ভিডিও সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৪ সকাল

শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে ফরিদা পারভীনের মরদেহ, দাফন কুষ্টিয়ায়

শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে ফরিদা পারভীনের মরদেহ, দাফন কুষ্টিয়ায়, ছবি: সংগৃহীত।

বিনোদনডেস্ক: সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের মরদেহ। বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর তাকে নেওয়া হবে কুষ্টিয়ায়। সেখানে বাদ মাগরিব নামাজে জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার পৌর কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নিমেরি উপল সাংবাদিকদের বলেন, মাকে আমরা কুষ্টিয়ায় দাফন করবো, তার ইচ্ছে অনুযায়ী। মেয়ে জিহান ফারিয়া বলেন, মা মর্যাদা নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তার শেষ ইচ্ছে ছিলো কুষ্টিয়া যাওয়ার। উনার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করার শেষ ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। 

বরেণ্য এই সঙ্গীত শিল্পী গতকাল শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পরে তার মরদেহ রাতে হাসপাতাল থেকে তেজগাঁওয়ের বাড়িতে নেওয়া হয় ।গত ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ফরিদা পারভীনকে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়ার পরই নিয়ে যাওয়া হয় আইসিইউতে। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়। সেখান থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।

ফরিদা পারভীন বেশকিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। চলতি বছরে তিন দফায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।

আরও পড়ুন

১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন গানে গানে কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। তাকে পার হতে হয়েছে অনেক চড়াই-উৎরাই। পারিবারিক সূত্রেই গানের ভুবনে আসা। গানের প্রতি বাবার টান ছিল বেশি। দাদিও গান করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় যেতে হয়েছে তাকে।সংগীত জগতে ফরিদা পারভীনের পথচলা শুরু ১৯৬৮ সালে, রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি খ্যাতি পান। পরবর্তী সময়ে সাধক মোকসেদ আলী শাহর কাছে লালনগীতির তালিম নেন এবং ধীরে ধীরে লালনগীতির জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক পান।

এর বাইরে ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘নিন্দার কাঁটা’ গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার লাভ করেন। কেবল লালনের গানই নয়, তার কণ্ঠে বেশ কটি আধুনিক ও দেশের গানও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। 

লালনকন্যা খ্যাত ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতা আহত

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর প্রথম ঢাবিতে ছাত্রলীগের মিছিল

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল

কুষ্টিয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

পটুয়াখালীতে সালিশে চোর সাব্যস্ত, সইতে না পেরে গৃহিনীর আত্মহত্যা

স্বৈরতান্ত্রিক রোগ থেকে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ তথ্যমন্ত্র‍ীর