রাত ১০:০৭, বৃহস্পতিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ বাংলাদেশ

রাজধানীর পুরান ঢাকার বাদামতলী এলাকা থেকে একটি নৌকাসহ ডাকাত চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান বিষয়টি  নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আটকের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) চকবাজার থানায় প্রেসব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে নিরাপত্তাকর্মী আহত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছিনতাইকারির ছুরিকাঘাতে মেনহাজ উদ্দিন (৫০) নামে এক নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তৌফিক এলাহী নামে এক ব্যক্তি  জানান, ধানমন্ডি ৯ ‘এ’ এলাকায় ছয়তলা বাড়ি নিরাপত্তাকর্মী কর্মী হিসেবে ডিউটিতে ছিলেন আহত ব্যক্তি। ভোরের দিকে কয়েকজন ছিনতাইকারি মিনহাজকে এলোপাথারি কুপিয়ে আহত করেন। এরপর বাসার ভিতরে থাকা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। আহত অবস্থায় মিনহাজকে বাড়ির কেয়ারটেকার হাসপাতালে আনেন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিস ক্যাম্প ইনচার্জ (এসআই) বাচ্চু মিয়া  জানান, আহত ব্যক্তি ঢামেকে চিকিৎসাধীন।

আত্মসমর্পণের পর দুই মামলায় খালেদার জামিন

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরার পরদিন বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া জামিনের আবেদন করলে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এক লাখ টাকার মুচলেকায় তা মঞ্জুর করেন।  

খালেদার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, আবদুর রেজাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী ও সানাউল্লাহ মিয়া। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনে তার আইনজীবীরা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে বুধবার দেশে ফিরে বৃহস্পতিবারই আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে এসেছেন।

অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী কাজল বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাকে আবার জামিন দেওয়া ঠিক হবে না।

শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করে আদেশে বলেছে, ভবিষ্যতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া আবারও বিদেশে যেতে চাইলে তাকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

বিস্তারিত আসছে

 

দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ তিন মাস পর গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। এর আগে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫০মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন বেগম জিয়া। সেখানে দলের     সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হাজারো নেতাকর্মী তাঁকে বিদায় জানান। পথে দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতি করেন তিনি। খালেদা জিয়া চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা নিতে গত ১৫ জুলাই লন্ডন গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন তিনি।
এদিকে, খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা বিমান বন্দর এলাকায় অবস্থান নেয়ায় বিমানবন্দর সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরে বিএনপির চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা হাজির হন। জানা গেছে, খালেদা জিয়া আজ বৃহস্পতিবার সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।
তীব্র যানজটের সৃষ্টি
খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দলীয় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দুপুরের পর থেকেই বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ফলে দুপুরের পর থেকেই বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে বিভিন্ন যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। ওই সড়কের দুই পাশেই যানজটের একই চিত্র দেখা যায়। যানজটের কারণে অনেককেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়। বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে ফুটপাথেও ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। এছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, কাওলা এলাকায় রাস্তার ওপরেই অবস্থান নিতে দেখা যায়। অনেকেই সড়কের মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সড়কে মোটর সাইকেল শোভাযাত্রাও করেছে। অন্যদিকে, সৃষ্ট যানজট বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী-আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুল আলীম চৌধুরী বলেন, আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন রাস্তার মাঝখানে অবস্থান না নেন। কিন্তু তারা এ কথা আমলে নেয়নি।
যানজটে খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টা ৩৭মিনিটে গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে প্রধান সড়কে আসলে তাঁর গাড়ি জ্যামে পড়ে। বিমানবন্দর সড়কে প্রচন্ড যানজটে দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে থাকতে হয়েছে। বিমানবন্দর সড়কে আগে থেকেই যানজট ছিল। এর ওপর খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তার ওপর অবস্থান নেওয়ায় এ যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে, খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় যাওয়ার পথে দলীয় নেতাকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত হন। বনানী-বিমানবন্দর সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে, অবস্থান নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। বেগম জিয়াও গাড়ির ভেতর থেকে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
নেতাকর্মীরা ছিল উৎকণ্ঠায়
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় দেশে ফেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় কিনা, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা ছিল। তবে এ বিষয়টি সেভাবে আমলে নেয়নি তারা। কারণ, এই পরোয়ানা জারির পেছনে সরকারের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করেন তারা। দলের নীতি-নির্ধারকদের বেশিরভাগই মনে করেন, সরকার নানা ইস্যুতে বেকায়দায় আছে। সে কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও সরকার এই মুহূর্তে বেগম জিয়াকে গ্রেফতারের ঝুঁকি নেবে না। মানসিকভাবে চেয়ারপারসনসহ নেতাকর্মীদের চাপে রাখতেই সরকার তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বিমানবন্দরে মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে। কিন্তু তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাকে ভয় পান না। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শিগগিরই জামিনের জন্য তিনি আদালতে হাজির হবেন।
বিমানবন্দরে যেতে বাধার অভিযোগ
খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরগামী নেতাকর্মীদের পদে পদে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বিকেলে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশনেত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নেতা-কর্মীদের আসতে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আমাদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। রাস্তায় নেতা-কর্মীদের হাঁটতে দেওয়া হচ্ছে না। সমস্ত রাস্তা ফাঁকা করা হয়েছে। একসঙ্গে কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। আব্বাস আরো বলেন, আজকে ঢাকা শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে আসতে না পারে। তারপরও দলের নেতাকর্মীদের থামিয়ে রাখা যায়নি। তারা প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে, সংবর্ধনা দিতে দলে দলে বিমান বন্দরের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়া আসছেন আজ পরোয়ানা দিয়ে মনোবলকে দুর্বল করা যাবে না : রিজভী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তাঁর মনোবলকে দুর্বল করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে  মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন রিজভী।

চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে আজ বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিকেল পাঁচটা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি বড় ছেলে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। লন্ডনে বেগম জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার ও হাঁটুর চিকিৎসা হয়েছে।

খালেদা জিয়া বুধবার দেশে ফিরছেন জানিয়ে মানববন্ধনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আপনাদের (সরকার) অপপ্রচার-মিথ্যাচারের ধোঁয়াশাকে বিদীর্ণ করে বেগম খালেদা জিয়া বুধবার তাঁর জনগণের কাছে ফিরে আসছেন, দেশে আসছেন। আপনারা ভাবছেন ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়ে তাঁর (খালেদা জিয়া) মনোভাব-মনোবলকে দুর্বল করবেন। আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। বেগম জিয়া শত অত্যাচারকে মাথায় নিয়ে জনগণের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জনগণের নেতৃত্ব দেবেন। খালেদা জিয়ার পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস নেই দাবি করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন।

বুধবার তিনি দেশে ফিরছেন। তারা (ক্ষমতাসীনরা) বলেছে, উনি (খালেদা জিয়া) ষড়যন্ত্র করছেন, চক্রান্ত করছেন, উনি আসবেন না। আরে জনগণের নেত্রী, গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম জিয়ার পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস নেই। পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস তো আওয়ামী লীগের নেত্রীর। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাস সাধারণ সম্পাদক হেলাল খানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এদিকে, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তক জাতীয় ঐক্য পরিষদ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রিজভী অভিযোগ করে বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে গোটা জাতিকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি ও সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে তিনি (আইনমন্ত্রী) মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেন- প্রতিটি পদে, প্রতিটি স্থানে, রাষ্ট্রে চলছে আওয়ামী শাসন, শেখ হাসিনার শাসন। কোথাও কোনো স্বস্তি নেই, নিরাপত্তা নেই। তারপরও বলতে হবে আইনের শাসন চলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা। সংগঠনের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।


ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি
খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এই শোডাউন হবে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসভবন পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি।

 

 

 



অর্থ-বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। অধিকাংশ সবজিরই কেজিপ্রতি দাম ৬০ টাকার ওপরে। গতকাল শুক্রবার  কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা ও মূলা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট (২০০/২৫০ গ্রাম) ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ টাকা এবং লাল শাক ও ডাটা শাকের আঁটি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ৫০ টাকা ও ১০০ গ্রাম ধনেপাতা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, ‘সব কিছুর দাম বেশি। এতো দাম দিয়ে কি কেনা যায়! পেঁপের দামটাই একটু কম আছে। এজন্য দুই কেজি পেঁপে কিনে নিয়েছি’। সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ মুহসীন বলেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, সে অনুসারে বিক্রি করি। আড়তে সবজির পাইকারি দাম বেশি’। এক-দেড় মাসের মধ্যে শীতকালীন শাক-সবজি আসতে শুরু করলে দাম কমে যাবে বলে আশা করেন এ বিক্রেতা। চরা বাজারে মরিচের সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে এবার বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

পাইকারি ও খুচরা বাজারে সমানভাবে দাম বেড়েছে এ দুই পণ্যের। কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১৫-২০ টাকা ও আদায় বেড়েছে ২০ টাকা। তরকারির নিত্যসঙ্গী এ দু’টি পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ পড়ছে ক্রেতার। ডিমের দাম হালিতে তিন টাকা ও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে সামান্য বেড়েছে। তবে চাল, ডাল ও রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।  বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। তবে সেজন্য কয়েকদিন অপো করতেই হবে।

মিরপুর-৬ নম্বরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ কিনতেই মুখ বেজার হচ্ছে ক্রেতাদের।   এ বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, ভারতের পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি আদা ১৬০ টাকা ও ভারতের আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে।

পাইকারিতে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেওএক সপ্তাহ আগে দেশি আদার কেজি ১৪০ টাকা ও আমদানি করা ভারতের আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়।    ক্রেতা মিরপুরের আনোয়ার হোসেন বলেন, মরিচের দাম বাড়ছে। এখন যদি পেঁয়াজেরও দাম বাড়ে, তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে। পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, দেশি রসুনের কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 ভারতের বড় রসুনের কেজি ১৪০ টাকা। এ দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে।অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি মসুর ডাল ১০০ টাকা, মোটা চাল ৫০ টাকা ও চিকন চাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে। মুরগি বিক্রেতা স্বপন জানান, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ বধানে বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

ছবি: ইসমাইল হোসেন  টাকা, দেশি কক ৩৫০-৪০০ টাকা ও পাকিস্তানি কক ২০০ টাকা। ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে প্রতি সপ্তাহেই এ দাম হেরফের হয়ে থাকে বলেও জানান স্বপন। ব্রয়লার মুরগির সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে ডিমের দামও। ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন জানান, ডিমের হালি ২৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  গরুর মাংস ৪৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা ও কাতল মাছ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এ বাজারে।

 

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের ‘সহায়তা নেবে’ বাংলাদেশ

মিয়ানমারে থেকে আসা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই সহায়তার পরিমাণ ও ধরণ কী হবে- তা ঠিক হবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বুধবার বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিন বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

 তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিশ্ব ব্যাংকও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে চায়, সহায়তা করতে চায়।

“আমরা তদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা কী পরিমাণ সহায়তা দেবে, সে সহায়তার কতোটা অনুদান হবে; কতোটা  ঋণ হবে, না পুরোটাই ঋণ হবে তা তা আমরা দুপক্ষ বসে ঠিক করব।”

মুহিত জানান, শিগগিরই বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে যাবে। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি -আইডিএ ‘রিফিউজি ফান্ড’ নামে নতুন একটি তহবিল গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের সহায়তা দেওয়া।

এই তহবিলের আকার ২০০ কোটি ডলার। যে কোনো দেশ প্রয়োজনে সেখান থেকে তিন বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিতে পারে। তবে সেজন্য সুদ দিতে হয়। মোট অর্থের একটি অংশ বিশ্ব ব্যাংক অনুদান হিসেবেও দিতে পারে।  

বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান চিমিয়াও ফান গত ২৭ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তহবিল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ঋণ দেওয়ার বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন।

অর্থমন্ত্রী মুহিত সে সময় বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা সহায়তা করছে। বাংলাদেশ আশা করে, বিশ্ব ব্যাংকও সেখাবে সহায়তা দেবে, ঋণ নয়।

বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের সহায়তার ব্যাপারে তারা খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।… বাংলাদেশ এই তহবিলের কী পরিমাণ পাবে; শর্ত কী হবে সেসব বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে।”

বিশ্ব ব্যাংক সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা  বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমরা সম্মান জানাই এবং প্রশংসা করি। আমরা বাংলাদেশের সহায়তার জন্য যা করা সম্ভব তার পুরোটাই করব। আমাদের একটি রিফিউজি সহায়তা উইনডো আছে; সেখান থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে ‘যৌক্তিক বিবেচনার’ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পরে বিশ্ব ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার সামাল দিতে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংক এই সঙ্কটে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছে।

ওই সহায়তার পরিমাণ কী হবে তা এখনও নির্ধারণ করা না হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং সড়ক অবকাঠামোর মত বিষয় এর আওতায় আসতে পারে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

অ্যানেট ডিক্সনকে উদ্ধৃত করে সেখানে বলা হয়, “আমরা আশা করব, রোহিঙ্গারা শিগগিরই তাদের দেশে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু তার আগে তাদের জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। এ জন্য যা করা সম্ভব তার সবই আমরা করব।”

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত দেড় মাসে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের সহায়তায় জোর তৎপরতা চালাচ্ছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দাতা ও উন্নয়ন সংস্থা।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য বিশ্ব ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সমালোচনা হবে কিনা- এমন প্রশ্নে মুহিত  বলেন, “যে সহায়তা তারা দেবে সেটা অনুদান না ঋণ- তা তো এখনও ঠিক হয়নি। আর যদি ঋণ নিয়ে আমরা রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেই, তাতে দোষ কী? আমরা তো মানবতার জন্য এই কাজ করছি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি…। যারা সমালোচনা করবে তারা রাবিশ।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের এই সহায়তার কিছু অংশ যদি ঋণও হয়, তার সুদের হার হবে ‘খুবই সামান্য’। এটা নিয়ে ‘বিচলিত হওয়ার মত কিছু’ তিনি দেখছেন না।

সম্মেলনের প্রথম দিন

বিশ্ব আর্থিক খাতের এই দুই মোড়লের ছয় দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন শেষ হবে ১৬ অক্টোবর। সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে; যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।

সম্মেলনের প্রথম দিন বেশ ব্যস্ত সময় কেটেছে মুহিতের। বিশ্ব ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ছাড়াও আইএমএফের ডিএমডি মিতসুহিরো ফুরুসাওয়া এবং বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা এমআইজিএ-এর ডিএমডি কিকো হোন্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

 

এসডিজি অর্জনে সহায়তা না পেলেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: মুহিত

করতোয়া ডেস্ক: বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা না পেলেও অভ্যন্তরীণ তহবিল গঠন করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাশের একটি হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়নের পথে এমডিজির শিক্ষা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জনে যে ধরনের অর্থ সহায়তা প্রয়োজন, তা পাবার কোনোই সম্ভাবনা নেই। তাই বলে কি আমরা থেমে থাকবো? নিশ্চয়ই না। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তহবিল গঠনের বহুবিধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছি। সামগ্রিক উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি। অভূতপূর্ব সাড়াও পাচ্ছি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের কাছে থেকে। তবে এসডিজি অর্জনে অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতার প্রকাশ ঘটছে জানিয়ে মুহিত বলেন, এসডিজি অর্জনে এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একজন প্রধান মুখ্য সমন্বয়ক কাজ করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগিতায় মিলেনিয়াম হিল্টন হোটেলের ডিপ্লোমেট বলরুমে এই সেমিনারের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ‘দি ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্ননেন্স (আইপ্যাগ)। স্বাগত বক্তব্য আইপ্যাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনীর খসরু বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সফলতার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হলে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ঘনিষ্ট সহযোগিতা তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে ইউএনডিপির প্রশাসক ও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ম্যাগডি মার্টিনেজ-সুলিমান বলেন, এমডিজি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে সাফল্য প্রদর্শন করেছে, তা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ, এমডিজির সাফল্য ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য এসডিজির চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ এবং এসডিজি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে উন্নয়ন অর্থনীতির ভূমিকা নিয়ে সেমিনারটিকে চারটি অধিবেশনে ভাগ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক, গবেষণাবিদ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ও বিশ্বের ১৬ জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব সেশনগুলোতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল থেকে প্যানেল আলোচক ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ও ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম।

ভবন ভাঙতে আরও ৭ মাস পেল বিজিএমইএ

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বেআইনিভাবে নির্মিত ১৬ তলা বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে পোশাক রপ্তানিকারকদের এই সংগঠনকে আরও সাত মাস সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

ভবন ভাঙার জন্য আরও এক বছর সময় চেয়ে বিজিএমইএর করা আবেদনের শুনানি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বিভাগ রোববার এ আদেশ দেয়।

রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর গত মার্চে বিজিএমইএর আবেদনে আপিল বিভাগ ছয় মাস সময় দিয়েছিল, যা শেষ হয় ১২ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকেই নতুন করে সাত মাস গণনা শুরু হবে।  

শুনানিতে বিজিএমইএর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, “এটাই শেষ সুযোগ। এরপর আর সময় চাইবেন না। এর মধ্যে যা করার করবেন।”

আদালতে বিজিএমইএ-এর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী। অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ মামলায় হাই কোর্টে অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করা মনজিল মোরসেদও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।  

জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলেছিল হাই কোর্ট। ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে। পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

রায়ের পর কার্যালয় সরিয়ে নিতে বিজিএমইএ তিন বছর সময় চাইলেও আপিল বিভাগ তাদের ছয় মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ করতে বলে। সেই ছয় মাস সময় শেষ হওয়ার আগে আগে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ২৩ অগাস্ট আবেদন করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সে সময় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেই আমরা চলে যাব। তবে নতুন ভবন সম্পন্ন হতে আরও এক বছর সময় লাগবে।”

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজধানীর উত্তরার ১৭ নাম্বার সেক্টরে অর্ধেক মূল্যে সাড়ে ৫ বিঘা বিজিএমইএকে বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ৭ সেপ্টেম্বর টাকা পরিশোধ করে সেই জমির দলিল বুঝে পেয়েছে বিজিএমইএ।

 

ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি

তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আরও সাড়ে চারশ কোটি ডলার ঋণ নিতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ, রেলপখ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দরসহ অবকাঠামো খাতে ১৭টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাস্তাবয়ন করবে বাংলাদেশ।

প্রথম দুটি লাইন অব ক্রেডিটের মত এবারও এই ঋণের জন্য বছরে ১ শতাংশ হারে সুদে দিতে হবে বাংলাদেশকে। ঋণ শোধে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর সময় পাওয়া যাবে।

বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তার আগে তারা বৈঠকও করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শফিকুল আযম এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকে (এক্সিম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাসকিনহা এই চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অরুণ জেটলি বলেন, গত সাত বছরে বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধি পেয়েছ। আর্থসামাজিক দিক দিয়ে ব্যাপকেউন্নয়ন করেছে।

“আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে আগেও পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। তারই ধারাবাহিকতায় এই বড় অংকের ঋণচুক্তি।” আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ভালো। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল। আগামীতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি।”

চলতি বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য এই সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় অর্থমন্ত্রীর এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হল।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে একশ কোটি ডলার ঋণ দেয় ভারত। ওই ঋণের আওতায় নেওয়া ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ১২টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান।  

আর ২০১৬ সালে দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটে ভারত থেকে পাওয়া দুইশ কোটি ডলারের আওতায় নেওয়া ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছন তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ১১৩৮ কোটি ডলারের  ঋণচুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে ভারতের এই তৃতীয় এলওসি হচ্ছে বাংলাদেশের করা দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণ চুক্তি।

ভারতের অর্থমন্ত্রী এই সফরে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ ও ভারতীয় হাই কমিশন এই বক্তৃতার আয়োজন করেছে।

 

Go Top