গাজার অর্ধেকের বেশি ভূমি ইসরায়েলের দখলে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তারা গাজার অভ্যন্তরে সীমান্তের কাছে বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘হত্যা জোন’ তৈরি করছে। ওই স্থানে যে কেউ প্রবেশ করলে তাকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেছে আইডিএফ। পাশাপাশি উপত্যকার আরও ভেতরে বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে অগ্রসর হচ্ছে ইসরায়েলের বাহিনী।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, গাজা সীমান্তের ভেতরে এক কিলোমিটার এলাকায় বাফার জোনের নামে ওই ‘হত্যা জোন’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এজন্য ওই এলাকার বাড়িঘর, কারখানা ও খামার গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চার সেনা সদস্য জানান, এ অঞ্চলটি গঠন করা হচ্ছে, যাতে তারা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। সীমান্তে কথিত ওই বাফার জোনে কেউ প্রবেশ করলেই তাকে হত্যা করা হবে, সে ধরনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। এ জোন করতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও ক্ষান্ত নয় আইডিএফ। গত মাসে হামাসের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় নাটকীয়ভাবে অবস্থান প্রসারিত করেছে। এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গাজার ৫০ শতাংশের বেশি ভূখণ্ড। এতে ফিলিস্তিনিরা ক্রমেই সংকুচিত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, হামাস পরাজিত হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং ফিলিস্তিনিদের দেশত্যাগে বাধ্য করবে। তিনি জানান, ইসরায়েল দক্ষিণ গাজাজুড়ে আরেকটি করিডোর তৈরি করতে চায়, যা রাফা শহরকে বাকি অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।
আরও পড়ুনএপি জানায়, অতীতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি যে জমিতে বাস করত, তা এখন ইসরায়েলের বাফার জোন। অথচ এ এলাকাটিই একসময় গাজার কৃষি উৎপাদনের মূল চাবিকাঠি ছিল। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একসময়ের ঘনবসতিপূর্ণ বসতি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। সেসঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে সেখানে প্রায় এক ডজন নতুন ইসরায়েলি সেনা ফাঁড়ি তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








