ভোর ৫:৪০, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ খেলাধুলা / সিলেটকে আশার আলো দেখাল বিপিএল
সিলেটকে আশার আলো দেখাল বিপিএল
নভেম্বর ৯, ২০১৭

চায়ের দেশ সিলেটে সবকিছুই ছিল, ছিল না শুধু ক্রিকেট। নিয়মিত ঘরোয়া ফুটবলের ম্যাচ আয়োজন হচ্ছিল, জাতীয় দলও গিয়ে খেলেছে গোটা কয়েক ম্যাচ। ক্রিকেটেও পিছিয়ে ছিল না। সাদা পোশাকের ম্যাচ হচ্ছে নিয়মিত, বয়সভিত্তিক দলের ম্যাচ হচ্ছিল। পা পড়ছিল না শুধু মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিকদের। বিপিএল দিয়ে সেটাও পূর্ণ হয়ে গেল।

প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল বলে আর্থিক সামর্থ্য হয়তো সিলেটবাসীর খানিকটা বেশিই। সিলেটের রাস্তা-ঘাটে নামলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে বারবার। আর খেলাধুলার প্রতি তাদের প্রেমের খবর সবারই জানা। বিপিএলের আয়োজকরা এবার তাই আট ম্যাচ আয়োজন করে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সামর্থ্যের প্রমাণ রাখে সিলেটবাসিও। বিপিএলের প্রতিটি ম্যাচে ভরপুর ছিল স্টেডিয়ামের গ্যালারি। ১৮ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সিলেট স্টেডিয়ামে দর্শকখরা দেখতে হয়নি।

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল স্পষ্ট করেই বলেছেন,‘ক্রিকেটের প্রতি যে জোয়ার সিলেটবাসী দেখিয়েছে তা সত্যিই অবাক করার মতো। বিসিবিও একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে। এখানে অবকাঠামোর কোনো সমস্যা নেই। আমরা নিশ্চিত অচিরেই কোনো আন্তর্জাতিক দলকে এখানে আতিথেয়তা দিতে পারব।’

বিসিবিও সিলেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে আসতে ইচ্ছুক। এজন্য সিলেট স্টেডিয়ামে শীঘ্রই কিছু কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বিসিবি। সিলেট স্টেডিয়ামের পিছনে রয়েছে ইনডোর একাডেমি। সেখানে একটি আউটার স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনা বিসিবির। এ বিভাগ থেকে বিসিবির পরিচালক নির্বাচিক হওয়া শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল দিলেন সুখবর।

তিনি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে স্টেডিয়ামের পিছনে ৯ একর জায়গা একুয়ের করেছে ভূমি মন্ত্রনালয়। বিসিবির চাওয়া অনুযায়ী এ জায়গাটিতেই গড়ে তোলা হবে আউটার স্টেডিয়াম। যেখানে থাকবে ড্রেসিং রুম, দর্শক বসার জায়গা এবং ম্যাচ আয়োজনের সকল সুযোগ সুবিধা।

নাদেল বলেছেন,‘ভূমি মন্ত্রনালয় ৯ একর জায়গা ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেখানেই হবে সিলেটের আউটার স্টেডিয়াম। ক্রীড়া মন্ত্রনালয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে আউটার স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত একটা পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ম্যাচ আয়োজনের সুব্যস্থা থাকবে। পাশাপাশি চাইলেও যেকোনো দলকে খেলানো সম্ভব হবে।’

যেহেুতু ভূমি একুয়ের হয়েছে তাই কাজ শুরু করতে সময় নিতে চায় না বিসিবি। আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যেই আউটার স্টেডিয়ামের কাজ হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা বিসিবির,‘৩-৪ মাসের মধ্যেই সিলেট স্টেডিয়ামের আউটার স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হবে বলে। আধুনিক ইনডোর, সুইমিংপুল এবং আউটার স্টেডিয়ামের সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে সেখানে। টেন্ডার ছাড়ার পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজে নিযুক্ত হবে। ৩ বছরের পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার আশা রয়েছে।’

অবকাঠামোর দিক থেকে সিলেট স্টেডিয়াম এখন অনেকটাই এগিয়ে। ইনডোর স্টেডিয়ামে সংস্কার এবং আউটডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে সিলেট এগিয়ে যাবে আরও একধাপ। গত কয়েক বছরে পৃষ্ঠপোষকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে ছিল সিলেট। বিপিএল দিয়ে সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। অন্তত আশার আলো দেখাল চার-ছক্কার এ টুর্নামেন্ট। তবে জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজনে অবকাঠামোর সঙ্গে খানিকটা কূটনীতি ও সাংগঠনিক তৎপরতাও দরকার।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top