প্রতি মানুষে ভালোবাসা কতটা প্রকট। চট্টগ্রাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। আমাদের নেত্রী তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। তিনি বলতেন, আমার স্বপ্ন, আমার ধ্যান, আমার প্রাণ, আমার সবকিছুই

 

দাউদকান্দিতে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় চট্টগ্রামগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো ৮ জন যাত্রী।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার রায়পুর এলাকায় এ দুঘর্টনা ঘটে।আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন (৩৫), আবু হানিফ (৬) ও নুরুল হাসান রিফাত (২৯)। দুর্ঘটনায় অপর নিহত সাতকানিয়া এলাকার আমজাদ হোসেন (২৮)। তবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামে গাড়ি চাপায় নারী নিহত

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় গাড়ি চাপায় এক নারী নিহত হয়েছে। নিহত মমতা বেগম (৩০) সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা। সোমবার সকালে উপজেলার লালবেগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার।

তিনি বলেন, সকালে রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ি চাপায় মমতা আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে কোন গাড়ি মমতাকে চাপা দিয়ে চলে গেছে তা শনাক্ত করা যায়নি বলে তার স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান এএসআই আলাউদ্দিন।

 

নানা রোগে ৩ মাসে ৪৭ রোহিঙ্গার মৃত্যু

কক্সবাজার প্রতিনিধি: মিয়ানমারের রাখাইন স্টেট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিশাল অংশ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত ও ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে অনেকের শরীরেই রয়েছে একাধিক রোগের জীবাণু। ডায়রিয়া, আমাশয়, পোলিও, পেপাটাইটিস এ ও ই, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, কলেরা, হাম, কালাজ্বর, গুটি বসন্ত, চর্মরোগ, বিলুপ্ত ডিপথেরিয়াসহ মারাত্মক সব পানিবাহিত ও ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে গত সাড়ে ৩ মাসে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৭ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৪১ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে ডিপথেরিয়ায় ৬ ও এইডসে ২ জনসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জন রোহিঙ্গা মারা গেছে। ফলে স্থানীয় অধিবাসীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কাটছে না কোনোমতেই।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. শাহীন আবদুর রহমান  বলেন, রোহিঙ্গা গোষ্ঠীটি মিয়ানমারে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। আমাদের দেশে আমরা বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে নানা ধরনের টিকা গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু তারা এদেশে আসার আগে কখনো কোন ধরনের টিকা গ্রহণ করেনি। এজন্য রোহিঙ্গারা নানা ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত। পাশাপাশি তাদের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ।

তিনি আরো বলেন, গত সাড়ে তিন মাস ধরে সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ রোহিঙ্গা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরএমও আরো বলেন, একটি রোগাক্রান্ত বিশাল জনগোষ্ঠী যখন কোন এলাকায় প্রবেশ করবে তখন সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের উপরও তার প্রভাব পড়ে। তাই স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের বাসিন্দারা। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন  বলেন, জাতিসংঘ ও আরআরআরসি হিসেব মতে, গত সাড়ে ৩ মাসে কক্সবাজারে প্রবেশ করেছে ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৮১ জন রোহিঙ্গা। তবে এই হিসেব করা হয়েছে স্থানীয়দের থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে। তিনি আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা দেশি বিদেশি এনজিও’র কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, আগত রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ নানা রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশী।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম   বলেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৭ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৪১ জন রোহিঙ্গাকে চিকিৎসা দিয়েছে। এদের মধ্যে ডায়রিয়া রোগী ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫১৯ জন, সর্দি, জ্বর, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ২ লক্ষ ৪ হাজার ৮৪০ জন, হামের রোগী ৬৮ জন, জন্ডিসে আক্রান্ত ১ হাজার ৩৬৫ জন, চর্মরোগী ৬৫ হাজার ২৩১ জন, অপুষ্টির শিকার ২০ হাজার ৯৩৬ জন, মানসিক সমস্যায় ভুগছে ৩ হাজার ২৪২ জন, টিবি’তে আক্রান্ত ৭৪ জন। এছাড়া অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্ত ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৫৭৭ জন রোহিঙ্গাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ১০৭ জন এইডস রোগী এবং ১১০ জন ডিপথেরিয়া আক্রান্তকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে ৩ হাজার নারী এদেশে এসে সন্তান প্রসব করেছে। এছাড়া এই মুহুর্তে গর্ভবতী নারী রয়েছে আরো ২২ হাজার।  নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৭ জন রোহিঙ্গা মারা গেছে। সিভিল সার্জন আরো বলেন, একজন রোহিঙ্গার শরীরে একাধিক রোগ রয়েছে। এমন রোগীও আমরা পেয়েছি যিনি একদিকে সর্দি, জ্বরে আক্রান্ত, অন্যদিকে সারা শরীরে চর্মরোগ রয়েছে। এছাড়া পাশাপাশি সেই রোগী অপুষ্টিরও শিকার ছিল। সরেজমিনে কুতুপালং, বালুখালি, মধুরছড়া, গুলশান পাহাড়, আমতলী ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে দেখা যায়, মেডিকেল ক্যাম্পগুলোর সামনে লম্বা ভিড়। চিকিৎসকরা আগতদের অধিকাংশ চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয় ও সর্দি জ্বরে আক্রান্ত। আগতদের বেশীরভাগ, শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। ওই সময় আমতলী রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা রোহিঙ্গা নারী সুফিয়া  বলেন, মিয়ানমারের থাকা অবস্থা থেকেই তার মাঝে মাঝে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসত। আবার ঘাম দিয়ে ছেড়ে যেতো। তার হাঁটুতে, বাহুতে ব্যথা করে। এজন্যই মেডিকেল ক্যাম্পে এসেছেন। এখানে আসার পর তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। পরে তার শরীরের ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে। এখন তিনি এসেছেন ম্যালেরিয়ার ওষুধ নিতে।

এ বিষয়ে রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল টিমের এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, রোহিঙ্গারা অসচেতন। তাদেরকে সচেতন করতে গত তিন মাস আমরা এখানে কাজ করছি। যাদের সাথে আমরা এ পর্যন্ত কাজ করেছি তাদের শতকরা ৫ ভাগকে সচেতন করতে পেরেছি। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন  বলেন, কলেরা, টাইফয়েড়, ডিপথেরিয়া, পোলিও ও হামের মত ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গারা। এদের সেবা দিতে উখিয়ায় ৪৮ টি ও টেকনাফে ১২টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম  বলেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৯৭ জনকে কলেরার টিকা, ১ লক্ষ ২৭ হাজার জনকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল, ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৫০ জনকে রুবেলার টিকা ও ৬৯ হাজার ৫৩৯ জন রোহিঙ্গাকে পোলিওর টিকা খাওয়ানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শনিবার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিপথেরিয়ার প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ৫ লক্ষ রোহিঙ্গাকে এই টিকা প্রদান করব। এছাড়া রোহিঙ্গাদের চিকিৎসায়, ১০০ জন এমবিবিএস, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল স্টুডেন্টসহ ২ হাজার জনবল কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জে ব্যাংকে অগ্নিকাণ্ড, নিরাপত্তাকর্মী নিহত

নারায়ণগঞ্জে ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) একটি শাখা আগুনে ভষ্মীভূত হয়েছে; মৃত্যু হয়েছে এক নিরাপত্তাকর্মীর। রোববার সকালে শহরের টানবাজার এলাকায় এ ঘটনায় আগুন নেভাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ফায়ার সাভিসের এক কর্মী।

সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কমিশনার অসিত বরণ বিশ্বাস জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টানবাজারের বিপণি বিতান ‘পদ্মা সিটি প্লাজা-১’ এর তৃতীয় তলায় ইউসিবির নারায়ণগঞ্জ শাখায় আগুনের সূত্রপাত্র হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মামুনুর রশিদ বলেন, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ব্যাংকের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। তবে অন্য কোনো ফ্ল্যাটে আগুন ছড়াতে না পারায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।

ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক নুরুল আবছার জানান, আগুনে ব্যাংকের সব আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও বেশ কিছু নথিপত্র পুড়ে গেছে। তবে ভল্ট অক্ষত রয়েছে।   

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ১০ তলা ওই ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিপণি বিতান। তৃতীয় তলায় ইউসিবির পাশাপাশি কৃষি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। আর উপরের ফ্লোরগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস ও আবাসিক ফ্ল্যাট।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভোরের দিকে হৈচৈ শুনে তিনি বাইরে এসে পদ্মা সিটি প্লাজার তৃতীয় তলায় আগুনের শিখা দেখেন। অল্প সময়ের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে ওই ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আশ্রয়ের আশায় ছাদে উঠে যান।পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ছাদে আটকা পড়া ৩৫ জনকে উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন।

আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ব্যাংকের মূল ফটকের তালা কেটে ভেতর থেকে সেলিম মিয়া নামে ৪৩ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীর পোড়া লাশ উদ্ধার করেন।

আর আগুন নেভানোর সময় ছাদ থেকে পড়ে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

সেনবাগে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার সোনাইমুড়ি-কানকিরহাট সড়কের পাকা রাস্তার মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সোনাইমুড়ি উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের মিজান (৩৫), সুজন (৩২) ও রাসেল (৩০)। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী  জানান, সেনবাগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে তারা মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন। তারা সোনাইমুড়ি-কানকিরহাট সড়কের পাকা রাস্তার মাথা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুজন ও রাসেল মারা যান। গুরুতর অাহত মিজানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

কক্সবাজারে ‘দুই পক্ষের গোলাগুলিতে’ নিহত ১

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, শনিবার ভোরে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কাঁঠালতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. কাউছার আলম (৩৭) ওই ইউনিয়নের পূর্ব কালাগাজী পাড়ার জোনাব আলীর ছেলে। ওসি প্রদীপ বলেন, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য দুই দল সন্ত্রাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়।

“এ সময় পাহাড়ের খাদ থেকে কাউছারকে চোখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ২টায় তার মৃত্যু হয়।”

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি বন্দুক ও চারটি গুলি উদ্ধার করেছে বলে জানান ওসি প্রদীপ। তিনি বলেন, পূর্ব কালাগাজী পাড়ায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জোনাব আলী ও জালাল বাহিনীর মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জেরে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত কাউছারের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মহেশখালী থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

চট্টগ্রামে বাসচাপায় মাছ বিক্রেতা নিহত

চট্টগ্রামে বাসচাপায় এক মাছ বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে নগরী মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

নিহত- আবু নাছের (৫২) ভ্রাম্যমাণ মাছ বিক্রেতা ছিলেন। নাছের সকালে কাজীর দেউড়ি দুই নম্বর গলির বাসা থেকে রিকশা নিয়ে ফিশারি ঘাটে মাছ কিনতে যাচ্ছিলেন বলে জানান তার ছেলে আবুল হোসেন।

কোতোয়ালি থানার এসআই আক্তার হোসেন  জানান, মিউনিসিপ্যাল স্কুলের সামনে দ্রুতগামী একটি বাস নাছেরকে বহনকারী রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় নাছেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাছেরকে চাপা দেওয়া বাসটি আটক করা যায়নি বলে জানান এসআই আক্তার।

 

সাগরে নিম্নচাপ, ১ নম্বর সংকেত

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

সে সময় নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪৪ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

সেই সঙ্গে সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করার এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিসেম্বরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছিল, বছরের শেষ মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা নিম্নচাপে পরিণত হওয়ারও সম্ভাবনা আছে।

এর আগে নভেম্বরের মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হলেও পরে তা শক্তি হারিয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়।

 

ইউনিসেফ রিপোর্টে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি ভয়াবহ

করতোয়া ডেস্ক: রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।  মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ একটি রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

২৫ আগস্টের পর থেকে ছয় লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নতুনভাবে আসা শরণার্থীদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ শিশু। প্রত্যেক সপ্তাহে হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে আসা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে নো ম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়ে আছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। বর্তমানে সেখানেও আতঙ্কের মধ্যেই তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত ১৫ নভেম্বর ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। সেখানে এক লাখ ৫৬ হাজার দুইশ পাঁচ জন শিশুকে ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়। এছাড়া দুই বছর থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের ক্রিমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এক লাখ চার হাজার ৪৮ জন শিশুকে ক্রিমির ট্যাবলেট খাওয়ানোর তথ্য রয়েছে।

৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত হামের টিকা দেয়া হয়েছে। এক হাজার সাতশ ১৪ জনের হাম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দু’জন মারা গেছে। তিন লাখ ২৫ হাজার চারশ ৫৭ জন শিশুকে হামের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে ইউনিসেফ। ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবককে সেবাদানের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইউনিসেফ। শরণার্থী শিশুদের দুরাবস্থা এবং তাদের পরিবারকে মানবিক সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে সংস্থাটি। ইউনিসেফ বলছে, সাত লাখ ২০ হাজার শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১২ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আসা তিন লাখ ৬২ হাজার পাঁচশ শিশুর মানবিক সহায়তা দরকার। ৩০ নভেম্বর ২০১৭ সালের হিসাবমতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

প্রিতিনিয়ত সেই সংখ্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে ইতোমধ্যেই ছয় লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, খাবার এবং নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। অথচ তারা একেবারে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। পরিবার-স্বজন হারিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা ভিন্ন ধরনের এক বাস্তবতার সাক্ষী হয়ে থাকছে। কাপড় ধোয়ার উপাদানের অভাবে তারা নোংরা জামাকাপড় পরে দিন পার করছে। এতে করে অসুস্থ্য হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। নতুনভাবে আসা রোহিঙ্গাদের বিশেষ করে নারীদের গোসলের ব্যবস্থা তেমন একটা নেই বললেই চলে। পয়ঃনিষ্কাশনে দুরাবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আগেই কলেরার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে মহামারী দেখা দিতে পারে। এছাড়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা নানা ধরনের সহিংসতা বিশেষ করে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া এবং বাল্যবিবাহ দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চার থেকে ১৮ বছরের চার লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষার প্রয়োজনেরও কথা জানিয়েছে ইউনিসেফ।

নানিয়ারচরে সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপিডিএফ ও সদ্যগঠিত ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’ পরস্পরকে দায়ী করেছে।

নানিয়ারচর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ জানান, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। নিহত অনাধি রঞ্জন চাকমা (৫৫) উপজেলার চিরঞ্জীব দোজরপাড়া এলাকার কুমুজ্যা চাকমার ছেলে।

ইউপিডিএফ মুখপাত্র বাবলু চাকমার অভিযোগ, “নবগঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের ক্যাডাররা রঞ্জন চাকমাকে সকালে তার বাড়ি থেকে ডেকে গুলি করে হত্যা করে চলে যায়।

“রঞ্জন ছিলেন পাহাড়ে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়িদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সমর্থক।”

তিনি এ ঘটনার নিন্দাসহ প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।  তবে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা বলছেন, “রঞ্জনসহ কয়েকজন ইউপিডিএফকর্মী কয়েক দিন ধরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন আমাদের দলে যোগ দিতে। সকালে তারা আমাদের দলে যোগ দিতে আসার পথেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি লতিফ।

১৯৯৭ সালে পার্বত্যচুক্তির বিরোধিতা করে পাহাড়ে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে জন্ম নেয় প্রসিৎ বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ নামের সংগঠনটি। সম্প্রতি এই সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত ও বের হয়ে যাওয়া কিছু নেতাকর্মী মিলে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে আরেকটি সংগঠন গড়েছে।   

 

ভোটে না এলে মুসলিম লীগের ভাগ্য হবে বিএনপির: কাদের

কক্সবাজার প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে না এলে বিএনপিকে মুসলিম লীগের ভাগ্য বরণ করতে হবে।
কক্সবাজারের কলাতলীর একটি হোটেলে সোমবার রোহিঙ্গাদের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, বিএনপির আসলে কোনো পুঁজি নেই; অর্থ-পুঁজি আছে। কথামালার চাতুরি ও স্ট্যান্টবাজি ছাড়া তাদের কোনো পুঁজি নেই। আগামী নির্বাচনে জেতার মতো বিএনপির কাছে কোনো ধরনের পুঁজি নেই। যত দিন যাচ্ছে, বিএনপির মধ্যে নেতিবাচক রাজনীতির চর্চা বাড়ছে মন্তব্য করে কাদের বলেন, ক্রমাগত মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজাতে বাজাতে বিএনপি এখন এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে, তারা নিজেরাও জানে আগামী নির্বাচনে না এলে মুসলিম লীগের মত করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে। ১৯০৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগ ব্রিটিশ ভারতের শেষ দিনগুলোতে দারুণ জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনে মুসলিম লীগের নেতারাই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তবে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর বাঙালির স্বাধীকারের দাবি যত জোরালো হয়েছে, মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা তত কমেছে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে দলটি মাত্র আটটি আসন পায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেন এ দলের অনেক নেতা। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যদি কোনো কারণে বিলম্বিত হয়, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকার তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া খুব সহজ নয়। এ পর্যন্ত ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত শত করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এত মানুষকে খুব সহজে প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।

তাই বিলম্বিত হতে পারে। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ, প্রকৃতি, সামাজিক অস্থিরতা, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিসহ নানাভাবে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের। এ সময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান সন্তু লারমার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে বসব। এতে শান্তিচুক্তির যেসব শর্ত বাস্তবায়ন হয়নি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; এগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে  আমি নিজেই প্রথমে তাদের সঙ্গে বৈঠক করব। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ ব্যাপারে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবদুর রহমান বদি, আশেক উল্লাহ রফিক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার রোটন, ওসমান গণি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে ছিলেন।

 

সদর দক্ষিণে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরাফাত রহমান রিফাত নামে একটি ট্রাক চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন। একই সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সদর দক্ষিণের হাড়াতলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মাহবুবুর রহমান জানান, সকালে হাড়াতলি এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে একটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় আরাফাত ট্রাক থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই আরাফাতের মৃত্যু হয়।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত হয় কাভার্ডভ্যান চালকের সহকারী ও ট্রাকের চালক। আহতরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ মরদেহ ও গাড়ি দু’টি উদ্ধার করেছে।

লক্ষ্মীপুরে ৩ বন্দুকসহ আসামি গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরের বালাইশপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি বন্দুকসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. মোক্তার হোসেন জানান, সোমবার সকালে বশিকপুর ইউনিয়নের বালাইশপুরে এই অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর (৪০) ওই এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওসি মোক্তার বলেন, “গোপনে খবর পেয়ে হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

“পরে তার হেফাজতে থাকা একই এলাকার একটি বাগান থেকে চটে মোড়ানো দুটি একনলা ও একটি দো-নলা বন্দুক আর ১৮টি গুলি উদ্ধার করা হয়।” এ ঘটনায় জাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

 

চট্টগ্রামে পরিবহন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম শহরের একটি বাস টার্মিনালে এক পরিবহন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত মো. হারুণ (৩৮) পরিবহন ব্যবসায়ী বলে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় বলতে পারেনি পুলিশ। সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, কদমতলী শুভপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় একদল সন্ত্রাসী হারুণকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে মো. কামাল উদ্দীন (৫২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (০১ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের কালিগন্যা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কামাল উদ্দীন ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে জমিতে কাজ করছিলেন কৃষক মো. কামাল উদ্দীন। এসময় পার্শ্ববর্তী জঙ্গল থেকে ৩-৪টি হাতি লোকালয়ে হানা দেয়। হাতির উপস্থিতি টের পেয়ে কামাল উদ্দীন পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা পাননি। হাতির পায়ের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে পাহাড়ে খাদ্যের অভাবে হাতির পালটি লোকালয়ে হানা দিয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওই কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

নোয়াখালীতে পিকআপের ধাক্কায় কলেজছাত্রী নিহত

নোয়াখালীতে পিকআপের ধাক্কায় অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে; এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে মাইজদী বাজারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আনিসা আনান (১৭) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গাজিপুর গ্রামের অলি আহমেদের মেয়ে। আনিসা নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন।

আনিসার বাবা নোয়াখালী স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী। তিনি বলেন, সকালে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে গিয়ে মেয়েকে মৃত দেখতে পান। পুলিশ বলেছে, আনিসা ও সুমাইয়া নামে এক শিক্ষার্থী অটোরিকশায় করে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিলেন মাস্টারপাড়ায় এক শিক্ষকের বাসায়। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী পিকআপটি ধাক্কা দিলে অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে আনিসা, সুমাইয়া ও অটোরিকশার চালক ফকির ইসলাম আহত হন।

ওসি আনোয়ার বলেন, স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আনিসাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

চট্টগ্রামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১

চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে একে-২২ রাইফেল। র‌্যাব বলছে, নিহত মহিম উদ্দিন ওরফে মহিন (৩৬) চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার পেছনে চিটাগাং ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন রেল লাইনে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে বলে র‌্যাব-৭ এর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমানের ভাষ্য।

তিনি বলেন,“ওই এলাকায় একদল সন্ত্রাসীর অবস্থানের খবর পেয়ে র‌্যাবের টহল দল ভোরের দিকে সেখানে যায়। সন্ত্রাসীরা র‌্যাব সদস্যদের দিকে গুলি ছুড়লে র‌্যাবও আন্তরাক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে সেখানে একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।”

গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয়রা নিহতকে মহিন হিসেবে শনাক্ত করেন বলে র‌্যাব কর্মকর্তা আশক জানান।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ৫৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-৭ এর স্টাফ অফিসার এএসপি মিমতানুর রহমান বলেন, “মহিন বায়েজিদ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। নগরীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৮টি মামলা রয়েছে।”

 

চাঁদপুরে শিক্ষক খুনে যুবকের যাবজ্জীবন

চাঁদপুরের কচুয়ায় মক্তবের শিক্ষক হত্যা মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমদ এ রায় দেন।

দণ্ডিত মোহাম্মদ রনি কচুয়া উপজেলার শিলাস্থন গ্রামের সরকার বাড়ির শাহজাহান কারীর ছেলে। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মামলার বরাত দিয়ে পিপি আমান উল্লাহ জানান, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর সকালে মক্তবে শিক্ষার্থীদেরকে আরবি পড়ানোর সময় এ আকস্মিক হামলা চালিয়ে শাহ আলমকে (৬০) ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন রনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর রনি পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। ঘটনার দিন বিকালে শাহ আলমের স্ত্রী রহিমা বেগম বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

 

কসবায় ডাকাত সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এলাকাবাসী ডাকাত সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কসবা থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন বলেন, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের হরিণাবহ গ্রামে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-ঠিকানা জানাতে পারেনি।

ওসি মহিউদ্দিন এলাকাবাসীর বরাতে বলেন, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে একদল ডাকাত ওই গ্রামের একটি বটগাছের নিচে জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

“স্থানীয়রা তাদের ওপর হামলা করলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।” লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

সোনারগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে কিশোরের মৃত্যু

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় সোমবার বিকেলে জনি (১২) নামে এক কিশোর বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে মারা গেছে। নিহত কিশোরের দিনমজুর বাবা মোহন মিয়া জানান, তার ছেলে  বিকেলে সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও বেড়িবাঁধ খালপাড় এলাকায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে যায়। এ সময় ওই এলাকার ইউনুছ মিয়ার বাড়ির বিদ্যুতের মিটারের সংযোগ তারে পেচিয়ে ঘটনাস্থলে সে মারা যায়। পরে খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোর জনির মৃতদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আ. লীগ নেত্রী খুনে গ্রেপ্তার ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তার হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার মধ্য রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রোববার দুপুরে।

গ্রেপ্তারা হলেন নবীনগরের জিনোদপুর ইউনিয়নের চারপাড়া গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে সাঈদ (৩৫) ও একই ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের আবুল কালামের ছেলেআবু জাহের (৩২)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানান, আবু জাহেরকে নবীনগরের জিনোদপুর ইউনিয়নের জিনোদপুর গ্রাম ও সাঈদকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত বুধবার (২২ নভেম্বর) রাতে স্বপ্না আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে একদল হামলাকারী। এ ঘটনায় ওইদিন মধ্যরাতে স্বপ্নার ভাই আমির হোসেন সাত জনের নামে নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাঙ্গীর নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালককে আটক করে পুলিশ।

 

চট্টগ্রামে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বাস থেকে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- বাসটির চালক মোস্তফা (৫৫), যাত্রী রিফাত (৩২) ও জোবায়ের (২৪)।

শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে বন্দরনগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে তুবা লাইন পরিবহনের বাস থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানান র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র এএসপি মিমতানুর রহমান।

তিনি বলেন, আগে থেকে খবর পেয়ে কক্সাবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসটিকে নিউ মার্কেট মোড়ে তল্লাশি করা হয়। বাসের ইঞ্জিন কভার ও দুই যাত্রীর কাছে থাকা সুপারির ব্যাগে এসব ইয়াবা পাওয়া যায়।

র‍্যাব বাসটিকে আটক করেছে। গ্রেপ্তার দুই যাত্রী কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান র‍্যাব কর্মকর্তা মিমতানুর।

 

চাঁদপুরে গলায় মাফলার পেঁচানো লাশ

চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের গলায় মাফলার পেঁচানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর থানার এসআই অনুপ বড়ুয়া জানান, বুধবার রাতে বিষ্ণুদী এলাকার একটি বাঁশঝাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬০ বছর বলে জানালেও পুলিশ তার পরিচয় বলতে পারেনি। এসআই অনুপ বলেন, রাতে স্থানীয় এক নারী লাশটি দেখতে পেয়ে অন্যদের জানান। পরে পুলিশ খবর পেয়ে লাশটি থানায় নিয়ে আসে।

“তার গলা মাফলার দিয়ে পেঁচানো ছিল। চোখ থেকে রক্ত গড়ানোর দাগ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।” লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দেখছে।

 

কক্সবাজারে ১০ বন্দুকসহ ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০টি দেশি বন্দুকসহ ১২ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

আটক মোহাম্মদ শাহজাহান (৪২) কেরুনতলী এলাকার আবদুল মাবুদের ছেলে। ওসি প্রদীপ বলেন, সিন্ডিকেটের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড় হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ দেখে চার-পাঁচজন পালিয়ে গেলেও শাহজাহান ধরা পড়েন।

“এ সময় তার কাছে ১০টি দেশে তৈরি বন্দুক ও ১০টি গুলি পাওয়া গেছে। শাহজাহান তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তারা কেন জড় হয়েছিল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যেতে পারে।”

গ্রেপ্তার শাহজাহানের নামে মহেশখালী থানায় জমি দখল, অপহরণ ও অস্ত্রসহ ১২টি মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মালপত্রসহ ৫ ডাকাত গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাছবোঝাই ট্রাক ও দরজাবোঝাই পিকআপ ডাকাতির সময় দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; উদ্ধার করা হয়েছে মাছ বেচা টাকা ও সব দরজা।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১৩ ও ১৮ নভেম্বর দুটি হত্যাকাণ্ডসহ ডাকাতির ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন – আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া গ্রামের আব্দুর রহমান মিয়ার ছেলে আব্দুল হক, সুলেমান মিয়ার ছেলে আবু তালেব সুমন, বাদল মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম, জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্চ এলাকার লক্কু মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও শাহজাহান মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৮ নভেম্বর মাছবোঝাই ট্রাক লুটসহ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ অভিযানে নামে। “গোপন খবরের ভিত্তিতে প্রথমে আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া গ্রাম থেকে তালেবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ১৩ নভেম্বর রাতে লুট হওয়া ৭২টি দরজা উদ্ধার করে পুলিশ। আর ১৮ নভেম্বর সরাইল থেকে লুট হওয়া মাছ বিক্রির এক লাখ চার হাজার ৬৯৫ টাকাও উদ্ধার করা হয়।”

গত ১৩ নভেম্বর রাতে আশুগঞ্জ থানার বাহাদুরপুর তালশহর রাস্তা থেকে ডাকাতরা একটি পিকআপ ভ্যানে বহন করার সময় ৭০টি দরজা লুট করে। এ সময় গাড়িতে থাকা দেওয়ান এন্টার প্রাইজের ব্যবস্থাপক কামাল আহাম্মেদকে হত্যা করে ডাকাতরা।

এদিকে ১৮ নভেম্বর সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ডাকাতরা একটি মাছবোঝাই ট্রাক লুট করে। এ সময় মাছের মালিক রফিক মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে তারা।

গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

চাঁদপুরে পিইসির প্রশ্ন ‘ফাঁস’, আটক ২

প্রশ্ন ফাঁসের মধ্যে জেএসসি পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার ‘ফাঁস হওয়া’ প্রশ্নসহ চাঁদপুরে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৭ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. জুয়েল (৩৪) ও ফটোকপি দোকানদার সুদর্শনকে (৩২) মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়।

বুধবার অনুষ্ঠিত সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের লিখিত অংশের সঙ্গে ‘ফাঁস হওয়া’ প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আহসানুজ্জামান জানিয়েছেন।

কয়েকদিন আগে শেষ হওয়া জেএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পরই শুরু হয় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা। আহসানুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাতে নৈশপ্রহরী জুয়েল আলগী বাজারে সুদর্শনের দোকানে ‘ফাঁস হওয়া প্রশ্ন’ ফটোকপি করতে যান।

“বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করে। পরে পুলিশ জুয়েল ও সুদর্শনকে আটক করে। “তাদের কাছে পাওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে বুধবার অনুষ্ঠিত সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের রচনামূলক অংশের ৫০ নম্বরের মিল পাওয়া গেছে।”

এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা। হাইমচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ আটক কৃত দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিক নিহত

চট্টগ্রামে ওয়াসার পানির লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছে। বন্দরনগরীর বাহির সিগন্যাল এলাকায় ওয়াসার পানি প্রকল্প লাইনে কাজ করার সময় সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

নিহত মোবারক হোসেন (৩০) চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরার বাসিন্দা। সহকর্মী শ্রমিকদের বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, রাতে পানির পাইপ টানার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় মোবারক।

ভোর পৌনে ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

হাতিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। র‌্যাব ১১-এর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের  ভারপ্রাপ্ত  কোম্পানি কমান্ডার মো. জসিমউদ্দিন চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার ভোরে বয়ারচরের চতলার ঘাটে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন – উপজেলার কালিরচরের আলী আহম্মদের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও একই গ্রামের দুলাল মাঝির ছেলে শফিক (২৪)। তারা জলদস্যু বলে র‌্যাবের ভাষ্য।

র‌্যাব কর্মকর্তা  জসিমউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “জলদস্যুরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পেয়ে হানা দেয় র‌্যাব। এ সময় জলদস্যুরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহত সাইফুল এই জলদস্যুবাহিনীর প্রধান। আর শফিক তার সেকেন্ড ইন কমান্ড।”

সাইফুল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু জানিয়ে তিনি বলেন, “সাইফুল তার বাহিনী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছধরা নৌকায় ডাকাতি, জেলেদের অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন।”

র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি বন্দুক, ১০টি রকেট ফ্লেয়ার, ৩৭টি মোবাইল ফোনসেট ও মুক্তিপণের ৫৪ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সাইফুলের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে নয়টি মামলা রয়েছে।

গোলাগুলির সময় এএসআই মফিজুল ও কনস্টেবল মাহবুব আহত হওয়ায় তাদের সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

 



Go Top