রাত ১১:৫৫, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপির  ষড়যন্ত্রের ফাঁদে বাংলার মানুষ পা দিবে না । ‘তারা কোনো মতে আপনার ঘরে ঢুকতে পারলেই আপনার সব লুঠপাট করে নিয়ে যাবে’ উল্লেখ করে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এ অবস্থায় আপনাদের ঘর আপনাদেরকে রক্ষা করতে হবে। মন্ত্রী এ ষড়যন্ত্রে পা না দেওয়ার জন্য দেশের মানুষের প্রতি আহবান জানান।আনিসুল হক গতকাল শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার ‘মুক্ত মঞ্চে’ দুঃস্থ জনগণের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে এ আহবান জানান। আইনমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

কসবা পৌর আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কসবা-আখাউড়ায় প্রায় ২৩ হাজার দুঃস্থ জনগণের মাঝে শীত বস্ত্র  বিতরণ  করা হচ্ছে বলে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন।পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সফিকুল  ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে কসবা উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান এডভোকেট আনিসুল হক ভুইয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে সকল বীর শহীদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

রংপুরে ক্ষমতাসীনদের বিধিভঙ্গে হিড়িক দেখেও ইসি নির্বিকার : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে আগামী সোমবার ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের বাসায় তার ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক কেক কাটার অনুষ্ঠান থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা ও অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে ইসির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, রসিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের প্রার্থী দু’জনই নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের হিড়িক সৃষ্টি করেছে।

 একের পর এক তারা আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। সেদিকে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ নেই, তাদের কোনো নজর নেই, তারা নির্বিকার। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীকে কিভাবে আউট করে দেয়া যায়, সরিয়ে দেয়া যায়- নির্বাচনে সর্বশেষ সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। সামান্য একটু ত্রুটি পেলেই ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে, একের পর এক জরিমানা করা হচ্ছে, বিএনপির প্রার্থীকে একটা মামলা দিয়ে আউট করে দেয়া যায় কিনা।

 কিন্তু সেটা পারেননি হাই কোর্টের কারণে। এসব ক্ষেত্রে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, বিএনপির পক্ষে যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও তারা (স্থানীয় প্রশাসন) একের পর এক আইন জারি করছেন, জারিমানা করছেন, শাস্তি দিচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে কাউকে আঘাত দিয়ে কথা না বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি পরামর্শ রাখেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে রোল মডেল আমাদের প্রধানমন্ত্রী গর্ব করে বলেন। আমার ৮৫তম জন্মদিনের এই মুহূর্তে আমি তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে ছোট একটা অনুরোধ রাখব-রোল মডেল হোন, ওই বিষয়ে কথা বলার সময়ে যেন কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলবেন না।

প্রত্যেক নাগরিক তার মর্যাদা নিয়ে, তার মহিমান্বিত ব্যক্তি সত্ত্বা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, তার দিকে তাকিয়ে আপনার যতটুকু সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন-সেটি করবেন, এটি করা দরকার। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহের সভাপতিত্বে এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংবাদিক এমএ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী-ছাত্র-ছাত্রী-সমর্থকদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।

 

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা

একাত্তরে চুড়ান্ত বিজয়ের আগমুহূর্তে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মমভাবে নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে জাতি। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার তুরস্ক সফর থেকে ভোরে দেশে ফিরে সকাল ৭টায় সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাড়িয়ে থাকেন। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়; বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে ফ্রান্স সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নাল আবেদিন। এ সময় রাষ্ট্রপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপুমণি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি ও একেএম এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়-য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়াও একে একে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানায় কেন্দ্রীয় ১৪ দল, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা, জাতীয় পার্টি, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি, দলের সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, দলের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, তাঁতিলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। জাতীয় পাতাকা আর শ্রদ্ধার ফুল হাতে নানা বয়সের হাজারো মানুষ জড়ো হন শহীদ বেদীতে। এসময় তারা বুদ্ধিজীবী হত্যাকারিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করার দাবি জানান। দিবসটি উপলক্ষে ভোর থেকেই মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং বায়েরবাজার বদ্ধভূমি এলাকায় জনতার ঢল নামে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের স্মরণ করতে আসা সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখছেন একটি আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। ভোরের সূর্য ওঠার আগেই হাজারো মানুষ ভিড় করেন মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের সামনে। সবার হাতে ছিল ফুলের তোড়া ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে লেখা কালো ব্যানার। এর আগে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, চিফ হুইপ এ.এস.এম. ফিরোজ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীও সকাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রায়েরবাজারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। স্মৃতিসৌধ মুখরিত হয়ে ওঠে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। সকাল ৭টা থেকেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে জনতার ঢল নামে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে। সব বয়সের, সব শ্রেণি পেশার মানুষ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ঢাকা সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, লালমাটিয়া বালিকা বিদ্যালয়সহ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরাও এসেছিলেন রায়েরবাজারে। সুমাইয়া জাহান নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, বুদ্ধিজীবীদের সেদিন হত্যা করা না হলে আমরা আজ আরও শক্তিশালী জাতি হতে পারতাম। আমরা তাদের ভুলব না। দিবসটি উপলক্ষে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ, শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন, শোক র‌্যালি, শ্রদ্ধা নিবেদন, চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এদিকে সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর ভবনের সামনে রক্ষিত জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়; তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে- তা নিশ্চিত করা। শরীরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্নসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায়। পরে তা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ : ফখরুল

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও মুক্তচিন্তার রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন আমাদের বাস্তবায়িত হয়নি। আজকে যে দলটি জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে সেই আওয়ামী লীগ যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফখরুল। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের শাসনের যাঁতাকলে পড়েছে। জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। যারা ভিন্নমত পোষণ করছে তাদেরকে নির্মুল করে দেয়ার জন্য সব রকম কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে প্রশাসনে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আবারো সেই প্রশাসনের অর্থাৎ সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে কোথাও কোনো স্বাধীনতা নেই, কোথাও কেউ তার নিজের মত প্রকাশ করতে পারে না। প্রকাশ করলেই মামলা, খুন, গুম। আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে- এই দাবি পুনরুল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সংবিধানের বুলি না আওড়িয়ে বাস্তবতাকে স্বীকার করে জনগণের মনের ভাষা বুঝতে শিখুন। আসুন আলোচনায় বসুন, সংলাপ করুন। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের করুন। এ সময় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ফখরুল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, বেগম খালেদা জিয়াসহ আমাদের সকল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে, শাস্তি দিয়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না, হতে দেয়াও হবে না। যদি একাদশ জাতীয় নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হয়, তাহলে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনাকে হত্যা করা হবে। বিএনপি এটা কখনোই হতে দেবে না। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তরের বজলুল বাসিত আনজু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

 

 

ওআইসির বিশেষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে টানাপড়েনের মধ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসির বিশেষ সম্মেলন অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বুধবার সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুল থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে রাষ্ট্রপতি ঢাকা পৌঁছান।

আরব দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়ায় ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান ওআইসির এই বিশেষ সম্মেলন ডাকেন। বুধবার ওই সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি হামিদ জেরুজালেম প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত বদলে বাধ্য করতে মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসিকে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলন শেষে ইস্তাম্বুল ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পাল্টায় পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওআইসি নেতৃবৃন্দ। ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বুধবার বিকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশীরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি। এই সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তার সঙ্গে ছিলেন।

 



অর্থ-বাণিজ্য

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বিশ্বের প্রথম জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২১) এ খাতে সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে সরকার। দেশে পরিবেশগত সুশাসন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় বিনিয়োগ খুবই কম। এ কারণে বিশাল উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার (সিআইপি)’ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দেশে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অধিকতর অর্থায়নের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অর্থনতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়ায় বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা দায়ী নই।

বিশ্বের পাঁচটি বড় দেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল ও ভারত ৫৫ শতাংশ কার্বণ নিঃসরণ করে। অথচ এসবের ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা’। ‘জলবায়ু ঝুঁকি এখন ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। আমরা এখন দেখি, উড়োজাহাজে ভ্রমণে জার্কিং বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পরে উড়োজাহাজের সিটে বসে থাকতে পারবো না’। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘সরকার এমন সব নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে সকলের জন্য প্রকৃত প্রস্তাবেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। আমরা আশা করি যে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সঠিক ও অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্প নির্বাচনে এই কৌশলগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা সহায়ক হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নীতিগত উদ্দেশ্য সফলভাবে অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে’। ‘পরিবেশ বিপর্যয় শুধু আমাদের একার সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এককভাবে মোকাবেলা সম্ভব নয়, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএইডের মিশন ডিরেক্টর জেনিনা জেরুজালস্কি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ডেভিড ডুলান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

ভিন্ন আঙ্গিকে এবারের বাণিজ্য মেলা, পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি

আর ২৫ দিন পরেই শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ ২০১৮। এবারের মেলাকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে আর সে লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে প্রস্তুতি চলছে। ভিন্নতা আনতে এবং দর্শনার্থীদের কাছে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করতে এবারের মেলায় ফিশ ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম প্রদর্শন করা হবে। শিশুদের জন্য থাকবে পার্ক, গেমিং জোন ও খেলার উপকরণ। তবে সবচেয়ে আকর্ষণ থাকবে মূল ফটকে। এবারের মেলার মূল ফটকে তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

বৃহস্পতিবার  রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অস্থায়ী মেলা প্রাঙ্গনে গেলে আয়োজকরা জানান, আগামী বছরের ০১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন।

সে লক্ষ্যে আগামী ২৭ ডিসেম্বরের আগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণে বরাদ্দ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছে। নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে চারপাশ টিনশেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকরা কেউ মাটি কাটছেন, কেউ ইট নিচ্ছেন আবার কেউ চাল নির্মাণে ব্যস্ত। মূল ফটক ছাড়া সকল স্টলের কাজ শুরু হয়েছে। আয়োজকরা জানান, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে দৃষ্টিনন্দন ১৪টি বাগান, তিনটি রেস্তোরাঁ,  ইকোপার্ক, শিশুপার্ক, পর্যাপ্ত টয়লেট, এটিএম বুথ, মসজিদ, প্রতিবন্ধীদের জন্য অটিজম সেন্টার, মাদার কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ইত্যাদি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, মেলায় ১৪ ক্যাটাগরিতে দেশ-বিদেশের ৫২০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে    থাকছে ৬৪টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৩৬টি মিনি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ১৭টি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, ২৫টি মিনি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, চারটি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ছয়টি মিনি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ২৭টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন এবং ৮টি মিনি বিদেশি প্যাভিলিয়ন।

এছাড়া ৬৭টি প্রিমিয়ার স্টল, ১৮টি বিদেশি স্টল, ২৬০টি সাধারণ স্টল ও ২৪টি ফুড স্টল থাকবে। মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমস্ত এলাকা সিসি টিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। দর্শনার্থীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এবারের মেলা সফল হবে। গত বছরের তুলনায় এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল ফটকে দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ভিন্ন কিছু করতে যাচ্ছি, যা দেখে দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যাবে। আশা করছি, তারা পুরো মেলা দারুণ উপভোগ করবেন’। ‘আমরা দ্রুত কাজ করার জন্য বলেছি। ২৭ ডিসেম্বরের আগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে’।

 

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

অনিয়ম ও দুর্নীতির দশ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী দুই বছর কোনো ধরনের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের এই নির্দেশ বুধবার সকালে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “দেওয়ান মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করেছিল। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বোর্ড সভায় পরিচালকদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।”

সব মিলিয়ে দশটি গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়ালের এমডিকে অপসারেণের এই নির্দেশ দিয়েছে বলে শুভঙ্কর সাহা জানান।

বিস্তারিত আসছে

 

বড় বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি ব্যবসায়ীরা: বাণিজ্যমন্ত্রী

সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, সৌরপ্যানেল এবং সার কারখানায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সফররত সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করে।

সৌদি আরবের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপের নির্বাহী সভাপতি মোসহাবাব আব্দুল্লাহ আলখাতানির নেতৃত্বে সোমবার ঢাকায় আসা ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি বুধবার এফবিসিআই আয়োজিত একটি বাণিজ্য সেমিনারেও অংশ নেবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, আমরা আশা করি এর মধ্য দিয়ে অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন চে¤॥^ার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সৌদি ব্যবসায়ীদের ভালো সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী মুহিতও। সৌদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কোম্পানির সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সচিবালয়ের বৈঠকে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দুই মন্ত্রী। তোফায়েল বলেন, আমরা একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, সৌদি আরব চাইলে যেকোনো একটি অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশে যারা বিনিয়োগ করবে তাদের যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় আমরা তা অবশ্যই পূরণ করব। আমরা বলেছি সকল ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করব। বাংলাদেশ আটটি খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যাল, লেদার, পাট, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, হিমায়িত পণ্য খাতে আমরা বিনিয়োগ করছি। ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা মিটিয়ে ১২৭টি দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর শুধু চামড়াজাত পণ্য, পাট ও চা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হত জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা সাতশর বেশি পণ্য রপ্তানি করি, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আমরা রপ্তানি করি। শুধু সৌদি আরবের ব্যবসায়ী নয়, অন্য দেশের ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে কীভাবে বেশি লাভবান হতে পারেন সেই পন্থাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কেউ যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাহলে লাভবান হবে। কারণ আমরা এখনও এলডিসিভুক্ত দেশ। আমরা বেশিরভাগ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাই। এখানে বিনিয়োগ করে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাবেন। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

আমাদের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক ঘাটতি আছে। কিছুটা বাধা থাকলেও প্রায় সবাই কোনো জটিলতা ছাড়াই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে সৌদি ব্যবসায়ীদের জানান তিনি। ২০০৯ সালে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল জানিয়ে মুহিত বলেন, এই সম্যসা সমাধানে সরকার ক্র্যাশ গ্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। এখন বেসরকারি কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদান করছে, আমরা তাদের নিশ্চয়তা দিয়েছি আমরা তাদের বিদ্যুৎ কিনব। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেটা খুব বেশি স্ট্র্যাকচারড না, একটু ইন্ডিভিজুয়াল এফোর্টের উপর নির্ভরশীল ছিল।

আমাদের প্রত্যাশা ছিল ইট সুড বি স্ট্র্যাকচারড। রপ্তানি করার মত বাংলাদেশের অনেক পণ্য থাকলেও সেগুলো নিয়ে খুব প্রচার হয় না বলে জানান একজন সৌদি ব্যবসায়ী। এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, আমাদের পরিচিতি সিম্পল গার্মেন্টস দিয়ে। কিন্তু এখন আমরা এতভাবে ডাইভারসিফাইড হয়েছি যে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথেষ্ট এক্সপোর্ট ক্যাপাবিলিটি আছে। সেদিক দিয়ে এটি উল্লেখযোগ্য ভিজিট হয়েছে বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশ এখন ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন, সেটার ফলও আমরা পাচ্ছি। ২০১৫ সালের পর যে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা, এটা খুবই কাজের হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের মত ছিল, গত অর্থ বছরে এটা দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি মুভমেন্ট অব এফডিআর বাংলাদেশে বেশ কার্যকর হচ্ছে। সৌদি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপের নির্বাহী সভাপতি মোসহাবাব আব্দুল্লাহ আলখাতানি এ ধরনের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রতিনিধিদলে যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন তারা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন বলেও জানান তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে সৌদি আরবে, বিপরীতে আমদানি করেছে ৬০৫ দশমিক চার মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

 

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে চালের দাম

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: রাজধানীর বাজারে এসেছে নতুন চাল। ধান পাওয়া যাচ্ছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা মণ দরে। এ দামে ধান কিনে লাভসহ সব খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি চালের দাম ৪৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। ফলে চালের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল তা এখন কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে এর উল্টো। রাজধানীর বাজারে সব ধরনের চাল কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। ৪৫ টাকা কেজি দরে চাল মেলা তো দূরের কথা, কিছু কিছু চালের দাম ৭০ টাকাও ছাড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু মিল-মালিক কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম নিজেই কাছে এমন অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে এখন নতুন চাল এসেছে। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। এখন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ দামে ধান কিনে, সেই ধানের চালের দাম সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকায়। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের এমন বাড়তি দাম। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সরু চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকায়। নাজির সাইলের দাম বেড়ে ৭০ টাকা ছুঁয়েছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত। নতুন চাল আসার পরও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভোক্তাদের মধ্যে। রামপুরা বাজারে চাল কিনতে আসা গৃহিনী হালিমা বেগম বলেন, একের পর এক জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে।

তার প্রশ্ন, এখন কেন পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা হবে? এখন আবার চালের দাম বেড়েছে। অথচ নতুন ধান উঠেছে। বাজারেও নতুন চাল এসেছে। তাই চালের দাম কমার কথা। কিন্তু দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তো দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। চালের দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের মেসার্স আল্লাহর দান রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, বাজারে নতুন চাল এসেছে। কিন্তু গত চার-পাঁচদিনে চালের দাম দু’দফা বেড়েছে। কোনো কোনো ব্যাপারি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ টাকা করে দু’দফায় ১০০ টাকা, আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা করে দু’দফায় ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিনিকেট, মোটা সব ধরনের চাল আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, যারা চাল বানায় অর্থাৎ মিলাররা যদি দাম না কমায় তাহলে দাম বাড়তেই থাকবে। এখন সিজন, এ সময়ও ৬৫-৬৬ টাকায় চাল বিক্রির অর্থ আমরা মিল-মালিকরা চালের দাম কমাচ্ছি না। আর আমরা যে দাম কমাচ্ছি না এর জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী তাও বুঝতে পারছি না। ‘আমরা ব্যবসা করার জন্য এসেছি। যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেন, তারা যদি বসে থাকেন, আমি তো সুযোগ নেবই। আমি এক টাকার জিনিস ২০ টাকা ধরব’- বলেন খোরশেদ আলম। তিনি আরও বলেন, চালের ব্যবসা ১৫ থেকে ২০ জনের দখলে চলে গেছে।

কয়েকজন ব্যাংক থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এখন তারা এ সিজনে কম দামে ধান কিনছেন। কারও কারও প্রত্যেক জেলায় গোডাউন আছে। ধান কিনে গোডাউনে মজুদ করছেন। তারাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ান-কমান। চালারে দাম কমানোর উপায় হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের উচিত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে, এখনই আমদানি করা। এখন চাল আমদানি করলে অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। ভারতে যে চালের দাম ৪৫ টাকা হয়েছিল, এখন তা ৩৫-৩৬ টাকায় পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এ দেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল না কিনে আমদানি করে তা হলে তিন লাখ টন চাল ব্যবসায়ীদের হাতেই থাকবে। এতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩৯ টাকা দিয়ে চাল কিনে গোডাউনে নিলে আবার বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে। ৩৯ টাকা দরে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ না করে আমদানি করলে কেজিতে সরকারের তিন টাকা করে খরচ কম হবে- যোগ করেন এ মিল-মালিক নেতা।

 

Go Top