ভিডিও বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ০২:৪১ দুপুর

দিল্লিতে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধির গম্বুজ ধসে নিহত ৫

দিল্লিতে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ চত্বরের একটি গম্বুজ ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরো অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকেলে দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় সম্রাট হুমায়ুনের সমাধির একটি গম্বুজ ধসে পড়ে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের খবর দেওয়া হলে সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

 

আরও পড়ুন

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি গম্বুজের একাংশ ধসে পড়ে। ছুটির দিন হওয়ার সে সময় সমাধিক্ষেত্রের অন্দরে অনেক পর্যটক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দমকল বিভাগের মোট পাঁচটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
 
হুমায়ুন ছিলেন মুঘল সম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট। তার পুরো নাম ছিল নাসির-উদ-দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন। তিনি তার বাবা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
রাজত্বকালে তিনি শের শাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাসনে ছিলেন। পরে পারস্যের শাহের সহায়তায় তিনি নিজের সাম্রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। কিন্তু এর মাত্র এক বছর পর তার মৃত্যু হয়।
 
হুমায়ুনের সমাধি দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। এটি মুঘল স্থাপত্যের একটি অসাধারণ উদাহরণ এবং ভারতের প্রথম বাগান-সমাধি হিসেবে পরিচিত।
এর নির্মাণ কাজ ১৫৬৫ সালে সম্রাট হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী বেগা বেগম (হাজি বেগম নামেও পরিচিত) শুরু করেন এবং এর স্থপতি ছিলেন পারস্যের মীরক মির্জা গিয়াস।
 
এই সমাধিটি মূলত লাল বেলেপাথর এবং সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি, আর এর স্থাপত্যে পারস্যের ‘চারবাগ’ (চার ভাগে বিভক্ত বাগান) এবং ভারতীয় শিল্পকলার এক চমৎকার সংমিশ্রণ দেখা যায়। এই সমাধির নকশা ও নির্মাণশৈলী পরবর্তীকালে বহু মুঘল স্থাপত্যকে প্রভাবিত করেছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো আগ্রার বিশ্ববিখ্যাত তাজমহল, যা প্রায় এক শতাব্দী পরে নির্মিত হয়েছিল।
 
হুমায়ুনের সমাধির কাছে মুঘল রাজবংশের প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি সদস্যের কবর রয়েছে, তাই একে ‘মুঘল রাজবংশের নেক্রোপলিস’; (সমাধিক্ষেত্র) বলা হয়। এর অসাধারণ ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্বের কারণে এটি ১৯৯৩ সাল থেকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা লাভ করেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বাধীনতার অনেক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলেই নতুন প্রজন্মকে রক্ত দিতে হয়

‘ভারতে গ্রেপ্তারদের ফেরাতে চুক্তি অনুযায়ী অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে’

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বীর শহীদদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ আটক

ভিয়েতনামের বিপক্ষে আজ কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ