রাত ১১:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / হরতালে সহিংসতা হলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে: কাদের
৬ মাসের মধ্যে মেট্রোরেল দৃশ্যমান
হরতালে সহিংসতা হলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে: কাদের
অক্টোবর ১১, ২০১৭

বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল সহিংস রূপ নিলে তখন জবাব সেরকম ভাবেই দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় মেট্রোরেলের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সহিংসতা সৃষ্টি করে এদেশে যে কোনো আন্দোলন গড়ে তোলা যায় না, তার প্রমাণ ৫ জানুয়ারি পরবর্তী বিএনপির অবরোধের ডাক। তখন নানা ধরনের সহিংসতা ঘটানো হয়েছিল। মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। কিন্তু এর রেজাল্ট কী হল? বিএনপি এবং তার সহযোগীরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হরতালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দল এখন শক্তিহীন। সে অবস্থায় এখন আর আমাদের অপজিশন কেউ নেই। আন্দোলন করার সক্ষমতা তাদের নেই। আর যখনই আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেবে, তখন জবাবও হবে সেই রকম। কাদের বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা যদি আপনাকে কোনো ষড়যন্ত্র বা কোনো সহিংতার প্রস্তুতি বৈঠকে হাতেনাতে পায়, সে অবস্থায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তো বসে থাকবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধান বিচারপতি তো মেরুদন্ডহীন না। জোর করে বিদেশ পাঠানো হলে উনি নিজেই বলতেন। তাকে জোর করে পাঠানো হচ্ছে না তিনি নিজেই ছুটি নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি নিজেই বলুন তাকে জোর করে পাঠানো হচ্ছে কি না। উনি কি মেরুদন্ডহীন কেউ যে, তিনি বলবেন না সে রকম কিছু হলে? বিএনপি মহাসচিব ‘প্রলাপ’ বকছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, উনাকে কাঁদতে বলেন। চোখের জল ফেলা ছাড়া তো উনার আর করার কিছু দেখছি না। কারণ চেয়ারপার্সন আসবেন, আসবেন, কবে আসবেন কেউ জানে না। নেতাকর্মীরা হতাশ। কাজেই উনি এখন এটা-সেটা বলে কোনো রকমে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা যায় কি না সে ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের কান্না প্রসঙ্গ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, উনারে কাঁদতে বলেন। হতাশ হয়ে চোখের জল ফেলছেন উনি। তার অবস্থায় পড়লে আমাদের কি হতো, সেটা আমরা জানি না। সেটা আমাদের ভাগ্যে হয়নি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, গতবছর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় সাতজন জাপানি পরামর্শকসহ ২২ জন নিহত হওয়ার পর মাঝখানে মেট্রোরেলের কাজ কিছুদিন থেমে থাকলেও এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, জাপানি কনসালটেন্টদের মর্মান্তিক মৃত্যু এ কাজ মাস ছয়েক পিছিয়ে দিয়েছে। মেট্রোরেল অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এই প্রকল্পটি আবার গতি পেয়েছে।

জাইকার ফান্ডিংও বন্ধ হয়নি। যে কোম্পানিগুলোর কাজ করার কথা, তারা কাজ করছে। এখন ফুল সুইংয়ে কাজ চলছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন আগারগাঁওয়ে কাজ হচ্ছে। পায়ারের সঙ্গে স্প্যান যুক্ত করার পর পদ্মাসেতুর সুপার স্ট্রাকচার যেমন দৃশ্যমান হয়েছে, আমরা আশা করছি, মেট্রোরেলও আগামী ছয় মাসের মধ্যে জনগণের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজ শেষ করে ২০২০ সালে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, এমআরটি লাইন-৬ হওয়ার পর এআরটি-১ এবং এমআরটি-৫ এর কাজ শুরু হবে। এ দুটি প্রকল্পের জন্যও জাপান সরকার বরাদ্দ করেছে। অর্থ বরাদ্দ একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তাদের সঙ্গে আমাদের একটা ঋণচুক্তি হয়ে গেছে। প্রসেস ইজ আন্ডার ওয়ে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top