ভোর ৫:২১, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ নইলে খনির কার্যক্রম অচল
বড়পুকুরিয়ায় দীর্ঘ মানববন্ধনে আল্টিমেটাম
৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ নইলে খনির কার্যক্রম অচল
ডিসেম্বর ৬, ২০১৭

দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিনিধি : আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা না করা হলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ঘেরাও করে খনির কার্যক্রম অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কয়লা খনি সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের মানুষ। বুধবার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে এই ঘোষণা দেন তারা। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির ব্যানারে বড়পুকুরিয়া-ফুলবাড়ী মহাসড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটারব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন থেকে ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হলো-১৩টি গ্রামের পূর্বের কয়লা উত্তোলনের ক্ষতিগ্রস্তদের বকেয়া টাকা পরিশোধ, বাড়িঘরের ফাটলের ক্ষতি পূরণ যথাসময়ে প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবার থেকে চাকরি প্রদান, কয়লা উত্তোলনের ফলে দেবে যাওয়া রাস্তাঘাট সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা, পূর্বের ৬২৭ একর অধিগ্রহণকৃত সকল জমির বকেয়া পরিশোধ এবং পেট্রোবাংলা, খনি কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল, খনি এলাকার বৈগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, চৌহাটি গ্রামের মিজানুর রহমান, বৈগ্রামের মোস্তফা, মোবারকপুর গ্রামের হাসান, রসুলপুর গ্রামের রতন, পাতরাপাড়া গ্রামের মামুন, পাতরাপাড়া গ্রামের সাইদুর রহমান, কাজিপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলী ও বৈগ্রামের পান্না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খনির ভূগর্ভস্থ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে খনি সংলগ্ন পার্বতীপুর উপজেলার ১৩টি গ্রামের বিভিন্ন ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। একই সাথে ভূমি দেবে গিয়ে জলাশয়ের সৃষ্টি হওয়ায় অনাবাদি হয়ে পড়ছে অধিকাংশ জমি। এলাকার লোকজন জানায়, ফুলবাড়ী থেকে খয়েরপুকুরহাট ও চৌহাটি থেকে ধুলাউদাল পর্যন্ত জনগণের চলাচলের জন্য রাস্তাটি দেবে গেছে। বর্ষাকালে রাস্তাটি পানির নিচে ডুবে যায়। এতে এলাকার মানুষ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে খনি কর্তৃপক্ষ এলাকার মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, ফসলের জমি, বাসা বাড়ি, পুকুর সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে ৬২৭ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। কিন্তু এখনও অনেকেই তাদের ক্ষতিগ্রস্ত জমির ক্ষতি পূরণ পায়নি। বরং বর্তমানে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা জমি অধিগ্রহণ না করেই খনি এলাকার উত্তর-দক্ষিণ দিকে সমীক্ষার কাজ করছে এবং নতুন নতুন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ করছে। যাতে করে ঘরবাড়িতে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। খনি কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর দাবির বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে এলাকার লোজনকে ভয়ভীতি, মামলা-মোকদ্দমা করে আন্দোলনকে বন্ধ করতে চায়।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল মানববন্ধনে বক্তব্যে বলেন, আমাদের ৬ দফা দাবি খনি কর্তৃপক্ষকে মেনে নিতে হবে। ৬ দফা দাবিসমূহ আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে কয়লা খনিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের মধ্যে মোবারকপুর, বইগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, রসুলপুর, কালুপাড়া, মহেশপুর, পাতরাপাড়া, বাঁশপুকুর, বৌধনাথপুর, কাজিপাড়া, হামিদপুর, চৌহাটি, যবরপাড়া এলাকায় ভু-গর্ভ থেকে কয়লা উত্তলনের ফলে ঘরবাড়িতে নতুন করে ফাটলের ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত ঐ সব বাসা বাড়ির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবার থেকে চাকরি ব্যবস্থা করতে হবে ও কোটা রাখতে হবে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ৬ দফা দাবির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ঘেরাও এবং খনির উৎপাদনসহ সকল কার্যক্রম অচল করে দেয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবির বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যা

 

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top