লালমনিরহাটে আলু নিয়ে মহাবিপাকে কৃষক
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। হিমাগারে রাখা ৬০ কেজির এক বস্তা আলুর উৎপাদন ব্যয় ও ভাড়া মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ পড়লেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায়। এতে প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে অন্তত ৬শ’ টাকা।
আলু চাষিরা বলছেন, বাজারে দাম না থাকায় তারা আলু বিক্রি করছেন না। ফলে হিমাগারে মজুদ কমছে না। গত বছর এ সময়ে হিমাগার থেকে ৪০ ভাগ আলু বিক্রি হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ২০ ভাগেরও কম। এতে লোকসানের পাশাপাশি নতুন করে আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় হিমাগার মালিকরাও।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার টন। জেলার ৯টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার টন আলু। এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকরা আশানুরূপ দাম পাননি। অথচ গত বছর ভালো দাম থাকায় এবার অধিকাংশ ব্যবসায়ীও কৃষকদের পাশাপাশি হিমাগারে আলু মজুদ করেছিলেন।
আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ীর কৃষক লস্কর আলী বলেন, ৫০ বস্তা আলু রেখেছেন স্থানীয় হিমাগারে। কিন্তু দাম না থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না। এখন বিক্রি করলে ২০ হাজার টাকার মতো লোকসান হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলুর দাম বাড়লে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দাম কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু এখন আলুর দাম কমে গেলেও কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। পাইকারি বাজারে চাহিদা না থাকায় ক্রয়কৃত আলু তারা পাঠাতে পারছেন না। ফলে লোকসান করেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনএদিকে হিমাগার মালিকদের অভিযোগ, এবার কৃষক ও ব্যবসায়ী কেউ আলু তুলতে আসছেন না। গত বছর যেখানে আগস্ট মাসের মধ্যে হিমাগার থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার বস্তা আলু বের হয়েছিল। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার বস্তায়। ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে মজুদ পুরোপুরি খালি হবে কি না। তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, কৃষকরা আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান থেকে বাঁচাতে সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন বলেন, চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার টন। এরমধ্যে ৭৮ হাজার টন আলু হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় কৃষকরা আলু তুলছেন না। এতে আলুর বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক


_medium_1774464518.jpg)




