সকাল ৯:১৪, শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ বিনোদন / না ফেরার দেশে চলে গেলেন বারী সিদ্দিকী
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বারী সিদ্দিকী
নভেম্বর ২৪, ২০১৭

 

অভি মঈনুদ্দীন ঃ না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী বারী সিদ্দিকী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরকার, গীতিকার, বংশীবাদক ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তার বিশেষ পরিচিত ছিলো। এই নন্দিত কণ্ঠশিল্পীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী তার মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গেল শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়ায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল তাকে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

শুক্রবার সকাল নয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নামাজে জানাজা এবং এর পরপরই বারী সিদ্দিকীর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশনে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ নেত্রকোনা সরকারী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে কারলিতে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কারলির বাউল বাড়িতে চতুর্থ নামাজে জানাজা শেষে বারী সিদ্দিকীকে দাফন করা হয়। বারী সিদ্দিকী ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশেষজ্ঞ বংশীবাদক। সেইসাথে তিনি ভাব ও মরমী ধারার এক অন্যরকম গায়কও বটে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গীত পরিচালক এবং একজন মুখ্য বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নেত্রকোনায় ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বারী সিদ্দিকীর জন্ম।

 তার বাবা প্রয়াত মহরম আলী ও মা প্রয়াত জহুর-উন-নিসা। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বারী সিদ্দিকীই ছিলেন সবার ছোট। ছোটবেলায় বারী সিদ্দিকীর বয়স যখন তিন কিংবা চার হবে সেই বয়সেই মা’র কাছে তার প্রথম শুনা গান ছিলো ‘শ্বাশুড়িরে কইয়ো গিয়া’। সেই গানের সুরই বারী’র মনে গেঁথে যায় ছোটবেলায়। যদিও তার পরিবার গানের পরিবার ছিলোনা। কিন্তু সৌখিন গানের পরিবার ছিলো তার। বারীর নানা শেখ সাবির সরদ বাজাতেন। আর তার নানীর কাছ থেকেই মা গান শিখেছিলেন টুকটাক। বারীর বয়স যখন পাঁচ তখন বড় ভাইয়ের বাঁশিতে ফু দেয়া তার মধ্যে অন্যরকম আগ্রহের সৃষ্টি করে বাঁশি শেখার প্রতি।

বারীর নানারা দুই ভাই ছিলেন। তার নানার একটা সঙ্গীতের দল ছিলো। বারীর বাবা গানের সাথে জড়িত না থাকলেও গান বাজনা তার পছন্দের ছিলো। বারী তার বাঁশি শেখা এবং গান শেখার দুটোরই উৎসাহ পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। বারী ছোটবেলায় বাঁশি বাজাতেন মূলত বড় ভাইদের নকল করে। তখন পদ্ধতিগতভাবে নেত্রকোণায় বাঁশি শেখার উপায় ছিলো না। তাই মাত্র সাত আট বছর বয়সেই মা জহুর-উন-নিসার কাছে গান শেখা শুরু করেন। মার কাছ থেকে জীবনে তিনি প্রথম যে গানটির সুর বাঁশিতে তুলে নিয়েছিলেন সেই সুরটিই তিনি পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদ’র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছিলেন। সেটি ছিলো শ্যাম বিচ্ছেদের একটি সুর।

 কলিটা ছিলো এরকম ‘আস্ট আঙ্গুল বাঁশের বাঁশি/মধ্যে মধ্যে ছ্যাদা/ নাম ধরিয়া ডাকে বাঁশি/ কলংকিনী রাধা/। নেত্রকোনায় গ্রামের স্কুল থেকে বারী সিদ্দিকী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত করেন। নেত্রকোণা গভর্ণমেন্ট হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠও সম্পন্ন করেন। তারপর নেত্রকোণা সরকারী কলেজ জীবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বারী সিদ্দিকী যখন হাইস্কুলে পড়তেন তখন থেকেই তিনি পদ্ধতিগতভাবে সঙ্গীত শেখা শুরু করেন নেত্রকোনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। তার সঙ্গীতের ওস্তাদ ছিলেন শ্রী গোপাল দত্ত।

সে সময় বড় দুই ভাই এবেং রফিক মাহমুদ, বিপুল চৌধুরী, দুলাল দত্তনবীশ, হযরত আলীর কাছ থেকেও গানে সহযোগিতা পেয়েছেন। ছোটবেলায় মূলত সঙ্গীতশিল্পী হবারই স্বপ্ন ছিলো বারী সিদ্দিকীর। তার মা তাকে উচাঙ্গ সঙ্গীত শিখে তা বাঁশিতে ট্রান্সফর্ম করতে বলতেন। তার সঙ্গীতে প্রথম ওস্তাদ গোপাল দত্ত। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের দিকে ঢাকায় শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসারের একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় ওস্তাদ আমিনুর রহমানের কাছে। তিনি বিমানের পাইলট ছিলেন। ভারত বর্ষের বিখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ পান্না লাল ঘোষের শিষ্য ছিলেন। সেই আমিনুর রহমানের বাড়িতে থেকেই বাঁশিতে তালিম নিতে থাকেন দিনের পর দিন। সেখানে থেকেই তিনি ওস্তাদ তাগাল ব্রাদার্স, প-িত দেবেন্দ্র মুৎসুদ্দী, ওস্তাদ আয়েফ আলী খান মিনকারীর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন বারী সিদ্দিকী।

 প-িত বিজি কারনাডের কাছেও বাঁশি শিখতে তিনি পুনাতে গিয়েছিলেন। এভাবে একসময় বারী শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বাংলাদেশ রেডিও টেলিভিশন’সহ সম্মিলিত একটি যন্ত্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতায়  প্রথম  স্থান অধিকার করেন। এর পরপরই তিনি দক্ষিণ এশীয় সার্ক ফেস্টিভ্যালে যান বাঁশি বাজাতে সরকারী সহযোগিতায়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি আরো পরিচিত হয়ে উঠতে লাগলেন। বাঁশি বাজান উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে। হুমায়ূন আহমেদ’র এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তার বাসায় যান বাঁশি বাজাতে। সেখানে বাঁশি বাজানোর পাশাপাশি গানও করেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদ তাকে আরো গান গাইতে বলেন অনুষ্ঠানে। গান শুনে মুগ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৯৫ সালে বিটিভির ‘রং-এর বারৈ’ অনুষ্ঠানে প্রথম গান করেন বারী সিদ্দিকী।

এর পরপরই হুমায়ূন আহমেদ তাকে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে গান গাইতে বলেন। এই চলচ্চিত্রে ছয়টি গান করেন তিনি, যার প্রতিটিই বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সুয়াচাঁন পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি’, ‘পূবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া জোয়ান লোকের কাম’ এবং ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’। চলচ্চিত্রের গানে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাবার পরপরই বাজারে তার দুটি একক অ্যালবাম আসে। একটি ‘দুঃখ রইলো মনে’ এবং অন্যটি ‘অপরাধী হইলেও আমি তোর’। দুটি অ্যালবাই লুপে নেয় শ্রোতারা।

 সেই সময় ৮০/৯০ বছর পর উকিল মুন্সীর লেখা গান জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পেরে বারী ছিলেন দারুণ উচ্ছসিত। বারী সিদ্দিকী সবসময়ই নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। একজন বংশীবাদক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি বাঁশি বাজিয়েই শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ওয়ার্ল্ড ফ্লুট সম্মেলনে এই উপমহাদেশ থেকে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এটা ছিলো বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। একজন গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাবার আগে বারী সিদ্দিকী একজন বংশবাদক হিসেবে বাঁশি বাজিয়েছেন দু’দশক ধরে। কিন্তু গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর দেশের বাইরে বংশীবাদক হিসেবে তার সফর কমে যায়।

কন্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। বারী সিদ্দিকী ১৯৮৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে। বারী সিদ্দিকীর দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী, মেয়ে এলমা সিদ্দিকী এবং ছোট ছেলে বিলাস সিদ্দিকী। ১৯৮০ সালে বারী সিদ্দিকী পেশাগতভাবে বাঁশি বাজানো শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিটিভিতে ‘সৃজন’ অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান। বারী সিদ্দিকী ‘মাটির পিঞ্জিরা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এটি নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ফেরারী অমিতের নির্দেশনায় ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকেও অভিনয় করেছিলেন। তবে অভিনয় করতেন নিতান্তই অনুরোধে এবং শখের বশে।

বারী সিদ্দিকীর গান শুধু তার ভক্ত শ্রোতারই শুনতেন এমন নয়। আমাদের কন্ঠশিল্পীরাও তার গান শুনে মুগ্ধ হতেন। বড় থেকে ছোট সব শিল্পীরাই তার গানের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাবারও চেষ্টা করতেন। বারী সিদ্দিকীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন কয়েকজন শিল্পী। রুনা লায়লা ঃ বারী সিদ্দিকীর হঠাৎ এভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই খুব দুঃখজনক। আমাদের মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রির খুব ক্ষতি হয়েগেলো। তার ইউনিক একটি ভয়েজ ছিলো। গাওয়ার স্টাইলওটাও ছিলো ভিন্নরকম। তার গেয়ে যাওয়া গানগুলোর মধ্যেই তিনি আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। তার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করছি, সেইসাথে মহান আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।

ফরিদা পারভীন ঃ দেশে অনেক ডাক্তার আছেন, ইঞ্জিনিয়ার আছেন, শিল্পপতি আছেন, কিন্তু বারী সিদ্দিকী দেশে একজনই আছেন। সেই বারী সিদ্দিকী শেষ পর্যন্ত চলে গেলেন। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক কষ্টের, বেদনার। কারণ বারী সিদ্দিকী যুগে যুগে জন্মায়না। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বারী সিদ্দিকী একজনই। আমি প্রাণ ভরে দোয়া করি বারী সিদ্দিকী তার মরমী গানের মধ্যে দিয়েই যেন ওপারে শ্রেষ্ঠতম একটি স্থানে যেন পৌঁছাতে পারেন। আমাদের সবাইকেই যেতে হবে। আর এ জন্য মানসিকভাবে আমাদের সবাইকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা জন্মাক, একে অপরের জন্য বেশি বেশি দোয়া করি, দোয়া করি আমরা সবাই বারী সিদ্দিকীর জন্য।

শহীদুল্লাহ ফরায়েজী ঃ বারী ভাই আমাদের অনুভুতিকে ঋণী করে গেছেন, আমাদের হৃদয়কে ঋণী করে গেছেন। আমাদের অনুভূতি যতোদিন থাকবে, আমাদের হদয় যতোদিন থাকবে বারী ভাই ততোদিন আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। বারী ভাই আমার লেখা অসংখ্য গান গেয়েছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘চন্দ্র সূর্য যতো বড় আমার দুঃখ ততো বড়’, ‘আমার মন্দা স্বভাব’, ‘নষ্ট জীবন’,‘ সরলা’, ‘কতো দাগ লাগাইলি’ ইত্যাদি গান তার কন্ঠে শ্রোতা দর্শক শুনে মুগ্ধ হয়েছেন। বারী ভাই আমার পরিবারেরই একজন। তার চলেও যাওয়া আমার মেনে নেওয়া অনেক কষ্টের, যন্ত্রনার। মহান আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসীব করুন।


সামিনা চৌধুরী ঃ ঘুম থেকে উঠেই বারী ভাইয়ের চলে যাবার খবরটি পাবার পর থেকে কোনভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছিনা। খুব, খুউব কষ্ট হচ্ছে আমার। খারাপ লাগছে এই ভেবেও যে তাকে হাসপাতালে দেখতে যেতে পারলাম না শেষ সময়ে। ‘সেরা কন্ঠ’তেই শেষ দেখা হলো তারসঙ্গে। তিনি এতোটা অসুস্থ ছিলেন, বুঝতেই পারিনি। বারী ভাই সত্যিকারের একজন ভালো মানুষ ছিলেন। এমন অসাধারন কন্ঠ আর আসবেনা। তার প্রতিটি গানই একেকটি অনবদ্য সৃষ্টি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।

আইয়ূব বাচ্চু ঃ বারী চলে গেছেন, সম্পদ হারানোর মিছিলে বাংলাদেশ বিশাল এক সম্পদকে হারালো। বারী ভাইয়ের মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তার আর কোনকিছু দিয়েই পূরণ হবার নয়। তার বাঁশি তার কন্ঠ দুই মিলিয়েই তিনি নিজেকে বারী সিদ্দিকী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। কয়েক জনমেও আর এই দেশে একজন বারী সিদ্দিকীর জন্ম হবে না। মরনোত্তর সম্মাননাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু আমি আজ জোরালো কন্ঠেই বলতে চাই, সত্যিকার অর্থের যারা শিল্পী তাদের যেন যথাযথভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জীবদ্দশাতেই সম্মান দেয়া হয়, পুরস্কৃত করা হয়। মৃত্যুর পর তাকে সম্মান দেখিয়ে কোন লাভ নেই, যে কাজের জন্য তিনি সম্মান পাচ্ছেন সেই সম্মান পেয়ে তিনি নিজে যেন আনন্দ করে যেতে পারেন। একজন সুধীন দাস, ফিরোজা বেগম, আব্দুল জব্বার, আজম খান, নিলয় দাস কিংবা বারী সিদ্দিকী এই দেশে আর জন্ম নিবে না। তাই এমন নিবেদিত এবং মহান শিল্পীদের জীবদ্দশায় সম্মান দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হোক। বারী ভাইয়ের আতœার শান্তি কামনা করছি। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসীব করুন।

কুমার বিশ্বজিৎ ঃ বারী ভাই চলে গেছেন, সত্যিই বড় অসময়ে চলে গেছেন। উপরওয়ালার বিচার মাঝে মাঝেই বুঝিনা আমি। খুব কষ্ট হয় কিছু বিচারের জন্য। বারী ভাইয়ের খুব বেশি যে বয়স হয়েছিলো তেমন নয়। আরো বিশটি বছর অনায়াসে তিনি এদেশের সংষ্কৃতির জন্য কাজ করে যেতে পারতেন। কিন্তু পারলেন না। তার পরিপূরক এই বাংলায় আর কেউ হবে না কোনদিন। চারিদিকে একের পর এক শূণ্যতা নিজের মনের ভেতরই বিশাল শূণ্যতার সৃষ্টি করছে।

একের পর এক আমাদের প্রিয় প্রিয় মানুষেরা চলে যাচ্ছেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো বারী ভাইয়ের সুরে তিনটি গান গাইবার। আবার আমার সুরে ‘ঢাকা ড্রিম’ চলচ্চিত্রে তিনি প্লে-ব্যাক করেছেন। এটি আগামী বছর শ্রোতারা শুনতে পাবেন। সত্যি বলতে কী বারী ভাই বাউলিয়ানা ছিলেন কিন্তু শেষ সময় ‘সেরা কণ্ঠ’তে ফোক গানের বিশেষ পর্বে যখন রাত আটটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত সময় কাটালাম তখন তারমধ্যে সংসার, সন্তান নিয়ে খুব দুঃশ্চিন্তা দেখেছি। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে তার অবদান যুগের পর যুগ মনে রাখবে এদেশের মানুষ। আমি তার আতœার শান্তি কামনা করি, তার পরিবার যেন এ শোক সইতে পারে সে দোয়াও করি।

অ্যা-্রু কিশোর ঃ  চলমান ফোক সঙ্গীতে এক অন্যরকম ধারার সৃষ্টি করেছিলেন বারী ভাই। তার গায়কী, তার বাঁশি সবাইকে মুগ্ধ করতো। এটা বলতে দ্বিধা নেই যে ফোক ঘরানার গানে এক অন্যরকম দরজার সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু যিনি সৃষ্টি করলেন তিনিই চলে গেলেন অসময়ে। এই অসময়ে চলে যাওয়াটা আসলে মেনে নেবার মতো নয়। ভীষণ খালাপ লাগছে বারী ভাইয়ের জন্য এই ভেবে যে তিনি যদি তার শরীরের প্রতি আরেকটু যতœবান হতেন তাহলে আমরা তাকে আরো বহুবছর পেতাম গানের ভুবনে। তার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করছি।

জাহিদ হাসান ঃ বারী ভাইয়ের কী এমনই বা বয়স হয়েছিলো যে তাকে চলে যেতে হবে। তার এই চলে যাওয়াটা মেনে নেবার নয়। আমি বলবো এই মৃত্যু অকাল মৃত্যু। তার এই মুত্যুতে সত্যিই আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েগেলো। বারী ভাই খুব অভিমানী একজন মানুষ ছিলেন। তবে তিনি সত্যিকারের একজন শিল্পী ছিলেন। শুধু বাঁশি বাজানোতে নিজেকে পারদর্শী করে তুলতে দেশের বাইরে গিয়েছেন। হুমায়ূন স্যারের বাসাতেই তারসঙ্গে আমার প্রথম দেখা। তারপরওতো ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে তিনি গান গাইলেন, এরপর বাকীটাতো ইতিহাস। ‘আমার গায়ে যতো দুঃখ সয়’ গানটি আমার লিপেই গিয়েছিলো। আল্লাহ বারী ভাইকে বেহেস্ত নসীব করুন।
ঐশী ঃ বারী স্যার চলে গেছেন, এটা বিশ্বাস করতেই আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি তার গান শুধু শুনতামই না মন দিয়ে অনুভব করতাম এবং এটা সত্য যে স্টেজ শো’তে বা টিভিতে কোন শো’তে আমি তার গান দিয়েই শুরু করতাম। তার গাওয়া গানগুলো আমার মনে অন্যরকম আনন্দ দিতো, তার গাওয়া গানগুলো গাইতেও আমি আরাম পেতাম। আমি ফোক গান গাইতে ভীষণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। যে কারণে তার গানের প্রতি আমার আলাদা অনুভব আছে। এমন মহান একজন শিল্পী অসময়ে চলে গেছেন, বিশ্বাসই হচ্ছেনা।
ছবি ঃ আসলাম হাবিব

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top