রাত ৪:৪০, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / শিক্ষা ক্যাডারে অস্বস্তি : সমস্যা ও সমাধান
শিক্ষা ক্যাডারে অস্বস্তি : সমস্যা ও সমাধান
সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭

মোঃ শওকত হোসেন :বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৮টি ক্যাডারের  মধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অন্যতম । সদস্য সংখ্যায় সবচেয়ে বৃহৎ ক্যাডার হলেও নানা কারণে জন্মলগ্ন হতেই এই ক্যাডারটি অবহেলা আর অমর্যাদায় বেড়ে উঠেছে। নানা প্রতিকূলতা অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিস হতে সুযোগ সুবিধা মর্যাদার ক্ষেত্রে তুলনামূলক পিছিয়ে দিয়েছে। বৃহৎ ক্যাডার হওয়া সত্ত্বেও কাঙ্খিত জব সেটিসফেকশন না থাকায় এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা জনসেবায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারছেন না। অফিস, ক্লাসরুম  ছেড়ে অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় মাঠে, রাস্তায় আর আদালতে দাঁড়াতে হচ্ছে  প্রতিনিয়ত। ফলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ ও জাতি। ক্যাডার সার্ভিসের সদস্য হিসেবে এটি অসম্মানেরও বটে। দেশের স্বার্থে, জনসেবার স্বার্থে এই বৃহৎ ক্যাডারটিকে তার যথাযথ  অধিকার ও মর্যাদা দিয়ে কাজে লাগাতে পারলে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে সর্বাধিক সক্রিয় ভুমিকা রাখবে বলে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।


শিক্ষা ক্যাডারে আছি বলেই এ ক্যাডারের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখার ও ভাবার সুযোগ পেয়েছি। আমার দৃষ্টিতে শিক্ষা ক্যাডারে অস্বস্তির  সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক কিছু কারণ বিদ্যমান। ক্যাডার সার্ভিস হওয়া সত্বেও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য ওয়ারেন্ট অব পিসিডেন্সে কোন অবস্থান নির্দিষ্ট করা নেই,  বদলি/ পদায়নের কোন সুনির্দিষ্ট বিধান কার্যকর নেই, পদোন্নতিতে চলছে চরম হযবরল অবস্থা। আর শিক্ষা ক্যাডারের জন্য “অবকাশ বিভাগ” শব্দটি এ সময়ের সবচেয়ে বড় কৌতুক। অবকাশ যাপনের সুযোগ নেই কিন্তু  নামে অবকাশ বিভাগ। সরকারের অন্য বিভাগগুলি সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করেন দুই দিন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কলেজ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সেটি একদিন।  আরেকটি অবকাশ বিভাগ হিসেবে বিচার বিভাগের সাথে তুলনা করলে আরো করুণ চিত্র ফুটে উঠবে। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, শীতকালীন অবকাশ, রমজান মাসের অবকাশ যাপনের বিধান কিতাবে থাকলেও বাস্তবে সুযোগ নেই। বিগত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এসব অবকাশের মধ্যে শিক্ষাবোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সমুহের কারণে এসব ছুটি ভোগের কোন সুযোগ পান না তাঁরা । ফলে অধিকার বঞ্চিত হয়ে ক্যাডার কর্মকর্তাদের মাঝে চরম হতাশা ও অস্বস্তি জমে আছে । অথচ ক্যাডারটিকে অবকাশ বিভাগ থেকে মুক্তি দিলেই সমস্যা চুকে যায়। অন্য ক্যাডারের মতো বদলি প্রক্রিয়া কার্যকর করা কর্তৃপক্ষের জন্য নস্যি। ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বিধি মোতাবেক যোগ্যদের পদোন্নতি দিলেই এ অস্বস্তি কেটে যায় নিমেষেই। সরকারের একটি সিদ্ধান্তেই ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে কাঙ্খিত অবস্থান পেয়ে সম্মানজনক অবস্থানে থাকতে পারে ক্যাডারটি।   


এবার আসি অস্বস্তির মূল কারণে। ক্যাডারটির জন্য “মরার উপর খাড়ার ঘা” হয়ে দাঁড়িয়েছে আত্তীকরণ সমস্যা। ক্যাডার সার্ভিসে আত্তীকরণ এক চরম অন্যায় ও অবিচার। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত যুদ্ধবিধবস্ত দেশে এমন একটি সুস্থ ও সুন্দর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সিভিল সার্ভিসকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন  যারা বিশ্বমানের সক্ষমতা সৃষ্টি, দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত সরকারি নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে স্বাধীন ও সার্বভৌমভাবে নব প্রতিষ্ঠিত দেশের চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণে সক্ষম হবে। এ জন্য ঞযব ঝবৎারপবং (জবড়ৎমধহরুধঃরড়হ ধহফ ঈড়হফরঃরড়হং) ঙৎফরহধহপব, ১৯৭৫ নামে ১৯৭৫ সালে ঢঢওও নং অধ্যাদেশ জারি করেন। পরবর্তীতে এটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন এবং ঞযব ঝবৎারপবং (জবড়ৎমধহরুধঃরড়হ ধহফ ঈড়হফরঃরড়হং) অপঃ ১৯৭৫ নামে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এ আইনের ৪নং অনুচ্ছেদ বলে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে ১৯৮০ সালে তৎকালীন সরকার ১৪টি ক্যাডার সৃষ্টি করে ঞযব ইধহমষধফবংয ঈরারষ ঝবৎারপবং (জবড়ৎমধহরুধঃরড়হ) ঙৎফবৎ, ১৯৮০ জারি করেন।  সংশোধনীর মাধ্যমে ক্যাডার সংখ্যা ৩০ এ উন্নীত করা হয়। একটি ক্যাডারের ধরণ, পদের ধরন ও পদ সংখ্যা নির্দিষ্ট করার জন্য প্রত্যেকটি ক্যাডারের জন্য একটি করে ক্যাডার কম্পোজিশন রুল প্রণয়ন করে ০১/০৯/১৯৮০ তারিখেই তা জারি করা হয়। এর মধ্যে বিসিএস সাধারণ শিক্ষার জন্য প্রযোজ্য  রুলটি হলো ঞযব ইধহমষধফবংয ঈরারষ ঝবৎারপব (ঊফঁপধঃরড়হ : এবহবৎধষ ঊফঁপধঃরড়হ) ঈড়সঢ়ড়ংরঃরড়হ ধহফ ঈধফৎব জঁষবং, ১৯৮০। সর্বমোট-১০১৮টি পদ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও  এই ক্যাডার রুলে সিএসপি ও ইপিএস ক্যাডারে স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সরাসরি অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি নতুন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়।


ক্যাডারে বা ক্যাডার পদে জনবল ঢোকার স্বীকৃত নিয়মিত উপায় ২টি হলোঃ ১. সরাসরি নিয়োগ ও ২. পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ।  ১৯৮১ সালে বিসিএস ক্যাডার পদে নিয়মিত নিয়োগের জন্য সরকার ঞযব ইধহমষধফবংয ঈরারষ ঝবৎারপব জবপৎঁরঃসবহঃ ৎঁষবং, ১৯৮১ এটি সব ক্যাডারের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। এই রুলসেও নিয়োগের ধরণ ৃবলা হয়েছে ২টি  ১। ধারা ৪ এ সরাসরি নিয়োগ   ২। ধারা ৫ এ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ। জনবল নিয়োগের কাজটি করে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ঞযব ইধহমষধফবংয চঁনষরপ ঝবৎারপব ঈড়সসরংংরড়হ (পিএসসি)। বিসিএস ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের একমাত্র বৈধ উপায় হলো বিসিএস পরীক্ষা এবং যেটি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য ১১/০৫/১৯৮২ তারিখে ইঈঝ (অমব, য়ঁধষরভরপধঃরড়হ ্ ঊীধসরহধঃরড়হ ভড়ৎ ফরৎবপঃ ৎবপৎঁরঃসবহঃ) জঁষবং, ১৯৮২ নামে সরকার কর্তৃক একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা বিধিমালা প্রণীত হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য বিধি মোতাবেক প্রিলিমিনারী, লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক, মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা যোগ্য বিবেচিত হলে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।
লক্ষ্য করুন,   

প্রথমত ঃ ক্যাডার কম্পোজিশন রুলস ১৯৮০ ধারা ৬  এ নিয়োগের ধরন বলা হয়েছে ২টি   ১। সরাসরি নিয়োগ  ২। পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ। আবার ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ তে নিয়োগের ধরন বলা হয়েছে ২টি  ১। ধারা ৪ এ সরাসরি নিয়োগ  ২। ধারা ৫ এ পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ।
দ্বিতীয়ত ঃ সরকার কলেজ জাতীয়করণ করলে ১৯৮১ জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের জন্য একটি বিধি তৈরি করে যেটা ঞবধপযবৎং ধহফ ঘড়হ ঞবধপযরহম ঝঃঁভভ ড়ভ ঘধঃরড়হধষরংবফ ঈড়ষষবমবং অনংড়ৎঢ়ঃরড়হ জঁষবং, ১৯৮১ নামে পরিচিত। এই বিধিতেও জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার ভূক্ত করার কোন সুযোগ নেই। তাদেরকে কলেজ জাতীয়করনের তারিখ হতে চাকুরী গণনায় সিনিয়রিটির বিষয় উল্লেখ আছে সেটাও তাদের মধ্যে।

তৃতীয়তঃ ১৯৯৮ সালে জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের জন্য ঞবধপযবৎং ধহফ ঘড়হ-ঞবধপযরহম ঝঃঁভভ ড়ভ ঘধঃরড়হধষরংবফ ঈড়ষষবমবং অনংড়ৎঢ়ঃরড়হ জঁষবং, ১৯৮১ বাতিল করে স্বপদে আত্তীকরণ বিধিমালা ১৯৯৮ প্রণয়ন করা হয়। এই বিধিতেও জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের তারা অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ/যে যে পদেই থাকবেন সে পদে আত্তীকরণ করা হয় কিন্তু ক্যাডারভূক্ত করার কোন সুযোগ নেই। চতুর্থত ঃ ২০০০ সালে জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের জন্য জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষক অশিক্ষক কর্মচারি আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০ নামে একটি বিধি প্রণয়ন করা হয়। এই বিধিতে একটি তেলেসমাতি ধারা ৯ (২) সংযোজন করা হয় যেখানে আত্তীকরণ বিধি ১৯৯৮ প্রণয়নের সময় বাতিলকৃত বিধি ঞবধপযবৎং ধহফ ঘড়হ ঞবধপযরহম ঝঃঁভভ ড়ভ ঘধঃরড়হধষরংবফ ঈড়ষষবমবং অনংড়ৎঢ়ঃরড়হ জঁষবং, ১৯৮১ এর জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয় এবং  ক্যাডার কম্পোজিশন রুলস ১৯৮০ ও ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ এর পরিপন্থীভাবে তাদেরকে ক্যাডারভূক্ত করা হয়। ফলে ওই সময়ে ২০০০ বিধিতে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও ১৯৮১ বিধিতে সুবিধা দিয়ে পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ প্রাপ্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের উপরে সিনিয়রিটি দেয়া হয়েছে ফলে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে।

পঞ্চমত ঃ বর্তমান সরকারের বড় সাফল্যগুলোর অন্যতম একটি হলো জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ বলা হয়েছে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীকরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। এই নীতিমালায় জাতীকরণকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিধিমালা থাকবে যাতে কর্মকমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়’ (জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০: অধ্যায় ২৭: শিক্ষা প্রশাসন: অনুচ্ছেদ-৮)। এটি জাতীয়করণকৃত  প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভুত রাখার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। কারণ কর্মকমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অর্থাৎ বিসিএস থেকে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বার্থ সংরক্ষিত রাখতে হলে জাতীয়করণকৃত  প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভুতই রাখতে হবে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও সরকারের এই মহৎ কর্মটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকরা বিসিএস পরীক্ষা না দিয়েই ক্যাডারভূক্ত অযৌক্তিক দাবি তুলছেন, যা কোন ক্রমেই কাম্য হতে পারে না।
 
মনে রাখা দরকার সরকারি চাকুরীতে আত্তীকরণ আর ক্যাডার সার্ভিসে আত্তীকরণ এক বিষয় নয়। আমরা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানাই। প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পর জনবল সরকারি চাকুরীতে আত্তীকরণ হতে পারে। মানবিক কারণে তাদের অর্থিক সুযোগ সুবিধা দেয়া যেতে পারে। তবে ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ মোতাবেক পিএসসির মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন ব্যতিত ক্যাডার ভূক্তির কোন সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ প্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি বিদ্যমান। ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগের জন্য সরকারি কর্মকমিশনের অধীনে লক্ষ লক্ষ প্রার্থীর মধ্য হতে প্রিলিমিনারী, লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক, মৌখিক, স্বাস্থ্যগত ও নিরাপত্তাগত যাচাই বাছাইয়ের পর প্রকৃত মেধাবীদের কে ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

 কিন্তু বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এসব অনুসরণ করেনা। তারাও আমাদের মতো বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সাংবিধানিকভাবে অধিকারী ছিলেন। বেশির ভাগই বিসিএস পরীক্ষা দেবার যোগ্যতা হয়নি। যারা বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন তারা অংশগ্রহণ করে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন অথবা প্রিলিমিনারীতেই বাদ পড়েছেন অথবা চূড়ান্তভাবে ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্তির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। শেষতক যেনতেন  প্রক্রিয়ায় একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষক তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। সরকরের জাতীয়করণের সিদ্ধান্তের সুযোগে তারা রাতারাতি ক্যাডার কর্মকর্তা হতে চাচ্ছেন। মেধার যথাযথ মূল্যায়ণ না করে ভিন্নপথে ক্যাডার ভুক্তির এই পথ এখনই বন্ধ করা না গেলে প্রকৃত মেধাবীদেরকে শিক্ষা ক্যাডার হতে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করবে। ফলে দেশের মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণের প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।  

সিভিল সার্ভিস হিসেবে সব ক্যাডারই সমান সুবিধা, সম্মান মর্যাদা পাবার অধিকারী। কিন্তু, তা না হওয়াতেই শিক্ষা ক্যাডার  কর্মকর্তারা দিন দিন তাদের প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, ফুঁসে উঠছে, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলন মুখী হচ্ছে। যেহেতু ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট রুলস, ক্যাডার কম্পোজিশন রুলস অনুযায়ী ক্যাডারে আত্তীকরণের কোন সুযোগ নেই। ক্যাডার সার্ভিসের অন্য কোন ক্যাডারে এভাবে ক্যাডারভুক্ত করণের কোন নজির নেই। যেনতেন ভাবে এ ধরনের ক্যাডার ভূক্তি শুধু শিক্ষা ক্যাডার নয় গোটা ক্যাডার সার্ভিসের অমর্যাদা। আর এই প্রক্রিয়ায় ক্যাডারভুক্তকরণই শিক্ষা ক্যাডারে অস্বস্তির মূল কারণ।  সুতরাং ক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনা, অনুশাসন ও শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে কলেজ জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কলেজ শিক্ষকদের কে ক্যাডার বহির্ভূত রেখে তাদের নিয়োগ, পদায়ন পদোন্নতির জন্য আলাদা সার্ভিস করাই এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।
লেখক ঃ সহকারি অধ্যাপক (২৪তম বিসিএস)
সদস্য সচিব
ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটি।
০১৭২৫-৪৪৯৯৮৭
 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top